Uttam Kumar Ghosh

বিশ্ব চিঠি লেখা দিবস
চিঠি আসবে জানি আসবে

কলমে: ঘোষ উত্তম
চিঠি আসবেই জানি আসবেই— একদিন ডাকপিয়নের হাতে, ডাকঘরের সিলমোহর লাগানো খামে। চিঠি আসবেই। কারণ চিঠি শুধু কাগজে লেখা কিছু শব্দ নয়, চিঠি হলো হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা অনুভূতির নাম।
একসময় চিঠির জন্য মানুষ দিনের পর দিন অপেক্ষা করত। ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা শুনলেই বুকের ভেতর আনন্দের ঢেউ উঠত। দূরদেশে থাকা সন্তানের চিঠি ছিল মায়ের কাছে পরম শান্তি, প্রিয় মানুষের চিঠি ছিল নিঃসঙ্গ হৃদয়ের গোপন আনন্দ। একটি চিঠি হাতে পাওয়া মানেই যেন দূরের মানুষটিকে একটু কাছে পাওয়া।
আজ ডিজিটাল যুগ। মুঠোফোনে মুহূর্তেই পৌঁছে যায় বার্তা, ভিডিও কলে দেখা যায় প্রিয় মুখ। অপেক্ষার সময় কমেছে, কিন্তু অনুভূতির গভীরতা কি কমেছে?
হয়তো চিঠির ব্যবহার কমেছে, কিন্তু চিঠি হারায়নি। কারণ মানুষের কিছু অনুভূতি এখনো ‘সেন্ড’ বাটনে ধরা পড়ে না।
পুরোনো চিঠির হলুদ পাতায় আজও লেগে থাকে হাতের স্পর্শ, ভালোবাসার গন্ধ আর হারানো দিনের স্মৃতি। কিছু চিঠি লেখা হয়, কিন্তু পাঠানো হয় না—থেকে যায় হৃদয়ের গোপন ডায়েরিতে।
তাই বিশ্ব চিঠি দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—প্রযুক্তির ভিড়েও অনুভূতির এই প্রাচীন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখব।
একদিন চিঠি আসবেই—যতদিন মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, অপেক্ষা আর না-বলা কথা থাকবে।

0 Comments

Uttam Kumar Ghosh

আড্ডা
কলমে :ঘোষ উত্তম
তারিখ : ৩০/০৮/২০২৬।

জীবনের অর্ধেকটা পেরোনো সময়ে দুর্নিবার শৈশবের স্মৃতি জাগে। নাহ, বুকের সযত্নে লালন করা আমার হাজার মানিক স্মৃতিগুলো কেউ জানুক আর না কেউ শুনুক সব কথা, আবার কারো আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে মন চায় না। মনটা আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করতে চায় শৈশবের সেই দিনের মতো।

বর্ষায় আমার শৈশবের স্মৃতি উঁকি দেয় কাদা মাটিতে চিংড়ির মতো।

আবেগ নিয়ে ফিরে আসি আমার গ্রামে শেকড়ের টানে । কোথায় নেই মধু মাখা স্মৃতি আমার। বিলে আর পুকুরে কিংবা ধান ক্ষেতে কোনায় কোনায় মাছ ধরা।
পুকুরের ঘোলা পানিকে আরও ঘোলা করা, মার বকুনি, বাবার হাতে কঞ্চি নিয়ে ধাবরানো, ডুব দিয়ে পানির নীচে লুকিয়ে থাকা। এগুলো কেবলই স্মৃতি।
রেললাইনে বসে আড্ডা আর আড্ডা। মাঝেমধ্যে স্কুলের মাঠে ফুটবল কিংবা হাডুডু। আবার পড়ন্ত বিকেলে ব্রম্মপুত্র নদের তীরে আবেগ তাড়িত জীবনের কিছু সময়। বর্ষার থৈ থৈ ভরা নদীর দুকূল উপচানো দৃশ্য মনোরম নির্জনতা জেঁকে বসত মন।

বর্ষায় মহাপ্রমত্তা রূপ নিয়ে চলি আমার প্রিয় নদ। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের অবিরাম ধারার মতো উজ্জ্বল তার উন্মুক্ত স্রোতের প্রখর ঔজ্জ্বলতায় পরিপূর্ণ বর্ষায় তিলোত্তমার মতো রূপ তার। আমার ঘোর লেগে যায় পাল তোলা নৌকায় পল্লী গানের শব্দের মাধুরিতে। সন্ধ্যা পেড়িয়ে আধাঁর নামে গাঁয়ের পথে। চারদিক ছাপিয়ে মুষলধারায় বৃষ্টি নামে আমার গাঁয়ে।

