সাহিত্যের পাতা থেকে

Ben Jonson (১৫৭২–১৬৩৭) ইংরেজ রেনেসাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও নাট্যকার। তাঁর কবিতায় প্রেম, মৃত্যু, সৌন্দর্য, ব্যঙ্গ ও জীবনের গভীর অনুভূতি ফুটে উঠেছে।

১. সেলিয়াকে গান (Song: To Celia – “Drink to me only with thine eyes”)

চোখ দিয়ে শুধু আমায় পান করাও তুমি,
আর আমি প্রতিদান দেব আমার চোখ দিয়ে।
অথবা চুম্বন রেখে যাও পেয়ালার মাঝে,
আর আমি আর ওয়াইন খুঁজব না কখনো।

আত্মা থেকে যে তৃষ্ণা জাগে,
তা চায় একটি ঐশ্বরিক পানীয়।
কিন্তু যদি আমি জোভের অমৃত পান করতে পারি,
তবু তোমার চুম্বনের সঙ্গে বদল করব না।

সম্প্রতি তোমায় পাঠিয়েছিলাম এক গোলাপের মালা,
তোমাকে সম্মান জানাতে নয়,
বরং এই আশায় যে সেখানে ফুল শুকাবে না।
কিন্তু তুমি শুধু তার উপর নিঃশ্বাস ফেলেছ,
আর ফিরিয়ে দিয়েছ আমার কাছে।
তারপর থেকে সেটি বেড়ে উঠেছে, গন্ধ ছড়াচ্ছে—
আমি শপথ করে বলছি, নিজের গন্ধে নয়, তোমার গন্ধে।

২. আমার প্রথম পুত্রের জন্য (On My First Son)

বিদায়, তুমি আমার ডান হাতের সন্তান, আমার আনন্দ।
আমার পাপ ছিল তোমার উপর অতিরিক্ত আশা, প্রিয় ছেলে।
সাত বছর তুমি আমার কাছে ধার দেওয়া হয়েছিল,
আর আমি তোমায় ফেরত দিলাম—নিয়তি যেদিন চাইল।

আহ, এখন যদি আমি সব পিতৃত্ব হারাতে পারতাম!
কেন মানুষ সেই অবস্থার জন্য শোক করবে,
যা সে ঈর্ষা করা উচিত?
তুমি এত তাড়াতাড়ি পৃথিবীর ও মাংসের ক্রোধ থেকে মুক্তি পেয়েছ,
আর যদি আর কোনো দুঃখ না থাকে, তবে বার্ধক্য থেকেও।

নরম শান্তিতে বিশ্রাম করো। যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে, বলো—
“এখানে শুয়ে আছে বেন জনসনের সেরা কবিতা।”
যার জন্য এখন থেকে তার সব প্রতিজ্ঞা এমন হোক,
যাতে সে যা ভালোবাসে, তা আর কখনো অতিরিক্ত ভালো না লাগে।

৩. সেলিয়াকে আরেকটি গান (Song: To Celia – “Come, my Celia, let us prove”)

এসো, আমার সেলিয়া, প্রমাণ করি আমরা,
যতক্ষণ পারি, প্রেমের খেলা।
সময় চিরকাল আমাদের থাকবে না,
একদিন সে আমাদের সুখ কেড়ে নেবে।

তাহলে তার দেওয়া উপহার বৃথা নষ্ট কোরো না।
সূর্য অস্ত যায়, আবার উঠতে পারে,
কিন্তু একবার যদি এই আলো হারাই,
তবে আমাদের জন্য চির রাত্রি।

কেন আমাদের আনন্দ পিছিয়ে রাখব?
খ্যাতি আর গুজব তো শুধু খেলনা।
আমরা কি কয়েকটা দরিদ্র গৃহভৃত্যের চোখ
ঠকাতে পারি না? অথবা তার সহজ কানকে বোকা বানাতে পারি না,
এমন চালাকিতে যে সে দূরে সরে যায়?

