জোনাথন সুইফট (Jonathan Swift, ১৬৬৭–১৭৪৫)
জোনাথন সুইফট ছিলেন অ্যাংলো-আইরিশ ব্যঙ্গকার, কবি, প্রাবন্ধিক ও যাজক। তিনি গালিভারের ভ্রমণ এবং একটি নম্র প্রস্তাব এর জন্য বিখ্যাত, কিন্তু তাঁর কবিতায় তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ, সমাজের সমালোচনা, মানব প্রকৃতির দুর্বলতা এবং কখনো কখনো অশ্লীল হাস্যরস ফুটে উঠেছে। তিনি হিরোইক কাপলেটে দক্ষ ছিলেন এবং তাঁর কবিতা প্রায়ই রাজনীতি, নারী-পুরুষ সম্পর্ক ও মানুষের অহংকারকে লক্ষ্য করে লেখা।
১. সকালের বর্ণনা (A Description of the Morning)
এখন খুব কমই এখানে-সেখানে একটা ভাড়ার গাড়ি দেখা যায়,
বাজারের লোকেরা তাড়াহুড়ো করে যায় নিজের কাজে।
চাকর-বাকররা ঘুম থেকে উঠে দরজা খোলে,
আর গৃহিণীরা রান্নাঘরে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
রাস্তায় ঝাড়ুদার ঝাড়ু দেয় ধুলো উড়িয়ে,
আর কুকুরগুলো ঘুরে বেড়ায় খাবারের খোঁজে।
একজন দোকানদার দোকান খোলে, আরেকজন গণনা করে টাকা,
আর শহর জেগে ওঠে নতুন দিনের কোলাহলে।
২. শহরের বৃষ্টির বর্ণনা (A Description of a City Shower)
সাবধান! বৃষ্টি আসছে — আকাশ কালো হয়ে গেছে,
মেঘগুলো জড়ো হয়েছে ভয়ংকর রূপে।
প্রথমে কয়েক ফোঁটা পড়ে, তারপর ঝরঝর করে বৃষ্টি নামে,
আর শহরের রাস্তা হয়ে ওঠে কাদা ও জলের সমুদ্র।
লোকেরা দৌড়ায় আশ্রয়ের খোঁজে,
ছাতা খুলে বা দোকানের ছাউনির নিচে।
কুকুর-বিড়াল পালায়, আর গাড়ির চাকা কাদায় আটকে যায়,
এই হলো শহরের বৃষ্টির সত্যিকারের চেহারা।
৩. মহিলার সাজঘর (The Lady’s Dressing Room)
পাঁচ ঘণ্টা ধরে সেলিয়া সাজতে বসেছিল,
আর স্ট্রেফন তার অপেক্ষায় ছিল।
যখন সে বেরিয়ে গেল, স্ট্রেফন চুপি চুপি ঢুকল ঘরে,
আর দেখল — সাজঘরের ভয়ংকর দৃশ্য।
মেঝেতে পড়ে আছে চুলের কাটা অংশ, দাঁতের কৃত্রিম অংশ,
আর নোংরা কাপড়ের স্তূপ।
স্ট্রেফন দেখল — সৌন্দর্যের পেছনে কত অপবিত্রতা লুকিয়ে আছে,
আর তার সব রোমান্টিক ধারণা ভেঙে গেল চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে।
৪. স্টেলার জন্মদিনে (On Stella’s Birth-day)
আজ স্টেলার জন্মদিন — সে আরও এক বছর বড় হয়েছে,
কিন্তু তার সৌন্দর্য ও বুদ্ধি কমেনি।
সে এখনও হাসে, কথা বলে, আর বন্ধুদের আনন্দ দেয়,
যেন সময় তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
আমি চাই — তার প্রতিটি জন্মদিন এমনই আনন্দময় হোক,
আর সে সবসময় এইভাবে প্রিয় থাকুক আমাদের কাছে।
৫. ডক্টর সুইফটের মৃত্যুতে শ্লোক (Verses on the Death of Dr. Swift — মূল অংশ)
যখন আমি মরে যাব, তখন মানুষ কী বলবে?
