গাড়িটি লম্বায় মাত্র ৫৪ ইঞ্চি

Peel P50

পিল পি-৫০ (Peel P50): বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গাড়িটির একাল-সেকাল
আজকের দিনে যখন রাস্তাঘাটে বিশাল বড় বড় এসইউভি (SUV) বা ইলেকট্রিক গাড়ির দাপট, তখন সব গাড়িকে টেক্কা দিতে হাজির এক একরত্তি পিচ্চি গাড়ি। নাম তার পিল পি-৫০ (Peel P50)। বিশ্বের সবচেয়ে ছোট তৈরি হওয়া গাড়ি হিসেবে এটি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছে।

গাড়িটি লম্বায় মাত্র ৫৪ ইঞ্চি (১৩৭ সেমি), চওড়ায় ৩৯ ইঞ্চি (৯৯ সেমি) এবং উচ্চতায় প্রায় ৪৭-৪৮ ইঞ্চি (১১৯-১২২ সেমি)। এর আসল ওজন ছিল মাত্র ৫৯ কেজি (১৩০ পাউন্ড), যা একটি সাধারণ মানুষের ওজনের চেয়েও কম! গাড়িটি তৈরিই করা হয়েছিল “একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এবং তার বাজারের ব্যাগ” বহন করার জন্য।

তিন চাকার এই অদ্ভুত গাড়িটি ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ‘আইল অফ ম্যান’ (Isle of Man) দ্বীপে তৈরি হয়। এটি প্রমাণ করে যে, একটি গাড়িকে কাজের ও আকর্ষণীয় হতে হলে আকারে বিশাল বা খুব দামি হওয়ার প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপের অভাব-অনটন থেকে শুরু করে আজকের দিনের নতুনভাবে ফিরে আসা—পিল পি-৫০ গাড়ির গল্পটা সত্যিই দারুণ।

মাইক্রোকার বা খুদে গাড়ির যুগ: ছোট গাড়ির বিপ্লব
পিল পি-৫০-এর জন্ম ইতিহাস বুঝতে হলে আমাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ফিরে যেতে হবে। ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে ইউরোপে জ্বালানি তেলের প্রচণ্ড অভাব ছিল, রাস্তাঘাট ছিল সরু আর মানুষের পকেটে টাকাও ছিল কম। মোটরসাইকেল বা স্কুটার সস্তা হলেও তাতে বৃষ্টি-বাদলে ভিজে যাওয়ার ভয় থাকত। আর বড় গাড়ি কেনা বা রক্ষণাবেক্ষণ করা ছিল সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে।

এই সমস্যার সমাধান হিসেবে বাজারে আসে ‘মাইক্রোকার’ বা খুদে গাড়ি। এগুলো ছিল তিন বা চার চাকার, যাতে চলত মোটরসাইকেলের ছোট ইঞ্জিন। এই গাড়িগুলোর ওপর কর বা ট্যাক্সও কম ছিল। ঠিক এই সময়েই পিল পি-৫০-এর আগমন ঘটে। অন্য সব ছোট গাড়ি যেখানে অন্তত দুজনের বসার জায়গা খুঁজত, পিল পি-৫০ সেখানে ছিল পুরো একলা চলার বাহন। এটি যেন ছিল ইঞ্জিন লাগানো একটি বাজারের ট্রলি!

পিল পি-৫০ এর জন্মকথা
যুক্তরাজ্যের আইল অফ ম্যান দ্বীপে সিরিল ক্যানেল নামের এক ব্যক্তি ‘পিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের মূল কাজ ছিল ফাইবারগ্লাস (এক ধরণের হালকা ও শক্ত উপাদান) দিয়ে নৌকা ও গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরি করা।

