Ziaur Rahaman shilon

আহার শেষে তিনটি পাতা

~~ জিয়াউর রহমান শিলন

সবুজ পাতায় লুকিয়ে আছে জীবনমুখী কথা,
রোদের আলোয় অঙ্গ দোলায়, নাড়ায় সুবাস মাথা।
এক চামচ তার রসের ছোঁয়ায় কফ-কাশি দূর ধায়,
মানসিক চাপ হালকা হয়ে শান্ত বাতাস পায়।
কেউবা আবার ঠাট্টা করে বলবে হেসে ভাই—
“তিনটে করে পাতা খেলে গাছেই পাতা নাই!
ডাক্তার-ওষুধ বৃথা তবে? মিলবে কিসের ফল?”
তর্কে তারা নামবে পথে, উস্কে দিয়ে বল।
উত্তর তার স্পষ্ট অতি— শোনো হে গুণীজন,
ডাক্তারি তো জীবন বাঁচায়, এটি প্রাত্যহিক পথ্য-মন!
প্রতিরোধের বর্ম গড়ে, রোগ ছোঁবে না গায়,
তাই বলে কি আধুনিক ওই চিকিৎসা বাদ যায়?
অসুখ হলে চিকিৎসকের দ্বারে যেতেই হবে,
বিজ্ঞান আর ভেষজ দুটিই শ্রদ্ধায় রবে।
নালিশ-বিবাদ শিকেয় তুলে শান্ত মনে ভাবো,
প্রকৃতির এই সহজ দানে সুস্থ জীবন পাবো।
যার মনে ধরে গ্রহণ করুন, জ্ঞান-বুদ্ধি তো আছে,
প্রকৃতির এই ছোট্ট উপহার পরম বর হয়ে বাঁচে।
আঙিনা আর টবের মাঝে লাগান আরও কিছু গাছ,
সবুজ ছায়ায় জীবন পাক সুস্থ থাকার আশ্বাস।
ভারী কোনো আহার শেষে খাও যদি পাতা তিনটি,
হজম হবে চটজলদি, ঘুচবে ব্যাকুলান্তি।
সুগার থাকে নিয়ন্ত্রণে, পেটে আসবে না অম্বল,
তুলসী পাতার সহজ ছোঁয়ায় মিলবে সুফল জল!

0 Comments

Ziaur Rahaman shilon

সেই দিনের ভালোবাসা

​প্রথম দেখার ঝাপসা বিকেলে, ছাতাটা ছিল ছিঁড়ে,
বৃষ্টি নেমেছিল অঝোর ধারায়, শহর থমকে ভিড়ে।
চায়ের দোকানে উড়ছিল ধোঁয়া, মাটির ভাঁড়ে চুমুক,
সেদিনই বুঝেছি বুকের ভেতরে নতুন কে এক থাকুক।
সাইকেলের বেল বাজিয়ে যাওয়া, গলির মোড়ে হাঁকা,
লুকিয়ে দেখা চোখের তারায় হাজার স্বপ্ন আঁকা।
কোনো চিঠি নেই, কোনো মেসেজ নেই, ছিল শুধু অপেক্ষা,
এক পলকের দেখা পাওয়ার কঠিন ছিল যে পরীক্ষা!
তুমি হেসেছিলে চুড়ি বাজিয়ে, ওড়না উডু-উডু,
আমার ভেতরে হঠাৎ কেমন বেজেছিল ঢাক-ঢোল-ডুগডুগি!
কোনো প্ল্যান ছাড়া, কোনো হিসেব ছাড়া, কেমন সেই এক টান,
মন বলে ওঠে, “আরে ভাই শোনো, শুরু হলো এক গান!”
পার্কের বেঞ্চে বাদাম খোসা, কথার শেষ তো নেই,
পকেটে আমার জমানো টাকা শেষ হয়ে যায় এই।
তাও হাসি মুখে ফাউচাউ খেয়ে হেঁটে যাওয়া বহুদূর,
সেই দিনগুলোতে বাদ্যি বাজত, হৃদয়ে ছিল যে সুর।
স্ট্যাটাস দেওয়ার চক্কর ছাড়া, দেখানোর হাহাকার,
খাঁটি প্রেমেতেই ভরে গিয়েছিল আমাদের সংসার।
কাল কেটে গেছে, ডিজিটাল যুগে মন খোঁজে পুরনো সে আলো,
“সেই দিনের ভালোবাসা” বললেই মন আজও হয়ে যায় ভালো!

