লেখার স্পর্শে

পাতলো কারা মৃত্যু ফাঁদ !? – রমজান বিন মোজাম্মেল

পুলিশ যখন ফুপিয়ে কাঁদে সত্যটা কি পড়ছে চাপা? গনপতির হত্যাজুড়ে তদন্তটা সত্যি-ই ফাঁপা ! টের পেলো না কেউতো সেদিন রক্তমাখা হাত’রা পাশে ? তদন্ত ও বিচার হবে হিংস্র যারা নিত্য হাসে ! এমন হাসি আড়াল করে কান্না কতো আর্তনাদ আগামী তো হারিয়ে গেছে পাতলো কারা মৃত্যু ফাঁদ ! ?
পাতলো কারা মৃত্যু ফাঁদ !? – রমজান বিন মোজাম্মেল
· ·
রমজান বিন মোজাম্মেল: পাতলো কারা মৃত্যু ফাঁদ ! ? লেখাটি সমসাময়িক নির্মম ঘটনা নিয়ে।তাই আবৃত্তি করা হলে। বভিন্ন মাধ্যমে শেয়ার হবে।

লাল সংকেত রমজান বিন মোজাম্মেল

তোমাকে নৈবেদ্য দেবো
এমন শ্রাবণ দেবে না-কি দর্শন
ফিকে কলি দিনে সন্ধানী
চিন্তালব্ধ সূক্ষ্ম তন্তুরচোখ বর্ষণ
এখানে জীবন- কর্ম – প্রেম- ফল
সব নষ্ট’রা করছে বরণ
অবশিষ্ট কেবল ভালোবাসাবাসি
উদ্বর্ত তাকেও করিতে হরণ!
এই কলিতে ফোটাতে ফুল
মানুষ জুড়ে থাকতে করোনা ভুল।
সমস্ত প্রক্রিয়াটি বেজন্মা কীট
স্বাধীন স্বদেশে বাধায় হুলস্থুল ⁉️
#লাল_সংকেত
রমজান বিন মোজাম্মেল

· ·

সাহিত্য-জগৎ

Sir John Suckling ছিলেন ইংরেজ ক্যাভালিয়ার কবিদের (Cavalier Poets) অন্যতম উজ্জ্বল ও চতুর কবি। তিনি ছিলেন আদালতের অভিজাত, নাট্যকার, সৈনিক ও খেলোয়াড় (তিনি ক্রিবেজ খেলার উদ্ভাবক বলে পরিচিত)। তাঁর কবিতায় তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, হালকা-পাতলা প্রেমের আবেগ, ব্যঙ্গ ও জীবনের আনন্দ ফুটে উঠেছে। তিনি Thomas Carew-এর সমসাময়িক এবং একই রাজদরবারের কবি ছিলেন। তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলো সংক্ষিপ্ত, সুরেলা ও চতুর — প্রেমের খেলা, অস্থিরতা ও বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লেখা।

১. কেন এত ফ্যাকাশে ও নীরব, প্রিয় প্রেমিক? (Why so pale and wan, fond lover?)

মূল থিম: প্রেমিকাকে উপদেশ — অতিরিক্ত ভাবালুতা কাজে আসে না।

কেন এত ফ্যাকাশে ও নীরব, প্রিয় প্রেমিক?
বলো তো, কেন এত ফ্যাকাশে?
ভালো দেখালে যদি সে না নড়ে,
খারাপ দেখালে কি কাজ হবে?
বলো তো, কেন এত ফ্যাকাশে?

কেন এত নীরব ও ম্লান, তরুণ পাপী?
বলো তো, কেন এত নীরব?
ভালো কথা বললে যদি জিততে না পারো,
চুপ করে থাকলে কি জিতবে?
বলো তো, কেন এত নীরব?

থামো, থামো লজ্জায়! এতে কাজ হবে না।
এতে সে তোমার হবে না।
সে নিজে যদি ভালোবাসতে না চায়,
কিছুই তাকে বাধ্য করতে পারবে না —
শয়তান নিয়ে যাক তাকে!

২. অবিচল প্রেমিক (The Constant Lover)

মূল থিম: তিন দিনের প্রেমকেও “অবিচল” বলে দাবি করা — সুকলিংয়ের চতুর ব্যঙ্গ।

বলো, আমি তিন দিন ধরে ভালোবেসেছি,
আরও তিন দিন ভালোবাসব —
যদি আবহাওয়া ভালো থাকে!
সময় তার ডানা ঝরিয়ে ফেলবে,
কিন্তু পৃথিবীতে আর কোনো এমন অবিচল প্রেমিক পাবে না।

কিন্তু দুঃখের বিষয় — এর জন্য কোনো প্রশংসা আমার প্রাপ্য নয়।
প্রেম যদি অন্য কারও সঙ্গে হতো,
তাহলে এতদিনে অন্তত এক ডজন ডজন প্রেমিকা বদলে ফেলতাম।
কিন্তু সে যেহেতু সে-ই, তাই আমি অবিচল!

৩. আমার হৃদয় ফিরিয়ে দাও (I prithee send me back my heart)

মূল থিম: প্রেমের পারস্পরিকতা — যদি তুমি তোমার হৃদয় না দাও, আমারও ফিরিয়ে দাও।

আমি তোমাকে অনুরোধ করি, আমার হৃদয় ফিরিয়ে দাও,
কারণ আমি তোমার হৃদয় পেতে পারি না।
যদি তুমি তোমার হৃদয় না দাও,
তাহলে তুমি আমার হৃদয় কেন রাখবে?

এখন ভেবে দেখছি — ছাড়ো!
যদি সে-ই না হয়, তাহলে অন্য অনেকেই হতে পারত।
কিন্তু যেহেতু সে-ই, তাই আমি অপেক্ষা করব।

৪. যখনই, প্রিয়, তোমার কথা ভাবি (When, dearest, I but think of thee)

মূল থিম: প্রেমিকার স্মৃতিতে হৃদয়ের আনন্দ।

যখনই, প্রিয়, তোমার কথা ভাবি,
আমার হৃদয় আনন্দে ভরে ওঠে।
তোমার চোখের আলো, তোমার হাসি —
সবকিছু আমার জীবনকে আলোকিত করে।
তোমার স্মৃতি আমার একাকী রাতগুলোকে সুন্দর করে।

৫. একটি বিবাহের গান (A Ballad upon a Wedding) — অংশ

মূল থিম: বিবাহের আনন্দ ও হালকা বর্ণনা।

আজ সকালে সূর্য উঠেছে আনন্দে,
পাখিরা গান গেয়েছে বিবাহের গান।
কনে সুন্দর, বর খুশি —
সবাই হাসছে, সবাই নাচছে।
প্রেমের এই মিলন চিরকাল স্থায়ী হোক।

৬. অসতর্ক প্রেমিক (The Careless Lover)

মূল থিম: প্রেমে অসতর্কতা ও স্বাধীনতা।

আমি প্রেমে অসতর্ক —
আজ ভালোবাসি, কাল ভুলে যাই।
কোনো বন্ধন চাই না, কোনো শৃঙ্খল চাই না।
প্রেম যদি আসে, স্বাগত জানাই;
চলে গেলে, বিদায় জানাই।
জীবন সংক্ষিপ্ত — আনন্দ করো!

৭. প্রেমের বিরুদ্ধে (Against Fruition)

মূল থিম: প্রেম পূর্ণ হলে তার আকর্ষণ কমে যায়।

প্রেম যখন পূর্ণ হয়, তখন তার মধুরতা কমে যায়।
যা পাওয়া যায় না, তাই বেশি আকর্ষণীয়।
তাই আমি প্রেমের আকাঙ্ক্ষায় থাকতে চাই —
পূর্ণতা নয়, আকাঙ্ক্ষাই সুন্দর।

৮. লিউটের গান (Song to a Lute)

মূল থিম: সঙ্গীতের মাধ্যমে প্রেমের আবেদন।

হে লিউট, তোমার তারে বাজাও আমার প্রেমের গান।
তার সুরে বলো — আমি তোমাকে ভালোবাসি।
তার কম্পনে জাগাও তার হৃদয়,
যাতে সে আমার প্রেম শুনতে পায়।

৯. প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি (To His Rival)

মূল থিম: প্রতিদ্বন্দ্বীকে চ্যালেঞ্জ — প্রেমের লড়াই।

তুমি যদি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হও,
তাহলে লড়াই করো ন্যায্যভাবে।
প্রেমের এই যুদ্ধে জিতবে যে সবচেয়ে চতুর,
সবচেয়ে আন্তরিক।
আমি প্রস্তুত — তুমি কি প্রস্তুত?

১০. প্রেমের জগৎ (Love’s World)

মূল থিম: প্রেমিকার চোখে পুরো জগৎ।

তোমার চোখে আমি দেখি সূর্য ও চাঁদ,
তোমার হাসিতে ফুটে ওঠে বসন্ত।
তোমার কণ্ঠে বাজে সুরেলা সঙ্গীত,
তোমার হৃদয়ে লুকিয়ে আছে আমার স্বর্গ।
তুমিই আমার সমস্ত জগৎ।

স্যার জন সাকলিং (Sir John Suckling, ১৬০৯–১৬৪২): ক্যাভালিয়ার যুগের সবচেয়ে চতুর, উজ্জ্বল ও বিতর্কিত কবি-নাট্যকার

স্যার জন সাকলিং ইংরেজ সাহিত্যের ইতিহাসে ক্যাভালিয়ার কবিদের (Cavalier Poets) অন্যতম প্রতিনিধি। তিনি ছিলেন রাজদরবারের অভিজাত, কবি, নাট্যকার, সৈনিক, জুয়াড়ি ও খেলোয়াড় — যাঁর জীবন ছিল বিলাস, বুদ্ধি, সাহস ও অকাল মৃত্যুর এক চমকপ্রদ মিশ্রণ। তাঁর কবিতায় তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ, হালকা প্রেমের আবেগ ও জীবনের ক্ষণস্থায়ী আনন্দ ফুটে উঠেছে। বিখ্যাত গান “Why so pale and wan, fond lover?” তাঁর লেখা, যা আজও ইংরেজ সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা। তিনি ছিলেন Thomas Carew-এর সমসাময়িক এবং Charles I-এর দরবারের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব।

সাকলিং ছিলেন একজন সত্যিকারের “Cavalier” — রাজতন্ত্রপন্থী, বীর, কবি ও জীবনের আনন্দ উপভোগকারী। তাঁর জীবন দেখায় কীভাবে প্রতিভা, সাহস ও অস্থিরতা একসঙ্গে মিশে যায়।

জন্ম ও পরিবার

স্যার জন সাকলিং ১৬০৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন (সম্ভবত ফেব্রুয়ারি বা তার পরে)। জন্মস্থান Twickenham, Middlesex, ইংল্যান্ড। তিনি ছিলেন Sir John Suckling (বয়স্ক) ও Martha Cranfield-এর পুত্র। পিতা ছিলেন একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ — James I-এর সময় Secretary of State এবং পরে Comptroller of the Household। পরিবার ছিল ধনী ও আদালতের ঘনিষ্ঠ। সাকলিং ছিলেন পরিবারের একমাত্র পুত্রসন্তান।

শিক্ষা ও যৌবন

তিনি Trinity College, Cambridge-এ পড়াশোনা করেন (১৬২৩ সালে ভর্তি)। পরে Gray’s Inn-এ আইন অধ্যয়ন করেন। যৌবনে তিনি ইউরোপ ভ্রমণ করেন — ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানিতে সময় কাটান। এই ভ্রমণ তাঁকে বিদেশি সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত করে তোলে।

১৬৩০ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি নাইট উপাধি (knighted) পান — Charles I-এর রাজত্বকালে। এরপর তিনি দরবারের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।

আদালতের জীবন, সামরিক অভিযান ও ব্যক্তিত্ব

সাকলিং Charles I-এর দরবারের অন্যতম জনপ্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান, চতুর, রসিক ও ব্যয়বহুল জীবনযাপনকারী। তিনি জুয়া খেলতেন, মদ্যপান করতেন এবং নারীদের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন — তাঁর libertine (মুক্তাচারী) জীবনধারা দরবারে বিখ্যাত ছিল।

তিনি cribbage নামক তাসের খেলার উদ্ভাবক বলে পরিচিত।

১৬৩৯–১৬৪০ সালে তিনি Bishops’ Wars-এ অংশ নেন (স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে Charles I-এর অভিযান)। নিজের খরচে একটি অশ্বারোহী দল (troop of horse) গঠন করে যুদ্ধে যান। এতে তাঁর সাহস ও রাজভক্তি প্রমাণিত হয়, কিন্তু অভিযান ব্যর্থ হয়।

তিনি ছিলেন Thomas Carew, Richard Lovelace প্রমুখ ক্যাভালিয়ার কবিদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল আকর্ষণীয় — সুন্দর চেহারা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও মোহময়ী ব্যবহার।

সাহিত্যকর্ম

সাকলিং ছিলেন কবি ও নাট্যকার। তাঁর রচনায় দরবারের জীবন, প্রেমের খেলা ও বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।

প্রধান নাটক:

  • Aglaura (১৬৩৭) — সবচেয়ে বিখ্যাত। এতে দুটি শেষাংশ আছে (একটি ট্র্যাজিক, একটি কমিক)। এই নাটকেই বিখ্যাত গান “Why so pale and wan, fond lover?” আছে।
  • The Goblins (১৬৩৮)
  • Brennoralt (বা The Discontented Colonel)
  • The Sad One

প্রধান কবিতা:

  • “Why so pale and wan, fond lover?” (প্রেমিকাকে উপদেশমূলক চতুর গান)
  • “The Constant Lover” (“Out upon it, I have loved three whole days together…”)
  • “I prithee send me back my heart”
  • “A Ballad upon a Wedding”
  • “When, dearest, I but think of thee”
  • “The Careless Lover”

তাঁর কবিতা সংক্ষিপ্ত, সুরেলা ও বুদ্ধিদীপ্ত। প্রেমকে তিনি গভীর আবেগের চেয়ে খেলা ও বাস্তবতা হিসেবে দেখেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন

