Monali

নায়িকা সংবাদ
লেখিকা মোনালী
পর্ব:০১
কটা বাজে?
দেখতেই তো পাচ্ছো রাত তিনটা বাজে আবার কেন জিজ্ঞেস করছ?
কোনো ভদ্র সম্ভ্রান্ত বাড়ির মেয়ে মহিলারা রাত তিনটে পর্যন্ত বাড়ির বাহিরে থাকে না। ওও আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম তুমি তো শুধু পার্টি করতে যাও নি গিয়েছিলে কিরণের সাথে ফস্টি নষ্টি করতে।
জাষ্ট shatup ইন্দ্র ?
ভদ্র বাড়ির মেয়ে বৌ? আচ্ছা ইন্দ্র আজ পর্যন্ত কোনো সম্ভ্রান্ত বাড়ির বৌ কে তুমি দেখেছ নায়িকা হতে। নিশ্চয়ই দেখো নেই। আমি তো এই গ্লামার, ক্ষ্যাতি, প্রতিপত্তি চাই নি। চেয়েছিলাম আর পাঁচটা সাধারণ সম্ভ্রান্ত বনেদি বাড়ির বৌ হয়ে থাকতে। কিন্তু না তুমি এক প্রকার জোর করে নামিয়ে দিলে আমাকে এই জগতে। কি না খ্যাতিমান প্রযোজক ইন্দ্রনাথ সেন এর সুন্দরী স্ত্রী নায়িকা হবে। একে পর এক ফ্লপ সিনেমা দিতে দিতে আমি যখন ক্লান্ত 🫩 আমি চেয়েছিলাম ছেড়ে দিতে কিন্তু না তুমি জোড় করে ধরে রাখলে।
আমি তো তলিয়ে যাচ্ছিলাম কিরণ এসে আমায় মাঝ সুমদ্র থেকে উদ্ধার করল। ওর সাথে ছবি করলাম আমাদের প্রথম ছবি সুপার হিট পর পর চারটি ছবি সুপার হিট পাঁচ নম্বর all time blockbuster হবে।
তাছাড়া ও তুমি যে এত বড় বড় বাতেলা ঝাড়ছ এই যে এত ফুর্তি দামি গাড়ি ভ্যাকেশনে লন্ডন,আমেরিকা ঘুরে এগুলো তো সব আমার পরিশ্রমের টাকায়। নিজের এক পয়সা ইনকাম করবার মুরোদ নেই আবার বড় বড় কথা।
কি বললি মা* ? তোর মত বে*শ্যা খা* মেয়ে ছেলে কে সিনেমায় সুযোগ দিয়েছিল বলে মাথা কিনে নিয়েছিস। তোর মতো দুই টাকার নায়িকা কে পথে নামাতে আমার সময় লাগবে না। তোকে আর তোর ঐ কিরণ কে যদি আমি রাস্তায় না নামাতে পারি তবে আমি ও ইন্দ্রনাথ সেন ন‌ই।
তোমার মতো ছোটলোক কে চিত্রা সেন ভয় পায় না। আমি ও দেখব তুমি কি করতে পারিস? এত দিন তোর সব অত্যাচার সহ্য করেও এ বাড়িতে পড়ে থেকেছি যাতে আমার একমাত্র ছেলে জন্য আর যাতে শুনতে না যে নায়িকারা এক স্বামীর সাথে সংসার করতে পারে না। কিন্তু না আজকে পর থেকে তোমার সাথে থাকা আমার পক্ষে আর সম্ভব নয়।
তোর চেহারা নিয়ে এত অহংকার না তোর চেহারাই আজ থাকবে না। এই বলে ইন্দ্র চিত্রার হাত চেপে ধরে রান্না ঘরের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। চিত্রা বুঝতে পারছিল ওর সাথে ঠিক কি হতে চলেছে। তাই তো এক মনে ভগবানকে ডাকছিল। রান্না ঘরে যেতেই হঠাৎ মরিচের গুঁড়ার বয়ম টা হাতের কাছে পায়। পুরো মরিচের গুঁড়া ইন্দ্রর চোখে ছিটিয়ে দিয়ে দৌড়ে ছেলে কাছে যায়। এক হাতে গাড়ির চাবি আর ছেলেকে কোলে নিয়ে বেড়িয়ে আসে ও। গাড়ি চালাতে চালাতে নব্বইয়ের দশকে বিখ্যাত প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী শ্রাবনী ভট্টাচার্য কে ফোন দেয়।
ওদিকে এত ভোরে শ্রাবণীর ফোন দেখে চিন্তিত হয়ে ফোন ধরেণ শ।
চিত্রা: শ্রাবণী দি আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে তোমার বাসায় পৌছাছি তুমি কী বাসায় না কি indoor shooting এ আছো।
শ্রাবণী: না আমি তো বাসায় কি হয়েছে বলবি?
