Uttam Ghosh

প্রথম দেখা সাহিত্যিকদের তীর্থক্ষেত্র : বিউটি বোর্ডিং
কলমে : ঘোষ উত্তম
০২/১০/২০২৬

আজ আর কোন পিছু টান নয়। হল থেকে বেড়িয়ে গুলিস্তান। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য বাহন ঘোড়া গাড়িতে বাংলা বাজার। বিশাল এলাহী কারবার বই আর বই। সারি সারি সাজানো এলোমেলো । শুধু বইয়ের । বই আসতে আসতে একেবারে ফুটপাতের ওপরে। তারপরও কি সেই দৃশ্য মনকাড়া। হৃদয় ছোঁয়া।। কাউকে জিজ্ঞেস করার অভিপ্রায় নেই। নিজেই খুঁজে বেড়াই বিউটি বিউটি । বিউটি বোর্ডিং শুধু মনে আছে এতটুকু।
— ১, শ্রীশ দাস লেন, বাংলাবাজার, পুরান ঢাকা।
অবশেষে সেই সাহিত্যের তীর্থক্ষেত্র। পুরোনো দোতলা ভবন ও ঐতিহ্যবাহী উঠান। দূর থেকে কড়া রৌদ্রস্নাত দুপুরে কল্পনার চোখে দেখছি শামসুর রাহমান বুঝি তার সেই চিরচেনা কাঁধে ঝোলা নিয়ে বের হলেন। ঐ বুঝি গুণদা,ঠিক তো, দোতলায় রেলিঙের ঝুকে আছে কে রফিক আজাদ না ——-।
বাস্তবে ফিরে আসি তপ্ত দুপুরে। আগের মতো কবি-সাহিত্যিকদের নিয়মিত আনাগোনা বা দীর্ঘ আড্ডা নেই; তবে সাহিত্যপ্রেমী, পর্যটক ও কৌতূহলী মানুষ এখনও এখানে আসেন। অর্থাৎ, বিউটি বোর্ডিং আজ আর শুধু সাহিত্যিকদের আড্ডাখানা নয়; এটি এখন ইতিহাস, খাবার, পুরান ঢাকার জীবন ও নস্টালজিয়ার মিলনস্থল। অতীতের সেই জৌলুস কিছুটা ম্লান হলেও জায়গাটির ঐতিহাসিক আবেদন এখনও অটুট।
বিউটি বোর্ডিং। আমার অদেখা তীর্থক্ষেত্র।

0 Comments

Uttam Ghosh

শহুরে জোছনায় নদীর ঢেউ নেই, কাশবনের দোলা নেই, শিশিরভেজা ঘাস নেই। আছে কংক্রিটের ছাদ, দূরের গাড়ির শব্দ আর জানালার ফাঁকে জেগে থাকা কিছু একাকী মানুষ। সেই মানুষগুলোর মনের ভেতরেই হয়তো জমে থাকে হারিয়ে যাওয়া গ্রামের উঠোন, শৈশবের রাত, প্রিয় মুখ আর পুরোনো কোনো অপেক্ষা।
কতদিন আমার চাঁদ দেখি না।
২৯/০৯/২৬

