অমূল্য সাধন
হাঁসের ডিমের খোঁজে গিয়ে যদি মেলে রাজহাঁস,
মনটা তখন খুশিতে এক্কেবারে বারোমাস!
ঠিক তেমনি এক গল্প শোনো, নামটি ‘অমূল্য সাধন’,
যিনি নিজের খেয়ালে চলেন, মানেন না কোনো বাঁধন।
সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে খোঁজেন চশমার কাঁচ,
অথচ সেটা মাথায় গোঁজা—এ যেন এক দারুণ প্যাঁচ!
বাজার গিয়ে ইলিশ ভেবে কিনে আনেন সস্তা চুনো,
গিন্নি বলেন, “সংসারে তো লোকসান করলে দুনো!”
অমূল্যবাবু হেসে বলেন, “আরে ওটাই তো আসল ট্রিক,
টাকা বাঁচিয়ে নাম করাটাই এ যুগের আসল দিক!”
ছেঁড়া পকেট সেলাই করতে গিয়ে বেঁধেছেন তুলকালাম,
নিজের আঙুল সুই ফুটিয়ে বললেন, “আহ্, কী আরাম!”
রাস্তায় চলেন রাজার চালে, দেখেন না ডানে-বায়ে,
হঠাৎ করে আছাড় খেলেন কলার খোসার ঘায়ে।
উঠে দাঁড়িয়ে কোট ঝেড়ে বললেন, “ভাবিস না কেউ ছোট,
মহাকর্ষের টান পরখ করলাম, তোরা এবার সটান ছোট!”
এমনি করেই কাটছে দিন, অমূল্যবাবু সদাই মগন,
তাঁর কাণ্ডকারখানা দেখে হাসছে যেন নীল গগন।
টাকা-পয়সা মূল্যহীন তাঁর আজব খামখেয়ালির কাছে,
এমন ‘অমূল্য’ রতন আর কি এই ভুবনে কোথাও আছে?