সাহিত্য-জগৎ

জন ড্রাইডেন (John Dryden, ১৬৩১–১৭০০)

জন ড্রাইডেন ছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের রেস্টোরেশন যুগের সবচেয়ে প্রভাবশালী কবি, নাট্যকার ও সমালোচক। তিনি হিরোইক কাপলেটের মাস্টার, রাজনৈতিক ব্যঙ্গকবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচয়িতা এবং সংগীতের শক্তি নিয়ে অসাধারণ ওড লিখেছেন। তাঁর কবিতায় যুক্তি, বুদ্ধি, ব্যঙ্গ এবং সংগীতের মাধুর্যের অপূর্ব মিল দেখা যায়।

১. সেন্ট সিসিলিয়ার দিবসের গান, ১৬৮৭ (A Song for St. Cecilia’s Day, 1687)

স্বর্গীয় সঙ্গতি থেকে, স্বর্গীয় সঙ্গতি থেকে
এই বিশ্বজগতের কাঠামো শুরু হয়েছিল।
যখন প্রকৃতি জড়িয়ে পড়েছিল বিশৃঙ্খল পরমাণুর স্তূপে,
এবং মাথা তুলতে পারছিল না,
তখন উঁচু থেকে সুরেলা কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছিল—
“ওঠো, তোমরা যারা মৃতের চেয়েও বেশি মৃত!”

তখন ঠান্ডা, গরম, আর্দ্র ও শুষ্ক
নিজ নিজ স্থানে লাফিয়ে উঠেছিল,
এবং সংগীতের শক্তি মেনে নিয়েছিল।
স্বর্গীয় সঙ্গতি থেকে, স্বর্গীয় সঙ্গতি থেকে
এই বিশ্বজগতের কাঠামো শুরু হয়েছিল।
সঙ্গতি থেকে সঙ্গতিতে
সুরের সমস্ত পরিধি ধরে এগিয়েছিল,
এবং ডায়াপাসন পূর্ণ হয়েছিল মানুষের মধ্যে।

কোন আবেগ সংগীত জাগাতে ও শান্ত করতে পারে না!
যখন যুবাল কর্ডযুক্ত শঙ্খ বাজিয়েছিল,
তার শ্রোতা ভাইয়েরা চারপাশে দাঁড়িয়েছিল
এবং বিস্ময়ে মুখে পড়ে গিয়েছিল
সেই স্বর্গীয় শব্দের উপাসনায়।
তারা ভাবত, এই শঙ্খের ভিতরে দেবতার চেয়ে কম কেউ থাকতে পারে না,
যে এত মধুর ও এত সুন্দরভাবে কথা বলে।

তূর্যের উচ্চ শব্দ
আমাদের যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করে,
ক্রোধের তীক্ষ্ণ স্বরে
এবং মরণের সংকেতে।
বজ্রের মতো ঢাকের দ্বিগুণ দ্বিগুণ দ্বিগুণ আঘাত
চিৎকার করে, “শোনো, শত্রু এসেছে!
আক্রমণ করো, আক্রমণ করো—এখন পিছু হটার সময় নেই!”

নরম অভিযোগকারী বাঁশি
মৃত্যুপথযাত্রী স্বরে প্রকাশ করে
হতাশ প্রেমিকদের দুঃখ,
যাদের শোকগীতি কলকল করে বাজে বীণায়।

তীক্ষ্ণ বেহালা ঘোষণা করে
তাদের ঈর্ষার যন্ত্রণা ও হতাশা,
ক্রোধ, উন্মাদ ক্ষোভ,
যন্ত্রণার গভীরতা ও আবেগের উচ্চতা—
সেই সুন্দরী, অবজ্ঞাপূর্ণ নারীর জন্য।

কিন্তু ওহ! কোন শিল্প শেখাতে পারে,
কোন মানবকণ্ঠ পৌঁছাতে পারে
পবিত্র অর্গানের প্রশংসায়?
স্বর যা পবিত্র ভালোবাসা অনুপ্রাণিত করে,
স্বর যা স্বর্গীয় পথে ডানা মেলে
উপরের গায়কদলকে সংশোধন করতে।

