Christina Rossetti এর দশটি কবিতা (1830–1894)

ক্রিস্টিনা জর্জিনা রসেটি (১৮৩০-১৮৯৪) ছিলেন ভিক্টোরিয়ান যুগের অন্যতম প্রধান কবি এবং ‘প্রি-রাফেলাইত’ (Pre-Raphaelite) শিল্প ও সাহিত্য আন্দোলনের এক অন্যতম ব্যক্তিত্ব। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও কবি দান্তে গ্যাব্রিয়েল রসেটির বোন ক্রিস্টিনা অসাধারণ আবেগীয় গভীরতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কল্পনাশক্তির সাহায্যে লিখতেন। তাঁর কবিতায় প্রায়শই প্রেম, বিরহ, মৃত্যু, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং ভগ্নীত্বের (sisterhood) থিম উঠে এসেছে, যেখানে তিনি প্রায়শই কালচে, বিষণ্ণ সুরের সাথে চমৎকার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য রূপক মিশিয়ে দিতেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বর্ণনামূলক মাস্টারপিস হলো “গবলিন মার্কেট” (Goblin Market)।

১. গবলিন মার্কেট (১৮৬২)

এটি তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ — প্রলোভন, ভগ্নীত্ব এবং মুক্তির গল্প নিয়ে লেখা একটি রূপক ও সমৃদ্ধ বর্ণনামূলক কবিতা।

সকাল এবং সাঁঝের বেলা

কন্যারা শোনে গবলিনদের মেলা:

“এসো কিনে নাও বাগানের ফল,

কিনে নাও এসে, করো না তো ছল:

আপেল আর শ্রীফল আছে,

লেবু আর কমলা থোকা থোকা গাছে,

নধর, অক্ষত চেরি ফল লাল,

তরমুজ আর রাসবেরির ডাল,

কোমল গালের মতো পিচ ফল পাকা,

কালো-মাথা তুঁত ফলে ঝুড়ি যে ঢাকা,

বুনো ও স্বাধীন ক্র্যানবেরি তাজা,

বুনো আপেল আর ডিউবেরি রাজা,

আনারস আর ব্ল্যাকবেরি কালো,

অ্যাপ্রিকট, স্ট্রবেরি—সবচেয়ে ভালো;—

সব একসাথে পেকেছে এবার

গ্রীষ্মের এই মধুর আবহাওয়ার,—

সকালগুলো যে চলে যায় ভেসে,

সুন্দর সাঁঝেরা উড়ে যায় শেষে;

এসো কিনে নাও, এসো কিনে নাও:

লতা থেকে তাজা আঙুর এই নাও,

বেদানাগুলো ডালিম ও ভারি,

খেজুর আর আলুবোখারা হরেক হারি,

দুর্লভ নাশপাতি, গ্রিনগেজ ওলন্দাজ,

ড্যামসন আর বিলবেরির সাজ,

চেখে দেখো তবে একটুখানি:

কারেন্ট আর করমচা, অমৃত জানি,

উজ্জ্বল আগুনের মতো বারবেরি লাল,

মুখ ভরে নেওয়ার মতো ডুমুরের ডাল,

দক্ষিণ হতে আনা বাতাবি লেবু,

জিভে মিষ্টি, চোখে সুন্দর কভু;

এসো কিনে নাও, এসো কিনে নাও।”

২. রিমেম্বার / মনে রেখো (১৮৬২)

মনে রেখো মোরে আমি যখন যাবো চলে,

বহুদূরে সেই নিস্তব্ধতার দেশে;

যখন হাতটি আর ধরে রাখবে না হেসে,

না পারব ফিরতে আমি, না পারব থামতে চোখের জলে।

মনে রেখো মোরে যখন দিনের পর দিন

বলবে না আর আমাদের সেই বুনে রাখা সুখের গান:

