Probodh Kumar Mridha

( অণু গল্প) উপেক্ষিতা
– প্রবোধ কুমার মৃধা।

বহু বছর পর দেখা। চিনতে অনেকটা সময় গেল। হাওড়াগামী দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেনটা আধঘণ্টার বিরতিতে দাঁড়িয়েছিল খড়গপুর স্টেশনে।
স্টেশনের এক চায়ের দোকানে বসেছিলেন দেবদত্তবাবু। মধ্যপঞ্চাশের সুঠাম পুরুষ। দীর্ঘ ট্রেনযাত্রার ক্লান্তিটা ফুটে উঠেছিল চোখে-মুখে।
অনুমিতা কাছে এসে একদৃষ্টে দেবদত্তবাবুর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বললেন
—আপ-নি-ই-ই দেবদত্তবাবু না!?
দেবদত্তবাবু মুখ তুলে চাইলেন। কয়েক মুহুর্ত আগন্তুক মহিলাকে লক্ষ্য করে নিচুস্বরে উত্তর দিলেন
— হ্যাঁ! কিন্তু আপনাকে ঠিক… ।
— না চেনাই স্বাভাবিক। বহু বছর আগের পরিচয় তো! আমি অনুমিতা। আপনার অপছন্দের উপেক্ষিতা।
স্মরণে আসে দেবদত্তবাবুর। ভুলে যাওয়া সম্ভব ছিল না। জীবনের প্রথম প্রেম।
:একদা ঘটকের সঙ্গী হয়ে ষোড়শী অনুমিতাকে দেখতে গিয়েছিল তরুণ দেবদত্ত। অপছন্দ হয়নি। ক্রমশঃ যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল উভয়ের মধ্যে। পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতার প্রাথমিক অধ্যায়ে একদিন বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অনুমিতার বাবার কাছে খবর আসে, দেবদত্তের অভিভাবক তরফে আপত্তি ওঠায় বিয়েটা হচ্ছে না। কারণটা আজও অজ্ঞাত। আঘাতটা অনুমিতাকে ভীষণভাবে মুষড়ে দিয়েছিল।
দেবদত্তবাবু ও অনুমিতার কথাবার্তার মাঝে আচমকা এক মাঝ বয়সি স্থূলকায় মহিলা এসে বললেন— কিগো,ট্রেন ছাড়ার সময় হল তো! তুমি তো আমাদের ভুলেই বসে আছো যেন!
সন্ত্রস্ত দেবদত্তবাবু উঠে পড়ে বললেন— চলো- চলো।
— মেয়েটা কে?
— নাঃ! তেমন কেউ না। আমাদের মতো ট্রেনের যাত্রী একজন।
উত্তর দেন দেবদত্তবাবু।
এভাবে দেবদত্তবাবুর একপ্রকার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি অনুমিতার দৃষ্টি এড়ালো না। টানা দীর্ঘশ্বাস উঠে এল তার বুক থেকে। অবিলম্বে উঠে পড়লেন তিনিও। ততক্ষণে ট্রেনের যাত্রাশুরুর সংকেত হয়ে গিয়েছে।
__________
( জয়নগর, দঃ২৪ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ফোন ৯৮৩৬০০৭৮০০)

Comment