এক বিস্ময় বালক

Wolfgang Amadeus Mozart

উলফগ্যাং আমাদেউস মোৎসার্ট: ধ্রুপদী সংগীতের রূপকার এক বিস্ময় বালক

ইতিহাসের সবচেয়ে অসাধারণ এবং বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বদের একজন হলেন উলফগ্যাং আমাদেউস মোৎসার্ট। তিনি ছিলেন এমন এক বিস্ময় বালক, যার অসাধারণ প্রতিভা পশ্চিমা ধ্রুপদী বা ক্লাসিক্যাল সংগীতের জগতকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল। মাত্র ৩৫ বছরের এক সংক্ষিপ্ত জীবনে (১৭৫৬-১৭৯১) তিনি সংগীতের প্রতিটি শাখায় ৬০০-রও বেশি সুর সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর কাজে ইতালীয় মেলোডি, জার্মান নিখুঁত কাঠামো এবং ফরাসি আভিজাত্যের এমন এক অপূর্ব মিশ্রণ ঘটেছিল, যা সংগীতকে দিয়েছিল এক অনন্য সৌন্দর্য, গভীরতা ও পূর্ণতা। সলজবার্গের এক প্রতিভাবান শিশু থেকে ভিয়েনার এক মহান সংগীতশিল্পী হয়ে ওঠার এই সফরটি কেবল সেই সময়ের ধ্রুপদী যুগেরই সূচনা করেনি, বরং ভবিষ্যতের রোমান্টিক যুগেরও ভিত্তি স্থাপন করেছিল। ১০টি অধ্যায়ের এই লেখাটিতে তাঁর জীবন, লড়াই, নতুনত্ব এবং চিরস্থায়ী কীর্তি তুলে ধরা হলো।

অধ্যায় ১: প্রতিভার জন্ম – সলজবার্গের শিকড় এবং পারিবারিক ঐতিহ্য
১৭৫৬ সালের ২৭ জানুয়ারি মোৎসার্ট এই পৃথিবীতে আসেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল সলজবার্গে, যা তৎকালীন পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। জন্মের পরের দিনই তাঁকে ‘জোহানেস ক্রিসোস্টোমাস উলফগ্যাঙ্গুস থিওফিলাস মোৎসার্ট’ নামে দীক্ষিত (বাপ্তিস্ম) করা হয়। তবে তিনি নিজে ইতালীয় ধাঁচের ‘উলফগ্যাং আমাদে মোৎসার্ট’ নামটি বেশি পছন্দ করতেন। ‘আমাদেউস’ নামটি মূলত ‘থিওফিলাস’ শব্দের ল্যাটিন রূপ, যার অর্থ ‘ঈশ্বরের প্রিয়’। শত বছর পরে এই ‘আমাদেউস’ নামটিই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

তাঁর বাবা লিওপোল্ড মোৎসার্ট ছিলেন একজন নামকরা বেহালাবাদক, সুরকার এবং বেহালা শিক্ষার ওপর লেখা একটি বিখ্যাত বইয়ের লেখক। তিনি সলজবার্গের রাজদরবারে সহ-সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন। মোৎসার্টের মা আনা মারিয়া পার্টল এসেছিলেন সলজবার্গের এক সাধারণ পরিবার থেকে। তাঁদের সাত সন্তানের মধ্যে কেবল উলফগ্যাং এবং তাঁর বড় বোন মারিয়া আনা (ডাকনাম নানের্ল, জন্ম ১৭৫১) বেঁচে ছিলেন। পরিবারটি গেটরাইডেগাসে ৯ নম্বরের একটি সাধারণ ফ্ল্যাটে থাকত, যা বর্তমানে একটি বড় জাদুঘর।

বাবা লিওপোল্ড খুব অল্প বয়সেই উলফগ্যাংয়ের অসাধারণ প্রতিভা বুঝতে পেরেছিলেন। মাত্র তিন-চার বছর বয়সেই এই শিশুটি হার্পসিকর্ড (পিয়ানোর মতো এক ধরণের বাদ্যযন্ত্র) দিয়ে চমৎকার সুর তুলতে পারতেন। লিওপোল্ড তাঁকে পিয়ানো, বেহালা, সুর তৈরি করা, ভাষা এবং সাধারণ পড়াশোনার কঠোর প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। লিওপোল্ড তাঁর চিঠিপত্র ও নোটবুকে সবকিছু লিখে রাখতেন। ‘নানের্ল নোটেনবুখ’ নামের একটি খাতায় মোৎসার্টের মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তৈরি করা প্রথম দিকের সুরগুলো সংরক্ষিত আছে, যা তাঁর বাবা যত্নে লিখে রেখেছিলেন।