শুধু মনে রেখো মোরে; বোঝো তো হে প্রাণ

দেরি হয়ে যাবে তখন দিতে সান্ত্বনা বা প্রার্থনা মলিন।

তবুও যদি আমায় ভুলে যাও কিছুকাল,

আর পরে মনে পড়ে, কোরো না তো শোক:

কারণ যদি এই অন্ধকার আর অবক্ষয়ের কাল

রেখে যায় স্মৃতির কোনো ভগ্নাবশেষ আলোক,

তবে ভুলে গিয়ে হাসা ঢের ভালো তোমার,

স্মরণ করে দুঃখ পাওয়ার চেয়ে বারবার।

৩. সং / গান (“যখন আমি মরে যাবো, ওগো প্রিয়”) (১৮৬২)

যখন আমি মরে যাবো, ওগো প্রিয় আমার,

গেয়ো না কোনো করুণ গান মনের খেদে;

আমার শিয়রে কোরো না গোলাপের ঝাড়,

কিংবা ছায়াময় সাইপ্রাস তরু কেঁদে:

আমার ওপরে থাকুক সবুজ ঘাসের মেলা

বৃষ্টি আর শিশিরবিন্দুতে ভেজা সারা বেলা;

আর যদি তোমার ইচ্ছে হয়, মনে রেখো তবে,

আর যদি ইচ্ছে হয়, ভুলেও যেতে পারো সবারে।

আমি তো দেখব না কোনো ছায়ার মায়া,

আমি তো ফিল করব না বৃষ্টির জল;

আমি তো শুনব না নাইটিঙ্গেলের কায়া

বেদনায় গান গায়—এমন সুর চঞ্চল:

আর গোধূলির আলোয় স্বপ্নের দেশে চেয়ে

যা কখনো ওঠে না বা ডোবে না আর ধেয়ে,

হয়তো বা মনে পড়তে পারে আমার,

আর হয়তো বা ভুলেও যেতে পারি আবার।

৪. নো, থ্যাঙ্ক ইউ, জন / না, ধন্যবাদ তোমাকে, জন (১৮৬২)

আমি তো বলিনি কখনো তোমায় ভালোবাসি, জন:

তবে কেন দিনরাত আমায় করো জ্বালাতন,

আর ভাবলেই বিরক্তি জাগে এই মনে

সব সময় কেন “দোহাই” আর “অনুরোধ” প্রতি ক্ষণে?

তুমি তো জানো আমি বাসিনি ভালো তোমায়, জন;

আমার কোনো দোষে তো তুমি হওনি দেওয়ানা:

তবে কেন তাড়া করে বেড়াও ম্লান মুখ নিয়ে এমন

যেন এক ঘণ্টার পুরোনো কোনো ভূতের সীমানা?

আমি নিশ্চিত মেগ কিংবা মল হয়তো দেবে

তোমার প্রতি করুণা, যদি তুমি চাও গিয়ে কাছে:

আর দোহাই তোমার, আমার জন্য একাকী থেকো না ভেবে

যে কাজ করা আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে আছে।

আমার হৃদয় নেই?—হয়তো বা সত্যিই নেই;

কিন্তু তা বলে রেগে যাওয়া তোমার পাগলামি বৈ নয়

যে জিনিস আমার নেই তা আমি দিইনি তাতেই:

নিজের সাধারণ বুদ্ধিটুকু একটু তো করো জয়।

৫. আপ-হিল / পাহাড়ের চড়াই (১৮৬১)

পথটি কি পাহাড়ের ওপর দিকেই এঁকেবেঁকে গেছে সারাবেলা?

হ্যাঁ, একেবারে শেষ সীমানা পর্যন্ত।

দিনের এই যাত্রা কি কেড়ে নেবে পুরোটা সময় জুড়ে খেলা?

সকাল থেকে রাত অবধি, হে বন্ধু আমার ক্লান্ত।

কিন্তু রাতের জন্য কি কোনো বিশ্রামের ঠাঁই আছে সেখানে?