৪. রানি ও শিকারি (Queen and Huntress, Chaste and Fair)

রানি ও শিকারি, পবিত্র ও সুন্দরী,
এখন সূর্য ঘুমিয়ে পড়েছে।
তোমার রুপোলি আসনে বসে
পুরনো রীতি মেনে রাজত্ব করো।

হেসপেরাস তোমার আলো চায়,
দেবী, অসাধারণ উজ্জ্বল।
পৃথিবী, তোমার হিংস্র ছায়া যেন
মাঝখানে এসে না দাঁড়ায়।
সিন্থিয়ার উজ্জ্বল গোলক তৈরি হয়েছিল
দিন শেষে আকাশ পরিষ্কার করতে।
তাহলে আমাদের কাঙ্ক্ষিত দৃষ্টি দাও,
দেবী, অসাধারণ উজ্জ্বল।

তোমার মুক্তোর ধনুক একপাশে রাখো,
আর তোমার স্ফটিকের ঝলমলে তূণ।
উড়ন্ত হরিণকে দাও
শ্বাস নেওয়ার জায়গা, যতই সংক্ষিপ্ত হোক।
তুমি যে রাতকে দিন বানাও,
দেবী, অসাধারণ উজ্জ্বল।

৫. এখনও পরিপাটি, এখনও সাজানো (Still to Be Neat, Still to Be Dressed)

এখনও পরিপাটি, এখনও সাজানো,
যেন তুমি ভোজে যাচ্ছ।
এখনও গুঁড়ো মাখা, এখনও সুগন্ধী,
মহিলা, ধরে নেওয়া যায়—
যদিও শিল্পের গোপন কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না,
সব মিষ্টি নয়, সব শুদ্ধ নয়।

আমাকে দাও একটি দৃষ্টি, দাও একটি মুখ,
যা সরলতাকে করে তোলে অনুগ্রহ।
আলগা বয়ে যাওয়া পোশাক, মুক্ত চুল—
এমন মধুর অবহেলা আমায় বেশি টানে
শিল্পের সব প্রতারণার চেয়ে।
তারা চোখে আঘাত করে, কিন্তু হৃদয়ে নয়।

৬. এলিজাবেথ, এল. এইচ.-এর সমাধিলিপি (Epitaph on Elizabeth, L. H.)

তুমি কি শুনতে চাও মানুষ কী বলতে পারে
অল্প কথায়? পাঠক, থামো।

এই পাথরের নিচে শুয়ে আছে
যতটা সৌন্দর্য মরতে পারে।
যে জীবনে আশ্রয় দিয়েছিল
যতটা গুণাবলি বেঁচে থাকতে পারে।

যদি তার কোনো দোষ থেকে থাকে,
তা এই সমাধিতে পুঁতে রাখো।
এক নাম ছিল এলিজাবেথ,
অন্যটি মৃত্যুর সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকুক।
যেখানে সেটি মারা গেছে, সেখানেই বলা ভালো,
যে সেটি কখনো বেঁচে ছিল।

বিদায়।

৭. আমার প্রথম কন্যার জন্য (On My First Daughter)

এখানে শুয়ে আছে—প্রত্যেক পিতামাতার দুঃখের জন্য—
মেরি, তাদের যৌবনের কন্যা।
তবু স্বর্গের সব উপহার স্বর্গের প্রাপ্য,
তাই পিতা কম শোক করেন।

ছয় মাস শেষে সে এখান থেকে চলে গেল
তার নির্দোষতার নিরাপত্তায়।
যার আত্মা স্বর্গের রানি (যার নাম সে বহন করে)
মায়ের অশ্রুর সান্ত্বনায়
তাঁর কুমারীদের দলে স্থান দিয়েছেন।
যতক্ষণ সেই বিচ্ছেদ থাকে,
এই কবর শেয়ার করে মাংসের জন্ম।
যা হালকাভাবে ঢেকে রাখো, কোমল পৃথিবী।

৮. বালিঘড়ি (The Hourglass)

এই ছোট ধুলো দেখো, বালিঘড়িতে ছুটছে,
পরমাণু দিয়ে চালিত।
তুমি কি বিশ্বাস করতে পারো যে এটি ছিল
একজন প্রেমিকের দেহ?

এবং তার প্রেমিকার আগুনে, মাছির মতো খেলা করে,
তার চোখের আঘাতে ছাই হয়ে গেছে।
হ্যাঁ; আর মৃত্যুতে, যেমন জীবনে, অশান্ত—
এটি প্রকাশ করতে গিয়ে,
এমনকি প্রেমিকদের ছাইও বিশ্রাম পায় না।

৯. স্কটল্যান্ডে রেখে আসা আমার ছবি (My Picture Left in Scotland)

এখন আমি ভাবি প্রেম অন্ধের চেয়ে বধির বেশি,
কারণ অন্যথায় এটা হতে পারত না
যে সে, যাকে আমি এত ভালোবাসি, আমায় এত অবহেলা করবে
আর আমার প্রেম পেছনে ফেলে দেবে।

আমি নিশ্চিত আমার ছবি আমার মতো নয়,
অথবা যদি হয়, তবে সে ভুল পড়েছে,
অথবা কোনো একজনের কাছ থেকে পারিশ্রমিক নিয়েছে
যে ছবিটি পছন্দ করেনি, বা আমায়।

