William Collins (1721–1759) এর কবিতা বাংলায়
William Collins ইংরেজ প্রি-রোমান্টিক কবি, Thomas Gray-এর সমসাময়িক। তিনি মূলত ওড (Ode) রচনায় বিখ্যাত। তাঁর কবিতার সংখ্যা খুব কম (জীবদ্দশায় খুব অল্প প্রকাশিত), কিন্তু গভীরতা ও সৌন্দর্যে অসাধারণ। তিনি মানবিক আবেগকে (Pity, Fear, Evening, Liberty ইত্যাদি) দেবী বা প্রতীকী রূপে চিত্রিত করেছেন।
তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা “Ode to Evening”। বাংলায় সম্পূর্ণ কাব্যিক অনুবাদ খুব কমই পাওয়া যায় (Gray-এর Elegy-এর মতো), তবে কিছু কবিতার বাংলা লেকচার ও ব্যাখ্যা আছে।
কী শান্তিতে ঘুমায় বীরেরা, যারা চিরবিশ্রামে গেছে,
তাদের দেশের সব আশীর্বাদ নিয়ে!
যখন বসন্ত, শিশির-ভেজা ঠান্ডা আঙুলে,
ফিরে আসে তাদের পবিত্র মাটি সাজাতে —
সেখানে সে এক মধুরতর তৃণভূমি সাজাবে,
যা কল্পনার পায়ের চেয়েও মধুর।
পরীর হাতে তাদের শেষঘণ্টা বাজে,
অদৃশ্য রূপেরা তাদের শোকগীত গায়;
সেখানে সম্মান আসে, ধূসর তীর্থযাত্রীরূপে,
তাদের মাটি-ঢাকা দেহকে আশীর্বাদ করতে;
আর স্বাধীনতা কিছুক্ষণের জন্য এসে থাকবে,
সেখানে কাঁদতে কাঁদতে একাকী সন্ন্যাসীর মতো বাস করতে।
ওহে নম্র সন্ধ্যা! তোমার নীরব পায়ে
যখন ধূসর ছায়া নেমে আসে পৃথিবীতে,
তখন তোমার হাতে ফুলের মালা,
তোমার চোখে শান্তির গভীর আলো।
বনের পাখিরা থেমে যায় গান,
নদীর জল ধীরে বয়ে যায় তোমার পায়ের তলায়।
তুমি আসো, নীরব দেবী,
সব আবেগকে শান্ত করে, সব ব্যথাকে মুছে দিয়ে।
উইলিয়াম কলিন্স (William Collins, ১৭২১–১৭৫৯)
প্রি-রোমান্টিক যুগের এক অনন্য কবি ও ওড-রচয়িতার বিস্তারিত জীবনকথা
উইলিয়াম কলিন্স ইংরেজ সাহিত্যের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। তিনি ছিলেন আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান কবি, যিনি Thomas Gray-এর পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রি-রোমান্টিক কবি হিসেবে বিবেচিত হন। তাঁর কবিতা আগস্টান যুগের শৃঙ্খলা ও রোমান্টিক যুগের কল্পনা ও আবেগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। বিশেষ করে তাঁর ওড (Ode) রচনাগুলো — যেমন “Ode to Evening”, “Ode to Fear”, “The Passions” — কাব্যিক কল্পনা, প্রতীকী রূপকল্পনা ও গভীর সংবেদনশীলতার জন্য প্রশংসিত।
দুর্ভাগ্যবশত, জীবদ্দশায় তিনি খুব কম স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। মানসিক অসুস্থতা, দারিদ্র্য ও অবহেলা তাঁর জীবনকে ছায়াচ্ছন্ন করে রেখেছিল। মৃত্যুর পর তাঁর প্রতিভা ধীরে ধীরে আবিষ্কৃত হয় এবং তিনি রোমান্টিক কবিদের (বিশেষ করে Wordsworth) অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন।
শৈশব ও পারিবারিক জীবন (১৭২১–১৭৩৪)
উইলিয়াম কলিন্স জন্মগ্রহণ করেন ১৭২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের সাসেক্সের চিচেস্টার (Chichester) শহরে। তাঁর বাবা উইলিয়াম কলিন্স ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত টুপি প্রস্তুতকারক (hatter) এবং চিচেস্টারের দুবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরিবারটি আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিল।