0 Comments

Uttam Kumar Ghosh

বাবাঃ এক চিলতে চিলেকোঠা
***************************
কলমে : উত্তম কুমার ঘোষ

আমি জন্মের পরই প্রথম চোখ মেলে বাবাকেই দেখে ছিলাম। বাবা ডাক্তার হওয়ার সুবাদে আমার জন্ম জটিলতায় জন্য বাবা আতুর ঘরে ঢুকে পড়েছিলেন।
বাবাকে নিয়ে লেখা এতো বিরাট দুঃসাধ্য ব্যাপার। যখন সাংবাদিকতা করেছি তখন বাবাকে নিয়ে কত তত্ব কথা লিখেছি । আর আজ এত বছর পর সত্যিই নিজের বাবাকে নিয়ে লিখতে বসে কিছুই মাথায় আসছে না। কত জ্ঞানী গুনীজনরা বাবাকে নিয়ে কত কথা মধুরতা শব্দ চয়ন করে গেছেন আর আমি? বটবৃক্ষ থেকে শুরু করে মাথার উপর বিশাল আকাশ , ছাদ আরও কত কি লিখেছেন । সেই তুলনায় আমার বাবা তো কিছুই না। তবুও প্রত্যেক সন্তানের কাছে বাবা মহামূল্য বান মহীরুহ।
আমার বাবা আমার জীবনের ছোট্ট এক চিলতে চিলেকোঠা মাত্র। যে চিলেকোঠার দরজা জানলা খুলে দিলেই বাবা হুহু করে সারা শরীরে শীতল পরশ ভুলিয়ে দেয়, যতদূর যে দিকে চোখ যায় শুধু বাবার মুখ ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না।৷ চারিদিকে গাছ গাছে পাখপাখালির কন্ঠে বাবার সেই পোষা ময়নার অবিকল বাবা ডাক। বৃষ্টির রাতে বাবার গায়ের সাথে লেপ্টে পেটের উপর পা তুলে দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা অথবা বাবার কৈশোরে যৌবনের রূপকথার গল্প শোনা এ যেন আরেক রূপকথার জন্মদাতা।
জন্মের মাত্র এগারো দিনের মাথায় আমার বাবা তাঁর বাবাকে চিরকালের জন্য হারিয়েছেন সেই পিতৃহারা মানুষটি পরবর্তীতে বার সন্তানের জনক হয়েছেন। চার সন্তানের শোক বুকে নিয়ে আটটি সন্তানকে তাঁর আদর্শ, মেধা, ধৈর্য, সততা দিয়ে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বার পযর্ন্ত নিয়ে গেছেন। এ হলো আমার বাবা আমার গর্ব।
আমার বাবা একজন নিষ্ফলা কৃষক প্রেমিক।। পেশায় ডাক্তার হওয়ার সত্বে কৃষির সাথে, মাটির সাথে সখ্যতা ছিল বলেই গ্রামের এক অপরূপ সুন্দরী নারীর প্রেমে পড়ে বিয়ে করেন। আমৃত্যে গ্রামেই সাধারণ মানুষের মত জীবন যাপন করেছেন। গ্রামের সাধারণ মানুষের সেবা করেছেন। তালগাছ হয়ে বাবা বাবুই পাখির মতোই আটটি শৈল্পিক বাসা বুনন করে আমাদের ভালবাসাময় সম্পর্কে মানুষ গড়ার কারিগর হতে চেষ্টা করেছেন। শেষটা তিনি আর দেখে যেতে পারলেন না ।
শেষের দিকের বাবা ঝড়ে বিধ্বস্ত ছেঁড়া পাল আর ভাঙ্গা মাস্তুল নিয়েই হাল ধরার চেষ্টা করেছেন। ঘাটে তরী ভিড়ার আগেই লিভার সিরোসিসে এক পড়ন্ত বিকেলে বাবা না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন। বাবা যখন শেষ যাত্রায় রওয়ানা হলেন তখন আমাকেই শেষ বারের মতো দেখলেন, সেই আতুর ঘরে আমি যেমন বাবাকে প্রথম দেখি।
বাবাকে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।

