ইরাসমাস ডারউইন (১৭৩১–১৮০২)
ইরাসমাস ডারউইনের কবিতা মূলত দীর্ঘ — The Botanic Garden (বিশেষ করে The Loves of the Plants) এবং The Temple of Nature। তিনি বীর্যবান দ্বিপদী (heroic couplets) ছন্দে বিজ্ঞানকে কাব্যে রূপ দিয়েছেন। নিচে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত সংক্ষিপ্ত স্তবক ও অংশগুলোকে স্বতন্ত্র কবিতা হিসেবে উপস্থাপন করা হলো।
১. উদ্ভিদের যৌন আনন্দ
(The Loves of the Plants থেকে)
সবুজ পাতায় যৌন আনন্দ বিরাজ করে,
সৌন্দর্য ও প্রেম ফুলের ঘণ্টায় ভিড় করে।
জাগ্রত পুংকেশর রেশমি বিছানায় শুয়ে,
স্ত্রীকেশরের দিকে মোমের মাথা নত করে।
মিলিত ঠোঁটে হাসি মিশিয়ে চুম্বন করে তারা,
অমৃতের পেয়ালা থেকে শিশির পান করে।
বাতাসে ভেসে পালকী প্রেমিক উড়ে যায়,
হাইমেনের ডানায় খুঁজে পায় কাঁপা বধূকে।
২. ড্রোসেরা — জলাভূমির রানি
(Drosera, The Loves of the Plants)
জলাভূমির রানি ড্রোসেরা পদচারণ করে,
নলখাগড়া-ঘেরা তীরে, শ্যাওলা-ঢাকা বিছানায়।
চকচকে রেশমের ভাঁজ তার কোমর ঘিরে,
পাতলা কোমরে লেপটে মাটিতে টেনে যায়।
পাঁচ সহচরী নিপুণ হাতে সংগ্রহ করে,
বাতাসে ছড়িয়ে দেয় রক্তবর্ণ আবরণ।
পাঁচ যুবক ভক্তিভরে পালন করে আদেশ,
তার চোখের ইশারায় চলে সব কাজ।
৩. উদ্ভিদের প্রেমময় মিলন
(The Loves of the Plants — সাধারণ স্তবক)
ফুলের বেলায় ভিড় করে প্রেম আর সৌন্দর্য,
পাতায় বাস করে যৌন আনন্দের মাধুর্য।
একে অপরের দিকে ঝোঁকে অ্যান্থার ও স্টিগমা,
মিশে যায় হাসিতে, চুম্বনে, শিশিরের স্বাদে।
বাতাসে উড়ে যায় প্রেমিক, খুঁজে বধূকে,
প্রকৃতির এই খেলায় সবাই মেতে ওঠে।
৪. মিমোসা — স্পর্শকাতর সুন্দরী
(Mimosa, The Loves of the Plants থেকে অনুপ্রাণিত)
স্পর্শকাতর সুন্দরী মিমোসা লজ্জা পায়,
হাওয়ার ছোঁয়ায় কুঁচকে যায় পাতার পাতা।
যেন লজ্জিতা নারী, চোখ নামায় সে,
প্রকৃতির এই খেলায় প্রেমের ছোঁয়া পায়।
৫. কার্নিভোরাস উদ্ভিদের আকর্ষণ
(The Loves of the Plants — Dionaea/Drosera ধাঁচে)
ফাঁদ পেতে বসে আছে শিকারী ফুলের রানি,
মিষ্টি গন্ধে ডেকে আনে পোকামাকড়ের প্রাণী।
যখন ছোঁয়া লাগে, বন্ধ হয়ে যায় ফাঁদ,
প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর খেলায় জীবন-মৃত্যুর সাধ।
৬. প্রকৃতির অগ্রগতি
(The Temple of Nature থেকে)
অণুজীব থেকে জীবনের যাত্রা শুরু হয়,
ধাপে ধাপে উন্নত হয় প্রজাতির সারি।
সংগ্রামে টিকে থাকে শক্তিশালী, উন্নত হয়,
প্রকৃতি তার রূপ বদলায়, নতুন করে গড়ে।
৭. নক্ষত্রের চক্র
(The Temple of Nature — মহাজাগতিক স্তবক)
ঘুরে চলো, হে নক্ষত্ররা! তোমাদের পথে,
এক অন্ধকার কেন্দ্রে পতন হবে শেষে।
মৃত্যু, রাত ও বিশৃঙ্খলা মিশে যাবে সব,
তারপর ঝড়ের পর উঠবে অমর প্রকৃতির রূপ।
৮. জীবনের সাধারণ সূত্র
(Zoonomia-এর কাব্যিক প্রতিফলন)
একটি জীবন্ত সূত্র থেকে সব প্রাণীর জন্ম,
সময়ের স্রোতে উন্নত হয় তারা ধাপে ধাপে।
ক্ষুধা, প্রেম আর নিরাপত্তার লড়াইয়ে,
শক্তিশালী বংশবিস্তার করে নতুন প্রজাতি গড়ে।
৯. উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা
(Phytologia / The Loves of the Plants থেকে)
উদ্ভিদও অনুভব করে, চায়, সাড়া দেয়,
যদিও কম মাত্রায় — প্রাণীর চেয়ে নিচু স্তরে।
পাতায়, শেকড়ে জীবনের স্পন্দন বিরাজ করে,
প্রকৃতির এই বিস্ময়কর খেলায় সবাই অংশ নেয়।
১০. প্রেম ও প্রকৃতির মিলন
(The Loves of the Plants — সমাপনী ভাব)
প্রেমের ডানায় ভেসে যায় ফুলের প্রেমিক,