একটি ছাদ মিলবে, যখন ধীর অন্ধকারের প্রহর হবে শুরু।

আঁধার কি তা লুকিয়ে রাখবে না আমার চোখের সামনে?

সেই পান্থনিবাসটি তুমি কিছুতেই মিস করবে না, বুক দুরুদুরু।

আমি কি রাতে অন্য কোনো পথচারীর দেখা পাবো তবে?

যারা তোমার আগেই চলে গেছে সেই পথে।

তাহলে কি আমি কড়া নাড়ব, নাকি দেখা পেলেই ডাকতে হবে?

তারা তোমাকে সেই দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেবে না কোনো মতে।

ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত আর দুর্বল আমি, সেখানে কি শান্তি পাবো খুঁজে?

তোমার সব শ্রমের শেষ হিসাবটি তুমি পেয়ে যাবে সেখানে।

আমার এবং যারা আসবে সবার জন্য কি বিছানা থাকবে চোখ বুজে?

হ্যাঁ, যারাই আসবে, সবার জন্যই বিছানা তৈরি থাকবে এখানে।

৬. এ বার্থডে / একটি জন্মদিন (১৮৬১)

আমার হৃদয় যেন এক গান-গাওয়া পাখি

জলাশয়ের ধারে ভেজা ডালে যার বাসা;

আমার হৃদয় যেন এক আপেল গাছ সখী

ঘন ফলে যার ডালপালা নুয়ে পড়ার আশা;

আমার হৃদয় যেন এক রামধনু রঙের ঝিনুক

যা শান্ত, প্রশান্ত সাগরে ভেসে বেড়ায় সুখে;

আমার হৃদয় এই সবকিছুর চেয়েও বেশি প্রফুল্ল আজ

কারণ আমার ভালোবাসা এসেছে আমার বুকে।

আমার জন্য রেশম আর পালকের এক মঞ্চ তোলো;

তাতে ধূসর আর বেগুনি রঙের আভা দাও এঁকে;

ঘুঘু আর ডালিমের নকশা খোদাই করো ভালো,

আর শত চোখের ময়ূরগুলোকে দাও সেখানে রেখে;

সোনা আর রুপালি আঙুরের লতা করো কাজ,

রুপালি লিলি ফুলের পাতায় পাতায় সাজ;

কারণ আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ জন্মদিন আজ এসেছে এসে,

আমার ভালোবাসা এসেছে আমার বুকে হেসে।

৭. ইকো / প্রতিধ্বনি (১৮৬২)

এসো আমার কাছে এই রাতের নিস্তব্ধতায়;

এসো স্বপ্নের এক বাঙ্ময় নীরবতার মাঝে;

এসো নরম গোল গাল আর উজ্জ্বল চোখ দুটিতে

যেমন সূর্যের আলো নদীর বুকে রাজে;

ফিরে এসো অশ্রুজলে ভেজা নয়নে,

হে স্মৃতি, হে আশা, চলে যাওয়া দিনগুলোর প্রেম মনে।

ওগো স্বপ্ন কত মধুর, বড্ড বেশি মধুর, বড্ড বেশি অম্লমধুর,

যার জাগরণ হওয়া উচিত ছিল স্বর্গের সেই ঘরে,

যেখানে ভালোবাসায় ভরপুর আত্মারা বাস করে আর মেলে সুর;

যেখানে তৃষ্ণার্ত, আকুল চোখ চেয়ে থাকে

সেই ধীর গতির দরজার দিকে

যা একবার খুললে ভেতরে নেয়, কিন্তু কাউকে বাইরে যেতে দেয় না আর ফেরে।

৮. ইন দ্য ব্লিক মিডউইন্টার / সেই কনকনে শীতের মাঝে (১৮৭২)

সেই কনকনে শীতের মাঝে, হিমেল হাওয়া দিচ্ছিল হাহাকার,

পৃথিবী জমে লোহার মতো শক্ত, জল যেন পাথর আকার;