সাকলিং কখনো বিবাহ করেননি। তাঁর জীবন ছিল অস্থির — প্রেমের সম্পর্ক, জুয়া, ব্যয় ও দরবারের রাজনীতি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ব্যয়বহুল; পিতার সম্পত্তি অনেকাংশে নষ্ট করেছিলেন বলে কিছু সূত্রে উল্লেখ আছে। তাঁর libertine জীবনধারা ও রাজনৈতিক আনুগত্য তাঁকে দরবারের প্রিয়পাত্র করে তুলেছিল।

গৃহযুদ্ধ ও শেষ জীবন

১৬৪২ সালে ইংরেজ গৃহযুদ্ধ শুরু হলে সাকলিং Royalist পক্ষে ছিলেন। Charles I-এর সমর্থনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু Royalist বাহিনীর প্রাথমিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁকে হতাশ করে। তিনি ফ্রান্সে পালিয়ে যান।

মৃত্যু

১৬৪২ সালের মে বা জুন মাসে (বয়স মাত্র ৩৩) ফ্রান্সে (সম্ভবত প্যারিসে) তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিতর্ক আছে — কেউ কেউ বলেন আত্মহত্যা (বিষপান বা আত্মহত্যামূলক আঘাত), অন্যরা বলেন অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা। তাঁর আর্থিক সমস্যা, রাজনৈতিক হতাশা ও অস্থির জীবনধারা শেষ জীবনে তাঁকে বিপর্যস্ত করে তোলে।

উত্তরাধিকার

সাকলিং-এর মৃত্যুর পর তাঁর কবিতা Fragmenta Aurea (১৬৪৬) নামে প্রকাশিত হয়। তিনি Cavalier কবিদের মধ্যে সবচেয়ে চতুর ও জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর গান ও কবিতা আজও পাঠককে আকর্ষণ করে তার সরলতা, বুদ্ধি ও সুরের জন্য। “Why so pale and wan…” ইংরেজ সাহিত্যের ক্লাসিক হয়ে আছে।

তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান কিন্তু অস্থির মানুষ — যিনি জীবনকে পূর্ণ মাত্রায় উপভোগ করেছেন, কিন্তু তার মূল্যও দিয়েছেন। তাঁর রচনা আজও Cavalier যুগের আনন্দ, বুদ্ধি ও রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রতীক হয়ে আছে।

· ·

Rayhana yeasmin

“উল্টো পিঠ ”

ছায়া তোমার যতই বড়,
তুমি তত নও,
আলো-আঁধারির খেলা বুঝে
বিনয়ী তাই হও।
ছায়ার সঙ্গে লড়াই করে
মায়াগুলো পাশে সরে,
আত্মতুষ্টির মিথ্যে সুখে
যতই খুশি রও।
মনে রেখো, মেঘের আড়ে
সূর্য কিন্তু যায় না মরে,
ধোঁকার মোহে ডুবে থেকে
সত্যি জয়ী নও।
ছায়া যতই দীর্ঘ হোক,
আলো ফুরায় না—
মিথ্যে জয়ের অহংকারে
সত্য হারায় না।

· ·

বর্বর — রমজান বিন মোজাম্মেল

লোভী সব বর্বর
প্রতারক, ধূর্ত,
দেশটাকে লুটে খায়
তারা সব চুর তো।

বিশ্বাস ভাঙ্গে যারা
উত্তাল মনটা,
ক্ষুধা পেটে হাঁটে তারা
কেটে যায় দিনটা।

অসুরের দমনে
আসমানী দূতরা,
নিঃশেষ হবে যাবে
বর্বর ভূতরা।

· ·

সকলকে গ্রুপে করি আহ্বানঃ রমজান বিন মোজাম্মেল

আসুন সবাই মিলে জাগিয়ে তুলি
আমাদের শিল্প-সাহিত্য- সংস্কৃতি
মানুষ এবং মানবতার কল্যানে লেখি
বাংলা সাহিত্যের উৎকর্ষ সম্প্রীতি ।

গ্রুপে তাইতো করি নিবেদন
লেখা আর পড়ার আবেদন।

গ্রুপের লেখক পাঠক আমি নিমিত্ত মাত্র
এখানে সবাই শিক্ষক আমি তাদের ছাত্র।

দোয়া করি দোয়া চাই: ক্ষমা করি ক্ষমা চাই আজ আমার মন খারাপের মন ভালো তাই

🌹

· ·

সবাইকে গ্রুপে করি আহবানঃ — রমজান বিন মোজাম্মেল

আসুন সবাই মিলে জাগিয়ে তুলি
আমাদের শিল্প-সাহিত্য- সংস্কৃতি
মানুষ এবং মানবতার কল্যানে লেখি
বাংলা সাহিত্যের উৎকর্ষ সম্প্রীতি ।

গ্রুপে তাইতো করি নিবেদন
লেখা আর পড়ার আবেদন।

গ্রুপের লেখক পাঠক আমি নিমিত্ত মাত্র
এখানে সবাই শিক্ষক আমি তাদের ছাত্র।

দোয়া করি দোয়া চাই: ক্ষমা করি ক্ষমা চাই আজ আমার মন খারাপের মন ভালো তাই

🌹

· ·

সহজ পাঠ— ০৩ঃ — রমজান বিন মোজাম্মেল

যে পথে ভোর ফজর হাঁটেন ক্লান্ত দুপুর জোহরের গায়
আসর-মাগরিব কাছাকাছি সূর্য ছুটির গুদূলিবেলায়।

আলোআঁধারি সময়ে ক্লান্ত প্রকৃতি মানব সেবায়
কি নিদারুণ এশার তখন ক্লান্তিনাশে রাতের গান গায়…

সোবহান আল্লাহ -আলহামদুলিল্লাহ
আল্লাহ আকবর।
তসবিহ গোনা আঙুল।
কেয়ামতের সাক্ষী খাতা পূণ্যে ভরপুর
খুশি মহান আল্লাহ রসূল।

· ·

সাহিত্য ও সাহিত্যিক

Thomas Carew ছিলেন ইংরেজ ক্যাভালিয়ার কবিদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি। তিনি জন ডান ও বেন জনসনের প্রভাবে সুন্দর, চতুর, ইন্দ্রিয়প্রবণ প্রেমের গান রচনা করেছেন। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেমের আবেগ, সৌন্দর্যের অমরত্ব ও জীবনের আনন্দের সুন্দর মিশ্রণ আছে। তিনি আদালতের কবি ছিলেন এবং তাঁর রচনায় পরিশীলিত ভাষা ও সুরেলা ছন্দের জন্য বিখ্যাত।

১. একটি গান (A Song: Ask me no more where Jove bestows)

মূল থিম: প্রেমিকার সৌন্দর্যে প্রকৃতির সব সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে।

আর জিজ্ঞাসা কোরো না, জুপিটার কোথায় রাখে
জুন পেরিয়ে যাওয়া ম্লান গোলাপের রঙ—
কারণ তোমার সৌন্দর্যের প্রাচ্য গভীরে
এই ফুলগুলো তাদের উৎসে ঘুমিয়ে আছে।

আর জিজ্ঞাসা কোরো না, দিনের সোনালি পরমাণু
কোথায় হারিয়ে যায়—
কারণ বিশুদ্ধ প্রেমে স্বর্গ তৈরি করেছে
সেই গুঁড়ো তোমার চুলকে সমৃদ্ধ করতে।

আর জিজ্ঞাসা কোরো না, মে পেরিয়ে গেলে
বুলবুল কোথায় চলে যায়—
কারণ তোমার মধুর বিভাজিত কণ্ঠে
সে শীত কাটায় এবং তার সুর গরম রাখে।

আর জিজ্ঞাসা কোরো না, সেই তারাগুলো কোথায় জ্বলে
যা রাতের গভীরে নিচে পড়ে—
কারণ তোমার চোখে তারা বসে আছে,
এবং সেখানে স্থির হয়ে তাদের গোলকের মতো হয়ে গেছে।

২. বসন্ত (The Spring)

মূল থিম: বসন্তের আনন্দের বিপরীতে প্রেমিকার হৃদয়ের শীত।

এখন শীত চলে গেছে, পৃথিবী হারিয়েছে
তার তুষার-সাদা পোশাক, আর তুষার
ঘাসে মিষ্টি বাড়ায় না, কিংবা রুপোলি হ্রদে
কিংবা স্ফটিক-স্রোতে বরফের ক্রিম ছড়ায় না।

কিন্তু উষ্ণ সূর্য অসাড় পৃথিবীকে গলায়,
তাকে কোমল করে; মৃত সোয়ালোকে পবিত্র জন্ম দেয়;
ফাঁপা গাছে ঘুমন্ত কোকিল ও ভোমরাকে জাগায়।

এখন চিড়িয়াখানার গায়কদল বিজয়ের সঙ্গে
তরুণ বসন্তকে পৃথিবীতে নিয়ে আসে।
উপত্যকা, পাহাড় ও বন সমৃদ্ধ সাজে
স্বাগত জানায় আকাঙ্ক্ষিত মে-মাসকে।

এখন সবকিছু হাসে; শুধু আমার প্রেমিকা ভ্রূ কুঁচকে,
আর দুপুরের জ্বলন্ত সূর্যেরও ক্ষমতা নেই
সেই মার্বেল বরফ গলাতে, যা এখনও তার হৃদয় ধরে রেখেছে
শীতল করে তার করুণা।

৩. মধ্যপন্থা প্রেমে প্রত্যাখ্যাত (Mediocrity in Love Rejected)

মূল থিম: প্রেমে চরম আবেগ চাই, মধ্যম নয়।

আমাকে আরও প্রেম দাও, অথবা আরও অবজ্ঞা;
উত্তপ্ত কিংবা হিমায়িত অঞ্চল
আমার যন্ত্রণায় সমান স্বস্তি আনে;
নাতিশীতোষ্ণ কোনো স্বস্তি দেয় না।

আমার হৃদয় তোমার চোখের আগুনে পোড়ে,
অথবা তোমার ঠান্ডা অবজ্ঞায় জমে যায়—
মাঝামাঝি কোনো অবস্থা সহ্য করতে পারে না।

৪. অকৃতজ্ঞ সৌন্দর্যের হুমকি (Ingrateful Beauty Threatened)

মূল থিম: প্রেমিকার অহংকারের বিরুদ্ধে কবির সতর্কবাণী।

জেনে রাখো, সেলিয়া (যেহেতু তুমি এত অহংকারী),
আমিই তোমাকে তোমার খ্যাতি দিয়েছি;
তুমি সাধারণ সুন্দরীদের ভুলে যাওয়া ভিড়ে
অজানা থেকে যেতে।

আমি তোমার সৌন্দর্যকে কবিতায় রূপ দিয়েছি,
তোমার নাম অমর করেছি—
যদি তুমি আমার প্রেম অস্বীকার করো,
তাহলে সেই খ্যাতিও মুছে যাবে।

৫. প্রেমে সাহস (Boldness in Love)

মূল থিম: ভোরের সাহসিকতা ও প্রেমের আহ্বান।

দেখো, কীভাবে লাজুক ভোর বৃথা চেষ্টা করে
প্রেমময় গাঁদা ফুলকে জাগাতে—
সে তার পাপড়ি খোলে না, যতক্ষণ না সূর্যের আলো
তাকে জোর করে জাগায়।

তেমনি তুমি, হে প্রিয়, তোমার হৃদয়ের দরজা খোলো,
আমার প্রেমের আলোকে ভেতরে ঢুকতে দাও।

৬. একটি ঐশ্বরিক প্রেমিকা (A Divine Mistress)

মূল থিম: প্রেমিকাকে দেবী হিসেবে বর্ণনা।

প্রকৃতির সৃষ্টিতে আমরা যে সৌন্দর্য দেখি,
তা সব তোমার মধ্যে একত্রিত হয়েছে।
তোমার চোখে তারা জ্বলে, তোমার চুলে সোনা ঝলমলায়,
তোমার ঠোঁটে গোলাপ ফোটে—
তুমি স্বর্গের একটি অংশ পৃথিবীতে এনেছ।

৭. বাতাসের কাছে প্রার্থনা (A Prayer to the Wind)

মূল থিম: বাতাসকে প্রেমের বার্তা বহন করতে বলা।

হে বাতাস, যে দোল খাও কোনো ভরা শস্যের দাড়ির উপর,
যাও, আমার প্রিয়ের কানে ফিসফিস করে বলো
আমার হৃদয়ের কথা।
তাকে বলো, আমি তার জন্য অপেক্ষা করি,
যেমন শুকনো মাঠ বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে।

৮. আনন্দের প্ররোচনা: একটি গান (Persuasions to Joy: A Song)

মূল থিম: জীবনের সংক্ষিপ্ততায় প্রেম ও আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান।

যদি তোমার চোখের দ্রুত আত্মা
এখন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শীঘ্রই মরে যায়,
তাহলে আজই আনন্দ করো—
কাল হয়তো খুব দেরি হয়ে যাবে।

প্রেমের মধু চাখো যতক্ষণ সময় আছে,
কারণ সময় দ্রুত উড়ে যায়।

৯. অম্লান সৌন্দর্য (The Unfading Beauty)

মূল থিম: প্রকৃত সৌন্দর্য শারীরিক নয়, আত্মার।

যে গোলাপি গাল বা প্রবাল ঠোঁটের প্রশংসা করে,
সে শুধু বাইরের সৌন্দর্য দেখে।
কিন্তু প্রকৃত সৌন্দর্য হৃদয়ে বাস করে—
যা সময়ের সঙ্গে ম্লান হয় না।

১০. অবজ্ঞা প্রত্যাহার (Disdain Returned / অনুরূপ)

মূল থিম: প্রেমিকার অবজ্ঞার জবাব।

যদি তুমি আমার প্রেম অবজ্ঞা করো,
তাহলে আমিও তোমার সৌন্দর্য অবজ্ঞা করব।
কিন্তু যদি তুমি ভালোবাসো,
তাহলে আমার হৃদয় তোমার জন্য চিরকাল খোলা থাকবে।

থমাস ক্যারিউ (Thomas Carew, ১৫৯৫–১৬৪০): ক্যাভালিয়ার যুগের সুন্দরতম গীতিকবি ও আদালতের কবি

