কল্পনা করুন, মনোবিজ্ঞান এমন একটা বিজ্ঞান যা আমাদের বলে দিতে পারে মানুষ কী করবে এবং তাদের আচরণ ভালো করার জন্য পরিবর্তনও করা যায় — যেমন কুকুরকে বসতে শেখানো বা শিশুকে ভালো অভ্যাস শেখানো। এটাই ঠিক জন বি. ওয়াটসন ১৯১৯ সালে তাঁর বিপ্লবী বই Psychology from the Standpoint of a Behaviorist-এ চেয়েছিলেন। এর আগে অনেক মনোবিজ্ঞানী অদৃশ্য জিনিস নিয়ে চিন্তা করতেন — যেমন চিন্তা, অনুভূতি বা “চেতনা”।
ওয়াটসন বললেন: থামাও! মনোবিজ্ঞান হবে আসল বিজ্ঞানের মতো — পদার্থবিজ্ঞান বা জীববিজ্ঞানের মতো। এটি শুধু যা আমরা দেখতে এবং মাপতে পারি তাই নিয়ে পড়াশোনা করবে — মানুষের কাজকর্ম বা “আচরণ”।
এই খুব লম্বা আর্টিকেলে পুরো বইটাকে একদম সহজ, দৈনন্দিন ভাষায় ভেঙে বোঝানো হয়েছে। কোনো কঠিন শব্দ ছাড়াই। আমরা অধ্যায় অনুসারে যাব, সাধারণ উদাহরণ দিয়ে (যেমন শিশুর কান্না বা হাঁটা শেখা)। আপনি বুঝতে পারবেন কেন ১৯১৯ সালে ওয়াটসনের আইডিয়া পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, আজও কীভাবে এগুলো আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে (থেরাপি অ্যাপ, স্কুলের নিয়ম, বিজ্ঞাপন), এবং কেন তিনি বিশ্বাস করতেন যে পরিবেশ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা আরও ভালো সমাজ গড়তে পারি। চলুন শুরু করি!
জন বি. ওয়াটসন কে ছিলেন এবং কেন এই বই লিখেছিলেন?
জন বি. ওয়াটসন (১৮৭৮–১৯৫৮) একজন আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী। তিনি প্রথমে প্রাণী নিয়ে গবেষণা করতেন — ইঁদুর, বানর, শিশু। ১৯১৩ সালে তিনি “Behaviorist Manifesto” নামে একটা ছোট প্রবন্ধ লেখেন। তাতে তিনি ঘোষণা করেন যে মনোবিজ্ঞানকে রসায়নের মতো নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে — অদৃশ্য “মন” নিয়ে আর অনুমান করা চলবে না। ১৯১৯ সালের এই বইটি সেই আইডিয়ার পুরো বিস্তারিত সংস্করণ — বিহেভিয়রিজমের প্রথম বড় টেক্সটবুক।
বিহেভিয়রিজমের মূল কথা: মানুষের আচরণ একটা মেশিনের মতো — বাইরের বোতাম টিপলে (পরিবেশের উদ্দীপনা) যা করার তাই করে (প্রতিক্রিয়া)। সঠিক বোতাম টিপুন (পরিবেশ ও প্রশিক্ষণ), সঠিক আচরণ পাবেন। ওয়াটসন “ইনট্রোস্পেকশন” (নিজের মাথার ভিতরে তাকিয়ে অনুভূতি বর্ণনা করা) পছন্দ করতেন না। কারণ এটা ব্যক্তিগত, অবিশ্বাস্য এবং অবৈজ্ঞানিক।
মনোবিজ্ঞানের লক্ষ্য (ওয়াটসনের মতে): আচরণের পূর্বাভাস দেওয়া এবং নিয়ন্ত্রণ করা। পরিস্থিতি (উদ্দীপনা) জানলে বলা যাবে মানুষ কী করবে (প্রতিক্রিয়া)। অথবা পরিস্থিতি বদলে ভালো অভ্যাস তৈরি করা। এটা ব্যবহারিক: বাবা-মাকে সন্তান লালন-পালনে সাহায্য, খারাপ অভ্যাস ঠিক করা, এমনকি সমাজ সুষ্ঠুভাবে চালানো।
বইটিতে ১১টি অধ্যায় আছে। ওয়াটসন মানুষ ও প্রাণীকে একইভাবে দেখেন — আমরা সবাই উদ্দীপনার প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাই। আত্মা বা রহস্যময় মন নেই। সবকিছু উদ্দীপনা → প্রতিক্রিয়া, জন্মগত + শেখা।
অধ্যায় ১: মনোবিজ্ঞানের সমস্যা ও সীমা — মনোবিজ্ঞান আসলে কী নিয়ে পড়াশোনা করবে?