অথবা সে আমার ছবি দেখেছে আর ভয় পেয়েছে
সবচেয়ে খারাপটা, আর তাই ঘৃণা করেছে
সেই জিনিসটাকে যা তার ভালোবাসা এত কমিয়ে দিয়েছে।
অথবা সে এত আলোয় অন্ধ হয়ে সেটা দেখেনি।
অথবা সে নিষ্ঠুর ছিল।

(কবিতাটি witty self-mockery-এ ভরা—কবি নিজের বয়স, চেহারা ও ছবির কথা বলে হাস্যরসাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যানের কারণ খুঁজছেন।)

১০. শিল্পের বিরুদ্ধে ছন্দের খেয়াল (A Fit of Rhyme against Rhyme – সংক্ষিপ্ত রূপ)

(এটি একটি witty, satirical কবিতা যেখানে জনসন ছন্দ ও কবিতার প্রতি নিজের ভালোবাসা ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। মূল কবিতাটি দীর্ঘ, কিন্তু এর সারাংশ:)

ছন্দ, তুমি আমার পুরনো শত্রু,
তবু আমি তোমায় ভালোবাসি।
তুমি আমায় বাঁধো, আবার মুক্ত করো,
হাস্যরসে ভরা, কিন্তু কঠোর।
কবিতা ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ,
আর ছন্দ ছাড়া কবিতা শুধু গদ্য।

বেন জনসন: রেনেসাঁ যুগের মহান নাট্যকার, কবি ও সাহিত্যিক সমালোচক (১৫৭২–১৬৩৭)

বেন জনসন (Ben Jonson) ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে উইলিয়াম শেকসপিয়রের সমসাময়িক একজন অন্যতম প্রভাবশালী নাট্যকার, কবি ও নাট্যতাত্ত্বিক। তিনি ছিলেন “কমেডি অব হিউমার্স” (Comedy of Humours)-এর প্রবর্তক, শাস্ত্রীয় নাট্যরীতির প্রবক্তা এবং ইংরেজি ভাষায় প্রথম নাট্যকার যিনি নিজের নাটকগুলোকে “ওয়ার্কস” (Works) বলে প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর জীবন ছিল ঝড়ো, সংগ্রামময় এবং অসাধারণ সৃজনশীলতায় ভরা। তিনি ইট-পাথরের মিস্ত্রি থেকে শুরু করে আদালতের কবি-পুরস্কারপ্রাপ্ত (Poet Laureate) হয়েছিলেন, একাধিকবার কারাগারে গিয়েছিলেন, ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন এবং শেষ জীবনে স্ট্রোকের কারণে পঙ্গু হয়ে পড়েছিলেন। তবু তাঁর সাহিত্যিক অবদান আজও ইংরেজি নাট্য ও কবিতার অন্যতম স্তম্ভ।

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা

বেন জনসনের জন্ম হয় প্রায় ১১ জুন ১৫৭২ সালে লন্ডনের কাছাকাছি কোনো স্থানে। তাঁর পিতা ছিলেন একজন সম্পন্ন প্রটেস্ট্যান্ট জমিদার, যিনি রানি মেরি টিউডরের সময় সম্পত্তি হারিয়ে কারাগারে যান এবং পরে ধর্মযাজক হয়েছিলেন। জনসনের জন্মের এক মাস আগে পিতা মারা যান। মা দুই বছর পর একজন দক্ষ ইট-পাথরের মিস্ত্রিকে (master bricklayer) বিয়ে করেন।

শৈশবে তিনি সেন্ট মার্টিন্স লেনের একটি ছোট গির্জার স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলে ভর্তি হন, যেখানে তাঁর শিক্ষক ছিলেন বিখ্যাত পণ্ডিত উইলিয়াম ক্যামডেন (William Camden)। ক্যামডেনের কাছ থেকে তিনি শাস্ত্রীয় সাহিত্য (Greek ও Latin), ইতিহাস ও নাট্যতত্ত্বের গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। এই শিক্ষা তাঁর সারা জীবনের সাহিত্যিক রীতিকে প্রভাবিত করে। ১৫৮৯ সালে তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কেমব্রিজের সেন্ট জনস কলেজে পড়তে যান, কিন্তু সৎবাবার ইট-পাথরের কাজে যোগ দিতে ফিরে আসেন। একবার তিনি লিংকনস ইন-এর বাগানের দেওয়াল তৈরি করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক টমাস ফুলার উল্লেখ করেছেন।