চিত্রা: আগে আসি তারপর বলছি।
ঠিক আছে আমি দাড়োয়ান কে বলছি গেট খুলে দিতে।
পাঁচ মিনিট পর শ্রাবণী ভট্টাচার্যের বাড়িতে হাজির হয় চিত্রা। চিত্রা আর গুরমিত কে দেখে শ্রাবণী জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে ঠিক করে বল তো আচ্ছা তার আগে গুরু (গুরমিত) কে তোর দাদার কোলে দে ও শুইয়ে দিয়ে আসুক।
শ্রাবণীর স্বামী বিখ্যাত পরিচালক কৃষ্ণ ভট্টাচার্য চলে গেলে চিত্রা সব ঘটনা খুলে বলে
এখন কি করবি?
আমি কিছু বুঝতে পারছি না দি তুমি বলো আমার কি করা উচিত?
আচ্ছা দাঁড়াও আগে বরুণ কে ফোন দিয়ে বলো এখনি যেন ও কিরণ,উমা,আর মুনিয়া মামনি কে নিয়ে এবাড়িতে তোলে আসে। কারণ আমি হলফ করে বলতে পারি পরের আক্রমণ কিরণ আর ওর পরিবারের ওপর হবে‌।
চিত্রার কথায় শ্রাবণী কিরণে ছোট ভাই বরুণ কে ফোন দেয়।
ঘুমের ভেতর ফোন রিসিভ প্রথমে শ্রাবণী কে চিনতে পারে না বরুণ। পরিচয় দিয়ে শ্রাবণী বরুণ কে বলে যত দ্রুত সম্ভব ও কিরণ উমা আর মুনিয়া কে নিয়ে শ্রাবণীর বাড়িতে আসে। শ্রাবণী এটাও জিজ্ঞেস করে মেসোমসাই মানে বরুণের বাবা কোথায়? বরুণ জানায় ওর বাবা তীর্থে গেছে গতকাল মাসখানেকের আগে আসবে না।
আধাঘণ্টা পর কিরণরা সবাই শ্রাবণীর বাড়িতে পৌঁছায়। শ্রাবণীর বাড়িতে চিত্রা কে দেখে অবাক 🫪 হয়ে যায় সবাই। বরুণ জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে।
তখন চিত্রা পুরো কাহিনী খুলে বলে আর এ ও বলে ইন্দ্রনাথ চাইবে যেন কিরণ আর চিত্রার ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ও কি করবে সেটা বুঝতে পারছে না‌। তাই সবাই কে শ্রাবণীর বাড়িতে ডাকা।
কিরণের স্ত্রী উমা বলে মিষ্টার সেন এর যখন এত‌ই সমস্যা তবে কেন উনি আপনাকে সিনেমার নায়িকা করলেন?
এখন এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি?
আগে দেখতে হবে ও ঠিক কি স্টেপ নেয়‌ তারপর আমাদের এগোতে হবে। এখন আপতত সবাই অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
ঠিক এক ঘন্টা পর সোস্যাল মিডিয়াতে প্রথম পোস্ট আসে বিখ্যাত অভিনেত্রী চিত্রা সেনের স্বামী প্রোযোজক ইন্দ্রনাথ সেন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এখনো বোঝা যাচ্ছে না কি হবে?