0 Comments

Uttam Ghosh

যে রাস্তা
কলমে : ঘোষ উত্তম
তারিখ : ২৭/০৯/২৬

যে রাস্তাটা বাড়ি পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছে এই রাস্তায় ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের রাস্তা । নামলাম। হাতের ডানে বাড়ির পথ আর বামে ব্রম্মপুত্র নদ। অনেক ইতিহাসের পাতায় এই পথটুকু।
স্মৃতিময়।
এখন আর এ পথে প্যাক কাদা ধুলো বালি নেই । শৈশবে কাঁদা-মাটির রাস্তায় স্কুল থেকে ফেরার স্মৃতিটা আজও মনে হলেই বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। বর্ষার দিনে ভেজা মাটির গন্ধে চারদিক ভরে থাকত, পায়ে কাদা লেগে ভারী হয়ে যেত চলা, তবু সেই ক্লান্তির মাঝেও একরকম অজানা আনন্দ লুকিয়ে থাকত। বগলে করে বইখাতা, জামার কোণে কাদার ছোপ—সবকিছু মিলিয়ে যেন ছিল আমাদের প্রতিদিনের গল্প। কখনো হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়া, কখনো বন্ধুদের সাথে হাসাহাসি, আবার কখনো দূর থেকে মায়ের ডাক শোনার জন্য মন ছুটে চলা—এই সব ছোট ছোট মুহূর্তেই গড়ে উঠেছিল শৈশব।আর এ রাস্তা । এ রাস্তা ধরে আমার বিকেলে ব্রম্মপুত্র নদের পড়ন্ত বিকেলে সূর্য ডুবেছে। আবার এ রাস্তা ধরেই প্রিয়জনরা কাঁধ বয়ে শেষকৃত্যের দিকে নদীতে নেমেছে। আর আজ
আজ পাকা রাস্তা, দ্রুত জীবন, সবকিছু সহজ হয়ে গেছে, কিন্তু সেই কাঁদা-মাটির পথ আর সেই অনুভূতিগুলো সহজে মুছে যায় না। কারণ ওই পথেই শেখা হয়েছিল সহনশীলতা, বন্ধুত্ব আর স্বপ্ন দেখার প্রথম পাঠ। স্মৃতির পাতায় সেই রাস্তা আজও ভেজা থাকে—হৃদয় ছুঁয়ে যায়, চোখ ভিজিয়ে দেয়, আর মনে করিয়ে দেয় কোথা থেকে আমরা এসেছি।
আমার সামনে দিয়ে সেই রাস্তা ধরে চলছে । স্কুল ফেরার ছেলে মেয়ের দল। সামনে যেতে ইচ্ছে করল না। পিছু নিয়ে ছবি তুলে নিলাম। আর মনে মনে স্মৃতির আয়না ফ্রেমে বন্দী করে নিলাম সেই দিনের ____________
ঘোষ উত্তম
ভাবখালী, সদর, ময়মনসিংহ।
০১৮২৫৩৯০৩০৯

1 Comment
  • G
    Ghosh

    Excellent

    Reply · 3 weeks ago

Uttam Ghosh

যে রাস্তা
কলমে : ঘোষ উত্তম
তারিখ : ২৭/০৯/২৬

যে রাস্তাটা বাড়ি পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছে এই রাস্তায় ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের রাস্তা । নামলাম। হাতের ডানে বাড়ির পথ আর বামে ব্রম্মপুত্র নদ। অনেক ইতিহাসের পাতায় এই পথটুকু।
স্মৃতিময়।
এখন আর এ পথে প্যাক কাদা ধুলো বালি নেই । শৈশবে কাঁদা-মাটির রাস্তায় স্কুল থেকে ফেরার স্মৃতিটা আজও মনে হলেই বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। বর্ষার দিনে ভেজা মাটির গন্ধে চারদিক ভরে থাকত, পায়ে কাদা লেগে ভারী হয়ে যেত চলা, তবু সেই ক্লান্তির মাঝেও একরকম অজানা আনন্দ লুকিয়ে থাকত। বগলে করে বইখাতা, জামার কোণে কাদার ছোপ—সবকিছু মিলিয়ে যেন ছিল আমাদের প্রতিদিনের গল্প। কখনো হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়া, কখনো বন্ধুদের সাথে হাসাহাসি, আবার কখনো দূর থেকে মায়ের ডাক শোনার জন্য মন ছুটে চলা—এই সব ছোট ছোট মুহূর্তেই গড়ে উঠেছিল শৈশব।আর এ রাস্তা । এ রাস্তা ধরে আমার বিকেলে ব্রম্মপুত্র নদের পড়ন্ত বিকেলে সূর্য ডুবেছে। আবার এ রাস্তা ধরেই প্রিয়জনরা কাঁধ বয়ে শেষকৃত্যের দিকে নদীতে নেমেছে। আর আজ
আজ পাকা রাস্তা, দ্রুত জীবন, সবকিছু সহজ হয়ে গেছে, কিন্তু সেই কাঁদা-মাটির পথ আর সেই অনুভূতিগুলো সহজে মুছে যায় না। কারণ ওই পথেই শেখা হয়েছিল সহনশীলতা, বন্ধুত্ব আর স্বপ্ন দেখার প্রথম পাঠ। স্মৃতির পাতায় সেই রাস্তা আজও ভেজা থাকে—হৃদয় ছুঁয়ে যায়, চোখ ভিজিয়ে দেয়, আর মনে করিয়ে দেয় কোথা থেকে আমরা এসেছি।
আমার সামনে দিয়ে সেই রাস্তা ধরে চলছে । স্কুল ফেরার ছেলে মেয়ের দল। সামনে যেতে ইচ্ছে করল না। পিছু নিয়ে ছবি তুলে নিলাম। আর মনে মনে স্মৃতির আয়না ফ্রেমে বন্দী করে নিলাম সেই দিনের ____________
ঘোষ উত্তম
ভাবখালী, সদর, ময়মনসিংহ।
০১৮২৫৩৯০৩০৯