থমাস ক্যারিউ ইংরেজ সাহিত্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম—ক্যাভালিয়ার কবিদের (Cavalier Poets) অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি। তিনি ছিলেন চার্লস প্রথমের রাজদরবারের কবি, যিনি জন ডানের মেটাফিজিক্যাল চিত্রকল্প ও বেন জনসনের পরিশীলিত ছন্দের মিশ্রণে অপূর্ব সুন্দর, ইন্দ্রিয়প্রবণ ও চতুর প্রেমের গান রচনা করেছেন। তাঁর কবিতায় প্রেমের আবেগ, শারীরিক সৌন্দর্য, জীবনের ক্ষণস্থায়ী আনন্দ (carpe diem) এবং আদালতের জীবনের সূক্ষ্ম অনুভূতি ফুটে উঠেছে। “A Song” (Ask me no more where Jove bestows), “The Spring”, “A Rapture” (তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত ও বিতর্কিত কবিতা) এবং ডানের উপর এলিজির মতো রচনা তাঁকে ইংরেজ গীতিকবিতার অন্যতম মাস্টার করে তুলেছে।

তাঁর জীবন ছিল আদালতের ঔজ্জ্বল্য, ভ্রমণ, বন্ধুত্ব, প্রেম ও শেষ জীবনে অনুশোচনার মিশ্রণ। তিনি ছিলেন রাজতন্ত্রপন্থী (Royalist) কবিদের প্রতীক—যাঁরা চার্লস প্রথমের দরবারে বিলাসী, মুক্ত ও সৃজনশীল জীবন যাপন করেছেন, কিন্তু ইংরেজ গৃহযুদ্ধের প্রাক্কালে মৃত্যুবরণ করেছেন।

জন্ম ও পরিবার

থমাস ক্যারিউ ১৫৯৪–১৫৯৫ সালের মধ্যে (সম্ভবত ১৫৯৫) জন্মগ্রহণ করেন। জন্মস্থান West Wickham, Kent, ইংল্যান্ড। তিনি ছিলেন Sir Matthew Carew (মাস্টার ইন চ্যান্সারি)-এর পুত্র এবং Alice-এর সন্তান (যিনি Sir John Rivers-এর কন্যা এবং Ingpen-এর বিধবা ছিলেন)। সম্ভবত তিনি এগারো সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। পিতা ১৬০৩ সালের দিকে নাইট উপাধি পান এবং বয়সে বেশ বয়স্ক ছিলেন যখন থমাস জন্ম নেন।

শিক্ষা

১৬০৮ সালের জুনে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি Merton College, Oxford-এ ভর্তি হন। ১৬১১ সালের শুরুতে B.A. ডিগ্রি লাভ করেন। পরে Middle Temple-এ আইন অধ্যয়ন শুরু করেন। কিছু সূত্রে ১৬১২ সালে Cambridge থেকেও B.A. পাওয়ার কথা উল্লেখ আছে। তবে অক্সফোর্ড ও মিডল টেম্পল তাঁর প্রধান শিক্ষাক্ষেত্র। ১৬১৩ সালে পিতা Sir Dudley Carleton-কে অভিযোগ করেন যে ছেলে ভালোভাবে পড়াশোনা করছে না।

প্রারম্ভিক কর্মজীবন ও বিদেশ ভ্রমণ

১৬১৫ সালে তিনি Sir Dudley Carleton-এর (ভেনিস ও হেগ-এর রাষ্ট্রদূত) সঙ্গে ইতালিতে যান। ১৬১৬ সালের শুরুতে The Hague-এ Carleton-এর সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেন, কিন্তু একই বছর শরতে “levity and slander” (হালকা আচরণ ও অপবাদ)-এর অভিযোগে চাকরি হারান। এরপর চাকরি খুঁজতে কষ্ট হয়।

১৬১৮ সালের আগস্টে পিতার মৃত্যুর পর তিনি Edward Herbert, Baron Herbert of Cherbury-এর সেবায় যোগ দেন। ১৬১৯ সালের মার্চে ফ্রান্সে যান এবং ১৬২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সেখানে থাকেন। এই সময় তিনি ইউরোপীয় সংস্কৃতি ও সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হন।

আদালতের জীবন ও সাহিত্যকর্ম

ক্যারিউ “followed the court before he was of it”—অর্থাৎ আদালতের চারপাশে ঘুরতেন কিন্তু স্থায়ী পদ পাননি। ১৬২৮ সালের দিকে Chamber-এ নিযুক্তি পান। সম্ভবত ১৬৩০ সালে তিনি King Charles I-এর “server” বা “taster-in-ordinary” (রাজার খাবারের স্বাদ গ্রহণকারী) হন।

তিনি দরবারের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব ছিলেন—Sir John Suckling, Ben Jonson ও Edward Hyde (পরবর্তীতে Earl of Clarendon)-এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। Clarendon তাঁকে “pleasant and facetious wit” বলে বর্ণনা করেছেন। John Donne (১৬৩১ সাল পর্যন্ত) তাঁর আদালতের প্রচারক হিসেবে প্রভাব ফেলেন।

প্রধান সাহিত্যকর্ম:

  • Poems (প্রথম সংস্করণ ১৬৪০, মৃত্যুর পর প্রকাশিত; ১৬৫১ সালে তৃতীয় সংস্করণ) — গীতিকবিতা, গান, প্যাস্টোরাল, এলিজি, মাঝে মাঝে কবিতা। অর্ধেকের বেশি ৫০ লাইনের কম। সবচেয়ে দীর্ঘ “A Rapture” (১৬৬ লাইন) — অত্যন্ত ইরোটিক ও কল্পনাপ্রবণ।
  • Coelum Britannicum (মাস্ক, ১৬৩৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে Whitehall-এ অভিনীত, ১৬৩৪-এ মুদ্রিত) — তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাট্যকর্ম।
  • বিখ্যাত কবিতা: “A Song” (Ask me no more where Jove bestows), “The Spring”, “Mediocrity in Love Rejected”, “Ingrateful Beauty Threatened”, “A Rapture”, ডানের উপর এলিজি (“An Elegy upon the Death of Dr. John Donne”) — যা ডানের কাব্যশৈলীর চমৎকার সমালোচনা।

তাঁর কবিতায় “Celia” নামে এক প্রেমিকার প্রতি অনেক গান আছে—প্রেম, শারীরিক আকর্ষণ, ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যের থিম।

সাহিত্যিক শৈলী ও প্রভাব

ক্যারিউ ছিলেন ডান ও জনসনের মধ্যে সেতুবন্ধনকারী কবি। ডানের কাছ থেকে নিয়েছেন চিত্রকল্পের সমৃদ্ধি ও মেটাফিজিক্যাল গভীরতা; জনসনের কাছ থেকে ছন্দের স্পষ্টতা ও পরিশীলন। তাঁর কবিতা sensuous (ইন্দ্রিয়প্রবণ), সুরেলা ও রঙিন। তিনি আদালতের ছোটখাটো ঘটনাকে কবিতায় রূপ দিতেন। “A Rapture”-এ কল্পনার সমৃদ্ধি আছে, কিন্তু কিছু সমালোচক এর অতিরিক্ত ইরোটিকতার কথা বলেছেন।

তিনি ছিলেন পেশাদার ক্যাভালিয়ার গীতিকবি—যিনি প্রেম, সৌন্দর্য ও আদালতের জীবনকে কেন্দ্র করে লিখেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন

তিনি “Celia” নামে এক মহিলার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রেখেছিলেন—যাঁকে তাঁর অনেক কবিতায় সম্বোধন করা হয়েছে। বিবাহিত ছিলেন কি না, স্পষ্ট তথ্য কম; জীবন মূলত আদালতকেন্দ্রিক ছিল। যৌবনে তিনি libertine (মুক্তাচারী) জীবনযাপন করেছেন বলে মনে করা হয়। শেষ জীবনে অসুস্থতায় তিনি নিজের অতীত জীবনের জন্য অনুশোচনা করেছিলেন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৬৪০ সালের ২২ মার্চ (বা ২৩ মার্চ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন (বয়স প্রায় ৪৪–৪৫)। তাঁকে St. Dunstan-in-the-West-এ সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর আগে John Hales-এর সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রার্থনা চান, কিন্তু sacrament বা absolution নিতে অস্বীকার করেন বলে কিছু সূত্রে উল্লেখ আছে। তাঁ Place-এর উত্তরাধিকারী নিযুক্ত হয় ২২ মার্চ।

মৃত্যুর পর ১৬৪০ সালে Poems প্রকাশিত হয়। ১৭শ শতাব্দীর শেষে তাঁর খ্যাতি কমে যায়, কিন্তু ২০শ শতাব্দীতে (বিশেষ করে F.R. Leavis-এর সমালোচনায়) পুনর্মূল্যায়ন হয়। তিনি ইংরেজ গীতিকবিতার অন্যতম মাস্টার হিসেবে স্বীকৃত। Edmund Gosse তাঁর সেরা কবিতাকে “brilliant lyrics of the purely sensuous order” বলে প্রশংসা করেছেন। তিনি Suckling, Lovelace প্রমুখ পরবর্তী ক্যাভালিয়ার কবিদের প্রভাবিত করেছেন।

থমাস ক্যারিউ ছিলেন একজন সত্যিকারের আদালতের কবি—যিনি সৌন্দর্য, প্রেম ও ক্ষণস্থায়ী আনন্দকে কবিতায় ধরে রেখেছেন। তাঁর রচনা আজও পাঠককে মুগ্ধ করে তার সুরেলা ভাষা ও গভীর অনুভূতি দিয়ে।

· ·

Uttam Ghosh

আমাদের গুরুকুল : আমার শিক্ষাগুরু
কলমে : উত্তম ঘোষ
তারিখ ঃ ০৬/০৯/২০২৬

“সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে”

সূর্য উদয়ের সাথে সাথে যার মুখ দিয়ে উপরের শব্দগুলো উচ্চারিত হতো আর আমরা মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে সাথে সাথে উচ্চারণ করতাম সেই আমাদের গুরুকুলের গুরু দেবেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ। আমাদের শিক্ষা জীবনের গুরু মহাশয়। আমাদের বাড়ির দক্ষিণ পাশে সামান্য একটুরো জায়গায় আমাদের গুরুকুল। মাটির দেওয়ালে উপর ছনের ছাউনি ঘর। সামান্য উঠোন। মাটিতে আসন পেতে ছিল আমাদের পড়ার স্থান। আজ সেখানে মাটির ঘরও নেই গুরুও নেই ।
আমাদের গুরুকুল ছিল পূর্বমূখী। গাছগাছালি ছায়াঘেরা সুনিভির শান্ত পাখি ডাকা সকালে শুরু হতো আমাদের পাঠদান। শ্যামবর্ণের চেহারার দীপ্ত চোখের জ্যোতি ভোরের আলোর সাথে ছড়িয়ে দিতেন আমাদের পাঠদানে। কাঠের খরম পায়েই সামান্য জলচৌকিতে বসেই পড়াতেন আমাদের । জন্মের পর হাতে খড়ি দেওয়ার পর আমরা প্রতিদিন ভোরে পাঠদান নিতাম গুরুকুলে। শাসন আদর মিশানো ছিল গুরু শিক্ষা। জীবনের সঠিক শিক্ষার বীজ বপন করে সুন্দর সত্য মানবিক গুণাবলী দিয়ে পরিচর্যা করে চারা গজানোই ছিল তার মূল শিক্ষা। আজ আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষে চাকরি জীবনে গুরু মহাশয়কে ভুলতে পারি নাই । ভুলতে পারি নাই তার আদর্শ। আজ না ফেরার দেশে তিনি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে গুরু মহাশয়কে হাজারো প্রণাম।

Uttam Ghosh

· ·

Ziaur Rahaman shilon

আলোর ফেরিওয়ালা

​গৃহশিক্ষকতা আর কোচিংয়ের সেই ছোট্ট চত্বরে,
কত জীবন গড়ে তুলেছি স্নেহের পরশ ধরে।
পরিচয় যাই থাক না কেন, শিক্ষাদানই তো আসল কাজ,
আমার সাধনায় জেগে থাকে জ্ঞানের শুভ্র আলো আজ।
​সকল কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষকদের জানাই প্রীতি,
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাওয়াই আমাদের চিরন্তন রীতি।
সরকারি স্কুলের গণ্ডিতে হয়তো আমি পাইনি ঠাঁই,
তবু তো বহু বছর ধরে শিক্ষার দীপ জ্বালিয়ে যাই।
​প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতকের আঙিনা অবধি,
ছাত্রছাত্রীদের মনে আলো ছড়িয়েছি নিরবধি।
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় পূর্ণ থাক প্রতিটি হৃদয়শালা,
জ্ঞানের আলো বিলিয়ে চলি আমি আলোর ফেরিওয়ালা।

· ·

Rayhana yeasmin

“ইচ্ছে রা অকারণ”

ধরা যাক, আমি আর আমি নেই,
তুমি আর তুমি—
তুমি হলে আমি আর
হলেম আমি তুমি।
ভারি মজা হলো যবে
গান ধরি গেয়ে,
হেড়ে গলা ছেড়ে দিয়ে
মিহি গলা নিয়ে।
নিজে গেয়ে নিজে শুনি—
এ তো ভারি মজা!
শুতে গিয়ে বিচ্ছিরি
চুলের যত জটলা।
তাও থাক, চোখে কেন
জলের এই আঁজলা?
হে ঈশ্বর, দাও আমায়
আমার আমি-টুকু—
যেন শেষে ফিরে পাই
নিজেকেই শুধু।

· ·

Ragib Rekishi

নির্জন নিসর্গের ঘ্রাণ

কাপ্তাইয়ের পাহাড়ে ঘনবনের নির্জনে নাম না-জানা বনফুল, আর বন ঘুঘুদের ভীড়ে বিভূতিভূষণ কে খুব মনে পড়ে! আরণ্যকের কূর্চি আর পথের পাঁচালীর অপু-দূর্গা এইসব বনের আধো আলোছায়ায় কখনো হাঁটে, কখনো আম আটির ভেঁপু মুখে এদিক ওদিক দৌড়ে যায়! নিসর্গের নানা গলিঘুপচিতে ভেসে ওঠে ভাঁটফুল, আকন্দ আর বনতুলশীর মিষ্টি ঘ্রাণ!

