এলিজাবেথীয় ও জ্যাকোবীয় যুগের প্রখ্যাত ইংরেজ নাট্যকার এবং কবি জন ফ্লেচার (John Fletcher, 1579–1625) মূলত তাঁর নাটকগুলোর জন্য পরিচিত হলেও, তাঁর নাটকের ভেতরে থাকা লিরিক ও গানগুলো উচ্চমানের গীতিকবিতা হিসেবে সমাদৃত।
১. বিষণ্ণতার স্তুতি (Melancholy)
মূল সুর: The Nice Valour নাটক থেকে সংগৃহীত। এটি মানুষের একাকীত্ব ও দুঃখের এক সুন্দর প্রকাশ।
হতাশ করাতালি, যাও দূরে সরে,
মিথ্যা সুখের খেয়া ভাসে না এ ঘরে;
ঝরুক নিঝুম মেঘ আঁধারের মতো,
ঢেকে দিক স্মৃতির এই চাদরটি ক্ষত।
মৌন রাতের চেয়ে নেই তো মধুর কিছু,
দুঃখের চেয়ে প্রিয় কে চলে পিছু পিছু?
এমন নিবিড় সুর কোথাও কি জোটে?
কেবল বিষণ্ণতায় আসল আনন্দ ফোটে।
২. হে ঘুম, তুমি জাদুকর (Care-Charming Sleep)
মূল সুর: The Tragedy of Valentinian নাটক থেকে। দুঃখ ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য ঘুমের প্রতি এক আকুল আহ্বান।
হে ঘুম, দুঃখ হরণকারী জাদুকর তুমি,
মৃত্যুর সহোদর, এসো ছোঁও এই ভূমি।
ক্লান্ত এই রাজপুত্রের চোখের পাতায়,
নেমে এসো মেঘ হয়ে পরম শান্ততায়।
ঝরনার কলতানে নদী যেমন বহে সুর,
সবটুকু ব্যথা তার করে দাও দূর।
রাতের সন্তান তুমি, শান্ত পায়ে চলো,
স্বপ্নের মায়াজালে কানে কথা বলো।
৩. নদীর দেবতার গান (The River God’s Song)
মূল সুর: The Faithful Shepherdess নাটক থেকে। প্রকৃতির শুদ্ধতা ও জলদেবতার আশীর্বাদ নিয়ে লেখা।
আমার এই শীতল স্রোতের গভীরে,
যেখানে সূর্য আলো ফেলে তীরে তীরে;
আমি জলদেবতা, রাখি চোখ সদা,
কেউ যেন না পায় এই বুকেতে বাধা।
শুদ্ধ হৃদয়ে যদি কেউ আসে কাছে,
অমৃতের মতো জল তার জন্য আছে।
পাহাড়ের বুক চিরে আনি যে রুপোলি জল,
জুড়িয়ে দিতে সব ক্লান্ত চোখের পল।
৪. প্রেমের মৃত্যু (The Dead Host’s Song)
মূল সুর: The Lover’s Progress নাটক থেকে। মৃত্যুর পর প্রেম কীভাবে টিকে থাকে, তার এক অলৌকিক সুর।
মাটির নিচে আজ ঘুমে আছি আমি,
পৃথিবীর সব আলো যেখানে বেনামী।
তবুও আমার প্রেম মরেনি তো মোটে,
তোমার স্মরণে আজও এই বুকে ফোটে।
হে প্রিয়, কেঁদো না আর দেখে এই স্থান,
বাতাসে শুনবে তুমি আমারই তো গান।
ধুলো হয়ে গেছি আমি, নেই কোনো কায়া,
তবুও জড়িয়ে রবে আমার এই মায়া।
৫. ব্যাকাসের গান (Song to Bacchus)
মূল সুর: মদের দেবতা ব্যাকাসের উদ্দেশ্যে রচিত একটি উৎসবের গান, যা উল্লাস প্রকাশ করে।
এসো হে ব্যাকাস, মদের দেবতা তুমি,
তোমার চরণে আজ নত এই ভূমি।
আঙুরের রসে আজ ভরে উঠুক পাত্র,
আনন্দে মেতে উঠুক অবশিষ্টাংশ রাত্রি।
সব দুশ্চিন্তা আজ যাক দূরে ভেসে,
আমরা যে মত্ত তোমার প্রেমের দেশে।
ঢালো আরও ঢালো রস, পূর্ণ করো মন,
আজ রাতে আমাদের আনন্দের উৎসবের ক্ষণ।
৬. বসন্তের আগমন (Beauty Clear and Fair)
মূল সুর: রূপ ও প্রকৃতির বন্দনা নিয়ে লেখা একটি মিষ্টি প্রেমের কবিতা।
শুদ্ধ ও সুন্দর হে মধুর রূপসী,
তোমার হাসিতে যেন হাসে পূর্ণশশী।
তোমার চোখের আলো ভোরের সে আলো,
যা দেখলে পৃথিবীর সব লাগে ভালো।
বসন্তের বাতাস যেন তোমার ওই চুলে,
সুগন্ধ ছড়িয়ে যায় বনে ফুল ফুটলে।
প্রকৃতি সেজেছে আজ তোমারই ছোঁয়ায়,
মন আমার ভেসে যায় তোমার খেয়ায়।
৭. সততার গান (Song of Chastity)
মূল সুর: নারীর পবিত্রতা ও আত্মিক শক্তির প্রশংসা করে রচিত কবিতা।
লিলি ফুলের মতো শুভ্র যে মন,
তার চেয়ে দামী নেই কোনো রতন।
পার্থিব কোনো লোভ ছুঁতে পারে না তাকে,
পবিত্র দেবদূত আগলে যে রাখে।
ঝড়ের মুখেও সে তো অটল ও স্থির,
উঁচু করে রাখে সদা আপনার শির।