কেউ বলবে — “সে ছিল একজন ভালো মানুষ”,
আর কেউ বলবে — “সে ছিল একজন ব্যঙ্গকার, যে সবাইকে কষ্ট দিয়েছে”।
কিন্তু সত্যি কথা হলো — আমি শুধু সত্য কথা বলেছি,
আর সত্য কথা বলা সবসময় বিপজ্জনক।
যখন আমি চলে যাব, তখন হয়তো কেউ আমার জন্য কাঁদবে,
আর বেশিরভাগ মানুষ ভুলে যাবে আমাকে।
৬. ক্লেভার টম ক্লিঞ্চ ফাঁসির মঞ্চে যাচ্ছে (Clever Tom Clinch going to be hanged)
ক্লেভার টম ক্লিঞ্চ ফাঁসির মঞ্চে যাচ্ছে,
সে হাসছে আর গান গাইছে পথে।
সে বলছে — “আমি চুরি করেছি, ডাকাতি করেছি,
কিন্তু আমি ছিলাম সবচেয়ে সাহসী চোর”।
জনতা তাকে দেখে হাসে, আর সে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাসে,
এই হলো একজন “চালাক” অপরাধীর শেষ যাত্রা।
৭. কবিতা সম্পর্কে একটি র্যাপসোডি (On Poetry: A Rhapsody — অংশ)
কবিতা লেখা সহজ — শুধু কাগজ আর কলম নাও,
আর যা খুশি লিখে ফেলো।
কিন্তু ভালো কবিতা লেখা কঠিন —
এতে লাগে বুদ্ধি, পর্যবেক্ষণ আর সত্যিকারের অনুভূতি।
অনেকে কবি সাজে, কিন্তু সত্যিকারের কবি খুব কম।
তারা শুধু শব্দের খেলা করে, আর ভাবে — এটাই কবিতা।
৮. ফিলিস, অথবা ভালোবাসার অগ্রগতি (Phyllis, or the Progress of Love)
ফিলিস প্রথমে খুব লজ্জা পেত,
কিন্তু প্রেম যখন এল, সে সব ভুলে গেল।
সে প্রথমে বলত — “না, না”,
কিন্তু শেষে বলল — “হ্যাঁ”।
এই হলো ভালোবাসার অগ্রগতি —
প্রথমে প্রতিরোধ, তারপর আত্মসমর্পণ।
কিন্তু প্রেম চলে গেলে, সে আবার একা হয়ে গেল।
৯. স্ট্রেফন ও ক্লো (Strephon and Chloe — অংশ)
স্ট্রেফন আর ক্লো ছিল প্রেমে পাগল,
তারা একে অপরকে দেবতা ভাবত।
কিন্তু বিয়ে হওয়ার পর তারা দেখল —
একে অপরের মধ্যে সাধারণ মানুষ ছাড়া আর কিছু নেই।
প্রেমের মোহ কেটে গেলে, বাস্তবতা দেখা দেয়,
আর সেই বাস্তবতা প্রায়ই হতাশাজনক।
১০. দ্য ডে অফ জাজমেন্ট (The Day of Judgement — সংক্ষিপ্ত রূপ)
যেদিন বিচার হবে, সেদিন ঈশ্বর সবাইকে ডাকবেন,
আর মানুষ তাদের পাপের হিসাব দেবে।
কিন্তু সুইফট বলেন — সেদিন হয়তো ঈশ্বর হাসবেন,
দেখে যে মানুষ কত নির্বোধ ও অহংকারী ছিল।
বিচারের দিনে সবাই সমান — ধনী-গরিব, জ্ঞানী-মূর্খ।
আর তখন বোঝা যাবে — জীবনে কতটুকু সত্যি ছিল।
জোনাথন সুইফট (Jonathan Swift, ১৬৬৭–১৭৪৫)
অ্যাংলো-আইরিশ ব্যঙ্গকার, প্রাবন্ধিক, কবি ও যাজকের বিস্তারিত জীবনী
জোনাথন সুইফট ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গকার, প্রাবন্ধিক, কবি ও রাজনৈতিক লেখক। তিনি গালিভারের ভ্রমণ (Gulliver’s Travels) এবং একটি নম্র প্রস্তাব (A Modest Proposal) এর জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তাঁর লেখায় তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ, লৌহিক হাস্যরস, রাজনৈতিক সমালোচনা এবং মানব প্রকৃতির দুর্বলতার গভীর বিশ্লেষণ রয়েছে। তিনি ছিলেন আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের সেন্ট প্যাট্রিক ক্যাথিড্রালের ডিন এবং আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় সোচ্চার লেখক। সুইফটের জীবন ছিল রাজনৈতিক উত্থান-পতন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা এবং অসাধারণ সাহিত্যিক সৃষ্টির মিশ্রণ।
জন্ম ও প্রাথমিক জীবন (১৬৬৭–১৬৮২)
জোনাথন সুইফট ১৬৬৭ সালের ৩০ নভেম্বর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জোনাথন সুইফট সিনিয়র ছিলেন একজন ইংরেজ আইনজীবী, যিনি সুইফটের জন্মের কয়েক মাস আগে মারা যান। মা অ্যাবিগেইল এরিক ছিলেন এক সম্ভ্রান্ত ইংরেজ পরিবারের সন্তান। সুইফট ছিলেন তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান।
