সাহিত্যের ক্লাসঘর

উইলিয়াম কাউপার

উইলিয়াম কাউপার (১৭৩১–১৮০০) ছিলেন ইংরেজ কবিতার এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধনকারী। তাঁর ইভানজেলিক্যাল বিশ্বাস, প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং গৃহস্থালির সাধারণ দৃশ্য ও অনুভূতির বর্ণনা ইংরেজি কবিতাকে নতুন দিকে নিয়ে যায় — রোমান্টিক যুগের পূর্বাভাস। নিচে তাঁর বিখ্যাত কবিতা ও হিমনগুলোর সাহিত্যিক বাংলা অনুবাদ দেওয়া হলো। অনুবাদে মূল অর্থ, ছন্দ ও আবেগ রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে।

১. ঈশ্বর রহস্যময় উপায়ে চলেন

(God Moves in a Mysterious Way / Light Shining out of Darkness)

ঈশ্বর চলেন রহস্যময় পথে,
তাঁর বিস্ময়কর কাজ সম্পন্ন করতে;
সমুদ্রে পদচিহ্ন রাখেন তিনি,
ঝড়ের ঘোড়ায় চেপে বেড়ান।

অতল গভীর খনিতে লুকিয়ে রাখেন
তাঁর অফুরন্ত দক্ষতার ভাণ্ডার;
উজ্জ্বল পরিকল্পনা সঞ্চয় করেন,
নিজ ইচ্ছায় কাজ করেন সার্বভৌম।

তাঁর পদক্ষেপ অজানা, রহস্যময়,
কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তে ফুটে ওঠে ফুল;
অবিশ্বাসী চোখ ভুল করে দেখে,
তিনি নিজেই ব্যাখ্যা করেন সবকিছু।

(পূর্ণ ৬ স্তবক — ইভানজেলিক্যাল বিশ্বাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হিমন)

২. রক্তে ভরা এক ঝরনা আছে

(There is a Fountain Filled with Blood)

রক্তে ভরা এক ঝরনা আছে,
ইমানুয়েলের শিরা থেকে প্রবাহিত;
পাপী যে সেই বন্যায় ডুবে যায়,
সব দোষ-ত্রুটি ধুয়ে ফেলে যায়।

মৃত্যুপথে চোরও দেখেছিল সেই ঝরনা,
আনন্দে ভরে উঠেছিল তার প্রাণ;
আমিও যদি সেই রক্তে ধুয়ে নিই,
পাপের কলঙ্ক মুছে যাবে সব।

(পূর্ণ হিমন — ক্রুশ ও পরিত্রাণের গভীর বার্তা)

৩. ঈশ্বরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পথচলা

(Oh! for a Closer Walk with God)

ঈশ্বরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পথ চাই,
শান্ত স্বর্গীয় মনের অবস্থা;
পথে আলো জ্বালিয়ে দাও প্রভু,
যা আমাকে মেষশাবকের কাছে নিয়ে যায়।

(পূর্ণ ৬ স্তবক — আত্মিক সংগ্রাম ও আকাঙ্ক্ষার হিমন)

৪. পপলার ক্ষেত

(The Poplar Field)

পপলার গাছগুলো কাটা পড়েছে, বিদায় ছায়া,
শীতল সারির ফিসফিস শব্দ আর নেই;
বাতাস আর পাতায় গান গায় না,
উজ নদী আর প্রতিবিম্ব ধরে না বুকে।

বারো বছর পর ফিরে এসে দেখি,
প্রিয় ক্ষেত আর সেই তীর — সব শূন্য;
ঘাসের উপর শুয়ে আছে গাছগুলো,
যে গাছ ছায়া দিত, এখন সেই-ই আমার আসন।

(পূর্ণ কবিতা — প্রকৃতির ক্ষয় ও মানুষের জীবনের অস্থায়িত্বের সুন্দর প্রতিফলন)

৫. এক খরগোশের সমাধিলিপি

(Epitaph on a Hare)

এখানে শুয়ে আছে যাকে কখনো তাড়া করেনি শিকারী কুকুর,
দ্রুতগামী গ্রেহাউন্ডও ধরতে পারেনি;
যার পা কখনো সকালের শিশিরে ভেজেনি,
কানে কখনো শোনেনি শিকারির হুংকার।