লিওপোল্ড তাঁর সন্তানদের, বিশেষ করে উলফগ্যাংকে ঈশ্বরের এক বিশেষ উপহার এবং পরিবারের উন্নতির মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। তিনি তাঁর ছেলেকে বলতেন, “সলজবার্গে ঈশ্বরের জন্ম দেওয়া এক অলৌকিক শিশু”। বাবার এই কঠোর শাসন মোৎসার্টকে বড় শিল্পী হিসেবে গড়ে তুললেও তাঁদের সম্পর্কে এক ধরণের মানসিক দূরত্বও তৈরি করেছিল। মোৎসার্টের পরিবারে একদিকে যেমন ছিল কঠোর শৃঙ্খলা, অন্যদিকে ছিল গভীর ভালোবাসা এবং সংগীতের পরিবেশ। সলজবার্গের সুন্দর স্থাপত্য এবং রাজদরবারের সংগীতের পরিবেশ মোৎসার্টের প্রতিভাকে আরও বিকশিত করতে সাহায্য করেছিল।

এই সাধারণ কিন্তু সংগীতে ভরপুর পরিবেশ থেকেই উঠে এসেছিল এমন এক শিশু, যার প্রতিভা খুব দ্রুতই পুরো ইউরোপকে অবাক করে দিতে যাচ্ছিল।

অধ্যায় ২: বিস্ময় বালকের জাগরণ – প্রারম্ভিক প্রতিভা এবং ইউরোপ জুড়ে আলোড়ন
পাঁচ বা ছয় বছর বয়সের মধ্যেই উলফগ্যাং পিয়ানো ও বেহালা বাজানোয় এতটাই পারদর্শী হয়ে ওঠেন যে, তিনি কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই যেকোনো কঠিন সুর চমৎকারভাবে বাজাতে পারতেন। বাবা লিওপোল্ড এবার দুই ভাইবোনকে মানুষের সামনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ১৭৬২ সালে মিউনিখ এবং ভিয়েনা সফরের মাধ্যমে রাজদরবারের উচ্চপদস্থ মানুষদের সাথে তাঁদের পরিচয় হয়। তবে আসল আলোড়ন সৃষ্টি হয় ১৭৬৩ থেকে ১৭৬৬ সালের দীর্ঘ ইউরোপ সফরের মাধ্যমে।

লিওপোল্ড, আনা মারিয়া, নানের্ল এবং মাত্র সাত বছরের উলফগ্যাংকে নিয়ে পুরো পরিবার মিউনিখ, অগসবার্গ, ফ্রাঙ্কফুর্ট, প্যারিস, লন্ডন, হেগ, আমস্টারডামসহ বিভিন্ন শহর সফর করেন। তাঁরা বিভিন্ন দেশের রাজা, রানী ও অভিজাত পরিবারের সামনে সংগীত পরিবেশন করেন। এর মধ্যে ছিলেন ফ্রান্সের ভার্সাই রাজপ্রাসাদের রাজা পঞ্চদশ লুই এবং ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় জর্জ ও রানী শার্লট।

সেই সময়কার অনেক মজার গল্প প্রচলিত আছে। শোনা যায়, ছোট উলফগ্যাং ভিয়েনায় সম্রাজ্ঞী মারিয়া থেরেসার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে চুমু খেয়েছিলেন। লন্ডনে তাঁর দেখা হয় বিখ্যাত সংগীতশিল্পী জোহান ক্রিশ্চিয়ান বাখের (বিখ্যাত জে. এস. বাখের ছেলে) সাথে, যাঁর মার্জিত সংগীতশৈলী মোৎসার্টকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। লন্ডনে যখন তাঁর বাবা ভীষণ অসুস্থ ছিলেন, তখন এই ছোট ছেলেই তাঁর জীবনের প্রথম সিম্ফনি (orchestra-র জন্য বড় সুর) তৈরি করেন। প্যারিসে তাঁর প্রথম তৈরি করা সুরগুলো বই আকারে প্রকাশিত হয়।