সিরিল ক্যানেল ও তার দল লক্ষ্য করলেন, শহরের জন্য এমন একটি গাড়ি দরকার যা হবে একদম সস্তা, কিন্তু স্কুটারের চেয়ে আরামদায়ক। এই ভাবনা থেকেই ১৯৬২ সালে লন্ডনের একটি মোটরসাইকেল প্রদর্শনীতে পিল পি-৫০ প্রথম সবার সামনে আনা হয়।

১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে মাত্র ৪৭ থেকে ৫০টি এই ধরণের গাড়ি হাতে তৈরি করা হয়েছিল। তখন এর দাম ছিল মাত্র ১৯৯ থেকে ২৯৯ পাউন্ড। গাড়িটির ডানদিকে স্টিয়ারিং থাকলেও দরজা ছিল কেবল বাঁদিকের একটিই। এতে ছিল একটি মাত্র হেডলাইট আর একটি ওয়াইপার।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই গাড়িতে পেছনে যাওয়ার কোনো গিয়ার (Reverse Gear) ছিল না! গাড়িটি পেছনে নেওয়ার জন্য এর পেছনে একটি হাতল বা হ্যান্ডেল লাগানো থাকত। গাড়িটির ওজন এত কম ছিল যে, যে কেউ হ্যান্ডেল ধরে স্যুটকেসের মতো টেনে এটিকে ঘুরিয়ে নিতে পারত। গাড়িটির প্রচারের জন্য একবার এটিকে লিফটে করে ব্ল্যাকপুল টাওয়ারের একদম চূড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে চালানো হয়েছিল!

নকশা ও প্রযুক্তি: কম জিনিসেই বাজিমাত
পিল পি-৫০-এর পুরো বডি বা কাঠামোটি তৈরি হয়েছিল হালকা ফাইবারগ্লাস দিয়ে। দেখতে এটি যেমন অদ্ভুত, তেমনই মজার। এর সামনে ছিল একটি চাকা যা দিয়ে গাড়ি ঘোরানো হতো, আর পেছনের দুটি চাকা গাড়িটিকে এগিয়ে নিয়ে যেত।

সহজ কথায়, জটিল কোনো প্রযুক্তি ছাড়াই সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত সহজ করতে এই গাড়িটি তৈরি হয়েছিল, যা আজও অটোমোবাইল দুনিয়ায় এক বিস্ময়।

প্রযুক্তিগত তথ্য ও গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা
মূল গাড়ির (১৯৬২–১৯৬৫) প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
লম্বা: ৫৪ ইঞ্চি (১৩৭ সেমি)

চওড়া: ৩৯ ইঞ্চি (৯৯ সেমি)

উচ্চতা: প্রায় ৪৭–৪৮ ইঞ্চি (১১৯–১২২ সেমি)

ওজন: ৫৯ কেজি (১৩০ পাউন্ড)

ইঞ্জিন: ৪৯ সিসি (cc) এক-সিলিন্ডার, টু-স্ট্রোক ইঞ্জিন (বাতাসে ঠান্ডা হওয়ার ব্যবস্থাসহ)

ক্ষমতা: প্রায় ৪.২ থেকে ৪.৫ হর্সপাওয়ার

গিয়ার: ৩-স্পিড ম্যানুয়াল, পেছনে যাওয়ার কোনো গিয়ার নেই

সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় প্রায় ৩৮ মাইল (৬১ কিমি)

তেল খরচ: ১ লিটার তেলে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার চলা যেত (যা আজকের যুগের হাইব্রিড গাড়ির চেয়েও সাশ্রয়ী!)