এই বাংলায়, বাংলাদেশে কেবল দুজন মানুষ ছিলেন গন্ধের কারবারি, মাজুল মহাজন! জীবনানন্দ দাস আর বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়! বাংলার নদীনালা, খালবিল, হিজলতমাল আর পাখপাখালির গন্ধ শুকে শুকে বুনেছেন রূপসী বাংলার একহারা ঘ্রানের চাদর! এই চাদরের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে দু:খীনি মায়ের শাড়িউপচানো মূখর মমতার ঘ্রাণ! আরণ্যকের, রূপসী বাংলার পাতায় পাতায় ছড়ানো আছে এই গন্ধমেদুর ঘ্রানের সওদা!! শীতের ভোরে কিংবা উদাস বিকেলে বাংলার খালবিলনদীবনজংগলে মিহি কুয়াশার মতো গলে গলে পড়ে এইসব ঘ্রান আর মায়ার বিভূতি!

কবি এবং তার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝখানে শব্দের ভূমিকা কম্পূটারের ইন্টারফেসের মতো! শব্দের কোন আইকনে কতটুকু চাপ দিলে রূপ রস গন্ধ চিত্রময় প্রকৃতি তার ডালা খুলে নিজেকে উন্মোচিত করবে, তা ঠিক করে কবি তার অসাধারন ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ব্যবহারের মাধ্যমে! কবি এবং প্রকৃতি কে একসূত্রে বাধার এই বৈবাহিক যজ্ঞের দূতিয়ালিতে শব্দকে নিতে হয় ঘটকের ভুমিকা! কিন্তু কবির, কোন চিন্তার পালকে পেখম মেলবে আরাধ্য বনময়ূরী, সেই মহার্ঘ, সেই অন্বিষ্ট শব্দের খোঁজ কবিকেই করতে হয়! কবি তাই সকাল দুপুর রাত এক ধরনের ঘোরে থাকেন, নিজের কল্পনাকে প্রকৃতির বিহ্বলতায় রাঙাতে খোজেন শব্দ-যাদু, যাদুর শব্দ!!

৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, বিকেল ৪ টা
ধানমন্ডি ঢাকা ©রাগিব রেকিশি

· ·
Admin: জীবনানন্দের পরাবাস্তব কুয়াশা আর বিভূতিভূষণের মাটির কাছাকাছি থাকা আরণ্যক রূপ—দুজনের আত্মাকে আপনি এক বিন্দুতে মেলালেন অপূর্ব মুন্সিয়ানায়।
Admin: অসাধারণ গদ্যশৈলী! নির্জন নিসর্গের এমন ঘ্রাণমেদুর রূপ বহু যুগ পর বাংলা গদ্যে আবার জীবন্ত হয়ে উঠল।
Admin: লেখাটি শুধু পড়া নয়, যেন চোখ বুজে ভাঁটফুল, আকন্দ আর ভেজা মাটির ঘ্রাণ নেওয়া। শব্দের এমন দৃশ্যমান ও ঘ্রাণময় বুনন খুব কম দেখা যায়।
Admin: কাপ্তাইয়ের বন থেকে শুরু করে জীবনানন্দের কুয়াশা হয়ে কবির শব্দসন্ধান—পুরো লেখাটাই যেন বিশুদ্ধ সাহিত্যের এক স্নিগ্ধ উদযাপন।
Admin: প্রতিটি বাক্যে এত মায়া, এত মিহি কুয়াশার মতো আবেশ জড়িয়ে আছে যে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার পরও রেশ বহুক্ষণ থেকে যায়।
Admin: জীবনানন্দ আর বিভূতিভূষণকে 'গন্ধের কারবারি, মাজুল মহাজন' বলাটা অসাধারণ এক অন্তর্দৃষ্টি! বাংলার প্রকৃতি যে কেবল দেখার নয়, তীব্র অনুভবের ও ঘ্রাণের—তা চমৎকারভাবে মনে করিয়ে দিলেন।
Admin: প্রকৃতি আর কবির মাঝে শব্দকে কম্পিউটারের 'ইন্টারফেস' বা 'আইকন'-এর সাথে তুলনা করার উপমাটি একেবারে অভিনব এবং আধুনিক! গভীর এক ভাবনার প্রকাশ।
Admin: "কবি আর প্রকৃতির বৈবাহিক যজ্ঞে শব্দই ঘটক—উপমাটির গভীরতা মুগ্ধ করার মতো। শব্দ ছাড়া তো এই অপার্থিব সৌন্দর্যকে স্পর্শ করার আর কোনো সাঁকো নেই।"

Debesh Chandra sanyal

আমার মুক্তিযুদ্ধের কথা

· ·
দেবেশ চন্দ্র সান্যাল: আমি কি ভাবে লেখা পোস্ট করতে পারবো। পদ্ধতি বুঝিয়ে দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো।
দেবেশ চন্দ্র সান্যাল: ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা

Sudip Ghoshal

বন্ধু
সুদীপ ঘোষাল

আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে
বাঁশ ঘাসের জীবন
দুটো বাঁশের কোঁড়া পুঁতুন
জীবনের সত্যি গল্প শোনাবে
সঙ্গি হবে আমৃত্যু
শেষ শয়ন শ্মশানে
সে তো বাঁশ ঘাসের বিছানাতেই…

· ·

সাহিত্য-জগৎ

থিওফিল দ্য ভিও (Théophile de Viau, ১৫৯০–১৬২৬) ফরাসি বারোক যুগের একজন প্রভাবশালী কবি। তিনি প্রকৃতি, প্রেম, নির্বাসন, মৃত্যুভয় এবং অস্তিত্বের জটিল চিত্রকল্প নিয়ে লিখেছেন। তার কবিতায় বারোক শৈলীর অদ্ভুত, আবেগপূর্ণ এবং কখনো উল্টো জগতের (inverted world) বর্ণনা থাকে।

১. প্রভাত (Le Matin)

মূল থিম: ভোরের সৌন্দর্য, প্রকৃতির জাগরণ।

ঊষা দিনের কপালে সোনা-নীল-দাঁতের বীজ বোনে,
সূর্য ক্লান্ত হয়ে জল পান করে, তির্যক পথে ঘোরে।
আগুন-আলোয় ঢাকা তার ঘোড়াগুলো জল থেকে উঠে,
নাক-মুখ খুলে বিশ্বের আলোকে নিঃশ্বাসে টেনে নেয়।

চাঁদ চোখের সামনে পালায়, রাত সরিয়ে দেয় পর্দা,
ধীরে ধীরে তারার কপাল মিলিয়ে যায় আকাশের রঙে।
পাহাড় থেকে ছায়া নামে, চোখের সামনে বাড়তে থাকে,
দীর্ঘ শোকের পোশাক পরিয়ে ঢেকে দেয় মাঠ-প্রান্তর।

(পুরো কবিতায় ভোরের আলো, পশু-পাখি, কৃষক ও প্রেমিকার সৌন্দর্যের বর্ণনা আছে।)

২. আমার সামনে কাক ডাকছে (Un corbeau devant moi croasse — বিখ্যাত ওড)

মূল থিম: অশুভ লক্ষণ, উল্টো জগতের দুঃস্বপ্নময় দৃশ্য।

আমার সামনে এক কাক ডাকছে ক্রমাগত,
এক ছায়া আমার চোখ আচ্ছন্ন করে ফেলে।
দুটি নেউল আর দুটি শেয়াল
আমার যাত্রাপথ অতিক্রম করে যায়।

আমার ঘোড়ার পা হোঁচট খায়,
আমার চাকর উঁচু থেকে পড়ে অজ্ঞান হয়ে।
আমি শুনি বজ্রের ফাটল শব্দ,
আমার সামনে এক আত্মা দেখা দেয়।
চ্যারন আমাকে তার কাছে ডাকছে,
আমি দেখি পৃথিবীর গভীর কেন্দ্র।

ঝরনা উৎসের দিকে উঠে যায়,
এক ষাঁড় উঠে যায় ঘণ্টাঘরের চূড়ায়,
পাথর থেকে রক্ত ঝরে,
এক বিষধর সাপ ভাল্লুকের সঙ্গে মিলিত হয়…
(বারোক শৈলীর অদ্ভুত, ভয়াল চিত্রকল্পে ভরা কবিতা।)

৩. শীতের বিরুদ্ধে (Contre l’hiver)

মূল থিম: শীতের বিরুদ্ধে ক্রোধ ও ব্যক্তিগত যন্ত্রণা।

ক্রোধে ও যুক্তিতে ভরা হয়ে,
হে বর্বর ঋতু, তোমার বিরুদ্ধে
আমি প্রস্তুত করছি কঠিন যুদ্ধ।
বিশ্বের নিয়ম অমান্য করে
তুমি পৃথিবীতে রাজত্ব করো,
কিন্তু আমার ওপর নয়।

আমার কবিতার ক্রোধ তোমার বিরুদ্ধে বজ্রপাত ছেড়ে দেয়।
পরবর্তী প্রজন্ম সত্যের ভিত্তিতে
তোমার অপরাধ বিচার করুক আমার ঘৃণা দিয়ে।
(কবিতায় শীতের নিষ্ঠুরতা, প্রকৃতির ক্ষতি ও প্রিয়জনের যন্ত্রণার কথা আছে।)

৪. প্যারিসের মাঝে আমি সন্ন্যাসী হয়েছি (Au milieu de Paris je me suis fait ermite)

মূল থিম: প্রেমের যন্ত্রণায় নিজেকে বিচ্ছিন্ন করা।

প্যারিসের মাঝখানে আমি সন্ন্যাসী হয়েছি,
একটি মাত্র বস্তুর মধ্যে আমার মন সীমাবদ্ধ।
যেখানেই চোখ ফেরাই বিনোদনের জন্য,
সেখানেই এক কারাগার টেনে নিয়ে বেড়াই, যেখান থেকে বেরোতে পারি না।

হাড়ে আগুন, আত্মা ছিঁড়ে যাচ্ছে
সেই সোনালি তীরের আঘাতে, যা তুমি আমাকে মেরেছ।
যত প্রলোভনই আসুক, তা শুধু আমার বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে।
যুক্তি যতই সাহায্য করুক, ততই যন্ত্রণা বাড়ে।

৫. ক্লোরিসকে (A Cloris)

মূল থিম: নির্বাসনে প্রেমের সান্ত্বনা।

ক্লোরিস, যদি সত্যি তুমি আমাকে ভালোবাসো —
আমি বুঝি তুমি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো —
তাহলে রাজারাও আমার মতো এত সুখী নন।
মৃত্যুও আমার ভাগ্য বদলাতে পারবে না,
দেবতাদের সুখের সামনে তা অপ্রয়োজনীয়।

তোমার চোখের কৃপার সামনে অমৃতের কথা কিছুই নয়।
আমি একদিনও তোমাকে না দেখে থাকতে পারি না,
তা যন্ত্রণা দেয় নরকের চেয়েও বেশি।

৬. মৃত্যুর ভয় সবচেয়ে দৃঢ়কেও কাঁপিয়ে দেয় (La frayeur de la mort ébranle le plus ferme)

মূল থিম: মৃত্যুর আগের আতঙ্ক।

মৃত্যুর ভয় সবচেয়ে দৃঢ় মানুষকেও কাঁপিয়ে দেয়।
দুঃখ ও শেষের কাছাকাছি এসে মন শান্ত রাখা কঠিন।
সবচেয়ে শক্তিশালী আত্মাও, যে ভাগ্যের আঘাত সহ্য করতে প্রস্তুত,
নিজের নিশ্চিত সমাপ্তি দেখে ভয়ে থমকে যায়।

অপরাধী মৃত্যুর ভয়ে কাঁপে,
কিন্তু যখন রায় হয়ে যায় আর জল্লাদকে দেখে,
তখন তার রক্ত জমে যায়, আত্মা শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে।
কল্পনায় ফাঁসি আর নরকের ছবি ভেসে ওঠে।

৭–১০. অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতার অনুবাদ (সারাংশ/প্রতিনিধিত্বমূলক)

৭. প্রেমের অস্থিরতা (Je n’ai repos ni nuit ni jour-এর অনুপ্রেরণায়)
রাত-দিন আমার কোনো বিশ্রাম নেই,
প্রেমের আগুন হাড়ে-মজ্জায় জ্বলে।
ঘুম এলেও স্বপ্নে তোমার ছায়া তাড়া করে,
জেগে থাকলে চোখের সামনে শুধু তোমার রূপ।

৮. প্রেমিকার সৌন্দর্য (Cloris, lorsque je songe…-এর অনুপ্রেরণায়)
ক্লোরিস, যখন তোমাকে এত সুন্দর দেখে স্বপ্ন দেখি,
তোমার চোখের গভীরতায় হারিয়ে যাই।
প্রকৃতিও তোমার সামনে লজ্জিত হয়,
তোমার হাসিতে সূর্যও হার মানে।

৯. নির্বাসনের যন্ত্রণা (A Cloris-এর অনুপ্রেরণায়)
নির্বাসন আমার কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে,
কারণ এখানে তোমার ভালোবাসা পেয়েছি।
শত্রুরা যতই কষ্ট দিক,
তোমার চোখের দৃষ্টি সব যন্ত্রণা মুছে দেয়।

১০. জীবন ও মৃত্যুর মাঝে (বিভিন্ন elegy-এর সারাংশ)
জীবন এক দীর্ঘ যাত্রা, মৃত্যু তার শেষ স্টেশন।
কিন্তু প্রেমের আলোয় সেই অন্ধকারও আলোকিত হয়।
যতই ভয় পাই, ততই বুঝি —
তোমার স্মৃতি আমাকে বাঁচিয়ে রাখে।

থিওফিল দ্য ভিও (Théophile de Viau, ১৫৯০–১৬২৬): বারোক যুগের বিদ্রোহী কবি, নাট্যকার ও মুক্তচিন্তার প্রতীক

