রমজান আমার হৃদয়ের বন্ধু।
আজ ১৪ অক্টোবর ওর জন্মদিন।
আমার হৃদয়ের বন্ধু রমজানকে জন্মদিনের ভালোবাসা এবং আমার সব বন্ধুদের কাছে ওর জন্য আশীর্বাদ চাইছি।
তোমরা সবাই ওকে ভালো থাকার, সুস্থ থাকার আশীর্বাদ কোরো।
কত বছর ধরে আমাদের বন্ধুত্ব, আজ আর মনে পড়ে না।
শুধু এটুকু জানি, আমরা দুটো আলাদা মানুষ হয়েও যেন একই আত্মার দুই প্রান্ত।
রমজানের পরিবারের সঙ্গে আমার পরিবারের সম্পর্কও ঠিক তেমনই—আলাদা বাড়ি, আলাদা পরিচয়, অথচ ভালোবাসার বন্ধনে আমরা একাকার।
রমজানের শরীর খারাপ হলে ওর প্রশ্বাসের শব্দ যেন আমি নিজের বুকের মধ্যে শুনতে পাই।
ও সুস্থ থাকলে আমার মন ভালো থাকে। ওর ভালো থাকাটা যে আমার নিজের ভালো থাকারই আরেক নাম!
আজ তোর জন্মদিন, রমজান।
তোকে আমার নিজের হাতে তোলা একখণ্ড আকাশ পাঠালাম।
জানিস, ওই আকাশে একসময় একখণ্ড মেঘ ছিল।
আমার মনের কথাগুলো চিঠি করে সেই মেঘের কাছে রেখে দিতাম।
তুইও সেই মেঘের বুকেই উত্তর পাঠাতিস আমাকে।
আমাদের কত না বলা কথা, কত অনুভূতি, কত ভালোবাসার আদানপ্রদান জমে থাকত সেই একটুকরো মেঘের আড়ালে!
আর সঙ্গে পাঠাতাম আমার সংগ্রহ করা কিছু ফুল।
তুই তো জানিস, ফুল, আকাশ, পাখি, নদী, সাগর, সবুজ প্রকৃতি—এদের আমি কতটা ভালোবাসি!
প্রকৃতির প্রতিটি ছোট্ট সৌন্দর্যের মধ্যে আমি খুঁজে পাই বেঁচে থাকার আনন্দ, খুঁজে পাই ভালোবাসার স্পর্শ।
আসলে আমি বড় ভালোবাসার কাঙালিনী।
যত ভালোবাসা পাব, ততই দুহাত পেতে নেব।
আরও একটু, আরও একটু ভালোবাসা চাইব।
অথচ কী আশ্চর্য জানিস, ভালোবাসায় আমার হৃদয় উপচে পড়লেও দুহাত ভরে সেই ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারি না।
কত কথা বুকের মধ্যে জমে থাকে, কত অনুভূতি ঠোঁট পর্যন্ত এসেও ফিরে যায়!
আমার এই ছোট্ট হৃদয়টায় একসময় ভালোবাসা লাবডুব, লাবডুব করে স্পন্দিত হতো।
কত স্বপ্ন ছিল, কত আনন্দ ছিল, কত আপনজনকে নিয়ে বেঁচে থাকার গল্প ছিল!
আজ আমি সব হারিয়ে এক শূন্য পথিক।
আমার বুকের ভেতর এখন খাঁ খাঁ করে একটা আস্ত মরুভূমি।
সেখানে জল নেই, সবুজ নেই, নেই সেই আগের মতো প্রাণের স্পন্দন। আছে শুধু একরাশ যন্ত্রণা, যা নিয়ে প্রতিনিয়ত ছটফট করে চলেছি।
আমি যেন আমারই বদ্ধ মনের অঙ্গনে বন্দি হয়ে থাকা এক তিতির পাখি।
তোদের ভালোবাসার সেই তিতির পাখি আজ কাঁদতে কাঁদতে বড় ক্লান্ত, বড় অসহায়।
তার একমাত্র ছানাটাকে যে এক মৃত্যুদূত ছোঁ মেরে নিয়ে গেছে!