সামরিক জীবন ও থিয়েটারে প্রবেশ

ইট-পাথরের কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে জনসন নেদারল্যান্ডসে (Low Countries) ইংরেজ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সেখানে স্পেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়ে একক যুদ্ধে (single combat) এক শত্রু সৈন্যকে হত্যা করেন এবং তার অস্ত্র-সরঞ্জাম নিয়ে ফিরে আসেন—এটি ছিল তাঁর ক্লাসিক্যাল বীরত্বের প্রমাণ।

ইংল্যান্ডে ফিরে তিনি অভিনেতা ও নাট্যকার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ফিলিপ হেনসলোর অ্যাডমিরালস মেন কোম্পানিতে যোগ দেন। ১৫৯৭ সালে থমাস ন্যাশের সঙ্গে লেখা The Isle of Dogs নাটকটি “রাষ্ট্রবিরোধী” বলে নিষিদ্ধ হয় এবং জনসন মার্শালসি কারাগারে বন্দি হন।

নাট্যজগতে উত্থান: “কমেডি অব হিউমার্স”

১৫৯৮ সালে তাঁর Every Man in His Humour মঞ্চস্থ হয় এবং বিপুল সাফল্য লাভ করে। এই নাটকে তিনি “কমেডি অব হিউমার্স” নামক নতুন ধারার প্রবর্তন করেন—যেখানে চরিত্রগুলোকে তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য (humour) অনুসারে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়। শেকসপিয়র এই নাটকে অভিনয় করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এরপর Every Man out of His Humour (১৫৯৯) এবং অন্যান্য নাটক লেখেন।

যুদ্ধ, কারাবাস ও ধর্মান্তর

১৫৯৮ সালে অভিনেতা গ্যাব্রিয়েল স্পেন্সারের সঙ্গে দ্বন্দ্বযুদ্ধে (duel) জনসন তাকে হত্যা করেন। হত্যার অভিযোগে বিচার হলে তিনি “বেনিফিট অব ক্লার্জি” (Benefit of Clergy) দাবি করে লাতিন বাইবেল পাঠ করে মৃত্যুদণ্ড থেকে রক্ষা পান, কিন্তু থাম্বে “Tyburn T” চিহ্নিত হয়ে সম্পত্তি হারান। নিউগেট কারাগারে বন্দি অবস্থায় তিনি ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষিত হন (জেসুইট পুরোহিত ফাদার টমাস রাইটের প্রভাবে)। প্রায় ১২ বছর ক্যাথলিক থাকার পর ১৬১০ সালে তিনি আবার চার্চ অব ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন।

একই সময়ে তিনি জন মার্সটন ও থমাস ডেকারের সঙ্গে “War of the Theatres” (কবি-নাট্যকারদের যুদ্ধ)-এ জড়িয়ে পড়েন। Cynthia’s Revels (১৬০০) ও The Poetaster (১৬০১)-এ তিনি তাঁদের ব্যঙ্গ করেন। ডেকার Satiromastix-এ জনসনকে উপহাস করেন। পরে তাঁরা মিলিত হন এবং ১৬০৫ সালে জর্জ চ্যাপম্যানের সঙ্গে Eastward Ho! লেখেন, যাতে স্কটিশদের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গ থাকায় তিনি আবার কারাগারে যান।

শ্রেষ্ঠ নাটক ও সাহিত্যিক সাফল্য

জনসনের শ্রেষ্ঠ কাজগুলো ১৬০৬–১৬১৪ সালের মধ্যে রচিত:

  • Volpone, or The Fox (১৬০৬): লোভ ও প্রতারণার অসাধারণ ব্যঙ্গনাটক। ভেনিসের পটভূমিতে লেখা এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ।
  • Epicoene, or The Silent Woman (১৬০৯): শহুরে কমেডি, যেখানে নৈতিক দ্বন্দ্ব দেখানো হয়েছে।
  • The Alchemist (১৬১০): প্রতারণা ও লোভের উপর ভিত্তি করে লেখা, ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম নিখুঁত প্লটের নাটক।
  • Bartholomew Fair (১৬১৪): লন্ডনের বিখ্যাত মেলার পটভূমিতে লেখা, সমাজের ভণ্ডামি ও বিশৃঙ্খলার তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ।

তাঁর ট্র্যাজেডি Sejanus His Fall (১৬০৩) ও Catiline His Conspiracy (১৬১১) শাস্ত্রীয় অনুকরণে লেখা হলেও জনপ্রিয়তা কম পায়।