কলিন্সের শৈশব সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না, তবে তিনি ছিলেন সংবেদনশীল ও কল্পনাপ্রবণ শিশু। বাবার মৃত্যু হয় যখন কলিন্সের বয়স মাত্র বারো-তেরো বছর (প্রায় ১৭৩৪ সাল)। এরপর মা এলিজাবেথ পুনর্বিবাহ করেন। বাবার অকালমৃত্যু ও পারিবারিক পরিবর্তন সম্ভবত তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যা পরবর্তীকালে তাঁর কবিতায় মেলানকোলি ও সংবেদনশীলতার রূপ নেয়।
শিক্ষা: উইনচেস্টার ও অক্সফোর্ড (১৭৩৩–১৭৪৩)
কলিন্স প্রথমে চিচেস্টারের প্রিবেন্ডাল স্কুলে (The Prebendal School) পড়াশোনা করেন। পরে ১৭৩৩ সালে (বা তার কাছাকাছি) উইনচেস্টার কলেজে (Winchester College) ভর্তি হন। এখানে তিনি ক্লাসিক্যাল সাহিত্য, লাতিন ও গ্রিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। উইনচেস্টারেই তাঁর কাব্যিক প্রতিভার প্রথম স্ফুরণ দেখা যায়।
১৭৪০ সালে তিনি অক্সফোর্ডের ম্যাগডালেন কলেজে (Magdalen College) ভর্তি হন। ১৭৪৩ সালে তিনি ব্যাচেলর অফ আর্টস (BA) ডিগ্রি লাভ করেন। অক্সফোর্ডে থাকাকালীন তিনি কবিতা লেখায় বেশি মনোযোগ দেন। ঐতিহ্যবাহী পাঠ্যক্রমের চেয়ে সাহিত্য ও কল্পনার জগতে তিনি বেশি আকৃষ্ট ছিলেন।
সাহিত্যিক জীবনের সূচনা: Persian Eclogues (১৭৪২)
অক্সফোর্ডে থাকতেই কলিন্স ১৭৪২ সালে Persian Eclogues প্রকাশ করেন। এটি ছিল তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য রচনা। চারটি ইক্লোগ (Eclogue) নিয়ে গঠিত এই কাব্যগ্রন্থে তিনি প্রাচ্যের (পারস্য) প্রেক্ষাপটে প্রেম, যুদ্ধ, প্রকৃতি ও মানবিক আবেগের চিত্র তুলে ধরেছেন।
যদিও এটি যুবক কবির রচনা, তবু এতে তাঁর কল্পনাশক্তি ও ভাষার দক্ষতা স্পষ্ট ছিল। সমালোচকরা এটিকে সাদরে গ্রহণ করেন। একই সময়ে তিনি Verses Humbly Address’d to Sir Thomas Hanmer (১৭৪৩) নামে শেক্সপিয়র সম্পাদনা নিয়ে একটি কবিতা লেখেন।
লন্ডনে আগমন ও ১৭৪৬ সালের ওডস
অক্সফোর্ডের পর কলিন্স লন্ডনে চলে যান। তিনি লেখালেখি করে জীবিকা নির্বাহ করতে চেয়েছিলেন। ১৭৪৬ সালে (কিছু সূত্রে ১৭৪৭) তিনি তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকলন Odes on Several Descriptive and Allegoric Subjects প্রকাশ করেন।
এই গ্রন্থে রয়েছে তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো:
- Ode to Evening (সন্ধ্যার প্রতি ওড) — তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা
- Ode to Fear
- Ode to Pity
- Ode to Simplicity
- The Passions: An Ode for Music
- Ode Written in the Beginning of the Year 1746
এই ওডগুলোতে কলিন্স আবেগকে (Pity, Fear, Evening, Liberty) দেবী বা প্রতীকী চরিত্র হিসেবে কল্পনা করেছেন। ভাষা উচ্চাঙ্গের, কল্পনা সমৃদ্ধ এবং আবেগ গভীর। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বইটি বাজারে একেবারেই বিক্রি হয়নি। কলিন্স গভীর হতাশায় পড়েন।
মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ও দুর্দশা (১৭৪৪–১৭৫৪)
১৭৪৪ সালের দিক থেকেই কলিন্সের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি শুরু হয়। ওডস-এর ব্যর্থতা, আর্থিক দুর্দশা, ঋণ এবং সম্ভবত মদ্যপান তাঁকে আরও অস্থির করে তোলে। তিনি তীব্র বিষণ্ণতা (depression) ও মানসিক অস্থিরতায় ভুগতে থাকেন।
১৭৫০-এর দশকের গোড়ায় অবস্থা আরও খারাপ হয়। কিছু সময়ের জন্য তাঁকে চেলসির McDonald’s Madhouse নামক মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় (প্রায় ১৭৫৪ সাল)। তাঁর বন্ধুরা (বিশেষ করে জোসেফ ওয়ার্টন) তাঁকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। স্বাস্থ্য ফিরে পাওয়ার আশায় তিনি ফ্রান্স ভ্রমণও করেছিলেন।
শেষ জীবন, মৃত্যু ও অসমাপ্ত রচনা (১৭৫৪–১৭৫৯)
জীবনের শেষ বছরগুলোতে কলিন্স চিচেস্টারে ফিরে আসেন এবং বোনের সঙ্গে বাস করতে থাকেন। শারীরিক স্বাস্থ্যও ভেঙে পড়ে (সম্ভবত যক্ষ্মা বা ড্রপসি জাতীয় রোগ)। মানসিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তাঁর বুদ্ধি অনেক সময় স্পষ্ট থাকত।
১৭৪৯ সালে তিনি An Ode on the Popular Superstitions of the Highlands of Scotland লেখা শুরু করেন, কিন্তু এটি অসমাপ্ত থেকে যায়। মৃত্যুর পর এটি সম্পাদিত হয়ে প্রকাশিত হয়।
উইলিয়াম কলিন্স ১৭৫৯ সালের ১২ জুন চিচেস্টারে মৃত্যুবরণ করেন। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে। তাঁকে স্থানীয় সেন্ট অ্যান্ড্রু’স চার্চে সমাহিত করা হয়।
কাব্যশৈলী ও প্রধান রচনাসমূহ
কলিন্সের কবিতার বৈশিষ্ট্য:
- প্রতীকী রূপকল্পনা: আবেগকে দেবী হিসেবে চিত্রিত করা (Evening, Fear, Pity)।
- কল্পনা ও সংবেদনশীলতা: প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতির গভীর চিত্র।
- সংগীতময় ভাষা: বিশেষ করে “The Passions” কবিতায় সংগীতের সঙ্গে আবেগের যোগসূত্র।
- মেলানকোলি: মৃত্যু, স্মৃতি ও ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষণ।
তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা Ode to Evening — যেখানে সন্ধ্যাকে এক নম্র দেবীরূপে দেখানো হয়েছে। “Ode Written in the Beginning of the Year 1746” (“How sleep the Brave…”) বীরদের স্মরণে লেখা অমর পঙ্ক্তি।
উত্তরাধিকার ও প্রভাব
জীবদ্দশায় কলিন্স প্রায় অবহেলিত ছিলেন। কিন্তু ১৮শ শতাব্দীর শেষভাগ ও ১৯শ শতাব্দীতে তাঁর প্রতিভা স্বীকৃত হয়। Wordsworth, Coleridge প্রমুখ রোমান্টিক কবিরা তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন। তিনি Graveyard School ও প্রি-রোমান্টিক কাব্যধারার অন্যতম প্রধান কবি।
আজও তাঁর ওডগুলো ইংরেজি সাহিত্যের পাঠ্যক্রমে পড়ানো হয়। তাঁর কবিতা প্রমাণ করে যে, বাহ্যিক সাফল্যের অভাব সত্ত্বেও সত্যিকারের কাব্যিক প্রতিভা চিরকাল বেঁচে থাকে।
উইলিয়াম কলিন্স ছিলেন একজন সংবেদনশীল, কল্পনাপ্রবণ ও দুর্ভাগ্যপূর্ণ কবি। তাঁর জীবন ছিল সংক্ষিপ্ত ও যন্ত্রণাময়, কিন্তু তাঁর রচনা ইংরেজি কবিতার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে।