Abdullah Al Adeeb

দ্বিধাচিত্ত…
– আবদুল্লাহ আল আদীব

শতবর্ষী শিরীষের ছায়া-তলেতলে আমার যুগল দৃষ্টি দোলে,
সিআরবি উদ্যানে যুগলদেহের নিভৃত প্রস্ফুটনে।
প্রেম নাকি কাম?
কামুক দন্ডের কাছে মনের কিই বা দাম?
ছেলেদের অতর্কিত চোখে তুমি রমনি নাকি দৈহিক তরুণী?
কত সহজেই কিশোরের টগবগে শিশ্নকে গিলে নেয়
কিশোরীর দাঁতহীন তুলতুলে নরম মাংসল মাড়ি।
আহ্! কত রিনুকঝিনুক ইটিসফিটিস মিলনাত্মক বাণী।
যদি আকাঙ্ক্ষার দেহ মাপে-
ওজনের পুরোটাই তার লিঙ্গ, পুরোটাই তার যৌনি।
কত সহজ নিঃস্বার্থ ভালবাসায় তুমিই প্রমিকের মোগলাই।
“ছিবড়ে খাও, ফেড়ে খাও, কামড়ে ধরে দাগ দাও,
জীবনের অন্তিম অবধি আমাকে চাও।”
রক্তকমল নারীর গোপন বাগানে মাতাল দেবতা প্রিয়াপাস,
আর নারী উন্মাদ ছুঁয়ে-ডলে পুরুষের মোহনাঙ্গ, ফাসসিনাস।

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

লতা ও বৃক্ষের রূপকথা…
– আবদুল্লাহ আল আদীব

এক ছিল সবুজে ভরা এক বাগান।
সেখানে জন্ম নিল এক ছোট্ট লতাগাছ।
তার পাতাগুলো নরম, ডালপালাগুলো সরু,
তবু তার স্বপ্ন ছিল-
উঁচুতে ওঠা, আকাশ ছোঁয়া,
দূরের সূর্যালোককে নিজের পাতায় ধরে রাখা।
কিন্তু একা দাঁড়াতে গেলেই
হাওয়ার হালকা ছোঁয়াতেই কেঁপে উঠত সে।
ঝড়ের কথা ভাবলেই
তার পাতাগুলো ভয়ে সিঁটিয়ে যেত।
পাশেই ছিল এক বিশাল, পুরনো বৃক্ষ।
বছরের পর বছর দাঁড়িয়ে থাকা সেই বৃক্ষের চোখে
ঝড়-বৃষ্টি, রোদ-তুষার সবই ধরা আছে।
লতাগাছ একদিন সাহস করে বলল-
“তুমি কি আমায় একটু ভর দিতে পারবে?
আমি আকাশ দেখতে চাই।”
বৃক্ষ মৃদু হেসে বলল-
“এসো, আমার কাঁধে হাত রাখো।”
লতা ধীরে ধীরে বৃক্ষের কাণ্ডে জড়িয়ে উঠতে লাগল।
দিন কেটে গেল, ঋতু বদলাল।
ঝড় এলো, বৃষ্টি এলো,
কিন্তু লতা কখনো পড়ে গেল না-
কারণ বৃক্ষ তাকে আগলে রাখল।
বছর কয়েক পর, লতা এত উঁচুতে উঠল
যে সে সূর্যের প্রথম আলো ধরতে পারল।
বৃক্ষও খুশি, কারণ তার কাণ্ডে
সবুজের নতুন পোশাক জড়িয়ে গেছে।
তারপর থেকে, বাগানের সবাই জানল-
শুধু শক্তি থাকলেই বড় হওয়া যায় না,
ভরসা থাকলেই স্বপ্ন পূর্ণতা পায়।
মানুষও তেমন-
প্রতিবেশী, বন্ধু, পরিবার-
সবাই মিলে জড়িয়ে থাকে,
আর তাতেই জীবনের আসল সৌন্দর্য জন্ম নেয়।

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

অগ্নিজ্যা-অভিসার…
– আবদুল্লাহ আল আদীব

বিরহের ভগ্নাভিধা মহাশূন্যে,
প্রাচীন নাক্ষত্রিক বিধির মতো
আমার অনুরক্ত আত্মা বহন করে
অচিহ্নিত অগণন অবকাশ-বর্জিত ক্ষয়রাগ।
অভিমানের অগ্নিজ্যা ছুঁয়ে যায় স্মৃতির সুপ্ত মন্দির—
যেখানে তোমার অনুপস্থিত মুখচ্ছবি
অদৃশ্য দেববাণীর মতো প্রতিধ্বনিত হয়ে ওঠে।

তবু আকাঙ্ক্ষার অনিবার্য আখ্যান—
যদি কোনো গূঢ় গ্রহ-নক্ষত্রের সংযোগে
তুমি এক মুহূর্তের জন্যও আচ্ছন্ন হও
আমার অস্তিত্ব-শ্রীবৃত্তের মধ্যমণিতে,
আমি উত্থাপিত করবো নৈঃশব্দ্যের প্রাচীন যজ্ঞ—
যার প্রতিটি অর্ঘ্য শুধুই তোমাকে
নিজস্ব অনন্ত নৈকট্যের আদি-পরিধিতে
অবশেষে সমাহিত করে রাখার
অমর, অবিনশ্বর, অথচ নিষিদ্ধ প্রার্থনা।

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

নৈরাশ্যের নাক্ষত্রিক নৈকট্য…
– আবদুল্লাহ আল আদীব

অপ্রাপ্তির অতল অবকীর্ণে জমে থাকা
অনির্ণেয় অনুরক্ত-অবশেষ,
বিরহের বহ্নিজাল পেরিয়ে
অভিমানের অব্যাহত অবচেতন গুঞ্জন।
তোমার অনিবার্য নৈঃস্তব্ধতা
আমার সত্তায় ছড়িয়ে দেয়
অতিপ্রাকৃত অনুপস্থিতির অবিনাশী সুষির—
যেখানে প্রত্যাশা নিজেই
নিজের দংশনে ক্ষীয়মান।
তবু অন্তর্গূঢ় আকাঙ্ক্ষার অনাহত অনুশাসন—
যদি কোনো নাক্ষত্রিক মুহূর্তে তুমি ভেসে ওঠো
আমার অস্তিত্বের অন্তরীক্ষ-সন্নিকটে,
আমি উন্মোচন করবো
নৈরব্যের নিগূঢ়তম স্তবক—
শুধু তোমাকে অধিকার করার
অদম্য, অম্লান,
অথচ অনন্ত-অপ্রাপ্য নৈকট্যবিলাসে।

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

জারিফ ফুল
– আবদুল্লাহ আল আদীব

জারিফ ফুল জারিফ ফুল,
কেমন আছও? ভালো?
হৃদয় ভরা সুবাস তোমার,
চক্ষুশীতল আলো।

জারিফ ফুল জারিফ ফুল
সামনে আসছে শীত—
শিশির ভেজা পাপড়ি তোমার
স্নিগ্ধ রোদের স্ফটিক।

কোমল জ্যোৎস্না গায়ে মেখে
ঘুমাও যখন রাতে—
জোনাকিরা মাতাল হয়,
হয় বিহ্বল আমার সাথে।

বাতাস তোমায় আলতো ছুঁয়েই
কেঁপে ওঠে বারবার,
সেই হিমেল বাতাস বুকে টেনেই
হৃদয় আমার ছারখার।

