Sudip Ghoshal

গোয়েন্দা উপন্যাস

ভয় নেই অভয় আছে

পর্ব –এক

অভয়বাবু বললেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক কারণেও বিভিন্ন ব্যক্তি সম্পর্কে গোয়েন্দারা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। তাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে বর্তমানে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বেসরকারিভাবে গোয়েন্দাবৃত্তি করছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে কারও গোয়েন্দাবৃত্তি করার বৈধতা নেই।আইন অনুযায়ী এমন কোনও কাজে সরকারের অনুমোদন চাই। রেজিস্ট্রেশন চাই। লোকাল থানার সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখতে হয়। এখন অনুমোদন কম দেওয়া হয়। তবে আমার মার্কিন সার্টিফিকেট এ ব্যাপারে সহায়তা করেছে।আমরা পাবলিকের কাছে টাকা নেব কম, কাজ বেশি করব। তাহলে সংস্থার সকলে সংসার চালাতে পারবে।

অভয়বাবু তার গোয়েন্দা কমিটির নাম রেখেছেন, ভয় নেই অভয় আছে। তোতন তো অত পড়াশোনা জানেনা। তোতনও অভয়বাবুর খুব প্রিয় পাত্র।অনেক গোয়েন্দা নিয়ে নিজে একটা অফিস খুলেছেন। নানা জায়গা প্রয়োজনমত পছন্দের গোয়েন্দাদের পাঠান কাজ অনুসারে। তোতন তার প্রিয় গোয়েন্দা শিক্ষানবীশ। সে সবে গ্রাজুয়েট হয়েছে। কিন্তু তবু তার জানার আগ্রহ অনেক।অভয়বাবু বলেন, গোয়েন্দা নজরদারির জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সন্দেহভাজনের ওপর সরাসরি নজরদারি করা। ফোনে আড়ি পাতা হয় জেনে এখন আর সন্ত্রাসীরা ফোনে কথাবার্তা বলে না। তাই সন্দেহভাজন অপরাধী কখন, কোথায় গেল, সেগুলো উপস্থিত থেকে নজরদারি করলে ভালো ফল দেয়। তবে এ ক্ষেত্রে জনবল প্রধান সমস্যা। বিচারব্যবস্থার সন্ত্রাসবাদবিষয়ক প্রধান বলেন, ফোনে আড়ি পেতে কোনো লাভ হয় না। অপরাধী এখন ফোনে কথা বলে না। তবে সশরীরে উপস্থিত থেকে নজরদারি করা অর্থ ও জনবলের অপচয় এবং বিষয়টি ব্যয়বহুল বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফ্রান্সের সাবেক এক সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা। তাঁর সঙ্গে একমত মার্কিনসহ অন্যান্য দেশের গোয়েন্দারাও। তারা অবশ্য সরকারি গোয়েন্দা। অভয়বাবু বেসরকারি সত্য অন্বেষরণের জন্য গোয়েন্দা সংস্থা গঠন করেছেন। অভয়বাবু মার্কিন দেশে গিয়ে এবিষয়ে পড়াশুনা করেছেন। সর্ববিষয়ে জ্ঞান থাকার প্রয়োজন, খোলা চোখে সবকিছুর স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এখানে আবেগ গৌণ। মুখ্য হল সত্যের অন্বেষণ করা। এই সংস্থায়, লিলিদি, হৈমন্তীদি, সুমন,সৈকত,তোতন ও আরও অনেক গোয়েন্দা ও শিক্ষানবীশ যুবক কাজ করেন। গোয়েন্দাচর্চা করেন। দেশের লোক এই গোয়েন্দা সংস্থার উপর ভরসা রাখেন। অভয়বাবু সংস্থার সকলকে বলেন, খবরে জেনেছিলাম, জমজমাট রহস্য ঘেঁটে সত্যান্বেষণ যাঁদের নেশা এবং পেশা, তাঁদেরই কি না জোগাড় করতে হবে ‘মিথ্যা’তথ্য৷ অভিযোগকারীর মন মতো মনগড়া তথ্য তুলে আনতে না পারায় গোয়েন্দার বিরুদ্ধেই নালিশ হল পুলিশে৷ জটায়ুর ভাষায়‘হাইলি সাসপিশাস’৷ এমন একটি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে টালিগঞ্জ থানার পুলিশ৷ তবে পুলিশের কাছে নালিশ নয়, এক্ষেত্রে বেশি গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীর বক্তব্য৷ গোয়েন্দা সংস্থাটির কাছে অভিযোগকারীর দাবি ছিল, তাঁর পুত্রবধূর অন্য কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে৷ তা নিয়ে হাতে গরম তথ্যপ্রমাণ তুলে আনতে হবে গোয়েন্দাদের৷ সেই মতো তদন্তও শুরু করেন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটররা৷ কিন্ত্ত গোয়েন্দারা বিস্তর খোঁজাখুঁজি করেও তথ্য হাজির করতে না পারায় রেগে গিয়ে মামলা করেন৷ গোয়েন্দা সংস্থাটির বিরুদ্ধেই প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করলেন তিনি৷
তাহলে বুঝলেন, আমাদের কাজ করতে হবে নিরপেক্ষভাবে সত্য,অন্বেষণের জন্য। টাকার লোভে মিথ্যা প্রতারণা নয়, মানুষ খুন নয়। মার্শাল আর্টে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে জয় ছিনিয়ে আনতে হবে। আর সবসময় আপডেট নলেজ রাখতে হবে পৃথিবীর ইতিহাস, ভূগোল। বিজ্ঞান বিষয়ক জ্ঞানে নিজেকে উন্নত করতে হবে।সমাজসেবা হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।
অভয়, সুমন্ত ও তোতন আলোচনায় মগ্ন আজ।
তোতন বলল যে, এই অঙ্কুর কোষ আসলে কি? অঙ্কুর কোষ দিয়ে কি সব অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা যায়? লিলিদি, হৈমন্তিদি সকলে তোতনকে ভালোবাসে বিনয়ী স্বভাবের জন্য।
বিজ্ঞানী দিদি বলেন, প্রথমেই সম্ভাবনার দিকে তাকানো যাক দেশ-বিদেশের বহু বিশেষজ্ঞ মনে করেন অঙ্কুর কোষের গবেষণা পৃথিবীতে রোগবালাইয়ের মুখচ্ছবি একদিন আমূল বদলে দেবে।
নির্মূল করবে ক্যান্সসার থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস।
ক্যান্সার এবং বহু বংশগতীয় অসুখ নিখুঁতভাবে মেরামত করে দেবে এবং তা থেকে ফুসফুস লিভার কিডনি ইত্যাদি বিশেষ করে তা শরীরের মধ্যে নির্দিষ্ট অংশে ইনজেকশনের মাধ্যমে দিয়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করা হবে।বিজ্ঞানী ভোরবেলা হাঁটতে বের হন আর দেখেন তিন চাকার সাইকেলে করে রিপন পড়তে যাচ্ছে তার মাস্টারের কাছে।তিনি রিপন কে ডেকে বললেন আমার ঘরে তুমি মাঝে মাঝে যাবে। আর তোমার সঙ্গে আমার প্রয়োজন আছে। তোমার বাবা-মাকে বলেই আমার ঘরে আসবে।
রিপনের বাবা মা কারণ জিজ্ঞেস করাতে বলল দিদি বললেন যে, ও এলে আমি বিজ্ঞানসম্মত ব্যাপারগুলোকে বোঝাতে পারব এবং আমাদের গল্প হবে। আর ওর রোগের চিকিৎসা করব।
রিপনের মা বললেন, ওর কোন ক্ষতি হবে না তো?
সুমন বললেন, আমাকে সবাই পাগল বলে। তবে আশা করি আপনার ছেলেকে আমি সারিয়ে তুলতে পারব।
রিপনের বাবা মা আলোচনা করে দেখল ছেলেটা এমনিতেই অচল। বেঁচে থেকেও মরার মত। তাই ওরা ঠিক করলেন সুমনবাবুই ওদের শেষ ভরসা। দেখা যাক কি হয়।

রিপন এবার থেকে প্রায় রোজই বিজ্ঞানীর ঘরে আসে এবং খুব কৌতুহলী ওঠে। কিন্তু ও খুব কার্যকরী কথা বলে। ও খুব পড়াশোনায় ভালো। ওর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অচল হলেও পড়াশোনায় খুবই ভালো। এক থেকে দশের মধ্যে ছিল ওর রোল নম্বর।

বিজ্ঞানী কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে একটা নিডল দিয়ে ওর শরীরের হাতে পায়ে তিনি ওষুধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আস্তে আস্তে চিকিৎসা করতেন। আপনি এগুলো কি করছেন?
তোমার ঘাড় সোজা করার চেষ্টা করছি। তোমার হাত-পা সচল করার চেষ্টায় আমি তোমাকে আসতে বলেছি। তোমার বাবা-মাকে সবকথা বলার প্রয়োজন নেই এখন।
যখন তুমি সুস্থ হবে তখন তারা এমনিতেই জেনে যাবে। তাছাড়া আমি ওনাদের পারমিশনও নিয়েছি তোমার চিকিৎসা করার জন্য।

রিপন খুব বুদ্ধিমান ছেলে সে সময় পেলেই দিদির কাছে চলে আসে আর বিজ্ঞান এর সমস্ত কিছু জানতে চায়।

দিদি তার যথাযথ উত্তর দেন এবং তার মাঝেই তার চিকিৎসা চালিয়ে যান অঙ্কুর কোষের মাধ্যমে তার চিকিৎসা চলে।

বিজ্ঞানী, রিপনের নিজস্ব অঙ্গ থেকে দেহকোষ নিয়ে প্রতিস্থাপনযোগ্য যন্ত্রটি তৈরি করেছেন এবং এতে কোনো সমস্যা নেই।
সেক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেছেন তিনি, তা হল কোন অঙ্গ থেকে কেবল সেই অঙ্গ বা তার অংশবিশেষ টি সুস্থ করা যায়।

প্রথমে তিনি হাত থেকেই চিকিৎসা শুরু করেন এবং যথাযথ ফল পেয়ে যান।

তার ফলে তার উৎসহ আরো দ্বিগুণ হয়ে যায় বিজ্ঞানী দেখেন যে রিপন তার হাত নিচে নামাতে পারছে,ওপরে ওঠাতে পারছে।

বিজ্ঞানী বলেন রিপনকে এটা হাট করে সবাইকে বলার দরকার নেই।

যখন তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ হবে তখন আমি নিজে থেকেই এই কথাগুলো সবাইকে বলব।

তোতন আজ আরো অবাক হয়ে গেল রিপন পা নড়াচড়া করছে। সে দেখল নিজে নিজে দাঁড়াতে পারছে। হয়তো বেশিক্ষণ পারছেনা।
কিন্তু আগে তো একবারেই পারত না। হুইল চেয়ারে বসে বসে যাওয়া করত।

কিন্তু এখন সে দাঁড়াতে পারছে।
সে জিজ্ঞেস করল বিজ্ঞানী যে এটা কি করে সম্ভব হল?

বিজ্ঞানী বললেন এসব ক্ষেত্রে আরও সফলভাবে কাজে লাগানো সম্ভব যদি ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন আইভিএফ পদ্ধতি সাহায্যে অর্থাৎ পরীক্ষাগারে রোগী বা রোগীনীর জনন গ্রন্থি তৈরি করা যায়।

রতন বলল হ্যাঁ আপনি যেভাবে বলেছিলেন যে এখন টেস্টটিউববেবী বা নলজাতক এর ব্যাপক সৃষ্টি সম্ভব হচ্ছে। বস্তুত আইডি এতে একসঙ্গে অনেকগুলো এমব্রায়ো তৈরি করতে হয়।।
যার মধ্যে একটি উপযোগী ভ্রূণকে মাতৃগর্ভে স্থাপন করে নলজাতক জন্ম দেওয়া হয়। এগুলো আমি আপনার কাছে শুনেছি।

রিপন বলল তাহলে আপনি কি অবশিষ্ট কোষগুলি থেকে অঙ্কুর কোষ নিষ্কাশন করে অঙ্গ মেরামতি কাজে আপনি সফল হবেন বা রোগ নিরাময় কাজে লাগিয়ে আমাকে সুস্থ করতে পারবেন।

বিজ্ঞানী বললেন মানুষের বা ইঁদুরের কোষ নিষ্কাশন সম্ভব হয়েছে মাত্র কুড়ি বছর আগে। তাই এর ব্যবহার এখনো প্রাথমিকভাবে আছে। তবে বহুবিধ শারীরিক ত্রুটি এবং দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়ে একদিন সফল হবে বলেছেন বিদেশের বিশেষজ্ঞরা।
তুমি নিশ্চিন্ত থাকো আমি চলাফেরা করার মত মোটামুটি সুস্থ তোমাকে করে দিতে পারব।

রিপন বলে এগুলো পৃথিবীর কোথায় কোথায় ভাল রকম গবেষণাগার আছে স্যার।

বিজ্ঞানী বলেন অঙ্কুশ নিয়ে কোথায় কি ধরনের গবেষণা চলছে আমরা জানতে পারি এই বিজ্ঞান পত্রিকার মাধ্যমে।
এদেশে প্রায় 15 টি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অঙ্কুর কোষ গবেষণা তার বাস্তব প্রয়োগ পরীক্ষা চলছে তার মধ্যে রিলায়েন্স লাইফ সাইন্স, হায়দ্রাবাদের এল ভি প্রসাদ ইনস্টিটিউশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল সাইন্সেস, ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজের নাম উল্লেখযোগ্য।

রিপন বলল দিদি, তুমি এত আপডেট, কি করে খবরগুলো পাও।

তিনি বলেন আমার কম্পিউটার আছে। কম্পিউটার মাধ্যমে সব খবরগুলো পাই এবং আমার গবেষণার 40 বছর ধরে চলছে সেই জন্য তোমাকে দিয়ে আমি এই পরীক্ষাটা করতে চাইছি।

রিপন বলছি আপনি যখন সেলগুলো নিচ্ছেন তার আগে এক ঘন্টা আগে আমাকে একটা ইনজেকশন দিচ্ছেন তার ফলে আমি কিন্তু ব্যথা পাচ্ছি না কিছু বুঝতে পারছিনা।

বিজ্ঞানী বললেন হ্যাঁ এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সেইজন্য কাছাকাছি থাকার মাধ্যমে বা এটা কোন নার্সিংহোমে থাকা মাস্ট করা হয়।।
যেহেতু তুমি আমার পাশের বাড়িতে আছো আমি তোমাকে সব সময় দেখতে পারছি চিকিৎসাটা সব সময় চলা উচিত।

রিপন দিদির কথা অনুযায়ী তার মাকে বলল মা আমি সুমন দিদির কাছে এক মাস থাকবো তারপর তোমার কাছে আসবো।

আমি ওখানে পড়াশোনা করে কিছু শিখতে চাই আমি ওখানে পড়াশোনা করছি। সকলে আমাকে খুব ভালোবাসেন।
তার সঙ্গে আমার দেহের চিকিৎসাও চলছে।

রিপনের মা আনন্দের সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন তিনি বললেন ঠিক আছে তোর বাবার পারমিশন নিয়ে আমি তোকে সংবাদ দিয়ে দেব।

তোতন বললেন 61 বছর বয়স্ক এক ব্যক্তির যখন নিলয় থেকে মেরামত করা হয়েছে তারই অস্থিমজ্জা থেকে নেওয়া অঙ্কুর কোষ প্রতিস্থাপন করে কাজটি হয়েছে kaguya-sama মেডিকেল হসপিটালে।

বিজ্ঞানীর সঙ্গে হাবার্ড বিশ্ববিদ্যালয় যোগাযোগ আছে তাদের ভবসাগর রংপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করে ঐতিহাসিক রূপান্তরিত করার উপায় বের করে ফেলেছেন এবং পদ্ধতিতে কম্পিউটারে তিনি দেখতে পাচ্ছেন অসুবিধা হলো তিনি সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করলেন।

বিজ্ঞানী রিপনকে বললেন তবে ইদানিং যেভাবে অঙ্কুর কোষ গবেষণায় হিড়িক পড়ে গেছে। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে নানা প্রতিষ্ঠান। তাতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন একাধিক বিজ্ঞানী। গবেষণায় দক্ষিণ কোরিয়ার নামি এক বিজ্ঞানী জালিয়াতি ফাঁস হওয়ার পর এ ব্যাপারে খবর নিয়েছেন।
তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ ও অনুসন্ধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

প্রায় দু’বছর ধরে বিজ্ঞানী রিপনের শরীরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালালেন, তাদের বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে।

তারপরের রিপনের বাবা-মা দেখলন, নিজেই তার কাজকর্ম করতে পারছে। আর হুইলচেয়ার লাগেনা। সে হাঁটতে পারে। তবে আস্তে আস্তে।
এখনো স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগবে।

রিপনের বাবা মা জানতে চাইলেন কি করে এটা সম্ভব হলো?
আমরা তো বুঝতে পারলাম না আপনি কোন টাকা পয়সাও নেন নি। তাহলে আমরা আপনার কাছে চির ঋণী হয়ে থাকলাম।

বিজ্ঞানী বললেন এটা আমার ব্যবসা নয় আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এটা গবেষণা করছিলাম। আপনার ছেলেকে সুস্থ দেখে আমার নিজেরই ভালো লাগছে।আমার গবেষণা সফল।

তার বাবা-মা জিজ্ঞেস করলো কি করে এটা সম্ভব হলো?

বিজ্ঞানী বললেন, ইঁদুরের কোষ থেকে মোটর নিউরন কোষ তৈরি করে কৃত্রিম উপায়ে শ্রেষ্ঠ পক্ষাঘাতের চিকিৎসার আংশিক ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

আপনার ছেলের ক্ষেত্রে আংশিক সারিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এবার ধীরে ধীরে ও প্রাকটিসের মাধ্যমে, ধারাবাহিক অভ্যাসের ফলে ওর কোষগুলি আরও শক্ত হয়ে যাবে।

এখন বিজ্ঞানী তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা গবেষণার ফলে সেরে ওঠা রিপনকে নিয়ে রোজ ভোরবেলা হাঁটতে বের হন।