(পূর্ণ কবিতা — তাঁর প্রিয় পোষা খরগোশ পাস, বেস ও টাইনির প্রতি ভালোবাসা ও দৈনন্দিন জীবনের কোমল চিত্র)

৬. গোলাপ

(The Rose)

গোলাপটি ধুয়েছে, ঝরনায় ধুয়েছে সদ্য,
ফোঁটায় ফোঁটায় জল ঝরছে পাপড়ি থেকে;
সূর্যের আলোয় চকচক করছে,
যেন স্বর্গ থেকে নেমে আসা সৌন্দর্য।

(সংক্ষিপ্ত কবিতা — প্রকৃতির সৌন্দর্য ও নির্মলতার প্রতীক)

৭. জাহাজভ্রষ্ট

(The Castaway)

ঝড় থামাতে কোনো ঐশ্বরিক কণ্ঠ এল না,
কোনো শুভ আলো জ্বলল না;
সব সাহায্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে,
আমরা প্রত্যেকে একা ধ্বংস হলাম।

কিন্তু আমি আরও রুক্ষ সমুদ্রের নিচে,
তার চেয়েও গভীর গহ্বরে ডুবে আছি।

(পূর্ণ ১০ স্তবক — তাঁর নিজের আত্মিক সংকট ও নৈরাশ্যের শক্তিশালী রূপক)

৮. কৃষ্ণাঙ্গের অভিযোগ

(The Negro’s Complaint)

আমি মানুষ, তবু দাস — কেন এই অবিচার?
আমার শরীর কি তোমার চেয়ে কম মূল্যবান?
সূর্য একইভাবে জ্বলে আমার জন্যও,
কেন আমাকে বেঁধে রাখো শৃঙ্খলে?

(পূর্ণ ব্যালাড-ধর্মী কবিতা — দাসপ্রথার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ, মানবিকতার দৃঢ় বার্তা)

৯. মেরির উদ্দেশে

(To Mary)

তুমি আমার সঙ্গী, আমার আশ্রয়,
জীবনের ঝড়ে তুমি আমার নোঙর;
তোমার চোখে দেখি শান্তি, তোমার হাসিতে স্বস্তি,
তোমার সঙ্গে কাটানো দিনগুলো স্মৃতির ভাণ্ডার।

(পূর্ণ কবিতা — মেরি আনউইনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা)

১০. হার্ক, মাই সোল, ইট ইজ দ্য লর্ড

(Hark, my soul, it is the Lord)

শোনো, হে আমার আত্মা, প্রভু ডাকছেন,
“আমি তোমার মুক্তিদাতা, তোমার বন্ধু;
আমার রক্তে ধুয়ে নাও তোমার পাপ,
আমার কাছে এসো, বিশ্রাম পাও।”

(পূর্ণ হিমন — ঈশ্বরের ডাক ও আত্মিক আহ্বান)

এই কবিতাগুলো কাউপারের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে — মানসিক সংগ্রাম, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, প্রকৃতির সৌন্দর্য, গৃহস্থালির শান্তি এবং মানবিকতা। তাঁর রচনা পড়লে বোঝা যায় কীভাবে তিনি ইংরেজি কবিতাকে কৃত্রিমতা থেকে সরিয়ে এনে দৈনন্দিন জীবন ও প্রকৃতির দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

উইলিয়াম কাউপার (১৭৩১–১৮০০)

ইভানজেলিক্যাল প্রকৃতি-কবি যিনি গৃহস্থালির থিম ও দৈনন্দিন প্রকৃতির বর্ণনা দিয়ে ইংরেজি কবিতার গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন

উইলিয়াম কাউপার (উচ্চারণ: কুপার) ইংরেজ সাহিত্যের এক অনন্য সেতুবন্ধনকারী ব্যক্তিত্ব। অগাস্টান যুগের কৃত্রিমতা ও শহুরে বুদ্ধিদীপ্ত ব্যঙ্গ থেকে তিনি কবিতাকে নিয়ে এলেন গ্রামীণ প্রকৃতি, গৃহস্থালির সাধারণ আনন্দ, বাগান, অগ্নিকুণ্ডের পাশে সন্ধ্যা এবং মানুষের অন্তরের গভীর সংগ্রামের দিকে। তাঁর কবিতায় ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টধর্মের উষ্ণতা মিশে আছে প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে। রোমান্টিক কবিতার পূর্বসূরি হিসেবে তিনি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ও স্যামুয়েল টেলর কোলরিজের পথ প্রস্তুত করেছিলেন। তবু তাঁর জীবন ছিল অসহ্য মানসিক যন্ত্রণা, আত্মহত্যার প্রচেষ্টা, ধর্মীয় সন্দেহ ও অবিশ্বাসের সঙ্গে লড়াইয়ের ইতিহাস। এই লড়াই থেকেই জন্ম নিয়েছিল তাঁর সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী হিমন ও কবিতা।