জারিফ ফুল জারিফ ফুল,
জানও কি তুমি?
তোমায় রোজ সংগোপনে
লুকিয়ে দেখি আমি।

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

নীরবকথা…
– আবদুল্লাহ আল আদীব

আমি নদীকে প্রশ্ন করেছিলাম—
কীভাবে পাহাড় পেরোনো যায়?
নদী মৃদু হেসে বলল,
আমি পাহাড় ভাঙি না,
আমি শুধু বয়ে যাই—
সময়ের মতো, অবিরাম।
আমি বাতাসকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—
এত শক্তি আসে কোথা থেকে?
বাতাস বলল,
আমি পৃথিবীকে চাপ দিই না,
আমি শুধু ছুঁয়ে যাই।
নীরবতার গভীরে
একটি কথা ভাসে—
যে চলে, সে পৌঁছায়;
যে আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়,
সে ধীরে ধীরে হারায়।
আলো আর অন্ধকারের মাঝখানে
একটি নিঃশ্বাস থাকে—
না জ্বলে,
না নিভে,
শুধু থাকে
অস্তিত্বের নীরবতায়।
আমি বুঝেছি—
জোর করে ভালো হওয়া যায় না,
জোর করে সত্যও উপলব্ধি হয় না।
নদীর মতো হলে
পথ নিজেই খুলে যায়,
আর জীবন
নিজেই বয়ে চলে।”

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

নিষিদ্ধ স্বপ্ন…
– আবদুল্লাহ আল আদীব

ওহে প্রিয়-
তুমি কি দেখোনি কখনো নিষিদ্ধ সেই স্বপ্ন?
কত যে ব্যকুল হয়ে চেয়েছি তোমায়, হয়েছি বিদীর্ণ।
তুমি কি দেখোনি- জোৎস্নার দেহ,
শিউলি, বকুল আর কদম ফুলের সমারহ?
দেখোনি পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘে আমার তৃষ্ণা অহরহ ?
আমি তো দেখেছি- নিষিদ্ধ সেই স্বপ্ন
প্রতি রাত্রিতে, প্রতি ক্ষণে;
তন্দ্রায়-নিদ্রায় জেগে জেগে আনমনে।
সত্যিই কি কখনো নিষিদ্ধ সেই স্বপ্ন
দেইনি কি হাতছানি তোমার ঘুমে?
সেই স্বপ্নে-
আমি কত যে তোমায় বেসেছি ভালো
নিরবে গোপনে- স্বপ্নীল ঘুমে।

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

অন্তরের অন্তঃস্থিত
– আবদুল্লাহ আল আদীব

সুখ মানে—সংযত চিন্তার পরিণত প্রয়োগ,
মনকে তার নিজস্ব ভ্রম থেকে উদ্ধার করলেই শান্তি।
মানুষের মন—পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মম কারাগার,
আর মানুষ—সেই কারাগারের স্বেচ্ছাবন্দী;
হোক সে নিজের, হোক আকাঙ্ক্ষিত অন্যের।
মানুষ বড়ই স্বার্থান্ধ ও নির্বোধ—
প্রাপ্য সুখের অবমূল্যায়নে অভ্যস্ত,
হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার মধ্যেই যেন তার প্রাপ্তির উল্লাস।
দূর রাতের ক্ষীণ নক্ষত্রালোকে তাকিয়ে থাকে—
নিজেকে দীপ্ত করার বৃথা প্রয়াসে।
মনও কি মাংসাশী?
নাকি শিশ্ন তুলতুলে নরম মাংসের গহ্বরে
হৃদয়ের কোনো পরম আশ্রয় খোঁজে?
সুখ কী? কোন তৃপ্তির অন্তিমে তুষ্টতা?
যে সুখ আমার অন্তঃস্থিত—
তাকে কি আমি নিজেই দিতে পারি না?
অবশেষে—
আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে,
নিজের প্রতিবিম্বের কপালে বারংবার চুমু খেতে চেয়ে,
কেবলই ঠোঁট ছুঁয়ে যায় ঠোঁটেই।
তবে কি—
স্বার্থহীন ভালোবাসা,
নিজেকেও অস্বীকার করে?

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

তোমার চ্যূতশরীর…
– আবদুল্লাহ আল আদীব

আঙুলের ফাঁক গলে পোনামাছ লাফ দিয়েছে
ভরা যৌবনা দীঘি জলে।
তুমি হেসে বললে, হারাইনা কিছু কোনদিন
ঠিকঠাক রাখতে জানলে।
তুমি অবলীল দেহে সাঁতরে গেলে,
ওই তৃষ্ণার্ত জল চুইয়ে চুইয়ে
তোমার চ্যূতশরীর নিয়ে শিশুর মত খেলা করেছে।
আমি আকষ্মিক, ভেবেছি তোমাকে ভালবাসি,
দাঁড়িয়ে আছি তোমার খুলে রাখা কাপড়ের সুঘ্রাণে
মাতাল হয়ে।
জমিনে তোমার লাঙ্গল চষে চষে
কত চাষা বুনে গেছে বেওয়ারিশ ফসল।
আমি বোকা তোমার শরীরের বেগ না বুঝে
ইদুরের গর্তে ফেলেছি কামজল।