থিওফিল দ্য ভিও সপ্তদশ শতাব্দীর ফরাসি সাহিত্যের অন্যতম উজ্জ্বল ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন বারোক যুগের প্রতিনিধি কবি ও নাট্যকার, যিনি কঠোর শাস্ত্রীয় নিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আবেগপূর্ণ, চিত্রকল্পময় ও মুক্তচিন্তার কবিতা রচনা করেছিলেন। তাঁর জীবন ছিল উত্থান-পতন, প্রেম, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নির্বাসন, কারাবাস ও অকালমৃত্যুর এক নাটকীয় মহাকাব্য। হুগেনোট (প্রোটেস্ট্যান্ট) পরিবারে জন্ম নিয়ে তিনি ক্যাথলিক ফ্রান্সের রাজদরবারে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন, কিন্তু “অধার্মিকতা”, “অশ্লীলতা” ও “সমকামিতা”-র অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবু তাঁর কবিতা আজও পাঠককে মুগ্ধ করে—প্রকৃতির সৌন্দর্য, প্রেমের যন্ত্রণা, নির্বাসনের বেদনা ও অস্তিত্বের প্রশ্ন নিয়ে।

জন্ম, পরিবার ও শিক্ষা

থিওফিল দ্য ভিও ১৫৯০ সালের এপ্রিল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মস্থান নিয়ে সামান্য বিতর্ক আছে—অফিসিয়াল নথিতে Port-Sainte-Marie (Lot-et-Garonne অঞ্চল) উল্লেখ থাকলেও তিনি নিজে “Clairac”-কে নিজের জন্মস্থান বলে দাবি করতেন (বিখ্যাত সনেট “Sacrés murs du soleil”-এ)। তাঁর পরিবার ছিল প্রোটেস্ট্যান্ট (হুগেনোট)। পিতা Janus de Viau ছিলেন স্থানীয় আদালতের আইনজীবী, মাতা Marie Broc। তিনি পাঁচ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়।

শৈশবে তিনি Nérac-এর প্রোটেস্ট্যান্ট কলেজে পড়াশোনা করেন Jean Mathisson-এর অধীনে। পরে Saumur-এর প্রোটেস্ট্যান্ট অ্যাকাডেমি ও Leiden বিশ্ববিদ্যালয়ে (নেদারল্যান্ডস) পড়েন। সেখানে তিনি ভবিষ্যৎ লেখক Guez de Balzac-এর সঙ্গে পরিচিত হন। ধর্মতত্ত্ব পড়েননি এবং কখনো শিক্ষকতা করেননি। এই প্রোটেস্ট্যান্ট শিক্ষা ও মুক্ত পরিবেশ তাঁর পরবর্তী মুক্তচিন্তাকে প্রভাবিত করে।

প্রারম্ভিক জীবন ও আদালতের উজ্জ্বল কবি

১৬১১–১৬১৩ সালে তিনি একটি ভ্রমণশীল থিয়েটার দলে যোগ দেন। ১৬১৫ সালে প্যারিসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং দ্রুত রাজদরবারের উজ্জ্বল কবি হয়ে ওঠেন। Comte de Candale-এর সেবায় নিযুক্ত হন। ১৬১৫–১৬১৬ সালে Guyenne-এর হুগেনোট বিদ্রোহে অংশ নেন (Louis XIII ও তাঁর প্রিয়পাত্র Duc de Luynes-এর বিরুদ্ধে)। যুদ্ধ শেষে ক্ষমা পান এবং আবার দরবারে ফিরে আসেন।

এ সময় তিনি ইতালীয় দার্শনিক Giulio Cesare Vanini (Lucilio Vanini)-এর Epicurean চিন্তাধারার সংস্পর্শে আসেন। Vanini আত্মার অমরত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং ১৬১৯ সালে Toulouse-এ ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগে পুড়িয়ে মারা হয়। এই প্রভাব থিওফিলের মধ্যে সন্দেহবাদ ও মুক্তচিন্তার বীজ বপন করে। তিনি শীঘ্রই “libertins” (মুক্তচিন্তক) গোষ্ঠীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।

প্রথম নির্বাসন ও ইংল্যান্ড যাত্রা

১৬১৯ সালে তাঁকে ফ্রান্স থেকে নির্বাসিত করা হয়। অভিযোগ: ধর্মদ্রোহিতা, অশ্লীল জীবনযাপন এবং সম্ভবত রাজনৈতিক কারণ (Luynes-এর বিরুদ্ধে পুস্তিকা লেখা)। তিনি ইংল্যান্ডে যান। ১৬২০ সালে আদালতে ফিরে আসেন।

১৬২১ সালে রাজা তাঁকে গোপনে Clairac-এর অধিবাসীদের মনোভাব জানতে পাঠান (Rohan অভিযানের সময়)। তিনি ৬০০ লিভার পারিশ্রমিক পান। Clairac-এর অবরোধের পর তিনি বিখ্যাত সনেট “Sacrés murs du soleil” (বা “Lament for Clairac”) লেখেন, যেখানে তিনি নিজের জন্মভূমির ধ্বংস ও ব্যক্তিগত বেদনা প্রকাশ করেন।

একই বছর তাঁর ট্র্যাজেডি Les Amours tragiques de Pyrame et Thisbé (Pyramus ও Thisbe-এর করুণ প্রেমকাহিনি, পাঁচ অঙ্কের অ্যালেকজান্ড্রিন ছন্দে) মঞ্চস্থ হয় এবং ব্যাপক সাফল্য পায়।

সাহিত্যকর্ম ও বারোক শৈলী

থিওফিল সনেট, ওড, এলিজি ও ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লিখেছেন। তাঁর বিখ্যাত কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • Le Matin — ভোরের প্রকৃতির অপূর্ব বর্ণনা।
  • Un corbeau devant moi croasse — বিখ্যাত ওড, যেখানে কাকের ডাক, ছায়া, শেয়াল-নেউল, বজ্রপাত ও উল্টো জগতের ভয়াল চিত্রকল্প (Salvator Rosa-র চিত্রের মতো)।
  • Contre l’hiver — শীতের বিরুদ্ধে ক্রোধ ও ব্যক্তিগত যন্ত্রণা।
  • La Maison de Sylvie — দশটি ওড, পরবর্তী পৃষ্ঠপোষকদের উদ্দেশ্যে।
  • Traité de l’immortalité de l’âme — প্লেটোর Phædo-এর মুক্ত অনুবাদ/অভিযোজন (গদ্য-পদ্য মিশ্রিত), যা আত্মার অমরত্ব নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে।
  • Fragment d’une histoire comique (১৬২৩) — সাহিত্যিক ইশতেহার।

তাঁর শৈলী ছিল বারোক: আবেগপূর্ণ, চিত্রকল্পময়, কল্পনাপ্রবণ। তিনি François de Malherbe-এর কঠোর শাস্ত্রীয় নিয়ম (স্পষ্টতা, যুক্তি, সংযম) প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর বিখ্যাত ইশতেহার Élégie à une dame-এ তিনি লিখেছেন:

“আমি এমন কবিতা লিখতে চাই যা বাধ্যতামূলক নয়… গোপন স্থানে ঘুরে বেড়াতে চাই যেখানে কিছুই অপ্রীতিকর নয়… বনের মধ্যে লিখতে চাই, বাধা দিতে চাই, চুপ থাকতে চাই… নতুন ভাষা উদ্ভাবন করতে চাই…”

তিনি “écrire à la moderne” (আধুনিকভাবে লেখা)-এর পক্ষে ছিলেন। Montaigne-এর মতো ডিগ্রেশন ও স্বাভাবিক ভাষা পছন্দ করতেন।

বড় সংকট: পারনাস স্যাটিরিক ও বিচার

১৬২২ সালে Le Parnasse satyrique নামে একটি সংকলনে তাঁর নামে অশ্লীল কবিতা প্রকাশিত হয় (অনেকগুলো আসলে অন্যদের লেখা)। জেসুইটরা তাঁকে নিন্দা করে। ১৬২৩ সালে তাঁকে অনুপস্থিতিতে Notre-Dame-এর সামনে খালি পায়ে পুড়িয়ে মারার দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। তাঁর প্রতিকৃতি (effigy) পোড়ানো হয়। তিনি পালিয়ে ইংল্যান্ড যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু ধরা পড়ে Paris-এর Conciergerie কারাগারে প্রায় দুই বছর (১৬২৩–১৬২৫) বন্দি থাকেন।

অভিযোগ ছিল: নাস্তিকতা, অশ্লীলতা, সমকামিতা (Jacques Vallée des Barreaux-এর সঙ্গে সম্পর্কের কথা উঠে)। Father Garasse La Doctrine curieuse-এ তাঁকে আক্রমণ করেন। এই ঘটনা নিয়ে ৫৫টি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়—পক্ষে-বিপক্ষে তীব্র বিতর্ক। কারাগারে তিনি Plainte de Théophile à son ami Tircis লেখেন।

১৬২৫ সালের ২৬–২৭ আগস্ট বিচারে তিনি শপথ করে বলেন: “আমি Clairac-এর… পিতা আইনজীবী ছিলেন… Nérac-এ শিক্ষিত… ধর্মতত্ত্ব পড়িনি… কখনো শিক্ষকতা করিনি।” কারাগারের কষ্টে স্বাস্থ্য ভেঙে যাওয়ায় দণ্ডাদেশ চিরস্থায়ী নির্বাসনে রূপান্তরিত হয়।

শেষ জীবন ও মৃত্যু

মুক্তি পেয়ে তিনি দুর্বল শরীর নিয়ে Chantilly-তে Duc de Montmorency (Henri II de Montmorency)-এর সুরক্ষায় কিছু মাস কাটান। ১৬২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কারণ ছিল কারাবাসের ফলে স্বাস্থ্যহানি।

উত্তরাধিকার

থিওফিল দ্য ভিও-কে ঊনবিংশ শতাব্দীর রোমান্টিক কবিরা পুনরাবিষ্কার করেন। তিনি Malherbe-এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ফরাসি কবিতায় আবেগ, কল্পনা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পথ খুলে দিয়েছিলেন। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, নির্বাসন ও মৃত্যুর ভয়ের গভীর অনুভূতি আছে—যা আজও পাঠককে স্পর্শ করে।

তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের “libertin”—মুক্তচিন্তক, যিনি ধর্মীয় ও সামাজিক নিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর জীবন দেখায় কীভাবে সৃজনশীলতা ও সাহস রাজনৈতিক-ধর্মীয় ক্ষমতার মুখে টিকে থাকার লড়াই করে।

থিওফিল দ্য ভিও আজও ফরাসি সাহিত্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল, বিদ্রোহী ও মানবিক কণ্ঠস্বর হিসেবে স্মরণীয়। তাঁর কবিতা পড়লে মনে হয়—যন্ত্রণা ও সৌন্দর্য কতটা কাছাকাছি থাকতে পারে।

· ·

সাহিত্যের পাতা থেকে

উইলিয়াম ড্রামন্ড অফ হথর্নডেন (William Drummond of Hawthornden, ১৫৮৫–১৬৪৯) স্কটল্যান্ডের রেনেসাঁ যুগের একজন প্রধান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, প্রকৃতির শোক, মৃত্যুর অনিবার্যতা, আধ্যাত্মিক জাগরণ ও রূপকথার সৌন্দর্য মিশে আছে। তিনি পেট্রার্কীয় সনেট, মাদ্রিগাল ও গীতিকবিতার ধারা অনুসরণ করেছেন।

১. আহ্বান (Invocation / Phoebus, arise!)

মূল শিরোনাম: Invocation (Song)

ফীবাস, উঠো!
আর কালো আকাশকে নীল, সাদা ও লাল রঙে রাঙিয়ে দাও;
মেমননের মাকে টিথনের শয্যা থেকে জাগাও,
যাতে সে তোমার পথ গোলাপে ছড়িয়ে দেয়।

রাতের পাখিরা সর্বত্র তোমার আগমনী গান গায়;
এক চিরন্তন বসন্ত গড়ে তোলো!
এই মৃত অন্ধকার জগতকে প্রাণ দাও।

তোমার সোনালি চুল আগের চেয়ে আরও ঘন করে ছড়িয়ে দাও,
সম্রাটের মতো মুক্তোর মুকুটে তোমার কপাল সাজাও।
তাড়িয়ে দাও এই কুৎসিত রাতকে,
যা শুধু তোমার গৌরবময় আলোকে আরও মধুর করে।

এই সেই সুখের প্রভাত,
যে দিনটির জন্য আমার সারা জীবন অপেক্ষা করেছে—
(যদি নিষ্ঠুর তারা ও ভাগ্য বিশ্বাসঘাতকতা না করে)।
এই দিনটি চিরকালের জন্য হীরক দিয়ে চিহ্নিত হওয়ার যোগ্য।

এই প্রভাতই আমার প্রিয়াকে এই বনে নিয়ে আসবে,
যেন সে আমার প্রেম শুনে ও পুরস্কৃত করে।
হে সুন্দর রাজা, যিনি সব কিছু রক্ষা করেন,
তোমার লজ্জার আলো দেখাও—
তুমি দুটি চোখ দেখবে, পেনিয়াসের তীরের চেয়েও মধুর।

এখন ফ্লোরা, নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর সাজে সাজাও।
হে বাতাস, যদি অ্যামফিয়নের বীণার চেয়েও মধুর কণ্ঠ শুনতে চাও,
তোমাদের ঝড় থামাও; শুধু জেফির বইতে দাও
এবং তার চুলের সাথে খেলা করতে দাও।

বাতাস নীরব। ফীবাস তার রথে বসে
সমুদ্র ও আকাশকে জাফরানি রঙে রাঙিয়ে দিচ্ছেন।
প্রতিটি তারা মিলিয়ে যাচ্ছে।
রাত মাতালের মতো পাহাড়ের ওপারে পালাচ্ছে।

মাঠ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে,
মেঘ নীল আকাশে সোনার ঝলক ছড়াচ্ছে।
এখানে সবকিছু আছে—শুধু সে নেই, যে সবকিছুকে সুন্দর করে।

২. আমি জানি যা কিছু চাঁদের নিচে আছে, সবই ক্ষয় হয় (I know that all beneath the moon decays)

আমি জানি, চাঁদের নিচে যা কিছু আছে সবই ক্ষয় হয়,
মানুষ যা কিছু এই পৃথিবীতে গড়ে তোলে,
সময়ের বড় চক্রে তা শূন্য হয়ে যায়।
সবচেয়ে সুন্দর রাজ্যেরও নির্দিষ্ট রাত ও দিন আছে।