অরফিয়াস বন্য জাতিকে নেতৃত্ব দিতে পারত,
এবং গাছগুলো শিকড় ছাড়িয়ে নিজেদের স্থান ছেড়ে চলে যেত
বীণার অনুসরণে।
কিন্তু উজ্জ্বল সিসিলিয়া বিস্ময়কে আরও উঁচুতে তুলেছিল;
যখন তার অর্গানে কণ্ঠস্বর দেওয়া হয়েছিল,
একজন ফেরেশতা শুনেছিল এবং সোজা এসে হাজির হয়েছিল—
পৃথিবীকে স্বর্গ ভেবে ভুল করেছিল।

মহা সমাপনী সঙ্গীত
যেমন পবিত্র গানের শক্তি থেকে
গ্রহগুলো ঘুরতে শুরু করেছিল
এবং মহান স্রষ্টার প্রশংসা গেয়েছিল
উপরের সব আশীর্বাদপ্রাপ্তদের জন্য,
তেমনি যখন শেষ ও ভয়ংকর ঘণ্টা
এই ভঙ্গুর প্রদর্শনীকে গ্রাস করবে,
তূর্য উঁচু থেকে শোনা যাবে,
মৃতরা বাঁচবে, জীবিতরা মরবে,
এবং সংগীত আকাশকে অসংগত করে দেবে।

২. আলেকজান্ডারের ভোজ (Alexander’s Feast)

(সংক্ষিপ্ত রূপে প্রধান অংশ — সম্পূর্ণ ওডের মূল সারাংশ)

(এই বিখ্যাত ওডে ড্রাইডেন দেখিয়েছেন কীভাবে সংগীত রাজা আলেকজান্ডারের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে। পুরো অনুবাদ খুব দীর্ঘ হওয়ায় এখানে মূল ভাব ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তবক দেওয়া হলো। পুরো কবিতা চাইলে জানান।)

তিমোথিয়াস গাইল, সোনালি বীণা হাতে,
আর আলেকজান্ডারের চোখ জ্বলে উঠল যুদ্ধের আগুনে।
সে গাইল পারস্যের পতনের কথা,
আর রাজা উঠে দাঁড়ালেন, তরবারি হাতে।

তারপর সে গাইল প্রেমের কোমল গান,
আর আলেকজান্ডারের হৃদয় গলে গেল থায়েসের জন্য।
সংগীত জাগায় ক্রোধ, জাগায় ভালোবাসা,
জাগায় পবিত্র অনুভূতি — সবই এক বীণার স্পর্শে।

৩. মি. ওল্ডহ্যামের স্মৃতিতে (To the Memory of Mr. Oldham)

বিদায়, অতি সামান্য ও অতি দেরিতে পরিচিত,
যাকে আমি নিজের বলে ভাবতে ও ডাকতে শুরু করেছিলাম।
নিশ্চয়ই আমাদের আত্মা ছিল ঘনিষ্ঠ আত্মীয়,
আর তোমার আত্মা আমারই কাব্যিক ছাঁচে ঢালা হয়েছিল।

একই সুর দুই বীণায় বেজেছিল,
আর আমরা দুজনেই সমানভাবে ঘৃণা করতাম ধূর্ত ও বোকাদের।
একই লক্ষ্যে আমাদের অধ্যয়ন চালিত হয়েছিল,
তুমি পরে শুরু করেও আগে পৌঁছে গিয়েছিলে।

এভাবেই নিসাস পিছলে পড়েছিল,
যখন তার যুবক বন্ধু দৌড়ে জয়লাভ করেছিল।
ওহ! অকালপক্ব! তোমার প্রচুর ভাণ্ডারে
বয়স বাড়লে আর কী যোগ করতে পারত?

৪. সুখী সেই মানুষ (Happy the Man)

সুখী সেই মানুষ, যে দূরে সরে গেছে জগতের কোলাহল থেকে,
এবং নিজের ছোট্ট জগতে শান্তিতে বাস করে।
সে না জানে রাজনীতির ষড়যন্ত্র, না জানে যুদ্ধের ভয়,
শুধু নিজের খেত আর বাগান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে।

৫. ভালোবাসা কত মিষ্টি! (Ah, How Sweet It Is To Love!)

