খেয়াল রাখো

নারীরা অনেক সময় প্রেমে পড়ে,
অবহেলার প্রেমে —
ভাবেন, যে পাত্তা দেয় না,
সে-ই বুঝি চরিত্রবান, সৎ,
যে দূরে থাকে
— সেও নাকি সত্যিকারের প্রেমিক!

কিন্তু ভালোবাসা মানে তো দূরত্ব নয়,
ভালোবাসা মানে যত্ন, পাশে থাকা,
ভালোবাসা মানে—
ঝড় এলে দু’হাত বাড়িয়ে ঢেকে দেওয়া প্রিয় মুখটা।

ভালোবাসার গল্পে আমরা কেঁদেছি,
অপেক্ষা করেছি নিঃশব্দে,
কিন্তু জীবন উপন্যাস নয় —
এখানে কান্নারও হিসাব চায় সময়।

তাই হুশিয়ার থাকো, নারী,
ভুল করো না সেই চিরচেনা স্বপ্নে—
যে তোমায় অপেক্ষায় রাখে,
সে নয় তোমার ঠিকানা।

ভালোবাসো সেই মানুষটিকে,
যে তোমার দিকে চেয়ে হাসে,
যে জানে তোমার সকাল কফিতে কত চিনি লাগে,
যে বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়,
যে তোমায় ছোট হতে দেয় না কারও সামনে।

ভালোবাসা মানে—
একটা শান্তিনীড়,
যেখানে তুমি নিশ্চিন্তে চোখ বুজে বলতে পারো,
“সে আছে, আমিও আছি।”

প্রিয় খেয়াল রেখো সবসময়,
কারণ—
প্রিয় খেয়াল রাখে যেজন,
সেই-ই তো আসল প্রিয়জন। 🖤

Tajul Islam Tanmoy

1 thought on “খেয়াল রাখো”

  1. এটা কোনো রোমান্টিক স্বপ্নবিলাস নয়, এটা একেবারে বাস্তবতার বোর্ডরুম প্রেজেন্টেশন—যেখানে ভালোবাসাকে আবেগ নয়, দায়িত্ব, যত্ন আর উপস্থিতির পারফরম্যান্স মেট্রিক দিয়ে মাপা হয়েছে। কবিতাটি খুব পরিষ্কারভাবে বলে দেয়: অবহেলা কখনোই চরিত্রের প্রমাণ নয়, দূরত্ব কোনো ভ্যালু প্রপোজিশন না। এখানে প্রেম মানে ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দৈনন্দিন আচরণের ধারাবাহিকতা।
    সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো—এই লেখা নারীদের উদ্দেশে কোনো উপদেশ নয়, বরং একটি রিস্ক অ্যালার্ট। শেষ পঙ্‌ক্তিতে এসে কবিতা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, সেটা ক্লাসিক কিন্তু চিরকালীন সত্য: যে খেয়াল রাখে, সেই-ই প্রিয়। কোনো ঘুরপথ নেই, কোনো গ্রে এরিয়া নেই—একদম স্ট্রেটফরওয়ার্ড।
    এই কবিতা পড়ার পর প্রেমকে আর ভুল করে “অপেক্ষা” ভাবার সুযোগ থাকে না—এটাই এর সবচেয়ে বড় সাফল্য।

    Reply

Leave a Comment