তারপর থেকে পাখিটার সমস্ত আকাশ শূন্য।
যে ডানায় ভর করে সে আকাশ ছুঁতে চাইত, সেই ডানাতেই আজ জমে আছে অবসাদের ভার।
তার বাসায় আর আগের মতো কিচিরমিচির নেই, নেই ফিরে আসার অপেক্ষায় বুকভরা আনন্দ।
শুধু শূন্যতা আর কান্না।
তবু সেই তিতির পাখিটা বেঁচে আছে।
হয়তো বেঁচে আছে তোদের ভালোবাসার আশ্রয়টুকু আঁকড়ে ধরে।
তুই ভালো থাকিস, রমজান।
তোকে যে ভালো থাকতেই হবে।
আমার নিজের ভালো থাকা আজ কতটা অনিশ্চিত, কতটা এলোমেলো, তা তোকে আর নতুন করে কী বলব!
কিন্তু তোর ভালো থাকার জন্য আমার বুকের মধ্যে আজও কত প্রার্থনা জমে আছে।
হ্যাপি রাণীর ওপর আমার ভীষণ ভরসা।
আমি বিশ্বাস করি, ও তোকে আগলে রাখবে, তোর যত্ন নেবে, তোর ভালো থাকার কারণ হয়ে উঠবে।
ওর ভালোবাসার ছায়ায় তুই সুস্থ থাকিস, আনন্দে থাকিস।
তোদের দুজনকে ভালো থাকতে দেখলে আমার মনও একটু শান্তি পাবে।
আর কয়েকটা দিন পরেই আবার ফিরে আসবে কালীপুজো।
আলোয় আলোয় সেজে উঠবে চারদিক।
প্রদীপ জ্বলবে, আকাশে উঠবে আতশবাজি, আনন্দে মেতে উঠবে পৃথিবী।
কিন্তু আমার জীবনে ফিরে আসবে সেই ভয়ংকর দিনটির স্মৃতি।
কী অদ্ভুত, তাই না?
যে আলোয় একদিন আনন্দ খুঁজতাম, সেই আলোই আজ আমার চোখে জল নিয়ে আসে।
যতদিন বেঁচে থাকব, কালীপুজোর আলোয় মিশে যেতে পারব কি না জানি না।
হয়তো সবার আনন্দের মাঝখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে অন্ধকারের আড়ালে মুখ লুকিয়ে রাখতেই ইচ্ছে করবে।
কারণ আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় আলোটাকেই যে হারিয়ে ফেলেছি!
আমার বাপান নেই—এই সত্যিটা পৃথিবীর কাছে হয়তো একটা বাক্য মাত্র, কিন্তু আমার কাছে এ এক অনন্ত শূন্যতা।
যে শূন্যতার কোনো পূর্ণচ্ছেদ নেই, নেই কোনো সহজ ব্যাখ্যা।
জানি না, আবার কবে দেখা হবে আমাদের।
জানি না, সময় আর পরিস্থিতি আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে।
তবু দূরত্ব কখনো আত্মার সম্পর্ককে মুছে দিতে পারে না।
দেখা হোক বা না হোক, তুই আমার হৃদয়ের সেই বন্ধু হয়েই থাকবি, যার সঙ্গে আমার সম্পর্কের বয়স ক্যালেন্ডারে মাপা যায় না।
শুভ জন্মদিন,বন্ধু রমজান।
তোর জীবনের প্রতিটি সকাল সুস্থতার আলোয় ভরে উঠুক, প্রতিটি দিন শান্তিতে কাটুক।
তোর মুখের হাসিটুকু অমলিন থাকুক, তোর পাশে থাকুক তোর প্রিয় মানুষগুলো।
আর আমার জন্যও একটু প্রার্থনা রাখিস—যেন এই বুকভরা শূন্যতা নিয়েও বেঁচে থাকার সাহসটুকু হারিয়ে না ফেলি।
তোকে আমার তোলা আকাশ পাঠালাম, বন্ধু। সেই আকাশে আজও হয়তো কোথাও একখণ্ড মেঘ ভেসে বেড়ায়। যদি কখনো আমার মনের চিঠি পড়তে ইচ্ছে করে, একবার তাকাস সেই মেঘের দিকে।
হয়তো দেখবি, সেখানে আজও লেখা আছে—
ভালো থাকিস রমজান।
তুই ভালো থাকলেই, আমার পৃথিবীর কোথাও একটুখানি ভালো থাকা বেঁচে থাকবে।
অনেক অনেক ভালোবাসা, বন্ধু।