Uttam Kumar Ghosh

এখন আর
রাত তিনটে। এখন আর বারান্দায় পা বাড়াই না। বিনা কারনে দুঃখ বিলাসিতা করি না। এখন আর বিনা কারনে বা অকারণে হাসি না। আর ইচ্ছে করে না! কেন জানি চোখের জলও বড্ড হিসেবি হয়ে গেছে। এত স্বজন হারা এত দুঃখ কষ্ট পরেও আর কোন কোন কিছু চাওয়া বা পাওয়ার ইচ্ছে হৃদয়ে উদগরিত হয় না। এখন পূজোয় দলবেঁধে হাঁটি করার বাসনা করি না। বা ইচ্ছে করে না। মনটাও বড্ড সাবধানী হয়ে গেছে অপরিচিত কাউকে আর বিশ্বাস করতে চায় না। মনের কথা উজাড় করে বলা হয় না আর। ইচ্ছেও জাগে না।
আজকাল কেন জানি আচমকা ক্রাশ হয় না। প্রথম দেখায় প্রেম হয় না। সারাদিন কারো ফোনের অপেক্ষায় কাটে না । মনে হয় এইতো ভাল আছি। বেশ আছি।
এখন কেন জানি মনে হয় যাদের ছাড়া একদিনও কাটবে না ভেবেছিলাম নির্ভীগনে চলে যাচ্ছ সময় তাদের ছাড়া। কেউ খোঁজ না নিলেও ভেঙে পড়ি না। নিজের পছন্দ আর অপছন্দ সব একাকার।
এখন পৃথিবীর সব থেকে ভয়ঙ্কর রোগ অন্যের কাছে ভালো হবার ইচ্ছেটাও চলে গেছে আমাকে ছেড়ে। বৃষ্টি এলে ছুটে ছাদে না গিয়ে জানালা দরজা বন্ধ করে দিই। না হলে জানলার একটু ফাঁক গলিয়ে তাকিয়ে থাকি আমি কিছু কি হারালাম মনেও পড়ে না দেইও না মনে পড়তে। ভালোবাসার আকুল আকুতির মৃত্যু উদযাপন করি একাকী। । কেউ অপমান করে চলে গেলেও সাময়িক রাগ থিতিয়ে যায় মুহূর্তে।
এখন আমার কষ্টগুলো জমাট বেঁধে গেছে অবহেলাগুলো শক্তি হয়ে মোটা আস্তরণ পড়েছে। যার প্রলেপ ভাংচুর করতে ইচ্ছে করে না। করিও না।
এখন আবেগগুলো স্তিমিত হয়ে গেছে। হাত বাড়ালেও হাত বাড়াতে ইচ্ছে করে না। ‘একতরফা’ শব্দটাতে বড্ড অ‌্যালার্জি হয়ে
গেছে । ছোট থেকে জেনে আসা অনেক কিছুই আসলে ভুল ছিল। শুধু অন্যের ইচ্ছেতে চলতে তখন ক্লান্ত লাগে।
এখন ভালোবাসা আর অপরিণত আবেগে ভাসে না তার সূত্র মেনে। মনে হয় এই তো বেশ আছি। নচিকেতার গানের শব্দের মধ্য ডুবে থাকি। এখন বেশ তো আছি।

