আশ্বিনের শিউলি ঝরা
শরতের আশ্বিনকে বলা হয় শুভ্রতার প্রতিক। শরতের আশ্বিন মানেই বৈচিত্র্যময় লাবণ্যময়ী। সাদা কাশফুল, শিউলী ঝরা সকাল, ঢাকের শব্দ, স্নিদ্ব জ্যোস্না আলোছায়া খেলা দিনভর। আশ্বিনে শরত সেজে উঠে ভোরের শিউলি ফুল আর ঘাসের উপর হালকা মুক্তোর দানা শিশির ভেজা মিষ্টি রোদের পশরা নিয়ে । শাপলা,শালুক,পদ্ম,জুঁই, মল্লিকা, মালতি, ছাতিম, দোলনচাঁপা, জারুল, নয়নতারা ধুতরা, কেয়া আর কাশফুলে সৌরভের ছড়াবে প্রকৃতির রানী শরৎ। শরতের মেঘহীন নির্মল নীলাকাশে সাদা মেঘমালার ভেলা ভেসে বেড়ানো সাথে সবুজ মাঠের উপর উড়ে যায় শালিক, ময়না, টিয়েঝাঁক। অবারিত সবুজ মাঠের ছোঁয়ায় নিথর প্রকৃতি ফিরে পায় সজীবতা। অপরূপ চিত্র আশ্বিন শরতের আগমনে শ্বেত শুভ্র রূপ লাবণ্যে নতুন সাঝে সেজে উঠবে প্রকৃতি। বিলের জলে নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে লাল, সাদা শাপলা,শালুক ফুল।
শরতের আশ্বিন রূপ ঐশ্বর্য এত মোহ এত বৈচিত্র্যময়। প্রকৃতির অপরূপ অপার সৌন্দর্যে মোহিতরূপের সান্নিধ্যে চায় প্রকৃতির কাছাকাছি । কবিও খুঁজে ফেরে তারে —
আশ্বিন এলেই ভোরের বাতাসে কেমন এক মায়াবী গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে—শিউলির গন্ধ। রাতের আঁধার পেরিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই সাদা-কমলা শিউলিরা নীরবে ঝরে পড়ে ঘাসের বুকে, যেন প্রকৃতি আপন হাতে লিখে রাখে শরতের শুভেচ্ছাপত্র। শিশিরভেজা পথে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, হারিয়ে যাওয়া শৈশব বুঝি আবার ফিরে এসেছে। শিউলি কুড়োনোর সেই ভোর, মায়ের আঁচল, পূজার গন্ধ আর অকারণ আনন্দ—সবকিছু মিশে যায় আশ্বিনের কোমল হাওয়ায়। শিউলি ঝরে যায়, কিন্তু তার সুবাস থেকে যায় হৃদয়ের গোপন অলিন্দে; ঠিক তেমনি কিছু স্মৃতি সময়ের কাছে হার মানে না, বরং প্রতি আশ্বিনে নতুন করে মন ছুঁয়ে যায়।
“” একদিন খুঁজেছিনু যারে
বকের পাখার ভিড়ে বাদলের গোধূলি-আধাঁরে,
মালতীলতার বনে,-কদমের তলে,
নিঝুম ঘুমের ঘাটে, -কেয়াফুল,-
শেফালীর দলে!
-যাহারে খুঁজেছিনু মাঠে মাঠে শরতের ভোরে ”
‘ঝরা পালক’, জীবনানন্দ দাশ।।
“ভোরের শিশির ভেজা শিউলি ঝরা টুপটাপ শব্দহীন অনুভূতিই হলো আমাদের আশ্বিনের শরৎকাল । হালকা শীতের আমেজ আড় ভেংগে পদ্ম, শাপলা, শালুকের হাসি হৃদয় মনকে করে তুলে প্রকৃতির প্রেমিক। তাইতো শরতের আশ্বিন আমাদের ভালবাসার রানী।