পবিত্রতার আলো যার অন্তরে জ্বলে,
সে মানুষ কোনোদিনও যাবে না অতলে।
৮. যুদ্ধের দামামা (Battle Song)
মূল সুর: The Mad Lover নাটক থেকে। সৈন্যদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য এক বীরত্বপূর্ণ গান।
বাজাও যুদ্ধের ঢাক, তোলো জয়ধ্বনি,
ভয়ের সময় নয় এ তো বীরেরই মেদিনী।
তলোয়ার উঠুক আজ আকাশের পানে,
ছুটে চলো সবে আজ মরণের গানে।
দেশের সম্মান রক্ষাই আমাদের ব্রত,
পিছু হঠব না মোরা, হই যত ক্ষত।
মরণ যদি আসে আসুক বীরের বেশে,
ইতিহাসে নাম রবে এই প্রিয় দেশে।
৯. সকালের বন্দনা (Morning Hymn)
মূল সুর: ভোরের আলো এবং প্রকৃতির নতুন করে জেগে ওঠাকে কেন্দ্র করে রচিত লিরিক।
জেগে ওঠো, জেগে ওঠো, ভোরের পাখি গায়,
আঁধারের কালো মেঘ দূরে চলে যায়।
পূব আকাশে দেখো সূর্যের রথ,
আলোয় আলোকময় পৃথিবীর পথ।
ফুলের পাপড়িরা মেলল যে চোখ,
দূরে যাক পৃথিবীর যত আছে শোক।
নতুন দিনের এই পবিত্র আলোয়,
মন মেতে উঠুক সবটুকু ভালোয়।
১০. বিদায় হে ভালোবাসা (Take, Oh Take Those Lips Away)
মূল সুর: এই বিখ্যাত লিরিকটি শেকসপিয়রের নাটকেও দেখা যায়, তবে সমসাময়িক নাটক The Bloody Brother-এ ফ্লেচারের সংযোজন হিসেবে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
ফিরিয়ে নাও, ফিরিয়ে নাও ওই ওষ্ঠাধর,
যা আমায় করেছিল এতটা মশগুল ও আত্মহারা;
ভোরের আলোয় যারা কাঁপত থরথর,
মিথ্যে সুধায় আমায় করেছে যে দিশাহারা।
কিন্তু আমার ওই চোখগুলো ফেরত দাও তুমি,
ভোরের সূর্য সম যা দেখেছে এই ভূমি;
ফিরিয়ে দাও সেই মুক্তো ঝরা সকাল,
যা ভেঙে দিয়ে গেল আমার সুখের মহাকাল।
জন ফ্লেচার (১৫৭৯–১৬২৫): ইংরেজ নাট্যসাহিত্যের স্বর্ণযুগের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
পরিচয়
John Fletcher ছিলেন সপ্তদশ শতকের ইংরেজ নাট্যজগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার। তিনি ইংরেজ রেনেসাঁ নাটকের স্বর্ণযুগে এমন এক সময়ে আবির্ভূত হন, যখন William Shakespeare, Ben Jonson এবং Francis Beaumont-এর মতো সাহিত্যিকরা ইংরেজ নাট্যকলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। শেক্সপিয়রের পরবর্তী যুগে ফ্লেচারই ছিলেন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল মঞ্চস্থ নাট্যকারদের একজন।
তাঁর রচিত বা সহ-রচিত নাটকের সংখ্যা পঞ্চাশেরও বেশি। তিনি বিশেষত ট্র্যাজিকোমেডি (Tragicomedy) ধারার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাঁর নাটকগুলো ইংরেজ মঞ্চে বহু দশক ধরে জনপ্রিয় ছিল।
জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি
জন ফ্লেচারের জন্ম ১৫৭৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ইংল্যান্ডের Rye শহরে। তাঁর পিতা Richard Fletcher ছিলেন ইংল্যান্ডের চার্চের একজন উচ্চপদস্থ ধর্মযাজক এবং পরবর্তীকালে লন্ডনের বিশপ হন।
রিচার্ড ফ্লেচার ছিলেন রাজদরবারের একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ইংল্যান্ডের রানি Elizabeth I-এর সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে তিনি একসময় রাজকীয় অনুগ্রহ হারান। ১৫৯৬ সালে তাঁর মৃত্যু হলে পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
এই পরিস্থিতি তরুণ জন ফ্লেচারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তাঁকে জীবিকার জন্য সাহিত্য ও নাট্যজগতে প্রবেশ করতে উৎসাহিত করে।
শিক্ষা
