ভালোবাসা জিন্দাবাদ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
রচনাঃ ০৬-০৬-২০২৬ ইং
ভালোবাসি, বেসে যাবো যত দাও অপবাদ
যদি হয়, হয়ে যাক এ জীবন বরবাদ;
প্রেম নয় অপরাধ, এ প্রেমে ভীষণ স্বাদ,
জিন্দাবাদ,জিন্দাবাদ,ভালোবাসা জিন্দাবাদ।
মরণ যদিও আসে প্রেমিকের নাই ভয়,
ভয়ের মাঝেই আছে ভালোবাসার জয়।
প্রেমহীন বাঁচা দায়, বুকে বাজে আর্তনাদ!
জিন্দাবাদ,জিন্দাবাদ,ভালোবাসা জিন্দাবাদ।
প্রেমের নামে তুমি দিও না কখনো ঘাত,
তুমিহীন এ জীবন আঁধারের কালো রাত!
সেই প্রেম খাঁটি নয়, যদি থাকে তাতে খাদ,
জিন্দাবাদ,জিন্দাবাদ,ভালোবাসা জিন্দাবাদ।
সবাই তো মানে এই স্বর্গীয় প্রেম,
তার মাঝে যত সুখ পৃথিবীর হেম।
প্রেমে বাঁচি, প্রেমে আছে মরিবার সাধ,
জিন্দাবাদ,জিন্দাবাদ,ভালোবাসা জিন্দাবাদ।
============================
নিম্নে কবিতাটির ভাবার্থ এবং এর সাহিত্যিক নান্দনিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. অপবাদ ও সামাজিক বাধার বিরুদ্ধে দ্রোহ
প্রথম স্তবকেই কবিতাটির মূল সুর বাঁধা হয়ে গেছে। কবি এখানে সমাজ বা পারিপার্শ্বিকতার দেওয়া “অপবাদ” কিংবা জীবনের “বরবাদ” হয়ে যাওয়াকে বিন্দুমাত্র পরোয়া করেননি। প্রেম যে কোনো অপরাধ নয়, বরং মানুষের জীবনের সবচেয়ে মধুর এক অনুভূতি (“এ প্রেমে ভীষণ স্বাদ”), কবি অত্যন্ত সাহসের সাথে সেই ঘোষণা দিয়েছেন। “জিন্দাবাদ” স্লোগানের মাধ্যমে ভালোবাসাকে জয়যুক্ত করে কবিতাটি শুরুতেই একটি বিপ্লবী রূপ ধারণ করে।
২. মৃত্যুর ভয় জয় এবং প্রেমের অমরত্ব
দ্বিতীয় স্তবকে কবি প্রেমের এক চিরন্তন সত্যকে তুলে ধরেছেন—প্রেমিক কখনো মৃত্যুকে ভয় পায় না। বরং ভয়ের দেয়াল টপকে গেলেই যে ভালোবাসার আসল জয় নিশ্চিত হয়, সেই দর্শন এখানে প্রকাশ পেয়েছে। প্রিয়জনকে ছাড়া বেঁচে থাকাটা কবির কাছে এক তীব্র “আর্তনাদ” বা যন্ত্রণার মতো। এই তীব্র আকুলতা প্রমাণ করে যে প্রেমিকের কাছে ভালোবাসাই জীবনের শেষ কথা।
৩. প্রেমের খাঁটিত্ব এবং বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে অবস্থান
তৃতীয় স্তবকে কবি শুধু আবেগে ভেসে যাননি, বরং ভালোবাসার নৈতিকতা নিয়ে কথা বলেছেন। প্রেমের নামে “ঘাত” বা প্রতারণা করাকে কবি তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রিয়তাহীন জীবনকে কবি তুলনা করেছেন “আঁধারের কালো রাত”-এর সাথে। যেখানে কোনো খাদ বা কৃত্রিমতা থাকে না, সেটাই প্রকৃত প্রেম—কবি এই সত্যটি মনে করিয়ে দিয়ে ভালোবাসার পবিত্রতা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
৪. স্বর্গীয় অনুভূতি এবং আত্মোৎসর্গ
শেষ স্তবকে এসে প্রেমকে “স্বর্গীয়” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পৃথিবীর সমস্ত ধন-রত্ন বা সোনার চেয়েও (“পৃথিবীর হেম”) প্রেমের মধ্য দিয়ে অর্জিত সুখ কবির কাছে অনেক বেশি মূল্যবান। ভালোবাসার জন্য বাঁচা এবং প্রয়োজনে ভালোবাসার জন্যই “মরিবার সাধ” বা আত্মোৎসর্গ করার এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা কবিতাটিকে এক আধ্যাত্মিক ও পরম উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
গঠনশৈলী ও ছন্দ:
অন্ত্যমিল ও সুরময়তা: কবিতাটিতে “অপবাদ-বরবাদ-অপরাধ-স্বাদ-জিন্দাবাদ” এবং পরবর্তী স্তবকগুলোতে “আর্তনাদ-ঘাত-রাত-খাদ-সাধ”-এর মতো চমৎকার অন্ত্যমিল (Rhyming) ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে কবিতাটি পড়ার সময় একটি চমৎকার সাঙ্গীতিক আবহ তৈরি হয়, যা সহজেই পাঠকের মন ছুঁয়ে যায়।
সহজ-সরল ভাষা: কবি কোনো জটিল বা দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার না করে অত্যন্ত সহজ এবং সর্বজনীন ভাষায় গভীর অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
উপসংহার:কবি মোঃ ইব্রাহিম হোসেনের “ভালোবাসা জিন্দাবাদ” কবিতাটি একাধারে যেমন প্রেমের জয়গান গায়, অন্যদিকে তেমনি ভালোবাসায় সততা বজায় রাখার এক শক্তিশালী বার্তা দেয়। এটি যুগে যুগে চলে আসা প্রেমিক হৃদয়ের অবাধ্য ও খাঁটি অনুভূতিরই এক চমৎকার আধুনিক রূপ।