সে ধীরে ধীরে হাঁটে দিদির সঙ্গে খুব আনন্দে অবলীলায়।
রিপণ চেয়ে থাকে সবুজ সবুজ ঘাসের ভেতর দিয়ে যে রাস্তাটা চলে গেছে, আনন্দের দিকে আলোর খোঁজে,সেই আলোময় পথের দিকে।টেলিভিশনের পর্দায় এমন দৃশ্য আমরা সবাই দেখেছি৷ মহাকাশে নীল মরুদ্যানের মতো শোভা পাচ্ছে পৃথিবী৷ ‘বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একমাত্র পৃথিবীতেই কি প্রাণের স্পন্দন রয়েছে? নাকি অন্য কোথাও প্রাণের বিকাশ সম্ভব?” এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গত কয়েক বছরে গবেষণা অনেক বেড়ে গেছে৷জার্মানির পটসডাম শহরের বিজ্ঞানীরা সদ্য আবিষ্কৃত বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তু পরীক্ষা করেন৷দূরের এই জগত প্রাণের বিকাশের জন্য কতটা উপযুক্ত? পৃথিবীর সঙ্গে মিল আছে, এমন গ্রহ খোঁজা কেন এত কঠিন?গবেষক ভ্যার্নার ফন ব্লো বলেন, ‘‘এক্সট্রা-সোলার গ্রহ খোঁজার সমস্যা হলো, নক্ষত্রের আলো সংলগ্ন গ্রহের আলোকে পুরোপুরি ম্লান করে দেয়৷ রাতের আকাশে শুধু নক্ষত্রগুলি দেখা যায়, তাদের আশেপাশে গ্রহ থাকলেও সেগুলি দেখা যায় না৷”পৃথিবীর মতো যখন তারা তাদের সূর্যের আলোকে ঢেকে ফেলে৷ তাই মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা কেপলার স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়েছিলেন৷ কেপলার স্যাটেলাইটে দেড় মিটার বড় টেলিস্কোপ ছিল৷ এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল প্রাণের বিকাশের উপযুক্ত গ্রহের সন্ধান করা৷ কোনো গ্রহ তার সূর্যের পাশ দিয়ে যাবার সময় আলো ঢাকা পড়ে যায়৷ অর্থাৎ নক্ষত্রের আলোয় সামান্য তারতম্য ঘটলেই স্যাটেলাইটকে তা টের পেতে হবে৷ তখনই গ্রহ আবিষ্কার করা যায়৷ যেমন আমাদের এই পৃথিবী সূর্য প্রদক্ষিণ করার সময় যে ছায়া সৃষ্টি করে, তার মাত্রা সূর্যের আলোর দশ হাজার গুণেরও কম৷ আরেকটি সমস্যা হলো, নক্ষত্রের উপর গ্রহের ছায়া পড়ার ঘটনা খুবই বিরল।তাই মহাকাশের একটা বড় অংশের উপর নজর রেখেছিল৷ সিগনাস নক্ষত্রপুঞ্জের আশেপাশে প্রায় দেড় লক্ষ নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে নিস্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল টেলিস্কোপ৷ স্যাটেলাইটকে এমন অবস্থান বজায় রাখতে হয়েছে, যাতে প্রত্যেকটি নক্ষত্র ডিটেক্টরে সরে না যায়৷ একমাত্র এভাবেই কেপলার গ্রহের ছায়ার কারণে আলোর সামান্য তারতম্য টের পেয়েছে৷ দূরের এই সব গ্রহে প্রাণের স্পন্দন সম্ভব কিনা, তা দেখার কাজ গবেষকদের৷ এটা অনেকটা নির্ভর করছে নক্ষত্র থেকে গ্রহের দূরত্বের উপর৷ পৃথিবীর মতো সেই গ্রহেও তরলকে তরল থাকতে থাকতে হবে, বাষ্প বা বরফ হয়ে গেলে চলবে না৷ ভ্যার্নার ফন ব্লো বলেন, ‘‘তরল পানি বা জল প্রাণের স্পন্দনের পূর্বশর্ত, যেমনটা পৃথিবীতে ঘটেছিল৷ অন্য কোনো গ্রহের তাপমাত্রা যতি আনুমানিক শূন্য থেকে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে, তখন সেখানে তরল জল থাকা সম্ভব৷ এমন পরিবেশে প্রাণের বিকাশ ঘটা সম্ভব৷”কিন্তু কেপলার আর কারণ গত বছরের আগস্ট মাসে স্যাটেলাইটের দুটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গেছে৷ চোখ ঘোরানোর ক্ষমতা ছাড়া ফোকাস করা সম্ভব নয়৷ অথচ ঠিক তার আগেই অভিযানের সময়কাল আরও ৩ বছর বাড়ানো হয়েছিল৷ কেপলার মোট ১৩৫টি নতুন গ্রহ আবিষ্কার করেছে৷ সবচেয়ে ছোট গ্রহটি আমাদের চাঁদের চেয়ে সামান্য বড়৷ সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার ছিল প্রায় আমাদের মতোই একটি সৌরজগত৷ সেই নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে পৃথিবীর মতো দুটি গ্রহ৷ এমন আদর্শ ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ আর পাওয়া যায়নি৷ তবে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে এমন আরও গ্রহের অস্তিত্ব রয়েছে বলে অনুমান করা হয়৷ ভ্যার্নার ফন ব্লো বলেন, ‘‘কেপলারের আবিষ্কার থেকে মোটামুটি অনুমান করা যায়, মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিতে সম্ভবত ৫,০০০ কোটি গ্রহ রয়েছে৷ তার মধ্যে ৫০ কোটি গ্রহে প্রাণের বিকাশ সম্ভব৷”তবে এই সব গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর মিল কতটা বা সেখানে প্রাণ আছে কিনা, ভবিষ্যতের অভিযানগুলিতে তা জানা আপনার কি প্রায়ই মনে হয় না যে পৃথিবীর বাইরে কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে? অন্য কোনো গ্রহে মানুষের মতো বা ভিন্ন ধরনের প্রাণীর উপস্থিতি সত্যিই আছে? মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) বিজ্ঞানীরা আপনার সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন।যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত নাসার সদর দপ্তরে গবেষকেরা পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অনুসন্ধানে তাঁদের মহাপরিকল্পনার ব্যাপারে সম্প্রতি বিস্তারিত জানিয়েছেন। নাসার একাধিক দূরবীক্ষণযন্ত্র (স্পেস টেলিস্কোপ) এ লক্ষ্যে আগে থেকেই মহাকাশে স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব টেলিস্কোপের সংখ্যা ও তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে।যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক ও জ্যোতির্বিদ সারা সিগার বলেন, অদূর ভবিষ্যতে মানুষ কোনো একটি তারকা দেখিয়ে বলতে পারবে যে সেটি পৃথিবীর মতোই। প্রতিটি ছায়াপথে পৃথিবীর সঙ্গে তুলনীয় বৈশিষ্ট্যের অন্তত একটি গ্রহ থাকার সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা।পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধানে নাসার মহাপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিশেষ কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) উৎক্ষেপণ ও স্পেস টেলিস্কোপ স্থাপনের মতো উদ্যোগ। ২০১৭ সালে সৌরজগতের বাইরের নক্ষত্র পর্যবেক্ষণে উৎক্ষেপণ করা হবে কৃত্রিম উপগ্রহ ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভেয়িং স্যাটেলাইট (টিইএসএস)। পরের বছরই মহাকাশে স্থাপন করা হবে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। আর পরবর্তী এক দশকের মধ্যে ওয়াইড ফিল্ড ইনফ্রারেড সার্ভে টেলিস্কোপ-অ্যাস্ট্রোফিজিকস ফোকাসড টেলিস্কোপ অ্যাসেট (ডব্লিউএফআইআরএসটি-এএফটিএ) পাঠানোর প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।নাসার ওই স্পেস টেলিস্কোপগুলো সৌরজগতের বাইরের গ্রহের খোঁজ করবে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত জানাতে পারবে। ফলে সেসব গ্রহের জলবায়ু ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে। নাসার বিজ্ঞান অভিযান অধিদপ্তরের সহযোগী পরিচালক ও মহাকাশচারী জন গ্রান্সফেল্ড বলেন, গ্রহ খুঁজে পেতে নাসা যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, সেগুলো বাস্তবের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ও অন্যান্য প্রযুক্তি নিয়ে এখনই কাজ চলছে। তাই বিষয়টিকে স্বপ্ন বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।২০০৯ সালে কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ স্থাপনের পর থেকেই সৌরজগতের বাইরের গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে মানুষ নতুন অনেক কিছু জানতে পেরেছে। সৌরজগতের বাইরে অন্তত পাঁচ হাজার গ্রহ রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে এক হাজার ৭০০ গ্রহের অস্তিত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।কেপলার স্পেস টেলিস্কোপই প্রথম পৃথিবীসদৃশ অন্য গ্রহের খোঁজ দিয়েছে।ওই গ্রহে তরল পানি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে অবস্থিত স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ম্যাট মাউনটেইন বলেন, ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেলে সেটি হবে সত্যিই চমকপ্রদ ব্যাপার। সেই কাঙ্ক্ষিত আবিষ্কারের মুহূর্তে পৃথিবী ও মানবজাতি জেগে উঠবে। মহাবিশ্বে পৃথিবীর একাকিত্বের অবসানও ঘটবে তখন। বায়ুমণ্ডল থেকে পৃষ্ঠে অবতরণে এর ৭ মিনিট সময় লেগেছে। লাল মাটির গ্রহে’ পা রেখেই ইনসাইট মিশনের এ রোবটটি ছবি ও তথ্য পাঠানো শুরু করেছে, জানিয়েছে বিবিসি।কম্পনের তথ্য ও তাপমাত্রা থেকে মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো বিষয়ে ধারণা নিতেই এ অভিযান চালাচ্ছে নাসা। মার্কিন এ মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি জানায়, গ্রিনিচ মান সময় সোমবার রাত ৭টা ৫৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৫৩ মিনিটে) ইনসাইটের এ রোবটটি মঙ্গলে নামে। অবতরণের পরপরই মিশনটির নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ক্যালিফোর্নিয়ার জেট প্রোপালশান ল্যাবরেটরির (জেপিএল) বিজ্ঞানীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।নাসার প্রধান প্রশাসক জেমস ব্রিডেনস্টাইন ইনসাইটের সফল ‘ল্যান্ডিংয়ের’ এ দিনটিকে ‘অভূতপূর্ব’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। ফোনে বিজ্ঞানীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ডট্রাম্প ওরোবটটি এখন মঙ্গলের বিস্তৃত, সমতল একটি অঞ্চলে অবস্থান করছে; নিরক্ষরেখার কাছের ওই এলাকাটিকে ‘এলিসিয়াম প্ল্যানেসিয়া’ নামে ডাকা হচ্ছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময়ও এর গতি ছিল তীব্র বেগে ছুটে যাওয়া বুলেটের চেয়ে বেশি। চ্যালেঞ্জটা ছিল এরপরই- গতি কমিয়ে মঙ্গলপৃষ্ঠে নিরাপদে অবতরণের।একটি তাপনিরোধক যন্ত্র, প্যারাসুট আর রকেটের সমন্বয়ে মিনিট সাতেকের মধ্যেই সেই চ্যালেঞ্জ উৎরে যায় ইনসাইট। নাসা জানিয়েছে, তারা রোবটে থাকা ফরাসী-ব্রিটিশ সিসমোমিটার দিয়ে মঙ্গলের কম্পনের তথ্য জানতে চায়। এর মাধ্যমে লাল গ্রহটির কেন্দ্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। জানা যাবে, মঙ্গলের ভূ-অভ্যন্তরে থাকা বস্তুর কাঠামো সম্পর্কেও।গ্রহটি নিজের অক্ষের চারপাশে কীভাবে কম্পিত হয় তা জানতে ইনসাইটের রোবটটিতে রাখা হয়েছে রেডিও ট্রান্সমিশন সিস্টেমও।মঙ্গল এখন কতখানি সক্রিয় তা বুঝতে লাল এ গ্রহের মাটিও খুঁড়তে চায় নাসা। সে কারণেই রোবটের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ৫ মিটার পর্যন্ত খননে পারদর্শী এমন যন্ত্রও। আমাকে একদিন বললেন, আমার খুব বিপদ।
আমি বললাম, ক কি হয়েছে ?

তিনি বললেন, আমাদের গ্রামের সামনে একটা পুরোনো বাড়ি আছে ।জমি থেকে ভূতের চিৎকার গ্রামের লোকদের ভয়ে গ্রাম থেকে চলে যেতে বাধ্য করছে ।

ভূতের আক্রমণে এ পর্যন্ত কুড়ি জন লোক মারা গেছেন।

আমি মহা সমস্যার মধ্যে পর লাম । জানি দাদা নেই । তবু দিদি কে ফোন করলাম । দিদি রাজী হলেন । হবেন না কেন ,তিনি তো একাই একশ জনের বুদ্ধি ও শক্তির মালিক । অনেক অভিযানের প্রত্যক্ষ প্রমাণ ।

প্রায় পাঁচ ঘন্টা পরে আমরা শালার স্টেশনে নামলাম । পরিচিত বন্ধু প্রবীর কে দেখে সাহস হলো আমার । আমি দিদির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলাম প্রবীর কে ।

প্রবীর আগে চল লো আর আমরা পিছনে ।টোটো গাড়িতে চেপে যাচ্ছি । দুপাশে প্রকৃতির নয়ন ভোলানো রূপ ।

হঠাৎ দেখি একটা ম্যাজিক গাড়ি আমাদের ফলো করছে । দিদি বললেন, কোনো শর্ট কার্ট রাস্তা ধরো । সঙ্গে সঙ্গে টোটো চালক একটা গলি রাস্তায় ঢুকে পরলো ।পিছনের গাড়িটা থেমে গেলো ।

যাইহোক কষ্ট করে আমরা মুর্শিদাবাদ এর
আন্দুলিয়া গ্রামে পৌঁছে গেলাম । যে বাড়িতে ঠাঁই পেলাম সেটি টিনের চাল আর মাটির দেওয়াল ।

খাওয়া বেশ ভালোই হলো । পুকুরের মাছ আর পোস্তর তরকারি । সঙ্গে ছিলো আমের চাটনি ।

খুব গরম পরেছে । আমরা আজকে শুধু ভূতের বাড়িটা দেখে এলাম । বিকালে এক ছাট বৃষ্টি তাপমাত্রা কমিয়ে দিলো ।

রাতে খিচুরি আর ডিমের ওম লেট ।জমেছিলো ভালো । তারপর আমি ও প্রবীর আর উপরে দিদি । ঘুমিয়ে পড়েছি তখন বারো টা হবে ।

সকালে উঠে দেখি এক কান্ড । দুজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে ।
ইতিমধ্যেই দিদি মর্নিং ওয়াক সেরে এসে বস লেন ।তারপর বললেন, ঠিক রাত একটার সময় এরা টিনের চাল তুলে ঘরে ঢুকেছিলো । তারপর মার খেয়ে এই অবস্থা । যাইহোক আমাদের সাবধানে থাকতে হবে ।

এই দুজন লোককে পুলিশ নিয়ে যাবে । আমি থানায় পরিচয় করে তবে এলাম ।

আমি বললাম, দিদি বিভিন্ন রকম আক্রমণ হচ্ছে, তাহলে আজ রাতেও আসবে ।

দিদি বললেন, ওরা আসার আগে আমরা যাবো । ওদের সাথে মোকাবিলা আজ রাতেই হবে ।
তারপর শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা ।দিদির কোনো টেন শন নেই । যত টেনশন বোকা লোকের ।

এদিকে প্রবীর গিয়ে চুপি চুপি দশজন লোক ঠিক করে এলো ।কথায় বলে না ,জল জল গঙ্গা জল, বল বল বুদ্ধি বল আর লোকবল ।

ঠিক রাত বারোটার সময় আমরা সবাই অই ভূতুরে বাড়িতে প্রবেশ করলাম । সবাই সাবধানে পা ফেলছি । বিষাক্ত সাপের অভাব নেই ।
বাড়ি থেকে লাল রক্ত বেরিয়ে আসছে জলের স্রোতে । আমাদের পা ভিজে যাচ্ছে ।
ভিতর থেকে এক বিকট কান্নার সুর । যে কোনো মানুষ ভয় পেতে বাধ্য ।হঠাৎ আমার মাথায় কে যেনো আঘাত করলো ।
আমি জ্ঞান হারালাম ।
তার পর আমার যখন জ্ঞান এলো তখন আমরা সবাই প্রবীরের বাড়িতে ।

দিদি বললেন, এই গ্রাম টি দুস্কৃতিরা দখল করতে চায় । ওরা এখানে নানারকমের নেশার দ্রব্যের কারবার করতে চায় ।

দেখলাম জলের ট্রাঙ্কের ভিতর থেকে লাল জল বেরিয়ে আসছে। সব ওদের সাজানো ব্যাপার ।

আমি দেখলাম আমার মত অনেকেই আহত ।

দিদি সুমন্ত দা কে ফোন করলেন । ঠিকানা দিয়ে এখানে আসার কথা বললেন । জয়ন্ত দা দুদিনের মধ্যেই চলে আসবেন কথা দিলেন । এবার আমাদের জয় নিশ্চিত ।এখন দু দিনের অপেক্ষা ।

ঠিক তিন দিন পরে জয়ন্ত দা চলে এলেন ।
দিদি বললেন, সেদিন রাতে ঝামেলার সময় আমি ওদের দেহে নাইট্রিক অ্যাসিড ছিটিয়ে দিয়েছি । ওরা এখন বাইরে বেরোলেই ধরা পরে যাবে ।

সুমন্ত দা বললেন, আজই ওদের খেল খতম করবো আমরা সবাই একসাথে ।ওরা ট্যাঙ্কে জল লাল করেছে ভয় দেখানো র জন্য। রক্ত মনে করে কেউ যাতে ভয়ে না আসে ।ডি জে চালিয়ে স্টিরিও ফোনিক সাউন্ডে ভূতের কান্নার ক্যাসেটে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে ।

আমরা সবাই ঠিক বারোটার সময় আচমকা হানা দিলাম ভূতুরে বাড়িটায় । আবার সেই দিয়াল বেয়ে লাল রক্ত ।ভূতের কান্না । সবাই ব্যাপারটা বুঝে গেছে তাই কেউ আর ভয় পায় না । সবাই রে রে শব্দে লাঠি নিয়ে যাকে পেলে পেটাতে লাগলো । কারও মাথা ফুলে গিয়ে আলুর মত হলো ।কারও আবার পিঠে পটলের ছাপ ।

একটি ষন্ডা মার্কা লোক সুমন্ত দার মাথায় বন্দুক ধরেছে । বিদ্যুৎ চমকের মত দিদির ক্যারাটের আড়াই প্যাঁচে বন্দুক চলে গেলো জয়ন্ত দার হাতে । পা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দিলেন জয়ন্ত দা ।

সঙ্গে সঙ্গে সব শয়তান গুলো হাত তুলে আত্ম সমর্পণ করলো ।

থানা থেকে আই. সি. এসে ওদের ধর লেন আর যাবার আগে বললেন, পুলিশ বিভাগে আপনাদের মত লোকের প্রয়োজন । শুধু বন্দুক নয় তার সঙ্গে দরকার বিশ্লেষণী ক্ষমতা । নমস্কার ।

লিলি দি বললেন, নমস্কার । গ্রামের লোক এবার শান্তিতে বাস করতে পারবে ।

সুমন্ত দা আমাকে বললেন, ভালো খবর আছে, কাজ করে যান ।

গ্রামবাসীরা বললো, দিদি নমস্কার নেবেন । আপনি তো একাই একশো ।

পর্ব – দুই

এরপর সুমন্তবাবু চলে এলেন তোতনকে নিয়ে নিজের বাড়ি। সেখানে তিনি পড়ান বহু বহু ছাত্রছাত্রীকে তারপর আনন্দে সব ছেলেদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলাই তার কাজ।
কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে তারা যাতে বিজ্ঞানমনস্ক পথে বৈজ্ঞানিক যুক্তি দ্বারা সবকিছু বুঝতে পারে তার চেষ্টা করে যান তিনি। আজ অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছেন তার ঘরে। একজন জিজ্ঞাসা করল, মহাকাশের প্রাণের অস্তিত্ব কি বিশ্বাস করা যায়? তিনি তার বিরাট হল ঘরে তোতন আর ছাত্ররছাত্রীদের নিয়ে বসেন।তিনি বলছেন, টিভির পর্দায় এমন দৃশ্য আমরা সবাই দেখেছি৷ মহাকাশে নীল মরুদ্যানের মতো শোভা পাচ্ছে পৃথিবী৷ তখনই মনে প্রশ্ন জাগে, ‘‘বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একমাত্র পৃথিবীতেই কি প্রাণের স্পন্দন রয়েছে? নাকি অন্য কোথাও প্রাণের বিকাশ সম্ভব?” এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গত কয়েক বছরে গবেষণা অনেক বেড়ে গেছে৷ জার্মানির পটসডাম শহরের বিজ্ঞানীরা সদ্য আবিষ্কৃত বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তু পরীক্ষা করেন৷ তাঁরা জানতে চান, দূরের এই জগত প্রাণের বিকাশের জন্য কতটা উপযুক্ত? পৃথিবীর সঙ্গে মিল আছে, এমন গ্রহ খোঁজা কেন এত কঠিন? গ্রহ গবেষক ভ্যার্নার ফন ব্লো বলেন, ‘‘এক্সট্রা-সোলার গ্রহ খোঁজার সমস্যা হলো, নক্ষত্রের আলো সংলগ্ন গ্রহের আলোকে পুরোপুরি ম্লান করে দেয়৷ রাতের আকাশে শুধু নক্ষত্রগুলি দেখা যায়, তাদের আশেপাশে গ্রহ থাকলেও সেগুলি দেখা যায় না৷”
তিনি বলেন: “মঙ্গলগ্রহে যদি প্রাণের সন্ধান পাওয়াও যায়, সেটি খুবই ক্ষুদ্র আকৃতির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন ধরুন, ব্যাকটেরিয়ার মত।” নতুন গ্ররহ নিয়ে আশা প্রকাশ করছেন বিজ্ঞানীরা।

এবছরের শুরুতে মার্কিন মহাকাশ বিজ্ঞানীদের একটি দল ধারণা প্রকাশ করেন যে তারা যদি মহাকাশে অক্সিজেনের অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে পারেন তাহলে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পেতেও সক্ষম হবেন।

একজন ছাত্ররী বলল, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা পৃথিবীর বাইরে অন্যান্য গ্রহে অক্সিজেন গ্যাস খোঁজার একটি পদ্ধতিও আবিষ্কার করেছেন বলে জানিয়েছেন। এটা কি ঠিক সংবাদ।

সুমন্ততবাবু বললেন, অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) পৃথিবীর অদূরেই একটি ‘বাসযোগ্য’ গ্রহের খোঁজ পেয়েছে বলে জানিয়েছে।গত বছর নাসা দাবি করে নতুন ওই গ্রহ পৃথিবী থেকে ‘মাত্র’ ১০০ আলোকবর্ষ দূরে। পৃথিবীর আকৃতির ওই গ্রহের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিওআই৭০০ডি’। এটি ‘টিওআই৭০০’ নামের একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে।

তোতনও অনেক খবর রাখেন। তিনি বললেন, বিজ্ঞানীরা জানান, টিওআই৭০০ নামের ওই নক্ষত্র ও তাকে প্রদক্ষিণরত তিনটি গ্রহ আবিষ্কার করেছে টেস। এর মধ্যে টিওআই৭০০ডি নক্ষত্রটিকে এমন দূরত্ব থেকে প্রদক্ষিণ করছে, যা ওই সৌরমণ্ডলের বাসযোগ্য অঞ্চল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সূর্যের সঙ্গে পৃথিবীর দূরত্বের বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা। এই দূরত্বে তরল পানির অস্তিত্ব থাকা সম্ভব বলে দাবি করেছে নাসা।মার্কিন মহাকাশ সংস্থার (নাসা) একদল জ্যোতির্বিদ দাবি করছেন, পৃথিবীর মতো আরেকটি গ্রহের খোঁজ মিলেছে। এটি নিজ নক্ষত্রকে যতটুকু দূরে থেকে প্রদক্ষিণ করছে, তা আমাদের পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী দূরত্বের প্রায় সমান। খবর রয়টার্স, এএফপি ও বিবিসির।নাসার ওই বিজ্ঞানীরা আমাদের সৌরজগতের বাইরে পৃথিবী-সদৃশ গ্রহটির সন্ধান পাওয়ার কথা গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন। নতুন চিহ্নিত ওই গ্রহের নাম ফোরফিফটিটুবি। এটি পৃথিবীর চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি বড়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আকৃতি ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যাচাই করে মনে হচ্ছে ওই গ্রহে পাথর, আগ্নেয়গিরি, মহাসাগর ও ‘সূর্যালোক’ থাকতে পারে। তবে সেখানকার মাধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর দ্বিগুণ এবং বছর হয় ৩৮৫ দিনে। গ্রহটির অবস্থান ১ হাজার ৪০০ আলোকবর্ষ দূরে সিগনাস নক্ষত্রমণ্ডলে। এটি যে নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে তা আমাদের সূর্যের সমান হলেও বেশি পুরোনো। এটির বয়স প্রায় ৬০০ কোটি বছর। কিন্তু আমাদের সূর্যটি ৪৬০ কোটি বছরের পুরোনো।

সুমন্তবাবু বললেন, নাসার কেপলার মহাকাশ দূরবীক্ষণযন্ত্রের (স্পেস টেলিস্কোপ) সাহায্যে ওই পৃথিবী-সদৃশ গ্রহ শনাক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল সাময়িকীতে প্রকাশিত হবে।জ্যোতির্বিদেরা মনে করেন, এ আবিষ্কারের ফলে পৃথিবীর বাইরে প্রাণীর বসবাসযোগ্য স্থানের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। নাসার বিজ্ঞানী জন জেনকিনস বলেন, এ পর্যন্ত পৃথিবীর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল পাওয়া গেছে নতুন চিহ্নিত গ্রহটির। এটি নিজ নক্ষত্রের কাছাকাছি বসবাসযোগ্য অঞ্চলে ৬০০ কোটি বছর পার করেছে—এমন ইঙ্গিত অবশ্যই বেশ আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘পৃথিবীর মতো’ গ্রহটি নিজস্ব নক্ষত্র থেকে যে দূরত্বে রয়েছে, তাতে সেখানকার পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা তরল পানি ধারণ করার উপযোগী হতে পারে। আর পরিবেশের এ ধরনের অবস্থায় প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া কঠিন। কেপলার টেলিস্কোপের যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালে। এ প্রকল্পের বিজ্ঞানী জেফ কগলিন বলেন, পৃথিবী-সদৃশ এবং সম-আকৃতির সূর্যের পাশে প্রদক্ষিণরত একটি গ্রহের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি তাঁদের একটি বড় সাফল্য।নতুন চিহ্নিত ওই গ্রহের নক্ষত্রটি আমাদের সূর্যের চেয়ে ১৫০ কোটি বছরের পুরোনো, আকারে ৪ শতাংশ বড় এবং উজ্জ্বলতাও ১০ শতাংশ বেশি। তবে ১ হাজার ৪০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত বলে সেখানে এই পৃথিবী থেকে শিগগিরই কোনো নভোযান পাঠানোর সম্ভাবনা কম। তবু বিজ্ঞানীরা গ্রহটি নিয়ে আরও গবেষণার ব্যাপারে ভীষণ আগ্রহী। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুজান আইগ্রেইন বলেন, কেপলার-ফোরফিফটিটুবির যেসব বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে এটিই এ পর্যন্ত তাঁর জানামতে সবচেয়ে বেশি পৃথিবী-সদৃশ গ্রহ।কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০টি গ্রহের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৪ হাজার ৭০০টি মহাজাগতিক কাঠামোর খোঁজ পেয়েছে, যেগুলো গ্রহ হতেও পারে। এর মধ্যে ১১টি পৃথিবীর কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের এবং সেগুলোর নয়টি সৃর্য-সদৃশ নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। কেপলার টেলিস্কোপ সরাসরি গ্রহগুলোকে দেখতে পায় না। কিন্তু সেগুলো থেকে নিঃসৃত আলোর ছোটখাটো পরিবর্তন পরিমাপ করে বিভিন্ন জটিল কম্পিউটার প্রোগ্রামে বিশ্লেষণ এবং বারবার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শনাক্ত করার চেষ্টা করে।এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মানুষ মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কীনা তা নিয়ে বহু জল্পনা কল্পনা করছে।বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আজকের মত ক্লাস হয়ে গেল সুমন্ত বাবু ছাত্রছাত্রীদের কিছু জলখাবার খেয়ে ছেড়ে দিলেন তারপর বললেন আমি যেদিন বলব সেদিন আবার আসবে আমি ফোনে ডেট বলে দেবো তারপর তোতন খাবার-দাবার জোগাড় করতে লাগল সুমন্ত আপাতত দুজনে থাকেন এখানে আর কেউ থাকে না তারা নিজেরাই নিজেদের না করেন এবার হঠাৎ এক ভদ্রলোক বারেন্দায় ঢুকে বললেন আপনাদের নমস্ককার জানাই। আপনাদের সঙ্গে কথা আছে আমি একটু ভিতরে আসতে পারি কি।

