Romjan Bin Mluzamp6gel

পড়ে ছিলো পায়ের চিহ্ন এই বাটে…
[ নারায়ণগঞ্জে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ]
— রমজান বিন মোজাম্মেল

বিশ্বকবি রবীন্দ্রমাহ আমাদের নারায়ণগঞ্জ এসেছিলেন, কথাটি অবিশ্বাস্য হলেও সত।। এত ২৩ মর্মীহীর পদচারণায় মুখরিত হয়েছিল এই নারায়ণগঞ্জ। ১৯২৬ সালে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের ছাত্ররা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সংবর্ধনা দিয়েছিল, তৎকালীন পত্রপত্রিকাগুলোতে বেশ ফলাও করে সেই খবরটি প্রচার করেছিল। এদের মধ্যে অমৃতবাজার পত্রিকাতে ছাত্রদের পক্ষে কামাক্য্য চরণ সেন কবিকে স্বাগত জানিয়ে অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন। করি সেই অভিনন্দনপত্রের উত্তরে কবি নিজের ছাত্রলীগনের কথা উল্লেখ করেন এবং পরবর্তীতে কবি। তার মূল বক্তব্যে বলেন, লোকে চাকরি পাওয়ার জন্য নিজেকে শিক্ষিত করতে স্কুলে পড়তে যায়। কিন্তু বর্তমানে চাকরির দরজা বন্ধ হওয়ায় শিক্ষিত লোকেরা অধীন জীবিকার দিকে ঝুঁকছে। তিনি আরও বলেন, রাজনীতির ক্ষেত্রে কাজকর্মে এক পরিবর্তন এসেছে। এমন একটি সময় ছিল, যখন লোকে ভাবতেন

বক্তৃতা দিয়েই নেতাও তাদের কাজ উদ্ধার করতে সক্ষম হরেন। তার) পুরাতন অভ্যাসবশত এখনও এরূপ কাজ করে বসেন। কিন্তু বর্তমানে যুবসমাজ বাস্তব ও আসল কাজের দিকে তাকায় বর্তমান আন্দোলন কালে যে উদ্দীপনা এসেছে, তাকে যেন তারা স্থায়ী করে কবি আরও বলেন, শন্তি নিকেতনে পূর্ববঙ্গের বহু ছেড়ো পড়ে। তাদের মধ্যে চরিত্রের দুদৃঢ়তা, একমা৩। ও শ্রদ্ধাভাব দেখেছি। আমি পর্ববঙ্গ ভ্রমণ করে দেখলাম, এটা একটা ভাল কর্মী সংগ্রহের স্থান, এখানকার ছেলেদের যে কাজেই লাগানো হোক, তারা তাদের একাগ্রতা ও নিষ্ঠার দ্বারা কৃতকার্য হবেই আমি যদি এখনও যুবক থাকতাম, তাহলে এখানে বক্তৃতা না করে হাতে নাতে কাজে লেগে যেতাম। এখানকার উর্বরা মাটির মতই এখানকার মানুষের উদ্দ্যম আগ্রহ ও প্রবণ। কিন্তু আজ আমার বয়স এবং স্বাস্থ্য দুই-ই নেই। কাম’র কর্মক্ষেত্রা পশ্চিম বাংলার এক সীমান্তে অবস্থিত। সেখানকার

২০

মাটি উর্বরা নয় এবং মানুষ ও অনেকগু উদাসীন। পূর্ববঙ্গের এ অঞ্চলের উপযুক্ত পরিবেশে লোকে যদিও তাদের কাজ আছে করে তাহলে তারা অতি সহজেই সয়লকাম হবে। রাজনৈতিক নেতারা গ্রাম থেকে দূর শহরে খুব ভালো বক্তৃতা দিয়ে থকে এই উপায়ে গ্রামে কোনো উপকার করাই সন্তুর নয়। পূর্ববঙ্গের পল্লী উন্নয়ন নিঃসন্দেহে সম্ভবপর। এই প্রসঙ্গে কুমিল্লার অভয়আশ্রমের কথা আমার মনে পড়ে। আশ্রমের কর্মীরা স্বার্থত্যাগের মধ্য দিয়ে যে কাজ করে চলেছেন, তা দেখে আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি। তার খুবই সাহস দেখিয়ে নিম্নবর্ষের মানুষদের নিজেদের মাধ্য নিয়েছেন। আমি এটা কুচিৎ কোথাও দেখেছি। নিম্নবর্ণের লোকদের মধ্যে আমাদের মেলামেশার অভার, সেটা আমাদের ঐকোর পথে একটা বড় অন্তরায়। এটা দূর করতে না পারলে দেশের মুহি অসম্ভব। আমরা আমাদের মধ্যে এই বিভেদ সৃষ্টি করে দেশকে নিষ্ক্রিয় করে যোগায়। অভয় আশ্রমে অস্পৃশ্যদের মধ্যে স আভূতম্মানবোধ দেখলাম, তা সত্যই প্রশংসার যোগ্য। সাহসের সঙ্গে গ্রামবাসীর পল্লী উন্নয়ন সংস্কারে কাজ করে যাওয়া উচিত। তাহলেই দেশের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। পূর্ববঙ্গে প্রকৃতি যেমন সৌন্দর্যে ও পতৃয়ে নিজেকে বিকশিত করেছে। এখানকার লোকদের মধ্যেও দেখেছি তেমন প্রাণ হাট ও প্রাণের উদারতা পূর্ববঙ্গের যুবকরা যদি তাদের এ অঞ্চলে গ্রামীণ কাজ আরম্ভ কর তাহলে তারা নিশ্চয় সফলকাম হবে উপসংহারে আমি ছাত্রদের আশীর্বাদ জানা বসব, ৩রা তাদের ত্যাগ ও নিষ্ঠার আ কাজ করলে শুধু বাংলাকেই নয় সমগ্র ভারতকেও আলোর পথে সন্ধান দেখো ঐ সময়ে কবির সঙ্গী ছিলেন বিশিষ্ট ভাগবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। •

🔹রমজান বিন মোজাম্মেল
সম্পাদক / প্রকাশক
পাক্ষিক পুরাতন পাতা

Leave a Comment