ফ্লেচার অল্প বয়সেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করেন। ১৫৯১ সালে তিনি Corpus Christi College-এ ভর্তি হন।
তাঁর শিক্ষাজীবনে তিনি ল্যাটিন, গ্রিক সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্মতত্ত্ব এবং অলঙ্কারশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। যদিও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেছিলেন কি না তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবে তাঁর নাট্যরচনায় শাস্ত্রীয় সাহিত্য ও ইতিহাসের গভীর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
লন্ডনে আগমন ও নাট্যজীবনের সূচনা
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পর ফ্লেচার লন্ডনে চলে আসেন। তখন লন্ডন ছিল ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাট্যকেন্দ্র। এখানে তিনি ধীরে ধীরে নাট্যকার হিসেবে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে শুরু করেন।
প্রথমদিকে তিনি বিভিন্ন নাট্যদলের জন্য নাটক লিখতেন। তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভা দ্রুতই নাট্যজগতের নজর কাড়ে এবং তিনি সমসাময়িক নাট্যকারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পান।
ফ্রান্সিস বোমন্টের সঙ্গে ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব
ফ্লেচারের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হলো Francis Beaumont-এর সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা।
দুজন মিলে ইংরেজ নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য সৃজনশীল জুটি গড়ে তোলেন। তাঁদের যৌথ রচনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- Philaster
- The Maid’s Tragedy
- A King and No King
- Cupid’s Revenge
এই নাটকগুলো দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং জ্যাকোবীয় যুগের নাটকের রূপ বদলে দেয়।
ট্র্যাজিকোমেডির বিকাশে অবদান
ফ্লেচারের সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক কৃতিত্ব হলো ট্র্যাজিকোমেডি ধারার উন্নয়ন।
ট্র্যাজিকোমেডি এমন একটি নাট্যরীতি যেখানে ট্র্যাজেডি ও কমেডির উপাদান একসঙ্গে উপস্থিত থাকে। নাটকের মধ্যে বিপদ, ষড়যন্ত্র, প্রেম, রাজনৈতিক সংঘাত ও নাটকীয় উত্তেজনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্পূর্ণ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয় না।
এই ধরনের নাটক সেই সময়ের দর্শকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল। ফ্লেচারের রচনাশৈলী পরবর্তী শতাব্দীতে ইউরোপীয় নাটকের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
শেক্সপিয়রের সঙ্গে সহযোগিতা
ফ্লেচারের সাহিত্যজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো William Shakespeare-এর সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা।
গবেষকদের মতে নিম্নলিখিত নাটকগুলোতে ফ্লেচার ও শেক্সপিয়র যৌথভাবে কাজ করেছিলেন—
- Henry VIII
- The Two Noble Kinsmen
- Cardenio (বর্তমানে হারিয়ে যাওয়া নাটক)
শেক্সপিয়রের শেষ জীবনে ফ্লেচার তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হয়ে ওঠেন।
কিংস মেন নাট্যদলে ভূমিকা
King’s Men ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত নাট্যদল, যার সঙ্গে শেক্সপিয়রও যুক্ত ছিলেন।
শেক্সপিয়রের অবসর ও মৃত্যুর পর ফ্লেচার এই নাট্যদলের প্রধান নাট্যকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তাঁর নাটকগুলো নিয়মিতভাবে লন্ডনের বিখ্যাত থিয়েটারগুলোতে মঞ্চস্থ হতো।