আমি জানি, মিউজের স্বর্গীয় গানগুলোও,
যা আত্মার কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত,
কেউ বা খুব কম লোকই খোঁজে—
আর আকাশী প্রশংসার চেয়ে হালকা আর কিছু নেই।

আমি জানি, ভঙ্গুর সৌন্দর্য বেগুনি ফুলের মতো,
যার জন্ম ও মৃত্যু প্রায়ই একই ভোরে ঘটে।
প্রেম মনের সুরের বিরোধ—
যেখানে ইন্দ্রিয় ও ইচ্ছা যুক্তিকে বন্দি করে।

আমি যা জানি, তা আমাকে নড়ায় না—
কিন্তু হায়! আমাকে লিখতেই হয় এবং ভালোবাসতেই হয়।

৩. বসন্তের শোক ১ (Spring Bereaved 1)

প্রতি বছর যে জেফির এত তাড়াতাড়ি বনের মধ্যে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শোনা যায়,
তা তার জন্যই। সবুজ পোশাকে মোড়া তৃণভূমি এত আগে দেখা যায়,
তা তার জন্য। সবচেয়ে দুঃখের মাসেও মেরল পাখি গান গায়,
তা তার জন্য; তার জন্য গাছ মুক্তো ঝরায়।

গর্বিত ও রাজকীয় দরবারগুলো আমাদের এই ছায়া ও শান্ত আশ্রয়কে ঈর্ষা করত,
তা তার জন্য। আর সে চলে গেছে—হায় দুঃখ!
কাটা গাছ আবার গজায়, গোলাপ ও ডেইজি কুঁড়ি ছাড়ে, শীত শেষ হয়;
কিন্তু আমরা একবার মরলে আর সূর্য দেখি না।

৪. বসন্তের শোক ২ (Spring Bereaved 2)

মধুর বসন্ত, তুমি তোমার সুন্দর সেনাবাহিনী নিয়ে এসেছ—
মাথায় আগুনের মুকুট, ফুলে ঝলমলে আঁচল,
জেফির সমতলের সবুজ চুল কুচকুচে করছে,
আনন্দে মেঘ মুক্তোর মতো অশ্রু ঝরাচ্ছে।

মধুর বসন্ত, তুমি এসেছ—কিন্তু হায়! আমার সুখের ঘণ্টা
ও সুখের দিনগুলো তোমার সঙ্গে আর ফিরে আসে না।
শুধু আমার যন্ত্রণার দুঃখজনক স্মৃতি তোমার সঙ্গে আসে,
যা আমার মিষ্টিকে তিক্ত করে দেয়।

তুমি আগের মতোই আছ—সুস্বাদু, প্রাণবন্ত, প্রেমময়, সুন্দর।
কিন্তু সে, যার শ্বাস তোমার স্বাস্থ্যকর বাতাসকে সুগন্ধি করত,
চলে গেছে; সোনা বা মণি-মাণিক্য তাকে ফিরিয়ে আনতে পারে না।

অবহেলিত গুণ, ঋতু আসে-যায়,
যখন তোমার ভুলে যাওয়া স্মৃতি একটি সমাধিতে বন্ধ হয়ে আছে।

৫. বসন্তের শোক ৩ (Spring Bereaved 3)

অ্যালেক্সিস, এখানে সে থেকেছিল; এই পাইন গাছের মাঝে
মধুর সন্ন্যাসিনীর মতো সে একা বিশ্রাম নিত।
এখানে সে তার চুলের ধন ছড়িয়ে দিয়েছিল,
কলকিসের খনি থেকে আনা সোনার চেয়েও সমৃদ্ধ।

সে এই সুগন্ধি বুনোফুলের পাশে বসেছিল—
সেই সুখের জায়গাটি এখনো তার ছাপ বহন করে বলে মনে হয়।
এখানে তার কণ্ঠ তোমার মধুর পঙক্তিগুলোকে আরও মধুর করত,
যার কথা শুনত বাতাস, গাছ, পশু, পাখি।

এখানেই সে প্রথম আমাকে দেখেছিল, এখানেই এক ভোরে
উজ্জ্বল গোলাপি রঙ তার মুখ ছেয়ে ফেলেছিল।
এখানেই সে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিল, এখানেই আমার আশা জন্মেছিল,
এবং আমি প্রথম প্রতিশ্রুত প্রেমের অঙ্গীকার পেয়েছিলাম।

কিন্তু হায়! এত সুখী হওয়ার কী লাভ হলো,
যখন অতীতের সুখ শুধু নতুন দুঃখ দ্বিগুণ করে?

৬. তার চলে যাওয়া (Her Passing)

জীবন ও সৌন্দর্যের সবচেয়ে সুন্দর আদর্শের
সৌন্দর্য ও জীবন—হায় অশ্রু! হায় দুঃখ!—ঝুলছিল একটি দুর্বল সুতোয়,
যাতে ফ্যাকাশে আত্রোপোস তার ছুরি রেখেছিল।

আত্মা অনেক দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে প্রতিটি বাইরের অঙ্গ ত্যাগ করেছিল,
এবং এখন হৃদয়ের সঙ্গে শেষ বিদায় নিচ্ছিল।
মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই বাকি ছিল না, এমনকি মরে যাওয়ার জন্যও।

যখন তার বিছানার চারপাশে দুঃখীজনেরা দেখল
মৃত্যু তার ঠোঁট, গাল, চোখে এত সুন্দর হয়ে এসেছে,
তারা চিৎকার করে উঠল, “হায়! মৃত্যু কি স্বর্গে প্রবেশ করতে পারে?”

৭. পরিবর্তন পরিবর্তনের জন্ম দেয় (Change should breed Change)

নতুন করে সূর্য দেখা দেয়,
পাহাড়ের তুষার গলে যায়,
ভঙ্গুর ফুলে মুকুট পরে শিশু বছর বেরিয়ে আসে।

আমার আত্মা, সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে;
আর তুমি এখনো সেই তুষারে আছ,
যেখানে ফুল ও ফল হারিয়ে গেছে,
যেন এখানে সবকিছু অমর।

লজ্জা! তোমার শক্তি জাগাও,
সেই স্বর্গের দিকে তাকাও যেখানে কখনো রাত হয় না,
এবং সেখানে সেই অমর সূর্যের উজ্জ্বল রশ্মিতে
নিজেকে এমন ফুলে সাজাও যা দিনের রাগকে ভয় পায় না!

৮. মাদ্রিগাল (Madrigal)

ইদালিয়ান রানির মতো,
চুল চোখের চারপাশে ছড়ানো,
গলা ও বুকের পাকা আপেল দেখা যায়,
ভোরের প্রথম আলোয় সাইপ্রাসের বাগানে
সেই সুন্দর ফুলগুলো সংগ্রহ করতে—
যেগুলো তার রক্ত থেকে জন্মেছিল—
আমি দেখেছিলাম, কিন্তু অজ্ঞান হয়ে দেখেছিলাম, আমার প্রেমিকাকে।

গ্রেসরা উলঙ্গ নাচছিল সেই জায়গায়,
বাতাস ও গাছ বিস্ময়ে নীরব হয়ে তাকিয়ে ছিল,
ফুলগুলো হাসছিল, তার মুখের ফুলের মতো।
আর যখন তার আঙুলগুলো কাঁপা কাঁপা ডালপালার মতো বাঁধা ছিল,
যাতে সে আমার অবস্থা পড়তে পারে,
আমি কামনা করেছিলাম—আমি যেন তার হাতে একটি হায়াসিন্থ হতাম।

৯. অনিবার্য (Inexorable)

আমার চিন্তাগুলো মরণশীল সংগ্রামে আবদ্ধ;
আমি আমার জীবনকে ঘৃণা করি,
আর দীর্ঘশ্বাসের কান্নার সঙ্গে
আমার আত্মায় শান্তি আনতে
প্রায়ই সেই রাজপুত্রকে ডাকি যে এখানে রাজত্ব করে।

কিন্তু সে, ভয়ংকর হাস্যময় রাজা,
যে কাপুরুষদের অবজ্ঞা করে এবং ধন্যদের আক্রমণ করে,
সম্প্রতি সৌন্দর্যের গোলাপ দিয়ে তার সমাধি সাজিয়েছে,
একটি আগাছা কাটতে অস্বীকার করে এবং আসবে না।

১০. সেন্ট জন ব্যাপটিস্ট (Saint John Baptist / For the Baptist)

স্বর্গের রাজার শেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ দূত,
খসখসে চামড়ায় বাঁধা, বন্য মরুভূমির দিকে ছুটে চলেছেন।
সেই বন্য জাতির মাঝে, যাদের বন জন্ম দেয়,
তিনি মানুষের চেয়েও নিরীহ ও মৃদু বলে পেয়েছিলেন।

তাঁর খাদ্য ছিল পঙ্গপাল আর কুমারী মৌমাছির চাক থেকে ঝরা মধু।
শুকনো শরীর, ফাঁপা চোখ—কোনো অদ্ভুত সত্তা
তাঁকে পৃথিবী থেকে অনেক আগেই নির্বাসিত বলে মনে হত।

সেখানে তিনি ফেটে পড়লেন: “হে তোমরা সবাই, যাদের আশা ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করে,
আমার সঙ্গে এই মরুভূমিতে শোক করো;
অনুতাপ করো, অনুতাপ করো, এবং পুরনো ভুল থেকে ফিরে এসো!”

কে তাঁর কণ্ঠ শুনেছে, তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছে?
শুধু প্রতিধ্বনি, যা তিনি নরম করেছিলেন,
মার্বেল গুহা থেকে প্রতিধ্বনিত হয়ে বলেছিল—
“অনুতাপ করো! অনুতাপ করো!”

উইলিয়াম ড্রামন্ড অফ হথর্নডেন (১৫৮৫–১৬৪৯)

উইলিয়াম ড্রামন্ড, যিনি হথর্নডেনের ড্রামন্ড নামে পরিচিত, সপ্তদশ শতাব্দীর স্কটল্যান্ডের অন্যতম প্রধান কবি এবং গদ্যকার। তিনি ছিলেন জ্যাকোবিয়ান যুগের (Jacobean era) শীর্ষস্থানীয় সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ইংরেজি ভাষায় সচেতনভাবে কবিতা রচনা করেছিলেন। তাঁকে প্রায়শই “স্কটিশ পেট্রার্ক” বলা হয়। তাঁর কবিতায় প্রেম, প্রকৃতি, মৃত্যুর অনিবার্যতা, আধ্যাত্মিক চিন্তা ও রেনেসাঁসের সৌন্দর্যবোধের মিশ্রণ দেখা যায়। স্যার ফিলিপ সিডনি, এডমন্ড স্পেন্সার ও ইতালীয় কবি জাম্বাতিস্তা মারিনোর প্রভাব তাঁর রচনায় স্পষ্ট। তিনি শুধু কবি ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাসবিদ, রাজনৈতিক লেখক, গ্রন্থাগারিক ও উদ্ভাবক।

জন্ম, পরিবার ও প্রারম্ভিক জীবন

১৩ ডিসেম্বর ১৫৮৫ সালে মিডলোথিয়ানের হথর্নডেন ক্যাসেলে উইলিয়াম ড্রামন্ড জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জন ড্রামন্ড ছিলেন হথর্নডেনের প্রথম লেয়ার্ড (laird) এবং স্কটিশ ও পরে ইংরেজ আদালতের জেন্টেলম্যান আশার। মাতা সুসানা ফাউলার ছিলেন কবি ও কোর্টিয়ার উইলিয়াম ফাউলারের বোন। পিতামহ স্যার রবার্ট ড্রামন্ড অফ কারনক ছিলেন স্কটল্যান্ডের ক্রাউনের মাস্টার অফ ওয়ার্ক।

শৈশবে তিনি রাজদরবারের পরিবেশে বড় হন। পিতার চাকরির সুবাদে আদালতের কবি-সাহিত্যিকদের সান্নিধ্য পান। এই পরিবেশ তাঁর সাহিত্যিক রুচি গড়ে তোলে। শৈশবে তিনি কিছু কবিতা ওল্ডার স্কটস ভাষায় লিখেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে ইংরেজিতে লেখেন।

শিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষা এডিনবার্গের রয়্যাল হাই স্কুলে। ১৬০০ সালে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে (তখন নতুন প্রতিষ্ঠিত) ভর্তি হন। ১৬০৫ সালের জুলাই মাসে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি মানবিক বিষয়, ধ্রুপদী সাহিত্য ও দর্শন অধ্যয়ন করেন। তাঁর পড়ার তালিকা (যা এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত) দেখায় যে তিনি হেলিওডোরাসের Ethiopica সহ কল্পনামূলক সাহিত্য ও সমসাময়িক কবিতার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। ১৭ বছর বয়সে হেলিওডোরাস পড়তে গিয়ে চোখে ব্যথা হয় এবং প্রায় অন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় — এই ঘটনা তাঁর জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য স্মৃতি।

ফ্রান্সে আইন অধ্যয়ন ও পিতৃবিয়োগ

১৬০৬ সালে তিনি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স ভ্রমণ করেন। প্যারিস দেখার পর বুর্জেস বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অধ্যয়ন করেন। দুই বছর ফ্রান্সে কাটান। ১৬০৯ সালে স্কটল্যান্ডে ফিরে আসেন। ১৬১০ সালে পিতার মৃত্যু হলে মাত্র ২৪ বছর বয়সে হথর্নডেনের লেয়ার্ড হন। পিতা তাঁকে বাড়ি, জমি ও অর্থ রেখে যান (যদিও ঋণও ছিল)। আইন পেশা ছেড়ে তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির জীবন বেছে নেন।

সাহিত্যজীবনের সূচনা ও প্রধান রচনাবলি

ড্রামন্ডের প্রথম প্রকাশিত রচনা Teares on the Death of Meliades (১৬১৩; তৃতীয় সংস্করণ ১৬১৪) — প্রিন্স হেনরি (জেমস প্রথমের পুত্র)-এর মৃত্যুতে শোকগাথা। স্পেন্সার ও সিডনির প্যাস্টোরাল প্রভাব স্পষ্ট। একই বছর Mausoleum নামে অন্যান্য কবিদের (চ্যাপম্যান, উইদার প্রমুখ) শোককবিতার সংকলন প্রকাশ করেন।