টায়ার: ছোট কার্টিং গাড়ির মতো ৫ ইঞ্চির চাকা

আসন: মাত্র ১টি আসন (শুধুমাত্র চালকের জন্য)

অন্যান্য সুবিধা: একটি হেডলাইট, একটি ওয়াইপার এবং অত্যন্ত সাধারণ ভেতরের পরিবেশ।

এর টু-স্ট্রোক ইঞ্জিনটি চলার সময় বেশ আওয়াজ ও ঝাঁকুনি তৈরি করত। গাড়িটির গতি সাধারণ গাড়ির চেয়ে বেশ কম হলেও ১৯৬০-এর দশকের শহরের জ্যাম ফাঁকি দিয়ে অল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য এটি ছিল একদম উপযুক্ত।

আধুনিক যুগের নতুন সংস্করণ (২০১১ থেকে বর্তমান):
বর্তমানে পিল কোম্পানি এই গাড়িটি আবার নতুন করে তৈরি করা শুরু করেছে। দেখতে আগের মতো হলেও এতে আধুনিক কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে:

ওজন: আগের চেয়ে কিছুটা ভারী (প্রায় ৯৮ থেকে ১০৫ কেজি)।

পেট্রোল সংস্করণ: এখন এতে ৪৯ সিসি-র ফোর-স্ট্রোক ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক নিয়মকানুনের কথা মাথায় রেখে এতে অটোমেটিক গিয়ার এবং পেছনে যাওয়ার গিয়ার (Reverse Gear) যুক্ত করা হয়েছে।

ইলেকট্রিক সংস্করণ: এখন পরিবেশবান্ধব ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক মডেলও পাওয়া যায়, যা কোনো শব্দ বা ধোঁয়া ছাড়াই চলে।

গতি: নিরাপত্তার কারণে আধুনিক গাড়িগুলোর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৮-৩০ মাইলের (৪৫ কিমি) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

ইংল্যান্ডের ‘সাটন-ইন-অ্যাশফিল্ড’ এলাকায় এই গাড়িগুলো এখনো ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী সম্পূর্ণ হাত দিয়ে তৈরি করা হয়।

গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা: ক্ষমতার চেয়ে আকর্ষণের জয়
পিল পি-৫০ চালানো এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। এর চারপাশের কাচ বড় হওয়ায় ভেতর থেকে বাইরের রাস্তা খুব পরিষ্কার দেখা যায়। গাড়িটিতে কেবল একটি স্টিয়ারিং হুইল, সাধারণ কিছু প্যাডেল এবং একটি গিয়ার লিভার রয়েছে।

রাস্তায় নামলে বোঝা যায় এটি কতটা হালকা ও ছোট। তিন চাকার গাড়ি হওয়ায় মোড় নেওয়ার সময় একটু সাবধানে চালাতে হয়, তবে শহরের সাধারণ গতিতে এটি বেশ চমৎকার চলে।

পুরোনো মডেলে পেছনে যাওয়ার গিয়ার না থাকাটা খুব বড় কোনো সমস্যা ছিল না। গাড়ি ঘোরানোর দরকার হলে চালক সহজেই নেমে পেছনের হ্যান্ডেল ধরে স্যুটকেসের মতো এটিকে টেনে ঘুরিয়ে নিতে পারতেন।

গাড়িটির আসল সুবিধা:

যেকোনো ছোট জায়গায় পার্ক করা যায়।

আকারে এতই ছোট যে অফিসের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে লিফটে করে ওপরেও নিয়ে যাওয়া সম্ভব (যা টেলিভিশনেও দেখানো হয়েছিল)।

খরচ একদমই সামান্য।

রাস্তায় বের হলে সবাই হাঁ করে তাকিয়ে থাকে।

অসুবিধা: ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য এতে বিশেষ সুবিধা নেই, দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচার মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই কম এবং আজকের যুগের হাইওয়ে বা বড় রাস্তায় চালানোর মতো গতি এর নেই।