ওয়াটসন বলেন: মনোবিজ্ঞান একটা প্রাকৃতিক বিজ্ঞান। এর বিষয়বস্তু মানুষের কাজকর্ম ও আচরণ — যা মানুষ করে, ভিতরে কী ভাবছে বা অনুভব করছে তা নয়।
দৈনন্দিন “সাধারণ জ্ঞানের মনোবিজ্ঞান” ইতিমধ্যে আচরণের পূর্বাভাস দেয়: বন্ধু টাকা ফেরত দেবে কারণ আগে দিয়েছে। মা জানে শিশুর কান্না মানে খিদে বা ভেজা ডায়াপার। শিকারি জানে কুকুর কখন শিকার দেখায়।
বৈজ্ঞানিক মনোবিজ্ঞান এটাকে আরও ভালোভাবে করে: উদ্দীপনা (পরিবেশ বা শরীরের যেকোনো কিছু যা কাজ শুরু করে — আলো, শব্দ, খিদে) এবং প্রতিক্রিয়া (পেশির নড়াচড়া বা গ্রন্থির নিঃসরণ — দৌড়ানো, কাঁদা, ঘামা) নিয়ে পড়ে।
আচরণ আসে:
জন্মগত (জন্মের সময় যা আছে)
আগের অভ্যাস (শেখা)
বর্তমান শরীরের অবস্থা (ক্লান্তি, খিদে)
মনোবিজ্ঞানের কাজ: এমন নিয়ম খুঁজে বের করা যাতে আমরা পূর্বাভাস দিতে পারি এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। উদাহরণ: শিশুকে ভালোভাবে খাওয়া বা খেলনা শেয়ার করতে শেখানো।
ওয়াটসন প্রতিক্রিয়াকে ভাগ করেন:
স্পষ্ট (দেখা যায় — কথা বলা)
অস্পষ্ট (লুকানো — চিন্তার সময় গলার ছোট নড়াচড়া)
জন্মগত
অর্জিত
“চেতনা”, “ইচ্ছাশক্তি”, “মনোযোগ” — এসব রহস্যময় শব্দ আর নয়। সবকিছু দেখা যায় এমন আচরণে পরিণত করুন।
অধ্যায় ২: মনোবিজ্ঞানের পদ্ধতি — আচরণ কীভাবে বৈজ্ঞানিকভাবে পড়ব?
পুরনো পদ্ধতি: ইনট্রোস্পেকশন — চুপ করে বসে নিজের অনুভূতি বলা। ওয়াটসন বলেন এটা অপরিপক্ব ও অকেজো।
নতুন বিহেভিয়রিস্ট পদ্ধতি (সবই পরিমাপযোগ্য):
পর্যবেক্ষণ — মানুষ কী করছে দেখা। ক্যামেরা, টাইমার ব্যবহার।
শর্তাধীন প্রতিবর্তী পদ্ধতি (ইভান পাভলভের আইডিয়া) — নিরপেক্ষ জিনিস (ঘণ্টা) কে প্রাকৃতিক উদ্দীপনার (খাবার → লালা) সাথে জোড়া লাগান। শীঘ্রই ঘণ্টা শুনলেই লালা পড়ে। এটাই শেখা।
কথ্য প্রতিবেদন — কথা বলাও একটা আচরণ। “আমি লাল দেখছি” কে আচরণ হিসেবে নিন।
পরীক্ষা — স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট দিয়ে অভ্যাস মাপা।
উদাহরণ: শিশুকে কুকুরের ভয় দেখাতে জোরে শব্দ (প্রাকৃতিক ভয়) এর সাথে কুকুর জোড়া লাগান।
অধ্যায় ৩: গ্রাহক অঙ্গ ও উদ্দীপনা — আমাদের ইন্দ্রিয় কীভাবে বিশ্বের “বোতাম” ধরে?