প্রকৃতির বুকে মিশে যায় সব সৌন্দর্যের খেলা।
বিজ্ঞান ও কবিতার এই মিলনে জেগে ওঠে,
জীবনের অমর গান — ডারউইনের চিরন্তন বাণী।
এই সংক্ষিপ্ত কবিতাগুলো ডারউইনের বৈজ্ঞানিক কাব্যের সারাংশ তুলে ধরে — উদ্ভিদের যৌনতা, প্রকৃতির সংগ্রাম ও বিবর্তনের ধারণা। তাঁর মূল রচনা দীর্ঘ হলেও এই অংশগুলো স্বতন্ত্রভাবে পাঠযোগ্য এবং চিন্তা-উদ্দীপক।
চার্লস ডারউইনের পিতামহ; বীর্যবান দ্বিপদীতে বিশাল বৈজ্ঞানিক উদ্ভিদবিজ্ঞান গ্রন্থ রচয়িতা
ইরাসমাস ডারউইন ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর অন্যতম বহুমুখী প্রতিভা — চিকিৎসক, প্রকৃতিবিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, কবি এবং দার্শনিক। তিনি ছিলেন চার্লস ডারউইনের পিতামহ এবং ফ্রান্সিস গ্যালটনের মাতামহ। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কীর্তি হলো বীর্যবান দ্বিপদী (heroic couplets) ছন্দে লেখা বিশাল বৈজ্ঞানিক কাব্যগ্রন্থ The Botanic Garden (১৭৯১), যেখানে তিনি কার্ল লিনিয়াসের উদ্ভিদবিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করে তোলেন। এছাড়া Zoonomia (১৭৯৪–১৭৯৬)-এ তিনি বিবর্তনের প্রাথমিক ধারণা দিয়েছিলেন, যা তাঁর নাতি চার্লসের তত্ত্বের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হয়। লুনার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তিনি শিল্পবিপ্লবের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিলেন। তাঁর জীবন ছিল বিজ্ঞান, কবিতা, উদ্ভাবন এবং পরিবারের এক অনন্য সমন্বয়।
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন
১৭৩১ সালের ১২ ডিসেম্বর নটিংহ্যামশায়ারের এলস্টন হলে জন্মগ্রহণ করেন ইরাসমাস রবার্ট ডারউইন। পিতা রবার্ট ডারউইন ছিলেন আইনজীবী ও চিকিৎসক। মাতা এলিজাবেথ হিল। সাত সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে ছোট। পরিবার ছিল সম্ভ্রান্ত ও বুদ্ধিজীবী। শৈশবে তিনি প্রকৃতির প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করেন এবং পরিবারের বৈজ্ঞানিক পরিবেশে বড় হন।
শিক্ষা
প্রাথমিক শিক্ষা চেস্টারফিল্ড গ্রামার স্কুলে। পরে সেন্ট জনস কলেজ, কেমব্রিজে পড়াশোনা করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার জন্য এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুলে যান। সেখানে তিনি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও প্রকৃতিবিজ্ঞান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। ১৭৫৬ সালে নটিংহ্যামে চিকিৎসা শুরু করেন, কিন্তু সাফল্য কম হওয়ায় ১৭৫৭ সালে লিচফিল্ডে চলে আসেন। সেখানে এক তরুণ জেলেকে সফলভাবে চিকিৎসা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
চিকিৎসা পেশা ও সাফল্য
লিচফিল্ডে তিনি দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সফল চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ১৭৬১ সালে রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। রাজা তৃতীয় জর্জ তাঁকে রাজপ্রাসাদের চিকিৎসক হওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বাতাস ও গ্যাস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং সংক্রমণ ও ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। ১৭৯৯ সালে ক্লিফটনে নিউম্যাটিক ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেন গ্যাসের চিকিৎসাগত পরীক্ষার জন্য। মেঘ গঠন নিয়েও গবেষণা করেন (১৭৮৮)।
