Sekhar Das

দ্বিচারিতা
কবি:- শেখর দাস

একসময় গড়ে উঠেছিল দুজনের ভালোলাগা থেকেই অকৃত্রিম সখ্যতা,
দুজনের অজান্তেই সেই ভালোবাসায় মেখেছিল আন্তরিক ব্যাকুলতা।
ভুলে গিয়েছিলাম দুজনেই—পিছনে ফেলে এসেছি আলাদা দুটি পরিবার,
অফিসের ফাঁকে দুজনে নির্জনে খুঁজে নিতাম নিজেদের একটুখানি অধিকার।
একদিন আবেগে আপ্লুত হয়ে দুজনে দাঁড়িয়েছিলাম গোপন হোটেলের দ্বারে,
খুলে ফেলেছিলাম সব বসন, দুজনে সসম্মতে, নিভৃত বন্ধ ঘরের মাঝারে।
সুরাপানে মত্ত হয়ে দুজনে মেটাতে চেয়েছিলাম আমাদের আজন্মের তৃষ্ণা,
সব ভুলে মেতেছিলাম দুজনে আদিম লীনতায়, ছিল না কোনো দ্বিধা-বিতৃষ্ণা।
দুজনে আস্বাদন করেছিলাম একে অপরের দেহকোষের সুগভীর রস,
সেই বর্ষার দুপুরে শান্ত হয়ে দুজনে লাভ করেছিলাম অনাবিল বশ।
সুখানুভূতির গুপ্ত দৃশ্য দুজনের ইচ্ছাতেই ধারণ করেছিলাম স্মৃতির পাতায়,
তারপর কত যে রঙিন মুহূর্ত কাটিয়েছি দুজনে আকাঙ্ক্ষার তীব্রতায়!
হঠাৎ দুজনের গাফিলতিতে সেই গোপন দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে চারিধারে,
দুজনে সমান অপরাধী হলেও সে গুছিয়ে নিল নিজেকে পরম আদরে।
ডুব দিয়েছিলাম দুজনে একই মোহে, অথচ পরিণতিতে আমি আজ ডিভোর্সী—
সম কাজে দুজনে লিপ্ত হলেও আমি ‘দেহলিপ্সু’, আর সে গৃহকোণে সতী-সাবিত্রী!

0 Comments

Sekhar Das

বিবেক

হাজার রঙের ভিড়েও সত্য সতত একক,
মোহের কুয়াশা ভেদ করে আসে আলোর পথপ্রদর্শক।
হৃদয় গহীনে জমে থাকা ক্রোধ, ভয় আর আক্ষেপের মেলা,
ভেঙে দিয়ে জাগে এক নিঃস্বার্থ মুক্তির পথচলা।
জন্মলগ্নে এনেছিলে তুমি এক কৌতূহলী মন,
ত্রিভুবনের কল্যাণে যে বাঁধে সুদৃঢ় বন্ধন।
সাময়িক প্রশান্তির লোভে হারিয়েছে সেই নিষ্পাপ শিশু,
স্বার্থের মোহে ঢেকে গেছে বিবেকের চিরন্তন কান্তিময় আলোটুকু।
তবু পরিবর্তনের এই হাওয়া হোক পজিটিভ আর সত্যের প্রতি অনুরাগী,
ভুলের সাগরে ভেসেও যেন থাকি সেই চির-কল্যাণের অনুগামী।
শত প্রতিকূলতার মাঝেও ভাঙবে না মনুষ্যত্বের পণ,
ভেতরের সেই পথপ্রদর্শককে সঁপে দিলাম এ জীবন।
সত্তার গভীরে জেগে থাকা সেই বিবেকী শিশুর চরণে প্রণতি,
সত্য ও মঙ্গলের আলোতেই হোক মানবাত্মার চিরন্তন গতি।

0 Comments

Sekhar Das

অনুগল্প

রেলগেট

শেখর দাস

ব্যাংক ম্যানেজার অঙ্কিত মিত্র ব্যাংক থেকে ফেরার পথে শেওড়াফুলি স্টেশন সংলগ্ন রেলগেটের কাছে দাঁড়িয়ে চা খেয়ে, কাটোয়া লোকাল ধরেন। মাস দুয়েক ধরে ঐ রেলগেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলা দেহব্যবসায়ীকে দেখলেই অঙ্কিতের বুকের ভিতরটা মোচড় দিতে শুরু করে। অঙ্কিতের এই সমস্যা মাস দুই থেকে শুরু হয়েছে। দুইমাস আগে বাইক অ্যাকসিডেন্ট মৃত এক যুবকের হার্ট অঙ্কিতের বুকে বসানো হয়েছে। এখন প্রতিদিন অঙ্কিত রেলগেটের সামনে যায় চা খেতে নয়, ঐ মহিলাকে দেখতে। তাঁর মন চায় মহিলার সঙ্গে কথা বলতে, দুঃখ ভাগ করে নিতে কিন্তু সাহস সঞ্চয় করতে পারেন না।
একদিন লোকলজ্জা উপেক্ষা করে অঙ্কিত ঐ মহিলার সঙ্গে কথা বলেন, তার নাম জিজ্ঞাসা করেন। মহিলা বলেন যাবেন আমার সঙ্গে রুমে? অঙ্কিত কথাটি শুনেই নিজের কান হাত দিয়ে চেপে ধরেন। অঙ্কিত বলেন দিদি আমি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই। মহিলা দিদি ডাকটি শুনেই অঙ্কিতের মুখের দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেন, বাবু বলুন কী বলবেন? অঙ্কিত মহিলাকে নিয়ে গিয়ে বসেন স্টেশনের এককোনে ফাঁকা বেঞ্চে, তারপর জিজ্ঞাসা করেন আপনি কী এই জীবন থেকে মুক্তি চান না? মহিলা হতভম্ব হয়ে অঙ্কিতের চোখের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার মা মারা যাবার পর আমি আর আমার ভাই অজয় অনাথ হয়ে যাই, কেননা বাবা আগেই মাকে ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলো। ভাই কে মানুষ করার জন্য আমি এই পথে নামতে বাধ্য হই। ইচ্ছা ছিল ভাই বড়ো হয়ে কাজকর্ম করলে এই রাস্তা ছেড়ে দেবো। বছর এক আগে আমার ভাই একটা চাকরি পায় তখন আমি এই কাজ ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু দুইমাস আগে আমার ভাই বাইক অ্যাকসিডেন্ট মারা গেছে তাই নিজের পেট চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে আবার নামতে হয়েছে এই পথে।।

0 Comments

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...