এই সফরগুলো মোৎসার্টের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। দিনের পর দিন ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণ করা এবং ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া (হেগ শহরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন) সত্ত্বেও অনবরত পারফর্ম করতে হতো। তবে এর ভালো দিকটি ছিল, এই ভ্রমণের ফলে তিনি ইউরোপের সেরা সংগীতশিল্পী এবং অর্কেস্ট্রার সংস্পর্শে আসার সুযোগ পান। শ্রোতারা অবাক হয়ে দেখতেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মতো দক্ষতায় এই “ছোট্ট মানুষটি” সুর তৈরি করছেন ও বাজাচ্ছেন। সলজবার্গে পাঠানো লিওপোল্ডের চিঠিগুলোতে একদিকে যেমন ছিল ছেলের জন্য গর্ব, অন্যদিকে ছিল ক্লান্তি। তবে এই সফরের শেষে পুরো ইউরোপ মোৎসার্ট নামটি এক ডাকে চিনে গিয়েছিল।

অধ্যায় ৩: একজন উস্তাদের গড়ে ওঠা – শিক্ষা, প্রভাব এবং প্রথম দিকের সৃষ্টিসমূহ
মোৎসার্টের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে যা বোঝায়, তা মূলত বাবার কাছে ঘরে বসেই হয়েছিল। তবে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তাঁর শিক্ষাকে আরও সমৃদ্ধ করেছিল। তিনি ইতালির অপেরা, ফ্রান্সের মার্জিত সুর, জার্মানির জটিল সংগীতশৈলী এবং ইংল্যান্ডের পিয়ানো বাজানোর কৌশল—সবকিছু নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন। তিনি একসাথে বেশ কয়েকটি বাদ্যযন্ত্র বাজানো, গান গাওয়া এবং নাচ শিখেছিলেন। তাঁর শোনার ক্ষমতা ছিল অলৌকিক; যেকোনো জটিল সুর মাত্র এক বা দুইবার শুনেই তিনি হুবহু লিখে ফেলতে পারতেন।

তাঁর প্রথম দিকের সুরগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তিনি কত দ্রুত উন্নতি করছিলেন। সাধারণ পিয়ানোর সুর থেকে শুরু করে তিনি বড় বড় সিম্ফনি ও ধর্মীয় সংগীত তৈরি করতে শুরু করেন। ১৭৬৯ থেকে ১৭৭৩ সালের মধ্যে বাবার সাথে করা ইতালি সফরগুলো তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ইতালির বোলোনিয়া শহরে তিনি পাদ্রে জিওভানি বাতিস্তা মার্তিনির কাছে সংগীতের গভীর শিক্ষা নেন এবং সম্মানজনক ‘আকাদেমিয়া ফিলারমোনিকা’-র সদস্যপদ লাভ করেন। রোমে থাকার সময় একটি বিখ্যাত ঘটনা ঘটে—সেখানকার গির্জার একটি অত্যন্ত গোপন ও জটিল সুর ‘মিজেরেরে’ (Miserere) মাত্র একবার শুনেই মোৎসার্ট স্মৃতি থেকে হুবহু লিখে ফেলেছিলেন। পোপ চতুর্দশ ক্লিমেন্ট তাঁর এই প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘অর্ডার অব দ্য গোল্ডেন স্পার’ উপাধিতে ভূষিত করেন, যা তাঁকে নাইট (Knight) বা বীরের মর্যাদা দেয় (যদিও মোৎসার্ট এই উপাধিটি খুব একটা ব্যবহার করতেন না)।

এই বছরগুলোতেই অপেরা (সংগীত নাটক) রচনায় তাঁর দক্ষতা প্রকাশ পায়। তিনি মিলান শহরের জন্য ‘মিত্রিদাতে, রে দি পোন্তো’ নামের একটি অপেরা তৈরি করেন, যা দারুণ সফল হয়। এরপর তিনি আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় অপেরা উপহার দেন।

