চোখে চোখে কথা
পর্ব -২
নাদিয়া রিপাত রিতু
আরোহি এসবের কিছুই জানেনা ও আছে ওর মত
নেহা,, আঁখি ছাড়া এই বিষয় টা কেউ জানেনা ।
হঠাৎ আলিয়া রাস্তায় ইটের সাথে একটা হোঁচট খেয়ে পরে যায়
আরোহি তাড়াতাড়ি ধরে নেয় আলিয়াকে আরে দেখে হাঁটবি তো নাকি ।
(নোট:আরোহি হলো ওদের খুব কাছের বান্ধবী তবে এখন একটু দূরত্ব তৈরি হয়েছে ।
আরোহি এখন নতুন দলের সাথে হাঁটে )
আলিয়া: আসলে কথা বলতে বলতে খেয়াল করিনি
নেহা : আসলে ওর চোখ তো অন্য কেউ নিয়ে গেছে ,,
আরোহি : সত্যি নাকি তুই মজা করছিস নেহা ,,,,আলু তুই আমাকে বললি না এত বড় কথা ,,,
আলিয়া: আমার যদি সত্যি কারো জন্য ফিলিংস আসে আমি ফার্স্টে তোকে বলবো।
আরোহি : নেহা এটা কি বললো,,
ওদের পিছনে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে আরাব আসছে।
আলিয়া : আসলে তেমন কিছু না নেহা তো মজা করছিলো ,
আরোহি :আমি জানি তো আমার আলু আমাকে না বলে কোনো ছেলে লাইক তো দূরের কথা দেখবে ও না ।
আলিয়া: আমার একটা নাম আছে কিন্তু কত সুন্দর আলিয়া আর তুই আমকে আলু ডাকছিস এটা কিন্তু ঠিক না ।
আরোহি: ওকে সরি বান্ধবী
এর পর ওরা সবাই বাড়িতে চলে গেলো,
টিফিন পিরিয়ডের পর আবার ও ক্লাস শুরু হলো অরণ্য স্যার ছিলো ক্লাসে আইসিটি ক্লাস নিচ্ছিলো,,
ক্লাসে অনেক স্টুডেন্ট ছিলো ,আজকে স্কুল বন্ধ দিবে তবে আলিয়াদের কোচিং ক্লাস হবে।
অরণ্য স্যার একজন একজন কে দাঁড় করিয়ে বই পড়তে বলছিলো
পিছনের বেঞ্চের ছেলেরা আম খাচ্ছিলো স্যার বিষয়টা কিভাবে যেন খেয়াল করলো,
চেক করে আম মরিচের গুঁড়া লবণ সব পাওয়া গেলো স্যার সব নিয়ে নিলো
এত কিছুর মধ্যে ও আরাবের চোখ কিন্তু বারবার আলিয়ার দিকে
আলিয়া ও বিষয়টা খেয়াল করেছে আর লজ্জা পাচ্ছে
এরপর যথারীতি ক্লাস টা শেষ হলো
পরের ক্লাসে তেমন পড়া হয়নি আলিয়ারা বসে বসে আম খাচ্ছিলো,আর গল্প করছিলো
এরপর ক্লাস শেষ সবাই বাড়ি চলে গেলো
বাড়িতে আসতে আলিয়া আয়নায় নিজেকে দেখছিলো আর ভাবছিলো ,
আলিয়া দেখতে আহামরি সুন্দরী না তবে অসুন্দর ও না উজ্জ্বল বর্ণের মায়া ভরা চেহেরা চোখ দুটো টানা টানা (ওর ঘন কালো লম্বা চুল দেখে যেকোনো ছেলে ক্রাশ খাবে অনেক ছেলে তো ওর চুল দেখে ক্রাশ খেয়েছে,)
আলিয়া মনে মনে বলতে লাগলো আসলে আরাব কি সত্যি আমাকে পছন্দ করে কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব?
আমার হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে আরাব কখনো আমাকে দেখছিলো না আমার মত মেয়েকে আরাব কখনো ভালোবাসবে না আরাব কত সুন্দর স্টাইলিশ ছেলে ।ও হয়তো মজা নিচ্ছে আমাকে নিয়ে আমার তো সেটাই মনে হচ্ছে
এরপর আলিয়া ফ্রেশ হতে চলে গেলো,
সন্ধ্যাই পড়তে বসলো কিন্তু কিছুতেই পড়াতে মন বসছে না বারবার শুধু আরাবের কথা মনে পরছে কাকে শেয়ার করবে বুঝতে পারছেনা,
এরপর নিজে নিজে কবিতা লিখছে খাতায়,
খাওয়ার শেষ করে রাতে ঘুমাতে গেলো তাও ঘুম আসছেনা কেন জানি না চাইতে ও আরাবের মুখ তার চোখে ভেসে বেড়াচ্ছে।
আলিয়া এর পর নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে বললো এই ছেলেটা আমার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে টি করবো কাল স্কুলে দেখা যাক আরাব কি করে তার পর বুঝবো আরাব আমায় ভালোবাসে কিনা,
এরপর আলিয়া ঘুমিয়ে গেলো

অন্যদিকে আরাব প্রায় একমাস আগে আলিয়ার প্রেমে পরেছে ,
কিছুদিন আগে স্কুলে অনুষ্ঠান হয়েছিলো তখন আলিয়া শাড়ি পড়েছিলো খোলা চুল কানে লম্বা দুল ,গলায় একটা চেইন
আলিয়াকে এই সাজে অপরূপা লাগছিলো
শাড়িতে যে কোনো নারীর আলাদা সৌন্দর্য ফুটে ওঠে
ঐদিন আরাব আলিয়া কে দেখে প্রায় অজ্ঞান হওয়ার অবস্থা,ঐ দিন থেকে আলিয়াকে আরাব পছন্দ করতে শুরু করে কিন্তু আরাব অনেক ভদ্র একটা ছেলে সে আলিয়াকে মনের কথা বলতে পারছিলো না আর কিভাবে বলবে
দূর থেকে আলিয়াকে দেখে মনের ইচ্ছে পূরণ করে এতদিন ধরে আলিয়া বুঝতে পারেনি তবে আজ আলিয়াকে দেখার সময় চোখে চোখে অনেক বার হয়েছে
আরাব ঘুমানোর সময় ভাবতে লাগলো আলিয়া কি তবে বুঝে গেলো আমি আলিয়াকে দেখছি কিন্তু আলিয়া তো কখনো আমার সাথে রিলেশন করবেনা ও তো অনেক ভালো একটা মেয়ে পড়ালেখায় ও অনেক ভালো ,
আলিয়াকে আমি মনের কথা এখন বলবো না আগে আলিয়ার রিয়েকশন দেখতে হবে ও কি আমায় পছন্দ করে কিনা।
আরাবের মা এলো রুমে কি হলো আরাব এখনো ঘুমাসনি কাল তো কোচিং আছে
আরাব এই তো ঘুমাচ্ছি মা
আরাবের মা: ঘুমিয়ে পড় আমি কিন্তু ডাকতে পারবোনা
আলিয়ার কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেল টের পেলো না আরাব ,,
(অনেক দিন পর লিখলাম নতুন পর্ব খুব ছোট হয়েছে তবে এর পর থেকে আরো বড়ো করার চেষ্টা করবো পরের পর্ব কে কে চান রিভিউ দিন বেশি করে)