চামড়া, চোখ, কান, নাক, জিভ, পেশি, ভিতরের অঙ্গ — এগুলো উদ্দীপনা ধরে।
চামড়া: গরম-ঠান্ডা, চাপ, ব্যথা।
পেশির অনুভূতি: শরীরের অবস্থান জানায় (হাঁটার অভ্যাসে খুব জরুরি)।
ভিতরের অঙ্গ: খিদে, তৃষ্ণা।
সব ইন্দ্রিয় একসাথে কাজ করে। দেখা মাত্রই পুরো শরীর প্রতিক্রিয়া দেখায়।
অধ্যায় ৪–৫: স্নায়ুতন্ত্র, পেশি ও গ্রন্থি
স্নায়ুতন্ত্র হলো তারের নেটওয়ার্ক। মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড — সব উদ্দীপনা থেকে প্রতিক্রিয়ায় নিয়ে যায়। পেশি ও গ্রন্থি হলো কাজ করার অঙ্গ।
অধ্যায় ৬: জন্মগত আবেগ
ভয়, রাগ, ভালোবাসা — জন্ম থেকে আছে।
ভয়: জোরে শব্দ বা হঠাৎ পড়ে যাওয়া।
রাগ: শরীর আটকে রাখলে।
ভালোবাসা: আদর করলে।
লিটল অ্যালবার্ট পরীক্ষায় দেখানো হয়েছে — সাদা ইঁদুরের সাথে জোরে শব্দ জুড়ে শিশুকে ভয় শেখানো হয়।
অধ্যায় ৭–৮: প্রবৃত্তি ও অভ্যাস গঠন
মানুষের প্রবৃত্তি কম। বেশিরভাগ অভ্যাস শেখা। বারবার অনুশীলন + সফলতা দিয়ে অভ্যাস তৈরি হয়।
অধ্যায় ৯: ভাষা অভ্যাস ও চিন্তা
কথা বলা = স্পষ্ট অভ্যাস। চিন্তা = চুপচাপ গলার ছোট নড়াচড়া। চিন্তা কোনো অদৃশ্য জিনিস নয় — এটাও আচরণ!
অধ্যায় ১০–১১: দৈনন্দিন কাজ ও ব্যক্তিত্ব
ব্যক্তিত্ব = সব অভ্যাসের সমষ্টি। খারাপ অভ্যাস (ভয়, নিউরোসিস) পরিবেশ বদলে ঠিক করা যায়।
এই বইয়ের গুরুত্ব আজও কেন?
ওয়াটসনের বই বিহেভিয়রিজমকে আমেরিকায় প্রধান মনোবিজ্ঞান বানিয়েছে। আজকের:
শিক্ষা: ভালো আচরণকে পুরস্কৃত করা
থেরাপি: বিহেভিয়র থেরাপি ও CBT
বিজ্ঞাপন: পণ্যের সাথে ভালো অনুভূতি জুড়ে দেওয়া
শিশু লালন: অভ্যাস গড়া
চিন্তা ও জিনকে খুব কম গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু তিনি ঠিক বলেছিলেন: মনোবিজ্ঞানকে ব্যবহারিক ও বৈজ্ঞানিক করতে হবে।
আজ অ্যাপ দিয়ে অভ্যাস ট্র্যাক করা, ফোবিয়া সারানো — সবই ওয়াটসনের আইডিয়া।
ওয়াটসনের ১৯১৯ সালের স্বপ্ন ছিল মনোবিজ্ঞান সবার জন্য উপকারী হবে। আপনি যদি পোষা প্রাণীকে ট্রেন করেন, খারাপ অভ্যাস ছাড়েন বা বিজ্ঞাপন দেখেন — আপনি ওয়াটসনের তত্ত্বই ব্যবহার করছেন! আচরণ বোঝা মানে নিজের জগৎকে গড়ার ক্ষমতা।
জন বি. ওয়াটসনের লিটল অ্যালবার্ট পরীক্ষা — বিস্তারিত ব্যাখ্যা
লিটল অ্যালবার্ট পরীক্ষা মনোবিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত এবং বিতর্কিত পরীক্ষাগুলোর একটি। এটি ১৯২০ সালে জন বি. ওয়াটসন এবং তাঁর সহকর্মী রোজালি রেমনার (Rosalie Rayner) করেছিলেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ওয়াটসন দেখাতে চেয়েছিলেন যে ভয়ের মতো আবেগ জন্মগত নয়, বরং শেখা যায় — পাভলভের ক্লাসিক্যাল কন্ডিশনিং (শর্তাধীন প্রতিবর্তী) এর মাধ্যমে।