‘টপ গিয়ার’ (Top Gear) অনুষ্ঠান: যা রাতারাতি ভাগ্য বদলে দিল
পিল পি-৫০ হয়তো ইতিহাসের পাতায় কেবল ছোট গাড়ির ভক্তদের কাছেই পরিচিত হয়ে থাকত, যদি না ২০০৭ সালে ব্রিটিশ টিভি শো ‘টপ গিয়ার’-এর একটি পর্বে এটি দেখানো হতো। সেই পর্বে প্রায় ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি লম্বা বিখ্যাত উপস্থাপক জেরেমি ক্লার্কসন নিজেকে কোনোমতে এই নীল রঙের পিচ্চি গাড়িটির ভেতরে ঢুকিয়ে নেন। তিনি কেবল লন্ডনের রাস্তাতেই গাড়িটি চালাননি, বরং গাড়িটি চালিয়ে সরাসরি বিবিসির (BBC) বড় অফিসের ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং লিফটে চড়ে নিজের ডেস্কে চলে যান! এই পর্বটি কোটি কোটি মানুষ দেখার পর গাড়িটি বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

টপ গিয়ারের জাদু, আকাশছোঁয়া দাম এবং আধুনিক পুনর্জাগরণ
জেরেমি ক্লার্কসন সেই পিচ্চি গাড়িটি নিয়ে বিবিসির (BBC) করিডোর, বিভিন্ন অফিস কক্ষের ভেতর দিয়ে অনায়াসে চলে যান, এমনকি গাড়িটি নিয়ে লিফটেও চড়ে বসেন! পুরো পর্বটি ছিল হাসিতে ভরপুর। ক্লার্কসন রসিকতা করলেও গাড়িটির প্রতি তার ভালোবাসা ছিল স্পষ্ট। এর ছোট আকার, কম খরচ ও সস্তা দামের কারণে তিনি এটিকে “আজকের যুগের রাস্তার জন্য একদম উপযুক্ত” এবং “ভবিষ্যতের গাড়ি” বলে ঘোষণা দেন।

এই একটি পর্ব পিল পি-৫০ গাড়িটিকে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় করে তোলে। এটি মানুষের কাছে একটি আইকন বা ভালোবাসার প্রতীকে পরিণত হয় এবং এর ফলে বাজারে এর দাম ও কদর বহুগুণ বেড়ে যায়। পরবর্তীতে ক্লার্কসন মজা করে পি-৪৫ (P45) নামে আরও একটি ছোট এক আসনের গাড়ি বানিয়েছিলেন, তবে তা পি-৫০ এর মতো এত জনপ্রিয় হতে পারেনি।

দুর্লভ গাড়ি এবং এর আকাশছোঁয়া দাম
১৯৬০-এর দশকে আসল পিল পি-৫০ গাড়ি তৈরি হয়েছিল মাত্র ৫০টির মতো। দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমানে সারা বিশ্বে এর মাত্র ২৭টি গাড়ি টিকে আছে। একদিকে এটি সংখ্যায় খুবই কম, আর অন্যদিকে ‘টপ গিয়ার’ অনুষ্ঠানের তুমুল জনপ্রিয়তা—সব মিলিয়ে এই গাড়িগুলোর দাম এখন সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে চলে গেছে।

গাড়িটির রেকর্ড ভাঙা কিছু বিক্রি:

২০১৩ সালে একটি নিলামে একটি গাড়ি বিক্রি হয় ১,২০,০০০ মার্কিন ডলারে।

২০১৬ সালে ‘সদবিস’ (Sotheby’s) নিলামে একটি পিল পি-৫০ বিক্রি হয় রেকর্ড ১,৭৬,০০০ মার্কিন ডলারে (যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দেড় কোটি টাকারও বেশি!)।

বর্তমানে যেকোনো সাধারণ মানের টিকে থাকা পি-৫০ গাড়ির দামও কোটি টাকার কাছাকাছি।

আধুনিক যুগের প্রত্যাবর্তন
২০১০-২০১১ সালের দিকে দুই গাড়িপ্রেমী, গ্যারি হিলম্যান ও ফয়সাল খান, পিল কোম্পানির নাম ও অধিকার কিনে নেন। তারা ব্রিটেনের বিখ্যাত ব্যবসায়িক শো ‘ড্রাগনস ডেন’ (Dragons’ Den)-এ গিয়ে বড় বড় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা তুলতে সক্ষম হন এবং এই গাড়িটি আবার নতুন করে তৈরি করা শুরু করেন।