আহ, ভালোবাসা করা কত মিষ্টি!
যখন দুটি হৃদয় এক হয়ে যায়,
যখন প্রতিটি দৃষ্টি, প্রতিটি শব্দ
আনন্দের নতুন সুর বাজায়।

কিন্তু যখন প্রেম অবহেলিত হয়,
তখন সেই মিষ্টি কত তিক্ত হয়ে ওঠে!

৬. জীবন কি আশীর্বাদ হতে পারে? (Can Life Be A Blessing?)

জীবন কি আশীর্বাদ হতে পারে,
যখন প্রেম সব রাত জেগে রাখে?
আহ না! যদিও ভালোবাসা সারারাত আমাদের জাগিয়ে রাখে,
তবু সে আশীর্বাদই।

৭. বিদায় অকৃতজ্ঞ বিশ্বাসঘাতক (Farewell, Ungrateful Traitor)

বিদায়, অকৃতজ্ঞ বিশ্বাসঘাতক!
তুমি যে প্রেম দিয়েছিলে, তা ছিল মিথ্যা।
এখন যাও, তোমার নতুন প্রেমিকার কাছে,
আমি আর তোমার জন্য অপেক্ষা করব না।

৮. স্বপ্ন (Dreams)

স্বপ্ন — মনের ছায়া খেলা,
যেখানে ইচ্ছা ও ভয় মিলেমিশে যায়।
জাগ্রত অবস্থায় যা লুকিয়ে থাকে,
ঘুমের রাজ্যে তা প্রকাশ পায়।

৯. অ্যান কিলিগ্রুর স্মৃতিতে (To the Pious Memory of Mrs. Anne Killigrew)

(সংক্ষিপ্ত অংশ)

তুমি ছিলে কবিতার ফুল,
যে অকালে ঝরে গেল।
তোমার কলম ছিল স্বর্গীয় আলোয় ভরা,
আর তোমার আত্মা ছিল পবিত্রতায় পূর্ণ।

১০. সেকুলার মাস্ক (The Secular Masque) — শেষ স্তবক

(ড্রাইডেনের শেষ বড় কাব্যিক রচনার অংশ)

সময় চলে যায়, যুগ বদলায়,
কিন্তু মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা একই থাকে।
আমরা নাচি, গাই, ভালোবাসি —
আর শেষে সব মিলিয়ে যায় সময়ের স্রোতে।

জন ড্রাইডেন (John Dryden, ১৬৩১–১৭০০)

রেস্টোরেশন যুগের সাহিত্য সম্রাট, কবি লরিয়েট

জন ড্রাইডেন ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, অনুবাদক, সমালোচক এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গকার। সপ্তদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে তিনি ইংরেজি সাহিত্যকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছিলেন যে, তাঁর যুগকে “ড্রাইডেনের যুগ” (Age of Dryden) বলা হয়। শেক্সপিয়ার ও মিলটনের পর এবং রোমান্টিক যুগের আগে ইংরেজি সাহিত্যে তাঁর মতো বহুমুখী প্রতিভা খুব কমই দেখা গেছে। তিনি হিরোইক কাপলেটকে পরিপূর্ণতা দিয়েছেন, রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক ব্যঙ্গকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, নাটকে নতুন ধারা তৈরি করেছেন এবং সমালোচনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ধারায় পরিণত করেছেন।

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন (১৬৩১–১৬৫০)

জন ড্রাইডেন ১৬৩১ সালের ১৯ আগস্ট ইংল্যান্ডের নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের অলডউইঙ্কল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ইরাসমাস ড্রাইডেন (Erasmus Dryden) একজন জমিদার ও পিউরিটান ধর্মাবলম্বী ছিলেন। মা মেরি পিকারিং (Mary Pickering) এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। ড্রাইডেন পরিবার ছিল পিউরিটানপন্থী এবং ইংরেজ গৃহযুদ্ধের সময় পার্লামেন্টারিয়ানদের (Parliamentarians) সমর্থন করত।

শৈশবে তিনি গ্রামীণ পরিবেশে বড় হয়েছেন। তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পটভূমি পরবর্তীকালে তাঁর লেখায় প্রতিফলিত হয়েছে — প্রথম জীবনে পিউরিটান প্রভাব, পরে রাজতন্ত্রপন্থী হয়ে ওঠা এবং শেষে ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ।

