Dr.ChanchalKumar Mondal

কপোত- কপোতী সংলাপ
চঞ্চলকুমার মণ্ডল
* আমার সাথে ঘর বাঁধলে হত কি এমন ক্ষতি?
-ঘর বাঁধলে কি হতাম তোমার কাব্য সরস্বতী?
* না হও ‘কাব্য সরস্বতী’, হতে তো ‘ হৃদয় লক্ষী’?
– হৃদয় লক্ষী না হয়ে হতাম ঝগড়ুটে শালিক পক্ষী!
– বলছ কেন এমন করে? ভীষণ কষ্ট এ বিচ্ছেদে!
– পাশাপাশি থাকলে দু’জন ঝগড়া যেত রোজ বেঁধে।
– মোটেই না,পেলে তোমায় রাখতাম বুকের ঘরে;
– পেয়ে গেলে এমন থাকত কি টান? পেয়ে গেলেই প্রেম মরে!
– কিন্তু এই যে না পেয়ে এত আক্ষেপ জমে মনে?
– কেউ কাউকে পাইনি তাই ভীষণ চাই দুজন- দুজনে!
* পেয়ে গেলেই তো কাছাকাছি,হতো নীবিড় ভালোবাসাবাসি;
-পেয়ে গেলে প্রেম একঘেয়েমি তে হয়তো হতো বাসি।
.এমনও বা হতো, প্রেম-মধুতে বুকটা যেত ভরে;
– সংসারের নিত্য চাওয়া পাওয়া তে প্রেম যেত ঠিক মরে।
.কিন্তু না পাওয়ার আক্ষেপে যে পুড়ছি ভীষণ জ্বরে?
-তাইতো লেখ বিরহের গান কবিতার অক্ষরে!
.জানো কি তোমার প্রতি আমার কি যে অগাধ টান?
– আছে বলে টান নিত্য রচো বিরহের কবিতা- গান।
.জানো কি তোমায় ভেবে গোপনে ভাসি চোখের জলে?
– নিত্য পোড়ায় না পাওয়ারা, তাই হৃদয় কথা বলে।
.তোমায় নিয়ে কল্পনার সংসার বাঁধি সে মিছেমিছি;
-পেয়ে গেলে হয়তো হতাম দু’জন পেঁচা- পেঁচি!
.তা হই তবু থাকতাম তো দু’জন কাছাকাছি;
-হয়তো নিত্য বাঁধত ঝগড়া,করতাম চেঁচামেচি।
.মোটেই না,বরং পেলে করতাম খুব যতন!
– এই পৃথিবীতে কেউ হতে পারে না কারুরই মনের মতন।
.হৃদয়ে হৃদয় বেঁধে চিরকাল থাকতে চেয়েছিলাম জুড়ে;
– না পাওয়ারাই লেখনী ধরায়,লেখায় হৃদয় খুঁড়ে।
.এইটুকু কি সান্ত্বনা তবে ‘কাব্য সরস্বতী’?
-ক্ষতি কি তোমার হলাম না হয় দুঃখের অমরাবতী?
.কল্পনার ঘরে রইলে হয়ে ব্যথা পাওয়া উপহার;
– না পোড়ালে আগুনে সোনা হয় কি অলঙ্কার?
. বলতে কি চাও বিরহ দহনে পুড়িয়ে করবে খাঁটি?
-বুকের ঘরে পরস্পরে না হয় করে রাখি পরিপাটি!
.গোপন প্রেম রাখি সে গোপনে সাজিয়ে বুকের ঘরে;
– ক্ষতি কি যদি গোপন রাখি সৌন্দর্যে যাবে ভরে।
.বেশ তো না হয় গোপনে পুড়ে যাই বিচ্ছেদের যন্ত্রনায়!
-এক জীবনে চাইলেই কি আর সবকিছু পাওয়া যায়?
.চাইনি তো বেশি কিছু তোমার চেয়েছিলাম ভালোবাসা;
-এক জীবনে করতে নেই যে সবটুকু পাওয়ার আশা!
.জীবন তবে কাটবে কি বুকে, নিয়ে এই আক্ষেপ-হতাশা?
-কিছু আক্ষেপ হতাশা না হয় থাক না বুকের ঘরে?
সবকিছু পাওয়া হয়ে গেলে জীবন একঘেয়েমি তে যায় ভরে।
দু’জন দু’জন কে রেখে দিই না হয় যত্নে বুকের ঘরে।।
রয়ে গেলাম না হয় খুব গোপনে বুকের ঘরে চিরতরে!!

