জন পিয়ারপন্ট (১৭৮৫–১৮৬৬)
১.
জন পিয়ারপন্ট ১৭৮৫ সালের ৬ এপ্রিল কানেকটিকাটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন কবি, মন্ত্রী ও দাসপ্রথাবিরোধী সংস্কারক ছিলেন। তাঁর তীব্র ছন্দোবদ্ধ কবিতা অ্যাবোলিশন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আমেরিকান নাগরিক অধিকারের পক্ষে লড়াই করেন। তাঁর জীবন বিভিন্ন পেশায় সমৃদ্ধ ছিল।
২.
পিয়ারপন্টের পরিবার ইয়েল কলেজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। শৈশবে মায়ের ধর্মীয় শিক্ষা তাঁকে প্রভাবিত করে। পরবর্তীকালে তিনি দাসপ্রথা ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তাঁর প্রারম্ভিক জীবন তাঁকে সংবেদনশীল সংস্কারক করে তোলে। এই পটভূমি তাঁর কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
৩.
১৮০৪ সালে তিনি ইয়েল কলেজ থেকে স্নাতক হন। পরে লিচফিল্ড ল স্কুলে আইন অধ্যয়ন করেন। এই শিক্ষা তাঁকে যুক্তিবাদী ও বাগ্মী করে তোলে। পরবর্তী জীবনে তিনি এই দক্ষতা সংস্কার আন্দোলনে ব্যবহার করেন। শিক্ষা ছিল তাঁর কর্মজীবনের ভিত্তি।
৪.
প্রথমে সাউথ ক্যারোলিনায় গৃহশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। সেখানে দাসপ্রথার বাস্তবতা দেখে তিনি প্রভাবিত হন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর দাসমুক্তি আন্দোলনে অনুপ্রেরণা যোগায়। পরে তিনি আইনজীবী ও ব্যবসায়ী হন। বিভিন্ন পেশা তাঁকে অভিজ্ঞ করে তোলে।
৫.
ব্যবসা ব্যর্থ হওয়ার পর বাল্টিমোরে তিনি ‘এয়ার্স অফ প্যালেস্টাইন’ কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। ১৮১৬ সালে প্রকাশিত এটি তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। কবিতাটি ধর্মীয় ও নৈতিক বিষয়ে সমৃদ্ধ। এটি তাঁর সাহিত্যিক যাত্রার শুরু বলে বিবেচিত হয়।
৬.
১৮১৯ সালে বোস্টনের হলিস স্ট্রিট চার্চের ইউনিটারিয়ান মন্ত্রী হন। প্রায় ছাব্বিশ বছর তিনি এখানে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বক্তৃতা ছিল প্রখর ও সংস্কারমূলক। দাসপ্রথা ও মদ্যপানের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। এটি তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।
৭.
হলিস স্ট্রিট চার্চে তাঁর সংস্কারমূলক কার্যকলাপ বিতর্ক সৃষ্টি করে। ১৮৪১ সালে চার্চ কাউন্সিলে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। তবুও ১৮৪৫ সালে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এটি পালপিটের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই ছিল। তাঁর সাহস প্রশংসিত হয়।
৮.
পিয়ারপন্ট শিক্ষাক্ষেত্রেও অবদান রাখেন। তিনি বোস্টন ইংলিশ হাই স্কুল প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেন। ‘আমেরিকান ফার্স্ট ক্লাস বুক’ ও ‘ন্যাশনাল রিডার’ তাঁর লেখা জনপ্রিয় বই। এগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। শিক্ষা ছিল তাঁর আরেকটি আবেগ।
৯.
দাসপ্রথাবিরোধী আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর কবিতা গণসভায় আবৃত্তি করা হতো। উইলিয়াম লয়েড গ্যারিসনের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। ‘দ্য লিবারেটর’ পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রমাণ।
১০.
‘দ্য টকসিন’ তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা। ১৮৩৮ সালে পেনসিলভানিয়া হল ধ্বংসের পর এটি লেখা হয়। কবিতায় তিনি স্বাধীনতার আদর্শ স্মরণ করান। এটি তীব্র ছন্দোবদ্ধ ও দাসপ্রথার বিরুদ্ধে শক্তিশালী আহ্বান জানায়।
১১.
১৮৪৩ সালে ‘অ্যান্টি-স্লেভারি পোয়েমস’ সংকলন প্রকাশিত হয়। এতে তাঁর অনেক দাসপ্রথাবিরোধী কবিতা স্থান পায়। ‘দ্য ফিউজিটিভ স্লেভস অ্যাপোস্ট্রফ টু দ্য নর্থ স্টার’ অন্যতম। তাঁর কবিতা মেট্রিক ও প্রভাবশালী ছিল। এগুলো আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করে।
১২.