শিক্ষা (১৬৪৪–১৬৫৪)

ড্রাইডেন প্রথমে ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলে (Westminster School) পড়াশোনা করেন। এখানে তিনি ক্লাসিক্যাল সাহিত্য, লাতিন ও গ্রিক ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রিচার্ড বাসবি (Richard Busby) তাঁর প্রতিভা চিনতে পেরেছিলেন।

১৬৫০ সালে তিনি কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে (Trinity College, Cambridge) ভর্তি হন। ১৬৫৪ সালে তিনি ব্যাচেলর অব আর্টস (B.A.) ডিগ্রি লাভ করেন। কেমব্রিজে তিনি ধ্রুপদী সাহিত্য, দর্শন ও ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেন। এ সময় তিনি লাতিন ও গ্রিক ক্লাসিকের সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত হন, যা পরবর্তীকালে তাঁর অনুবাদকর্মে বিশাল ভূমিকা রাখে।

রাজনৈতিক পরিবর্তন ও প্রাথমিক সাহিত্যকর্ম (১৬৫৮–১৬৬৭)

১৬৫৮ সালে অলিভার ক্রমওয়েলের মৃত্যুর পর ড্রাইডেন “Heroic Stanzas” নামে একটি কবিতা লেখেন, যেখানে তিনি ক্রমওয়েলকে প্রশংসা করেছিলেন। এটি ছিল তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য রচনা। কিন্তু ১৬৬০ সালে চার্লস II-এর রেস্টোরেশনের পর তিনি দ্রুত রাজতন্ত্রপন্থী হয়ে যান। “Astraea Redux” (১৬৬০) কবিতায় তিনি রাজার প্রত্যাবর্তনকে স্বর্গীয় ন্যায়বিচার হিসেবে বর্ণনা করেন।

এই রাজনৈতিক পরিবর্তন তাঁর সাহিত্যজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, নতুন রাজতান্ত্রিক যুগে তাঁর ভবিষ্যৎ নিহিত। ১৬৬৩ সালে তিনি লেডি এলিজাবেথ হাওয়ার্ডকে বিয়ে করেন। এই বিয়ে তাঁকে অভিজাত সমাজের সঙ্গে যুক্ত করে।

১৬৬৭ সালে তিনি “Annus Mirabilis” প্রকাশ করেন — ১৬৬৬ সালের ঘটনাবলি (লন্ডনের মহামারি, অগ্নিকাণ্ড ও ডাচ যুদ্ধ) নিয়ে একটি ঐতিহাসিক কবিতা। এটি তাঁকে সাহিত্যিক খ্যাতি এনে দেয়।

কবি লরিয়েট ও নাট্যজীবনের শীর্ষ (১৬৬৮–১৬৮৫)

১৬৬৮ সালে ড্রাইডেনকে Poet Laureate (কবি লরিয়েট) নিযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তিনি Historiographer Royal-এর পদও পান। এই সময় তিনি প্রধানত নাটক লেখায় মনোনিবেশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:

  • The Indian Emperor (১৬৬৫)
  • All for Love (১৬৭৭) — তাঁর শ্রেষ্ঠ ট্র্যাজেডি, শেক্সপিয়ারের Antony and Cleopatra-এর আদলে রচিত।
  • Marriage à la Mode (১৬৭১) — সফল কমেডি।
  • The Conquest of Granada — হিরোইক প্লে।

তিনি “heroic play” নামে এক নতুন ধারা তৈরি করেন, যেখানে রাজকীয় চরিত্র, উচ্চভাষ্য এবং হিরোইক কাপলেটের ব্যবহার ছিল।

১৬৬৮ সালে তিনি “An Essay of Dramatic Poesy” প্রকাশ করেন — ইংরেজি সাহিত্য সমালোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এতে তিনি নাটকের নিয়ম, শেক্সপিয়ার ও জনসনের তুলনা এবং আধুনিক নাটকের পক্ষে যুক্তি দেন।

রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও ধর্মীয় রূপান্তর (১৬৮১–১৬৮৮)