১৬১৬ সালে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ Poems: Amorous, Funerall, Divine, Pastorall: in Sonnets, Songs, Sextains, Madrigals প্রকাশিত হয়। এতে প্রেমের সনেট, শোকগাথা, ধর্মীয় ও প্যাস্টোরাল কবিতা আছে। সিডনি ও ইতালীয় কবিদের (বিশেষ করে মারিনো) প্রত্যক্ষ অনুবাদ ও অভিযোজন দেখা যায়।

১৬১৭ সালে Forth Feasting: A Panegyricke to the King’s Most Excellent Majestie — রাজা জেমসের স্কটল্যান্ড সফর উপলক্ষে বীর্যগাথা (heroic couplet)।

১৬২৩ সালে Flowers of Sion (ধর্মীয় কবিতা) প্রকাশিত হয়, সঙ্গে যুক্ত A Cypresse Grove (পূর্ববর্তী সংস্করণ A Midnight’s Trance, ১৬১৯) — মৃত্যু ও পরিবর্তনশীলতা নিয়ে গভীর গদ্য-ধ্যান। এটি তাঁর গদ্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনা:

  • Irene (১৬৩৮) — রাজনৈতিক সম্প্রীতির আহ্বান।
  • Σκιαμαχία (১৬৪৩) — রাজনৈতিক প্রতিরক্ষামূলক পুস্তিকা।
  • History of Scotland during the Reigns of the Five Jameses (মরণোত্তর ১৬৫৫)।
  • Polemo-Medinia inter Vitarvam et Nebernam (ম্যাকারোনিক কবিতা, ১৬৮৪ সালে মুদ্রিত, তাঁর বলে আরোপিত) — স্কটস ও লাতিন মিশ্রিত ব্যঙ্গাত্মক রচনা।

তিনি ফরাসি, ইতালীয় ও স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন এবং সিডনি, স্পেন্সার, ড্রেটন প্রমুখের অনুকরণ করেছেন। তাঁর শৈলী রক্ষণশীল — মেটাফিজিক্যাল কবিদের (ডন প্রমুখ) চেয়ে ভিন্ন।

সাহিত্যিক সম্পর্ক ও বেন জনসনের সাক্ষাৎ

তিনি স্যার উইলিয়াম আলেকজান্ডার (পরবর্তীতে আর্ল অফ স্টার্লিং)-এর সঙ্গে আজীবন বন্ধুত্ব করেন। ১৬১৮ সাল থেকে মাইকেল ড্রেটনের সঙ্গে ১৩ বছর চিঠিপত্র চালান। সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা — ১৬১৮-১৯ সালের শীতে বেন জনসন তাঁর হথর্নডেনে দুই সপ্তাহ অতিথি ছিলেন। জনসন ড্রামন্ডের কবিতাকে “too much of the schooles” বলে সমালোচনা করেন এবং ড্রামন্ডকে “too good and simple” বলে বর্ণনা করেন। এই কথোপকথন পরবর্তীকালে প্রকাশিত হয়।

ব্যক্তিগত জীবন ও বিবাহ

১৬৩০ সাল থেকে তিনি স্থায়ীভাবে হথর্নডেনে বাস করেন। ১৬৩২ সালে এলিজাবেথ লোগানকে বিয়ে করেন। তাঁদের পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ে হয়। বিবাহের আগে একটি কথিত প্রেমিকার (কানিংহাম অফ বার্নস) মৃত্যুর গল্প আছে, কিন্তু তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখের তালিকায় এর উল্লেখ করেননি।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থান

তিনি রাজতন্ত্রপন্থী (Royalist) ও এপিস্কোপালিয়ান ছিলেন। প্রেসবিটেরিয়ান ও কভেনান্টারদের বিরোধী। ১৬৩৫ সালে লর্ড বালমেরিনোর বিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। ১৬৩৮ সালে Irene প্রকাশ করেন। ১৬৩৯ সালে নিজেকে রক্ষা করতে কভেন্যান্টে স্বাক্ষর করেন, কিন্তু অস্বস্তি প্রকাশ করেন। গৃহযুদ্ধের সময় রাজপক্ষীয় পুস্তিকা লেখেন, মন্ট্রোজকে সমর্থন করেন। চার্লস প্রথমের মৃত্যুসংবাদে তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে।

গ্রন্থাগার, উদ্ভাবন ও অন্যান্য অবদান

তিনি প্রায় ১,৬০০ বই ও পাণ্ডুলিপির বিশাল গ্রন্থাগার গড়ে তোলেন। ১৬২৬ সাল থেকে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০০-এর বেশি বই দান করেন (শেকসপিয়রের কোয়ার্টো, জনসন, স্পেন্সার, ড্রেটন, সিডনির রচনা সহ)। ১৬২৬ সালে সামরিক যন্ত্রপাতির জন্য ১৬টি পেটেন্ট পান — “আর্কিমিডিসের চশমা” ও প্রাথমিক মেশিনগানের ধারণা সহ। ১৬২৭ সালে সামরিক যন্ত্র নির্মাণের পেটেন্ট।

মৃত্যু

৪ ডিসেম্বর ১৬৪৯ সালে হথর্নডেন ক্যাসেলে ৬৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। লাসওয়েড প্যারিশ চার্চের পাথরের সমাধিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়। ১৮৯২ সালে সমাধি সংস্কার করা হয়।

উত্তরাধিকার

ড্রামন্ড এডিনবার্গের স্কট মনুমেন্টে ১৬ জন কবি-সাহিত্যিকের একজন হিসেবে স্থান পেয়েছেন। তাঁর কবিতা সংবেদনশীলতা ও চিন্তার গভীরতার জন্য প্রশংসিত। জেরাল্ড ফিনজি তাঁর তিনটি কবিতায় সংগীত রচনা করেছেন। আধুনিক যুগে তাঁর রচনা পুনর্মূল্যায়িত হচ্ছে। তিনি স্কটিশ সাহিত্যে ইংরেজি ভাষার প্রতিষ্ঠা ও রেনেসাঁস ঐতিহ্যের সেতুবন্ধনকারী হিসেবে স্মরণীয়।

তাঁর রচনাবলি আজ পাবলিক ডোমেইনে রয়েছে। তাঁর সনেট, মাদ্রিগাল ও A Cypresse Grove আজও পাঠকদের মুগ্ধ করে।

প্রধান রচনাসমূহের সংক্ষিপ্ত তালিকা (উপরে বিস্তারিত আলোচিত):

  • Teares on the Death of Meliades (১৬১৩)
  • Poems (১৬১৬)
  • Forth Feasting (১৬১৭)
  • Flowers of Sion + A Cypresse Grove (১৬২৩)
  • History of Scotland (১৬৫৫, মরণোত্তর)
  • রাজনৈতিক পুস্তিকা ও ম্যাকারোনিক কবিতা।

উইলিয়াম ড্রামন্ড অফ হথর্নডেন ছিলেন একজন সংবেদনশীল কবি, গভীর চিন্তাবিদ ও স্কটল্যান্ডের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রক্ষক। তাঁর জীবন ও রচনা জ্যাকোবিয়ান স্কটল্যান্ডের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক জটিলতার প্রতিফলন।

· ·

Uttam Ghosh

মনের খোরাক
কলমে – ঘোষ উত্তম
তারিখ – ০৪.০৯.২৬.
আমার মনের খোরাক। কিচ্ছু চাই না আমি । শুধু পড়তে ও লিখতে চাই।
লেখালেখি শুধু শব্দ সাজানোর শিল্প নয়, এটি মনের ভেতর জমে থাকা অনুভূতিগুলোর একটি নীরব প্রকাশ। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি, না-বলা কথা, হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি কিংবা হঠাৎ পাওয়া কোনো আনন্দ—সবকিছুই কখনো কখনো কলমের কাছে এসে আশ্রয় নেয়।
সাহিত্য মানুষের মনের আয়না। একটি ভালো গল্প, কবিতা কিংবা প্রবন্ধ কখনো আমাদের হাসায়, কখনো কাঁদায়, আবার কখনো নিজের অজান্তেই নিজের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়। তাই লেখালেখি মনের এক ধরনের খোরাক—যেখানে শব্দের ভেতর দিয়ে মানুষ নিজেকে খুঁজে পায়।
কলম যখন সত্যকে স্পর্শ করে, তখন সাধারণ কথাও সাহিত্য হয়ে ওঠে। একটি ছোট্ট বাক্য কারও মনে আশার আলো জ্বালাতে পারে, একটি কবিতা ফিরিয়ে দিতে পারে হারানো কোনো বিকেলের স্মৃতি।
জীবন যতই যান্ত্রিক হোক, মানুষের মনের ভেতর গল্প বেঁচে থাকে। আর সেই গল্পকে শব্দে রূপ দেওয়ার নামই লেখালেখি। সাহিত্য তাই কেবল পড়ার বিষয় নয়—এটি অনুভব করার, বেঁচে থাকার এবং মনের সঙ্গে মনের সেতুবন্ধন গড়ার এক অনন্ত পথ। আজীবন আমার মনের খোরাক বেঁচে থাকুক। আমাকে আমৃত্যু বাঁচিয়ে রাখুক লেখালেখির সাহিত্য।

· ·

সাহিত্যের পাতা থেকে

এলিজাবেথীয় ও জ্যাকোবীয় যুগের প্রখ্যাত ইংরেজ নাট্যকার এবং কবি জন ফ্লেচার (John Fletcher, 1579–1625) মূলত তাঁর নাটকগুলোর জন্য পরিচিত হলেও, তাঁর নাটকের ভেতরে থাকা লিরিক ও গানগুলো উচ্চমানের গীতিকবিতা হিসেবে সমাদৃত।

১. বিষণ্ণতার স্তুতি (Melancholy)

মূল সুর: The Nice Valour নাটক থেকে সংগৃহীত। এটি মানুষের একাকীত্ব ও দুঃখের এক সুন্দর প্রকাশ।

হতাশ করাতালি, যাও দূরে সরে,

মিথ্যা সুখের খেয়া ভাসে না এ ঘরে;

ঝরুক নিঝুম মেঘ আঁধারের মতো,

ঢেকে দিক স্মৃতির এই চাদরটি ক্ষত।

মৌন রাতের চেয়ে নেই তো মধুর কিছু,

দুঃখের চেয়ে প্রিয় কে চলে পিছু পিছু?

এমন নিবিড় সুর কোথাও কি জোটে?

কেবল বিষণ্ণতায় আসল আনন্দ ফোটে।

২. হে ঘুম, তুমি জাদুকর (Care-Charming Sleep)

মূল সুর: The Tragedy of Valentinian নাটক থেকে। দুঃখ ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য ঘুমের প্রতি এক আকুল আহ্বান।

হে ঘুম, দুঃখ হরণকারী জাদুকর তুমি,

মৃত্যুর সহোদর, এসো ছোঁও এই ভূমি।

ক্লান্ত এই রাজপুত্রের চোখের পাতায়,

নেমে এসো মেঘ হয়ে পরম শান্ততায়।

ঝরনার কলতানে নদী যেমন বহে সুর,

সবটুকু ব্যথা তার করে দাও দূর।

রাতের সন্তান তুমি, শান্ত পায়ে চলো,

স্বপ্নের মায়াজালে কানে কথা বলো।

৩. নদীর দেবতার গান (The River God’s Song)

মূল সুর: The Faithful Shepherdess নাটক থেকে। প্রকৃতির শুদ্ধতা ও জলদেবতার আশীর্বাদ নিয়ে লেখা।

আমার এই শীতল স্রোতের গভীরে,

যেখানে সূর্য আলো ফেলে তীরে তীরে;

আমি জলদেবতা, রাখি চোখ সদা,

কেউ যেন না পায় এই বুকেতে বাধা।

শুদ্ধ হৃদয়ে যদি কেউ আসে কাছে,

অমৃতের মতো জল তার জন্য আছে।

পাহাড়ের বুক চিরে আনি যে রুপোলি জল,

জুড়িয়ে দিতে সব ক্লান্ত চোখের পল।

৪. প্রেমের মৃত্যু (The Dead Host’s Song)

মূল সুর: The Lover’s Progress নাটক থেকে। মৃত্যুর পর প্রেম কীভাবে টিকে থাকে, তার এক অলৌকিক সুর।

মাটির নিচে আজ ঘুমে আছি আমি,

পৃথিবীর সব আলো যেখানে বেনামী।

তবুও আমার প্রেম মরেনি তো মোটে,

তোমার স্মরণে আজও এই বুকে ফোটে।

হে প্রিয়, কেঁদো না আর দেখে এই স্থান,

বাতাসে শুনবে তুমি আমারই তো গান।

ধুলো হয়ে গেছি আমি, নেই কোনো কায়া,

তবুও জড়িয়ে রবে আমার এই মায়া।

৫. ব্যাকাসের গান (Song to Bacchus)

মূল সুর: মদের দেবতা ব্যাকাসের উদ্দেশ্যে রচিত একটি উৎসবের গান, যা উল্লাস প্রকাশ করে।

এসো হে ব্যাকাস, মদের দেবতা তুমি,

তোমার চরণে আজ নত এই ভূমি।

আঙুরের রসে আজ ভরে উঠুক পাত্র,

আনন্দে মেতে উঠুক অবশিষ্টাংশ রাত্রি।

সব দুশ্চিন্তা আজ যাক দূরে ভেসে,

আমরা যে মত্ত তোমার প্রেমের দেশে।

ঢালো আরও ঢালো রস, পূর্ণ করো মন,

আজ রাতে আমাদের আনন্দের উৎসবের ক্ষণ।

৬. বসন্তের আগমন (Beauty Clear and Fair)

মূল সুর: রূপ ও প্রকৃতির বন্দনা নিয়ে লেখা একটি মিষ্টি প্রেমের কবিতা।

শুদ্ধ ও সুন্দর হে মধুর রূপসী,

তোমার হাসিতে যেন হাসে পূর্ণশশী।

তোমার চোখের আলো ভোরের সে আলো,

যা দেখলে পৃথিবীর সব লাগে ভালো।

বসন্তের বাতাস যেন তোমার ওই চুলে,

সুগন্ধ ছড়িয়ে যায় বনে ফুল ফুটলে।

প্রকৃতি সেজেছে আজ তোমারই ছোঁয়ায়,

মন আমার ভেসে যায় তোমার খেয়ায়।

৭. সততার গান (Song of Chastity)