টেম্পারেন্স আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ‘কোল্ড ওয়াটার মেলোডিজ’ সম্পাদনা করেন। মদ্যপানের কুফল সম্পর্কে তিনি সচেতনতা তৈরি করেন। এটি তাঁর নৈতিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। সমাজ উন্নয়নে তিনি কাজ করেন।
১৩.
রাজনীতিতেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। লিবার্টি পার্টির প্রার্থী হিসেবে গভর্নর নির্বাচনে দাঁড়ান। ১৮৫০ সালে ফ্রি সয়েল পার্টি থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হন। ফুগিটিভ স্লেভ ল-এর তিনি বিরোধিতা করেন। এটি তাঁর নীতির প্রতি অঙ্গীকার।
১৪.
১৮৬১ সালে ৭৬ বছর বয়সে গৃহযুদ্ধে চ্যাপ্লেইন হিসেবে যোগ দেন। ২২তম ম্যাসাচুসেটস ইনফ্যান্ট্রিতে সেবা করেন। স্বাস্থ্যের কারণে সংক্ষিপ্ত সময় দায়িত্ব পালন করেন। পরে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন। দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ প্রশংসনীয়।
১৫.
তাঁর পুত্র জেমস লর্ড পিয়ারপন্ট ‘জিঙ্গল বেলস’ গানটি রচনা করেন। কন্যা জুলিয়েট জে. পি. মরগানের মা ছিলেন। পরিবারে সৃজনশীলতা ও সাফল্য ছিল। তবুও তিনি নিজের পথে সংস্কারক ছিলেন। পারিবারিক জীবন তাঁকে সমর্থন যুগিয়েছে।
১৬.
শেষ জীবনে ফ্রেনোলজি ও স্পিরিচুয়ালিজমে আগ্রহী হন। মেডফোর্ডে বসবাস করেন। বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সাহায্য করেন। তাঁর বহুমুখী আগ্রহ তাঁকে সমৃদ্ধ করে। এটি তাঁর অনুসন্ধিৎসু মনের পরিচয় বহন করে।
১৭.
২৭ আগস্ট ১৮৬৬ সালে মেডফোর্ডে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অ্যাটলান্টিক মান্থলিতে তাঁর শোকসংবাদ প্রকাশিত হয়। জন নিল এটি লিখেছিলেন। তাঁর মৃত্যু আমেরিকান সংস্কার আন্দোলনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটায়।
১৮.
তিনি ‘অ্যাবোলিশন আন্দোলনের কবি’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর কবিতা হুইটিয়ারের সঙ্গে গণসভায় আবৃত্তি হতো। এগুলো দাসমুক্তি আন্দোলনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তাঁর ছন্দোবদ্ধ রচনা শক্তিশালী বার্তা বহন করে। এটি তাঁর স্থায়ী সাহিত্যিক অবদান।
১৯.
পিয়ারপন্ট অন্যান্য সংস্কারক কবিদের প্রভাবিত করেন। তাঁর রচনা অ্যান্টি-স্লেভারি সংকলনে স্থান পায়। তিনি পালপিট ও কলম দিয়ে ন্যায়ের লড়াই করেন। সমাজ সংস্কারে তাঁর সাহস প্রশংসিত হয়। তিনি একজন সত্যিকারের নাগরিক নেতা ছিলেন।
২০.
