Swapankumar Pahari

এক ডজন ছড়া
(দ্বিতীয় কিস্তি)
স্বপনকুমার পাহাড়ী

উটকো বৌটি

উটকো বৌটি হুট ক’রে এক
শুঁটকো ছোঁড়ায় পেয়ে
উটজ মধ্যে উটকানো ছেড়ে
উটের পিঠেই ভাগলবা।
বরটা তখন আধখানা জেনে
পুরোটাই হ’ল পাগল বা
আধ পাগলাটে—বকবক করে,
মুখে রইল না আগল বা
জেনেই সবটা হড়কে দিয়েছে
নতুন কাউকে চেয়ে!

জষ্ঠি-দুপুরে

জষ্ঠি-দুপুরে কোষ্ঠীবিচার
চলছিল বটতলায়।
বাপ্ রে বুঝিবা গাছ থেকে সাপ
পিছলে জড়ালো গলায়!
ফিরে দ্যাখে—এ যে শালী
মুখে দিতে চুনকালি
লটকে পড়েই চটকে ফেলেছে
জোড়া বর্শার ফলায়!

ভৌ

ভাই, তোরা সব কী করবি কর!
এক বৌ তার দেড়খানা বর!
একখানা শোয় একপাশে।
আধখানাটিও দ্যাখ পাশে!
মাঝখানে শুয়ে বৌ।
কী করে এখন?
ভৌ-ভৌ-ভৌ-ভৌ-ভৌ-ভৌ!

দাজু

এক যে আছিল নেপালী যুবক
নাম ছিল তার রাজু
পাড়ার যতেক এণ্ডিগেণ্ডি
সবাই ডাকতো ‘দাজু’।
কাঠমাণ্ডুর ছোকরা
ব্যবসাটি আলুবোখরা
খুচরো এবং পাইকারি, সাথে
মেদনিপুরের কাজু!

শাপলা ফুলে

শাপলা ফুলে ঘাপলা ছিল
কেইবা আগে জানতো?
থাকলে জানা কে আর কানা
আমূল তুলে আনতো!
নাল পেঁচিয়ে গোখরো সাপ
বাপরে বাপ, বাপরে বাপ
ধমকে বলে: এক্ষুনি ছাড়
নইলে নেবো জান তো!

জুটি

ম্যাক্সি প’রে ট্যাক্সি চড়েন মিস রিনা।
পাশের সীটে ড্রাইভ করেন এস্ সিনহা।
চলেন দু’জন রক্সি কিংবা ইন্দিরা।
ফুটপাথরে ‘হাঁ’ ক’রে রয় বিন্দিরা।

উধাও

ঐ চলেছেন হটপ্যাণ্ট-দিদি
স্কার্ট-দাদা তাঁর সঙ্গে।
কদমতলায় পৌঁছে দুজনে
মিলেছে নানা বিভঙ্গে।
এবার তাকাও কারো দেখা নেই—
উধাও কদম-অঙ্গে?

রগড়

নাইবা হলে সুন্দর তুমি
আমার গেছে ব’য়ে–
তোমার সাথেই প্রেম করবো
একটু রয়ে সয়ে।
যতক্ষণ না চাকরি পাচ্ছো
নিজ রোজগারেই খাওয়াচ্ছো
পুরো বিন্দাস রইবো পাশে
‘দিল কী রানী’ হয়ে!

ছেঁড়া

ছেঁড়া জামা-প্যাণ্ট বড়ো বেশি দাম, ভাই।
গরীব মানুষ, অতো টাকা কোথা পাই?
তবু সহস্রফুটো জাঙিয়াটা
এইটুকুন যা দামি কেনাকাটা
দেখতে চাইলে প্যাকেট খুলে দেখাই!
১০
সাকি

এক যে জাপানী কবি বাড়ি নাগাসাকি
তার নাকি ছিল এক খাঁটি নাগা সাকি।
অবিশ্যি বলতো লোকে
কবিটি নেশার ঝোঁকে
পেয়েছিল নাগা ঐ খাঁটি সাঙা সাকি।
১১
দোকানটা

দোকানটা ছিল শুধু বিস্কুট ও লাল চা’র।
তবুও জমতো যত কালচার-ভালচার!
সাথে সাথে আরো কিছু
এলোমেলো উঁচু নিচু
গেরামের মাঠ থেকে নানাবিধ হালচার!
১২
কবির আফশোষ

বরটা তো ওর পারলো না তাই বন্ধুরা সব মিলে
চেষ্টা করতে কসুর করিনি, তাও কি একটা দিলে?
নাঃ, পুরোটাই ফেল
সবই নসিবের খেল
কি আর করবো? বললেন কবি আফসোসটুকু গিলে!

Comment