0 Comments

Uttam Kumar Ghosh

সবুজের সমুদ্র—পাতায় পাতায় কৃষকের স্বপ্ন
তুমুল সবুজ। সবুজের সমারোহ আর ভালবাসা। আমাদের মাঠের ছবি। এ যেন মাটির বুকজুড়ে বিছিয়ে রাখা এক বিশাল সবুজ চাদর। সারি সারি ধানের চারা বাতাসের মৃদু স্পর্শে দুলছে—কখনো একসঙ্গে, কখনো আলাদা আলাদা; অথচ তাদের গন্তব্য এক। এই সবুজের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বাংলার কৃষকের স্বপ্ন, ঘামের গল্প আর ভবিষ্যতের আশ্বাস।
ধানের চারা শুধু ধানক্ষেত শুধু একটি ফসলের মাঠ নয়; এটি আমাদের গ্রামীণ জীবনের এক জীবন্ত কাব্য। ভোরের শিশিরে ভেজা পাতাগুলো যখন সূর্যের আলোয় ঝিলমিল করে, তখন মনে হয় প্রকৃতি নিজ হাতে লিখে চলেছে সবুজ অক্ষরের কোনো মহাকাব্য। প্রতিটি চারা যেন বলে—“আমি একদিন শস্য হব, মানুষের অন্ন হব, একটি পরিবারের হাসির কারণ হব।”
বাতাসের শব্দে কথা বলে প্রকৃতি, পাতার দোলায় বাজে নিঃশব্দ সুর। মাটির গন্ধে মিশে থাকে শৈশবের স্মৃতি, গ্রামের পথ, বর্ষার জল আর কৃষকের নিরন্তর পরিশ্রম।
এই সবুজ ধানের মাঠের দিকে তাকালে মনে পড়ে—আমাদের ভাতের প্রতিটি দানার পেছনে কত মানুষের শ্রম। কৃষক রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, কাদামাটিতে পা ডুবিয়ে যে স্বপ্ন বুনে দেন, তারই ফল আমাদের প্রতিদিনের খাবারের থালা।
সবুজের সবুজ বাংলার প্রাণ। এখানে মাটির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্ক, প্রতিটি চারা সঙ্গে কৃষকের জীবনের প্রতি বিশ্বাস এবং আগামী দিনের আশাবাদ।
সবুজ ধানের পাতাগুলো যেন বাতাসে দুলে আজ একটাই কথা বলে—মাটি বাঁচলে কৃষক বাঁচবে, কৃষক বাঁচলে বাঁচবে আমাদের খাদ্য , আর অন্ন বাঁচলে বাঁচবে মানুষের জীবন। এ সবুজ ফসলের মাঠ আমাদের নিঃশ্বাস প্রশ্বাস আর হৃদপিণ্ড।

0 Comments

Uttam Kumar Ghosh

বই চুরি
বই পড়ার সাথে বই চুরির একটা সম্পর্ক রয়েছে । আমি নিজেই তো বই এনে পড়ে আর ফেরৎ দিইনি। এটাকেও তো চুরি বলা যেতে পারে। ছোটবেলায় কারো বুকশেলফে প্রিয় কোনো বই দেখে মন কেমন করে উঠত। নিজের কাছে নেই, অথচ বইটি চাই—এই আকাঙ্ক্ষা কখনো কখনো আমাকে বই ‘চুরি’ করতেও প্রলুব্ধ করেছে। সেই চুরিতে হয়তো ছিল না লোভ; ছিল অক্ষরের প্রতি এক দুর্নিবার টান। চুরি করা বইটি বুকের কাছে নিয়ে পড়তে পড়তে মনে হতো—আমি বুঝি পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান ধনটি পেয়ে গেছি।
কিন্তু সব বই চুরি এমন নিষ্পাপ নয়। কোনো পাঠাগার থেকে একটি বই হারিয়ে গেলে শুধু একটি মলাট ও কিছু পৃষ্ঠা হারায় না; হারিয়ে যায় একজন পাঠকের সম্ভাব্য একটি বিকেল, একটি ভাবনা, হয়তো একটি বদলে যাওয়া জীবন।
বই চুরি করা যায়, বইয়ের মালিকানা কেড়ে নেওয়া যায়, কিন্তু অক্ষরের আলো চুরি করা যায় না। একটি বই যে হৃদয়ে একবার আশ্রয় নেয়, সেখানে সে নিঃশব্দে শিকড় ছড়ায়।
অথচ দেখুন ————–
ইরাকের বাগদাদের আল – মুতানাব্বি
স্ট্রিট বহুদিন ধরেই বইপ্রেমী, লেখক ও
পাঠকদের অন্যতম প্রধান মিলনস্থল। এখানে বই পড়ে থাকে রাস্তায়, চুরি হয়না!
১০ম শতকে এক বিখ্যাত আরবি কবি
আল-মুতানাব্বির নামে নামকরণ করা
এই রাস্তাটি ইরাকের সাহিত্য সংস্কৃতির
গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত হয়।
এখানে বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ হলো,
“পাঠক চুরি করে না,আর চোর বই পড়ে না।”
কথাটি শুধুই রসিকতা না,বই ও জ্ঞানের প্রতি স্থানীয় মানুষের গভীর শ্রদ্ধারও প্রতিফলন এটা। ২০০৭ সালে ভয়াবহ বোমা হামলায় এই ঐতিহাসিক রাস্তা বড় ক্ষতির মুখে পড়ে।
তবু আল-মুতানাব্বি স্ট্রিট আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং আজও বাগদাদের সাহিত্যিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে টিকে আছে।

