Sir John Suckling (১৬০৯–১৬৪২)
Sir John Suckling ছিলেন ইংরেজ ক্যাভালিয়ার কবিদের (Cavalier Poets) অন্যতম উজ্জ্বল ও চতুর কবি। তিনি ছিলেন আদালতের অভিজাত, নাট্যকার, সৈনিক ও খেলোয়াড় (তিনি ক্রিবেজ খেলার উদ্ভাবক বলে পরিচিত)। তাঁর কবিতায় তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, হালকা-পাতলা প্রেমের আবেগ, ব্যঙ্গ ও জীবনের আনন্দ ফুটে উঠেছে। তিনি Thomas Carew-এর সমসাময়িক এবং একই রাজদরবারের কবি ছিলেন। তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলো সংক্ষিপ্ত, সুরেলা ও চতুর — প্রেমের খেলা, অস্থিরতা ও বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লেখা।
১. কেন এত ফ্যাকাশে ও নীরব, প্রিয় প্রেমিক? (Why so pale and wan, fond lover?)
মূল থিম: প্রেমিকাকে উপদেশ — অতিরিক্ত ভাবালুতা কাজে আসে না।
কেন এত ফ্যাকাশে ও নীরব, প্রিয় প্রেমিক?
বলো তো, কেন এত ফ্যাকাশে?
ভালো দেখালে যদি সে না নড়ে,
খারাপ দেখালে কি কাজ হবে?
বলো তো, কেন এত ফ্যাকাশে?
কেন এত নীরব ও ম্লান, তরুণ পাপী?
বলো তো, কেন এত নীরব?
ভালো কথা বললে যদি জিততে না পারো,
চুপ করে থাকলে কি জিতবে?
বলো তো, কেন এত নীরব?
থামো, থামো লজ্জায়! এতে কাজ হবে না।
এতে সে তোমার হবে না।
সে নিজে যদি ভালোবাসতে না চায়,
কিছুই তাকে বাধ্য করতে পারবে না —
শয়তান নিয়ে যাক তাকে!
২. অবিচল প্রেমিক (The Constant Lover)
মূল থিম: তিন দিনের প্রেমকেও “অবিচল” বলে দাবি করা — সুকলিংয়ের চতুর ব্যঙ্গ।
বলো, আমি তিন দিন ধরে ভালোবেসেছি,
আরও তিন দিন ভালোবাসব —
যদি আবহাওয়া ভালো থাকে!
সময় তার ডানা ঝরিয়ে ফেলবে,
কিন্তু পৃথিবীতে আর কোনো এমন অবিচল প্রেমিক পাবে না।
কিন্তু দুঃখের বিষয় — এর জন্য কোনো প্রশংসা আমার প্রাপ্য নয়।
প্রেম যদি অন্য কারও সঙ্গে হতো,
তাহলে এতদিনে অন্তত এক ডজন ডজন প্রেমিকা বদলে ফেলতাম।
কিন্তু সে যেহেতু সে-ই, তাই আমি অবিচল!
৩. আমার হৃদয় ফিরিয়ে দাও (I prithee send me back my heart)
মূল থিম: প্রেমের পারস্পরিকতা — যদি তুমি তোমার হৃদয় না দাও, আমারও ফিরিয়ে দাও।
আমি তোমাকে অনুরোধ করি, আমার হৃদয় ফিরিয়ে দাও,
কারণ আমি তোমার হৃদয় পেতে পারি না।
যদি তুমি তোমার হৃদয় না দাও,
তাহলে তুমি আমার হৃদয় কেন রাখবে?
এখন ভেবে দেখছি — ছাড়ো!
যদি সে-ই না হয়, তাহলে অন্য অনেকেই হতে পারত।
কিন্তু যেহেতু সে-ই, তাই আমি অপেক্ষা করব।
৪. যখনই, প্রিয়, তোমার কথা ভাবি (When, dearest, I but think of thee)
মূল থিম: প্রেমিকার স্মৃতিতে হৃদয়ের আনন্দ।
যখনই, প্রিয়, তোমার কথা ভাবি,
আমার হৃদয় আনন্দে ভরে ওঠে।
তোমার চোখের আলো, তোমার হাসি —
সবকিছু আমার জীবনকে আলোকিত করে।
তোমার স্মৃতি আমার একাকী রাতগুলোকে সুন্দর করে।
৫. একটি বিবাহের গান (A Ballad upon a Wedding) — অংশ
মূল থিম: বিবাহের আনন্দ ও হালকা বর্ণনা।
আজ সকালে সূর্য উঠেছে আনন্দে,
পাখিরা গান গেয়েছে বিবাহের গান।
কনে সুন্দর, বর খুশি —
সবাই হাসছে, সবাই নাচছে।
প্রেমের এই মিলন চিরকাল স্থায়ী হোক।
৬. অসতর্ক প্রেমিক (The Careless Lover)
মূল থিম: প্রেমে অসতর্কতা ও স্বাধীনতা।
আমি প্রেমে অসতর্ক —
আজ ভালোবাসি, কাল ভুলে যাই।
কোনো বন্ধন চাই না, কোনো শৃঙ্খল চাই না।
প্রেম যদি আসে, স্বাগত জানাই;
চলে গেলে, বিদায় জানাই।
জীবন সংক্ষিপ্ত — আনন্দ করো!
