অন্য স্বাধীনতা!!
গোবিন্দ মোদক
“স্বাধীনতা”র ছোট্ট কথায় ছোট্ট একটা ‘সুখ’ খুঁজি,
বৃথাই তবু ‘সুখ’-কে খোঁজা এই কথাটাই সার বুঝি।
কিশোর-ছেলে কারখানাতে, ইঁটের-ভাটায় কাজ করে,
ষাটটি টাকা মজুরি তার, তাই বহু কষ্টেই পেট ভরে।
কিশোরী মেয়ে বন্দনা রোজ কাজ করে বাবুর বাড়ি,
বাপটা যে তার রোগগ্রস্ত, মায়ের পরনে ছেঁড়া শাড়ি।
মাসের শেষে বন্দনা তাই — যে কয়টা টাকা পায়,
সংসার চালাতে সবই শেষ, তবুও না অভাবটা যায়!
বুদোর দাদু রোজ ভোরেতে দিনের প্রথম ট্রেন ধরে,
বাদাম-ভাজা, চানাচুর — এগুলো সব ফেরি করে।
শরীর যে তার পারে নাকো তবুও তাকে যেতেই হয়,
পেটের-খিদের বড়ো জ্বালা, কী করে সে সেটা সয়!
খোঁড়া হয়েও সনাতন দাস গ্যারেজেতে কাজ করে,
সাবান-জলে গাড়ি ধুয়ে তবেই যে তার পেট ভরে।
এমন অনেক যদু, জামাল; জনসনেরা খিদে পেটে,
নানারকম কাজেতে যায় তবেই তাদের অভাব মেটে।
জয়া, জরিনা, জর্জিয়ারাও পড়া ফেলে কাজ করে,
তবু নিত্য অভাবগুলো — তাদের পিছু তাড়া করে।
ওরা কেউ জানে নাকো পনেরোই আগস্ট কাকে বলে,
“স্বাধীনতা” শব্দটা তাই নিয়ন বাতির মতোই জ্বলে!
স্বাদ-হীন জীবন যে তাই — স্বাধীনতার রং ফিকে,
খুঁজলে পাবে এমন অনেক তোমার বাড়ির চারদিকে।
স্বাধীনতার যতো পতাকা পতপতিয়ে ওড়ে ভোরে,
ইঁটভাটাতে রহিম-যদু ঘামতে থাকে কাজের তোড়ে!
ইস্কুলের যতো ছাত্রছাত্রী “বন্দেমাতরম্!” দেয় ধ্বনি,
বাবুর বাড়ি কাজটি করে ফতিমা আর ফুলমণি!
কুচকাওয়াজে ব্যাণ্ড বাজে, “জয় হিন্দ্!” ধ্বনি ওঠে,
কতো শিশু-শ্রমিক তখন কারখানাতে কাজে ছোটে!
বলো “মেরা ভারত মহান!” — ধ্বনি ওঠে বারংবার,
বুদোর দাদু বুড়ো হলেও জানে না মানে স্বাধীনতার!
স্বাধীনতা দিবসেও তাই রাম বা রহিম খাটতে থাকে,
ওরা জানে না “স্বাধীনতা” খেতে হয় না গায়ে মাখে!!