এই পরীক্ষা ওয়াটসনের ১৯১৯ সালের বইয়ের পরেই হয়েছিল এবং বিহেভিয়রিজমের একটি বড় প্রমাণ হিসেবে পরিচিত। চলুন ধাপে ধাপে সহজ ভাষায় পুরো ঘটনা জানি।
পরীক্ষার উদ্দেশ্য
ওয়াটসন বিশ্বাস করতেন যে মানুষের আবেগ (ভয়, রাগ, ভালোবাসা) জন্মগত নয়, পরিবেশ ও অভিজ্ঞতা থেকে শেখা। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন:
শিশুরা কি নিরপেক্ষ জিনিসকে (যেমন সাদা ইঁদুর) ভয় করতে শিখতে পারে?
ভয় কি অন্য জিনিসে ছড়িয়ে পড়তে পারে (generalization)?
এই ভয় কতদিন থাকে?
এর উত্তর দিতেই লিটল অ্যালবার্ট পরীক্ষা।
পরীক্ষার বিষয় — লিটল অ্যালবার্ট কে?
নাম: অ্যালবার্ট বি. (Little Albert)
বয়স শুরুতে: ৯ মাস (পরে ১১-১২ মাস পর্যন্ত পরীক্ষা চলে)
স্থান: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল (Harriet Lane Home)
মা: একজন ওয়েট নার্স (দুধ খাওয়ানোর নার্স) — নাম পরে জানা যায় আরভিলা মেরিট (Arvilla Merritte)
বাস্তব নাম: সম্ভবত ডগলাস মেরিট (Douglas Merritte) — ২০০৯-২০১০ সালে গবেষকরা এটি চিহ্নিত করেছেন। তিনি ৬ বছর বয়সে মারা যান (হাইড্রোসেফালাস রোগে)।
অ্যালবার্টকে হাসপাতালে বড় করা হয়েছিল, তাই তাঁর উপর পরীক্ষা করা সহজ ছিল।
পরীক্ষার ধাপসমূহ
ধাপ ১: প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ (Baseline Test)
৯ মাস বয়সে অ্যালবার্টকে বিভিন্ন জিনিস দেখানো হয়: সাদা ইঁদুর, খরগোশ, বানর, মুখোশ, পুতুল, জ্বলন্ত খবরের কাগজ ইত্যাদি।
ফলাফল: অ্যালবার্ট কোনো ভয় দেখায়নি। সে ইঁদুরের সাথে খেলতে চেয়েছে, হাত দিয়ে ছুঁয়েছে। কোনো জিনিসেই ভয় পায়নি।
ধাপ ২: কন্ডিশনিং (শর্তাধীন ভয় তৈরি) — মূল পরীক্ষা
বয়স: ১১ মাস
নিরপেক্ষ উদ্দীপনা (Neutral Stimulus): সাদা ইঁদুর (যেটা আগে ভয় পায়নি)
অপ্রাকৃতিক/প্রাকৃতিক ভয়ের উদ্দীপনা (Unconditioned Stimulus): জোরে শব্দ — একটা লম্বা স্টিলের রডে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা (খুব জোরে আওয়াজ হয়, শিশুরা স্বাভাবিকভাবে ভয় পায়)
পদ্ধতি: অ্যালবার্টকে টেবিলের উপর বসিয়ে ইঁদুর দেখানো হয়। যখন সে ইঁদুর ছুঁয়েছে বা খেলতে গেছে, তখন পিছন থেকে জোরে হাতুড়ি মারা হয়েছে।
প্রথম কয়েকবার:
ইঁদুর দেখে অ্যালবার্ট খেলতে যায় → জোরে শব্দ → অ্যালবার্ট চমকে ওঠে, কাঁদতে শুরু করে, শ্বাস আটকে যায়, হাত-পা নাড়ায়।
পরবর্তী বারগুলোতে:
শুধু ইঁদুর দেখালেই (শব্দ ছাড়া) অ্যালবার্ট ভয় পেতে শুরু করে। সে কাঁদে, পালাতে চায়, হাত সরিয়ে নেয়। এটাই সফল কন্ডিশনিং।