কৈশোরে পদার্পণ করতেই মোৎসার্ট বিভিন্ন দেশের সংগীতের ধরণকে মিলিয়ে নিজের একটি অনন্য শৈলী তৈরি করেন, যা ছিল মিষ্টি সুর, স্পষ্টতা এবং নাটকীয়তায় ভরপুর।

অধ্যায় ৪: ইতালীয় সফর এবং অপেরার সূচনা – আল্পস পর্বতের দক্ষিণে সাফল্য
সংগীতের জগতে সেই সময়ে ইতালির মর্যাদা ছিল সবার ওপরে। মোৎসার্টের তিনটি ইতালি সফর অপেরা রচয়িতা হিসেবে তাঁর অবস্থানকে পাকা করে দেয়। তিনি ইতালির থিয়েটার জগতের তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজের জায়গা করে নেন এবং নামকরা গায়ক ও লেখকদের সাথে কাজ করেন।

মিলান শহরের সাফল্য তাঁকে আরও নতুন কাজের সুযোগ ও খ্যাতি এনে দেয়। তিনি ইতালীয় অপেরার আবেগ ও গায়কদের কণ্ঠের জাদু নিজের কাজের মধ্যে নিয়ে আসেন, যা তাঁর সুরকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। একই সাথে গির্জার জন্য তৈরি তাঁর ধর্মীয় সংগীতগুলোতেও এক ধরণের পরিপক্বতা দেখা যায়।

তবে এই সফরগুলো মোৎসার্টকে সমাজের একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। এত প্রতিভা এবং সম্মান থাকা সত্ত্বেও একটি স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ চাকরি পাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। আর্চডিউক ফার্দিনান্দ তাঁকে চাকরিতে নিতে চাইলেও, সম্রাজ্ঞী মারিয়া থেরেসা মোৎসার্ট পরিবারের এই যাযাবর জীবনযাত্রার কারণে চাকরি না দেওয়ার পরামর্শ দেন।

১৭৭৩ সালে যখন মোৎসার্ট সলজবার্গে ফিরে আসেন, তখন তিনি বেশ কয়েকটি অপেরা এবং সিম্ফনির স্রষ্টা হিসেবে একজন অভিজ্ঞ শিল্পী। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর ছোট শহর এবং বাবার উচ্চাকাঙ্ক্ষার বেড়াজালে আটকা পড়ে রইলেন।

অধ্যায় ৫: সলজবার্গের চাকরি এবং সৃজনশীলতার আগুন – রাজদরবারের দায়িত্ব ও একঘেয়েমি জীবন
১৭৭৩ সালে সলজবার্গের নতুন শাসক প্রিন্স-আর্চডিউক হিয়েরোনিমাস কলোরেডোর দরবারে মোৎসার্ট প্রধান বেহালাবাদক (এবং পরবর্তীতে অর্গানবাদক) হিসেবে নিযুক্ত হন। এই সময়ে তিনি প্রচুর সুর তৈরি করেন, যার মধ্যে ছিল বেশ কয়েকটি বিখ্যাত সিম্ফনি, পাঁচটি বেহালা কনসার্টো এবং অনেক ধর্মীয় সংগীত।

আর্চডিউক কলোরেডো চাইতেন গির্জা ও রাজদরবারের জন্য খুব সাধারণ ও নিয়মমাফিক সংগীত তৈরি হোক। মোৎসার্ট এই নিয়মকানুনের বেড়াজাল, কম বেতন এবং অপেরা তৈরির সুযোগ না থাকায় ভীষণ বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন। তিনি মিউনিখ এবং ভিয়েনায় ভালো চাকরির খোঁজ করেছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই তাঁকে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছিল।

১৭৭৭ থেকে ১৭৭৮ সালের মধ্যে মোৎসার্ট তাঁর মায়ের সাথে একটি নতুন চাকরির খোঁজে বের হন। মানহাইম শহরে গিয়ে তিনি ইউরোপের সেরা অর্কেস্ট্রার দেখা পান এবং আলোইসিয়া ওয়েবার নামের এক অপেরা গায়িকার প্রেমে পড়েন (যদিও পরবর্তীতে তিনি আলোইসিয়ার বোন কনস্টানজেকে বিয়ে করেছিলেন)। এরপর প্যারিসে গিয়ে তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘প্যারিস সিম্ফনি’ তৈরি করেন। কিন্তু এখানেই তাঁর জীবনে এক বড় বিপর্যয় নেমে আসে—১৭৭৮ সালের জুলাই মাসে প্যারিসেই তাঁর মা আনা মারিয়া মৃত্যুবরণ করেন।