জন পিয়ারপন্টের জীবন শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কারের সুন্দর সমন্বয়। তিনি দেখিয়েছেন কবিতা দিয়েও সমাজ বদলানো সম্ভব। তাঁর উত্তরাধিকার আজও প্রাসঙ্গিক। দাসপ্রথা ও অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠস্বর চিরস্থায়ী। তিনি আমেরিকান ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র।
আমেরিকান সংস্কারক, ইউনিটারিয়ান ধর্মযাজক ও দাসপ্রথাবিরোধী আন্দোলনের প্রবল কবি
জন পিয়ারপন্ট ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর আমেরিকার অন্যতম সাহসী কণ্ঠস্বর — একজন কবি যিনি ছন্দ ও মাত্রার শক্তি দিয়ে দাসপ্রথা, মদ্যপান ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে তীব্র আঘাত হেনেছিলেন। তিনি “অ্যাবোলিশন আন্দোলনের কবি” (the poet of the abolition movement) নামে পরিচিত হন। তাঁর কবিতা জন গ্রিনলিফ হুইটিয়ারের সঙ্গে পাশাপাশি দাসমুক্তি সভায় আবৃত্তি করা হতো। পাশাপাশি তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, ইউনিটারিয়ান মন্ত্রী এবং গৃহযুদ্ধের সময় ৭৬ বছর বয়সে সেনাবাহিনীর চ্যাপ্লেইন। তিনি ছিলেন বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ জে. পি. মরগানের মাতামহ।
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
৬ এপ্রিল ১৭৮৫ সালে কানেকটিকাটের লিচফিল্ড কাউন্টির সাউথ ফার্মসে (বর্তমানে মরিস শহর) জন্মগ্রহণ করেন জন পিয়ারপন্ট। তাঁর পিতা জেমস পিয়ারপন্ট একজন সম্ভ্রান্ত কৃষক ও নাগরিক ছিলেন; মাতা এলিজাবেথ কলিন্স পিয়ারপন্ট ধর্মপ্রাণা নারী। তাঁর প্রপিতামহ জেমস পিয়ারপন্ট ইয়েল কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। শৈশবে মায়ের ধর্মীয় শিক্ষা তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
১৫ বছর বয়সে ইয়েল কলেজে ভর্তি হন এবং ১৮০৪ সালে স্নাতক হন। পরে লিচফিল্ড ল স্কুলে আইন অধ্যয়ন করেন। কিছুদিন সাউথ ক্যারোলিনার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে (অলস্টন পরিবার) গৃহশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। এ সময় দাসপ্রথার বাস্তবতা তাঁর চোখে পড়ে এবং পরবর্তীকালে তাঁর সংস্কারমূলক চিন্তাকে প্রভাবিত করে।
বহুমুখী পেশাজীবন: শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও কবি
আইনজীবী হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময় নিউবেরিপোর্ট, ম্যাসাচুসেটসে প্র্যাকটিস করেন (১৮১২ সালে বারে ভর্তি)। কিন্তু সফল হননি। ১৮১৪ সালে ভগ্নিপতি জোসেফ লর্ড ও বন্ধু জন নিলের সঙ্গে বাল্টিমোরে শুকনো মালের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা ব্যর্থ হয়; ঋণগ্রস্ত হয়ে কারাগারেও যেতে হয়। এই কঠিন সময়েই তিনি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ The Airs of Palestine (১৮১৬) রচনা করেন, যা তাঁকে আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। কবিতাটি ধর্মীয় উন্নতি, সুন্দর ভাষা ও ছন্দের জন্য প্রশংসিত হয়।
শিক্ষাক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ছিলেন। ১৮২১ সালে বোস্টনের ইংলিশ ক্লাসিক্যাল স্কুল (পরবর্তীকালে ইংলিশ হাই স্কুল) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি দুটি জনপ্রিয় স্কুল রিডার লেখেন — The American First Class Book (১৮২৩) ও The National Reader (১৮২৭)। এগুলো বহু সংস্করণে প্রকাশিত হয় এবং আমেরিকান শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদান রাখে।
মন্ত্রীত্ব ও ধর্মীয় সংস্কার
১৮১৬ সালে বাল্টিমোরে ইউনিটারিয়ান আন্দোলনের সংস্পর্শে আসেন এবং হার্ভার্ড ডিভিনিটি স্কুলে ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন করেন। ১৮১৯ সালের এপ্রিলে বোস্টনের বিখ্যাত হলিস স্ট্রিট চার্চের পাস্টর হিসেবে নিযুক্ত হন। প্রায় ২৬ বছর (১৮১৯–১৮৪৫) তিনি এখানে সেবা দেন। তাঁর বক্তৃতা ছিল প্রখর, যুক্তিপূর্ণ ও ভবিষ্যদ্বাণীমূলক।
কিন্তু তাঁর দাসপ্রথাবিরোধী ও মদ্যপানবিরোধী (temperance) অবস্থান অনেক ধনী প্যারিশিয়ানের বিরোধিতার কারণ হয় — যাদের অনেকে রাম ব্যবসা ও দাসপ্রথার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৮৪১ সালে চার্চ কাউন্সিলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়; তিনি পালপিটের স্বাধীনতা রক্ষা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন, কিন্তু উত্তেজনা থেকে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৮৪৫ সালে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
পরবর্তীকালে নিউ ইয়র্কের ট্রয় (১৮৪৫–১৮৪৯) এবং ম্যাসাচুসেটসের মেডফোর্ডের ফার্স্ট প্যারিশ চার্চে (১৮৪৯–১৮৫৬) মন্ত্রীত্ব করেন।
দাসপ্রথাবিরোধী কবিতা: তীব্র, ছন্দোবদ্ধ নাগরিক অধিকারের আহ্বান
পিয়ারপন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী পরিচয় তাঁর অ্যান্টি-স্লেভারি কবিতা। ১৮৪৩ সালে অলিভার জনসন The Anti-Slavery Poems of John Pierpont প্রকাশ করেন। এতে The Liberator ও The National Anti-Slavery Standard-এ প্রকাশিত কবিতা সংকলিত হয়। তাঁর কবিতা ছিল মেট্রিক — নিয়মিত ছন্দ ও ছন্দোময়, যা জনসভায় আবৃত্তির জন্য উপযুক্ত।
সবচেয়ে বিখ্যাত “The Tocsin” (১৮৩৮) — পেনসিলভানিয়া হল (ফিলাডেলফিয়া) ধ্বংসের পর লেখা। এতে তিনি আমেরিকানদের পূর্বপুরুষদের স্বাধীনতার আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে লেখেন:
“WAKE! children of the men who said,
‘All are born free!’—Their spirits come
Back to the places where they bled
In Freedom’s holy martyrdom,
And find you sleeping on their graves,
And hugging there your chains,—ye slaves!”