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

দৈহিকভাবে…
– আবদুল্লাহ আল আদীব

তুমি ফুল ছিলে,
আমি ভ্রমর হয়ে ছুঁতেই— নিজেকে গুটিয়ে নিলে।
আমি সুদৃঢ় বিশ্বাসে তোমাকে ভালবাসলেম।
তারপর…
কুঁড়িফুলে টলমলে মধুরসে
টানটান কোমল যৌবন!
আমার বেখেয়ালে, লোভাতুর পাপড়ি মেলে—
কামাতুর ঋতুতে করে উচ্ছল প্রস্ফুটন।
ওই লালসাবিদুর কীট,
শুঁড় ঢুকিয়ে শুষে খেয়েছে ফুলের তরতাজা,
যৌবনদীপ্ত শরীর।
বিহ্বল বালক রসালো আমের
সুমিষ্ট আঁটি চেটে খাওয়ার মত,
তোমার ঠোঁটে লেপ্টে থাকা
এলোমেলো লিপস্টিক দেখে
আমি বললেম, “তাতে কী!
তোমার ঠোঁট তো খুইয়ে যায়নি।”
আমিও আঁটি চুষতে চুষতে বলি—
“এই একটা জিনিস,
যা হাজার জনে ভোগ করলেও কমে না।”
অতএব, চলো আমরা দুজনেই
দৈহিকভাবে বাঁচি;
অপরিপক্ক বীজে তো আর নতুন জন্ম হবে না!
নিজেকে মানালাম—
কাঁচা আত্মাকে দেহের সাথেই
মিলিয়ে রাখা উচিত।
দেহ খুশি তো জীবন খুশি,
জগৎ খুশি!
শুধু শুধু আত্মার অতিরঞ্জিত আবেগে—
জীবনকে কেন ভাসিয়ে দেবো?
হায়! সে যে সবকিছুই…
একান্ত নিজের করে পেতে চায়।

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

রিলেশন-শীপ…
– আবদুল্লাহ আল আদীব

এক অপরিণত টকটকে মনের কিশোরী
একদিন বলেছিলো—
“আমার সাথে রিলেশনশীপে যাবেন?”
আমি শব্দ ভেঙে বুঝেছিলাম—
রিলেশন মানে সম্পর্ক,
শীপ মানে জাহাজ—
এত বড় সম্পর্কের জাহাজ ভাসাবো কোথায়?
আমার তো কোনো সমুদ্র নেই।
সে হেসে বলেছিলো—
“আমার মনের সমুদ্রে ভাসাবেন।”
তখন বুঝিনি—
ভার্চুয়াল মনের সমুদ্রগুলো
বাইরে থেকে শান্ত,
কিন্তু ভেতরে ভীষণ ঝড়ো।

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

চাইলেই তো পারতে…
– আবদুল্লাহ আল আদীব

সত্যি বলছি,
তোমাদের মত আমিও বুঝি
কখন কেন হাসে মন,
দুঃখ পাওয়ারও কারণ থাকে,
মন খারাপ হয় না বিনা কারণ।
তোমরা ভাবো আমি পাগল,
কিছুই তেমন বুঝি না।
কখন একটু ভালো লাগে,
কোন কষ্টে হৃদয় ভাঙ্গে
কারণ কিছুই খুঁজি না।
পাগলেরও আবেগ আছে,
পাগল সে তো আঘাত পেয়ে চুপসে গেছে।
পাগল মানেই নষ্ট কিছু ভেবো না।

আচ্ছা বলো একটু মাথায় প্রবলেম হলে
পাগল বলে কেন দাও আমাদের দূরে ঠেলে?
চাইলে তো করুণা করে মানিয়ে নিতে পারতে।
যে তোমাদের চেয়ে একটু কাঁচা,
একটুখানি থেমে থাকে,
ভালো মন্দের হিসাব করে মন্দটাকেই কাছে রাখে
যদি তাকে মানবিক হয়ে একটু ভালবাসতে,
তোমাদের তাতে কিই-বা এমন ক্ষতি হতো?