মিষ্টার সেন তাঁর সুইসাইড নোটে লিখে গেছেন তার স্ত্রীর সাথে এবং নায়ক কিরণ চট্টরাজ তাকে বাধ্য করেছেন আত্মহত্যা মতো ভয়াবহ কাজ করতে।
চিত্রা বলে আমি ঠিক এই ভয়টাই পাচ্ছিলাম। ও এত সহজে ছাড়বে না।
কিরন বলে এখন উপায় কি?
কৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলেন আমাকে একটু চিন্তা করতে দাও এই বাজে পরিস্থিতি থেকে বের হবার উপায় কি?
তবে তার আগে আমার বন্ধু পুলিশ কমিশনার কৌশিক রায় কে একটা ফোন দিয়ে সব জানাতে হবে ‌। ও ঠিক কোন না কোন ভাবে সমস্যার সমাধান করবে‌।
চিত্রা বললো সব ই তো ঠিক আছে তবে তার আগে গুরমিত আর মুনিয়া কে এখান থেকে অন্য কোথাও সরাতে হবে।
শ্রাবণী বলে আমি সিদ্ধেশ্বরী কে ফোন করে আসতে বলেছি। বাচ্চাদের ওর কাছে দিয়ে দিব।
কৃষ্ণ ভট্টাচার্য পুলিশ কমিশনার কৌশিক রায় কে ফোন করে সবটা জানায়।
সব শুনে কৌশিক রায় বলেন যে কেস টা ভীষণ জটিল, কিন্তু আগে চিত্রা আর কিরণ কে থানায় যেতে হবে। হয়তো ওদের arreste করা হবে রবিবার কেসটা কোর্টে উঠবে তার আগে প্রমাণ করতে হবে যে চিত্রা ভিকটিম। না হলে চিত্রা ও কিরণ কে জেল খাটতে হবে কিছু করার নেই।
ফোন রেখে কৃষ্ণ সবাই কে সবাই কে সবটা জানায়।
সব শুনে শ্রাবণী বলে যে কি ভাবে প্রমাণ হবে যে চিত্রা ভিকটিম?
কৃষ্ণ বলে যে আগে চিত্রা আর কিরণ থানায় যাক। তারপর কিছু না কিছু ভাবা যাবে।
এদিকে সোসিয়াল মিডিয়া একের পর এক উল্টোপাল্টা পোষ্টে ছয়লাপ হয়ে গেছে।
চিত্রা আর কিরণ শ্রাবণীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে সরাসরি থানায় চলে যায়।
থানার সামনে গাড়ি পার্কিং করতেই সাংবাদিকরা ঘিরে ধরে। একে পর এক উল্টোপাল্টা প্রশ্ন করতে থাকে‌। কোন রকমের থানার ভেতর ঢোকে ।
থানার ওসিকে সব কথা খুলে বলে চিত্রা।
ওসি বলেন আপনার কাছে তো কোনো প্রমাণ নেই। আর প্রমাণ ছাড়া তো আদালত মুখের কথা বিশ্বাস করে না।
আপনারা উকিল এর ব্যাবস্থা করুন বাকিটা দেখছি।
আপনারা আমার সাথে চলুন পেছনের রেষ্ট হাউজে ওখানে একটা রুমে আপনারা থাকুন দু’জন পুলিশ পাহারায় থাকবে।

বিকালের দিকে কৃষ্ণ ভট্টাচার্য আর উমা ওদের সাথে দেখা করার সুযোগ পায়।
কৃষ্ণ ভট্টাচার্য জানান যে ইন্দ্রনাথ বেঁচে গেছে এটা ওদের জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট।