প্রারম্ভিক জীবন ও পরিবার (১৭৩১–১৭৪২)

১৭৩১ সালের ২৬ নভেম্বর (পুরোনো ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৫ নভেম্বর) হার্টফোর্ডশায়ারের বার্কহ্যামস্টেডে জন্মগ্রহণ করেন উইলিয়াম কাউপার। পিতা রেভারেন্ড জন কাউপার ছিলেন সেন্ট পিটার চার্চের রেক্টর এবং রাজা দ্বিতীয় জর্জের চ্যাপলিন। মাতা অ্যান ডন (John Donne-এর বংশধর)। সাত সন্তানের মধ্যে মাত্র উইলিয়াম ও তাঁর ভাই জন বেঁচে ছিলেন শৈশবে। ১৭৩৭ সালের ৭ নভেম্বর মাতা ছোট ভাই জনের জন্মকালে মারা যান। মাত্র ছয় বছর বয়সে এই ক্ষতি কাউপারের মনে গভীর দাগ কেটে যায়। পরবর্তীকালে পঞ্চাশ বছর পর লেখা “On the Receipt of My Mother’s Picture” কবিতায় তিনি এই শোককে জীবনের প্রথম ঝড় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

শৈশবে মাতৃকুলের সঙ্গে নরফোকের লুডহাম হলে সময় কাটাতেন। সেখান থেকে পেয়েছিলেন জন বানিয়ানের The Pilgrim’s Progress ও জন গে-এর Fables—দুটি বই যা তাঁর ভবিষ্যৎ লেখার দুটি মেরু নির্দেশ করে: একদিকে হালকা নৈতিক কবিতা, অন্যদিকে ক্যালভিনবাদী আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি।

শিক্ষা, আইনজীবী হওয়ার চেষ্টা ও প্রথম প্রেম (১৭৪২–১৭৬৩)

১৭৪২ সালে ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলে ভর্তি হন। সেখানে ক্লাসিক্যাল সাহিত্যে (বিশেষ করে হোমার) অসাধারণ দক্ষতা দেখান এবং লাতিন ভার্স রচনায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন ভবিষ্যৎ লেখক রবার্ট লয়েড, চার্লস চার্চিল প্রমুখ। স্কুল জীবনে তিনি হুইগ নীতির প্রতি আকৃষ্ট হন।

আইন পেশার জন্য প্রস্তুত করা হয় তাঁকে। ১৭৪৮ সালে মিডল টেম্পলে যোগ দেন, সলিসিটর মি. চ্যাপম্যানের অধীনে আর্টিকেল্ড হন। ১৭৫৪ সালে বারে ডাক পান। কিন্তু আইন তাঁর প্রকৃতির সঙ্গে মেলেনি। লন্ডনের চাচা অ্যাশলে কাউপারের বাড়িতে (সাউদাম্পটন রো) থাকতেন। সেখানে চাচাতো বোন থিওডোরা কাউপারের সঙ্গে গভীর প্রেমে পড়েন। প্রস্তাব দিলেও নিকট আত্মীয়তার কারণে (প্রথম চাচাতো ভাই-বোন) বিয়ে নিষিদ্ধ হয়। এই হৃদয়ভঙ্গ তাঁকে প্রথম গুরুতর বিষণ্ণতায় (melancholy) ডুবিয়ে দেয়। “ডেলিয়া” সিরিজের প্রেমের কবিতাগুলো (পরে ১৮২৫ সালে প্রকাশিত) এই সময়েরই।

মানসিক সংকট, আত্মহত্যার প্রচেষ্টা ও ধর্মান্তর (১৭৬৩–১৭৬৫)