মূল সুর: নারীর পবিত্রতা ও আত্মিক শক্তির প্রশংসা করে রচিত কবিতা।

লিলি ফুলের মতো শুভ্র যে মন,

তার চেয়ে দামী নেই কোনো রতন।

পার্থিব কোনো লোভ ছুঁতে পারে না তাকে,

পবিত্র দেবদূত আগলে যে রাখে।

ঝড়ের মুখেও সে তো অটল ও স্থির,

উঁচু করে রাখে সদা আপনার শির।

পবিত্রতার আলো যার অন্তরে জ্বলে,

সে মানুষ কোনোদিনও যাবে না অতলে।

৮. যুদ্ধের দামামা (Battle Song)

মূল সুর: The Mad Lover নাটক থেকে। সৈন্যদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য এক বীরত্বপূর্ণ গান।

বাজাও যুদ্ধের ঢাক, তোলো জয়ধ্বনি,

ভয়ের সময় নয় এ তো বীরেরই মেদিনী।

তলোয়ার উঠুক আজ আকাশের পানে,

ছুটে চলো সবে আজ মরণের গানে।

দেশের সম্মান রক্ষাই আমাদের ব্রত,

পিছু হঠব না মোরা, হই যত ক্ষত।

মরণ যদি আসে আসুক বীরের বেশে,

ইতিহাসে নাম রবে এই প্রিয় দেশে।

৯. সকালের বন্দনা (Morning Hymn)

মূল সুর: ভোরের আলো এবং প্রকৃতির নতুন করে জেগে ওঠাকে কেন্দ্র করে রচিত লিরিক।

জেগে ওঠো, জেগে ওঠো, ভোরের পাখি গায়,

আঁধারের কালো মেঘ দূরে চলে যায়।

পূব আকাশে দেখো সূর্যের রথ,

আলোয় আলোকময় পৃথিবীর পথ।

ফুলের পাপড়িরা মেলল যে চোখ,

দূরে যাক পৃথিবীর যত আছে শোক।

নতুন দিনের এই পবিত্র আলোয়,

মন মেতে উঠুক সবটুকু ভালোয়।

১০. বিদায় হে ভালোবাসা (Take, Oh Take Those Lips Away)

মূল সুর: এই বিখ্যাত লিরিকটি শেকসপিয়রের নাটকেও দেখা যায়, তবে সমসাময়িক নাটক The Bloody Brother-এ ফ্লেচারের সংযোজন হিসেবে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

ফিরিয়ে নাও, ফিরিয়ে নাও ওই ওষ্ঠাধর,

যা আমায় করেছিল এতটা মশগুল ও আত্মহারা;

ভোরের আলোয় যারা কাঁপত থরথর,

মিথ্যে সুধায় আমায় করেছে যে দিশাহারা।

কিন্তু আমার ওই চোখগুলো ফেরত দাও তুমি,

ভোরের সূর্য সম যা দেখেছে এই ভূমি;

ফিরিয়ে দাও সেই মুক্তো ঝরা সকাল,

যা ভেঙে দিয়ে গেল আমার সুখের মহাকাল।

জন ফ্লেচার (১৫৭৯–১৬২৫): ইংরেজ নাট্যসাহিত্যের স্বর্ণযুগের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

পরিচয়

John Fletcher ছিলেন সপ্তদশ শতকের ইংরেজ নাট্যজগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার। তিনি ইংরেজ রেনেসাঁ নাটকের স্বর্ণযুগে এমন এক সময়ে আবির্ভূত হন, যখন William Shakespeare, Ben Jonson এবং Francis Beaumont-এর মতো সাহিত্যিকরা ইংরেজ নাট্যকলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। শেক্সপিয়রের পরবর্তী যুগে ফ্লেচারই ছিলেন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল মঞ্চস্থ নাট্যকারদের একজন।

তাঁর রচিত বা সহ-রচিত নাটকের সংখ্যা পঞ্চাশেরও বেশি। তিনি বিশেষত ট্র্যাজিকোমেডি (Tragicomedy) ধারার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাঁর নাটকগুলো ইংরেজ মঞ্চে বহু দশক ধরে জনপ্রিয় ছিল।

জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি

জন ফ্লেচারের জন্ম ১৫৭৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ইংল্যান্ডের Rye শহরে। তাঁর পিতা Richard Fletcher ছিলেন ইংল্যান্ডের চার্চের একজন উচ্চপদস্থ ধর্মযাজক এবং পরবর্তীকালে লন্ডনের বিশপ হন।

রিচার্ড ফ্লেচার ছিলেন রাজদরবারের একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ইংল্যান্ডের রানি Elizabeth I-এর সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে তিনি একসময় রাজকীয় অনুগ্রহ হারান। ১৫৯৬ সালে তাঁর মৃত্যু হলে পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

এই পরিস্থিতি তরুণ জন ফ্লেচারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তাঁকে জীবিকার জন্য সাহিত্য ও নাট্যজগতে প্রবেশ করতে উৎসাহিত করে।

শিক্ষা

ফ্লেচার অল্প বয়সেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করেন। ১৫৯১ সালে তিনি Corpus Christi College-এ ভর্তি হন।

তাঁর শিক্ষাজীবনে তিনি ল্যাটিন, গ্রিক সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্মতত্ত্ব এবং অলঙ্কারশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। যদিও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেছিলেন কি না তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবে তাঁর নাট্যরচনায় শাস্ত্রীয় সাহিত্য ও ইতিহাসের গভীর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

লন্ডনে আগমন ও নাট্যজীবনের সূচনা

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পর ফ্লেচার লন্ডনে চলে আসেন। তখন লন্ডন ছিল ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাট্যকেন্দ্র। এখানে তিনি ধীরে ধীরে নাট্যকার হিসেবে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে শুরু করেন।

প্রথমদিকে তিনি বিভিন্ন নাট্যদলের জন্য নাটক লিখতেন। তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভা দ্রুতই নাট্যজগতের নজর কাড়ে এবং তিনি সমসাময়িক নাট্যকারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পান।

ফ্রান্সিস বোমন্টের সঙ্গে ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব

ফ্লেচারের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হলো Francis Beaumont-এর সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা।

দুজন মিলে ইংরেজ নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য সৃজনশীল জুটি গড়ে তোলেন। তাঁদের যৌথ রচনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

  • Philaster
  • The Maid’s Tragedy
  • A King and No King
  • Cupid’s Revenge

এই নাটকগুলো দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং জ্যাকোবীয় যুগের নাটকের রূপ বদলে দেয়।

ট্র্যাজিকোমেডির বিকাশে অবদান

ফ্লেচারের সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক কৃতিত্ব হলো ট্র্যাজিকোমেডি ধারার উন্নয়ন।

ট্র্যাজিকোমেডি এমন একটি নাট্যরীতি যেখানে ট্র্যাজেডি ও কমেডির উপাদান একসঙ্গে উপস্থিত থাকে। নাটকের মধ্যে বিপদ, ষড়যন্ত্র, প্রেম, রাজনৈতিক সংঘাত ও নাটকীয় উত্তেজনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্পূর্ণ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয় না।

এই ধরনের নাটক সেই সময়ের দর্শকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল। ফ্লেচারের রচনাশৈলী পরবর্তী শতাব্দীতে ইউরোপীয় নাটকের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

শেক্সপিয়রের সঙ্গে সহযোগিতা

ফ্লেচারের সাহিত্যজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো William Shakespeare-এর সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা।

গবেষকদের মতে নিম্নলিখিত নাটকগুলোতে ফ্লেচার ও শেক্সপিয়র যৌথভাবে কাজ করেছিলেন—

  • Henry VIII
  • The Two Noble Kinsmen
  • Cardenio (বর্তমানে হারিয়ে যাওয়া নাটক)

শেক্সপিয়রের শেষ জীবনে ফ্লেচার তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হয়ে ওঠেন।

কিংস মেন নাট্যদলে ভূমিকা

King’s Men ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত নাট্যদল, যার সঙ্গে শেক্সপিয়রও যুক্ত ছিলেন।

শেক্সপিয়রের অবসর ও মৃত্যুর পর ফ্লেচার এই নাট্যদলের প্রধান নাট্যকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তাঁর নাটকগুলো নিয়মিতভাবে লন্ডনের বিখ্যাত থিয়েটারগুলোতে মঞ্চস্থ হতো।

তাঁর নাট্যরচনা কিংস মেনের সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে।

প্রধান নাটকসমূহ

ফ্লেচারের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে—

একক বা প্রধান রচনা

  • The Faithful Shepherdess
  • Bonduca
  • The Chances
  • Rule a Wife and Have a Wife
  • The Loyal Subject

বোমন্টের সঙ্গে যৌথ রচনা

  • Philaster
  • The Maid’s Tragedy
  • A King and No King

সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য

জন ফ্লেচারের নাটকের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল—

১. সংলাপের স্বাভাবিকতা

তাঁর সংলাপ ছিল প্রাণবন্ত, দ্রুতগামী এবং নাটকীয়।

২. প্রেম ও আবেগ

প্রেম, বিশ্বস্ততা, ঈর্ষা ও আত্মত্যাগ তাঁর নাটকের কেন্দ্রীয় বিষয়।

৩. নাটকীয় উত্তেজনা

ঘটনার আকস্মিক মোড় ও রহস্যময়তা দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখত।

৪. রাজনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

অনেক নাটকে রাজকীয় ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার সংগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

৫. মঞ্চোপযোগিতা

তাঁর নাটকগুলো অভিনয়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ছিল, যা তাদের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

ব্যক্তিজীবন

ফ্লেচারের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে কম তথ্য পাওয়া যায়। তিনি কখনও বিবাহ করেছিলেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

তবে সমসাময়িক লেখকদের বিবরণ থেকে জানা যায় যে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, সামাজিক এবং সাহিত্যপ্রেমী ব্যক্তি। তিনি লন্ডনের সাহিত্যিক ও নাট্যসমাজে সুপরিচিত ছিলেন।

মৃত্যু

১৬২৫ সালে ইংল্যান্ডে ভয়াবহ প্লেগ মহামারী ছড়িয়ে পড়ে। সেই মহামারীতেই জন ফ্লেচার আক্রান্ত হন।

আগস্ট ১৬২৫ সালে London-এ তাঁর মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৪৫ বা ৪৬ বছর।

তাঁকে লন্ডনের St Saviour’s Church-এ সমাহিত করা হয় বলে ধারণা করা হয়, যা বর্তমানে Southwark Cathedral নামে পরিচিত।

উত্তরাধিকার ও প্রভাব

জন ফ্লেচারের মৃত্যুর পরও তাঁর নাটক বহু দশক ধরে ইংল্যান্ডের মঞ্চে জনপ্রিয় ছিল। সপ্তদশ শতকের অধিকাংশ সময়ে তাঁর নাটক শেক্সপিয়রের নাটকের মতোই অভিনীত হতো।

তিনি—

  • ট্র্যাজিকোমেডি ধারাকে জনপ্রিয় করেন।
  • ইংরেজ রেনেসাঁ নাটকের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
  • শেক্সপিয়রের উত্তরসূরি নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
  • পরবর্তী ইংরেজ নাট্যকারদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেন।

আজও সাহিত্য ইতিহাসে জন ফ্লেচারকে ইংরেজ নাট্যকলার স্বর্ণযুগের অন্যতম প্রধান নির্মাতা হিসেবে স্মরণ করা হয়।

জন ফ্লেচার ছিলেন এমন একজন নাট্যকার, যিনি শেক্সপিয়রের যুগের শেষাংশ এবং পরবর্তী জ্যাকোবীয় নাট্যধারার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন রচনা করেছিলেন। তাঁর নাটকে প্রেম, রাজনীতি, মানবিক আবেগ এবং নাটকীয় উত্তেজনার অনন্য সমন্বয় দেখা যায়। যদিও আধুনিক যুগে তাঁর নাম শেক্সপিয়রের মতো সর্বজনপরিচিত নয়, তবুও ইংরেজ নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে তাঁর অবদান অসামান্য এবং স্থায়ী।

· ·

Abul Fazal (1903–1983)

চিন্তাদর্শ ও বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ১৯২৬ সালে ঢাকায় গঠিত ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর অন্যতম সক্রিয় সদস্য ও সম্পাদক ছিলেন তিনি। এই আন্দোলনের মূল সুর ছিল—”বুদ্ধি যেখানে মুক্তি খোঁজে, মানবতা সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়।” তাঁর সাহিত্য ও প্রবন্ধের প্রধান লক্ষ্য ছিল ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে যুক্তি ও মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটানো।

উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম

  • উপন্যাস: চৌচির (১৯৩৪), প্রদোষে প্রাকৃতজন নয় বরং রাঙ্গা প্রভাত (১৯৫৭), জীবন পথের যাত্রী (১৯৪৮), আলামগীর
  • গল্প ও নাটক: মাটির পৃথিবী, আয়েশা, কায়েদে আজম (নাটক)।
  • প্রবন্ধ সংকলন: বিচিত্র চিন্তা, সমকালীন চিন্তা, সমাজ সাহিত্য ও রাষ্ট্র, মানবতন্ত্র
  • আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা: রেখাচিত্র, দুর্দিনের দিনলিপি

স্বীকৃতি ও পুরস্কার

  • বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২)
  • প্রেসিডেন্ট প্রাইড অব পারফরম্যান্স (১৯৬৩ – পরবর্তীতে বর্জন করেন)
  • নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৮০)
  • স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১২, মরণোত্তর)

সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত

ক্ষেত্রবিবরণ
জন্ম১ জুলাই, ১৯০৩; কেঁওচিয়া গ্রাম, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
পিতা ও মাতাপিতা মৌলভি ফজলুর রহমান (চট্টগ্রাম জামে মসজিদের ইমাম), মাতা গুলশন আরা
শিক্ষাঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (১৯২৮); কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ (১৯৪০)
কর্মজীবনবিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যাপনা; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (১৯৭৩–১৯৭৫); বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা (১৯৭৫–১৯৭৭)
মৃত্যু৪ মে, ১৯৮৩; চট্টগ্রাম
· ·

Edit Post

Add / Replace Photos (Max 4):

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...