Md Ibrahim Hossen – Rajshahi

সেই মেয়েটি  (সহধর্মিণী)
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
গোদাগাড়ী, রাজশাহী

নদীর বুকে নৌকা চালাই যাত্রীকে পার করি,
সকাল দুপুর বিকাল সাঁঝে হস্ততে হাল ধরি।
মায়ের মনে ইচ্ছা ভীষণ করায় দিবে বিয়ে,
কিন্তু নারাজ ক্যামনে বুঝাই কোন্ উপমা দিয়ে ?

কত মেয়ে দেখলো যে মা পল্লি শহর গাঁয়ে,
পাত্তা না দিই বিদায় করি ডান অথবা বাঁয়ে।
একদিন এক বিকাল বেলা ঠিক আসরের আগে,
কাজের ফাঁকে ফিরতে ঘরে ইচ্ছা আমার জাগে।

খেয়ার ঘাটে নৌকা বেঁধে আনমনে যাই বাড়ি,
ব্যস্ত মা যে রান্না করে চুলার উপর হাঁড়ি।
ঘরের দ্বারে দাঁড়িয়ে দেখি শ্যামলা বরণ কন্যা,
কার যেন এক বাচ্চা কোলে ঝরে রূপের বন্যা।

আমায় দেখে মিষ্টি হাসে নীরবতায় থাকে,
কৌতুহলে কে মেয়েটা? জিগাই তখন মাকে।
বললো মা সে আর কেহ না তোর এ খালার মেয়ে,
ঘুরতে এসে উঠলো বাড়ি রই অবাকে চেয়ে!

সঙ্গে আছে দুই খালা আর দুই খালাতো বোনে,
সবাই তারা মুচকি হেসে আমার কথা শোনে।
হয়তো তারা জানতো খবর  জানতো না সে শুধু,
ক’দিন পরে যে হবে মোর প্রাণের প্রিয় বধূ।

আমিও তো হায় না জানাতে অজানা রই মনে,
অজ্ঞাত মন এই মেয়ে ঘর বাঁধবে আমার সনে।
কাঞ্চা বয়স সেই মেয়োটি উঠান গিয়ে দাঁড়ায়,
ঝকঝকে দাঁত হাসির ঝলক উদাসী মন হারায়।

কপালে টিপ রাঙানো ঠোঁট টোলপড়া দুই গালে,
পুষ্প বাগের পুষ্প কলি গোলাপ খুশি ঢালে।
রেশমি কালো চুলগুলো তার মাথার উপর দোলায়,
মুগ্ধ করা কাজল কালো দৃষ্টিতে মন ভোলায়।

চুপিচুপি ডাকলো ভাবি মোর সাথে ভাই আয়রে,
ভাবির ডাকে সাড়া দিয়ে গেলাম বাড়ির বাইরে।
বললো ভাবি এই মেয়েটি দেখতে লাগে কেমন?
উত্তরে কই সৃষ্টি রবের হয় ভুবনে যেমন।

মন্দ তো না কেউ কখনো ভালোর থেকেও ভালো,
জ্বালতে পারে এই ভুবনে সেও তো নুরের আলো।
আমরা সবাই মাটির মানুষ মহান প্রভুর সৃষ্টি,
মাশা-আল্লাহ অসাধারণ দেখতে দারুণ মিষ্টি!

কাউকে আমার মন্দ বলার নাই অধিকার কোনো,
কালোর মাঝেও আলোর বিরাজ রই যদি গুণ শোনো।
ভাবি তখন বললো আমায় ভাবছি দেবো জোড়া,
রুখবে সে তোর পাগলা নামের লাগামবিহীন ঘোড়া।

বললাম আমি লাজ শরমের খাইছো মাথা নাকি?
ইচ্ছা যা হয় তাই করো যাও শেষ এখানেই রাখি।
সেই কথাতেই ঠিক হয়ে যায় বিয়ের তারিখ পাকা,
লাল-শাড়িতে আসলো বধূ ঘরটা ছিলো ফাঁকা।

তার ছোঁয়াতে পেলাম খুঁজে নতুন দিনের আশা,
উজাড় করে দিলো মনের যত ভালোবাসা।
দুঃখ দূরে সুখ ঠিকানা দিলো যে হাতছানি,
আমার মনের রাজমহলে সেই তো এখন রানি।

তাকে ছাড়া মনের ভেতর ভাবনা তো নাই কিছু,
যেখানে সে, যাই ছুটে যাই মনটা যে নেয় পিছু।
নামটি কী তার?  হয়নি বলা সব থেকে তা ভালো,
“নুরমহল” এই সেই মেয়েটি অর্থ বাড়ির আলো।

রচনাঃ ০১-১২-২০২৫ ইং
রোজ: সোমবার।

কবি পরিচিতিঃ মোঃ ইব্রাহিম হোসেন   ১৭-১১-১৯৮৫ ইং সালে রাজশাহী জেলায় গোদাগাড়ী উপজেলার ৬ নাম্বার মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের হরিশংকরপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বাবা জয়নাল আবেদীন সরকার ও  মাতা মোসাঃ মাবিয়া বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমান স্থায়ী আবাসস্থল- গ্রামঃ কাদিপুর, ডাকঘরঃ ভাটোপাড়া -৬২৯০ , থানাঃ গোদাগাড়ী, জেলাঃ রাজশাহী। 