কৃষ্ণের কথা শেষ হলে উমা চিত্রা কে উদ্দেশ্য করে বলে মুখপুরি তুই তো নিজের ঘর শেষ করলি সাথে আমার ঘর ও। তোরে জেলে নয় যে ফাঁসি দেওয়া দরকার, তোর মত অভিশপ্ত মহিলা যেখানে থাকবে সেই জায়গা অভিশপ্ত হয়ে যাবে। তুই ধুঁকে ধুঁকে মরবি, মৃত্যু চাবি কিন্তু মরণ আসবে না তো, শেষ সময় মুখে জল দেওয়াল কোনো লোক থাকবে না।
কিরন উমা কে জোরে একটা থাপ্পড় দেয় এরপর কৃষ্ণ কে বলে দাদা আপনি ওকে নিয়ে যান না হলে কিন্তু খুব খারাপ হবে।
উমা চলে গেলে কিরণ বলে আমাকে ক্ষমা করো চিত্রা। চিত্রা বলে ব্যাপার না ওর তোমার বৌ তোমার এই অবস্থায় ওর খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক আমি কিছু মনে করি নি

রবিবার কেস কোর্টে ওঠে।
যেহেতু ইন্দ্রনাথ বেঁচে আছে আর চিত্রাও নিজেকে ভিকটিম প্রমাণ করতে পারে নি তাই চিত্রা আর কিরণের দেড় মাসের জন্য জেল হয়।
পরে দিন বিকেলে কৃষ্ণ আর শ্রাবণী আসে ওদের সাথে দেখা করতে।
কৃষ্ণ কে দেখে শ্রাবণী বলে দাদা আমাকে একটা সাহায্য করতে হবে আপনার?
যেকোনো ভাবে আমাকে খুব ছোট একট রেকর্ডার এনে দিতে হবে যেটা আমি খুব গোপনে লুকিয়ে রাখতে পারব।
কিন্তু রেকর্ডার দিয়ে কি হবে?
আপনি শুধু ব্যাবস্থা করুন আর যেদিন শুনতে পারবেন ইন্দ্র এসেছিল তারপর দিন আপনি আসবেন।
ঠিক আছে।
পরদিন সকালে কৃষ্ণ চিত্রা কে একটা রেকর্ডার দিয়ে যায় চিত্রা খুব গোপনে রেখে দেয়।
ঠিক সাতদিন পর ইন্দ্র দেখা করতে আসে চিত্রার সাথে।
চিত্রা সাথে সাথে রেকর্ডার চালু করে দেয়।
দেখলে তো সোনা আমি কি করতে পারি? তোমার সন্মান কেমন শুধোয় মিশিয়ে দিলাম।
তুমি কার সাথে সিনেমা করবে কার সাথে করবে না তাতে আমার কিছু আসে যায় না এমন কি তুমি পরকিয়া করলেও আমার কিছু আসে যায় না। কারণ তুমি আমার কাছে টাকার মেশিন
তুমি তোমার মত থাকলে আমার এত কিছু করতে হতো না। তুমি সিনেমার টাকা নিজের একাউন্টে নেওয়া শুরু করলে এরপর যখন জানতে পারলে আমার গার্লফ্রেন্ড আছে তাকে ও অপমান করলে তাই তোমাকে ছোট একটা শাস্তি দিলাম এখন চলি টাটা।
পরদিন কৃষ্ণ দেখা করতে আসলে চিত্রা কৃষ্ণ কে টেপ রেকর্ডার টা দিয়ে বলে আপনি আর শ্রাবণী দি এটা নিয়ে আপনার পুলিশ কমিশনার বন্ধুর বাড়িতে যান ওখানে গিয়ে শুনলেই সবটা বুঝতে পারবেন।
কৃষ্ণ শ্রাবণী কে ফোন দিয়ে কৌশিক রায় এর বাড়িতে যেতে বলে। কৌশিক রায় এর বাড়িতে গিয়ে টেপ রেকর্ডার চালিয়ে শুনে পুরো 🫪 আবাক হয়ে যায়।
পরদিন ঐ রেকর্ডার টা কোর্টে শোনানো হলে চিত্রা আর কিরণ কে সন্মানে মুক্তি দেওয়া হয় আর ইন্দ্রনাথ কে মানহানির মামলায় একবছরের জেল দেওয়া হয়।

চলবে

Leave a Comment