বারান্দায় তিনি ছিলেন। তখন তোতন বলল, ঠিক আছে আসুন ভদ্রলোককে তোতন বললেন, কী অসুবিধা?তোতন ভদ্রলোককে অনেক্ষণ আটকে রেখে তার গ্রাম এবং পরিবেশ সম্পর্কে জেনে নিল। ভদ্রলোক বললেন, আমার নাম নাটুবাবু। এই নামেই সকলে চেনে।

পর্ব -৩

অভয়বাবুর চেম্বারে আজ গ্রামের একটা লোক এসে বলল,আমাদের সেনপাড়ার লোকগুলো আমাদের ওখানে একটা ভূতের উপদ্রবের গুজবে ভয় পাচ্ছে। লোকজন খুব ভয় পাচ্ছে।লোকটি প্যাকেটের টাকা অভুয়বাবুর হাতে দিলেন।

অভয় বললেন, ভূত তো আমি মানি না,কোনও মতেই। তাই আপনার সাহায্য নিতে চাই সুমন্ত বাবু। সুমন্ত সামনে বসে বই পড়ছিলেন। অভয়বাবু বললেন, আপনি যান আর আপনি গেলে এই রহস্যের সমাধান নিশ্চয়ই হবে। তোতনও খুব উৎসাহিত হয়ে সুমন্তবাবুকে বললেন এবং ডাকলেন। তিনি এলেন। তিনি আরো বললেন ঠিক আছে আমরা যাব আগামীকাল। সন্ধ্যার মধ্যেই আমরা আপনার বাড়ি পৌঁছে যাব। আপনি ঠিকানা আর এখানে সবকিছু আপনার পরিচিতি দিয়ে যান। সুমন্তবাবু ও তোতন পরের বিকেলে ট্রেনে চাপলেন। কলকাতা থেক দূরে এক অজ পাড়াগাঁয়ে তাদের যেতে হবে। তোতন বলছে সুমন্তবাবুকে আমি গ্রামের ছেলে। ট্রেনে যেতাম স্কুলে। তারপর পায়ে হাঁটা।তোতন বলে চলেছে তার কথা, ট্রেনে যাওয়া আসা করার সময় কিছু লোক দেখতাম ট্রেনের মেঝেতে বসে থাকতেন স্বছন্দে।তাদের মত আমারও সিটে না বসে মেঝেতে বসার ইচ্ছে হতো।কিন্তু পারতাম না লোকলজ্জার ভয়ে।কি সুন্দর ওরা মেঝেতে পা ছড়িয়ে বসে ঘুগনি খায়।ট্রেনে হরেক রকম খাবার বিক্রি হয়।ওরা দেখতাম টুকটাক মুখ চালিয়ে যেতো।আমি জিভে জল নিয়ে বসে থাকতাম ভদ্র বাবুদের সিটে।তারা হাসতেন না।অপ্রয়োজনে কিছু খেতেন না বা কোনো কথা বলতেন না। ওদের মাঝে গোমড়া মুখে বসে মুখে দুর্গন্ধ হতো।তারপর গানের এৃক বিকেলে আমি বেপরোয়া হয়ে ট্রেনের মেঝেতে ওদের মাঝে বসলাম। লুঙ্গি পরা লোকটা গায়ে মাটির গন্ধ।বেশ হাল্কা হয়ে গেলো মনটা। লোকটা বললো,ভালো করে বসেন। কত আন্তরিক তার ব্যবহার।তারপর ট্রেনের খাবার খেতে শুরু করলাম।প্রথমেই ঝালমুড়ি।পাশের লোকটাও ঝালমুড়ি কিনলেন।খেতে লাগলাম মজা করে। তারপর এলো ঘুগনি,পেয়ারা,গজা,পাঁপড়,লজেন্স ও আরও কত কি। মনে হলো এ যেন কোনো ভোজবাড়ি।খাওয়ার শেষ নাই।যত পারো খাও। মেঝেতে বসার অনেক সুবিধা আছে।আমাদের দেশে গরীবের সংখ্যা বেশি।তাই গরীব লোকের বন্ধুও হয় অনেক।পথেঘাটে ওরা পরস্পরকে চিনে নেয় চোখের পানে চেয়ে।তাই ওদের মাঝে গরীবের দলে নাম লিখিয়ে আমি ভালো থাকি,জ্যোৎস্নায় ভিজি…

সুমন্তবাবু বললেন, তোর এই গুণের জন্যই তোকে ভালবাসি। তোতন বলল,হাওড়া থেকে কাটোয়া। তারপর শিবলুন স্টেশন থেকে টৌটো তে আধঘণ্টা যেতে হবে। কিংবা বড় বাস স্টপেজে নেমে ঢালাই রাস্তা ধরে নবগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিস পেরিয়ে, সর্দার পাড়া পেরিয়ে চলে এলাম ভট্টাচার্য পাড়ায়।পুরোনো মন্দির আর মসজিদ,গির্জা আমার মন টানে। কালের প্রবাহে সেগুলো অক্ষত না থাকলেও পুরোনো শ্যাওলা ধরা কোনো নির্মাণ দেখলেই আমি তার প্রেমে পড়ে যাই।অমরবাবু ছিলেন ষষ্টি তলায়। তিনি মা মঙ্গল চন্ডীর মন্দিরে নিয়ে গেলেন আমাকে।নবগ্রাম অজয় নদীর ধারে অবস্থিত। সবুজে ঘেরা এই গ্রাম।

সুমন্তবাবু জানেন তোতন যার কাছে নিয়ে যায় তার সব খবর জেনে নেয়। তার যোগ্য সহায়ক। নাটুবাবু সময়মত টোটো নিয়ে এসে ওদের গ্রামে নিয়ে এলেন। পরেরদিন সকালে ভ্রমণবিলাসি সুমন্তবাবু বললেন, আপনার এলাকায় আজ শুধু ঘুরব। চলুন আপনি আমাদের সব চিনিয়ে দেবেন পায়ে হেঁটে। নাটুবাবু বলতে শুরু করলেন কবি এবং গাইডের মত গ্রামের পরিচয়। ইনি ভট্টাচার্য পাড়ার রঘুনাথ ব্যানার্জী। তিনি বললেন,মা মঙ্গল চন্ডীর মন্দির অতি প্রাচীন।মায়ের পুজোর পালা পাড়ার সকলের একমাস করে পড়ে।মা দুর্গার পুজোর পালা তিন বছর পর এক একটি পরিবারের দায়ীত্বে আসে।সকলে মিলে পাড়ার পুজো চালায় বছরের পর বছর।হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম বাজারে পাড়ায়।এখানে,ঘোষ,পাল,মুখার্জী পরিবারের বাস। মুখার্জী পাড়ার ধ্রুবনারায়ণ বললেন,আগে মুখুজ্জে পুকুরের পাড়ে শিবপুজো হতো।মন্দির প্রায় দুশো বছরেরে পুরোনো হওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছিলো।কৃষিকাজের সময় জল না হলে আমাদের বাবা, কাকারা শিবলিঙ্গ বাঁধ দিয়ে জলে ডুবিয়ে দিতেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই মেঘ হতো ও বৃষ্টি হতো।মানুষের বিশ্বাসে সবকিছু।

নাটুবাবু বললেন, তারপর গোস্বামী পাড়ায় এলাম। সেখানে বদরী নারায়ণ গোস্বামীর সঙ্গে দেখা করি চলুন।

বদরীবাবু বললেন,আমরা নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর বংশধর। মেয়ের বংশধর,দৌহিত্র বুঝলেন।আমার কাছে বংশলতিকা আছে। আমি বললাম,বলুন, আমি শুনি।তিনি শুরু করলেন,গঙ্গামাতা, তার স্বামী ছিলেন মাধব চট্টোপাধ্যায়, তার ভিটে এটা।তারপর প্রেমানন্দ,অনন্তহরি,পীতাম্বর,গৌরচন্দ্র,লালমোহন,শ্যামসুন্দর,নিকুঞ্জবিহারী,রামরঞ্জন, বংশগোপাল, বদরীনারায়ণ,বিনোদগোপাল।তারপর তিনি মন্দিরের গাত্রে লেখা বংশলতিকা দেখালেন।আমি ছবি তুলে নিলাম।পড়া যাবে নিশ্চয়।
রাধা মাধবের মন্দিরে বারোমাস কানাই, বলাই থাকেন।অগ্রহায়ণ মাসে এই মন্দিরে রাধামাধব আসেন।তখন সারা গ্রামের লোক প্রসাদ পান।

তোতন বলছেন, আমার মনে হচ্ছে এ যেন আমার জন্মস্থান। আমার গ্রাম। স্বপ্নের সুন্দর গ্রামের রাস্তা বাস থেকে নেমেই লাল মোড়াম দিয়ে শুরু ।দুদিকে বড় বড় ইউক্যালিপ্টাস রাস্তায় পরম আদরে ছায়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে । কত রকমের পাখি স্বাগত জানাচ্ছে পথিককে । রাস্তা পারাপারে ব্যস্ত বেজি , শেয়াল আরও অনেক রকমের জীবজন্তু।.চেনা আত্মীয় র মতো অতিথির কাছাকাছি তাদের আনাগোনা । হাঁটতে হাঁটতে এসে যাবে কদতলার মাঠ। তারপর গোকুল পুকুরের জমি, চাঁপপুকুর, সর্দার পাড়া,বেনেপুকুর । ক্রমশ চলে আসবে নতুন পুকুর, ডেঙাপাড়া ,পুজোবাড়ি, দরজা ঘাট, কালী তলা । এখানেই আমার চোদ্দপুরুষের ভিটে । তারপর ষষ্টিতলা ,মঙ্গল চন্ডীর উঠোন , দুর্গা তলার নাটমন্দির । এদিকে গোপালের মন্দির, মহেন্দ্র বিদ্যাপীঠ, তামালের দোকান, সুব্রতর দোকান পেরিয়ে ষষ্ঠী গোরে, রাধা মাধবতলা । গোস্বামী বাড়ি পেরিয়ে মন্ডপতলা । এই মন্ডপতলায় ছোটোবেলায় গাজনের সময় রাক্ষস দেখে ভয় পেয়েছিলাম । সেইসব হারিয়ে যাওয়া রাক্ষস আর ফিরে আসবে না ।কেঁয়াপুকুর,কেষ্টপুকুরের পাড় । তারপর বাজারে পাড়া ,শিব তলা,পেরিয়ে নাপিত পাড়া । এখন নাপিত পাড়াগুলো সেলুনে চলে গেছে । সাতন জেঠু দুপায়ের ফাঁকে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরতেন মাথা ,তারপর চুল বাটি ছাঁটে ফাঁকা । কত আদর আর আব্দারে ভরা থাকতো চুল কাটার বেলা ।এখন সব কিছুই যান্ত্রিক । মাঝে মাঝে কিছু কমবয়সী ছেলেমেয়েকে রোবোট মনে হয় । মুখে হাসি নেই । বেশ জেঠু জেঠু ভাব ।সর্বশেষে বড়পুকুর পেরিয়ে পাকা রাস্তা ধরে ভুলকুড়ি । আর মন্ডপতলার পর রাস্তা চলে গেছে খাঁ পাড়া , কাঁদরের ধার ধরে রায়পাড়া । সেখানেও আছে চন্ডীমন্ডপতলা , কলা বা গান, দুর্গা তলার নাটমন্দির সব কিছুই । পুজোবাড়িতে গোলা পায়রা দেখতে গেলে হাততালি দিই ।শয়ে শয়ে দেশি পায়রার দল উড়ে এসে উৎসব লাগিয়ে দেয়। পুরোনো দিনের বাড়িগুলি এই গ্রামের প্রাণ

সুমন্তবাবু বললেন, বাংলার সব গ্রামের রূপ এক। আমরা একতার সূত্রে বাঁধা।

নাটুবাবু বললেন, তারপর চলে এলাম গ্রামের মন্ডপতলায়। এই গ্রামে আমার জন্ম। লেখিকা সুজাতা ব্যানার্জী এই গ্রামের কন্যা।তার দাদু ছিলেন ডাঃ বিজয় বাবু।এখনও এই বাড়িগুলো গ্রামের সম্পদ।ডানদিকের রাস্তা ধরে হাঁটলেই খাঁ পাড়া। গ্রামের মাঝে গোপাল ঠাকুরের মন্দির,কৃষ্ঞ মন্দির। তারপরেই রক্ষাকালীতলা। কত ধর্মপ্রাণ মানুষের বাস এই গ্রামে। গোপাল মন্দিরের পুজো হয় বাড়ুজ্জে পাড়ায়।গ্রামের গাছ, পাথর,আমার গান আমার প্রাণ।

এবার নাটুবাবু টোটো ডাকলেন। সেখান থেকে অম্বলগ্রাম পাশে রেখে দু কিলোমিটার টোটো রিক্সায় এই গ্রাম। একদম অজ পাড়াগাঁ। মাটির রাস্তা ধরে বাবলার বন পেরিয়ে স্বপ্নের জগতে প্রবেশ করতে হবে।তন্ময়বাবু গবেষক।এন জি ও সসংস্থার প্রধান কারিগর বনের সবকিছু ঘুরিয়ে দেখালেন। তার জগৎ।পশু,প্রাণীদের উন্মুক্ত অঞ্চল।বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে, সেখানে।মা কালীর মূর্তি আছে। কাঁচের ঘরে ইকো সিষ্টেমের জগৎ।কেউটে সাপ, ব্যাঙ থেকে শুরু করে নানারকমের পতঙ্গ যা একটা গ্রামের জমিতে থাকে। বিরাট এক ক্যামেরায় ছবি তুলছেন তন্ময় হয়ে।আমি ঘুরে দেখলাম প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে বানানো রিসর্ট।ওপেন টয়লেট কাম বাথরুম।পাশেই ঈশানী নদী।এই নদীপথে একান্ন সতীপীঠের অন্যতম সতীপীঠ অট্টহাসে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে চায় এন জি ও, নৌকায়। তন্ময়বাবু হাতে সাপ ধরে দেখালেন। শিয়াল,বেজি,সাপ,ভ্যাম আছে। তাছাড়া পাখির প্রজাতি শ খানেক।একটা পুকুর আছে। তার তলায় তৈরি হচ্ছে গ্রন্হাগার।শীতকালে বহু বিদেশী পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন। তন্ময়বাবু বললেন,স্নেক বাইটের কথা ভেবে সমস্ত ব্যবস্থা এখানে করা আছে। ঔষধপত্র সবসময় মজুত থাকে।বর্ষাকালে ঈশানী নদী কিশোরী হয়ে উঠেছে।এই নদীকে মাঝখানে রেখে বেলুনের চাষিরা চাষ করছেন আনন্দে।এখানকার চাষিরা জৈব সার ব্যবহার করেন। কোনো রাসায়নিক সার প্রয়োগ করেন না। এক চাষি বললেন,আমরা সকলে একত্রে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জৈব সার প্রয়োগ করেই আমরা চাষ করবো।তাতে বন্ধু পোকারা মরবে না। ফলনও হয় বেশি। এক এন জি ও সংস্থার পরামর্শে তাদের এই সঠিক সিদ্ধান্ত অন্য চাষিদের অনুকরণযোগ্য।এই এন জি ও সংস্থার যুবকরা গ্রামের ভিতর কুকুরদের নির্বিজকরণ কাজে লেগেছে।একটা লম্বা লাঠির ডগায় সূচ বেঁধে তাতে ওষুধভরে চলছে কাজ।কোনো প্রাণী আহত হলে তার সেবাশুশ্রূষা করেন যুবকবৃন্দ।সাপ ধরতে জানেন এই যুবকবৃন্দ।কোনো গ্রামে কোনো সাপ দেখা গেলে এই যুবকেরা সেটি ধরে নিয়ে এসে তাদের সংরক্ষিত বনে ছেড়ে দেন।এখনও এই যুবকবৃন্দ কাজ করে চলেছেন মানুষ ও প্রাণীজগতকে ভালোবেসে।বর্ষাকালে প্রচুর বিষধর সাপের আনাগোনা এই অঞ্চলে।এখানে পা দিলেই সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন এখানকার কর্মিবৃন্দ।ঘুরে দেখার জন্য গামবুট দেওয়া হয় পর্যটকদের। প্রচুর দেশি বিদেশি গাছ গাছালিতে ভরা এই প্রাঙ্গন। একটি কৃত্রিম জলাধার আছে।তার নিচে লাইব্রেরী রুম তৈরির কাজ চলছে।ওপরে জল নিচে ঘর। কিছুটা তৈরি হয়েছে। শীতকালে প্রচুর পরিযায়ী পাখি এসে হাজির হয়। সেই পাখিদের নিয়েও চলে গবেষণা। তাদের জন্য সব রকমের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হয়।আর একটি জলাধারে বিভিন্ন ধরণের মাছ রাখা হয়। পা ডুবিয়ে জলে দাঁড়িয়ে থাকলে পায়ের চামড়ার মৃত কোষ খায় এইসব বিদেশি মাছেরা। ওপেন বাথরুমে ঈশানীর জল উপলব্ধ।এই রিসর্টগুলিতে সর্বসুখের ব্যবস্থা আছে।শীতকালে অনেক বিদেশি পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন। রাতে থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থাও খুব সুন্দর।বেলুন গ্রামে ঢুকতে গেলে বাবলার বন পেরিয়ে মাটির আদরে হেঁটে যেতে হবে। এখন অবশ্য শিবলুন হল্ট থেকে নেমে বেলুন যাওয়ার পাকা রাস্তা হয়েছে।টোটো,মোটর ভ্যান চলে এই রাস্তা ধরে।চারিদিকে সবুজ ধানক্ষেতে হারিয়ে যায় মন এক অদ্ভূত অনাবিল আনন্দে।বেলুন ইকো ভিলেজ কাটোয়া মহুকুমার গর্ব। লিলিদি বিজ্ঞানী । পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।গোয়েন্দাগিরিও করেন। এটা তার শখ।বুুদ্ধিতেে শান দেন নিয়মিত।খুব কম সময় বাইরে বেরোন।সবসময় নিজের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখেন কখন কিভাবে সমাজের উপকার করা যায়।দিদির বাড়ির একটি ছেলে আছে। তার নাম রিপন রিপন। ঘাড় বাঁকা।সে চলতে ফিরতে পারে না। একটা তিন চাকার রিকশা ছোট থেকে কিনে দেওয়া হয়েছে। তাতেই চেপে যাওয়া আসা করে। কিন্তু রিপন লেখাপড়ায় খুব ভালো তার বুদ্ধি খুব প্রখর।দিদির ঘরে তিনজন সদস্য সুমন বাবু নিজে তার এক চাকর তার দেখাশোনা করে আর একটা কুকুর।কুকুর প্রভুভক্ত প্রাণী। সমানভাবে কুকুরটি খুবই প্রিয় তার। ইঁদুর ধরে দেয় কুকুরটি সুমনবাবুকে।সঙ্গে যে থাকে তার নাম তোতন।। তোতন তাঁর দেখাশোনা করে। সবকিছুই তোতনই করে। লোকের সঙ্গে কথা বলা সব কিছুই সে সামলায়। আজ ভোরে উঠেই দিদির মাথায় একটা চিন্তা বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে। সে তোতনকে বলছে, মহাভারতের আদিপর্বে গল্পটা জানিস। ধৃতরাষ্ট্র পত্নী দু’বছর গর্ভধারণের পর প্রসব করলেন একটি গোলাকার মাংসপিণ্ড।সেটি তুলে দেওয়া হল ঋষি দ্বৈপায়নের হাতে। তার থেকে তিনি 100 টি খন্ডে বিভক্ত করে বিভিন্ন ওষুধি উদ্ভিদে ভিজিয়েএকটি কাপড়ের টুকরো নিয়ে সেগুলির মধ্যে টানা দু’বছর রেখে দিলেন। আজকের টেস্ট টিউব বেবি সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে কোথাও মিল আছে। কারো কারো মতে প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞান খুব উন্নত ছিল।তোতন বললো তাহলে আর্য ঋষিরা কত পণ্ডিত ছিলেন বলুন। তারা নিশ্চয়ই এইসব ব্যাপারে বিজ্ঞানসম্মত উপায়গুলো জানতেন।দিদি আবার বললেন আমাদের পাশের বাড়ি রিপনের রোগ হয়েছে। তার নাম ডাক্তারি ভাষায়, আমিও ট্রফিক লেটারাল স্ক্লোরেসিস সংক্ষেপে এ এল এস।

বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং যার অসহায় শিকার। এমন একটা রোগ যা মস্তিষ্কের নিউরন অর্থাৎ কোষগুলোকে নষ্ট করে দেয়। ফলে প্রচুর অঙ্গ কাজ করে না।
কোষ বেশি অচল হয়ে পড়ে।

4

অভয়বাবু সৈকতদাকে ডেকে পাঠালেন।

এবার সৈকতদা অভয়বাবুর ছাত্র।গ্রামের পাশেই সতী পীঠ ।গাছ আর নদীতে ঘেরা সুন্দর একটি জায়গা ।ওখানে আমার এক সহপাঠী র বাড়ি ।আমি গোয়েন সৈকতকে আর তার বন্ধু সন্দীপকে কে বেড়াতে আসার জন্য বললাম ।আমার প্রস্তাবে ওনারা রাজি হলেন ।ওখানে একটি ছোটো হোটেল আছে ।আমার বন্ধু ওদের সাথে কথা বলে সমস্ত ব্যবস্থা করে দিলেন ।

