যে রাস্তা
কলমে : ঘোষ উত্তম
যে রাস্তাটা বাড়ি পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছে এই রাস্তায় ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের রাস্তা । নামলাম। হাতের ডানে বাড়ির পথ আর বামে ব্রম্মপুত্র নদ। অনেক ইতিহাসের পাতায় এই পথটুকু।
স্মৃতিময়।
এখন আর এ পথে প্যাক কাদা ধুলো বালি নেই । শৈশবে কাঁদা-মাটির রাস্তায় স্কুল থেকে ফেরার স্মৃতিটা আজও মনে হলেই বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। বর্ষার দিনে ভেজা মাটির গন্ধে চারদিক ভরে থাকত, পায়ে কাদা লেগে ভারী হয়ে যেত চলা, তবু সেই ক্লান্তির মাঝেও একরকম অজানা আনন্দ লুকিয়ে থাকত। বগলে করে বইখাতা, জামার কোণে কাদার ছোপ—সবকিছু মিলিয়ে যেন ছিল আমাদের প্রতিদিনের গল্প। কখনো হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়া, কখনো বন্ধুদের সাথে হাসাহাসি, আবার কখনো দূর থেকে মায়ের ডাক শোনার জন্য মন ছুটে চলা—এই সব ছোট ছোট মুহূর্তেই গড়ে উঠেছিল শৈশব।আর এ রাস্তা । এ রাস্তা ধরে আমার বিকেলে ব্রম্মপুত্র নদের পড়ন্ত বিকেলে সূর্য ডুবেছে। আবার এ রাস্তা ধরেই প্রিয়জনরা কাঁধ বয়ে শেষকৃত্যের দিকে নদীতে নেমেছে। আর আজ
আজ পাকা রাস্তা, দ্রুত জীবন, সবকিছু সহজ হয়ে গেছে, কিন্তু সেই কাঁদা-মাটির পথ আর সেই অনুভূতিগুলো সহজে মুছে যায় না। কারণ ওই পথেই শেখা হয়েছিল সহনশীলতা, বন্ধুত্ব আর স্বপ্ন দেখার প্রথম পাঠ। স্মৃতির পাতায় সেই রাস্তা আজও ভেজা থাকে—হৃদয় ছুঁয়ে যায়, চোখ ভিজিয়ে দেয়, আর মনে করিয়ে দেয় কোথা থেকে আমরা এসেছি।
আমার সামনে দিয়ে সেই রাস্তা ধরে চলছে । ছবির স্কুল ফেরার ছেলে মেয়ের দল। সামনে যেতে ইচ্ছে করল না। পিছু নিয়ে ছবি তুলে নিলাম। আর মনে মনে স্মৃতির আয়না ফ্রেমে ঘেরা সেই দিনের ____________
ঘোষ উত্তম
ভাবখালী, সদর, ময়মনসিংহ।
০১৮২৫৩৯০৩০৯