১৭৭৯ সালে একটু বেশি বেতনে সলজবার্গের রাজদরবারে ফিরে এলেও মোৎসার্ট সেখানে একটুও সুখী ছিলেন না। তিনি মিউনিখের জন্য ‘ইদোমেনিও’ (Idomeneo) নামের তাঁর জীবনের প্রথম অন্যতম সেরা অপেরা তৈরি করেন। কিন্তু সলজবার্গের শাসকের সাথে তাঁর মানসিক দূরত্ব ও উত্তেজনা দিন দিন বাড়তেই থাকে, যা একদিন এক বড় বিস্ফোরণের রূপ নেয়।

অধ্যায় ৬: বন্ধন মুক্তি – ভিয়েনায় আগমন এবং এক নতুন স্বাধীন জীবন
১৭৮১ সালে এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য মোৎসার্টকে ভিয়েনায় ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে নিজের স্বাধীনতা এবং পারিশ্রমিক নিয়ে শাসক কলোরেডোর সাথে তাঁর চরম বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরে মোৎসার্ট নাটकीयভাবে তাঁর চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। শোনা যায়, কলোরেডোর এক কর্মচারী আক্ষরিক অর্থেই তাঁকে “লাথি মেরে” দরবার থেকে বের করে দিয়েছিল। অপমানজনক হলেও, এই ঘটনাটিই তাঁকে একজন স্বাধীন বা ফ্রিল্যান্স সংগীতশিল্পী হিসেবে এক নতুন জীবনে পা বাড়াতে সাহায্য করেছিল।

ভিয়েনা শহরটি মোৎসার্টকে বড় হওয়ার দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছিল। তিনি সেখানে পিয়ানোবাদক হিসেবে পারফর্ম করা (যার মধ্যে বিখ্যাত পিয়ানোশিল্পী মুজিও ক্লেমেন্তির সাথে তাঁর সুরের লড়াই অন্যতম), ছাত্র পড়ানো এবং নতুন সুর তৈরির কাজ শুরু করেন। ভিয়েনায় তাঁর প্রথম বড় সাফল্য আসে ১৭৮২ সালে ‘দি এন্টফুহুরুং আউস ডেম সেরাইল’ (Die Entführung aus dem Serail) নামের একটি জার্মান অপেরার মাধ্যমে। তুর্কি সুরের ছোঁয়া এবং চমৎকার সুরের মেলবন্ধনে তৈরি এই অপেরাটি পুরো ইউরোপ জুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।

কোনো স্থায়ী সরকারি চাকরি না থাকায় মোৎসার্টকে নিজের বুদ্ধিতে চলতে হতো। তিনি টিকিট কেটে সাধারণ মানুষের জন্য কনসার্টের আয়োজন করতেন এবং নিজের সুরগুলো বই আকারে বিক্রি করে টাকা উপার্জন করতেন। ভিয়েনায় আসাটা তাঁর জন্য যেমন একদিকে স্বাধীনতার আনন্দ এনে দিয়েছিল, অন্যদিকে ছিল আয়ের অনিশ্চয়তার এক বড় ঝুঁকি।

অধ্যায় ৭: ভালোবাসা, বিয়ে এবং সাম্রাজ্যের রাজধানীতে সংসার জীবন
ভিয়েনায় মোৎসার্ট ওয়েবার পরিবারের বাড়িতে পেয়িং গেস্ট বা ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতে শুরু করেন। সেখানে তাঁর পুরনো প্রেমিকা আলোইসিয়ার (যাঁর অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে গিয়েছিল) ছোট বোন কনস্টানজের সাথে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁদের এই প্রেমের পথ সহজ ছিল না; এর মধ্যে ছিল অনেক নাটকীয়তা, সাময়িক বিচ্ছেদ এবং বাবা লিওপোল্ডের তীব্র আপত্তি। সব বাধা পেরিয়ে ১৭৮২ সালের ৪ আগস্ট ভিয়েনার বিখ্যাত সেন্ট স্টিফেনস ক্যাথেড্রালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

