দহন কালের কবিতা
ড.চঞ্চলকুমার মণ্ডল
এইযে নিত্য উথাল পাথাল পাড় ভাঙা ঢেউ বুকে;
অথচ কত সুখী সুখী ভাব চেহারা চোখে ও মুখে।
এইযে নিত্য ছবি আঁকি মনেরই ক্যানভাসে;
পাঁজরে পাঁজরে যন্ত্রনা বয় ভীষণ হা-হুতাশে!
শব্দে শব্দে মালা গাঁথি রোজ
বুনে যাই অন্ত্যমিল ;
অথচ ভেতরে ভেতরে আস্ত
বিরহী শঙ্খ চিল!
চারপাশে শত মানুষের ভীড় তবু,শূন্য মনে হয়;
মনের মানুষ ছাড়া মন ফাঁকাই কেবল রয়।
পুড়ে পুড়ে খুব গোপনে হয়ে চলি দগ্ধীভূত;
বাইরে দেখাই ভীষণ প্রাণোচ্ছল,ভেতরে থেকেই মৃত।
জীবন সে নয় চাওয়া পাওয়া কেবল উপভোগ;
জীবন হল চেয়ে না পাওয়া গোপন ক্ষয়রোগ!
বুকের গভীরে ফুটেই শুকোয় স্বপ্ন রঙিন ফুল;
যা নয় আমার তার জন্য বিভোর মশগুল!
সবাই বাঁচে বাঁচার মতো বুকের দহন ছাড়াই;
পুড়বে হাত জেনেও তবু
দহনে হাত বাড়াই।
ধরা ছোঁয়ার বাইরে যা
হবে না নিজের কভু;
তার জন্য বুকের চুলার আগুনে পুড়ি তবু।
পুড়তে পুড়তে অন্তর্দাহে
মাটিতে যাব মিশে;
নিজের ক্ষত আগলাই নিজে
দুঃখের নীল বিষে।