কিছু অপবাদ মানুষের জীবনকে ভেঙে দেয়।
আবার কিছু অপবাদই একজন মানুষকে সত্যের সন্ধানে বের করে দেয়।
আব্দুল্লাহ—একজন সাধারণ মাদ্রাসাপড়ুয়া তরুণ।
কিন্তু তার জীবনের গল্পটা মোটেও সাধারণ নয়।
তার বাবা আব্দুর রহিম—একজন শিক্ষক।
সাদাসিধে জীবন, মাদ্রাসাকে ঘিরে স্বপ্ন আর মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা—এই ছিল তার পৃথিবী।
কিন্তু হঠাৎ সেই মানুষটির নামের পাশে জুড়ে দেওয়া হলো কিছু ভয়ংকর অভিযোগ।
মাদ্রাসার দান-অনুদানের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন উঠল।
মাদ্রাসার জায়গা নিয়েও উঠল নানা অভিযোগ।
এরপর একদিন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার ব্যবহৃত একটি কুরআন শরীফ রহস্যজনকভাবে হারিয়ে গেল।
আর সেই হারিয়ে যাওয়া কুরআন শরীফের দায়ও এসে পড়ল আব্দুর রহিমের ওপর।
চারপাশের মানুষ যখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে—
“অপরাধী সে-ই!”
তখন একজন ছেলে প্রশ্ন তুলল—
“সত্যিই কি আমার বাবা এমন কিছু করতে পারেন?”
সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আব্দুল্লাহ পা বাড়ায় এমন এক পথে, যেখানে প্রতিটি দরজার ওপাশে লুকিয়ে আছে তার বাবার অতীতের নতুন কোনো অধ্যায়।
সে এমন এক জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়, যেখানে তার নিজের পরিচয়ের চেয়েও বেশি পরিচিত হয়ে ওঠে তার বাবার নাম।
কেউ তাকে দেখে চুপ হয়ে যায়,
কেউ অতীতের কথা মনে করে,
আবার কেউ এমন কিছু বলতে শুরু করে—যার সঙ্গে আব্দুল্লাহর জানা গল্পের কোনো মিল নেই।
তাহলে এতদিন সে কী জানত?
আর তার বাবার জীবনে আসলে কী ঘটেছিল?
সত্যের সন্ধানে এগোতে এগোতে আব্দুল্লাহ বুঝতে থাকে—
সব সত্য চোখের সামনে থাকে না।
কিছু সত্যের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
কিছু সত্যের জন্য ধৈর্য ধরতে হয়।
আর কিছু সত্যের জন্য মানুষের দরজায় নয়, আল্লাহর দরজায় কড়া নাড়তে হয়।
এই পথ চলার মাঝেই তার জীবনে আসে এমন একজন মানুষ, যার উপস্থিতি তার গল্পের গতিপথকে ধীরে ধীরে বদলে দেয়।
একটি অপ্রত্যাশিত পরিচয়…
কিছু নীরব অনুভূতি…
কিছু না-বলা কথা…
আর সময়ের সঙ্গে এমন এক সম্পর্ক, যেখানে ভালোবাসার পাশাপাশি থাকে বিশ্বাস, সহযোগিতা ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতা।
কিন্তু ভালোবাসা কি সবসময় সহজ হয়?
নাকি সত্যের মতো ভালোবাসাকেও কখনো কখনো কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়?
“শেষ সেজদা” শুধু আব্দুল্লাহর বাবাকে নির্দোষ প্রমাণ করার গল্প নয়।
এটি এমন এক গল্প—
যেখানে অপবাদের বিপরীতে সত্য দাঁড়ায়,
অহংকারের বিপরীতে বিনয় দাঁড়ায়,
হতাশার বিপরীতে আশা দাঁড়ায়,
আর মানুষের হিসাবের বাইরে গিয়ে একজন মুমিনের অন্তর বারবার ফিরে আসে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের দিকে।
গল্পের পাতায় পাতায় থাকবে সম্পর্কের টানাপোড়েন, রহস্য, আবেগ, ভালোবাসা, অনুশোচনা, ক্ষমা, জীবনের কঠিন বাস্তবতা এবং কিছু নসিহত—যেগুলো হয়তো গল্প শেষ হওয়ার পরও পাঠকের মনে থেকে যাবে।
আর এই গল্পের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলো?
সেগুলো এখনই বলে দিলে তো “শেষ সেজদা”-র গল্পটাই শেষ হয়ে যাবে! 🙂
তাই কিছু প্রশ্ন আপনাদের জন্যই রেখে দিলাম—
আব্দুর রহিম কি সত্যিই নির্দোষ?
হারিয়ে যাওয়া কুরআন শরীফের পেছনে আসল ঘটনা কী?
আব্দুল্লাহ কি সত্যের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে?
আর যে মানুষটি নীরবে তার জীবনে এসে দাঁড়াবে, সে কি শেষ পর্যন্ত তার পাশে থাকবে?
উত্তরগুলো হয়তো কোনো একটি অধ্যায়ে নয়—
লুকিয়ে আছে গল্পের শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত।
🌿 এটি আমার প্রথম বই।
তাই এই পথচলায় আমার প্রতি আপনাদের দোয়া চাই।
লেখার মধ্যে ভুল থাকতে পারে, ভাষায় অসংগতি থাকতে পারে, কোথাও হয়তো গল্প বলার ধরন আপনাদের প্রত্যাশামতো নাও হতে পারে। একজন নতুন লেখকের সেই সীমাবদ্ধতাগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন—এই অনুরোধটুকু রইল।
কোনো ভুল-ত্রুটি চোখে পড়লে ভালোভাবে জানাবেন।
সমালোচনা নয়, সংশোধনের সুযোগ হিসেবে দেখব ইনশাআল্লাহ।
সবশেষে শুধু এটুকুই বলি—
“শেষ সেজদা” আমার কাছে শুধু একটি গল্প নয়; এটি এমন কিছু অনুভূতির শব্দরূপ, যেগুলো হয়তো অনেকের হৃদয়ের কোথাও না কোথাও নীরবে বেঁচে আছে।
আল্লাহ যেন এই সামান্য প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং লেখক হিসেবে আমাকে সঠিকভাবে লিখে যাওয়ার তাওফিক দেন।
আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। 🤍📖
— নাজমুল হুসাইন
লেখক, শেষ সেজদা
#শেষ_সেজদা #নাজমুল_হুসাইন #প্রথম_বই #প্রথম_উপন্যাস #বাংলা_উপন্যাস #আব্দুল্লাহ #একটি_হৃদয়ছোঁয়া_গল্প #নবীন_লেখক