বৈজ্ঞানিক অবদান ও প্রধান গ্রন্থাবলী
ইরাসমাস ডারউইন ছিলেন সত্যিকারের পলিম্যাথ। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক কাজ:
- লিনিয়াসের অনুবাদ: ‘বোটানিক্যাল সোসাইটি অ্যাট লিচফিল্ড’-এর মাধ্যমে কার্ল লিনিয়াসের রচনা অনুবাদ করেন। A System of Vegetables (১৭৮৩–১৭৮৫) এবং The Families of Plants (১৭৮৭) — এতে অনেক ইংরেজি উদ্ভিদের নামকরণ করেন।
- The Botanic Garden (১৭৯১): দুটি অংশ — The Economy of Vegetation (১৭৯১) এবং The Loves of the Plants (১৭৮৯)। এটি বীর্যবান দ্বিপদী ছন্দে লেখা বিশাল কাব্যগ্রন্থ। এতে লিনিয়াসের যৌন-শ্রেণিবিন্যাসকে কাব্যিকভাবে উপস্থাপন করা হয় — পুংকেশর ও স্ত্রীকেশরকে নর-নারীর রূপক হিসেবে দেখানো হয়। বইটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয় এবং বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
- Zoonomia; or, The Laws of Organic Life (১৭৯৪–১৭৯৬): তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ। এতে রোগবিদ্যার একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা এবং জীবনের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধারণা দেওয়া হয়। তিনি লিখেছিলেন যে সব উষ্ণ-রক্তবিশিষ্ট প্রাণী “একটি জীবন্ত সূত্র” (one living filament) থেকে উদ্ভূত। উত্তেজনা, সংবেদন, ইচ্ছা ও সংযোগের মাধ্যমে প্রজাতির উন্নতি ঘটে। তিনি “lust, hunger, and security”-এর জন্য লড়াইয়ের কথা বলেন, যেখানে শক্তিশালী প্রাণীরা বংশবিস্তার করে উন্নত প্রজাতি তৈরি করে।
- Phytologia; or, The Philosophy of Agriculture and Gardening (১৮০০): কৃষি ও উদ্যানবিদ্যার দর্শন। সালোকসংশ্লেষণ ও উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা নিয়ে আলোচনা।
- The Temple of Nature; or, The Origin of Society (১৮০৩, মরণোত্তর): জীবনের অগ্রগতি — অণুজীব থেকে সভ্য সমাজ পর্যন্ত। মহাজাগতিক ধারণাও আছে (নক্ষত্রের সংঘর্ষ ও পুনর্নবীকরণ)।
কাব্যশৈলী: বীর্যবান দ্বিপদীতে বিজ্ঞান
তাঁর কবিতা ছিল বীর্যবান দ্বিপদী (heroic couplets) ছন্দে — অ্যালেকজান্ডার পোপের ধাঁচে, কিন্তু বিষয়বস্তু ছিল সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক। The Loves of the Plants-এ উদ্ভিদের যৌনাঙ্গকে মানবিক রূপক দেওয়া হয়, যা সমকালীনদের কাছে বিতর্কিত ও জনপ্রিয় দুই-ই ছিল। কবিতায় বাষ্পীয় ইঞ্জিন, দাসপ্রথার বিরোধিতা এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যের বর্ণনা আছে। ওয়ার্ডসওয়ার্থ প্রশংসা করলেও কোলরিজ বলেছিলেন যে তিনি ডারউইনের কবিতা “একেবারে ঘৃণা করেন”। তবু এটি বিজ্ঞানকে কাব্যের মাধ্যমে জনপ্রিয় করার অনন্য প্রচেষ্টা।
বিবর্তনীয় ধারণা: চার্লসের পূর্বসূরি
Zoonomia-তে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে সব প্রাণী একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে এবং সময়ের সঙ্গে উন্নত হয়েছে। তিনি অভিযোজন, যৌন নির্বাচনের ইঙ্গিত এবং অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন। The Loves of the Plants-এর ফুটনোটেও বিবর্তনের ইঙ্গিত আছে। The Temple of Nature-এ জীবনের ক্রমবিকাশ ও সমাজের উৎপত্তি বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর ধারণা লামার্কীয় প্রভাবিত হলেও চার্লস ডারউইন এগুলো পড়েছিলেন এবং মন্তব্য করেছিলেন। ইরাসমাসের কাজ বিবর্তন তত্ত্বের প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপন করে।