দুদিন পরে ওনারা এসে অই হোটেলে উঠলেন । কোনো অসুবিধা নেই ।রাউন্দী গ্রামে বেশ কয়েক দিন হলো এক মহিলা সাদা পোশাকে এক নিম গাছের তলায় রং লাগিয়ে এক খোলা আশ্রম সাজিয়ে বসে আছেন । তিনি নানা রকম আশ্চর্য হওয়ার কাজ করে দেখাচ্ছে ন ।

সবাই ভয়ে তাকে চালটা , কলাটা, মুলোটা ভেট দিচ্ছেন । তার সঙ্গে যা নগদ পাচ্ছেন সেটাও নেহাত কম নয় ।তিনি নিজেই নিজেকে ঈশ্বর মনে করছেন। পতনের সময় হলে এই রকম ই হয় । আমার বন্ধু গড়গড় করে কথাগুলো সৈকতদাকে বললো ।
উনি বললেন, ঠিক আছে একদিন সাধু মা কে দেখে আসা যাবে ।

একদিন ঠিক সকাল আটটার সময় প্রচার হয়ে গেলো সাধু মা র. আজ ভর হয়েছে ।
সবার গোপন কথা বলে দিচ্ছেন আর হাত বাড়িয়ে শূন্য স্থান থেকে বাতাসা মন্ডা প্রভৃতি মিষ্টি জাতীয় জিনিস বের করে ভক্ত দের দিচ্ছেন ।

আর সরল ভক্ত রা তারা দুজনেই দূরে দাঁড়িয়ে দেখছেন, সাধুমা কালো ফুল হাতা জামা পড়ে একটা মন্ডা বের করে হাতে দিলেন একজনকে ।

ভক্ত গড় হয়ে প্রণাম করে বলে উঠলো, জয় কালো হাতের জয় ।
সঙ্গে সঙ্গে দালালরা এসে মারতে মারতে তাকে নিয়ে গেলো ।

সৈকত দা বললেন, খবরদার কারও গায়ে হাত তুলবে না ।
দালাল দুটো হাতে লাঠি নিয়ে তেড়ে এলো জয়ন্ত দা র দিকে।

সৈকত দা র চোখের পলক পড়ার মধ্যেই মার কাকে বলে দেখিয়ে দিলেন ।

মেয়েরা হাততালি দিয়ে উঠলো আনন্দে ।

উনি বললেন, সব মেয়েরা আজকে প্রতিজ্ঞা করো ,নিজেদের সুরক্ষা করার জন্য তোমরা এই মার্শাল আর্ট শিখে রাখবে ।

সমস্বরে সবাই বললো, হ্যাঁ আমরা শিখবো ।
ইতিমধ্যেই সৈকতদা চলে গেছেন গাছতলায় । দালালদের বেঁধে রাখা হলো দড়ি দিয়ে ।

তারপর ভন্ড সাধু মা বললেন , কে, লে মেয়ে একঠো কলা খা । বলেই হাত থেকে কলা বের করলেন ।

উনি বললেন, আমি আপেল খাবো । দাও ।
সাধু মা চুপ ।কারণ ওর স্টক টেনে জামা খুলে সবাইকে দেখা লেন সাধু মায়ের ম্যাজিক জামা ।

জামার হাতের সঙ্গে বাঁধা আছে একটা প্লাস্টিকের পাইপ ।বগলের তলা দিয়ে পিঠে বাঁধা পুঁটুলি ।সেখানে বাতাসা মন্ডা কলা ছাড়া আর কিছু নেই । তাহলে আপেল দেবে কি করে ।
এই পাইপ দিয়ে ওপর থেকে গড়িয়ে আসছে এইসব । পাইপ কালো ফুল হাতা জামা দিয়ে ঢাকা ।ফলে কেউ কিছু দেখতে পাচ্ছে না ।

ওনার পা ধরে ভন্ড মহিলা কান্না শুরু করেছে । আর বলছে ,আমি অন্যায় করেছি ।আমাকে মাফ করে দাও । দাদা পুরো দলটাকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন ।

তারপর সবাই কে বললেন, সব কিছু যুক্তি দিয়ে বিচার করবেন ।

পানুহাট গ্রামে আমার বন্ধুর বাড়ি । হঠাৎ বন্ধুর ফোন । আমাদের এখানে একটা বাড়িতে ভূতের ভয়ে কেউ ঢুকতে পারছে না । তুই পারলে চলে আয় ।

আমার এই সব ব্যাপারে খুব আগ্রহ । তাই মাকে বলে বেরিয়ে পড়লাম পানুহাটের উদ্দেশ্য । বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে বললাম, কই তোর ভূত দেখি ।

বন্ধু বললো , রাতের বেলায় তোকে নিয়ে যাবো ।রাতের বেলায় দেখা যাবে ।

দুপুর বেলা ঘুমিয়ে নিলাম ভালো করে ।রাত জাগতে হবে । ভয়ের সঙ্গে একটা কৌতূহল মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে ।

বন্ধু র সঙ্গে বিকালে ঘুরে এলাম । বললাম, চল তো একটু ঘুরে আসি তোর ভূতের বাড়ি থেকে ।জায়গাটা আগে থেকে একবার দেখা দরকার ।

বন্ধু জানে আমার মোবাইলে সেই বিখ্যাত দা আর হৈমন্তী দি র নাম্বার মজুদ আছে। যা মানুষের রক্ষা কবচের মত কাজ করে ।

বন্ধু কথা না বাড়িয়ে আমাকে পোড়ো বাড়িটার কাছে নিয়ে গেলো । দেখলাম বাড়িটার চারপাশে বন জঙ্গলে ঘেরা । বাড়িটার দেওয়ালে ছোট ছোট গাছ শ্যাওলা জন্ম নিয়েছে । ভিতরে ঢুকে দেখি বিরাট উঠোন মধ্যে খানে ।আর তার চারপাশে হাজার দুয়ারীর মত অনেক দরজা । প্রায় আট দশ টি ঘর । তার একটি ঘরের ওপরের ঘরে চারটি ভাঙ্গা লোহার চেয়ার । তার নীচের ঘরে শিকলে তালা মারা । তালাটি পুরোনো জং ধরা ।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম , এই ঘরে কেউ ঢোকে না?
বন্ধু বললো, কত সাপ এর ভিতর বাসা করে আছে জানিস?–+ হ্যাঁ তা তো থাকবেই । যতই হোক পুরোনো বাড়ি তো ।_ ঠিক বারোটার সময় ওপরের ঘরে চেয়ার গুলো হাঁটতে শুরু করে ।

— বলিস কি? চেয়ার কি করে হাঁটবে ।

–তাই তো,আবার নীচের এই তালা দেওয়া ঘরে থাকে চেয়ার ওয়ালার চাকর বাকর রা । তারা ভূত হয়ে এই ঘরে থাকে ।

সবই বোধগম্য হলো ।কিন্তু চেয়ার গুলো হাঁটতে শুরু করে কি করে? কত সাহসী গ্রামবাসী এসে ভূতের মার খেয়ে ফিরে গেছে ।

আমাদের বুদ্ধি যেখানে শেষ সেখান দাদার পথচলা শুরু ।

ঠিক বারোটার সময় আমরা লুকিয়ে চেয়ার চলা দেখতে পেলাম । ঠিক চেয়ার গুলো সরে সরে যাচ্ছে । খুব ভয় পেলাম ।পালিয়ে আসার চেষ্টা করছি কিন্তু পা যেনো কেউ ধরে রেখেছে। ছুটতে পারছি না ।

কোনোরকমে নীচে এসে দেখি তালা মারা ঘরে ভূত গুলো গান করছে আর নাচছে ।
ওদের গানও অদ্ভুত ।
—-এঁরা কাঁরা মন দাঁড়া
পিছনে লাথি নেভে মোমবাতি
পালা পালা কান ঝালাপালা
তোর বাবা পালা হাবা …

আরও কত আবোল তাবোল ভয় ধরার গান ।
রাতে ঘুমোতে পারলাম না । ফোন করে পানুহাটের বন্ধুর বাড়ির ঠিকানা দিয়ে একবার আসার জন্য অনুরোধ করলাম ।এখন ওনাদের প্রতি বাঙালির একটা শ্রদ্ধার ভাব এসে গেছে সুন্দর ভাবে সমস্যার সমাধান করার জন্য। সবার মনে একটা ভরসা এলো ।এবার বিপদ কাটবে ।
ঠিক সকাল দশটার মধ্যেই ওনারা এসে বন্ধু র বাড়িতে চলে এলেন । ওদের নিয়মমতো ওনারা স্নান সেরে খাওয়া দাওয়া করে বিশ্রাম করে নিলেন ।

এবার বললেন, ঠিক রাত বারোটার সময় আমাদের অভিযান শুরু হবে ।
আমাদের সঙ্গে যাবে দশ জন ।দেখা যাক কি হয়? বললেন ।

ঠিক বারোটার সময় আমরা সদল বলে যাত্রা শুরু করলাম । পুরোনো বাড়ি হৈমন্তী দি র পায়ে একটা সাপ পাকিয়ে ধরেছে পা ।দিদি ঈশারায় আমাদের সরে যেতে বললেন । তারপর আস্তে আঘাত না দিয়ে সাপটিকে ধরে নামিয়ে দিলেন মাটিতে । সাপটি ধীরে ধীরে চলে গেলো ।মহিলারা আজ যে সব দিকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে তা দিদিকে দেখলেই বোঝা যায় ।

এরপর দোতলায় উঠে গেলেন । তারা দেখলেন আমরা নীচে আছি ।

দাদা বললেন, সত্য কথা । অই দেখো দিদি চেয়ার চলছে ।
বললেন, ঠিক অই তো চেয়ার হাঁটছে । চলো নীচের ঘরে যাই ।

নীচের ঘরে তালা । লোক দের বললেন, দরজা ভাঙ্গো ।
বলার সঙ্গে সঙ্গে দরজা ভেঙে ফেলা হলো । এবার অবাক হওয়ার পালা ।ঘরের ভিতরে সি সি টি ভি ।দা একটা লাঠি দিয়ে ভেঙে দিলেন । যাতে ওরা না দেখতে পায় ।তারপর দেখলেন ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক সিস্টেমে চলমান শক্তি শালী চুম্বক ।একবার সিলিং এর একদিক থেকে আর একদিকে যাচ্ছে । এরফলে লোহার চেয়ারগুলি সরে সরে যাচ্ছে ।

সুমন্ত দা বললেন ,এদের লোকাল থানার পুলিশ ধরতে পারবেন না । কারণ এদের ফাইল দেখে বোঝা যাচ্ছে এরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীর দল ।লাল বাজারে ফোন করি ।

সব ব্যবস্থা হয়ে গেলে আমরা আড়ালে লুকিয়ে থাকলাম । প্রায় চার ঘন্টা আমরা মশা আর সাপের মাঝে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলাম ।

তারপর দেখলাম কালো কাপড়ে ঢাকা প্রায় দশজন লোক নীচের ঘরে ঢুকলো ।
তারপর একজন বেরিয়ে এসে মেশিন গান ধরে যেখানে সেখানে গুলি চালাতে লাগলো ।আমার পেট ব্যথা শুরু হয়ে গেলো । ভয় পেলেই আমার সমস্যা শুরু হয় ।

ইতিমধ্যেই লালবাজার থেকে দশটি পুলিশ ভ্যান চলে এসেছে । চারদিকে ঘিরে ফেলেছে। গুলির আওয়াজে সন্ত্রাসবাদীরা আত্ম সমর্পণ করতে বাধ্য হলো ।পুলিশ অপরাধী দের গ্রেফতার করে কলকাতা চলে গেলো ।জয়ন্ত দা ওদের এগিয়ে দিলেন ।

গ্রাম বাসীদের কৌতূহল মেটানোর জন্য সুমন্তদা বললেন , ওরা ভয় দেখিয়ে এই পোড়ো বাড়িটা দখল করে ওদের অফিস বানিয়েছিলে ।
একজন বললেন,, চেয়ার হাঁটতো কি করে?
দিদি বললেন, ওটা উচ্চ চৌম্বক শক্তির প্রভাব । একটা সাদা কাগজের নীচে চুম্বক ধরলে দেখা যাবে ওপরের লোহার টুকরো গুলি এদিকে ওদিকে চলতেই থাকবে ।
চুম্বক সরিয়ে নিলে লোহা টুকরো থেমে যাবে ।
সুমন্ত দা বললেন, বিজ্ঞান নির্ভর করার জন্য আমাদের সংগ্রাম সফল হবে যদি মানুষ আমাদের সঙ্গে থাকেন।

মহাশয়ের মুম্বাই থেকে ডাক এলো পরিচালকের কাছ থেকে। তারা কল্প বিজ্ঞানের উপর একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চায় । তাই জয়ন্ত দার উপর লেখা বাছাই এর দায়ীত্ব পরেছে ।তাই তিনি এখন কোলকাতায় নেই ।

এই সময়ে আমার পরিচিত একজন আমাকে একদিন বললেন, আমার খুব বিপদ।
আমি বললাম, কেন কি হয়েছে ?

তিনি বললেন, আমাদের গ্রামের সামনে একটা পুরোনো বাড়ি আছে ।জমিদার আমলের বাড়ি । ওই বাড়ি থেকে ভূতের চিৎকার গ্রামের লোকদের ভয়ে গ্রাম থেকে চলে যেতে বাধ্য করছে ।

ভূতের আক্রমণে এ পর্যন্ত কুড়ি জন লোক মারা গেছেন।

আমি মহা সমস্যার মধ্যে পর লাম । জানি জয়ন্ত দা নেই । তবু কে ফোন করলাম । দিদি রাজী হলেন । হবেন না কেন ,তিনি তো একাই একশ জনের বুদ্ধি ও শক্তির মালিক । অনেক অভিযানের প্রত্যক্ষ প্রমাণ ।

ঠিক সময়ে

প্রায় পাঁচ ঘন্টা পরে আমরা শালার স্টেশনে নাম লাম । পরিচিত বন্ধু প্রবীর কে দেখে সাহস হলো আমার । আমি দিদির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলাম প্রবীর কে ।

প্রবীর আগে চল লো আর আমরা পিছনে ।টোটো গাড়িতে চেপে যাচ্ছি । দুপাশে প্রকৃতির নয়ন ভোলানো রূপ ।

হঠাৎ দেখি একটা ম্যাজিক গাড়ি আমাদের ফলো করছে । দিদি বললেন, কোনো শর্ট কার্ট রাস্তা ধরো । সঙ্গে সঙ্গে টোটো চালক একটা গলি রাস্তায় ঢুকে পরলো ।পিছনের গাড়িটা থেমে গেলো ।

যাইহোক কষ্ট করে আমরা মুর্শিদাবাদ এর
আন্দুলিয়া গ্রামে পৌঁছে গেলাম । যে বাড়িতে ঠাঁই পেলাম সেটি টিনের চাল আর মাটির দেওয়াল ।

খাওয়া বেশ ভালোই হলো । পুকুরের মাছ আর পোস্তর তরকারি । সঙ্গে ছিলো আমের চাটনি ।

খুব গরম পরেছে । আমরা আজকে শুধু ভূতের বাড়িটা দেখে এলাম । বিকালে এক ছাট বৃষ্টি তাপমাত্রা কমিয়ে দিলো ।

রাতে খিচুরি আর ডিমের ওম লেট ।জমেছিলো ভালো । তারপর আমি ও প্রবীর আর উপরে দিদি । ঘুমিয়ে পড়েছি তখন বারো টা হবে ।

সকালে উঠে দেখি এক কান্ড । দুজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে ।
ইতিমধ্যেই দিদি মর্নিং ওয়াক সেরে এসে বস লেন ।তারপর বললেন, ঠিক রাত একটার সময় এরা টিনের চাল তুলে ঘরে ঢুকেছিলো । তারপর মার খেয়ে এই অবস্থা । যাইহোক আমাদের সাবধানে থাকতে হবে ।

এই দুজন লোককে পুলিশ নিয়ে যাবে । আমি থানায় পরিচয় করে তবে এলাম ।

আমি বললাম, দিদি বিভিন্ন রকম আক্রমণ হচ্ছে, তাহলে আজ রাতেও আসবে ।

দিদি বললেন, ওরা আসার আগে আমরা যাবো । ওদের সাথে মোকাবিলা আজ রাতেই হবে ।
তারপর শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা ।দিদির কোনো টেন শন নেই । যত টেনশন বোকা লোকের ।

এদিকে প্রবীর গিয়ে চুপি চুপি দশজন লোক ঠিক করে এলো ।কথায় বলে না ,জল জল গঙ্গা জল, বল বল বুদ্ধি বল আর লোকবল ।

ঠিক রাত বারোটার সময় আমরা সবাই অই ভূতুরে বাড়িতে প্রবেশ করলাম । সবাই সাবধানে পা ফেলছি । বিষাক্ত সাপের অভাব নেই ।
বাড়ি থেকে লাল রক্ত বেরিয়ে আসছে জলের স্রোতে । আমাদের পা ভিজে যাচ্ছে ।
ভিতর থেকে এক বিকট কান্নার সুর । যে কোনো মানুষ ভয় পেতে বাধ্য ।হঠাৎ আমার মাথায় কে যেনো আঘাত করলো ।
আমি জ্ঞান হারালাম ।
তার পর আমার যখন জ্ঞান এলো তখন আমরা সবাই প্রবীরের বাড়িতে ।

দিদি বললেন, এই গ্রাম টি দুস্কৃতিরা দখল করতে চায় । ওরা এখানে নানারকমের নেশার দ্রব্যের কারবার করতে চায় ।

দেখলাম জলের ট্রাঙ্কের ভিতর থেকে লাল জল বেরিয়ে আসছে। সব ওদের সাজানো ব্যাপার ।

আমি দেখলাম আমার মত অনেকেই আহত ।

দিদি সুমন্ত দা কে ফোন করলেন । ঠিকানা দিয়ে এখানে আসার কথা বললেন । সুমন্ত দা দুদিনের মধ্যেই চলে আসবেন কথা দিলেন । এবার আমাদের জয় নিশ্চিত ।এখন দু দিনের অপেক্ষা ।

ঠিক তিন দিন পরে দাদা চলে এলেন ।
দিদি বললেন, সেদিন রাতে ঝামেলার সময় আমি ওদের দেহে নাইট্রিক অ্যাসিড ছিটিয়ে দিয়েছি । ওরা এখন বাইরে বেরোলেই ধরা পরে যাবে ।সমন্ত দা বললেন, আজই ওদের খেল খতম করবো আমরা সবাই একসাথে ।ওরা ট্যাঙ্কে জল লাল করেছে ভয় দেখানো র জন্য। রক্ত মনে করে কেউ যাতে ভয়ে না আসে ।ডি জে চালিয়ে স্টিরিও ফোনিক সাউন্ডে ভূতের কান্নার ক্যাসেটে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে ।

আমরা সবাই ঠিক বারোটার সময় আচমকা হানা দিলাম ভূতুরে বাড়িটায় । আবার সেই দিয়াল বেয়ে লাল রক্ত ।ভূতের কান্না । সবাই ব্যাপারটা বুঝে গেছে তাই কেউ আর ভয় পায় না । সবাই রে রে শব্দে লাঠি নিয়ে যাকে পেলে পেটাতে লাগলো । কারও মাথা ফুলে গিয়ে আলুর মত হলো ।কারও আবার পিঠে পটলের ছাপ ।

একটি ষন্ডা মার্কা লোক জয়ন্ত দার মাথায় বন্দুক ধরেছে । বিদ্যুৎ চমকের মত দিদি ক্যারাটের আড়াই প্যাঁচে বন্দুক চলে গেলো জয়ন্ত দার হাতে । পা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দিলেন জয়ন্ত দা ।

সঙ্গে সঙ্গে সব শয়তান গুলো হাত তুলে আত্ম সমর্পণ করলো ।

থানা থেকে আই. সি. এসে ওদের ধর লেন আর যাবার আগে বললেন, পুলিশ বিভাগে আপনাদের মত লোকের প্রয়োজন । শুধু বন্দুক নয় তার সঙ্গে দরকার বিশ্লেষণী ক্ষমতা । নমস্কার ।

দিদি বললেন, নমস্কার । গ্রামের লোক এবার শান্তিতে বাস করতে পারবে ।সুমন্তদা আমাকে বললেন, ভালো খবর আছে, কাজ করে যান। সুমন্ন্ত ভট্টাচার্য ও সহকারি দিদি খবরের কাগজ পড়ছেন ।সঙ্গে রয়েছে চা ও বিস্কুট ।খবরের কাগজের একটা খবরে চোখ আটকে গেলো জয়ন্ত দার । পুরুলিয়ার এক বাড়ির পাশে একটি পুকুরের পাড়ে একটি ভাঙ্গা পুরোনো বাড়িতে প্রচুর লোকের আনাগোনা ।সেই বাড়িতে রুগিরা তাদের রোগ কাগজে লিখে একটি ছোটো শিশিতে তেল রেখে পুকুরে স্নান করে আসে । তারপর সেই তেল গায়ে মেখে নিলেই সব রোগ ভালো হয়ে যায় ।

দিদি বললেন, এই ব্যাপারে একটু খোঁজ খবর নেওয়া যাক ।

তার পরের দিন দা ও দিদি ব্যাগপত্তর গুছিয়ে রওনা হলেন পুরুলিয়ার রহস্য উদ্ঘাটনের আশায় ।পুরুলিয়া পৌঁছে একটা হোটেলে উঠলেন ।তারপর একটু ঘুরতে বেরোলেন ।

একটি লোক শহরের লোক দেখে দাদা কে জিজ্ঞাসা করলেন, একবার পুরোনো বাড়ির পাশে ঘুরে আসবেন । আপনার কোনো রোগ থাকলে ভালো হয়ে যাবে ।

দাদা বললেন, তাহলে ডাক্তার পথ্য এসব কিছুর দরকার নেই ।

দিদি বললেন, একবার গিয়ে দেখা যাবে ।

লোকটি বললো, তাহলে কাল সকালে আমি আপনাদের এসে নিয়ে যাবো । দাদা বললেন, তাই হবে, নমস্কার ।রাতে দাদা ও দিদি চিন্তা করলেন এটা কি করে সম্ভব । কি বিচিত্র এই সব চালাকির লীলা ।তার পর পরের দিন সকালে দাদা ও হৈমন্তী দি লোকটিকে নিয়ে সেই বিচিত্র স্থান পরিদর্শনে গেলেন। গিয়ে দেখলেন অগুন্তি লোক পুকুরের জলে ডুব দিয়ে পবিত্র তেল মালিশ করছেন।সঙ্গে সঙ্গে দ্বিগুণ উৎসাহে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন আর হাসতে হাসতে উঠে আসছেন ।একটা হোটেলে দাদা ও হৈমন্তী দি থাকার ব্যবস্থা করলেন ও দুদিন থাকার মনস্থ করলেন ।ঘুরে ফিরে দাদা ও দিদি রহস্যময় ঘটনার পুরোপুরি সমাধান করে ফেললেন ।দাদা বললেন, এটা পুরোপুরি মানসিক ব্যাপার ।

