Nadia Rifat Ritu

শিশির কণা
পর্ব -১২
শিশির: কি বলছেন এসব,,,আমার কোনো টাকা লাগবেনা,,,,,আমি কেন দেন মহরের জন্য নিজের সংসার ছেড়ে যাবো।আমার একটা বাচ্চা আছে আমার সাজানো সংসার কেন ছাড়বো।

রায়ানের উকিল: এই যে মিসেস শিশির এইরকম কেস আমরা হাজার হাজার লড়েছি।আর কোর্ট আপনার মুখের কথা বিশ্বাস করবেনা প্রমাণ লাগবে। আপনার কাছে কোনো প্রমাণ আছে যে আপনি রায়ান বাবুকে ডিভোর্স দিতে চান না।

শিশির: আমার কাছে সত্যি কোনো প্রমাণ নেই।তবে আমি যা বলছি সত্যি বলছি।ও বিদেশে যাওয়ার কাগজ বলে আমার কাছে সাইন নিয়েছে।,,,,

বিচারক: আপনি যদি সত্যি বলে থাকেন,,,,,তাহলে ও আমার কিছু করার নেই যদি আপনার কাছে কোনো প্রমাণ বা স্বাক্ষী না থাকে।রায়ানের বাড়ির লোক কিছু বলতে চান।

রায়ানের মা আসলো: হ্যাঁ বলতে চাই

বিচারক: বলুন আপনার বউমা শিশির কেমন??

রেহেনা: ও লোভী একটা মেয়ে,,,,টাকার জন্য ওর পরিবার আমার ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছে,,,,বিয়ের পর থেকে আমার ছেলের টাকা আত্মসাত করা ওর একমাত্র কাজ।ও আমার ছেলের একাউন্ট থেকে টাকা চুরি করে ওর পরিবারকে দিতো।তার প্রমাণ ও আমরা আমার ছেলেকে দিয়েছি।ও তখন বিদেশে ছিলো,,,,,টাকার  জন্য আমার ছোট ছেলের সাথে সম্পর্ক করতে চেয়েছিলো।এখন দেন মহরের টাকার জন্য আমার ছেলেকে ডিভোর্স দিচ্ছে।

শিশির: এসব কি বলছেন আপনারা আমাকে,,,,আমাকে ভালো লাগেনা মেনে নিলাম আমি,,,,,তাই বলে  আমার চরিত্রে এভাবে দাগ দিবেন। আপনি ও তো একটা মেয়ে।একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়েকে এভাবে কলঙ্কিত করবেন না। উপরওয়ালা আছে ঠিক জবাব দিবে আপনাদের।

বিচারক: প্লিজ শান্ত হোন শিশির,,,,,দেখুন উনারা প্রমাণ দিচ্ছেন সেটা কিভাবে কালেক্ট করেছে সেটা জানা নেই।তবে প্রমাণ ছাড়া আমি শুধু মাত্র মুখের কথার উপর ভিত্তি করে কিছু করতে পারবোনা।

শিশিরের উকিল: মিসেস শিশিরের সাথে অন্যায় হচ্ছে উনার শাশুড়ি আর উনার মেয়ে মিলে অনেক জ্বালিয়েছে,,,,আমার তো মনে উনার স্বামীর মনে উনারা বিষ ঢেলেছে।

রায়ান: দেখুন আমার আর বোনকে নিয়ে একটা কথা শুনতে চাইনা।আমার মায়ের কথা আমি চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করি।

বিচারক: প্লিজ সবাই শান্ত হোন কোর্টকে বিচার নিতে দিন,,,,,,,
দেখুন যেহেতু ডিভোর্স পেপারে অলরেডি সাইন হয়ে গেছে মিসেস শিশির আপনার সাইন আছে,,,,,তাই আমরা কিছু করতে পারবোনা।আপনাদের ডিভোর্সটা কার্যকর হয়ে গেলো।আর আপনি কোনো দেন মোহরের টাকা পাবেননা। বাচ্চা আপনার কাছে থাকবে তবে রায়ান বাবু কোর্টে উনার বাচ্চা দাবি করলে পেতে পারে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মার কাছে ছোট বাচ্চাকে কোর্ট রাখার অনুমতি দেয়।,,,,
আচ্ছা ধন্যবাদ সবাইকে ভালো থাকবেন।

এরপর বিচারক চলে যায়,,,,,,,,

শিশির রায়ানকে বলে তোমার ছোট ভাই আরমানের সাথে আমার সম্পর্ক আছে মানে,,, হ্যাঁ এই যে ছবি,,,,
আরমান আর শিশিরের কিছু ছবি দেখালো,,

শিশির ওকে আমি নিজের ভাইয়ের মত ভাবি,,,,,,তোমার খালাতো বোনের বিয়েতে এই ছবি গুলো জোর করে তুলেছে ও ,,,,আর এগুলো এডিট করা হয়েছে আমি ওর এত ক্লোজ ছিলাম না,,,,,
রায়ান আমি তোমাকে কেন বিশ্বাস করবো,,,,,
আর প্রতি মাসে তুমি আমার একাউন্ট থেকে টাকা সরাতে ২০০০০ হাজার করে তার প্রমাণ ও আছে।টাকা লাগলে তুমি আমাকে বলতে চুরি করার কি দরকার ছিলো। তোমাকে বিশ্বাস করেছি তুমি আমার বিশ্বাস নিয়ে খেলবে শিশির।আমার মন পুরোপুরি ভেঙ্গে দিয়েছো তুমি।

শিশির তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে আমি এসব করিনি ,,,,, বিশ্বাস করো,,,তুমি একটা বার আমার কথা শুনো।

রায়ান : বিশ্বাস আর তোমাকে বিশ্বাসের মত শব্দটাকে তোমাদের মত মেয়েরা কলঙ্কিত করো।আমার ছেলেকে আমি খুব শিঘ্রই আমার কাছে নিয়ে আসবো যেভাবে হোক।তোমার মত মহিলার সাথে থাকলে ও তোমার মত হবে।
শিশির না এমন করোনা,,,,
এরপর রায়ান চলে যায়
শিশির কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে যায়।

রুবি আর রেহেনা হাসতে হাসতে বললো ভালো হয়েছে ঐ শিশিরের সাথে,,,,,আমার ছেলের চোখের মণি হয়ে রাজত্ব করছিলো।এখন কেমন লাগছে আমার ছেলের কাছে অপমানিত হতে।
রেহেনা আমার মনে কি যে শান্তি লাগছে কি বলবো তোকে।
এরপর ওরা বাড়ি চলে যায়

(কেমন লাগলো শিশির কণা এই পর্বটা আয়ানের জন্য আমার সত্যি বলতে খারাপ  লাগছে সত্যি ঘটনা আয়ানের সাথে এমনটাই হয়েছিল তাই আমার কিছু করার নেই 😓)

Leave a Comment