0 Comments

Uttam Kumar Ghosh

মানবতা ও কবিতার পোস্টমর্টেম
কলমে : উত্তম কুমার ঘোষ
তারিখ : ২৫-০৮-২০২৬।

কবি ও চিকিৎসক ডা. উৎপল সরকার। মানবতার সেবায়, সাহিত্যের আকাশে এক দীপ্ত নক্ষত্র। এমন মানুষকে নিয়ে দুকলম লেখা দুঃসাহসের কাজ। তিনি এমন একজন মানুষ যিনি মানুষের শরীরের অসুখ সারান, আবার মানুষের মনের ক্ষত স্পর্শ করেন কবিতায়—আর একই সঙ্গে দুয়েরই আরোগ্যের পথ দেখান। কবি ও চিকিৎসক ডা. উৎপল সরকার তেমনই এক বিরল প্রতিভা, যাঁর হাতে চিকিৎসার স্পর্শ আর কলমে সাহিত্যের মায়া মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অনন্য মানবিক জগৎ।
চিকিৎসক হিসেবে তিনি মানুষের দেহের ভাষা পড়েন; কবি হিসেবে পাঠ করেন মানুষের অন্তরের নীরব উচ্চারণ। হাসপাতালের ব্যস্ততা, রোগীর কষ্ট, জীবনের অনিশ্চয়তা কিংবা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানো মুহূর্ত—এসব বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যচেতনাকে আরও গভীর, আরও সংবেদনশীল করে তোলে। তাই তাঁর কলমে মানুষ শুধু একটি চরিত্র নয়; মানুষ হয়ে ওঠে অনুভূতির এক বিশাল মহাবিশ্ব।
সাহিত্য তো কেবল শব্দের অলংকার নয়—সাহিত্য মানুষের হৃদয়ে আলো জ্বালানোর এক অনন্ত সাধনা। সেই সাধনায় ডা. উৎপল সরকারের কলম যেন কখনো হয়ে ওঠে বেদনার বাঁশি, কখনো প্রেমের মৃদু বাতাস, কখনো প্রতিবাদের দীপ্ত উচ্চারণ, আবার কখনো মানবতার জন্য নিঃশব্দ প্রার্থনা।
একজন চিকিৎসকের কাছে যেমন প্রতিটি জীবন মূল্যবান, একজন কবির কাছেও তেমনি প্রতিটি অনুভূতি অমূল্য। এই দুই সত্তার অপূর্ব সমন্বয় তাঁর সাহিত্যকে দিয়েছে আলাদা এক মাত্রা। তাঁর লেখায় জীবনকে দেখা যায় খুব কাছ থেকে—রক্ত-মাংসের বাস্তবতায়, স্বপ্ন ও বিষাদের আলোছায়ায়, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের অন্তর্লীন সুরে।
আজকের বাংলা সাহিত্য যখন বহুমাত্রিকতার নতুন দিগন্তের সন্ধানে, তখন ডা. উৎপল সরকারের মতো সৃজনশীল মানুষের পথচলা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। তাঁর সাহিত্য সাধনা আজ শুধু সোস্যাল মিডিয়ার সাহিত্য আসরে নয় এবার তার গন্ডি পেড়িয়ে বিশ্ব সাহিত্যে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছ। অসাধারণ। আরও বিস্তৃত হোক, তাঁর ভাবনার পরিধি ছড়িয়ে পড়ুক দেশ থেকে দেশান্তরে। বাংলা ভাষার সৌন্দর্য, বাঙালির মানবিক দর্শন এবং তাঁর নিজস্ব সৃষ্টিশীলতার দীপ্তি পৌঁছে যাক বিশ্বসাহিত্যের বৃহত্তর অঙ্গনে।
আমরা বিশ্বাস করি—একদিন তাঁর কলমের শব্দ অতিক্রম করবে ভৌগোলিক সীমানা; তাঁর সাহিত্য পৌঁছে যাবে পৃথিবীর নানা ভাষার পাঠকের হৃদয়ে। চিকিৎসকের সেবাময় হাত আর কবির স্বপ্নময় কলম—এই দুইয়ের সম্মিলিত আলোয় ডা. উৎপল সরকার হয়ে উঠুন বিশ্বসাহিত্যের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
কবি ও চিকিৎসক ডা. উৎপল সরকারের সাহিত্যযাত্রা হোক দীর্ঘ, দীপ্তিময় ও অনন্ত। তাঁর কলমে জেগে উঠুক মানুষ, জেগে উঠুক মানবতা; তাঁর সৃষ্টির দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ুক বাংলা থেকে বিশ্বসাহিত্যের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে। ফুলেল শুভেচছা সম্মানিত চিকিৎসক ও কবি।