লিলিদি বললেন, বিশ্বাসের ফলে মানুষ অনেক অসম্ভব কাজ সহজেই করে ফেলতে পারে ।মানুষের বিশ্বাসের সম্মান করেন জয়ন্ত দা ।কয়েকজন শিক্ষিত গ্রামের লোক সুমন্ত দা র কাছে এসেছেন ।তারা জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে রোগ ভালো হয়ে যাবার গোপন রহস্য কি?এখানকার সাধু বললেন, এখানে এলে মানসিক শক্তিবৃদ্ধির জন্য আমরা ভালো খাবার খেতে বলি। পুজোয় ভালো ভোগের প্রয়োজন হয়।

দাদা বললেন, মানুষ এসে প্রথমে দেখছেন, কত গাড়ি কত মানুষ এখানে হাজির হয়েছেন ।ফলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়ে শক্তির অধিকারী হয়ে যাচ্ছে মানুষ ।
মানুষ ভাবছে এত লোকেরা রোগ ভালো হয়ে যাচ্ছে আর আমার হবে না ।শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস বে ড়ে গিয়ে রোগ মুক্ত হচ্ছে ন মানুষ ।

দাদা বললেন, এতে মানুষের ভালো হচ্ছে । ক্ষতিকর কোনো কিছু হলে আমরা প্রতিবাদ করি । এরা পয়য়া কড়িও নেয় না । তবে প্রকৃত ঘটনা মানুষের জানা প্রয়োজন । অন্ধ কুসংস্কার মানুষকে পিছনে ঠেলে দেয় ফলে সভ্যতা ও পিছিয়ে পড়ে ।আর এখানে দাড়িওয়ালা লোকটাও শিক্ষিত লোক, কথা বলে বোঝা গেলো।

দাদা বলেন, রোগীরা ভালো খাবারের ২০% শর্করা এবং শক্তি আপনার মস্তিষ্কে যায়। মস্তিষ্কের কাজের পুরোটাই নির্ভর করে তার গ্লুকোজের মাত্রার ওপর।শরীরে গ্লুকোজের মাত্রায় হেরফের হলে আপনার মনেও দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা।যেসব খাবার আপনারা খুব পছন্দ সেগুলো খেলে আপনার মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড এরিয়ায়’ ডোপামিন রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আপনার মনে খুশি খুশি ভাব হয়।কিন্তু মস্তিষ্কের শক্তিবৃদ্ধির পাশাপাশি আপনার পেটের দিকেও নজর রাখতে হবে।মানুষের দেহের পরিপাকতন্ত্রে একশো ট্রিলিয়নেরও বেশি অণুজীব বসবাস করে। এরা আপনার মস্তিষ্কের সঙ্গেও সংযোগ রক্ষা করে।মগজের সুস্থতার জন্য এই অণুজীবগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা খুব জরুরি।আসলে, পাকস্থলীকে অনেক সময় ‘দ্বিতীয় মগজ’ বলে ঢাকা হয়।পেটে নানা ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার ঢুকলে এসব অণুজীবের মাধ্যমে তার সুফল মস্তিষ্কে পর্যন্ত পৌঁছায়।মস্তিষ্কের কোষ ফ্যাট অর্থাৎ স্নেহ পদার্থ দিয়ে তৈরি। তাই খাবার থেকে তেল-চর্বি একেবারে বিদায় না করাই ভাল।বাদাম, তেলের বীজ, মাছ ইত্যাদি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে জন্য ভাল।আর খাবার সময় একা একা না খাওয়াই ভাল। সবার সাথে বসে খাবার খেলে তা মস্তিষ্কের জন্য সুফল বয়ে আনে।

সুমন্তবাবু ও তার সহকারি ছাত্রছাত্রীরা তাকে খুব শ্রদ্ধা করেন। ভবিষ্যতে একটা কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

5
অনন্তহরি যাত্রাদলের মহিলা সেজে অভিনয় করে। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। অনন্ত হরি বাবা জমিদার ছিল সেজন্য জমি ছিল অনেক সেই জমি বিক্রি করে তার সংসার চালাত নিজে কিছু আয় করত না তখন তো যাত্রাদলে অভিনয় করলে কোন টাকা পয়সা পাওয়া যেত না সেজন্য জমির উপর ভরসা ছিল তার। জমি বিক্রি করতে করতে শেষ হয়ে গেল আর তখন দেখা দিলো অভাব দুই ছেলে দুই মেয়ে সংসারে না পেতে পাওয়ার অবস্থা। বড় ছেলের বিয়ে হয়েছে বছর দুয়েক হল আর এক ছেলে আর দুই মেয়ে দুই মেয়ের এখনো বিয়ে হয়নি বড় ছেলের নাম সুমন্ত। সুমন্ত আয় করার উদ্দেশ্যে গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল হাওড়া হাওড়া সেখানে স্টেশনে একটা স্টল করল সেই স্টল থেকে তার যোগাযোগ হলো যোগাযোগ করেছে বিহারে গোমোতে চলে গেল। সেখানে সে হোটেল করল এবং হোটেলে ভালো ইনকাম হতে শুরু করল ধীরে ধীরে তার অভাব মিটে গেল এবং বাড়িতে পয়সা পাঠাতে শুরু করল। তারপর যখন বাড়ি আসত তখন কমলালেবু, কলা নিয়ে বাড়ি আসত। সুমন্তর ছেলে মেয়েরা আদর করে বাবাকে ডাকত কমলা বাবা বলে। সুমন্তর পাশের বাড়ির ছেলে সৈকত খুব বুদ্ধিমান ও চালাক। সুমন্তবাবুর কথায় অভয়বাবু সৈকতদাকে ডেকে পাঠালেন।এবার সৈকতদা অভয়বাবুর ছাত্র।গ্রামের পাশেই সতী পীঠ ।গাছ আর নদীতে ঘেরা সুন্দর একটি জায়গা ।ওখানে আমার এক সহপাঠী র বাড়ি ।আমি গোয়েন সৈকতকে আর তার বন্ধু সন্দীপকে কে বেড়াতে আসার জন্য বললাম ।আমার প্রস্তাবে ওনারা রাজি হলেন ।ওখানে একটি ছোটো হোটেল আছে ।আমার বন্ধু ওদের সাথে কথা বলে সমস্ত ব্যবস্থা করে দিলেন ।দুদিন পরে ওনারা এসে অই হোটেলে উঠলেন । কোনো অসুবিধা নেই ।রাউন্দী গ্রামে বেশ কয়েক দিন হলো এক মহিলা সাদা পোশাকে এক নিম গাছের তলায় রং লাগিয়ে এক খোলা আশ্রম সাজিয়ে বসে আছেন । তিনি নানা রকম আশ্চর্য হওয়ার কাজ করে দেখাচ্ছেন।সবাই ভয়ে তাকে চালটা , কলাটা, মুলোটা ভেট দিচ্ছেন । তার সঙ্গে যা নগদ পাচ্ছেন সেটাও নেহাত কম নয় ।তিনি নিজেই নিজেকে ঈশ্বর মনে করছেন। পতনের সময় হলে এই রকম ই হয় । আমার বন্ধু গড়গড় করে কথাগুলো সৈকতদাকে বললো। উনি বললেন, ঠিক আছে একদিন সাধু মা কে দেখে আসা যাবে ।একদিন ঠিক সকাল আটটার সময় প্রচার হয়ে গেলো সাধু মা র. আজ ভর হয়েছে ।
সবার গোপন কথা বলে দিচ্ছেন আর হাত বাড়িয়ে শূন্য স্থান থেকে বাতাসা মন্ডা প্রভৃতি মিষ্টি জাতীয় জিনিস বের করে ভক্ত দের দিচ্ছেন ।

আর সরল ভক্ত রা তারা দুজনেই দূরে দাঁড়িয়ে দেখছেন, সাধুমা কালো ফুল হাতা জামা পড়ে একটা মন্ডা বের করে হাতে দিলেন একজনকে ।

ভক্ত গড় হয়ে প্রণাম করে বলে উঠলো, জয় কালো হাতের জয় ।
সঙ্গে সঙ্গে দালালরা এসে মারতে মারতে তাকে নিয়ে গেলো ।

সৈকত দা বললেন, খবরদার কারও গায়ে হাত তুলবে না ।
দালাল দুটো হাতে লাঠি নিয়ে তেড়ে এলো জয়ন্ত দা র দিকে।

সৈকত দা র চোখের পলক পড়ার মধ্যেই মার কাকে বলে দেখিয়ে দিলেন ।

মেয়েরা হাততালি দিয়ে উঠলো আনন্দে ।

উনি বললেন, সব মেয়েরা আজকে প্রতিজ্ঞা করো ,নিজেদের সুরক্ষা করার জন্য তোমরা এই মার্শাল আর্ট শিখে রাখবে ।

সমস্বরে সবাই বললো, হ্যাঁ আমরা শিখবো ।
ইতিমধ্যেই সৈকতদা চলে গেছেন গাছতলায় । দালালদের বেঁধে রাখা হলো দড়ি দিয়ে ।

তারপর ভন্ড সাধু মা বললেন , কে, লে মেয়ে একঠো কলা খা । বলেই হাত থেকে কলা বের করলেন ।

উনি বললেন, আমি আপেল খাবো । দাও ।
সাধু মা চুপ ।কারণ ওর স্টক টেনে জামা খুলে সবাইকে দেখা লেন সাধু মায়ের ম্যাজিক জামা ।

জামার হাতের সঙ্গে বাঁধা আছে একটা প্লাস্টিকের পাইপ ।বগলের তলা দিয়ে পিঠে বাঁধা পুঁটুলি ।সেখানে বাতাসা মন্ডা কলা ছাড়া আর কিছু নেই । তাহলে আপেল দেবে কি করে ।
এই পাইপ দিয়ে ওপর থেকে গড়িয়ে আসছে এইসব । পাইপ কালো ফুল হাতা জামা দিয়ে ঢাকা ।ফলে কেউ কিছু দেখতে পাচ্ছে না ।

ওনার পা ধরে ভন্ড মহিলা কান্না শুরু করেছে । আর বলছে ,আমি অন্যায় করেছি ।আমাকে মাফ করে দাও । দাদা পুরো দলটাকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন ।

তারপর সবাই কে বললেন, সব কিছু যুক্তি দিয়ে বিচার করবেন ।

পানুহাট গ্রামে আমার বন্ধুর বাড়ি । হঠাৎ বন্ধুর ফোন । আমাদের এখানে একটা বাড়িতে ভূতের ভয়ে কেউ ঢুকতে পারছে না । তুই পারলে চলে আয় ।

আমার এই সব ব্যাপারে খুব আগ্রহ । তাই মাকে বলে বেরিয়ে পড়লাম পানুহাটের উদ্দেশ্য । বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে বললাম, কই তোর ভূত দেখি ।

বন্ধু বললো , রাতের বেলায় তোকে নিয়ে যাবো ।রাতের বেলায় দেখা যাবে ।

দুপুর বেলা ঘুমিয়ে নিলাম ভালো করে ।রাত জাগতে হবে । ভয়ের সঙ্গে একটা কৌতূহল মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে ।

বন্ধু র সঙ্গে বিকালে ঘুরে এলাম । বললাম, চল তো একটু ঘুরে আসি তোর ভূতের বাড়ি থেকে ।জায়গাটা আগে থেকে একবার দেখা দরকার ।

বন্ধু জানে আমার মোবাইলে সেই বিখ্যাত দা আর হৈমন্তী দি র নাম্বার মজুদ আছে। যা মানুষের রক্ষা কবচের মত কাজ করে ।

বন্ধু কথা না বাড়িয়ে আমাকে পোড়ো বাড়িটার কাছে নিয়ে গেলো । দেখলাম বাড়িটার চারপাশে বন জঙ্গলে ঘেরা । বাড়িটার দেওয়ালে ছোট ছোট গাছ শ্যাওলা জন্ম নিয়েছে । ভিতরে ঢুকে দেখি বিরাট উঠোন মধ্যে খানে ।আর তার চারপাশে হাজার দুয়ারীর মত অনেক দরজা । প্রায় আট দশ টি ঘর । তার একটি ঘরের ওপরের ঘরে চারটি ভাঙ্গা লোহার চেয়ার । তার নীচের ঘরে শিকলে তালা মারা । তালাটি পুরোনো জং ধরা ।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম , এই ঘরে কেউ ঢোকে না?
বন্ধু বললো, কত সাপ এর ভিতর বাসা করে আছে জানিস?–+ হ্যাঁ তা তো থাকবেই । যতই হোক পুরোনো বাড়ি তো ।_ ঠিক বারোটার সময় ওপরের ঘরে চেয়ার গুলো হাঁটতে শুরু করে ।

— বলিস কি? চেয়ার কি করে হাঁটবে ।

–তাই তো,আবার নীচের এই তালা দেওয়া ঘরে থাকে চেয়ার ওয়ালার চাকর বাকর রা । তারা ভূত হয়ে এই ঘরে থাকে ।

সবই বোধগম্য হলো ।কিন্তু চেয়ার গুলো হাঁটতে শুরু করে কি করে? কত সাহসী গ্রামবাসী এসে ভূতের মার খেয়ে ফিরে গেছে ।

আমাদের বুদ্ধি যেখানে শেষ সেখান দাদার পথচলা শুরু ।

ঠিক বারোটার সময় আমরা লুকিয়ে চেয়ার চলা দেখতে পেলাম । ঠিক চেয়ার গুলো সরে সরে যাচ্ছে । খুব ভয় পেলাম ।পালিয়ে আসার চেষ্টা করছি কিন্তু পা যেনো কেউ ধরে রেখেছে। ছুটতে পারছি না ।

কোনোরকমে নীচে এসে দেখি তালা মারা ঘরে ভূত গুলো গান করছে আর নাচছে ।
ওদের গানও অদ্ভুত ।
—-এঁরা কাঁরা মন দাঁড়া
পিছনে লাথি নেভে মোমবাতি
পালা পালা কান ঝালাপালা
তোর বাবা পালা হাবা …

আরও কত আবোল তাবোল ভয় ধরার গান ।
রাতে ঘুমোতে পারলাম না । ফোন করে পানুহাটের বন্ধুর বাড়ির ঠিকানা দিয়ে একবার আসার জন্য অনুরোধ করলাম ।এখন ওনাদের প্রতি বাঙালির একটা শ্রদ্ধার ভাব এসে গেছে সুন্দর ভাবে সমস্যার সমাধান করার জন্য। সবার মনে একটা ভরসা এলো ।এবার বিপদ কাটবে ।
ঠিক সকাল দশটার মধ্যেই ওনারা এসে বন্ধু র বাড়িতে চলে এলেন । ওদের নিয়মমতো ওনারা স্নান সেরে খাওয়া দাওয়া করে বিশ্রাম করে নিলেন ।

এবার বললেন, ঠিক রাত বারোটার সময় আমাদের অভিযান শুরু হবে ।
আমাদের সঙ্গে যাবে দশ জন ।দেখা যাক কি হয়? বললেন ।

ঠিক বারোটার সময় আমরা সদল বলে যাত্রা শুরু করলাম । পুরোনো বাড়ি হৈমন্তী দি র পায়ে একটা সাপ পাকিয়ে ধরেছে পা ।দিদি ঈশারায় আমাদের সরে যেতে বললেন । তারপর আস্তে আঘাত না দিয়ে সাপটিকে ধরে নামিয়ে দিলেন মাটিতে । সাপটি ধীরে ধীরে চলে গেলো ।মহিলারা আজ যে সব দিকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে তা দিদিকে দেখলেই বোঝা যায় ।

এরপর দোতলায় উঠে গেলেন । তারা দেখলেন আমরা নীচে আছি ।

দাদা বললেন, সত্য কথা । অই দেখো দিদি চেয়ার চলছে ।
বললেন, ঠিক অই তো চেয়ার হাঁটছে । চলো নীচের ঘরে যাই ।

নীচের ঘরে তালা । লোক দের বললেন, দরজা ভাঙ্গো ।
বলার সঙ্গে সঙ্গে দরজা ভেঙে ফেলা হলো । এবার অবাক হওয়ার পালা ।ঘরের ভিতরে সি সি টি ভি ।দা একটা লাঠি দিয়ে ভেঙে দিলেন । যাতে ওরা না দেখতে পায় ।তারপর দেখলেন ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক সিস্টেমে চলমান শক্তি শালী চুম্বক ।একবার সিলিং এর একদিক থেকে আর একদিকে যাচ্ছে । এরফলে লোহার চেয়ারগুলি সরে সরে যাচ্ছে ।

সুমন্ত দা বললেন ,এদের লোকাল থানার পুলিশ ধরতে পারবেন না । কারণ এদের ফাইল দেখে বোঝা যাচ্ছে এরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীর দল ।লাল বাজারে ফোন করি ।

সব ব্যবস্থা হয়ে গেলে আমরা আড়ালে লুকিয়ে থাকলাম । প্রায় চার ঘন্টা আমরা মশা আর সাপের মাঝে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলাম ।

তারপর দেখলাম কালো কাপড়ে ঢাকা প্রায় দশজন লোক নীচের ঘরে ঢুকলো ।
তারপর একজন বেরিয়ে এসে মেশিন গান ধরে যেখানে সেখানে গুলি চালাতে লাগলো ।আমার পেট ব্যথা শুরু হয়ে গেলো । ভয় পেলেই আমার সমস্যা শুরু হয় ।

ইতিমধ্যেই লালবাজার থেকে দশটি পুলিশ ভ্যান চলে এসেছে । চারদিকে ঘিরে ফেলেছে। গুলির আওয়াজে সন্ত্রাসবাদীরা আত্ম সমর্পণ করতে বাধ্য হলো ।পুলিশ অপরাধী দের গ্রেফতার করে কলকাতা চলে গেলো ।জয়ন্ত দা ওদের এগিয়ে দিলেন ।

গ্রাম বাসীদের কৌতূহল মেটানোর জন্য সুমন্তদা বললেন , ওরা ভয় দেখিয়ে এই পোড়ো বাড়িটা দখল করে ওদের অফিস বানিয়েছিলে ।
একজন বললেন,, চেয়ার হাঁটতো কি করে?
দিদি বললেন, ওটা উচ্চ চৌম্বক শক্তির প্রভাব । একটা সাদা কাগজের নীচে চুম্বক ধরলে দেখা যাবে ওপরের লোহার টুকরো গুলি এদিকে ওদিকে চলতেই থাকবে ।
চুম্বক সরিয়ে নিলে লোহা টুকরো থেমে যাবে ।
সুমন্ত দা বললেন, বিজ্ঞান নির্ভর করার জন্য আমাদের সংগ্রাম সফল হবে যদি মানুষ আমাদের সঙ্গে থাকেন।

মহাশয়ের মুম্বাই থেকে ডাক এলো পরিচালকের কাছ থেকে। তারা কল্প বিজ্ঞানের উপর একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চায় । তাই জয়ন্ত দার উপর লেখা বাছাই এর দায়ীত্ব পরেছে ।তাই তিনি এখন কোলকাতায় নেই ।

এই সময়ে আমার পরিচিত একজন আমাকে একদিন বললেন, আমার খুব বিপদ।
আমি বললাম, কেন কি হয়েছে ?

তিনি বললেন, আমাদের গ্রামের সামনে একটা পুরোনো বাড়ি আছে ।জমিদার আমলের বাড়ি । ওই বাড়ি থেকে ভূতের চিৎকার গ্রামের লোকদের ভয়ে গ্রাম থেকে চলে যেতে বাধ্য করছে ।

ভূতের আক্রমণে এ পর্যন্ত কুড়ি জন লোক মারা গেছেন।

আমি মহা সমস্যার মধ্যে পর লাম । জানি জয়ন্ত দা নেই । তবু কে ফোন করলাম । দিদি রাজী হলেন । হবেন না কেন ,তিনি তো একাই একশ জনের বুদ্ধি ও শক্তির মালিক । অনেক অভিযানের প্রত্যক্ষ প্রমাণ ।

ঠিক সময়ে

প্রায় পাঁচ ঘন্টা পরে আমরা শালার স্টেশনে নাম লাম । পরিচিত বন্ধু প্রবীর কে দেখে সাহস হলো আমার । আমি দিদির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলাম প্রবীর কে ।

প্রবীর আগে চল লো আর আমরা পিছনে ।টোটো গাড়িতে চেপে যাচ্ছি । দুপাশে প্রকৃতির নয়ন ভোলানো রূপ ।

হঠাৎ দেখি একটা ম্যাজিক গাড়ি আমাদের ফলো করছে । দিদি বললেন, কোনো শর্ট কার্ট রাস্তা ধরো । সঙ্গে সঙ্গে টোটো চালক একটা গলি রাস্তায় ঢুকে পরলো ।পিছনের গাড়িটা থেমে গেলো ।

যাইহোক কষ্ট করে আমরা মুর্শিদাবাদ এর
আন্দুলিয়া গ্রামে পৌঁছে গেলাম । যে বাড়িতে ঠাঁই পেলাম সেটি টিনের চাল আর মাটির দেওয়াল ।

খাওয়া বেশ ভালোই হলো । পুকুরের মাছ আর পোস্তর তরকারি । সঙ্গে ছিলো আমের চাটনি ।

খুব গরম পরেছে । আমরা আজকে শুধু ভূতের বাড়িটা দেখে এলাম । বিকালে এক ছাট বৃষ্টি তাপমাত্রা কমিয়ে দিলো ।

রাতে খিচুরি আর ডিমের ওম লেট ।জমেছিলো ভালো । তারপর আমি ও প্রবীর আর উপরে দিদি । ঘুমিয়ে পড়েছি তখন বারো টা হবে ।

সকালে উঠে দেখি এক কান্ড । দুজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে ।
ইতিমধ্যেই দিদি মর্নিং ওয়াক সেরে এসে বস লেন ।তারপর বললেন, ঠিক রাত একটার সময় এরা টিনের চাল তুলে ঘরে ঢুকেছিলো । তারপর মার খেয়ে এই অবস্থা । যাইহোক আমাদের সাবধানে থাকতে হবে ।

এই দুজন লোককে পুলিশ নিয়ে যাবে । আমি থানায় পরিচয় করে তবে এলাম ।

আমি বললাম, দিদি বিভিন্ন রকম আক্রমণ হচ্ছে, তাহলে আজ রাতেও আসবে ।

দিদি বললেন, ওরা আসার আগে আমরা যাবো । ওদের সাথে মোকাবিলা আজ রাতেই হবে ।
তারপর শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা ।দিদির কোনো টেন শন নেই । যত টেনশন বোকা লোকের ।

এদিকে প্রবীর গিয়ে চুপি চুপি দশজন লোক ঠিক করে এলো ।কথায় বলে না ,জল জল গঙ্গা জল, বল বল বুদ্ধি বল আর লোকবল ।