ধাপ ৩: জেনারেলাইজেশন (ভয় ছড়িয়ে পড়া)
ভয় শুধু ইঁদুরে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অ্যালবার্ট ভয় পেতে শুরু করে:
খরগোশ
বানর
মুখোশ (চুলওয়ালা)
সাদা পশমের কোট
জ্বলন্ত খবরের কাগজ
এমনকি ওয়াটসনের চুলও (সাদা ছিল)
এটি দেখায় যে ভয় অনুরূপ জিনিসে (furry/white objects) স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ধাপ ৪: পরীক্ষার শেষ এবং ফলাফল
পরীক্ষা চলাকালীন অ্যালবার্টকে আর দেখা যায়নি। ওয়াটসন ও রেমনার ভয় কমানোর (deconditioning) কোনো চেষ্টা করেননি। তারা শুধু বলেছিলেন যে ভয় সময়ের সাথে কমতে পারে।
পরীক্ষার গুরুত্ব
প্রমাণ করেছে যে আবেগ (ফোবিয়া) শেখা যায়।
বিহেভিয়রিজমকে শক্তিশালী করেছে।
পরবর্তীকালে ফোবিয়া থেরাপি (systematic desensitization) এর ভিত্তি তৈরি করেছে।
বিজ্ঞাপন ও শিক্ষায় কন্ডিশনিংয়ের ব্যবহার দেখিয়েছে।
নৈতিক সমস্যা ও সমালোচনা (খুব গুরুত্বপূর্ণ)
আজকের মানদণ্ডে এই পরীক্ষা অত্যন্ত অনৈতিক বলে বিবেচিত হয়:
সম্মতি নেওয়া হয়নি — মায়ের কাছ থেকে পুরোপুরি জানানো হয়নি কী করা হচ্ছে।
ক্ষতি করা হয়েছে — শিশুকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভয় দেখানো হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
ভয় কমানো হয়নি — পরীক্ষা শেষে অ্যালবার্টকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়নি।
একজন মাত্র বিষয় — কোনো কন্ট্রোল গ্রুপ ছিল না।
শিশুর অধিকার লঙ্ঘন।
আজকাল এ ধরনের পরীক্ষা IRB (Institutional Review Board) অনুমোদন ছাড়া করা অসম্ভব।
লিটল অ্যালবার্টের পরিণতি
২০০৯ সালে গবেষক হল বেক এবং অন্যরা খুঁজে বের করেন যে অ্যালবার্ট সম্ভবত ডগলাস মেরিট। তিনি মাত্র ৬ বছর বয়সে মারা যান। কিন্তু এ নিয়ে এখনও কিছু বিতর্ক আছে।
সারাংশ টেবিল
| ধাপ | বয়স | কী করা হয়েছে | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| Baseline | ৯ মাস | বিভিন্ন জিনিস দেখানো | কোনো ভয় নেই |
| Conditioning | ১১ মাস | ইঁদুর + জোরে শব্দ | ইঁদুর দেখলেই ভয় ও কান্না |
| Generalization | ১১-১২ মাস | অনুরূপ জিনিস দেখানো | খরগোশ, মুখোশ ইত্যাদিতেও ভয় |
| শেষ | ১২ মাস | কোনো deconditioning নেই | ভয় নিয়ে চলে যায় |
লিটল অ্যালবার্ট পরীক্ষা বিহেভিয়রিজমের একটি মাইলফলক, কিন্তু এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে বিজ্ঞানের নামে সবকিছু করা যায় না। এটি আজও মনোবিজ্ঞানের ক্লাসে পড়ানো হয় — শেখার জন্য এবং নৈতিকতা নিয়ে চিন্তা করার জন্য।
Psychology from the Standpoint of a Behaviorist (1919) — John B. Watson