1 Comment
  • G
    Guest Reader

    চমৎকার অনুভব। বেশ ভালো লিখেছেন

    Reply · 1 month ago

Uttam Kumar Ghosh

বই কেন পড়ি?
নাম Anke Gowda। বাড়ি ভারতের
কর্ণাটক। কর্ণাটকের ছোট্ট একটা গ্রামে তার এই বিশাল লাইব্রেরি রয়েছে। পুরোটাই ব্যক্তিগত।গেল।
প্রথম জীবনে বাস কনট্রাকটর, তারপর মাস্টার্স, তারপর চাকরি। কিন্তু বই? নেশা,যার বই আর বই। বই সংগ্রহ। প্রায় বিশ লক্ষের কাছাকাছি বই সংগ্রহে। ভাবা যায়? অসাধারণ। সহযোগিতা করছেন স্ত্রী সন্তান। পদ্মশ্রী উপাধি পেয়ে গেছেন। ২০ লক্ষ না হোক, জীবদ্দশায় যেন অন্তত ২০০০০ বই সংগ্রহ করতে পারি এ চেষ্টা থাকল। তাহলে ___
বই কেন পড়ি?

0 Comments

Uttam Kumar Ghosh

শরতের মেঘলা আকাশ আমার
কলমে: ঘোষ উত্তম
তারিখ : ১১-০৯-২০২৬

শরতের মেঘলা আকাশে মেঘ বালিকারা চুপ হয়ে আছে। শরতের নরম আকাশে রৌদ্র মেঘের খেলা চলছে। কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি। আবার সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ানো। হৃদয়ের মনোবীণায় এ এক অন্যরকম অনুভূতি। বর্ষা মানে কি শুধু আবেগ, অনুভূতির জোয়ার। না বর্ষা মানে আমার একলা দুপুর আকাশ, বর্ষা মানে আমার রাত দুপুরে টিনের চালে একটানা বৃষ্টির শব্দ। বর্ষা মানে আমার গাঁয়ের ভিজে মাটির সোধা গন্ধ । বর্ষা মানেই আমার একলা রাতের বৃষ্টি। বর্ষা মানেই নদী যৌবনের জোয়ার। বর্ষা মানে বিলে ঝিলে শাপলা শালুক, হিজল কেয়া। বর্ষা মানে আমার মায়ের নকশি কাঁথায় প্রেমের রূপকথা। বর্ষা মানেই আমাদের গভীর ভালবাসার প্রথম কদমফুল। আর শরৎ মানে—
মানুষ প্রেমে পড়ে শরতের নীল আকাশে মেঘমালায় ভেসে বেড়ানো আকাঙ্ক্ষায়, কাশবনের ছোঁয়া শিহরিত হওয়ার আবেগে এবং বৃষ্টির রিমঝিম মায়াময়ী শব্দে। কারণ বর্ষা আর শরত সবার ভালোবাসার। আকাশে মেঘেদের আনাগোনা থাকুক কিংবা না থাকুক,আমি চাই বৃষ্টির অঝোর ধারা আসমান হতে বেয়ে পড়ুক অঝোর বৃষ্টি। ভেসে যাক হৃদয়ের সব জমাট বাধা দুঃখ কষ্টের কাল মেঘ। শরতের নীল আকাশে সাদা সাদা হাসি আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক আমার হৃদয়ে সারাদিন।

0 Comments

Uttam Kumar Ghosh

আজ এই বৃষ্টির কান্না শুনে মন পড়ল যে
*******************************
কলমে : ঘোষ উত্তম
তারিখ : ০৯/০৯/২০২৬