ঠিক রাত বারোটার সময় আমরা সবাই অই ভূতুরে বাড়িতে প্রবেশ করলাম । সবাই সাবধানে পা ফেলছি । বিষাক্ত সাপের অভাব নেই ।
বাড়ি থেকে লাল রক্ত বেরিয়ে আসছে জলের স্রোতে । আমাদের পা ভিজে যাচ্ছে ।
ভিতর থেকে এক বিকট কান্নার সুর । যে কোনো মানুষ ভয় পেতে বাধ্য ।হঠাৎ আমার মাথায় কে যেনো আঘাত করলো ।
আমি জ্ঞান হারালাম ।
তার পর আমার যখন জ্ঞান এলো তখন আমরা সবাই প্রবীরের বাড়িতে ।

দিদি বললেন, এই গ্রাম টি দুস্কৃতিরা দখল করতে চায় । ওরা এখানে নানারকমের নেশার দ্রব্যের কারবার করতে চায় ।

দেখলাম জলের ট্রাঙ্কের ভিতর থেকে লাল জল বেরিয়ে আসছে। সব ওদের সাজানো ব্যাপার ।

আমি দেখলাম আমার মত অনেকেই আহত ।

দিদি সুমন্ত দা কে ফোন করলেন । ঠিকানা দিয়ে এখানে আসার কথা বললেন । সুমন্ত দা দুদিনের মধ্যেই চলে আসবেন কথা দিলেন । এবার আমাদের জয় নিশ্চিত ।এখন দু দিনের অপেক্ষা ।

ঠিক তিন দিন পরে দাদা চলে এলেন ।
দিদি বললেন, সেদিন রাতে ঝামেলার সময় আমি ওদের দেহে নাইট্রিক অ্যাসিড ছিটিয়ে দিয়েছি । ওরা এখন বাইরে বেরোলেই ধরা পরে যাবে ।সমন্ত দা বললেন, আজই ওদের খেল খতম করবো আমরা সবাই একসাথে ।ওরা ট্যাঙ্কে জল লাল করেছে ভয় দেখানো র জন্য। রক্ত মনে করে কেউ যাতে ভয়ে না আসে ।ডি জে চালিয়ে স্টিরিও ফোনিক সাউন্ডে ভূতের কান্নার ক্যাসেটে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে ।

আমরা সবাই ঠিক বারোটার সময় আচমকা হানা দিলাম ভূতুরে বাড়িটায় । আবার সেই দিয়াল বেয়ে লাল রক্ত ।ভূতের কান্না । সবাই ব্যাপারটা বুঝে গেছে তাই কেউ আর ভয় পায় না । সবাই রে রে শব্দে লাঠি নিয়ে যাকে পেলে পেটাতে লাগলো । কারও মাথা ফুলে গিয়ে আলুর মত হলো ।কারও আবার পিঠে পটলের ছাপ ।

একটি ষন্ডা মার্কা লোক জয়ন্ত দার মাথায় বন্দুক ধরেছে । বিদ্যুৎ চমকের মত দিদি ক্যারাটের আড়াই প্যাঁচে বন্দুক চলে গেলো জয়ন্ত দার হাতে । পা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দিলেন জয়ন্ত দা ।

সঙ্গে সঙ্গে সব শয়তান গুলো হাত তুলে আত্ম সমর্পণ করলো ।

থানা থেকে আই. সি. এসে ওদের ধর লেন আর যাবার আগে বললেন, পুলিশ বিভাগে আপনাদের মত লোকের প্রয়োজন । শুধু বন্দুক নয় তার সঙ্গে দরকার বিশ্লেষণী ক্ষমতা । নমস্কার ।

দিদি বললেন, নমস্কার । গ্রামের লোক এবার শান্তিতে বাস করতে পারবে ।সুমন্তদা আমাকে বললেন, ভালো খবর আছে, কাজ করে যান। সুমন্ন্ত ভট্টাচার্য ও সহকারি দিদি খবরের কাগজ পড়ছেন ।সঙ্গে রয়েছে চা ও বিস্কুট ।খবরের কাগজের একটা খবরে চোখ আটকে গেলো জয়ন্ত দার । পুরুলিয়ার এক বাড়ির পাশে একটি পুকুরের পাড়ে একটি ভাঙ্গা পুরোনো বাড়িতে প্রচুর লোকের আনাগোনা ।সেই বাড়িতে রুগিরা তাদের রোগ কাগজে লিখে একটি ছোটো শিশিতে তেল রেখে পুকুরে স্নান করে আসে । তারপর সেই তেল গায়ে মেখে নিলেই সব রোগ ভালো হয়ে যায় ।

দিদি বললেন, এই ব্যাপারে একটু খোঁজ খবর নেওয়া যাক ।

তার পরের দিন দা ও দিদি ব্যাগপত্তর গুছিয়ে রওনা হলেন পুরুলিয়ার রহস্য উদ্ঘাটনের আশায় ।পুরুলিয়া পৌঁছে একটা হোটেলে উঠলেন ।তারপর একটু ঘুরতে বেরোলেন ।

একটি লোক শহরের লোক দেখে দাদা কে জিজ্ঞাসা করলেন, একবার পুরোনো বাড়ির পাশে ঘুরে আসবেন । আপনার কোনো রোগ থাকলে ভালো হয়ে যাবে ।

দাদা বললেন, তাহলে ডাক্তার পথ্য এসব কিছুর দরকার নেই ।

দিদি বললেন, একবার গিয়ে দেখা যাবে ।

লোকটি বললো, তাহলে কাল সকালে আমি আপনাদের এসে নিয়ে যাবো । দাদা বললেন, তাই হবে, নমস্কার ।রাতে দাদা ও দিদি চিন্তা করলেন এটা কি করে সম্ভব । কি বিচিত্র এই সব চালাকির লীলা ।তার পর পরের দিন সকালে দাদা ও হৈমন্তী দি লোকটিকে নিয়ে সেই বিচিত্র স্থান পরিদর্শনে গেলেন। গিয়ে দেখলেন অগুন্তি লোক পুকুরের জলে ডুব দিয়ে পবিত্র তেল মালিশ করছেন।সঙ্গে সঙ্গে দ্বিগুণ উৎসাহে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন আর হাসতে হাসতে উঠে আসছেন ।একটা হোটেলে দাদা ও হৈমন্তী দি থাকার ব্যবস্থা করলেন ও দুদিন থাকার মনস্থ করলেন ।ঘুরে ফিরে দাদা ও দিদি রহস্যময় ঘটনার পুরোপুরি সমাধান করে ফেললেন ।দাদা বললেন, এটা পুরোপুরি মানসিক ব্যাপার ।

লিলিদি বললেন, বিশ্বাসের ফলে মানুষ অনেক অসম্ভব কাজ সহজেই করে ফেলতে পারে ।মানুষের বিশ্বাসের সম্মান করেন জয়ন্ত দা ।কয়েকজন শিক্ষিত গ্রামের লোক সুমন্ত দা র কাছে এসেছেন ।তারা জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে রোগ ভালো হয়ে যাবার গোপন রহস্য কি?এখানকার সাধু বললেন, এখানে এলে মানসিক শক্তিবৃদ্ধির জন্য আমরা ভালো খাবার খেতে বলি। পুজোয় ভালো ভোগের প্রয়োজন হয়।

দাদা বললেন, মানুষ এসে প্রথমে দেখছেন, কত গাড়ি কত মানুষ এখানে হাজির হয়েছেন ।ফলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়ে শক্তির অধিকারী হয়ে যাচ্ছে মানুষ ।
মানুষ ভাবছে এত লোকেরা রোগ ভালো হয়ে যাচ্ছে আর আমার হবে না ।শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস বে ড়ে গিয়ে রোগ মুক্ত হচ্ছে ন মানুষ ।

দাদা বললেন, এতে মানুষের ভালো হচ্ছে । ক্ষতিকর কোনো কিছু হলে আমরা প্রতিবাদ করি । এরা পয়য়া কড়িও নেয় না । তবে প্রকৃত ঘটনা মানুষের জানা প্রয়োজন । অন্ধ কুসংস্কার মানুষকে পিছনে ঠেলে দেয় ফলে সভ্যতা ও পিছিয়ে পড়ে ।আর এখানে দাড়িওয়ালা লোকটাও শিক্ষিত লোক, কথা বলে বোঝা গেলো।

দাদা বলেন, রোগীরা ভালো খাবারের ২০% শর্করা এবং শক্তি আপনার মস্তিষ্কে যায়। মস্তিষ্কের কাজের পুরোটাই নির্ভর করে তার গ্লুকোজের মাত্রার ওপর।শরীরে গ্লুকোজের মাত্রায় হেরফের হলে আপনার মনেও দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা।যেসব খাবার আপনারা খুব পছন্দ সেগুলো খেলে আপনার মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড এরিয়ায়’ ডোপামিন রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আপনার মনে খুশি খুশি ভাব হয়।কিন্তু মস্তিষ্কের শক্তিবৃদ্ধির পাশাপাশি আপনার পেটের দিকেও নজর রাখতে হবে।মানুষের দেহের পরিপাকতন্ত্রে একশো ট্রিলিয়নেরও বেশি অণুজীব বসবাস করে। এরা আপনার মস্তিষ্কের সঙ্গেও সংযোগ রক্ষা করে।মগজের সুস্থতার জন্য এই অণুজীবগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা খুব জরুরি।আসলে, পাকস্থলীকে অনেক সময় ‘দ্বিতীয় মগজ’ বলে ঢাকা হয়।পেটে নানা ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার ঢুকলে এসব অণুজীবের মাধ্যমে তার সুফল মস্তিষ্কে পর্যন্ত পৌঁছায়।মস্তিষ্কের কোষ ফ্যাট অর্থাৎ স্নেহ পদার্থ দিয়ে তৈরি। তাই খাবার থেকে তেল-চর্বি একেবারে বিদায় না করাই ভাল।বাদাম, তেলের বীজ, মাছ ইত্যাদি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে জন্য ভাল।আর খাবার সময় একা একা না খাওয়াই ভাল। সবার সাথে বসে খাবার খেলে তা মস্তিষ্কের জন্য সুফল বয়ে আনে।

সুমন্তবাবু ও তার সহকারি ছাত্রছাত্রীরা তাকে খুব শ্রদ্ধা করেন। ভবিষ্যতে একটা কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

6

ঝিনুক ঘাটা জঙ্গলে একটা ভৌতিক ব্যাপার ঘটেছে। এই ব্যাপারে খোঁজ নিতে অভয়বাবু আজ নিজেই যাবেন সেখানে। ঝিনুক ঘাটার গ্রামে রাত্রি বারোটার পরে দোতলার জানালায় কে যেন সকলের মাথায় আঘাত করে পালাচ্ছে এযাবৎ মোট তিন জনের আঘাত লেগেছে।অভয় বাবু সঙ্গে তোতনকে নিয়ে এসেছেন তারা একজন গ্রামবাসীর বাড়িতে একটা ঘরে থাকলেন । সারাদিন ঘুরে ঘুরে সকলকে আজ রাত্রি জাগার পরামর্শ দিলেন। অভিভাবক হিসেবে বললেন, কেউ ঘুমাবেন না আপনারা সকলে জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে জেগে বসে থাকবেন। এক রাত না ঘুমালে শরীরের এমন কিছু ক্ষতি হয় না।
হব বাবুর কথা মত সবাই আজ রাত্রি জেগে বসে আছেন কখন সেই দৈত্য আসবে দোতলা জানাবে মাথায় আঘাত করবে। ঠিক ফাঁদে পা দিয়েছে চোর। ঠিক বারোটার পরে সাড়ে বারোটা নাগাদ একটি লম্বা লোক এসে জানলা দিয়ে রতনদের বাড়িতে একটা লাঠি নিয়ে আঘাত করতে যাবে, তখনই ঘরের সকলে মিলে সে লাঠি ধরে ফেলে। তারপর অভয় বাবুকে ডাকা হয়। তাড়াতাড়ি তিনি চলে আসেন এবং লোকটিকে বেঁধে রাখা হয়। দেখা যায় যে প্রচন্ড লম্বা লোক।আট ফুটের উপরে উপরে লম্বা লোকটি অসহায় হয়ে বাঁধা পড়েছে।

আটফুট লম্বা লোকটির পা অব্ধি থাকা আলখাল্লা গুটিয়ে দেখেন পায়ের সাথে বাঁশের তৈরি রণপা বাঁধা আছে। অভয়বাবু লোকটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে জানলেন যে তারা মাদক দ্রব্যের চোরাকারবারী এই মাদকদ্রব্যের চোরাকারবার করতে গিয়ে লোকেদের ভূতের ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখে যাতে চোরাকারবারের সুবিধা হয়।
অভয়বাবু বললেন, এই, কতদিন ধরে ব্যবসা চালাচ্ছো?
ধরা পরা লোকটি বলে প্রায় এক বছর ধরে আমরা এই চোরাকারবার চালাচ্ছি।
তোমরা লোকদের আঘাত করছ কেন এরকম ভাবে?
লোকটি বলল আমরা হালকা আঘাত করি কারণ আঘাত না করলে তো ভয় পাবেনা। আর ভয় পেলেই আমাদের সুবিধা হয়।
আমাদের গাড়ি করে ন্যাশনাল হাইরোডে আমরা লরিতে মাদকদ্রব্য পৌঁছে দিই। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা কোন লোককে নিহত করিনি।

অভয় বাবু লোকাল থানার পুলিশ অফিসার কে ফোন করে ডাকলেন তারা এলেন প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই। কারণ গ্রামে জঙ্গলের পথ। পুলিশদের আসতে তাই একটু দেরি হলো তারপর সেই ধরা পড়া লোকটিকে নিয়ে পুলিশ জিপ গাড়ি করে চলে গেল এবং পাঁচ দিন পর গ্রামের সকলে শুনতে পেলেন একটা বড় দল ধরা পড়েছে। তারা চোরাকারবার করে নির্জন জঙ্গলের পথে।

অভয় বাবু তার ভগ্নিপতি কথা কাউকে আজ পর্যন্ত বলেননি। তার নিজের মনে চেপে রেখেছেন। কিন্তু সেই ভগ্নিপতির প্রতি প্রখর দৃষ্টি সজাগ রাখেন। কারণ দলিলপত্র সোনার গহনা সব বাবা রেখে গেছেন চিলেকোঠা ছাদের উপরে সেখানে যেন তারা সন্ধান না পায় সেজন্য লক্ষ্য রাখতে হয় খুব সতর্কভাবে।
অভয় বাবুর বাড়িতে যে সুভাষ বলে ছেলেটি কাজ করত প্রায় কুড়ি বছর ধরে তাকে আনার জন্য অভিভাবক সুভাষের বাড়ি গেলেন।
সুভাষ বলল আমি আর আপনার বাড়ি যাব না তার কারণ আপনার বাড়ি গেলে আমার প্রাণের ভয় আছে।
অভয়বাবু বললেন, সে দায়িত্ব আমার। আমার একটা গোয়েন্দা দল আছে। আমি সবসময় প্রখর দৃষ্টি রাখব।
সুভাষ রাজি হয়ে গেল এবং অভয়বাবুর সঙ্গে চলে এলো আবার সেই পুরনো মালিকের বাড়ি।

7

একবার তোর ছেলে নরেনের কথা ভাবলি না। দেহের খিদে মেটাবার জন্য বছর না ঘুরতেই আবার বিয়ে করলি। বন্ধুকে, রমেন বললো।
—- কি করবো বল। সমাজে নোংরামি করতে আমার ভালো লাগে না। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি প্রশমন তো করতে হবে। নকল সাধু হয়ে লোক ঠকাতে পারবো না। তাই আবার বিয়ে করলাম।
—- ভালো করেছো। এবার সৎমার অত্যাচারে ছেলেটা ভু গবে।শুধু বাতেলা। কালকে তোকে হাড়কাটা গলিতে দেখলাম। বিয়ে করেছিস তবু স্বভাব গেলো না।
—- এই একটু আস্তে কথা বল। বৌ শুনতে পাবে।
— ছি ছি ছি

এই কথা বলে রমেন বেরিয়ে গেলো।

ছেলে নরেন কলেজ থেকে এসে বললো,বাবা পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। আমি কম্পিউটার কোর্সে ভর্তি হবো।
বাবা চুপ করে আছে। সৎমা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বললো, একটা টাকাও পাবি না। আমাদের ভবিষ্যৎ আছে।তোকে আর পড়তে হবে না। নিজেরটা নিজে দেখে নে। তোর খাবার জোগাড় করতে পারবো না। যা বেরো এখান থেকে। মরেও না আপদ।তারপর স্বামীর সামনেই অকথ্য গালাগালি শুরু করলো। স্বামী আসামির মতো চুপসে গেলো ভার্যার ভয়ে।
ছেলে বাবাকে আবার বললো তার স্বপ্নের কথা।
বাবা সমস্ত কথা শুনলো।উত্তর নেই। দ্বিতীয় ভার্যার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে অযোগ্য বাবা। বাবা চুপ করে মাথা নিচু করে রইলো। নরেন বেরিয়ে গেলে সৎমা বললো, বুঝলে বাঁচলাম আমরা। পরের ছেলে থাকলেই ঝামেলা।

নরেন ঠিক করলো সে তার মৃত মায়ের কাছে যাবে। অপমানে তার বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে গেলো। সৎমার এই অপমান সে সহ্য করতে পারলো না। অন্ধকার তার মন অধিকার করে নিলো নিমেষে। আশা হেরে গেলো বিষাদের কাছে।
সে মেঘ হয়ে গেলো মায়ের খোঁজে। সকলে দেখল, ফাঁকা মাঠে নরেনের দেহ পড়ে আছে কিন্তু শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই সকলের দেখল হয়তো নরেনের বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে।

খবরটা ছড়াতে সময় বেশি লাগলো না।অসতীর কানে খবরটা গেলো। তার বদনে তখন গোপন গর্বে গোবরের হাসি।সৎ মা খুব খুশী নরেনের মৃত্যুতে কারণ সে তো বাধা হয়েছিল তার পথে।কিন্তু অভয় বাবুর সন্দেহ দানা বেঁধে উঠল। নরেনের মৃত্যু কিভাবে হল? সকলে বলল শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। শুধু পাশে বমি পড়ে আছে। বমি করেছিল মরার আগে। সন্দেহ করলেন অভয়বাবু এবং লাশটিকে পোস্টমর্টেমের জন্য হাসপাতালে পাঠালেন।

রিপোর্টে খাদ্যে বিষক্রিয়ার সন্ধান পাওয়া গেল তখন অবিভাবক পুলিশকে সমস্ত বিস্তারে বর্ণনা করলেন এবং থানার পুলিশ সৎ মাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেলো। কিন্তু মৃত্যুর সন্দেহজনক এখনো পর্যন্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারা প্রশ্ন করে সৎমার মুখের থেকে জানতে পারল যে বিষ তিনিই মিশিয়েছেন।

পুলিশ বলল কিভাবে খাদ্যে বিষ মিশিয়ে ছেলে বর্ণনা করো।

সৎ মা তখন বললো যে ছেলেটি নরেন মাংস খেতে ভালোবাসতো এবং আমি তার মাংসের ঝোল বিষ মিশিয়ে দিয়ে ছিলাম।

অভয়বাবু খবরটি পেলেন। এখন কোন খবরই তাকে আর তাকে চঞ্চল করে তুলতে পারে না। তার কারণ অভিজ্ঞতার ঝুলি তার এতটাই বেশি যে সব ঘটনা তার জানা আছে। পৃথিবীর কোন মানুষকে তিনি বিশ্বাস করেন না। এইজন্যই তো তিনি গোয়েন্দা। তার সংস্থার নাম, ভয় নেই অভয় আছে।

8
অভয় আজ পৌরাণিক গল্প শোনাচ্ছেন তোতনকে।

অনেক অনেক বছর আগে রাজা সুরথ রাজ্য থেকে স্ত্রী দ্বারা পরাজিত এবং বিতাড়িত হয়ে দুর্গাদেবীর পুজো করেছিলেন। তবে সে পুজো করেছিলেন বসন্তকালে। দুর্গাপুজো বাসন্তীপুজো নামেও পুজো, মহরম, কার্তিক র পর এক উৎসবের এসেছে। উৎসবের অন্যকে আপন করে তটি পদে উৎসবের প্রকৃতির রুদ্ররােষ, অবনতি, অনিশ্চিত পাশাপাশি হরেক অভিহিত হয়ে থাকে। রামচন্দ্রের জন্মের আগে উৎসব ছিল আনন্দ পর্যন্ত। তার পর লঙ্কার রাজা রাবণ যখন কয়ে দেওয়ার একটা শ্রীরামচন্দ্রের পত্নী সীতাকে অপহরণ করেন তখন এ নিয়ে বিতর্ক মধ্যেই নাগিনীরা তাবাদীরা তাদের য়েছে। সময় যত য় বিচ্ছিন্নতাবাদী, পত্নীর উদ্ধারের জন্যে শরৎকালে অকালবোধন করেন রামচন্দ্র। এই দুর্গাপুজো সম্পূর্ণভাবে আর্য উৎসব। আর একদিকে ছিন্নমস্তকের প্রাচুর্য কালীমূর্তিকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় এবং ভয়াবহ করে তুলেছে। | মহিষাসুরমর্দিনী ক্রোধান্বিত রূপ কালীমূর্তির ভয়াবহ ক্ষত্রে অপরাধীরা রূপের তুলনায় শাস্ত। তবে এই দুই দেবী দুষ্কৃতিদের লউরে উঠছেন। বিনাশের জন্যেই আবির্ভূতা হন। সমস্যা একটাই বহু মের শােভাযাত্রা সাধারণ মানুষ প্রশাসন আছে, আধুনিক সমাজ বের আনাচে ছ। তবে, কিছু সেইসব মেঘ ও তাই হােক। আনতে পারবে কাম নয়।

দেবদেবীর আগমনেও পৃথিবীর মানুষ ভরসা পাচ্ছেন দুষ্টি আকর্ষণ করতে পারেননি। ভবিষ্যতে পুজো যত না। দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম বেড়েই চলেছে। তবে বাড়বে উৎসব চলবে। একবিংশ শতাব্দীতে বসে গত পুজোর সঙ্গে শুধুমাত্র মৃৎশিল্পীদের জীবিকা শাতাব্দীর মধ্য পঞ্চাশ ষাটের দশকের সময়বার জড়িয়ে নেই। এর সঙ্গে প্যান্ডেল প্রস্তুতকারক, পুজোর পরিবেশ ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। ফুলের ব্যবসায়ী, ঢাকি, পুরােহিত, বাজার দোকান, এখন থিমপুজোর কল্যাণে খরচের পরিম। অতিথিশালা, পানশালা, রেস্তোরা প্রভৃতি ব্যবসা বৃদ্ধি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন খরচটা কি হয় এবং হাজার হাজার মানুষ এই পুজোর অপেক্ষায় ব্যাপার। শুধু পাড়ার লােকের চাদাতে বড় বড় বসে থাকেন। এছাড়া জগদ্ধাত্রী পুজো, কার্তিক পুজো, মনসা মুসলমানদের মহরম উৎসবে আসে পুজো ও আরও অনেক প্রচলিত পুজোয় মেলার অনেক বেশি জোশ বা আনন্দ বেড়েছে। উৎসব শুরু হয়ে গেলে নাগরদোল্লা, হরেকরকম দোকান পাশারির মাধ্যমে আনন্দ ও ব্যবসা শুরু হয়। অনেক স্থানে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানও হয়ে। ব্যাপারই জড়িয়ে থাকে। এই গুলি বেশিরভাগই সবকিছু বেড়েছে এটা আনন্দের কথা। থাকে।