তাঁর বাবা মরহুম জয়নাল আবেদীন সরকার  একজন সৎ সাহসী খুব পরহেজগার ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর জমিজমারও কোনো অভাব ছিলো না। কিন্তু ভাগ্যক্রমে কবি তাঁর বাবার সমস্ত সম্পত্তি  থেকে বঞ্চিত হন এবং খুব ছোট বেলাতেই জন্মদাতা পিতাকে হারিয়ে ফেলেন। ফলে সংসারে দুঃখ-কষ্ট নেমে আসে এবং অতি কষ্টে অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে একমাত্র মায়ের স্নেহ-মমতা ও ভালোবাসায় লালিত-পালিত হয়ে তিলেতিলে বেড়ে উঠেন। তিনি মিথ্যাকে কখনো প্রশ্রয় দেন না। ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী। তিনি সততার সহিত খুব সহজ-সরলভাবে জীবন-যাপন করতে ভালোবাসেন। তিনি যথাসাধ্য মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন, অর্থ দিয়ে না পারলেও দৈহিক শ্রম দিয়ে হলেও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসেন।

তিনি ১৯৯৯ সালের ৬ -ই আগস্ট রোজ শুক্রবার মোঃ আব্দুল অকিল ও মোসাঃ দিলারা বেগম এর জ্যেষ্ঠ কন্যা মোসাঃ নুরমহল খাতুনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ছাত্রজীবন শৈশবকাল থেকেই তাঁর লেখালেখির সূত্রপাত হয়। তিনি কর্মজীবনের পাশাপাশি তিন হাজারেরও অধিক (৩০০০+) ছড়া-কবিতা ছন্দ মাত্রায় লিখেছেন। তাঁর লিখিত উপন্যাসঃ ‘ইতি কথা’, ‘অভিলাষী মন’ ও ‘ভালোবাসার রঙ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তাঁর যৌথ, সংকলন এবং একক কাব্যগ্রন্থ ও উপন্যাস মিলে প্রায় বেশ কিছু সংখ্যক গ্রন্থ  প্রাকাশিত হয়। তিনি Bengali protilipi, Kobita cocktail, Bangla Kabita সহ আরও বিভিন্ন website এর একজন নিয়মিত লেখক ও কবি। রকমারি ডটকমে তার প্রকাশিত বইগুলো পাওয়া যায়।

তিনি ‘মিষ্টি প্রেমের ছোঁয়া’, ‘জান্নাতের ফুল’, ‘স্বর্গে ফোটা ফুল’, ‘বিদ্রোহী কন্যা’, ‘রূপসী পল্লী’, ‘মদিনার ফুল’, ‘বাবা মানে বৃক্ষ ছায়া’, ও ‘রক্তাক্ত কারবালা’ সহ বেশ কিছু সংখ্যক যৌথ কাব্যগ্রন্থও সম্পাদনা করেন।
তাঁর প্রকাশিত প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমের সম্ভাষণ’ ফেব্রুয়ারি ২০২২,
‘ইতি কথা’ (উপন্যাস) জানুয়ারি ২০২৩, ‘বৈচিত্র্যময় জীবন’ কাব্যগ্রন্থ (নভেম্বর ২০২৩, ‘মমতাময়ী মা জননী’ (কাব্যগ্রন্থ) অক্টোবর ২০২৪, ‘অভিলাষী মন’ (উপন্যাস) ও উদ্দীপ্ত চেতনা – (কাব্যগ্রন্থ) ডিসেম্বর ২০২৪ এবং ‘ভালোবাসার রঙ’ (উপন্যাস) জানুয়ারি ২০২৫ এ প্রকাশিত হয়।
যেগুলো রকমারি ডটকমে পাওয়া যায়।

তিনি ‘ইতি কথা’ উপন্যাসে ২০২৩ এ জাতীয় কবিতা মঞ্চ কর্তৃক সেরা পুস্তক সম্মাননা প্রাপ্ত হন। ২০২৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানি জাতীয় কবি ‘আল্লামা ইকবাল অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত হন। 
২৬ শে অক্টোবর ২০২৪ সালে জাতীয় কবিতা মঞ্চ ও ইরান কালচারাল সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে কবিতা প্রতিযোগিতায় “ফিলিস্তিনের আর্তনাদ” কবিতায় বিজয়ী লাভ করে  “পোয়েট্রি ফর ফিলিস্তিন আ্যওয়ার্ড” প্রাপ্ত হন এবং ১৬ জানুয়ারি  ২০২৬ সালে “মমতাময়ী মা জননী” কাব্যগ্রন্থে স্বপ্ননীল সাহিত্যচর্চা পরিষদ থেকে সেরা গ্রন্থ সম্মাননা প্রাপ্ত হন।
এছাড়াও বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন থেকে তাঁকে বহু বিজয়ী কবিতার সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।

তিনি একজন সাহিত্য সংগঠক হিসেবেও বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি “রাজশাহী সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ” এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। এ সংগঠনটি তিনি ১৭-০৮-২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ২০২২ সালে ‘অনলাইন লিটারেচার গ্রুপস ইউনিটি’ কর্তৃক ‘সংগঠন সম্মাননা সনদ’ প্রাপ্ত হন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ আন্তর্জাতিক কবি সাহিত্য পরিষদ এডমিন ও প্রধান বিচারক পদে অধিষ্ঠিত থেকে সাহিত্য সম্পদানা করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনে নিরলসভাবে কাজ করে থাকেন। আমরা কবি ও তাঁর পরিবারবর্গের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। আমিন।

Comment