ডিস্ট্রিক বোর্ডের পাকা রাস্তা থেকে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পৌঁছে গেছি বাড়ি। অথচ বৃষ্টি থামার কোন লক্ষন নেই। বাড়ির সব গুলো ঘরই টিনের। ঘরের ভিতর ঢুকে মন উদাস হয়ে গেল। কত স্মৃতি হানা দিচ্ছে একের পর এক।কোন রেখে কোনটা মনে করি।আ হা রে শৈশব কৈশোর যৌবন আজ হৃদয় দুয়ারে নাড়া দিচ্ছে।
আজ এই বৃষ্টির কান্না শুনে মনে হচ্ছে, আকাশেরও বুঝি কিছু না-বলা কথা থাকে। কিছু অভিমান থাকে, কিছু হারানোর ব্যথা থাকে, কিছু মানুষকে ফিরে না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস থাকে। তাই হয়তো শ্রাবণের এই মেঘলা দুপুরে আকাশ তার সমস্ত নীলিমা সরিয়ে রেখে ঝরছে—রিমঝিম, অবিরাম, নিঃশব্দ কান্নার মতো।

বৃষ্টি এলেই বুঝি মানুষের মন বড় অদ্ভুত হয়ে যায়। আজ আমি অদ্ভুত স্মৃতি কাতর হয়ে পড়েছি। যে স্মৃতিগুলোকে দিনের ব্যস্ততায় যত্ন করে চাপা দিয়ে রাখা যায়, বৃষ্টির শব্দে সেগুলোই একে একে দরজা খুলে বাইরে আসে। পুরোনো উঠোন, ভেজা মাটির গন্ধ, কদমফুলের নরম সুবাস, দূরের বাঁশবাগানে জমে থাকা অন্ধকার, আর কোনো এক মানুষের মুখ—সবকিছু যেন হঠাৎ খুব কাছে এসে বসে।
একসময় বৃষ্টি ছিল আনন্দের অন্য নাম। বৃষ্টির দিনে স্কুল পালিয়ে ভিজে বাড়ি ফেরা, কাদামাখা পথ পেরিয়ে ছুটে চলা, নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির উন্মত্ততা দেখা—সেসব দিনে বৃষ্টি আমাদের কাছে কোনো বিষণ্নতার গল্প ছিল না। বরং বৃষ্টি মানেই ছিল মুক্তি; আকাশের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাস।
তারপর মানুষ বড় হয়। আমি বড় হলাম। কিন্তু আমার সেই দিনের ____
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির অর্থও বদলে গেছে কি!
একদিন যে বৃষ্টিতে হাত বাড়িয়ে আনন্দ খুঁজেছি, সেই বৃষ্টিই কোনো একদিন বুকের ভেতর জমে থাকা পুরোনো ব্যথাকে জাগিয়ে তোলে। মনে হয়, পাশে কেউ নেই। অথচ একসময় এই বৃষ্টির মধ্যেই পাশাপাশি হাঁটার জন্য একজন মানুষ ছিল। ছিল ছাতার নিচে দুজনের জন্য একটু জায়গা, ছিল ভিজে যাওয়ার অজুহাত, ছিল চোখে চোখ রাখার অপ্রকাশিত ভাষা।
আজ ছাতা আছে, পথ আছে, বৃষ্টি আছে—শুধু সেই মানুষটি নেই।

কেউ কেউ চলে যায় দূরত্বের কারণে। কেউ চলে যায় অভিমানে। কেউ চলে যায় সময়ের নিষ্ঠুর নিয়মে। আবার কেউ কেউ থেকে গিয়েও আর আগের মতো থাকে না। সম্পর্কের শরীরটি হয়তো বেঁচে থাকে, কিন্তু তার ভেতর থেকে ভালোবাসার উষ্ণতা একদিন নিঃশব্দে সরে যায়।
দিতে পারে না, দূরত্ব তাকে মুছে দিতে পারে না, এমনকি নতুন কোনো সম্পর্কও তার শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। আজ এই বৃষ্টির কান্না শুনে মনে পড়ল যে ________।

0 Comments

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...