0 Comments

Dr.ChanchalKumar Mondal

সবই হলো আমাদের মনে মনে
চঞ্চলকুমার মণ্ডল
সবই হলো আমাদের একে একে, করে ছিলাম যা যা আশা;
ঘর হলো,সংসার হলো,হলো নীবিড় ভালোবাসা।
সোহাগে- আদরে চুম্বন হলো,মুছে দ্বিধা সংশয়;
লতায় পাতায় জড়িয়ে হলো শরীরি উত্তাপ বিনিময়।
চোখে চোখ রেখে হারিয়ে যাওয়া,বুকে বীভৎস ঢেউ তুলে;
পরখ করেছি দু’জন,দুজনে পরাগ মেখে পাপড়ি খুলে।
কত সোহাগ সময় পার হলো এভাবে দুজনে খেলে হেসে;
যখনই চেয়েছি এসেছ তুমি,দিয়েছ ধরা ভালোবেসে।
জীবন মোহনায় মিলেছি দুজন কত ঢেউ তুলে তুলে;
সোহাগী চুম্বন এঁকেছি তোমারও শ্রী চরণ থেকে চুলে।
নগ্ন হয়ে অতি মগ্ন হয়েছি তোমার ও রূপের ছটায়;
শিশু দুগ্ধ করেছি পান স্তনের ও বাদামি বোঁটায়।
সুরার নেশায় ডুবেছি কত ধুতরার মধু-বিষে;
নিতম্ব ধরে আদরে আদরে দুমড়ে- মুচড়ে,পিষে।।
শরীরী নেশায় পাগল- বিভোর,ভেসে গেছি স্ব বেগে;
যেমন করে বজ্র ছুঁয়ে দেয় বিদ্যুৎ রেখায় মেঘে।
তেমন করে প্রেমের দাবীতে,
বিভোর তোমার ও চন্দ্র নাভিতে।
সোহাগ সুখে কদম্ব বুকে এঁকেছি ভালোবাসার চিহ্ন;
শরীরী ওমে জড়িয়ে লতায় -পাতায়,দুই শরীর অভিন্ন।
তোমার ছোঁয়া পেলেই ‘ এমন বিভোর পাগল প্রায়;
সবই হলো আমাদের মনে মনে স্বপ্নে- কল্পনায়।
বাস্তবে না পাওয়া আক্ষেপ হাহাকার এভাবেই মেটানো যায়।
হৃদয় ঘরের অনাদি চাওয়া,পাওয়া যায় হাতে নাতে;
বাস্তবে না পাওয়ারা অনায়াসে মেলে কষ্ট কল্পনা তে।
কল্পনারও কষ্ট থাকে,যন্ত্রনা থাকে কিছু;
যাকে ঘিরে এত ভাবনা, সেই ভাবনারা কি ছাড়ে পিছু?
ভাবনারা সব তাড়িয়ে বেড়ায়,কল্পনা রাও মরে শোকে;
স্বপ্ন ভাঙলে ফিরে হুঁশ, নির্মম বাস্তব লোকে।
যন্ত্রনারা চেপে ধরে তখন ভীষণ প্রত্যাঘাতে;
সবই হলো আমাদের মনে মনে যত মিথ্যা কল্পনাতে।
মিথ্যা হলেও পূর্ণ হলো একে একে সবই তা;
শরীরী ভাঁজের ছন্দে বাজে হৃদয়ের গান- কবিতা।
স্বপ্ন- কল্পনাতে ডুবে, করে যাই শরীরী স্নান;
তোমার শরীর আমার কাব্য লোকের শব্দ- অভিধান!
শরীরী রূপে শিল্প আঁকি কল্পনায় রাত কাটে;
কবিতার প্রতিটি শব্দ শরীরে স্বপ্নেরা রোজ হাঁটে।।