0 Comments

Uttam Ghosh

যে রাস্তা
কলমে : ঘোষ উত্তম

যে রাস্তাটা বাড়ি পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছে এই রাস্তায় ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের রাস্তা । নামলাম। হাতের ডানে বাড়ির পথ আর বামে ব্রম্মপুত্র নদ। অনেক ইতিহাসের পাতায় এই পথটুকু।
স্মৃতিময়।
এখন আর এ পথে প্যাক কাদা ধুলো বালি নেই । শৈশবে কাঁদা-মাটির রাস্তায় স্কুল থেকে ফেরার স্মৃতিটা আজও মনে হলেই বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। বর্ষার দিনে ভেজা মাটির গন্ধে চারদিক ভরে থাকত, পায়ে কাদা লেগে ভারী হয়ে যেত চলা, তবু সেই ক্লান্তির মাঝেও একরকম অজানা আনন্দ লুকিয়ে থাকত। বগলে করে বইখাতা, জামার কোণে কাদার ছোপ—সবকিছু মিলিয়ে যেন ছিল আমাদের প্রতিদিনের গল্প। কখনো হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়া, কখনো বন্ধুদের সাথে হাসাহাসি, আবার কখনো দূর থেকে মায়ের ডাক শোনার জন্য মন ছুটে চলা—এই সব ছোট ছোট মুহূর্তেই গড়ে উঠেছিল শৈশব।আর এ রাস্তা । এ রাস্তা ধরে আমার বিকেলে ব্রম্মপুত্র নদের পড়ন্ত বিকেলে সূর্য ডুবেছে। আবার এ রাস্তা ধরেই প্রিয়জনরা কাঁধ বয়ে শেষকৃত্যের দিকে নদীতে নেমেছে। আর আজ
আজ পাকা রাস্তা, দ্রুত জীবন, সবকিছু সহজ হয়ে গেছে, কিন্তু সেই কাঁদা-মাটির পথ আর সেই অনুভূতিগুলো সহজে মুছে যায় না। কারণ ওই পথেই শেখা হয়েছিল সহনশীলতা, বন্ধুত্ব আর স্বপ্ন দেখার প্রথম পাঠ। স্মৃতির পাতায় সেই রাস্তা আজও ভেজা থাকে—হৃদয় ছুঁয়ে যায়, চোখ ভিজিয়ে দেয়, আর মনে করিয়ে দেয় কোথা থেকে আমরা এসেছি।
আমার সামনে দিয়ে সেই রাস্তা ধরে চলছে । ছবির স্কুল ফেরার ছেলে মেয়ের দল। সামনে যেতে ইচ্ছে করল না। পিছু নিয়ে ছবি তুলে নিলাম। আর মনে মনে স্মৃতির আয়না ফ্রেমে ঘেরা সেই দিনের ____________
ঘোষ উত্তম
ভাবখালী, সদর, ময়মনসিংহ।
০১৮২৫৩৯০৩০৯

0 Comments

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...