১৭৬৩ সালে পরিবার তাঁর জন্য হাউস অব লর্ডস-এর জার্নালসের ক্লার্ক পদ সংগ্রহ করে। কিন্তু এই পদ পেতে হলে লর্ডসের সামনে পাবলিক পরীক্ষা দিতে হতো—যা লাজুক ও সংবেদনশীল কাউপারের কাছে অসহ্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তীব্র মানসিক ভাঙন দেখা দেয়। তিনি আত্মহত্যার তিনটি প্রচেষ্টা চালান (থেমসে ডুবে মরার চেষ্টা, লাউডানাম খাওয়া, ছুরি দিয়ে আঘাত)। শেষ পর্যন্ত ডা. নাথানিয়েল কটনের বেসরকারি অ্যাসাইলামে (সেন্ট অ্যালবান্স) ভর্তি হন।

এই অ্যাসাইলামেই তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর ঘটে। বাইবেল পড়ে তিনি ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ১৭৬৫ সালে বেরিয়ে আসেন। এই সময় লেখা “Hatred and vengeance, my eternal portion” (Sapphics) কবিতায় তাঁর আত্মিক যন্ত্রণা স্পষ্ট।

অলনি: জন নিউটন, মেরি আনউইন ও সৃজনশীলতার নতুন অধ্যায় (১৭৬৭–১৭৮৬)

সুস্থ হওয়ার পর হান্টিংডনে রেভারেন্ড মর্লি আনউইনের পরিবারের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। মর্লির স্ত্রী মেরি আনউইনের সঙ্গে গভীর আত্মিক ও মানসিক বন্ধন গড়ে ওঠে—যা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত স্থায়ী ছিল (অনেকে এটিকে প্লেটোনিক “বিবাহ” বলে বর্ণনা করেন)। ১৭৬৭ সালে মর্লি ঘোড়া থেকে পড়ে মারা গেলে মেরি আনউইন ও সন্তানদের নিয়ে বাকিংহ্যামশায়ারের অলনিতে চলে আসেন।

অলনিতে কিউরেট জন নিউটন (প্রাক্তন দাস ব্যবসায়ী, “Amazing Grace”-এর রচয়িতা) তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেন। নিউটন কাউপারকে প্রার্থনা সভার জন্য হিমন লিখতে উৎসাহ দেন। এর ফল Olney Hymns (১৭৭৯)—৩৪৮টি হিমনের মধ্যে ৬৭টি কাউপারের। বিখ্যাত হিমনগুলো:

  • “God Moves in a Mysterious Way” (Light Shining out of Darkness)
  • “There is a Fountain Filled with Blood”
  • “Oh! for a Closer Walk with God”
  • “Hark, my soul, it is the Lord”

১৭৭৩ সালে আরেকটি ভয়াবহ সংকট আসে। এক স্বপ্নে তিনি শুনতে পান “Actum est de te, periisti” (তোমার সব শেষ, তুমি ধ্বংস হয়ে গেছ)। তিনি বিশ্বাস করেন চিরকালের জন্য নরকে যাবেন। আবার আত্মহত্যার চেষ্টা। কিছুদিন গির্জায় যাওয়া বন্ধ করলেও হিমন লেখা চালিয়ে যান। মেরি আনউইনের যত্নে আবার সুস্থ হন।

অলনিতে তাঁর দৈনন্দিন জীবন ছিল সাধারণ ও সৃজনশীল: বাগান করা (তিনি নতুন আমেরিকান গাছপালা নিয়ে পরীক্ষা করতেন), হাঁটাহাঁটি, চিঠি লেখা (তাঁর চিঠিপত্র ইংরেজি গদ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন), এবং তিনটি খরগোশ পালন (পাস, বেস, টাইনি—যাদের নিয়ে লিখেছেন “Epitaph on a Hare”)।

প্রধান সাহিত্যকর্ম ও সৃজনশীলতার শিখর

১৭৮১ সালে বিধবা লেডি অস্টেনের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। তাঁর উৎসাহে লেখেন হাস্যরসাত্মক ব্যালাড The Diverting History of John Gilpin (১৭৮২)—এক লিনেন ড্রেপারের ঘোড়ায় চড়ার দুর্ঘটনা। এটি তাঁকে অনেকটা সুস্থ রাখে এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়।

সবচেয়ে বড় কীর্তি The Task (১৭৮৫)। লেডি অস্টেন “সোফা” বিষয়ে কবিতা লিখতে বলেছিলেন। কাউপার তা থেকে প্রায় ৫০০০ লাইনের ছয় খণ্ডের মহাকাব্যিক blank verse কবিতা তৈরি করেন। এতে আছে:

