আমরা যারা ভিতরে ভিতরে ভেঙে যাই, ০৫/০২/২৬
আমরা যারা ভিতরে ভিতরে ভেঙে যাই,
তারা খুব স্বাভাবিক মানুষ।
রাস্তায় আমাদের দেখে কেউ থামে না,
কারণ আমাদের চোখে কোনো পোস্টার নেই-
শুধু নিয়মিত অভ্যাস করা শান্ত ভাব।
আমরা জানি,
কোথায় কথা থামাতে হয়,
কোথায় মাথা নোয়াতে হয়,
কোথায় হাসিটা ঠিকমতো বসালে
কেউ আর প্রশ্ন করে না।
এই শহর আমাদের শিখিয়েছে
স্বপ্ন উচ্চস্বরে বললে হেসে ওঠে মানুষ,
আর চুপচাপ কষ্ট চেপে মুখ ভর্তি হাসলে
তাকেই বলে পরিণত বুদ্ধিসম্পূর্ণ হওয়া।
আমরা তাই পরিণত হই।
দিনে দিনে,ক্ষনে, ক্ষণে
অল্প অল্প করে নিজেকে শেষ করে। P9
বন্ধুত্ব আজ হিসেবি,খেরোড় খাতায়
ভালোবাসা সময়সাপেক্ষ,
আর বিশ্বাস-
খুব ভারী, বিষাক্ত জিনিস,
সবাই হজম করতে পারে না।
আমরা হজম করি।
কারণ আমাদের পাকস্থলীর অভ্যাস হয়ে গেছে।
অফিসের চেয়ারে বসে
আমরা স্বপ্নগুলোর সিভি বানাই,
জানি-
সবকটা ডাক পাবে না।
তবু পাঠাই।
রাতে বাড়ি ফিরে
নিজের সাথে কথা বলার সময় পাই না,
কারণ ক্লান্ত মানুষকে
নিজেরই বোঝাতে হয়—
সব ঠিকই চলছে।
আয়নাটা তখন সামনে দাঁড়ায়।
সে খুব শান্ত,
খুব নিরপেক্ষ।
সে শুধু দেখায় –
কতটা বদলে গেছি আমরা।
কোথাও গিয়ে
নিজের একটা অংশ হারিয়ে ফেলেছি,
কিন্তু ঠিক মনে নেই –
কবে, কোথায়,কেন।
আমরা কাঁদি না।
কান্না তো এখন বিলাসিতা।
রুদালীরা হাসে –
আমরা শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলি,
আর সেটাকেই বলে দিই-
একটু ক্লান্তি।
তবু আশ্চর্য ব্যাপার কী জানো?
আমরা শেষ হয়ে যাই না।
ভেতরে কোথাও
একটা জেদ রয়ে যায়
এই জীবনটাই শেষ কথা নয়,
এই অন্ধকারটাই চূড়ান্ত নয়।
ভোর আসে।
চা গরম হয়।
কেউ একজন আবার কাজে বেরোয়।
এই সাধারণ দৃশ্যগুলোর ভেতরেই
আমরা আবার দাঁড়াই।
ভাঙা মানুষ হিসেবেই,
কিন্তু পালিয়ে যাওয়া মানুষ নই।
আমরা যারা ভিতরে ভিতরে ভেঙে যাই,
তারাই জানি-
ভাঙার শব্দ কেমন,
আর সেই জন্যই
গড়ার মূল্যটা সবচেয়ে বেশি বুঝি।