তাঁদের বৈবাহিক জীবন ছিল অত্যন্ত প্রেমময় ও একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল, যদিও আর্থিক অনটন সবসময়ই লেগে থাকত। এই দম্পতির ঘরে ছয়টি সন্তানের জন্ম হলেও চরম শিশু মৃত্যুর হারের কারণে কেবল দুজন ছেলে—কার্ল থমাস এবং ফ্রাঞ্জ জাভার উলফগ্যাং (যিনি পরবর্তীতে একজন সংগীতশিল্পী হয়েছিলেন) প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। মোৎসার্টের মৃত্যুর পর কনস্টানজে তাঁর সম্পত্তি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলান এবং মোৎসার্টের সুর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন।

ভিয়েনার জীবন ছিল একদিকে কঠোর পরিশ্রমের, অন্যদিকে আনন্দ-ফূর্তির। মোৎসার্ট সেই সময়কার বিখ্যাত বুদ্ধিজীবীদের সংগঠন ‘ফ্রিম্যাসন’ (Freemasons)-এ যোগ দেন, যা পরবর্তীতে তাঁর ‘দ্য ম্যাজিক ফ্লুট’ অপেরায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এই শহরেই ধ্রুপদী সংগীতের আরেক মহান উস্তাদ জোসেফ হাইডনের সাথে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব হয়। হাইডনকে সম্মান জানিয়ে মোৎসার্ট ছয়টি অসাধারণ স্ট্রিং কোয়ার্টেট (চারটি বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত সুর) উৎসর্গ করেন, যা ‘হাইডন কোয়ার্টেট’ নামে পরিচিত। এই সুরগুলোতে বাদ্যযন্ত্রগুলোর পারস্পরিক বোঝাপড়া সংগীতের জগতকে এক নতুন রূপ দিয়েছিল।

অধ্যায় ৮: ভিয়েনার স্বর্ণযুগ – শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিসমূহ এবং সংগীতের বিপ্লব
১৭৮০-র দশক ছিল মোৎসার্টের জীবনের সৃজনশীলতার একদম শীর্ষ সময় বা স্বর্ণযুগ। তিনি পিয়ানো কনসার্টো (পিয়ানো এবং অর্কেস্ট্রার যৌথ পারফরম্যান্স) এর ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দেন এবং তাঁর জীবনের সেরা কিছু পিয়ানো সুর এই সময়েই তৈরি করেন। এগুলো ছিল মূলত পিয়ানো এবং অর্কেস্ট্রার মধ্যে এক ধরণের নাটকীয় ও আবেগপূর্ণ কথোপকথন।

বিখ্যাত লেখক লোরেঞ্জো দা পন্তের সাথে যৌথভাবে কাজ করে মোৎসার্টের অপেরাগুলো এক অতুলনীয় উচ্চতায় পৌঁছায়। এর মধ্যে রয়েছে—‘লে নৎসে দি ফিগারো’ (১৭৮৬), যা ছিল সমাজের অসঙ্গতি নিয়ে তৈরি একটি চমৎকার ও গভীর সামাজিক কমেডি; ‘দন জিওভানি’ (১৭৮৭), যা ছিল কমেডি ও ট্র্যাজেডির মিশ্রণে তৈরি এক অন্ধকার ও অলৌকিক ঘটনার রহস্যময় রূপান্তর; এবং ‘কোসি ফান তুত্তে’ (১৭৯০), যা ছিল মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের পরীক্ষা নিয়ে তৈরি এক অপূর্ব সুন্দর সৃষ্টি।

এই সময়ে তৈরি তাঁর ৩৮ থেকে ৪১ নম্বর সিম্ফনিগুলো (যার মধ্যে মহিমান্বিত ‘জুপিটার সিম্ফনি’ অন্যতম) সুরের প্রকাশভঙ্গি ও গঠনশৈলীর সব সীমানা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর পাশাপাশি তিনি অসংখ্য ছোট ছোট বাদ্যযন্ত্রের সুর, একক পিয়ানোর সুর এবং গির্জার জন্য পবিত্র ধর্মীয় সংগীত (যার মধ্যে অসমাপ্ত ‘গ্রেট মাস ইন সি মাইনর’ অন্যতম) রচনা করেন।