তাঁর নাট্যরচনা কিংস মেনের সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে।
প্রধান নাটকসমূহ
ফ্লেচারের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে—
একক বা প্রধান রচনা
- The Faithful Shepherdess
- Bonduca
- The Chances
- Rule a Wife and Have a Wife
- The Loyal Subject
বোমন্টের সঙ্গে যৌথ রচনা
- Philaster
- The Maid’s Tragedy
- A King and No King
সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য
জন ফ্লেচারের নাটকের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল—
১. সংলাপের স্বাভাবিকতা
তাঁর সংলাপ ছিল প্রাণবন্ত, দ্রুতগামী এবং নাটকীয়।
২. প্রেম ও আবেগ
প্রেম, বিশ্বস্ততা, ঈর্ষা ও আত্মত্যাগ তাঁর নাটকের কেন্দ্রীয় বিষয়।
৩. নাটকীয় উত্তেজনা
ঘটনার আকস্মিক মোড় ও রহস্যময়তা দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখত।
৪. রাজনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
অনেক নাটকে রাজকীয় ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার সংগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
৫. মঞ্চোপযোগিতা
তাঁর নাটকগুলো অভিনয়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ছিল, যা তাদের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।
ব্যক্তিজীবন
ফ্লেচারের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে কম তথ্য পাওয়া যায়। তিনি কখনও বিবাহ করেছিলেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
তবে সমসাময়িক লেখকদের বিবরণ থেকে জানা যায় যে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, সামাজিক এবং সাহিত্যপ্রেমী ব্যক্তি। তিনি লন্ডনের সাহিত্যিক ও নাট্যসমাজে সুপরিচিত ছিলেন।
মৃত্যু
১৬২৫ সালে ইংল্যান্ডে ভয়াবহ প্লেগ মহামারী ছড়িয়ে পড়ে। সেই মহামারীতেই জন ফ্লেচার আক্রান্ত হন।
আগস্ট ১৬২৫ সালে London-এ তাঁর মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৪৫ বা ৪৬ বছর।
তাঁকে লন্ডনের St Saviour’s Church-এ সমাহিত করা হয় বলে ধারণা করা হয়, যা বর্তমানে Southwark Cathedral নামে পরিচিত।
উত্তরাধিকার ও প্রভাব
জন ফ্লেচারের মৃত্যুর পরও তাঁর নাটক বহু দশক ধরে ইংল্যান্ডের মঞ্চে জনপ্রিয় ছিল। সপ্তদশ শতকের অধিকাংশ সময়ে তাঁর নাটক শেক্সপিয়রের নাটকের মতোই অভিনীত হতো।
তিনি—
- ট্র্যাজিকোমেডি ধারাকে জনপ্রিয় করেন।
- ইংরেজ রেনেসাঁ নাটকের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- শেক্সপিয়রের উত্তরসূরি নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- পরবর্তী ইংরেজ নাট্যকারদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেন।
আজও সাহিত্য ইতিহাসে জন ফ্লেচারকে ইংরেজ নাট্যকলার স্বর্ণযুগের অন্যতম প্রধান নির্মাতা হিসেবে স্মরণ করা হয়।
জন ফ্লেচার ছিলেন এমন একজন নাট্যকার, যিনি শেক্সপিয়রের যুগের শেষাংশ এবং পরবর্তী জ্যাকোবীয় নাট্যধারার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন রচনা করেছিলেন। তাঁর নাটকে প্রেম, রাজনীতি, মানবিক আবেগ এবং নাটকীয় উত্তেজনার অনন্য সমন্বয় দেখা যায়। যদিও আধুনিক যুগে তাঁর নাম শেক্সপিয়রের মতো সর্বজনপরিচিত নয়, তবুও ইংরেজ নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে তাঁর অবদান অসামান্য এবং স্থায়ী।