দ্বিচারিতা
কবি:- শেখর দাস
একসময় গড়ে উঠেছিল দুজনের ভালোলাগা থেকেই অকৃত্রিম সখ্যতা,
দুজনের অজান্তেই সেই ভালোবাসায় মেখেছিল আন্তরিক ব্যাকুলতা।
ভুলে গিয়েছিলাম দুজনেই—পিছনে ফেলে এসেছি আলাদা দুটি পরিবার,
অফিসের ফাঁকে দুজনে নির্জনে খুঁজে নিতাম নিজেদের একটুখানি অধিকার।
একদিন আবেগে আপ্লুত হয়ে দুজনে দাঁড়িয়েছিলাম গোপন হোটেলের দ্বারে,
খুলে ফেলেছিলাম সব বসন, দুজনে সসম্মতে, নিভৃত বন্ধ ঘরের মাঝারে।
সুরাপানে মত্ত হয়ে দুজনে মেটাতে চেয়েছিলাম আমাদের আজন্মের তৃষ্ণা,
সব ভুলে মেতেছিলাম দুজনে আদিম লীনতায়, ছিল না কোনো দ্বিধা-বিতৃষ্ণা।
দুজনে আস্বাদন করেছিলাম একে অপরের দেহকোষের সুগভীর রস,
সেই বর্ষার দুপুরে শান্ত হয়ে দুজনে লাভ করেছিলাম অনাবিল বশ।
সুখানুভূতির গুপ্ত দৃশ্য দুজনের ইচ্ছাতেই ধারণ করেছিলাম স্মৃতির পাতায়,
তারপর কত যে রঙিন মুহূর্ত কাটিয়েছি দুজনে আকাঙ্ক্ষার তীব্রতায়!
হঠাৎ দুজনের গাফিলতিতে সেই গোপন দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে চারিধারে,
দুজনে সমান অপরাধী হলেও সে গুছিয়ে নিল নিজেকে পরম আদরে।
ডুব দিয়েছিলাম দুজনে একই মোহে, অথচ পরিণতিতে আমি আজ ডিভোর্সী—
সম কাজে দুজনে লিপ্ত হলেও আমি ‘দেহলিপ্সু’, আর সে গৃহকোণে সতী-সাবিত্রী!