৭. প্রেমের বিরুদ্ধে (Against Fruition)
মূল থিম: প্রেম পূর্ণ হলে তার আকর্ষণ কমে যায়।
প্রেম যখন পূর্ণ হয়, তখন তার মধুরতা কমে যায়।
যা পাওয়া যায় না, তাই বেশি আকর্ষণীয়।
তাই আমি প্রেমের আকাঙ্ক্ষায় থাকতে চাই —
পূর্ণতা নয়, আকাঙ্ক্ষাই সুন্দর।
৮. লিউটের গান (Song to a Lute)
মূল থিম: সঙ্গীতের মাধ্যমে প্রেমের আবেদন।
হে লিউট, তোমার তারে বাজাও আমার প্রেমের গান।
তার সুরে বলো — আমি তোমাকে ভালোবাসি।
তার কম্পনে জাগাও তার হৃদয়,
যাতে সে আমার প্রেম শুনতে পায়।
৯. প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি (To His Rival)
মূল থিম: প্রতিদ্বন্দ্বীকে চ্যালেঞ্জ — প্রেমের লড়াই।
তুমি যদি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হও,
তাহলে লড়াই করো ন্যায্যভাবে।
প্রেমের এই যুদ্ধে জিতবে যে সবচেয়ে চতুর,
সবচেয়ে আন্তরিক।
আমি প্রস্তুত — তুমি কি প্রস্তুত?
১০. প্রেমের জগৎ (Love’s World)
মূল থিম: প্রেমিকার চোখে পুরো জগৎ।
তোমার চোখে আমি দেখি সূর্য ও চাঁদ,
তোমার হাসিতে ফুটে ওঠে বসন্ত।
তোমার কণ্ঠে বাজে সুরেলা সঙ্গীত,
তোমার হৃদয়ে লুকিয়ে আছে আমার স্বর্গ।
তুমিই আমার সমস্ত জগৎ।
স্যার জন সাকলিং (Sir John Suckling, ১৬০৯–১৬৪২): ক্যাভালিয়ার যুগের সবচেয়ে চতুর, উজ্জ্বল ও বিতর্কিত কবি-নাট্যকার
স্যার জন সাকলিং ইংরেজ সাহিত্যের ইতিহাসে ক্যাভালিয়ার কবিদের (Cavalier Poets) অন্যতম প্রতিনিধি। তিনি ছিলেন রাজদরবারের অভিজাত, কবি, নাট্যকার, সৈনিক, জুয়াড়ি ও খেলোয়াড় — যাঁর জীবন ছিল বিলাস, বুদ্ধি, সাহস ও অকাল মৃত্যুর এক চমকপ্রদ মিশ্রণ। তাঁর কবিতায় তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ, হালকা প্রেমের আবেগ ও জীবনের ক্ষণস্থায়ী আনন্দ ফুটে উঠেছে। বিখ্যাত গান “Why so pale and wan, fond lover?” তাঁর লেখা, যা আজও ইংরেজ সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা। তিনি ছিলেন Thomas Carew-এর সমসাময়িক এবং Charles I-এর দরবারের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব।
সাকলিং ছিলেন একজন সত্যিকারের “Cavalier” — রাজতন্ত্রপন্থী, বীর, কবি ও জীবনের আনন্দ উপভোগকারী। তাঁর জীবন দেখায় কীভাবে প্রতিভা, সাহস ও অস্থিরতা একসঙ্গে মিশে যায়।
জন্ম ও পরিবার
স্যার জন সাকলিং ১৬০৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন (সম্ভবত ফেব্রুয়ারি বা তার পরে)। জন্মস্থান Twickenham, Middlesex, ইংল্যান্ড। তিনি ছিলেন Sir John Suckling (বয়স্ক) ও Martha Cranfield-এর পুত্র। পিতা ছিলেন একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ — James I-এর সময় Secretary of State এবং পরে Comptroller of the Household। পরিবার ছিল ধনী ও আদালতের ঘনিষ্ঠ। সাকলিং ছিলেন পরিবারের একমাত্র পুত্রসন্তান।
শিক্ষা ও যৌবন
তিনি Trinity College, Cambridge-এ পড়াশোনা করেন (১৬২৩ সালে ভর্তি)। পরে Gray’s Inn-এ আইন অধ্যয়ন করেন। যৌবনে তিনি ইউরোপ ভ্রমণ করেন — ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানিতে সময় কাটান। এই ভ্রমণ তাঁকে বিদেশি সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত করে তোলে।
১৬৩০ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি নাইট উপাধি (knighted) পান — Charles I-এর রাজত্বকালে। এরপর তিনি দরবারের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।
আদালতের জীবন, সামরিক অভিযান ও ব্যক্তিত্ব