তুষার পড়ছিল, তুষারের ওপর তুষার, তুষারের ওপর তুষার রাশি,

সেই কনকনে শীতের মাঝে, বহু বছর আগের এক শশী।

আমাদের ঈশ্বর, স্বর্গও তাঁকে ধরে রাখতে পারে না, পৃথিবীও পারে না সইতে;

স্বর্গ আর পৃথিবী পালিয়ে যাবে যখন তিনি আসবেন রাজত্ব করতে।

সেই কনকনে শীতের মাঝে একটি সাধারণ আস্তাবলই ছিল যথেষ্ট

সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, যীশু খ্রীষ্টের জন্য যা ছিল পরম শ্রেষ্ঠ।

৯. সিস্টার মড / বোন মড (১৮৬২)

কে বলল আমার মাকে আমার সেই লজ্জার কথা,

কে বলল আমার বাবাকে আমার সেই প্রিয়তমের খবর?

ওহ, মড ছাড়া আর কে হবে, আমার বোন মড সে যে,

যে লুকিয়ে ওত পেতে দেখছিল আমাদের অন্দর।

পাথরের মতো ঠাণ্ডা হয়ে শুয়ে আছে সে আজ নিথর,

মুখের ওপর এলোমেলো জমাট বাঁধা চুলের গোছা তার:

এই পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে সুন্দর এক মৃতদেহ সে যে,

এবং এক রানীর আলিঙ্গনের যোগ্য ছিল রূপটি যার।

১০. মড ক্লেয়ার (১৮৬২)

গির্জা থেকে সে তাদের পিছু পিছু এল বাইরে

এক উচ্চ পদক্ষেপ আর রাজকীয় চালচলনে:

তার কনেটি ছিল এক সাধারণ গাঁয়ের মেয়ের মতো,

আর মড ক্লেয়ার দাঁড়িয়ে ছিল এক রানীর মতন মনে।

“বাবা থমাস,” তার সম্ভ্রান্ত মা বললেন হেসে,

মুখে মৃদু হাসি, চোখে প্রায় অশ্রুর মেলা:

“নেল আর তুমি যেন ঠিক ততটাই সত্য হয়ে বাঁচো শেষে

যতটা আমরা বেঁচেছি বছরের পর বছর ধরে সারাবেলা;

“তোমার বাবা আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে

ঠিক তোমার মতোই গল্প বলতে এসেছিলেন কাছে;

কিন্তু তিনি তোমার মতো এতটা ফ্যাকাসে ছিলেন না অনুরাগে,

আর আমিও নেলের মতো এতটা ম্লান ছিলাম না যেমন ও আছে।”

ক্রিস্টিনা রসেটির কবিতা ভিক্টোরিয়ান যুগের সংযম এবং প্রি-রাফেলাইত আন্দোলনের রূপক ও চিত্রকল্পের এক অপূর্ব মিশ্রণ। তাঁর কাজের মধ্যে একটি শান্ত তীব্রতা এবং গভীর মানসিক সততা প্রকাশ পায় যা পাঠকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

ক্রিস্টিনা জর্জিনা রোসেটি (Christina Georgina Rossetti, ১৮৩০–১৮৯৪)

ক্রিস্টিনা জর্জিনা রোসেটি ছিলেন ভিক্টোরিয়ান যুগের (Victorian Era) অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং প্রি-রাফেলাইট আন্দোলনের (Pre-Raphaelite Brotherhood) সঙ্গে যুক্ত একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক। তাঁর কবিতা সূক্ষ্ম আবেগ, অন্ধকারাচ্ছন্ন সৌন্দর্য, কল্পনার গভীরতা এবং প্রতীকী ভাষার জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে তাঁর বিখ্যাত আখ্যানমূলক কবিতা Goblin Market (১৮৬২) তার সমৃদ্ধ প্রতীকী অর্থ, সংবেদনশীল ভাষা এবং বোনেদের মধ্যকার সম্পর্কের থিমের জন্য আজও অত্যন্ত প্রশংসিত।