নতুন এই কোম্পানিটি ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী সম্পূর্ণ হাতে এই গাড়িগুলো তৈরি করে। বর্তমানে এর পেট্রোল ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে। নতুন এই পিল পি-৫০ গাড়ির দাম শুরু হয় ১২,০০০ থেকে ১৬,০০০ পাউন্ডের (প্রায় ১৭-২২ লক্ষ টাকা) কাছাকাছি। যারা সংগ্রহে রাখার মতো ইউনিক বা অদ্ভুত কোনো জিনিস পছন্দ করেন, তারা বেশ আগ্রহ নিয়ে এই গাড়ি কিনছেন।

ভেতরের পরিবেশ ও প্রাত্যহিক জীবন
গাড়িটির ভেতরের অংশ খুবই সাধারণ। কেবল একটি বসার সিট, একটি সাধারণ স্টিয়ারিং হুইল এবং ড্যাশবোর্ডে প্রয়োজনীয় অল্প কিছু মিটার। কোনো বাড়তি সাজসজ্জা বা জাঁকজমক এতে নেই।

পিল পি-৫০ এর সীমাবদ্ধতাগুলোই আসলে এর সবচেয়ে বড় আনন্দ। এটি শহরের ছোটখাটো ট্রিপ, কলেজ বা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস অথবা বড় কোনো মেলায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য দারুণ। বর্তমানে অনেকেই এর ইলেকট্রিক সংস্করণটি ব্যবহার করছেন, যা কোনো শব্দ বা দূষণ ছাড়াই পাড়ার রাস্তায় চমৎকারভাবে চালানো যায়।

কেন পিল পি-৫০ আজও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে?
আজকের যুগে যখন বড় ও দ্রুতগতির গাড়ির ভিড়, তখন পিল পি-৫০ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে—মাঝে মাঝে সবচেয়ে ছোট ও সাধারণ জিনিসটাই সেরা হতে পারে। এই গাড়িটি বেঁচে থাকার মূল কারণগুলো হলো:

সহজ-সরল নকশা: কোনো বাড়তি জটিলতা ছাড়াই কেবল কাজের জন্য তৈরি।

সততা: গাড়িটি ঠিক যে কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছিল (বাজার করা বা একা যাতায়াত), তা সে শতভাগ করতে পারে।

স্মৃতি ও আবেগ: পুরোনো দিনের সহজ জীবনযাত্রার এক চমৎকার প্রতীক।

আজকের যুগের সমাধান: বর্তমানের জ্যাম, পার্কিংয়ের সমস্যা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে এর ইলেকট্রিক সংস্করণটি বেশ কার্যকরী।

উপসংহার: খুদে দানব
পিল পি-৫০ কেবল বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গাড়িই নয়, এটি মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার এক অনন্য নিদর্শন। আইল অফ ম্যান দ্বীপের ছোট কারখানা থেকে শুরু করে ‘টপ গিয়ার’ টিভির পর্দা হয়ে আজকের আধুনিক রূপ—সবখানেই এটি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

নিলামের কোনো আসল পুরোনো মডেল হোক কিংবা আজকের যুগের নতুন ইলেকট্রিক সংস্করণ—রাস্তায় এটিকে দেখলে যে কেউ থমকে দাঁড়াবেন, হাসবেন এবং মাথা নেড়ে ভাববেন—”মানুষ আসলেই এমন একটা গাড়ি বানিয়েছিল এবং এটা সত্যি সত্যি চলে!”

মোটরগাড়ির বিশাল ইতিহাসে পিল পি-৫০-এর অধ্যায়টি হয়তো সবচেয়ে ছোট, কিন্তু এটিই সবচেয়ে চিরস্মরণীয়। আকারে ছোট হলেও এর গৌরব ও ইতিহাস সত্যিই বিশাল!

Comment