শৈশবে তিনি মায়ের সঙ্গে ইংল্যান্ডে চলে যান এবং লেস্টারশায়ারের এক আত্মীয়ের কাছে বড় হন। পরে তিনি আয়ারল্যান্ডে ফিরে আসেন। শৈশব থেকেই তিনি পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন এবং বই পড়তে ভালোবাসতেন। তাঁর পরিবার ইংরেজ প্রোটেস্ট্যান্ট ছিল এবং আয়ারল্যান্ডের অ্যাংলো-আইরিশ সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
শিক্ষা (১৬৮২–১৬৯২)
১৬৮২ সালে সুইফট ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে (Trinity College, Dublin) ভর্তি হন। এখানে তিনি ক্লাসিক্যাল সাহিত্য, দর্শন, ধর্মতত্ত্ব ও ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৬৮৬ সালে তিনি ব্যাচেলর অব আর্টস (B.A.) ডিগ্রি লাভ করেন।
১৬৮৮ সালে ইংল্যান্ডে গ্লোরিয়াস রেভল্যুশনের সময় তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান। ১৬৯২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার অব আর্টস (M.A.) ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি স্যার উইলিয়াম টেম্পলের (Sir William Temple) সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেন। টেম্পল ছিলেন একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও লেখক। সুইফট তাঁর গ্রন্থাগার ব্যবহার করে প্রচুর পড়াশোনা করেন এবং রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক জ্ঞান অর্জন করেন।
প্রাথমিক কর্মজীবন ও রাজনৈতিক জড়িয়ে পড়া (১৬৯৪–১৭১০)
১৬৯৪ সালে সুইফট যাজকত্ব গ্রহণ করেন। ১৬৯৫ সালে তিনি আয়ারল্যান্ডের কিলরুটের প্রিবেন্ডারি (Prebendary) হন। ১৭০০ সালে তিনি লারাকরের ভাইকার (Vicar) নিযুক্ত হন।
রাজনৈতিকভাবে তিনি প্রথমে হুইগ (Whig) দলের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু ১৭১০ সালের পর তিনি টোরি (Tory) দলে যোগ দেন। এ সময় তিনি The Examiner পত্রিকায় লেখালেখি করেন এবং টোরি সরকারের পক্ষে প্রচার চালান। তিনি রানি অ্যানের দরবারে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।
সাহিত্যকর্মের শীর্ষ (১৭০৪–১৭২৬)
সুইফটের সাহিত্যজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ১৭০৪ থেকে ১৭২৬ সাল পর্যন্ত। তাঁর প্রধান রচনাগুলো:
- A Tale of a Tub (১৭০৪): ধর্মীয় ও সাহিত্যিক ব্যঙ্গ। এটি তাঁর প্রথম বড় সাফল্য।
- The Battle of the Books (১৭০৪): প্রাচীন ও আধুনিক লেখকদের মধ্যে কাল্পনিক যুদ্ধের বর্ণনা।
- Gulliver’s Travels (১৭২৬): তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা। এটি চার ভাগে বিভক্ত — লিলিপুট, ব্রবডিংন্যাগ, লাপুটা ও হাউইহনম। এতে তিনি মানব সমাজ, রাজনীতি ও মানব প্রকৃতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।
- A Modest Proposal (১৭২৯): আয়ারল্যান্ডের দারিদ্র্য ও ইংরেজ শোষণের বিরুদ্ধে এক ভয়ংকর ব্যঙ্গ। এতে তিনি প্রস্তাব করেন — দরিদ্র আইরিশ শিশুদের মাংস খাওয়া উচিত।
- অন্যান্য: Drapier’s Letters (১৭২৪-২৫) — আয়ারল্যান্ডের মুদ্রা সংক্রান্ত ইস্যুতে লেখা চিঠি।
তাঁর লেখার শৈলী ছিল সরল কিন্তু তীক্ষ্ণ। তিনি প্রায়ই ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন (যেমন: Lemuel Gulliver, Isaac Bickerstaff, M.B. Drapier)।
আয়ারল্যান্ডের পক্ষে লেখালেখি ও ডিন হিসেবে জীবন
১৭১৩ সালে সুইফট ডাবলিনের সেন্ট প্যাট্রিক ক্যাথিড্রালের ডিন নিযুক্ত হন। এই পদ তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অধিষ্ঠিত ছিলেন।
তিনি আয়ারল্যান্ডের স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন। Drapier’s Letters-এ তিনি ইংরেজ সরকারের অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে লেখেন। তিনি আয়ারল্যান্ডকে “একটি নিপীড়িত জাতি” বলে বর্ণনা করতেন। তাঁর লেখা আয়ারল্যান্ডের জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
ব্যক্তিগত জীবন: স্টেলা ও ভ্যানেসা
সুইফট কখনো বিয়ে করেননি। তাঁর জীবনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নারী ছিলেন:
- এস্থার জনসন (Stella): তিনি স্যার উইলিয়াম টেম্পলের গৃহশিক্ষয়িত্রীর কন্যা। সুইফট তাঁর সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব ও সম্ভবত প্রেমের সম্পর্ক রাখতেন। তিনি স্টেলার জন্মদিনে কবিতা লিখতেন। ১৭২৮ সালে স্টেলার মৃত্যু সুইফটকে গভীরভাবে আঘাত করে।
- এস্থার ভ্যানহোমরিঘ (Vanessa): তিনি ছিলেন এক তরুণী, যিনি সুইফটের প্রেমে পড়েছিলেন। সুইফট তাঁর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্টেলার প্রতি অনুগত ছিলেন। ভ্যানেসার মৃত্যুর পর সুইফটের জীবনে আরও বিষণ্ণতা নেমে আসে।
শেষ জীবন ও মৃত্যু (১৭৩০–১৭৪৫)
১৭৩০-এর দশক থেকে সুইফটের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তিনি মেনিয়ার রোগ (Ménière’s disease) বা অনুরূপ অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি কমে যায় এবং তিনি ক্রমশ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন।
১৭৪২ সালে তাঁকে “অক্ষম” ঘোষণা করা হয়। ১৭৪৫ সালের ১৯ অক্টোবর ডাবলিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে সেন্ট প্যাট্রিক ক্যাথিড্রালে সমাহিত করা হয়। তাঁর সমাধিলিপিতে লেখা আছে: “Here lies the body of Jonathan Swift… where savage indignation can no longer lacerate his heart.”
উত্তরাধিকার ও প্রভাব
জোনাথন সুইফট ইংরেজি সাহিত্যে ব্যঙ্গের এক নতুন মান স্থাপন করেন। তাঁর প্রভাব পড়েছে পরবর্তীকালের লেখকদের ওপর — যেমন: জর্জ অরওয়েল, ভলতेयर, মার্ক টোয়েন প্রমুখ।
Gulliver’s Travels আজও বিশ্বের সবচেয়ে পঠিত বইগুলোর একটি। A Modest Proposal আধুনিক ব্যঙ্গ সাহিত্যের আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ব্যঙ্গ শুধু হাস্যরস নয় — এটি সমাজের দর্পণ এবং পরিবর্তনের হাতিয়ারও হতে পারে।
আয়ারল্যান্ডে তিনি জাতীয় বীর হিসেবে সম্মানিত। তাঁর লেখা আয়ারল্যান্ডের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে সাহায্য করেছে।
জোনাথন সুইফট ছিলেন একজন জটিল ব্যক্তিত্ব — যিনি একদিকে রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছাকাছি ছিলেন, অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের দরিদ্র জনগণের পক্ষে লড়াই করেছেন। তাঁর জীবন ছিল সাহিত্যিক সাফল্য, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও শারীরিক যন্ত্রণার মিশ্রণ। তিনি দেখিয়েছেন — সত্য কথা বলা সবসময় বিপজ্জনক, কিন্তু প্রয়োজনীয়।
আজও তাঁর লেখা আমাদের সমাজ, রাজনীতি ও মানব প্রকৃতি সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে শেখায়।