9

অভয় বললেন সুমনকে,এমন কত ঘটনা আছে শুধু সময়ের উপর নির্ভর করে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। সুমন বললেন, কিরকম, একটু বুঝিয়ে বলুন দাদা।অভয় বললেন, একটা ঘটনা বললে, বুঝতে পারবে আমার কথা।পাড়ার বিজু মাষ্টার স্কুল থেকে ফেরে ঠিক পাঁচটার মধ্যে। কিন্তু তার স্ত্রী খুব চিন্তিত। সাতটা বেজে গেলো এখনও বিজু ফিরে এল না। বিজুর স্ত্রী পাড়ার সব প্রতিবেশীদের বলল,দেখুন আটটা বেজে গেল এখনও আমার স্বামী ঘরে ফেরে নি।
পাড়ার ছেলে অভয় বলল, চিন্তা নেই। আমি আছি। দেখছি ফোন করে। ফোন নাম্বার ছিল তার কাছে। কিন্তু ফোনের রিং হয়ে যাচ্ছে। কোন উত্তর নেই। বার বার বারোবার ফোন করেও কোন উত্তর পাওয়া গেল না। অভয় তার স্ত্রীকে বললেন, সবুর করুন। কোন চিন্তা নেই।

বিজু আর রাজু- মাষ্টার দুই বন্ধু। তারা দুজনে মোটর সাইকেলে স্কুলে যায়। তাই বিজুর স্ত্রী নিশ্চিত হল, রাত আটটা বেজে গেল। তার মানে কোন দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাজু- মাষ্টারমশাইয়ের মোটর সাইকেল আ্যক্সিডেন্ট হয়েছে মনে হয়। ফোন বেজে চলেছে। তারা হয়ত দুজনেই মরে পড়ে আছে।
বিজুর স্ত্রী বাপের বাড়ি থেকে বাবাকে, দাদাকে ডেকে আনল। বাবাকে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, বাবা চল একবার থানায় যাই।
বাবা বললেন, একটু সবুর করি। হয়ত ফিরে আসবে।
ঠিক সাড়ে আটটায় বিজু সমস্ত চিন্তার অবসান ঘটালো।
সবাই দেখল, বিজু দুইহাতে দুটো বড়মাছ ঝুলিয়ে দাঁত কেলিয়ে আসছে।
বিজুকে সবাই রেগে বলল, কি বেআক্কেলে লোক তুমি। কোথায় গেছিলে?
বিজু বলল, মাছ ধরতে গেছিলাম। ফাতনার দিকে তাকিয়ে ফোনের কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছি। রিং হলেও পকেট থেকে বের করেনি রাজুমাষ্টার । আমি বললাম ফোনটা ধরতে।
রাজু মাষ্টার বলল, এখন ফোন নয়। শুধু জল আর ফাতনা। মেছেল আমি। এবার বুঝেঝি বড় রুই ঘাই মারছে। তু দাঁতকেলা, ডিস্টার্ব করিস না। কেলিয়ে দেব। বন্ধু হয়ে শত্রুতা করিস না। দিলি কথা বলে চারঘোলা করে।

বিজুর বৌ রেগে বলল,এই দাঁতকেলা।তোর মাছ, তুই খা। কোন বাপে রেঁধে দেয়,দেখি….

10

আজ রতন ও সৈকত অভয়দাকে বলল,অভয়দা ভূত ও পরকাল সম্বন্ধে আপনার মত কি?
অভয়বাবু বললেন, হ্যাঁ এই ব্যাপারে গোয়েন্দার স্বচ্ছ ধারণা থাকা উচিত। তারপর একটা ক্লাস নিলেন ভূত ও পরকাল বিষয়ে। এই সংস্থায় যুক্ত গোয়েন্দারা অভয়বাবুর কাছে সব বিষয়ে আলোচনা করে মগজের উন্নতি ঘটান। তিনি বলেন, যখন ভয়ের অনুভূতি প্রথম টের পাচ্ছেন, মনে হচ্ছে বুক ধড়ফড় বেড়ে গেছে, অস্থির লাগছে, বমি বমি ভাব হচ্ছে, মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে, দেরি না করে দ্রুত ব্রিদিং রিলাক্সেশন করুন। নাক দিয়ে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন, বুকের ভেতর সমস্ত খালি জায়গা বাতাসে ভরে ফেলুন, দমটা অল্পক্ষণ আটকে রাখুন, তারপর মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এভাবে পর পর তিনবার করুন।ভূতের ভয় থেকে বেড়িয়ে আসতে ভূত এবং ভয় নিয়ে চিন্তা করা বন্ধ করুন।
তোতন বলে, ভূত বলে কিছু রয়েছে কি না? না কি আমরা অজানা কোনো কারণে ভয় পাই?

সুমন বললেন, আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ কখনো ভূত দেখেছে কি না? ক্ষতি হলে তার কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে?

অভয় বললেন, সিনেমায় ভূত, আত্মা এই বিষয়গুলোকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়। ভয়ের সিনেমা, নাটক আমাদের মধ্যে ভূত ও আত্মা সম্পর্কে ভয় তৈরির সাহায্য করে। তাই যদি এ ধরনের সিনেমা, নাটক দেখে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তবে এই ধরনের নাটক, সিনেমা, গল্পের বই এড়িয়ে চলুনভয়কে জয় করতে ভয়ের বিষয়টি সরাসরি ভাবুন, পৃথিবীতে কত মানুষ একা থাকে। ভূত তাদের ক্ষতি না করলে আপনার করবে কেন? আপনার সঙ্গে তো ভূতের বিশেষ কোনো শত্রুতা নেই। প্রথমে আলো জ্বালিয়ে একা ঘরে থাকার অভ্যাস করুন। প্রথমে কষ্ট হবে তারপরও চেষ্টা করুন। প্রথমদিন পারলে নিজেকে নিজে ধন্যবাদ দিন, ছোট পুরস্কার দিন। এভাবে একা থাকায় অভ্যস্ত হলে একা ঘরে আলো নিভিয়ে থাকার পদক্ষেপ নিন। এভাবে ধীরে ধীরে ভয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন।ভয় থেকে মনটাকে অন্য দিকে সরিয়ে দিতে গান শোনা, টিভি দেখা, গল্পের বই পড়ার মতো নিজের ভালোলাগার কাজগুলো করুন। জানালার দিকে তাকালে ভয় হলে জানালা খুলে রাখুন। জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বাইরে দেখুন। জানালার দিকে চোখ পড়লে চোখ বন্ধ না করে তাকান। কিন্তু বার বার তাকিয়ে কিছু রয়েছে কি না সেটি চেক করা থেকে বিরত থাকুন।নিজেকে বলুন যতবার শব্দ শুনে বা আওয়াজে ভয় পেয়েছি, বা বাইরে যা দেখেছি তাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছি।ভূত নিয়ে নানা আশঙ্কার কথা মনে হলে ভাবুন যা ভাবছেন তা যদি সত্যি হয় তবে কি হবে? সবচেয়ে খারাপ কী হতে পারে? এমন হবার আশঙ্কা কতটুকু?যখন ভয় পাচ্ছেন তখন যা ভেবে ভয় পাচ্ছেন তা কাগজে লিখে ফেলুন, লেখা শেষে কাগজ কুটিকুটি করে ছিঁড়ে ফেলুন বা পুড়িয়ে ফেলুন।ভাবুন ভূত বা আত্মা আপনার মতোই। তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কোনো প্রমাণ নেই যে ভূত কারো কখনো ক্ষতি করেছে।অনেক সময় ছোটবেলা থেকে ভূত সম্পর্কে শোনা গল্প আমাদের মনে ভূত সম্পর্কে একটি ভয়ঙ্কর ছবি তৈরি করে। এতে আমাদের মাঝে ভয় তৈরি হয়।
সুমন বলেন, অনেক সময় বড় হওয়ার পরও তা থেকে যায়। তখন কি করা উচিত?

অভয় বললেন, বাচ্চাদের সঙ্গে এ ধরনের গল্প না করার চেষ্টা করুন।ভয় থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য নিজেকে যথেষ্ট সময় দিন।নিজের আগের সফলতার কথা চিন্তা করুন। মনে করুন আগে কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পর কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, কীভাবে বের হয়ে এসেছিলেন। এটা আপনার মনোবল বাড়াতে সাহায্য করবে।নিজেকে বলুন, ‘ভয়ের কাছে পরাজিত হবো না। ভয় আসতেই পারে। এটা স্বাভাবিক। আমি জানি ভয়টা অমূলক। তাই ভয় পাবার কিছু নেই। বরং ভয় দূর করতে যা যা করা দরকার করব।’ভূত নিয়ে যেসব কমেডি সিনেমা রয়েছে সেগুলো দেখুন। ভয়ের সময় মনে করার চেষ্টা করুন ভয়ের সিনেমাগুলোতে ভূত কী কী করার চেষ্টা করে এবং প্রাণ খুলে হাসু।কোনো বিষয় নিয়ে মজা করলে সে বিষয়ে ভয় দূর করা সম্ভব। ভূত বিষয়ে অন্যের সঙ্গে বেশি বেশি গল্প বলুন, মজা করুন।অনেক সময় ভূতের ভয়ের সঙ্গে মানসিক অসুস্থতাও যুক্ত থাকতে পারে। সেখানে ছোটখাট পরামর্শ মেনে চললেই তা দূর করা সম্ভব হবে না। তাই নিজে নিজে ভূতের ভয় দূর করতে না পারলে মনো-চিকিৎসক, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নিন।ভূতের ভয়টা যেহেতু রাতেই হয়, তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে শিথিল থাকতে পারেন এমন কিছু করুন। ঘুমের সময় অল্প আলো জ্বালিয়ে ঘুমান।সিলিং বা জানালায় ঝুলন্ত কিছু থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন, যাতে রাতের বেলা এগুলো থেকে ভয় না তৈরি হয়‘ভূত আসলে কী হবে?’- এ ধরনের ভাবনা ব্যক্তির মধ্যে মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে। তাই ভবিষ্যতে যা ঘটার আশঙ্কা সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত নন তা ভাবা থেকে বিরত থাকুন।
ভূতের ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের মধ্যেই লুকায়িত রয়েছে। তাই ভূতের ভয়কে জয় করুন।

শিবের অনুচর দেবযোনিবিশেষ। অশরীরী প্রেত বা পিশাচ জীব, প্রাণী ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুসমূহের মূল উপাদান পঞ্চভূত।

পরিণত দ্রবীভূত, বাষ্পীভূত বিদ্যমান, রয়েছে এমন ̃ .কাল বি. অতীত কাল ̃ ভূতপ্রেতের দ্বারা আক্রান্ত বা আবিষ্ট। ̃ .চতুর্দশী. কার্তিক মাসের কৃষ্ণাচতুর্দশী তিথি।

ভূত হলো অশরীরি পুরুষ আত্মা, আর পেত্নী অশরীরি মেয়ে আত্মা। অপঘাত, আত্মহত্যা প্রভৃতি কারণে মৃত্যুর পর মানুষের অতৃপ্ত আত্মা ভূত-পেত্নী হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করতে পারে। অন্যান্য জীবজন্তু বা প্রানীও তাদের মৃত্যুর পরে ভূতে পরিণত হতে পারে। বাংলায় ভূতকে মাঝে মাঝে প্রেতাত্মা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। প্রেতাত্মার নারীবাচক শব্দকে পেত্নী হিসেবে এবং পুরুষবাচক শব্দকে প্রেত বলা হয়ে থাকে। বাংলার সংস্কৃতিতে অনেক ধরনের ভূতের বিশ্বাস রয়েছে; তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো নারী ভূত যারা বেঁচে থাকতে কিছু অতৃপ্ত আশা ছিল এবং অবিবাহিতভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। পেত্নী শব্দটি সংস্কৃত প্রেত্নী শব্দ থেকে এসেছে এসব ভূত সাধারনত যে কোন আকৃতি ধারন করতে পারে, এমনকি পুরুষের আকারও ধারণ করতে পারে। এসব ভূত সাধারনত বেঁচে থাকতে কোন অপরাধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে এবং মৃত্যুর পর অভিশিপ্ত হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করে। পেত্নীরা সাধারনত ভীষণ বদমেজাজী হয়ে থাকে এবং কাউকে আক্রমনের পূর্ব পর্যন্ত স্পষ্টতই মানুষের আকৃতিতে থাকে। পেত্নীদের আকৃতিতে একটিই সমস্যা রয়েছে, তা হলো তাদের পাগুলো পিছনের দিকে ঘোরানো। সংস্কৃত শব্দ শাকচুন্নি থেকে এসেছে। এটা হলো অল্পবয়সী, বিবাহিত মহিলাদের ভূত যারা বিশেষভাবে তৈরি বাঙ্গালি শুভ্র পোষাক পরিধান করে এবং হাতে শঙ্খ বা শাঁখা পরিধান করে। শাঁখা হলো বাঙ্গালি বিবাহিত মহিলাদের প্রতীক। শাকচুন্নিরা সাধারনত ধনী বিবাহিত মহিলাদের ভেতর ভর করে বা আক্রমন করে যাতে করে তারা নিজেরা সেই মহিলার মত জীবন যাপন করতে পারে ও বিবাহিত জীবন উপভোগ করতে পারে। লোকগাঁথা অনুসারে জলাভূমির ধারে আম গাছে বাস করে এবং সুন্দর তরুণ দেখলে তাকে আকৃষ্ট করে ফাঁদে ফেলে। কখনো কখনো সে তরুণকে জলাভূমি থেকে মাছ ধরে দিতে বলে। কিন্তু সাবধান, শাকচুন্নিকে মাছ দেয়া মানে নিজের আত্মা তার হাতে সমর্পণ করা!
কোনো চোর মারা গেলে চোরাচুন্নি হতে পারে। পূর্ণিমা রাতে এরা বের হয় এবং মানুষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে অনিষ্ট সাধন করে। বাড়িতে এদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য গঙ্গাজলের ব্যবস্থা আছে। এ ধরনের ভূতেরা মাছ খেতে পছন্দ করে। মেছো শব্দটি বাংলা মাছ থেকে এসেছে। মেছো ভূত সাধারনত গ্রামের কোন পুকুর পাড়ে বা লেকের ধারে যেখানে বেশি মাছ পাওয়া যায় সেখানে বসবাস করে। মাঝে মাঝে তারা রান্নাঘর বা জেলেদের নৌকা থেকেও মাছ চুরি করে খায়। বাজার থেকে কেউ মাছ কিনে গাঁয়ের রাস্তা দিয়ে ফিরলে এটি তার পিছু নেয় এবং নির্জন বাঁশঝাঁড়ে বা বিলের ধারে ভয় দেখিয়ে আক্রমণ করে মাছ ছিনিয়ে নেয়।এ ধরনের ভূত সচরাচর দেখা যায় না। পেঁচাপেঁচি ভূত ধারনাটি পেঁচা থেকে এসছে এর স্ত্রী বাচক হলো পেঁচি। এরা জোড়া ধরে শিকার করে থাকে। বাংলার বিভিন্ন জঙ্গলে এদের দেখা যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। এরা সাধারনত জঙ্গলে দুর্ভাগা ভ্রমণকারীদের পিছু নেয় এবং সম্পূর্ণ একাকী অবস্থায় ভ্রমণকারীকে আক্রমন করে মেরে ফেলে ও এরা শিকারের দেহ ভ্যাম্পায়ার স্টাইলে ছিড়ে ছিড়ে খায়। মনে করে মুসলমান ভূত হল এই মামদো। ব্রাহ্মণের আত্মা, সাদা ধুতি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। এরা সাধারণত পবিত্র ভূত হিসেবে বিবেচিত। বলা হয়ে থাকে, কোনো ব্রাহ্মণ অপঘাতে মারা গেলে সে ব্রহ্মদৈত্য হয়। এছাড়া পৈতাবিহীন অবস্থায় কোনো ব্রাহ্মণ মারা গেলেও ব্রহ্মদৈত্য হতে পারে। এরা কারো প্রতি খুশি হয়ে আশির্বাদ করলে তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হয়, কিন্তু কারো প্রতি বিরাগ হলে তার সমূহ বিপদ। দেবদারু গাছ , বেল গাছ কিংবা বাড়ির খোলা চত্বরে বাস করে। মাথাবিহীন ভূত। অত্যন্ত ভয়ংকর এই ভূত মানুষের উপস্থিতি টের পেলে তাকে মেরে ফেলে। কোনো দুর্ঘটনায়, যেমন রেলে কারো মাথা কাটা গেলে, সে স্কন্ধকাটা হতে পারে। ভয়ংকর হলেও, মাথা না থাকার কারণে স্কন্ধকাটাকে সহজেই বিভ্রান্ত করা যায়। গ্যাসীয় ভূত। এরা জেলেদেরকে বিভ্রান্ত করে, জাল চুরি করে তাদের ডুবিয়ে মারে। কখনো কখনো অবশ্য এরা জেলেদেরকে সমূহ বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করে থাকে।খুব ভয়ংকর ভূত। অন্যান্য ভূত সাধারণত নির্জন এলাকায় মানুষকে একা পেলে আক্রমণ করে, কিন্তু নিশি গভীর রাতে মানুষের নাম ধরে ডাকে। নিশির ডাকে সারা দিয়ে মানুষ সম্মোহিত হয়ে ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ে, আর কখনো ফিরে না। কিছু কিছু তান্ত্রিক অন্যের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নিশি পুষে থাকে।গভীর নির্জন চরাচরে মানুষকে পেলে তার গন্তব্য ভুলিয়ে দিয়ে ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয় এই ভূত। মানুষটি তখন পথ হারিয়ে বার বার একই জায়গায় ফিরে আসে, এবং এক সময় ক্লান্ত হয়ে মারা যেতে পারে। অনেকটা নিশির মত এই ভূত গ্রামের পাশে জঙ্গলে বসে করুণ সুরে বিলাপ করতে থাকে। কান্নার সুর শুনে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে গেলে তাকে ইনিয়ে বিনিয়ে গল্প বানিয়ে জঙ্গলের আরো গভীরে নিয়ে মেরে ফেলে। ছোট বাচ্চারা এর কান্নায় বেশি আকৃষ্ট হয়। হলো সেইসব মানুষের আত্মা যারা বাঘের আক্রমনে মৃত্যুবরণ করেছে বলে বিশ্বাস করা হয়। সাধারনত সুন্দরবন এলাকায় এধরনের ভূতের কথা বেশি প্রচলিত কারণ বাঘের অভাশ্রম হলো সুন্দরবন। এসব ভুতেরা জঙ্গলে মুধ আহোরনে আগত গ্রামবাসীদের ভয় দেখায় এবং বাঘের সন্নিকটে নিয়ে যেতে চেষ্ঠা করে। মাঝে মাঝে এরা গ্রামবাসীদের ভয় দেখানোর জন্য বাঘের স্বরে কেঁদে উঠে।এ শ্রেণীর ভূতেরা পথিকের গন্তব্য ভুলিয়ে দিয়ে ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয় এবং অচেনা স্থানে নিয়ে আসে। মাঝে মাঝে মানুষ একই রাস্তায় বারবার ঘোরপাক খেতে থাকে। ভূতরা কোন নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌচ্ছার পর তার শিকারকে মেরে ফেলে। এক্ষেতে শিকার তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এধরনের ভূতদের রাতে গ্রামের মাঠের ধারে পথের মধ্যে দেখা যায়। শিকার সবসময় একাকী থাকে বা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।ডাইনি মূলত কোন আত্মা নয়, এরা জীবিত নারী। বাংলা লোকসাহিত্যে সাধারনত বৃদ্ধ মহিলা যারা কালো জাদু বা ডাকিনী বিদ্যাতে পারদর্শী তাদেরকেই ডাইনী বলা হয়ে থাকে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, ডাইনীরা গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের ধরে নিয়ে তাদের হত্যা করে এবং তাদের রক্ত খেয়ে ১০০ বছর বেঁচে থাকে। হাঁড়ি গড়গড়া —- রাতে নির্জন পথে, হাঁড়িকে পিছু ধাওয়া করতে দেখা যায়। শুঁয়োরা ভুত —- মাঠে যারা মল ত্যাগ করতে যান তারা দেখতে পান।

তোতন বলল,ভূত কোথায় থাকে?