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: “The Fugitive Slave’s Apostrophe to the North Star”, “This Fratricidal War” (১৮৬১)। তিনি দাসপ্রথাকে “বিষাক্ত গাছ” বলে অভিহিত করেন যা সমূলে উৎপাটন করতে হবে। তাঁর কবিতা নৈতিক আহ্বান, বাইবেলীয় চিত্রকল্প ও রাজনৈতিক তীক্ষ্ণতায় ভরা।
তিনি টেম্পারেন্স আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন — Cold Water Melodies ও Washingtonian Songster (১৮৪২) সম্পাদনা করেন এবং জনপ্রিয় নাটক The Drunkard (১৮৪৪)-এর সহ-রচয়িতা বলে মনে করা হয়।
রাজনৈতিক সংগ্রাম ও গৃহযুদ্ধে অংশগ্রহণ
তিনি লিবার্টি পার্টির প্রার্থী হিসেবে ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর নির্বাচনে দাঁড়ান (১৮৪০-এর দশক) এবং ১৮৫০ সালে ফ্রি সয়েল পার্টির প্রার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রীয় কংগ্রেসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফুগিটিভ স্লেভ ল-এর বিরোধিতা করেন।
১৮৬১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর, ৭৬ বছর বয়সে তিনি ২২তম ম্যাসাচুসেটস ভলান্টিয়ার ইনফ্যান্ট্রির চ্যাপ্লেইন হিসেবে যোগ দেন। অক্টোবরে কমিশন পান এবং ভার্জিনিয়ার হল’স হিলে ডিফেন্স অব ওয়াশিংটনে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায় ৫ নভেম্বর ১৮৬১-এ পদত্যাগ করেন। পরে ওয়াশিংটনে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টে কাস্টমস সংক্রান্ত কাজ করেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।
পারিবারিক জীবন
১৮১০ সালে ম্যারি শেলডন লর্ডকে (মৃ. ১৮৫৫) বিয়ে করেন। তাঁদের ছয় সন্তান: উইলিয়াম অ্যালস্টন, ম্যারি এলিজাবেথ, জুলিয়েট (জুনিয়াস স্পেন্সার মরগানের স্ত্রী, জে.পি. মরগানের মা), জন জুনিয়র, জেমস লর্ড পিয়ারপন্ট (যিনি “Jingle Bells” গানটি লেখেন) ও ক্যারোলিন অগাস্টা। ১৮৫৭ সালে দ্বিতীয়বার হ্যারিয়েট লুইসা (ক্যাম্পবেল) ফাউলারকে বিয়ে করেন।
শেষ জীবন, মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
মেডফোর্ডে শেষ জীবন কাটান। ফ্রেনোলজি ও স্পিরিচুয়ালিজমে আগ্রহী হন। ২৭ আগস্ট ১৮৬৬ সালে হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ১৬ পৃষ্ঠার শোকসংবাদ Atlantic Monthly-এর প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়, লিখেছিলেন তাঁর পুরনো বন্ধু জন নিল।
জন পিয়ারপন্টের উত্তরাধিকার বহুমাত্রিক। তিনি দেখিয়েছিলেন যে ধর্মযাজকের দায়িত্ব কেবল আত্মার মুক্তি নয়, সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোও। তাঁর কবিতা আজও স্মরণ করা হয় দাসপ্রথাবিরোধী আন্দোলনের সাহিত্যিক দলিল হিসেবে। শিক্ষা, মন্ত্রীত্ব ও নাগরিক সাহসের সমন্বয়ে তিনি আমেরিকান সংস্কার আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে রয়েছেন।