এখন আর
রাত তিনটে। এখন আর বারান্দায় পা বাড়াই না। বিনা কারনে দুঃখ বিলাসিতা করি না। এখন আর বিনা কারনে বা অকারণে হাসি না। আর ইচ্ছে করে না! কেন জানি চোখের জলও বড্ড হিসেবি হয়ে গেছে। এত স্বজন হারা এত দুঃখ কষ্ট পরেও আর কোন কোন কিছু চাওয়া বা পাওয়ার ইচ্ছে হৃদয়ে উদগরিত হয় না। এখন পূজোয় দলবেঁধে হাঁটি করার বাসনা করি না। বা ইচ্ছে করে না। মনটাও বড্ড সাবধানী হয়ে গেছে অপরিচিত কাউকে আর বিশ্বাস করতে চায় না। মনের কথা উজাড় করে বলা হয় না আর। ইচ্ছেও জাগে না।
আজকাল কেন জানি আচমকা ক্রাশ হয় না। প্রথম দেখায় প্রেম হয় না। সারাদিন কারো ফোনের অপেক্ষায় কাটে না । মনে হয় এইতো ভাল আছি। বেশ আছি।
এখন কেন জানি মনে হয় যাদের ছাড়া একদিনও কাটবে না ভেবেছিলাম নির্ভীগনে চলে যাচ্ছ সময় তাদের ছাড়া। কেউ খোঁজ না নিলেও ভেঙে পড়ি না। নিজের পছন্দ আর অপছন্দ সব একাকার।
এখন পৃথিবীর সব থেকে ভয়ঙ্কর রোগ অন্যের কাছে ভালো হবার ইচ্ছেটাও চলে গেছে আমাকে ছেড়ে। বৃষ্টি এলে ছুটে ছাদে না গিয়ে জানালা দরজা বন্ধ করে দিই। না হলে জানলার একটু ফাঁক গলিয়ে তাকিয়ে থাকি আমি কিছু কি হারালাম মনেও পড়ে না দেইও না মনে পড়তে। ভালোবাসার আকুল আকুতির মৃত্যু উদযাপন করি একাকী। । কেউ অপমান করে চলে গেলেও সাময়িক রাগ থিতিয়ে যায় মুহূর্তে।
এখন আমার কষ্টগুলো জমাট বেঁধে গেছে অবহেলাগুলো শক্তি হয়ে মোটা আস্তরণ পড়েছে। যার প্রলেপ ভাংচুর করতে ইচ্ছে করে না। করিও না।
এখন আবেগগুলো স্তিমিত হয়ে গেছে। হাত বাড়ালেও হাত বাড়াতে ইচ্ছে করে না। ‘একতরফা’ শব্দটাতে বড্ড অ্যালার্জি হয়ে
গেছে । ছোট থেকে জেনে আসা অনেক কিছুই আসলে ভুল ছিল। শুধু অন্যের ইচ্ছেতে চলতে তখন ক্লান্ত লাগে।
এখন ভালোবাসা আর অপরিণত আবেগে ভাসে না তার সূত্র মেনে। মনে হয় এই তো বেশ আছি। নচিকেতার গানের শব্দের মধ্য ডুবে থাকি। এখন বেশ তো আছি।