সাকলিং Charles I-এর দরবারের অন্যতম জনপ্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান, চতুর, রসিক ও ব্যয়বহুল জীবনযাপনকারী। তিনি জুয়া খেলতেন, মদ্যপান করতেন এবং নারীদের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন — তাঁর libertine (মুক্তাচারী) জীবনধারা দরবারে বিখ্যাত ছিল।
তিনি cribbage নামক তাসের খেলার উদ্ভাবক বলে পরিচিত।
১৬৩৯–১৬৪০ সালে তিনি Bishops’ Wars-এ অংশ নেন (স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে Charles I-এর অভিযান)। নিজের খরচে একটি অশ্বারোহী দল (troop of horse) গঠন করে যুদ্ধে যান। এতে তাঁর সাহস ও রাজভক্তি প্রমাণিত হয়, কিন্তু অভিযান ব্যর্থ হয়।
তিনি ছিলেন Thomas Carew, Richard Lovelace প্রমুখ ক্যাভালিয়ার কবিদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল আকর্ষণীয় — সুন্দর চেহারা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও মোহময়ী ব্যবহার।
সাহিত্যকর্ম
সাকলিং ছিলেন কবি ও নাট্যকার। তাঁর রচনায় দরবারের জীবন, প্রেমের খেলা ও বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
প্রধান নাটক:
- Aglaura (১৬৩৭) — সবচেয়ে বিখ্যাত। এতে দুটি শেষাংশ আছে (একটি ট্র্যাজিক, একটি কমিক)। এই নাটকেই বিখ্যাত গান “Why so pale and wan, fond lover?” আছে।
- The Goblins (১৬৩৮)
- Brennoralt (বা The Discontented Colonel)
- The Sad One
প্রধান কবিতা:
- “Why so pale and wan, fond lover?” (প্রেমিকাকে উপদেশমূলক চতুর গান)
- “The Constant Lover” (“Out upon it, I have loved three whole days together…”)
- “I prithee send me back my heart”
- “A Ballad upon a Wedding”
- “When, dearest, I but think of thee”
- “The Careless Lover”
তাঁর কবিতা সংক্ষিপ্ত, সুরেলা ও বুদ্ধিদীপ্ত। প্রেমকে তিনি গভীর আবেগের চেয়ে খেলা ও বাস্তবতা হিসেবে দেখেছেন।
ব্যক্তিগত জীবন
সাকলিং কখনো বিবাহ করেননি। তাঁর জীবন ছিল অস্থির — প্রেমের সম্পর্ক, জুয়া, ব্যয় ও দরবারের রাজনীতি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ব্যয়বহুল; পিতার সম্পত্তি অনেকাংশে নষ্ট করেছিলেন বলে কিছু সূত্রে উল্লেখ আছে। তাঁর libertine জীবনধারা ও রাজনৈতিক আনুগত্য তাঁকে দরবারের প্রিয়পাত্র করে তুলেছিল।
গৃহযুদ্ধ ও শেষ জীবন
১৬৪২ সালে ইংরেজ গৃহযুদ্ধ শুরু হলে সাকলিং Royalist পক্ষে ছিলেন। Charles I-এর সমর্থনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু Royalist বাহিনীর প্রাথমিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁকে হতাশ করে। তিনি ফ্রান্সে পালিয়ে যান।
মৃত্যু
১৬৪২ সালের মে বা জুন মাসে (বয়স মাত্র ৩৩) ফ্রান্সে (সম্ভবত প্যারিসে) তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিতর্ক আছে — কেউ কেউ বলেন আত্মহত্যা (বিষপান বা আত্মহত্যামূলক আঘাত), অন্যরা বলেন অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা। তাঁর আর্থিক সমস্যা, রাজনৈতিক হতাশা ও অস্থির জীবনধারা শেষ জীবনে তাঁকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
উত্তরাধিকার
সাকলিং-এর মৃত্যুর পর তাঁর কবিতা Fragmenta Aurea (১৬৪৬) নামে প্রকাশিত হয়। তিনি Cavalier কবিদের মধ্যে সবচেয়ে চতুর ও জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর গান ও কবিতা আজও পাঠককে আকর্ষণ করে তার সরলতা, বুদ্ধি ও সুরের জন্য। “Why so pale and wan…” ইংরেজ সাহিত্যের ক্লাসিক হয়ে আছে।
তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান কিন্তু অস্থির মানুষ — যিনি জীবনকে পূর্ণ মাত্রায় উপভোগ করেছেন, কিন্তু তার মূল্যও দিয়েছেন। তাঁর রচনা আজও Cavalier যুগের আনন্দ, বুদ্ধি ও রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রতীক হয়ে আছে।