আদালতের মাস্ক ও ইনিগো জোন্সের সঙ্গে সহযোগিতা

জেমস প্রথম ও রানি অ্যানের আদালতে জনসন প্রায় দুই ডজন মাস্ক (masque) লেখেন—যেখানে কথা, নৃত্য ও দৃশ্যশিল্পের মিলন ঘটে। ইনিগো জোন্সের সঙ্গে দীর্ঘ সহযোগিতা ছিল (যেমন The Masque of Blackness, Oberon), কিন্তু পরে তাঁদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ হয় এবং জনসনের মাস্ক-লেখার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

১৬১৬ সালের ফোলিও ও কবি-পুরস্কার

১৬১৬ সালে তিনি The Workes of Benjamin Jonson প্রকাশ করেন—ইংরেজি ভাষায় প্রথমবারের মতো কোনো নাট্যকার নিজের নাটককে “ওয়ার্কস” বলে সংকলন করলেন। এটি শেকসপিয়রের ১৬২৩ ফোলিওর আগেই প্রকাশিত হয়। জেমস প্রথম তাঁকে অনানুষ্ঠানিকভাবে Poet Laureate-এর দায়িত্ব দেন। ১৬১৯ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক এম.এ. ডিগ্রি প্রদান করে।

শেষ জীবন: অসুস্থতা, দারিদ্র্য ও মৃত্যু

১৬২৩ সালে আগুনে তাঁর গ্রন্থাগার পুড়ে যায়। ১৬২৫ সালে জেমসের মৃত্যুর পর আদালতের প্রভাব কমে যায়। ১৬২৮ সাল থেকে স্ট্রোকের কারণে তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। চার্লস প্রথমের সময়ও তিনি কয়েকটি নাটক লেখেন (The Staple of News, The New Inn ইত্যাদি), কিন্তু সেগুলো ব্যর্থ হয়। ১৬২৮ সালে তিনি লন্ডন শহরের Chronologer নিযুক্ত হন।

৬ আগস্ট ১৬৩৭ সালে তিনি মারা যান। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে তাঁকে সমাহিত করা হয়। সমাধির উপর লেখা আছে: “O Rare Ben Jonson” (ওহে বিরল বেন জনসন)। মৃত্যুর সময় তাঁর আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল।

সাহিত্যিক অবদান ও উত্তরাধিকার

জনসনের কবিতা শাস্ত্রীয় অনুশাসন (Horace, Aristotle)-এর অনুসারী। তাঁর বিখ্যাত কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • Song: To Celia (“Drink to me only with thine eyes”)
  • On My First Son (পুত্র বেঞ্জামিনের মৃত্যুতে লেখা হৃদয়স্পর্শী এলিজি)
  • To the Memory of My Beloved, the Author, Mr. William Shakespeare
  • To Penshurst (দেশের বাড়ির কবিতা)
  • A Celebration of Charis সিরিজ

তিনি এপিগ্রাম, ওড এবং দেশাত্মবোধক কবিতাও লিখেছেন। তাঁর নাট্যশৈলী শেকসপিয়রের রোমান্টিকতার বিপরীতে বাস্তববাদী, ব্যঙ্গাত্মক ও শাস্ত্রীয়। ড্রাইডেন তাঁকে “learned” বলে প্রশংসা করেছেন, যদিও শেকসপিয়রের তুলনায় কম সৃজনশীল বলে মন্তব্য করেছেন।

জনসনের প্রভাব Restoration comedy, Augustan poetry এবং আধুনিক সাহিত্য সমালোচনায় স্পষ্ট। তিনি ইংরেজি নাট্যকে শাস্ত্রীয় মর্যাদা দিয়েছিলেন এবং “comedy of humours” ধারার মাধ্যমে চরিত্র-বিশ্লেষণের নতুন পথ খুলে দিয়েছিলেন।

বেন জনসনের জীবন ছিল এক অসাধারণ যাত্রা—ইট-পাথরের মিস্ত্রি থেকে আদালতের কবি, কারাগার থেকে সাহিত্যিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত দুঃখ-দুর্দশা থেকে অমর সৃষ্টি। তিনি শেকসপিয়রের মতো জনপ্রিয় না হলেও, তাঁর শাস্ত্রীয় শৃঙ্খলা, ব্যঙ্গের তীক্ষ্ণতা এবং সাহিত্যিক আত্মমর্যাদা ইংরেজি সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। আজও Volpone, The Alchemist বা To Celia পড়লে মনে হয়—একজন “rare” প্রতিভা পৃথিবীতে এসেছিলেন।

0 Comments

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...