জন্ম ও পরিবার

৫ ডিসেম্বর ১৮৩০ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন ক্রিস্টিনা রোসেটি। তাঁর বাবা গ্যাব্রিয়েলে রোসেটি ছিলেন একজন ইতালীয় কবি ও পণ্ডিত, যিনি রাজনৈতিক কারণে ইতালি থেকে নির্বাসিত হয়ে ইংল্যান্ডে চলে আসেন। মা ফ্রান্সেস পোলিডোরি ছিলেন ইতালীয়-ইংরেজ বংশোদ্ভূত। পরিবারটি সাহিত্য ও শিল্পের প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী ছিল।

তাঁর বড় ভাই ডান্তে গ্যাব্রিয়েল রোসেটি ছিলেন প্রি-রাফেলাইট আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও কবি। বোন মারিয়া ফ্রান্সেসকা রোসেটি ছিলেন লেখিকা। এই সৃজনশীল পরিবেশে বড় হয়ে ক্রিস্টিনা খুব অল্প বয়স থেকেই কবিতা লিখতে শুরু করেন।

সাহিত্যজীবন ও প্রি-রাফেলাইট যোগাযোগ

ক্রিস্টিনা রোসেটি প্রি-রাফেলাইট আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন, যদিও তিনি নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য ছিলেন না। তাঁর কবিতায় প্রি-রাফেলাইট শিল্পের বৈশিষ্ট্য — বিস্তারিত প্রকৃতি বর্ণনা, প্রতীকী অর্থ এবং আবেগের তীব্রতা — স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

১৮৬২ সালে তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ Goblin Market and Other Poems প্রকাশিত হয়। এই সংকলনে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা Goblin Market অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই কবিতায় দুই বোন লরা ও লিজির গল্পের মাধ্যমে তিনি প্রলোভন, পতন, মুক্তি এবং বোনেদের মধ্যকার সম্পর্কের গভীর প্রতীকী বর্ণনা দিয়েছেন।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনা:

  • The Prince’s Progress and Other Poems (১৮৬৬)
  • A Pageant and Other Poems (১৮৮১)
  • অনেকগুলো ধর্মীয় ও ভক্তিমূলক কবিতা (যেমন: In the Bleak Midwinter)

ব্যক্তিগত জীবন

ক্রিস্টিনা রোসেটি কখনো বিয়ে করেননি। তাঁর জীবনে কয়েকটি প্রেমের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত কারণে তিনি সিদ্ধান্ত নেন অবিবাহিত থাকবেন। তিনি ছিলেন গভীরভাবে ধর্মপ্রাণ অ্যাংলিকান খ্রিস্টান। তাঁর অনেক কবিতায় মৃত্যু, অনন্তকাল, ত্যাগ এবং ঐশ্বরিক প্রেমের থিম প্রাধান্য পেয়েছে।

স্বাস্থ্যগত সমস্যা (বিশেষ করে Graves’ disease) তাঁকে অনেক সময় বিছানায় আটকে রাখত। এই সময় তিনি ধর্মীয় গদ্য ও কবিতা লেখায় মনোনিবেশ করেন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

২৯ ডিসেম্বর ১৮৯৪ সালে লন্ডনে ৬৪ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ক্রিস্টিনা রোসেটি ভিক্টোরিয়ান যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী কবি হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর কবিতায় নারীর অভিজ্ঞতা, আত্মত্যাগ, প্রলোভন ও মুক্তির গভীর অনুভূতি অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে। Goblin Market আজও সাহিত্য সমালোচক ও পাঠকদের কাছে নারীবাদী, প্রতীকী ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

তিনি শুধু সুন্দর ভাষায় কবিতা লেখেননি, বরং তাঁর রচনায় ভিক্টোরিয়ান সমাজের নারীর অবস্থান, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মানবিক দুর্বলতার গভীর অনুসন্ধান রয়েছে। আজও তাঁর কবিতা পাঠকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

Leave a Comment