0 Comments

Ziaur Rahaman shilon

~ তবুও তোমার জন্য ~

​হৃদয়ের গভীর অনুভূতি এবং প্রিয় মানুষের প্রতি নিঃশর্ত আত্মনিবেদনের সুর ধরে নির্মিত হয়েছে এই অনবদ্য গদ্য কথা। মানুষের জীবনের প্রতিটি বাঁকে পথচলার রসদ জুগিয়ে যায় কিছু একান্ত ব্যক্তিগত টান। কখনো সেই টান পেয়ে হারানোর বেদনায় ভারী হয়, আবার কখনো দূরত্বের মাঝেই খুঁজে পায় এক নতুন অস্তিত্বের আলো। মানব মন ভালোবাসার এই অদ্ভুত খেলায় বারবার নিজেকে সঁপে দেয়, যেখানে কোনো হিসেব-নিকেশের জায়গা থাকে না।
​জীবনের জটিল সমীকরণে ভুল-বোঝাবুঝি, একাকীত্ব কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতি এসে দাঁড়াতেই পারে। ঝড়ের তীব্রতা কিংবা জীবনের কোনো বড় ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়েও সত্যকারের অনুভূতি কখনো পিছু হটে না। “তবুও তোমার জন্য” বাক্যাংশটি সেই অটুট ভালোবাসারই নীরব ও দৃঢ় ঘোষণা। কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশা বা প্রতিদানের শর্ত না রেখে, সমস্ত প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ করে অন্তরের সুপ্ত অনুরাগ ধরে রাখার আকুল ইচ্ছাই এতে প্রকাশ পায়। একজন মানুষের নীরব ত্যাগ, সাময়িক অভিমান পেরিয়ে আবার ভালোবাসার টানে ফিরে আসা এবং সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার ব্যাকুলতা এই গদ্যের মূল সুর।
​ভালোবাসার আসল শক্তি লুকিয়ে থাকে তার নিঃস্বার্থতায়। তা মানুষকে কেবল পাওয়ার আনন্দে ভাসায় না, বরং নিঃস্বার্থভাবে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেও এক অদ্ভুত তৃপ্তি ও মানসিক প্রশান্তি খুঁজে নিতে শেখায়। সময় বদলে যেতে পারে, বদলে যেতে পারে চারপাশের চেনা পরিস্থিতি, কিন্তু হৃদয়ের গভীরে জমা থাকা বিশুদ্ধ অনুভূতির আলো কখনো ম্লান হয় না। পৃথিবীর সমস্ত ব্যস্ততা ও কোলাহলের মাঝেও মন কেবল একটি বিশেষ নামকেই পরম মমতায় স্মরণ করে।
​মানবজীবনের এই পরম অনুভূতিই মানুষকে কঠিন পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকতে শেখায়, নতুন করে স্বপ্ন দেখতে উৎসাহ দেয় এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সঠিক পথ দেখায়। সব সংশয়, বিষাদ, দূরত্ব ও প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে হৃদয় কেবল একটি সুনির্দিষ্ট ঠিকানাতেই বারবার ব্যাকুল হয়ে ফিরে আসে। দিনশেষে প্রতিটি মানুষের অনুভূতির শেষ আশ্রয় হয়ে রয় একটাই আকুতি—তবুও তোমার জন্য।

0 Comments

Ziaur Rahaman shilon

মধুর আলাপচারিতা: সুখী পারিবারিক জীবনের চাবিকাঠি
~ জিয়াউর রহমান শিলন

​পরিবার হলো মানুষের প্রথম ও প্রধান আশ্রয়স্থল। এই গৃহকোণকে প্রকৃত অর্থেই আনন্দময় ও সুখময় করে তোলার জন্য সদস্যের মধ্যে পারস্পরিক আন্তরিকতা এবং মাধুর্যপূর্ণ আলাপচারিতার ভূমিকা অপরিসীম। মিষ্টি ও নম্র কথা শুধু মন জয় করে না, তা একটি সাধারণ ঘরকে ভালোবাসার স্বর্গীয় নীড়ে পরিণত করে।
​একটি পরিবারে যখন সুন্দর ও সুশৃঙ্খল যোগাযোগের চর্চা থাকে, তখন সেখানে দ্বন্দ্ব বা ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকে না। আমাদের প্রতিদিনের কথায় যদি স্নেহ, সম্মান ও সহমর্মিতার স্পর্শ থাকে, তবে তা পরিবারের ছোট-বড় সবার মনকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে তোলে। কারোর প্রতি ক্ষোভ বা অসন্তোষ থাকলে তা ধীর ও নরম গলায় প্রকাশ করলে সমস্যা সমাধানের পথ সহজ হয়। কড়া বা তিক্ত কথা কেবল দূরত্ব তৈরি করে, কিন্তু মাধুর্যপূর্ণ আলাপচারিতা সম্পর্কের বাঁধনকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।
​পারিবারিক সুখের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে কীভাবে আমরা একে অপরের সাথে কথা বলি তার ওপর। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও কিছুটা সময় একসাথে বসে আনন্দময় ও ইতিবাচক আলোচনা করা উচিত। একে অপরের সুখ-দুঃখের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা একটি সুখী পরিবারের অন্যতম লক্ষণ।
​কটু বাক্য পরিহার করে সংযমী ও মধুর ভাষায় কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুললে পরিবারের প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে আনন্দময়। কথার মাধুর্য দিয়েই একটি ঘর পরিণত হয় প্রকৃত সুখের নীড়ে, যেখানে প্রতিটি সদস্য খুঁজে পায় মানসিক শান্তি ও আত্মিক তৃপ্তি।

0 Comments

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...