Muhammad Ashraful Alam Sohel

স্বপ্ন
মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল

আমি স্বপ্ন দেখি:
বৃষ্টি, রোদ্দুর, কুয়াশা, ঢেউ এবং ফুলের হাসি ।
ঐ দূর আসমানের রঙধনু ।
ছেঁড়া দ্বীপের সৈকতে লাল কাঁকড়ার বুনো উল্লাস ।
মায়াবী জ্যোৎস্না রাতে নক্ষত্রের পতন ।
বৃহন্নলার বাঁকা ঠোঁটে মুচকি হাসি আর শিস দেয়া ।
প্রচণ্ড তুষারে বাইসন ষাঁড়ের স্থির দাঁড়িয়ে থাকা ।
মানুষরূপী নরপিশাচের পৈশাচিকতা ।
প্রাণের বিদ্যাপীঠে অতিবাহিত রঙিন দিনগুলো ।
আমাজন বনের আদিম নৃ-গোষ্ঠীর কৌতূহল চাহনি ।
শীতলক্ষ্যা নদীর কালো জলে লঞ্চডুবি ।
পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় জোনাকির গোপন অভিসার ।
সরষে ক্ষেতের আইল ধরে অষ্টাদশীর দুরন্ত পথচলা ।
কিংবা অপার মহাকাশে অতিনবতারার বিস্ফোরণ ।
স্বপ্ন দেখি প্রেয়সীকে ।
পরিযায়ী পাখি হয়ে সহস্র মাইল পথ পাড়ি দেই ৷
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাছাকাছি আসি ।
তার শরীরের উষ্ণতা ও হৃদকম্পন আমাকে শিহরিত করে ৷
এক স্বর্গীয় অনুভূতি, পরম শান্তি ও শাশ্বত ভালোবাসা ।
প্রত্যাশা করি, সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ ।
এই মৃত্যুন্মুখ গ্রহে টিকে থাকার স্বপ্ন দেখি ।

0 Comments

Muhammad Ashraful Alam Sohel

উজ্জ্বল নক্ষত্র
কবি: জন কিটস
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল

উজ্জ্বল নক্ষত্র, আমি যদি তোমার মত অবিচল হতাম—
নিঃসঙ্গ দ্যুতি ছড়িয়ে রাতের আকাশে না ঝুলে থেকে
এবং অনন্তকাল চেয়ে না থেকে,
প্রকৃতির ধৈর্যশীল, নিদ্রাহীন সন্ন্যাসীর মত,
প্রবহমান জলরাশি পুরোহিতের মত পবিত্র পুণ্যস্নানের কাজ করে চলেছে পৃথিবীর মানব উপকূলজুড়ে,
কিংবা পাহাড় ও বিস্তীর্ণ প্রান্তরের উপর সদ্য ঝরে পড়া বরফের নরম আবরণের দিকে তাকিয়ে থেকে—
না— তবুও অবিচল, এখনো অপরিবর্তনীয়,
আমার প্রিয়তমার পরিণত বুকের উপর বালিশের মত মাথা রেখে,
চিরকাল এর মৃদু ওঠা-নামা অনুভব করা,
এক মধুর অস্থিরতায় সর্বদা জেগে থেকে,
অবিরাম তার কোমল নিঃশ্বাস শুনে যাওয়া,
আর এভাবেই চিরকাল বেঁচে থাকা—
নয়তো বিমুগ্ধ হয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা ।

ছবি: ব্রিটানিকা (Joseph Severn আঁকা ছবি, ঊনবিংশ শতাব্দী) ।

0 Comments

Muhammad Ashraful Alam Sohel

হিমালয়
মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল

হে হিমালয়,
অপার সৌন্দর্যের অধিপতি,
কেন তোমার এই রুদ্ররূপ?
যে এমন নৃশংস মহাপ্রলয় ।
এ কি তোমার নিষ্ঠুর প্রতিশোধ?
তুমিইতো সৃষ্টি করেছো হিমবাহের জলাধার,
আবার তোমার বুক চিরেই সেখানে হিমবাহ ধস ।
হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও কম্পন
যার পরিণতি—
ভূমিধস,
কাদা-পাথর-ধুলো-পানির ক্ষিপ্র স্রোত
দুর্দান্ত প্রতাপে ধেয়ে আসে পাহাড়ী উপত্যকায় ।
যেখানে মৃত্যু, ধ্বংসলীলা, বিভীষিকা, আর্তনাদ
আর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ।
তোমার হিংস্রতার কাছে মানুষ নিদারুণ অসহায়!
হয়তো, তুমি এই তাণ্ডব করে অট্টহাসি হাসছো ।
কারণ তুমি পরাক্রমশালী
এবং এটিই তোমার অসীম শক্তির বহিঃপ্রকাশ ।
তবুও তুমি শান্ত হও ।
আমাদের ক্ষমা করো ।
নেপালের জন্য প্রার্থনা ।