লুনার সোসাইটি ও উদ্ভাবন
১৭৬৫ সালে বার্মিংহামের লুনার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ম্যাথিউ বোল্টন, জেমস ওয়াট, জোসায়া ওয়েজউড, জোসেফ প্রিস্টলি, রিচার্ড লভেল এজওয়ার্থ প্রমুখ। এই গোষ্ঠী শিল্পবিপ্লবের অন্যতম চালিকাশক্তি। তিনি দাসপ্রথার বিরোধিতা করেন কবিতায়। বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল।
উদ্ভাবন:
- অ্যাকারম্যান স্টিয়ারিং লিংকেজ (গাড়ির স্টিয়ারিং)
- কপি করার যন্ত্র (১৭৭৮)
- কথা বলার যন্ত্র (১৭৯৯)
- ওয়েজউডের জন্য অনুভূমিক বায়ুকল
- কৃত্রিম পাখি
- আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ যন্ত্র
- হাইড্রোজেন-অক্সিজেন রকেট ইঞ্জিনের স্কেচ (১৭৭৯)
তিনি কম পেটেন্ট করতেন, কারণ চিকিৎসকের সুনাম রক্ষা করতে চাইতেন।
পারিবারিক জীবন
১৭৫৭ সালে মেরি (পলি) হাওয়ার্ডকে বিয়ে করেন। তাঁদের সন্তান: চার্লস ডারউইন (১৭৫৮–১৭৭৮, চার্লসের চাচা), ইরাসমাস জুনিয়র, রবার্ট ওয়ারিং ডারউইন (১৭৬৬–১৮৪৮ — যিনি চার্লস ডারউইনের পিতা) প্রমুখ। ১৭৭০ সালে মেরি মারা যান।
গভর্নেস মেরি পার্কারের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক থেকে দুই কন্যা: সুসানা ও মেরি পার্কার জুনিয়র (যারা পরে মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন)।
১৭৮১ সালে বিধবা এলিজাবেথ পোলকে বিয়ে করেন। তাঁদের সন্তান: এডওয়ার্ড, ফ্রান্সেস অ্যান ভায়োলেটা (ফ্রান্সিস গ্যালটনের মা), এমা, স্যার ফ্রান্সিস স্যাচেভেরেল ডারউইন প্রমুখ।
তিনি ছিলেন ডারউইন-ওয়েজউড পরিবারের সদস্য। ফ্রিম্যাসন ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবন, স্বাস্থ্য ও মৃত্যু
তিনি ছিলেন মাঝারি উচ্চতার, মোটা, অমসৃণ চেহারার, অগোছালো পোশাকপরা। কিন্তু অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত, রসিক এবং আতিথেয়তাপূর্ণ। মহিলাদের শিক্ষার পক্ষে ছিলেন (A Plan for the Conduct of Female Education, ১৭৯৭)। ১৭৯২ সালে আমেরিকান ফিলোসফিক্যাল সোসাইটির সদস্য হন।
স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। ১৮০২ সালের ১৮ এপ্রিল ডার্বিশায়ারের ব্রেডসল প্রায়রিতে হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন (সম্ভবত প্রদাহজনিত জ্বর বা এনজাইনা)। সমাধি অল সেন্টস চার্চ, ব্রেডসলে।
উত্তরাধিকার ও প্রভাব
ইরাসমাস ডারউইনের কাজ বিজ্ঞান, কবিতা এবং সমাজে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি উদ্ভিদবিজ্ঞানের নামকরণ ও জনপ্রিয়করণে অবদান রাখেন। বিবর্তন তত্ত্বের প্রাথমিক ধারণা দিয়ে চার্লস ডারউইনকে প্রভাবিত করেন (চার্লস তাঁর কাজ পড়েছিলেন)। লুনার সোসাইটির মাধ্যমে শিল্পবিপ্লবে অবদান। কবিতার মাধ্যমে বিজ্ঞানকে সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত করেন।
আজ লিচফিল্ডে Erasmus Darwin House একটি জাদুঘর। তাঁর নামে একাডেমি ও ভবনের নামকরণ করা হয়েছে। তিনি ছিলেন আলোকিত যুগের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র — যিনি বিজ্ঞানকে কাব্যে, উদ্ভাবনকে বাস্তবে এবং প্রকৃতিকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখেছিলেন।
তাঁর জীবন প্রমাণ করে যে, একজন মানুষ কতটা বহুমুখী হতে পারেন এবং কীভাবে তাঁর চিন্তা পরবর্তী প্রজন্মকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।