মোৎসার্ট বিভিন্ন দেশের সংগীতের ধরণকে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে এমন এক রূপ দিয়েছিলেন, যা ছিল একাধারে কাঁচের মতো স্বচ্ছ এবং আবেগে ভরপুর। তাঁর সুর যেমন মানুষের মনকে সরাসরি ছুঁয়ে যেত, তেমনি তা গুণীজনদের বুদ্ধিবৃত্তিক তৃপ্তিও দিত।

অধ্যায় ৯: জীবনের অন্ধকার, লড়াই এবং শেষ রাগিণী
চারিদিকে এত খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও মোৎসার্টকে জীবনের শেষ দিনগুলোতে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বিলাসবহুল জীবনযাত্রা, অনিয়মিত আয় এবং ক্রমবর্ধমান পরিবারের খরচ চালাতে গিয়ে তিনি ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন। ভালো কোনো সুযোগের আশায় তিনি বার্লিন ও ফ্রাঙ্কফুর্টের মতো শহরগুলোতে সফর করেছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে আশানুরূপ ফল পাননি। একই সাথে শারীরিক অসুস্থতাও তাঁকে গ্রাস করতে শুরু করে—যার মধ্যে বাতের জ্বর, কিডনির সমস্যা এবং অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি অন্যতম।

এত কষ্টের মধ্যেও ১৭৯১ সালটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম সফল ও সৃজনশীল একটি বছর। এই এক বছরেই তিনি উপহার দেন ‘দ্য ম্যাজিক ফ্লুট’ (Die Zauberflöte)-এর মতো জনপ্রিয় অপেরা, ‘লা ক্লেমেনজা দি তিতো’, ক্লারিনেটের জন্য এক অপূর্ব সুন্দর সুর (Clarinet Concerto) এবং তাঁর জীবনের শেষ সৃষ্টি ‘রেকুইয়েম’ (Requiem—মৃত্যুর সময়ে গাওয়ার এক ধরণের শোকসংগীত)। এই ‘রেকুইয়েম’ তৈরির কাজটি কাউন্ট ওয়ালসেগ নামের এক ব্যক্তি নিজের নাম গোপন করে মোৎসার্টকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছিলেন।

জীবনের শেষ মাসগুলোতে মোৎসার্ট দিন-রাত এক করে এই ‘রেকুইয়েম’ তৈরির কাজ করেছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এটি তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। ১৭৯১ সালের ৫ ডিসেম্বর ভিয়েনায় এই মহান সংগীতশিল্পী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে, তবে ধারণা করা হয় তীব্র বাতের জ্বর বা দীর্ঘদিনের কোনো অসুস্থতাই এর কারণ ছিল। ভিয়েনার সেন্ট মার্কস গোরস্তানে একটি সাধারণ কবরে তাঁকে দাফন করা হয় (যার সঠিক অবস্থান আজ আর জানা যায় না)। পরবর্তীতে বিভিন্ন নাটক ও সিনেমায় (যেমন বিখ্যাত ‘আমাদেউস’ চলচ্চিত্র) দেখানো হয়েছে যে তাঁকে বিষ খাইয়ে মারা হয়েছিল—তবে এটি কেবলই একটি কাল্পনিক গল্প, যার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। সমসাময়িক সংগীতশিল্পী আন্তোনিও সালিয়েরি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও কোনো খুনি ছিলেন না, বরং তিনি মোৎসার্টের একজন ভালো সহকর্মী ছিলেন।

অধ্যায় ১০: চিরস্থায়ী কীর্তি – যেভাবে মোৎসার্ট ধ্রুপদী সংগীতকে বদলে দিয়েছিলেন
মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মোৎসার্টের এই হঠাৎ মৃত্যু পুরো ইউরোপকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তবে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর তৈরি সুরগুলোর জনপ্রিয়তা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। তাঁর স্ত্রী কনস্টানজে এবং পরবর্তীতে তাঁর ছেলেরা মোৎসার্টের সমস্ত সৃষ্টিকে সংগ্রহ ও প্রকাশ করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। ১৮৬২ সালে ‘কোহেল ক্যাটালগ’ (Köchel catalogue)-এর মাধ্যমে তাঁর জীবনের সমস্ত সুরকে নিখুঁতভাবে সাজানো হয়।