যার পা নেই তাকে ধরে পথ হাঁটালে,
যার চোখ নেই তাকে তোমরা পথ দেখালে,
অসুস্থের সেবা করলে,
নিঃস্ব লোকের সহায় হলে
এভাবে শারীরিক অসুস্থকে মানবতায় আগলে রাখলে,
কেবল মানসিক অসুস্থের বেলায় উল্টে গেলে।

কম বুঝলে বোকা বলো,
থাকে সে চতুর কাজের অবজ্ঞাতে।
মানসিকতা দূর্বল হলে কথায় নেই-
পাগল পাগল বলে তাকে
নষ্ট করো তার আবেগটাকে।
চাইলেই তো পারতে মানুষ্যরূপী পাগলদেরকে
একটু পাগলামিতে ভালবাসতে।

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

কেউ বলেনি— আমি আছি…
– আবদুল্লাহ আল আদীব

বুকটা বড় ফাঁকা ফাঁকা,
পাহাড় সমান কষ্ট চাপা।
একটুখানি সুযোগ পেলে
লজ্জা ভুলে ভীষণ রকম কান্না পাবে।
কোন একটি হৃদয় নেই—যে আমাকে বাতাস দেবে।

প্রবল দুঃখের ঘূর্ণিপাকে
যখন কষ্টরা সব জমতে থাকে,
জীবন ঘিরে হতাশারা
বেহিসেবী স্বপ্ন ভাঙে,
তখন একটুখানি সময় দিয়ে,
আগলে রাখা মায়া দিয়ে,
মনের টানে একটুখানি দরদ মাখা খবর নিয়ে—
“দোয়া রইলো, তোমার পাশে আমি আছি”
এমন বলার কেউ যে নেই।
আমার কোন নিজের করে ভালবাসার মানুষ নেই।

এই যে আমি সুস্থ সবল,
হাসিখুশি,
চলা-ফেরায় পরিপাটি,
সবার সাথে হাস্যরসিক,
ভাব প্রদানে প্রেমের কোনো ঘাটতি নেই—
তারপরেও যখন আমি একলা বাঁচি,
সবার থেকে চোখ সরিয়ে কেবল শুধু নিজেকে দেখি,
বুঝতে পারি—
আমার কোনো ছায়া নেই
যাকে আমি একলা আমার ভাবতে পারি।

যখন আমি ভীষণ হতাশ,
বাড়ে কেবল দীর্ঘশ্বাস,
কিছু কথা শোনার মতো,
কিছু শব্দ বোঝার মতো
নিরাপদ এক মানুষ খুঁজি—
তখন বুঝি, কেউ বলেনি—“আমি আছি।”
কেউ বলেনি—“দুঃখ কীসের!
আজাইরা সব গল্প বলো,
দ্বিধাহীন সব খুলে বলো,
একলা তুমি আমার প্রিয়।
হতাশা তোমার—স্বপ্ন আমার,
আমি ভীষণ আশাবাদী।”

কেউ বলেনি—
“ক্লান্তি পেলে এদিকে এসো,
আর না হলে আমায় ডেকো
প্রথম থেকে শেষ অবধি।”

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

আমি বড় যত্নের কাঙ্গাল
– আবদুল্লাহ আল আদীব
কত মানুষকে ভালোবেসেছি—
বেদনার হিম-দীর্ঘশ্বাসে আমি কেঁপে ওঠে
কত মানুষকে কম্বলের মতো জড়িয়েছি
আবেগের দুগ্ধ-কোমল অনুভবে,
তাদের হৃদয়ের উষ্ণ অনুরাগ পেতে।
কত চোখের মায়াবী দৃষ্টির চিত্রকলা—
সযত্নে খনন করে দেখেছি
বুকের গহীনের নগরীর ধ্বংসাবশেষ;
চেহারার ভাঁজে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি
লুকিয়ে রাখা বিষণ্নতা, বেদনাবিধুর ব্যথা।
কতকের অজানা কান্নায় নিজের বুক ভিজিয়েছি,
তাদের নিঃশব্দ প্রার্থনায় আমার বুকে নির্মাণ করেছি
পৃথিবীর প্রথম মন্দির— গোবেকলি তেপে।