0 Comments

Dr.ChanchalKumar Mondal

অনু গল্প
বান্ধবীর উপহার
ড.চঞ্চলকুমার মণ্ডল
“তোমার নাম কি?”
স্যার, আমার নাম ‘ প্রিয় গোপাল মাইতি’।
‘মিথ্যে কথা! তোমার নাম তো, প্রিয় গোলাপ মাইতি!’
না,স্যার! আমার নাম,প্রিয় গোপাল মাইতি।
একেবারেই না! তুমি,তোমার নিজের নামটাই জানো না। কতখানি নির্বোধ ছাত্র তুমি! নিজের নামটাই ভুল বলছ?
না,স্যার! সত্যিই বলছি,আমার নাম প্রিয় গোপাল। প্রিয় গোলাপ নয়!
কিন্তু,তুমি যে তোমার দরখাস্তের নীচে স্বাক্ষর করেছ,”প্রিয় গোলাপ মাইতি?”
অবশ্য ওপরে প্রিয় গোপাল মাইতি লিখেছ। তার মানে,দু জায়গায়,দুরকম নাম, মানে টা কি?
ছাত্র টি মাথা চুলকোতে চুলকোতে ‘না,স্যার! কিভাবে লেখা হয়ে গেছে।’
কিভাবে হয়ে গেছে মানে?নিজের নাম নিজে ভুল করে লিখতে পারে কেউ? তাও,আবার নিজের স্বাক্ষর দিতে কেউ ভুল নাম লেখে?ক্লাসে তোমরা উপস্থিত থাক না। ক্লাস পারসেন্টটেজ অত্যন্ত কম। তাই তোমাদের আবেদন জানিয়ে দরখাস্ত দিতে বললাম,যাতে এরপর থেকে নিয়মিত ক্লাসে আসো এই অঙ্গীকারে। তাই,বলে দরখাস্ত টুকু লিখতে গিয়েও নিজের নামটাই ভুল লিখবে? এই তোমাদের পড়াশোনার প্রতি সচেতনতা? সবসময় মোবাইলে ডুবে থেকে নামের স্বাক্ষর করতে গিয়ে নিজের নামটাই ভুল লিখে দিয়ে দিলে? এই তোমাদের উন্নতি?
‘না,স্যার! আসলে আমার বান্ধবী কে বলেছিলাম দরখাস্ত টা লিখে দিতে।’
বেশ তো! তা নয় মানলাম।তবে,তোমার সই? ওটা কি তুমি দেখে করো নি?
না,স্যার! সই টা ও আমার বান্ধবী করে দিয়ে ছিল।
কি বললে কি? তোমার সই তুমি নিজে করোনি? ও!তাই বলো!এতক্ষণে বুঝলাম তোমার বান্ধবী ভালোবেসে গোলাপ দিযেছে।তাই,প্রিয় গোপাল না লিখে ভালোবেসে প্রিয় গোলাপ লিখে দিযেছে? ছাত্র জীবন থেকে বৎস এতটাই বান্ধবী নির্ভর তুমি?…বান্ধবী ভালোবেসে ‘গোপাল’ কে উড়িয়ে দিয়ে ‘গোলাপ’ লিখে দিয়ছে,আর তুমি চোখ বুজে সেটাই টেবিলে নির্দিধায় দিয়ে দিলে? তোমার বান্ধবী প্রীতি কে বাহবা দিতেই হয়।তোমার দরখাস্ত টা নিয়ে যাও বৎস! তুমি এটা স্মৃতি স্বরূপ ভালোবেসে বানিয়ে রেখে দাও নিজের কাছে। …