ছবি: www.nbcnews.com

0 Comments

Muhammad Ashraful Alam Sohel

নক্ষত্র
মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল

আমি এক নক্ষত্র ।
হিমায়িত নীহারিকা থেকে জন্মগ্রহণ করেছি ।
উত্তপ্ত গ্যাসে পরিপূর্ণ ।
প্রচণ্ড উষ্ণতাই আমার অস্তিত্ব ।
অন্ধকার মহাকাশের শূন্যতায় বিরামহীন জ্বলতে থাকি ।
অসীম আলোর উৎস ।
আমার ধূলিকণা থেকে প্রাণের উৎপত্তি এবং সবকিছুই ।
নিজ জীবনচক্র হতে পারে কয়েক শত মিলিয়ন বছর ।
নয়তো, বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন বছর সময়কাল ।
জন্ম, বার্ধক্য ও মৃত্যুর মধ্য দিয়েই বিবর্তিত হই ।
এই অপার বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে প্রতিনিয়ত চলছে—
আমার জন্ম এবং মৃত্যুর খেলা ।
আদিকাল থেকেই ।
গঠন, তাপমাত্রা, উজ্জ্বলতা‌, বিবর্তন, জীবনচক্র এবং ধ্বংস ইত্যাদি নিজস্ব ভরের উপর নির্ভর করে ।
কোনো এক সময় জ্বালানি ফুরিয়ে প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে ভয়ঙ্কর শক্তিশালী বিস্ফোরণের সৃষ্টি করি ।
ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে মহাপ্লাবনের মত প্রবলবেগে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ি ।
স্ব বিনাশের মাত্রা বা মুহূর্তটি এতই তীব্র যে সমগ্র ছায়াপথের আলোর চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ।
যদিও আলোকচ্ছটার ঔজ্জ্বল্য দীর্ঘস্থায়ী হয় না ।
ধীরলয়ে নিষ্প্রভ হয়ে যায় ।
কখনো আমি এই বিশাল মহাজাগতিক অতিনব বিস্ফোরণের মাধ্যমে পুরো সৌরজগতকেও নিমিষেই ধ্বংস করতে পারি ।
সুতরাং, নারকীয় বিস্ফোরণেই আমার অগ্নিময় মৃত্যু হয় (Fiery death) ।
সেখানে পুনর্জন্ম লাভ করে পরবর্তী প্রজন্মের এক অতি উজ্জ্বল নিউট্রন নক্ষত্র ।
যার তাপমাত্রা থাকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড ।
এছাড়া পালসার নক্ষত্র, গ্রহ এবং শীতল নীহারিকা ।
অবশেষে প্রলয়ঙ্করী মহাকর্ষীয় পতন ঘটিয়ে কৃষ্ণগহ্বর সৃষ্টি করি ।
সেই দানব কৃষ্ণগহ্বরের অত্যধিক ঘনত্ব এবং প্রবল মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আশেপাশের সবকিছুই টেনে নেয় ।
এমনকি আলোকরশ্মিও এখান থেকে বের হতে পারে না ।
যা এক অদৃশ্য শক্তির রাজকীয় কর্তৃত্ব ।
আর এই স্থানে সকল বস্তু একত্রে ঘনীভূত হয়ে থাকে বিধায় এটিই তার এককতা বা অসাধারণত্ব (Singularity) ।
তাই, আমি শুধু স্বর্গীয় নই—
সৌভাগ্য, আশা, আকাঙ্ক্ষা, নির্দেশনা এবং অনন্তকালেরও প্রতীক ।
পৃথিবীর মানুষের কাছে সর্বদাই এক বিস্ময়!

ছবি: www.anandabazar.com

0 Comments

Muhammad Ashraful Alam Sohel

আমার প্রণয়িনীর চোখ সূর্যের মত নয়
উইলিয়াম শেক্সপিয়ার
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল

আমার প্রণয়িনীর চোখ সূর্যের মত নয়;
তার ঠোঁটের লালের চেয়ে প্রবাল অনেক বেশি লাল;
যদি বরফ সাদা হয়, তাহলে তার স্তন যুগল কেন ধূসর;
যদি চুলগুলো তারের মত হয়, তবে তার মাথায় কালো তার গজায় ।
আমি লাল ও সাদা রঙের নকশাকার গোলাপ দেখেছি,
কিন্তু তার গালে আমি এমন গোলাপ দেখি না;
আর কিছু সুগন্ধিতে আছে আমার প্রণয়িনীর গন্ধে ভরা নিঃশ্বাসের চেয়ে আরো বেশি আনন্দ ।
আমি তার কথা শুনতে ভালোবাসি,
তবুও আমি ভালো করেই জানি যে সঙ্গীতের সুর তার চেয়ে অনেক বেশি শ্রুতিমধুর;
আমি স্বীকার করি আমি কখনো কোনো দেবীকে যেতে দেখিনি;
আমার প্রণয়িনী যখন হাঁটে, সে মাটিতেই পা ফেলে ।
তবুও, ঈশ্বরের দিব্যি, আমি মনে করি আমার ভালোবাসা ততটাই দুর্লভ,
যতটা অন্য যে কোনো নারী—
যাকে মিথ্যা তুলনার মাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে ।

0 Comments

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...