তবুও এই চব্বিশ বছরের জীবনে পাইনি
এমন একজন মানুষ,
যে আমার ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে বুঝবে—
আজ আমারও একটু যত্ন দরকার।
চেয়েছিলাম ইমোজির মাপে ভালোবাসা মাপতে,
কী-বোর্ডের অক্ষরে খুঁজেছি নির্মল স্নেহ;
অন্তহীন স্ক্রলিংয়ের ভিড়ে ভুলতে চেয়েছি
যত্নহীন দিনের মলিনতা।

তবু স্বপ্ন-আশা অপেক্ষায় আছে
কোনো এক নোটিফিকেশনের—
যেখানে চিঠির গন্ধে মিশে থাকবে
প্রেমময় এক পূর্ণাঙ্গ জীবন,
বৃষ্টিভেজা বিকেলের নরম স্পর্শ।
আমি আজও খুঁজে ফিরি সেই মানুষটিকে—
যে আমার না বলা কথাগুলো
শুনে ফেলবে বাতাসের ভাঁজে,
যে আমার নীরবতা বুঝে নেবে নিঃশব্দে,
যে আমার ভেতরের ক্লান্তিকে আলতো ছুঁয়ে বলবে:
“তুমি ক্লান্ত, এসো, একটু বিশ্রাম নাও।”

যদিও সে বয়সে ষাট বছরেরও হয়—
তবুও আমি তাকে নিয়েই পৃথিবীর
সবচেয়ে সুখী মানুষ হতে পারতাম।
কারণ ভালোবাসা বয়স চেনে না,
যত্নও চেনে না সময়ের সীমানা।
যত্ন মানে— কাউকে আগলে রাখা সন্তর্পণে,
খুব গোপনে;
যেমন আকাশ আগলে রাখে তারাদের।

0 Comments

Abdullah Al Adeeb

এমন একজন বন্ধু হোক
– আবদুল্লাহ আল আদীব

আমি বলছি না-
আমাকে অনেক বেশি ভালবাসতে হবে,
বলছি না আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে হবে,
আমাকে স্বপ্ন দেখাতে হবে।
আমি বলছি না-
আমার সব খুটিনাটি বিষয়গুলো
কাউকে খুব করে খেয়াল রাখতে হবে।
আমি আমার অভ্যাস এবং আমাকে
খুব ভালো করেই সামলে নিতে পারি।
আমি শুধু বলছি-
আমার এমন একজন মানুষ হোক,
যার হাতে হাত রেখে
আমি একটুখানি ভরসা পেতে পারি।
নাহ্, ওষ্ঠে কম্পমান –
প্রেমিকের অস্ফুট আবেগ আমি চাইছি না।
চাইছি না প্রেয়সির অবয়ব জুড়ে ধাবমান
শরীরের শিরশির ব্যকুল অনুভূতি।
আমি শুধু চাইছি-
আমার এমন একজন বন্ধু হোক,
বেঁচে থাকার সন্ধি হোক,
যে আমাকে ভালোবেসে
খুব যত্ন করে গুছিয়ে দেবে।
যে আমাকে আগলে নেবে
অনেক বেশি কোলাহলে।
পেছন ফিরে ডেকে নেবে
চলতি পথে পিছিয়ে গেলে।
আমি শুধু চাইছি-
আমার এমন একজন বন্ধু হোক,
যাকে ভেবে বাড়ি ফেরার ইচ্ছা হবে।
স্বপ্ন ভাঙার ঘূর্ণিপাকে
যখন বাঁচার ইচ্ছা হারিয়ে যাবে-
তখন ছিন্ন-ভিন্ন, ভাঙাচোরা,
এলোমেলো এই আমিকে
যে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে
নিজের কাছে জমা রাখবে।
আমি শুধু চাইছি-
আমার এমন একজন বন্ধু হোক।

0 Comments

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...