  • গ্রাম vs শহরের সমালোচনা (“God made the country, and man made the town”)
  • দাসপ্রথার তীব্র নিন্দা (“human nature’s broadest, foulest blot”)
  • বাগান, শীতের সন্ধ্যা, অগ্নিকুণ্ডের পাশে বসে চিন্তা
  • প্রকৃতির মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব
  • ব্যক্তিগত আত্মজীবনীমূলক উপাদান

এছাড়া Poems (১৭৮২) গ্রন্থে Moral Satires, অ্যান্টি-স্লেভারি কবিতা “The Negro’s Complaint” (১৭৮৮, পরে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র উদ্ধৃত করেন), হোমারের IliadOdyssey-এর blank verse অনুবাদ (১৭৯১)। পরবর্তীকালে লেখেন “The Castaway” (১৭৯৯), “On the Receipt of My Mother’s Picture”, “To Mary” ইত্যাদি।

পরবর্তী জীবন, মেরির মৃত্যু ও শেষ দিন (১৭৮৬–১৮০০)

১৭৮৬ সালে মেরি আনউইনের সঙ্গে ওয়েস্টন আন্ডারউডে চলে যান। ১৭৯২ সালের দিকে মেরির স্ট্রোক হয়। কাউপার তাঁর যত্ন নেন। ১৭৯৫ সালে কাজিন রেভারেন্ড জন জনসন (Johnny of Norfolk)-এর সাহায্যে নরফোকের ইস্ট ডেরহ্যামে চলে আসেন। ১৭৯৬ সালে মেরি মারা গেলে তাঁর শোক আরও গভীর হয়। শারীরিকভাবে ড্রপসি (এডিমা) দেখা দেয়, মানসিকভাবে আবার নরকের ভয় ফিরে আসে।

১৮০০ সালের ২৫ এপ্রিল ইস্ট ডেরহ্যামে মৃত্যুবরণ করেন। সমাধি সেন্ট নিকোলাস চার্চে।

সাহিত্যিক উত্তরাধিকার ও প্রভাব

কাউপার ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি। ১৭৮২ থেকে ১৮৩৭ সালের মধ্যে তাঁর কবিতার ১০০-এর বেশি সংস্করণ ব্রিটেনে এবং প্রায় ৫০টি আমেরিকায় প্রকাশিত হয়। কোলরিজ তাঁকে “the best modern poet” বলে অভিহিত করেছিলেন।

তিনি ইংরেজি কবিতায় যে পরিবর্তন আনেন তা অমূল্য:

  • প্রকৃতি ও গৃহস্থালি: শুধু প্রকৃতির বর্ণনা নয়, বাগান করা, চা খাওয়া, অগ্নিকুণ্ডের আলোয় বসে চিন্তা—দৈনন্দিন জীবনকে কবিতার যোগ্য বিষয় করে তোলেন।
  • Blank verse-এর ব্যবহার: The Task-এ conversational, meditative blank verse পরবর্তী রোমান্টিকদের পথ দেখায়।
  • ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি: মানসিক যন্ত্রণা, সন্দেহ, বিশ্বাসের লড়াই—এসবকে কবিতায় স্থান দিয়ে আধুনিক existential hero-এর পূর্বাভাস দেন।
  • ইভানজেলিক্যাল ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি: দাসপ্রথার বিরুদ্ধে কবিতা লিখে আন্দোলনে অবদান রাখেন। হিমনগুলো আজও বিভিন্ন গির্জায় গাওয়া হয়।

তাঁর জীবন দেখায় যে, গভীর অন্ধকারের মধ্যেও কবিতা ও বিশ্বাস আলোর সন্ধান করতে পারে। “stricken deer” (আহত হরিণ) হিসেবে নিজেকে দেখলেও তিনি প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের জীবনের মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছিলেন। এই দৃষ্টিভঙ্গিই ইংরেজি কবিতাকে নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

উইলিয়াম কাউপার আজও স্মরণীয়—যিনি মানসিক যন্ত্রণাকে শিল্পে রূপান্তরিত করে, সাধারণকে অসাধারণ করে তুলেছিলেন।

0 Comments

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...