0 Comments

Uttam Kumar Ghosh

বর্ষায় আমার শৈশব
কলমে : ঘোষ উত্তম
তারিখ : ২২-০৮২০২৬

জীবনের অর্ধেকটা পেরোনো সময়ে দুর্নিবার শৈশবের স্মৃতি জাগে। নাহ, বুকের সযত্নে লালন করা আমার হাজার মানিক স্মৃতিগুলো কেউ জানুক আর না কেউ শুনুক সব কথা, আবার কারো আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে মন চায় না। মনটা আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করতে চায়।
বর্ষায় আমার শৈশবের স্মৃতি উঁকি দেয় কাদা মাটিতে চিংড়ির মতো।
আবেগ নিয়ে ফিরে আসি আমার গ্রামে শেকড়ের টানে । কোথায় নেই মধু মাখা স্মৃতি আমার। বিলে আর পুকুরে কিংবা ধান ক্ষেতে কোনায় কোনায় মাছ ধরা। পুকুরের ঘোলা পানিকে আরও ঘোলা করা, মার বকুনি, বাবার হাতে কঞ্চি নিয়ে ধাবরানো, ডুব দিয়ে পানির নীচে লুকিয়ে থাকা। এগুলো কেবলই স্মৃতি।
রেললাইনে বসে আড্ডা আর আড্ডা। মাঝেমধ্যে স্কুলের মাঠে ফুটবল কিংবা হাডুডু। আবার পড়ন্ত বিকেলে ব্রম্মপুত্র নদের তীরে আবেগ তাড়িত জীবনের কিছু সময়। বর্ষার থৈ থৈ ভরা নদীর দুকূল উপচানো দৃশ্য মনোরম নির্জনতা জেঁকে বসত মন।
বর্ষায় মহাপ্রমত্তা রূপ নিয়ে চলি আমার প্রিয় নদ। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের অবিরাম ধারার মতো উজ্জ্বল তার উন্মুক্ত স্রোতের প্রখর ঔজ্জ্বলতায় পরিপূর্ণ বর্ষায় তিলোত্তমার মতো রূপ তার। আমার ঘোর লেগে যায় পাল তোলা নৌকায় পল্লী গানের শব্দের মাধুরিতে। সন্ধ্যা পেড়িয়ে আধাঁর নামে গাঁয়ের পথে। চারদিক ছাপিয়ে মুষলধারায় বৃষ্টি নামে আমার গাঁয়ে। আমি হারিয়ে যাই গহীন অরণ্যের মেঘের দেশে।

0 Comments

Uttam Kumar Ghosh

আমার ভীষণ ইচ্ছে ছিল এবারের শীতের মওসুম আমার গ্রামে কাটাব। বহুদিন পর আবার হরি বিলে ধানের চারা রোপণ থেকে শুরু করে সন্ধ্যায় আমার অসম্ভব প্রিয় জায়গা ব্রম্মপুত্র নদের তীরে সেই কৈশোর, যৌবনের স্মৃতিতে ভেসে বেড়াতে। আমার ভারী ইচ্ছে ছিল রেললাইন ধরে সন্ধ্যাার আলো ছায়া আর মধ্য রাতের বাড়ী ফেরার আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে কুয়াশা ভেজা দুপায়ে। আমার কোনও ভীষণ সুখের মুহূর্তে। অনেক অনেক ইচ্ছে ছিল এবার শীতের অবগাহন করব আমার জন্মের আতুর ঘরে সেই জায়গায়। ঠিক আমার জন্মদিনে। মানে সরস্বতী পূজার দিনই আমার পৃথিবীর আলো দেখা দিন । হল না।
এরপর আমাকে কেউ ডাকলেও আমি ফিরব না — আমি নিজে — ডাকলেও আমি আর সাড়া দেব না। অথচ আমি আমার চারপাশের অন্ধকারেই ছড়িয়ে থাকব — ঝিঁঝির ডাক হয়ে থাকব, জোনাকি হয়ে থাকব — তারার আলোয় দ্যুতিমান শিশিরবিন্দু হয়ে থাকব, ঝরাপাতা হয়ে থাকব…। ভোরের আকাশে শুকতারা হয়ে জ্বলজ্বল করে বেচে থাকব। শুধু আমার ফেরার খুব ইচ্ছে ছিল এবার শীতের কুয়াশা ঢাকা আমার জন্ম ভিটায়। তাও হল না ।

0 Comments

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...