0 Comments

Dr.ChanchalKumar Mondal

অনু গল্প
বান্ধবীর উপহার
ড.চঞ্চলকুমার মণ্ডল
“তোমার নাম কি?”
স্যার, আমার নাম ‘ প্রিয় গোপাল মাইতি’।
‘মিথ্যে কথা! তোমার নাম তো, প্রিয় গোলাপ মাইতি!’
না,স্যার! আমার নাম,প্রিয় গোপাল মাইতি।
একেবারেই না! তুমি,তোমার নিজের নামটাই জানো না। কতখানি নির্বোধ ছাত্র তুমি! নিজের নামটাই ভুল বলছ?
না,স্যার! সত্যিই বলছি,আমার নাম প্রিয় গোপাল। প্রিয় গোলাপ নয়!
কিন্তু,তুমি যে তোমার দরখাস্তের নীচে স্বাক্ষর করেছ,”প্রিয় গোলাপ মাইতি?”
অবশ্য ওপরে প্রিয় গোপাল মাইতি লিখেছ। তার মানে,দু জায়গায়,দুরকম নাম, মানে টা কি?
ছাত্র টি মাথা চুলকোতে চুলকোতে ‘না,স্যার! কিভাবে লেখা হয়ে গেছে।’
কিভাবে হয়ে গেছে মানে?নিজের নাম নিজে ভুল করে লিখতে পারে কেউ? তাও,আবার নিজের স্বাক্ষর দিতে কেউ ভুল নাম লেখে?ক্লাসে তোমরা উপস্থিত থাক না। ক্লাস পারসেন্টটেজ অত্যন্ত কম। তাই তোমাদের আবেদন জানিয়ে দরখাস্ত দিতে বললাম,যাতে এরপর থেকে নিয়মিত ক্লাসে আসো এই অঙ্গীকারে। তাই,বলে দরখাস্ত টুকু লিখতে গিয়েও নিজের নামটাই ভুল লিখবে? এই তোমাদের পড়াশোনার প্রতি সচেতনতা? সবসময় মোবাইলে ডুবে থেকে নামের স্বাক্ষর করতে গিয়ে নিজের নামটাই ভুল লিখে দিয়ে দিলে? এই তোমাদের উন্নতি?
‘না,স্যার! আসলে আমার বান্ধবী কে বলেছিলাম দরখাস্ত টা লিখে দিতে।’
বেশ তো! তা নয় মানলাম।তবে,তোমার সই? ওটা কি তুমি দেখে করো নি?
না,স্যার! সই টা ও আমার বান্ধবী করে দিয়ে ছিল।
কি বললে কি? তোমার সই তুমি নিজে করোনি? ও!তাই বলো!এতক্ষণে বুঝলাম তোমার বান্ধবী ভালোবেসে গোলাপ দিযেছে।তাই,প্রিয় গোপাল না লিখে ভালোবেসে প্রিয় গোলাপ লিখে দিযেছে? ছাত্র জীবন থেকে বৎস এতটাই বান্ধবী নির্ভর তুমি?…বান্ধবী ভালোবেসে ‘গোপাল’ কে উড়িয়ে দিয়ে ‘গোলাপ’ লিখে দিয়ছে,আর তুমি চোখ বুজে সেটাই টেবিলে নির্দিধায় দিয়ে দিলে? তোমার বান্ধবী প্রীতি কে বাহবা দিতেই হয়।তোমার দরখাস্ত টা নিয়ে যাও বৎস! তুমি এটা স্মৃতি স্বারূপ ভালোবেসে বানিয়ে রেখে দাও নিজের কাছে। …

0 Comments