১৬৮১ সালে তিনি লেখেন তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যঙ্গকবিতা Absalom and Achitophel। এটি ছিল চার্লস II-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র (Exclusion Crisis) নিয়ে। তিনি বাইবেলের গল্পের আড়ালে সমসাময়িক রাজনীতিকদের (বিশেষ করে Shaftesbury) তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ করেছেন। এটি ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক কবিতা।

১৬৮২ সালে Mac Flecknoe — সাহিত্যিক ব্যঙ্গ। এতে তিনি কবি Thomas Shadwell-কে আক্রমণ করেছেন। এটি পরবর্তীকালে Alexander Pope-কে প্রভাবিত করে।

১৬৮৫ সালে জেমস II সিংহাসনে আরোহণ করলে ড্রাইডেন ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করেন। এটি ছিল তাঁর জীবনের এক বড় রূপান্তর। এ সময় তিনি লেখেন The Hind and the Panther (১৬৮৭) — একটি ধর্মীয় রূপক কবিতা, যেখানে তিনি ক্যাথলিক চার্চকে হরিণ এবং অ্যাংলিকান চার্চকে চিতাবাঘ হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

শেষ জীবন ও অনুবাদকর্ম (১৬৮৮–১৭০০)

১৬৮৮ সালের গ্লোরিয়াস রেভল্যুশনের পর জেমস II-এর পতন ঘটলে ড্রাইডেন কবি লরিয়েটের পদ হারান। তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন। এ সময় তিনি অনুবাদকর্মে মনোনিবেশ করেন।

তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন Virgil’s Aeneid-এর অনুবাদ (১৬৯৭)। এটি ইংরেজি ভাষায় ভার্জিলের সেরা অনুবাদ বলে বিবেচিত। এছাড়া তিনি ওভিড, জুভেনাল, পারসিয়াস প্রভৃতির অনুবাদ করেন।

১৬৯৭ সালে তিনি লেখেন Alexander’s Feast — সংগীতের শক্তি নিয়ে এক অসাধারণ ওড। এটি তাঁর শেষ বড় কাব্যিক সাফল্য।

ব্যক্তিগত জীবন

১৬৬৩ সালে ড্রাইডেন লেডি এলিজাবেথ হাওয়ার্ডকে বিয়ে করেন। তাঁদের তিন পুত্র ছিল — চার্লস, জন ও ইরাসমাস। স্ত্রী এলিজাবেথ ছিলেন অভিজাত পরিবারের মেয়ে, কিন্তু তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। ড্রাইডেন প্রায়ই আর্থিক সমস্যায় ভুগতেন। তিনি লন্ডনে বাস করতেন এবং কফি হাউসের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তিনি ছিলেন বুদ্ধিদীপ্ত, ব্যঙ্গপ্রবণ এবং কখনো কখনো বিতর্কিত। তাঁর ব্যঙ্গ অনেক শত্রু তৈরি করেছিল।

মৃত্যু ও সমাধি

জন ড্রাইডেন ১৭০০ সালের ১ মে লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে (Poets’ Corner) সমাহিত করা হয়। তাঁর সমাধিলিপিতে লেখা আছে: “Here lies John Dryden…”

উত্তরাধিকার ও প্রভাব

ড্রাইডেন ইংরেজি সাহিত্যকে আধুনিক করে তোলেন। তিনি:

  • হিরোইক কাপলেটকে শাস্ত্রীয় রূপ দেন (যা পরে Alexander Pope গ্রহণ করেন)।
  • রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক ব্যঙ্গের নতুন মান স্থাপন করেন।
  • নাট্য সমালোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলেন।
  • অনুবাদকে একটি শিল্পে পরিণত করেন।

তাঁর প্রভাব পড়েছে Alexander Pope, Samuel Johnson, এমনকি রোমান্টিক কবিদের ওপরও। তিনি “Father of English Criticism” নামেও পরিচিত।

আজও তাঁর Absalom and Achitophel, Mac Flecknoe, Alexander’s Feast এবং All for Love পাঠ্যপুস্তকে স্থান পায়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সাহিত্য শুধু সৌন্দর্য নয় — তা রাজনীতি, ধর্ম ও সমাজের আয়নাও হতে পারে।

0 Comments

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...