শিরোনাম: শেষ বিকেলের রোদ্দুর
কলমেঃ স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী
জানলার বাইরে শরতের মেঘগুলো ভেসে যাচ্ছে, কিন্তু প্রিয়ার ঘরে থমকে আছে এক বিষণ্ণ নিস্তব্ধতা। কেমোথেরাপির দাপটে প্রিয়ার এক মাথা ঘন চুল আজ স্মৃতির পাতায়, ফ্যাকাসে ঠোঁটে এখন কেবল যন্ত্রণার নীল ছাপ। প্রিয়া বারবার নিজেকে আয়নায় দেখে আর ডুকরে কেঁদে ওঠে। সে আবিরকে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল, বলেছিল— “যাকে কয়েকদিন পর হারাবেই, তাকে মিছিমিছি মায়ায় বেঁধে লাভ কী আবির? তুমি অন্য কোথাও জীবন খুঁজে নাও।”
আবির কোনো কথা বলেনি। সেদিন বিকেলে সে ঘরে ঢুকল একটা ছোট্ট বাক্স হাতে। প্রিয়া অবাক হয়ে দেখল, আবির তার নিজের সব চুল বিসর্জন দিয়েছে, তার মাথাও এখন প্রিয়ার মতোই কেশহীন। প্রিয়ার কুঁচকে যাওয়া হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আবির শান্ত গলায় বলল, “ভালোবাসা কি শুধু চুলের বাহার আর শরীরের রঙে থাকে প্রিয়া? তোমার অসুখটা তোমার শরীরে হতে পারে, কিন্তু আমাদের প্রেমে নয়।”
প্রিয়া আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। আবিরের বুকে মুখ লুকিয়ে সে হাউহাউ করে কেঁদে উঠল। সেই কান্নায় কোনো হাহাকার ছিল না, ছিল এক পরম নিশ্চিন্ত আশ্রয়। আবির তাকে শক্ত করে জাপ্টে ধরে কপালে একটা দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিল। সেই আলিঙ্গনে মারণব্যাধি হেরে গেল, হেরে গেল মৃত্যুভয়ও। তারা দুজনেই জানত সময় হয়তো খুব কম, কিন্তু ওই একটা মুহূর্তেই তারা কয়েক জীবন কাটিয়ে দিল। এক ফালি রোদ্দুর এসে পড়ল তাদের ওপর, যেন সাক্ষী থাকল এক অপরাজেয় প্রেমের।