মোৎসার্ট ধ্রুপদী বা ক্লাসিক্যাল সংগীতের ব্যাকরণকে ঠিক রেখে এর মধ্যে এক ধরণের গভীর আবেগ ও নাটকীয়তা নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর অপেরার চরিত্রগুলো ছিল জীবন্ত এবং ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে অত্যন্ত গভীর। তাঁর বাদ্যযন্ত্রের সুরগুলোতে এক ধরণের অদ্ভুত সরলতা ছিল, যা শুনতে যেমন নতুন লাগত, তেমনি তা মানুষের মনকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যেত। তাঁর ৪১ নম্বর ‘জুপিটার’ সিম্ফনি এবং শেষের দিকের পিয়ানো কনসার্টোগুলো ভবিষ্যতের মহান সংগীতশিল্পী বিথোভেনের পথকে সহজ করে দিয়েছিল।

পরবর্তী প্রজন্মের প্রায় প্রতিটি সংগীতশিল্পীই মোৎসার্ট দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। উস্তাদ জোসেফ হাইডন তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছিলেন; আর বিথোভেন তো তাঁকে দেবতাতুল্য মনে করতেন এবং তাঁর সুর নিয়ে গবেষণা করতেন। এছাড়া শুবার্ট, মেন্ডেলসন, ব্রামসের মতো বিখ্যাত সংগীতশিল্পীরাও মোৎসার্টের কাজ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। মোৎসার্টের সুরের স্পষ্টতা ও ভারসাম্য ধ্রুপদী যুগের আদর্শ হয়ে উঠেছিল, যা পরবর্তীতে রোমান্টিক যুগের দরজা খুলে দেয়।

সংগীতের গণ্ডি পেরিয়ে মোৎসার্ট হয়ে উঠেছিলেন প্রতিভা ও মেধার এক বিশ্বজনীন প্রতীক। ১৯৮৪ সালের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘আমাদেউস’ (যা পিটার শাফারের নাটকের ওপর ভিত্তি করে তৈরি) মোৎসার্টকে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলে, যদিও সেখানে বিনোদনের স্বার্থে কিছু কাল্পনিক উপাদান (যেমন সালিয়েরির সাথে শত্রুতা) যোগ করা হয়েছিল।

আজকের দিনেও বিশ্বের বড় বড় কনসার্ট হল, সিনেমা এবং সাধারণ সংস্কৃতিতে মোৎসার্টের সুরের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। শত শত বছর পার হয়ে গেলেও তাঁর সুর আজও মানুষকে আনন্দ দেয়, দুঃখের সময়ে সান্ত্বনা জোগায় এবং মনে নতুন চেতনার জন্ম দেয়। সলজবার্গের সেই বিস্ময় বালক কেবল সুন্দর কিছু সুরই তৈরি করেননি—বরং ধ্রুপদী সংগীত আসলে কেমন হওয়া উচিত, তার এক নতুন সংজ্ঞা দিয়ে গেছেন।

উলফগ্যাং আমাদেউস মোৎসার্টের জীবন ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু আলোর মতো উজ্জ্বল। ইউরোপের রাজদরবার কাঁপানো সেই ছোট্ট পিয়ানোবাদক শিশুটি যখন ভিয়েনায় এসে পূর্ণ বয়সে পৌঁছালেন, তখন তিনি ধ্রুপদী সংগীতের সমস্ত চেনা সীমানাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলেন। তাঁর সৃষ্টিগুলো—যা একই সাথে আনন্দময় এবং গভীর মানবিক আবেগে ভরা—আজও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শ্রোতাকে মুগ্ধ ও আন্দোলিত করে। কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলা যায়, তিনি মানব ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং প্রভাবশালী সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব।

সেই বিস্ময় বালক ধ্রুপদী সংগীতের জগতকে চিরতরে বদলে দিয়ে গেছেন। তাঁর রেখে যাওয়া কীর্তি কোনো ধুলোবালি জমা পুরনো ইতিহাস নয়, বরং তা এমন এক জীবন্ত সৃষ্টি যা প্রতিটি প্রজন্মের মানুষের মনের সাথে কথা বলে।

Comment