অভয় বললেন, শোনা যায় শেওড়া, তাল, দেবদারু, বেল, অশ্বত্থ প্রভৃতি গাছে একটি দুটি ভূতের দেখা পেতে পারেন। কিন্তু বেশি সংখ্যায় ভূত দর্শনের অভিলাষ থাকলে, আপনাকে যেতে হবে বিজন বনে, তেপান্তরে, কিংবা ভূষণ্ডির মাঠে।
পরকাল হল একটি জগতের ধারণা, যে ধারণা অনুসারে ব্যক্তির শরীরের মৃত্যু হয়ে গেলেও তার চেতনার অস্তিত্ব থেকে যায়। পরকালের বিভিন্ন ধারণা অনুযায়ী মৃত্যুর পরেও থেকে যাওয়া ব্যক্তির এসেন্স কোন আংশিক উপাদান অথবা পূর্ণাঙ্গ আত্মা হতে পারে। এই এসেন্স কোন ব্যক্তিগত পরিচয় বহন করতেও পারে আবার নাও পারে যেমন ভারতীয় দর্শনের কথা। পরকালের উপর বিশ্বাস দর্শন থেকে আসতে পারে অথবা অতিপ্ররাকৃত বিশ্বাস থেকে আসতে পারে।

কিছু লোকায়ত মতবাদ অনুসারে, মৃত্যুর পরও অস্তিত্ববহন করা এই সত্তা কোন অতিপ্রাকৃত জগতে অবস্থান করে, আবার অন্যান্য লোকায়ত মতবাদ অনুসারে এই সত্তার নবজন্ম ঘটে এবং পুনরায় জীবনচক্র শুরু হয়। এক্ষেত্রে পূর্বের জীবন সম্পর্কে কোন স্মৃতি থাকে না। এই মতবাদ অনুসারে সত্তার একটি অন্য জগতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত বারবার জন্ম ও মৃত্যুর প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। পরকাল সংক্রান্ত বেশিরভাগ বিশ্বাসেরই উৎপত্তি মন থেকে।

কিছু বিশ্বাস ব্যবস্থা বিশেষ করেপ্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী মৃত্যুর পর সত্তা জীবিতাবস্থায় পৃথিবীতে তার নিয়ম অনুযায়ী বা কোন নির্ধারিত বিশেষ স্থানে গমন করে। অন্যদিকে পুনর্জন্ম বিশ্বাস অনুযায়ী মৃত্যুর পর কৃতকার্য অনুসারে সত্তার প্রকৃতি সরাসরি নির্ধারিত হয়ে যায়, এতে ভিন্ন কোন সত্তার সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয় না।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির আত্মা যা জীবিত ব্যক্তিদের সামনে দৃশ্য, আকার গ্রহণ বা অন্য কোনো উপা

11

অভয়বাবু সুমন্তবাবুকে ডেকে পাঠালেন একটা বিশেষ অনুসন্ধান করার জন্য।এখানে অনেক গোয়েন্দা কাজ করেন। সকলেই সফল গোয়েন্দা হতে পারেন না। কিন্তু সুমন্তবাবু একজন সফল গোয়েন্দা। সুমন্তবাবুকে অভয়বাবু সুমন বলেই ডাকেন।অভয় বললেন, সুমন
কোথায় ? দিদি বললেন, আমিও যাব।

বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া র কাছে মথুরাপুর গ্রামে । সুমন দাদা নতুন জায়গা দেখতে ভালোবাসেন । ব্যাগ পত্তর গুছিয়ে পরের দিন দুজনে হাওড়া রামপুর হাট এক্সপ্রেস ট্রেনে চেপে বস লেন। ট্রেনে বসে জানালা দিয়ে দৃশ্যাবলী দেখতে দেখতে যাওয়া অন্তরে এক অদ্ভূত অনুভূতির সৃষ্টি করে । এ রসে যে বঞ্চিত তাকে বোঝানো কঠিন । দাদা ও দিদিকে এই কথা গুলি বলছিলেন ।

দিদি বললেন, সত্য কথা । ট্রেন জার্নির স্বাদ আলাদা ।

তারপর বারোটার সময় ওনারা মথুরাপুর গ্রামে এসে গেলেন । পরেশবাবু ফোনে খবর পেয়ে আগে থেকেই তৈরি ছিলেন ।

জলটল খাওয়ার পর পরেশবাবু দাদাও দিদিকে নিয়ে ময়ুরাক্ষী নদী দেখাতে নিয়ে গেলেন । নদীতে এখন বেশি জল নেই ।পায়ে হেঁটে ওনারা নদীর ওপাড়ে গেলেন ।

পরেশবাবুর ব্যবহার দেখে দাদা ও দিদি খুব মুগ্ধ হলেন ।

তারপর খাওয়া দাওয়া করে দুপুরে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার বিকালে গ্রাম ঘোরার পালা । কত কিছু দেখার আছে আমাদের দেশের গ্রামে । গাছপালা নদীনালা এই নিয়েই আমাদের গ্রাম । কবিগুরু তাই বলেছিলেন, ” দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া … একটি ঘাসের শিষের উপর একটি শিশির বিন্দু “।

আমরা আজীবন ঘুরে বেড়াই, আনন্দের খোঁজে । আর এই আনন্দ হলো জীবনের আসল খোঁজ । কথা গুলি জয়ন্ত দা বললেন ।

দিদি পরেশ বাবু কে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করলেন । পরেশ বাবুও কথা বলে খুব আনন্দ পেলেন ।

তার পর রাতে খাওয়া বেশ ভালোই হলো । পরেশ বাবুর বিরাট জায়গা জুড়ে বাগান ।অনেক হিম সাগর আম । গাছের টাটকা আম । আর সাঁকিরের পাড় থেকে আনা দৈ আর রসগোল্লা । রসিক মানুষ জয়ন্ত দা । বললেন, পরেশবাবু কব্জি ডুবিয়ে ভালোই খেলাম ।

পরেশবাবু বললেন, আপনাদের খাওয়াতে পেরে আমি খুব খুশি ।

ভোরবেলা তখন চারটে বাজে । জয়ন্ত দার ঘুম ভেঙ্গে গেলো । পরেশবাবুকে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার এত কল রব কেন ?
পরেশবাবু বললেন, আর বলবেন না । আমার বাগানে অনেক জবা গাছ আছে নানা জাতের । কোনোটা লঙ্কা জবা, পঞ্চ মুখী , গণেশ জবা , সাদা জবা, ঝুমকো জবা ,খয়েরী জবা , লাল, ঘিয়ে জবা প্রভৃতি।

এখন একটা লাল জবা গাছে ঘিয়ে জবা হয়েছে । সবাই তাই ভোরবেলা পুজো দেয় । বলে , ঠাকুরের দয়া । তাই এক গাছে দুই রকমের ফুল ।

দিদি দেখছেন প্রচুর মহিলা চান করে কাচা কাপড় পড়ে পুজো দিতে এসেছেন ।

দাদা বললেন , এদের বোঝাতে হবে ।এটা বিজ্ঞান নির্ভর ব্যাপার ।

দিদি বললেন , আপনারা শুনুন, এটা বিজ্ঞানের ব্যাপার ।

তখন মহিলাদের একজন বললেন, একথা বলবেন না দিদি । পাপ হবে ।

দিদি বললেন , পরাগ মিলনের ফলে লাল গাছের পরাগ রেণু ঘিয়ে গাছের পরাগ রেণুর সঙ্গে মিলিত হয় । এই কাজটি করে পতঙ্গ রা ।সংকারয়নের ফলে জটিল পদ্ধতি পার করে এইসব ব্যাপারগুলো হয় । সেসব বুঝতে গেলে আরও পড়াশুনা করতে হবে ।

আরেকজন মহিলা বললেন, কই আর কোনো গাছে তো হয় নি ।

দিদি বললেন, এত বড় বাগান ঘুরে দেখুন। নিশ্চিত দেখা যাবে ।

দাদা জানেন সবাই প্রমাণ চায় । প্রমাণ ছাড়া এদের কুসংস্কার মন থেকে যাবে না ।

দাদা ডাক লেন, আপনারা এদিকে আসুন । দেখুন এখানেও দুটি গাছে অই একই ঘটনা ঘটেছে।

সবাই ওখানে গিয়ে দেখলেন, সত্য কথা তাই হয়েছে । লাল গাছে ঘিয়ে জবা ।

দাদা বললেন ,মনে রাখবেন বিজ্ঞান অসম্ভব কে সম্ভব করে । বিজ্ঞান এর দৃষ্টি দিয়েই আমাদের সবকিছু বিচার করতে হবে ।

সবাই বুঝতে পারলেন এবং খুশি হয়ে বাড়ি চলে গেলেন ।

পরেশবাবু বললেন, এবার আপনাদের জন্য কফি নিয়ে আসি

ইতিমধ্যে অনেক লোকজন এসে শান্ত ভাবে বসে পড়লেন এই আশ্চর্য কাহিনি শোনার জন্য।

দিদি বললেন, মস্তিষ্কের অকেজো মোটর নিউরন আপনি ওষুধের মাধ্যমে সারিয়ে তোলেন । তার ফলে আপনি শিশু দের সুস্থ করতে সমর্থ হন ।

মহাপুরুষ মিটিমিটি হাসছেন । তাঁর হাসি এক শান্তি র বাণীর বার্তা বাহক ।

দাদাবললেন, আপনি হয়তো জানেন স্টিফেন হকিং কুড়ি বছর বয়সে পঙ্গু হয়ে হুয়িল চেয়ার নিতে বাধ্য হয়েছিলেন । তারপর তিনি এই মারাত্মক ব্যাধি নির্মূল করার প্রতিজ্ঞা করেন । তিনি বলেন স্টেম সেল বা অঙ্কুর কোষ এই রোগ কে নির্মূল করতে পারবে ।

উপস্থিত লোক জন বলে উঠলেন, তাহলে এই রোগ নির্মূল হবে একদিন ।

দাদা বললেন, নিশ্চয়ই হবে । আমাদের ভারতবর্ষে স্টিফেন হকিং এর মত কত বড় বড় বৈজ্ঞানিক এই মহাপুরুষের মতো গ্রামে গঞ্জ এ নীরবে সাধনা করে চলেছেন তার ইয়ত্তা নেই ।
এনারা প্রচার বি মুখ । কোনোরকম পুরস্কারের তোয়াক্কা এনারা করেন না ।

এবার প্রতিবন্ধী মানুষ টি মুখ খুললেন।তিনি বললেন, দাদাবাবু আপনাকে নমস্কার জানাই । আমি সেই পরশপাথর অঙ্কুর কোষের সন্ধান করতেই পথে নেমেছি ।

এই কথা বলে তিনি হুইল চেয়ারে রাস্তা ধরে জঙ্গলে ঢুকলেন

সুগার খুড়ো র একটা মিষ্টির দোকান আছে।বেশ নামকরা দোকান।ভালো মিষ্টি রাখেন তিনি।কিন্তু এখন তিনি নিজে আর মিষ্টি খান না।তার কারণ কাজের লোকটি সুগার খুড়োর বউয়ের স্পাই।মিষ্টি মুখে দিলেই খবর চলে যাবে তার কানে।আর খুড়ো বোনকে খুব ভয় করেন।তার কথায় ওঠাবসা করেন তিনি।

সুগার খুড়ো যখন তরুন ছিলেন তখনকার কথা বলেন খরিদ্দারদের।তিনি বলেন,আপনারা কি মিষ্টি খান?খেতাম আমি।একবার বাবা বাজারে গেছিলেন।আমি লুকিয়ে আশি পিস রসগোল্লা খেয়েছিলাম।বাবা আসার আগেই কারখানা থেকে আবার রসগোল্লা এনে রেখে দিয়েছিলাম।তিনি বুঝতেই পারেন নি।সবাই শোনেন আর খাওয়া হয়ে গেলে পয়সা মিটিয়ে চলে যান।
সুগার খুড়ো হাঁ করে চেয়ে থাকেন।জিভের রস গোপনে গিলে ফেলেন।

প্রত্যেকদিন বিকেল সাড়ে চারটের সময় দুজন স্কুল ফেরতা শিক্ষক আসেন দোকানে।তারা নানারকমের মিষ্টি খান আর পয়সা মিতিয়ে চলে যান।খুড়ো চেয়ে চেয়ে দেখেন আর জিভের জল ফেলেন।কিছু করার নেই।রোগের কাছে সবাই পরাজিত। তারপর আবার সদা সর্বদা দুটি গোয়েন্দা চোখের চাহনি। বাড়ি গেলেই বোনের শাসনের চাহনির থেকে জিভের জল গিলে ফেলাই ভালো।

কেনো যে এ রোগটা হোলো,সুগার খুড়ো ভাবেন,এর চেয়ে কাশির রোগটা ভালো।কাশতাম,তবু মিষ্টি তো খেতে পারতাম।আরো কত রোগ আছে।আমাশা,ঘাড়ে ব্যথা,টিবি,ক্যান্সার আরও কত কি?ভগবান যতদিন বাঁচি,যেনো মিষ্টি খেতে পাই। কাতর প্রার্থনা করে যান সুগার খুড়ো।

সুগার বেশি হওয়ার রোগে কত মানুষের শখ আহ্লাদ চলে গিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই,সুগার খুড়ো ভাবেন। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কি?

একদিন তিনি তার বন্ধু, ডাক্তার মন্ডলের কাছে গিয়ে বললেন,আমি মিষ্টি খেতে চাই। অথচ আমার সুগার। কি করব আমি।ডাক্তার বাবু বললেন,মিষ্টি খাবি তবে অল্প।বেশি নয়।বেশি খেলে কিন্তু মুশকিল হয়ে যাবে।তোদের পরিবারের মা,বাবা সকলের সুগার।সাবধানে থাকবি।লোভ সম্বরণ কর।লোভ মানে পাপ।আর পাপ থেকেই মরণ।সাধু সাবধান।

ডাক্তারের কাছ থেকে একটু সাহস পেয়ে খুড়ো এখন বউয়ের স্পাইকে কাজে পাঠিয়ে দু একটা মিষ্টি লুকিয়ে চুরিয়ে খায়।ভালোই আছে খুড়ো।ডুবে ডুবে জল খায়, কেউ বুঝতে পারেন না।

এবার ধীরে ধীরে খুড়ো লোভের জালে পড়ে বেশি বেশি রসোগোল্লা খেলেন।আবার আসুস্থ হয়ে পড়লেন।আবার শুরু হোলো নানারকমের রক্ত পরীক্ষা। সুগার বেড়ে গেছে অনিয়মের ফলে।ডাক্তারবাবু সাবধান করলেন,মিষ্টি জাতীয় খাবার খাবেন না।এই একটা কথাতেই সুগার খুড়ো মনে মনে খুব রেগে গেলেন।তার মনে হোলো ডাক্তারবাবু কি নিষ্ঠুর। নিজে একটা রসোগোল্লা বেশ রসিয়ে রসিয়ে খাচ্ছেন,আর বেমালুম কেমন উপদেশ দিচ্ছেন।তিনি বলেই বসলেন,ডাক্তারবাবু আপনার সুগার নেই।ডাক্তারবাবু বললেন,আছে, তবে…আপনার জানার প্রয়োজন নেই। আপনি খাবেন না। ঠিক আছে?

সুগার খুড়ো মন কালি করে দোকানে এলেন।এখন সাড়ে চারটে বাজে।দুজন ঠিক এই সময়ে রাজভোগ খায় রাজার মত।খুড়ো হাঁ করে চেয়ে চেয়ে দেখেন।খুড়োর খাবার উপায় নেই।

একজন পাড়ার ছেলে দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। খুড়োকে দেখে আড়াল থেকে বললো,এই সুগার খুড়ো। রসোগোল্লা খাচ্ছে।তোর বউকে বলবো…

সুগার খুড়ো এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল,কাউকে দেখতে পেলো না।রাগে গজগজ করতে করতে বললো,তোর বাপের খাচ্ছি না কি?

লোকের টিটকারি শুনতে শুনতে খুড়োর সহ্যের সীমানা পেরিয়ে গেলো। এবার খুড়োর বোন ঠিক করলো ভেলোরে ডাক্তার দেখিয়ে আসবে।ঠিক এক মাসের মধ্যেই খুড়ো বোনকে সঙ্গে নিয়ে ভেলোর গেলো। সেখানে গিয়ে বাসা ভাড়া করলো।সঙ্গে দাদা আছেন।দুদিন পরে ডাক্তারের কাছে গেল।খুড়ো বললো,ডাক্তারবাবু আমার সুগার আছে।কিছু খেতে গেলে ভয় হয়।
ডাক্তারবাবু বললেন,আগে সব পরীক্ষা হোক।রক্ত পরীক্ষার পরে সবকিছু জানা যাবে।
তারপর আরো দুদিন পরে খুড়ো ডাক্তারখানা গেলো।ডাক্তারবাবু বললেন,আপনার সুগার নেই।
—-ডাক্তারবাবু আমি মিষ্টি খেতে পারবো?
—নিশ্চয় পারবেন।যতখুশি বাঙালিবাবু…

খুড়ো মনে হল,এক ঘর চাঁদের আলো ডাক্তারবাবুর আর বোনের চোখ থেকে এসে তার মুখমন্ডল আলোকিত করে তুলেছে। ভীষণ ভালোলাগার সঙ্গে সে দেখতে পেল দশ রকমের রকমারি সন্দেশ। বোন একটা করে দিচ্ছেন আর সে হাত বাড়িয়ে নিচ্ছে তার ভালোবাসা…

বেশি কৌতূহল ভালো নয়। তেনাদের নিয়ে আলোচনা করলে হয়তো তাদের ভালো লাগে। তাই তারা দল ভারি করার জন্য দলে টেনে নেয়। অপদেবতাদের বিচরণভূমি কাঁদরের ধারে,পোড়ো বাড়ির ভিতরেকিংবা জনকোলাহলহীন যে কোনো জায়গা হতে পারে।।অশুভ শক্তি এক জায়গায় জড় হয়ে নাচ করে ভূত চতুর্দশীর রাতজুড়ে। এইসব কথা দাদুর মুখে শোনা।

তিনি বলতেন,অপমৃত্যু হওয়া আত্মাগুলো সহজে মুক্তি পায় না। সেইসব আত্মা ঘুরে বেড়ায় অতৃপ্ত মনে। দাদু বলতেন,বামুন পাড়ার বিমানদাদু গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। তিনি রাজা উজিরের মত থাকতেন। বিরাট আলখাল্লার আড়ালে তার দারিদ্র্য ঢাকা থাকতো।মন তার তৃপ্ত ছিলো না। প্রতিরাতে নেশা করতেন।আরও অনেক দোষ ছিলো।

কাঁদরের ধারে একটা বেলগাছ ছিলো। দাদু বলতেন, এই বেলগাছের পাশে একটা শিমূলগাছ। বহু বছর ধরে আছে। সেখানে একদিন পথকুড়ো ফুল কুড়োতে কুড়োতে যাচ্ছিলো।পথকুড়ো দেখলো,সেই শিমূল ফুল তার হাতে এসে হয়ে গেলো শিশুর মাথা। ভয় পেয়ে ছুটে এসে পড়লো ঘাটে। সেই ঘাট থেকেই একেবারে গঙ্গার ঘাটে।

পথকুড়ো মরার পরে আর কেউ ওদিকে তাকাতো না। প্রয়োজন হলেও ও পথে পা বাড়াতো না। সবাই বলতো,ওখানে অপদেবতাদের বাস। ওখানে গিয়ে ওস্তাদি করলেই সর্বনাশ হবে।

দাদু দেখেছেন একদিন সকালে ওই শিমূল গাছে বিমান পাঠক গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছিলো রাজার বেশে।

দাদু কাঁদরের এপাড় থেকে একরাতে দেখেছিলেন, যাত্রার আসরের মত জাঁকজমক। বিমান তার পোশাক পড়ে রাজার মেজাজে ঘুরতো। লাফিয়ে বেলগাছে উঠতো। দাদুর সঙ্গে আরও দুজন সাহসী লোক ছিলো। তারা দেখলো,জীবনে বিমান শখ আহ্লাদ পূরণ করতে না পারলেও অপদেবতাদের আসরে তার কোনো শখ অপূর্ণ থাকতো না।

ভূতের ভয় লাগে নি দাদুর।পালাগান শোনার মত অপদেবতাদের গান শুনেছেন। বললে,অনেকে বিশ্বাস করে না।

দাদু প্রায় প্রতি রাতে একবার করে কাঁদরের পাড়ে ঘুর ঘুর করতেন। এই দাদু পাড়ার সকলের প্রিয় ব্যাক্তি। গ্রামের লোকে বলতো,এত সাহস ভালো লয় গো। রাত বিরেতে কেনে ওখানে মরতে যাও। কোনোদিন দেখবা তোমার দশাও পথকুড়োর মত হবে।

দাদু শুনতো না। সাত কুলে তার কেউ নাই। তাই ভয়ও নাই। এর বাড়ি ওর বাড়ি খেয়ে দিন গুজরান হত দাদুর। কেউ বিপদে পড়লে জান দিয়ে তার সেবা করত।তাই তো গ্রামের সকলে তাকে মাথায় করে রাখতো। দাদু প্রায় চেঁচিয়ে একটা কথা বলতেন,পালাবার পথ নাই, যম আছে পিছে। মরণকে তার ভয় ছিলো না। তিনি বলতেন, বেঁচে থাকার চেয়ে মরণের পরে বেশি সুখ। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলতেন না বেশি কথা। তিনি বলতেন,অপদেবতাদের অনুভূতি অন্তরে হয়। প্রকাশ করা যায় না।

তিনি তার ছাত্রজীবনের কথা আমাদের বলেছিলেন।
একবার তার বন্ধু বিশু আর কয়েকজন রাতে কাঁদরের ধারে গেছিলো।বিশু ডুব সাঁতারে ওপাড়ে চলে গেলো। দাদু ছিলো এপাড়ে।তারপর অপদেবতা তাকে তুলে নিয়ে গেলো বোধহয়।বাড়ি থেকে পুলিশে খবর দিলো।

সবাই আমরা উৎকন্ঠা নিয়ে বসে আছি। কখন আসবে বিশু। ঠিক সকাল দশটায় পুলিশের গাড়ি চলে এলো গ্রামে। আমাকে সবাই অবাক হয়ে দেখলো পুলিশের গাড়ি থেকে নামছি আমি।

এর মধ্যে বিশুও হন্ত দন্ত হয়ে আমাদের কাছে এসে বললো,যাক কাকু, অলক এসে গেছে। মেজবাবু আমার বাবাকে বললেন,এটাই আপনার ছেলে অলক তো?

—- হ্যাঁ স্যার।

—-আমাদের থানার আশেপাশে ঘুরতে দেখে ওকে নিয়ে এলাম। আমাদের স্থির বিশ্বাস ছিলো এটা অলক। ওর মুখে সব কিছু শুনলে বুঝতে পারবেন ওর সমস্যা। যাই হোক, আমরা আসি।

পুলিশের গাড়ি চলে গেলো। প্রায় দুঘন্টা হলো দাদু ঘুমিয়ে আছে। দুপুর একটায় ওর ঘুম ভাঙ্গলো।বিশু জিজ্ঞাসা করলো,তোর কি হয়েছিলো বল তো অলক?

দাদু বলতে শুরু করলো তার অলৌকিক কাহিনী।

সে বললো,আমরা সবাই যখন কাঙরা কাঁদর পার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি তখনই আমাকে খনা গলায় নিশি ভূতটা বললো,কি রে তোর বাড়ি গিয়ে ডাকলাম। সাড়া পেলুম না। তাই গন্ধ পেয়ে এখানে এলাম। চল আমার সঙ্গে তোকে হাওড়া ব্রীজ দেখিয়ে আনি। আমি বললাম,এই রাতে বন্ধুদের ছেড়ে আমি হাওড়া যাবো না। নিশিটা বললো,যা বলবো শুনবি।তা না হলে উঁচু থেকে ফেলে দেবো।আমি আর ভয়ে কথা বলিনি। নিশি আমাকে উড়িয়ে নিয়ে গেলো হাওড়া ব্রীজে। আমি ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম। তারপর যখন নিশিটা আমাকে নিচে নামালো তখন জ্ঞান এলো। নিশি বললো,কেমন লাগছে। কি খাবি বল। তারপর আবার বললো,গঙ্গার জলে সাঁতা কাটবি নাকি?

আমি বললাম,আমি সাঁতার জানি না।

নিশি বললো,আমি থাকলে ওসব কিছু দরকার হয় না। এই বলে আমাকে ওপর থেকে গঙ্গার বুকে ঝুপ করে ফেলে দিলো।তারপর জামাটা মুঠো করে পুতুলের মত তুলে নিয়ে ওপরে এলো।আমি ভাবলাম, আমার জীবনের শেষ দিন আজকে। নিশি মনের কথা জানতে পেরে বললো,আমরা প্রাণে মারি না কাউকে। শুধু ঘুরে বেড়াই।কাজ করি। তারপর দিনের আলো ফুটতেই নিশিটা পালিয়ে গেলো।

এতদিন দাদু বেঁচে ছিলো অপদেবতাদের গবেষকের মত। সবসময় তাদের নিয়েই ছিলো ভাবনা চিন্তা। আমাদেরও সময় কাটতো ভালোভাবে। এবার তার অপদেবতাদের দলে নাম লেখাবার শখ হলো। আমরা সকলে বললাম,দাদু এত ভয় দেখালে আমরা আর আসবো না তোমার কাছে।দাদু সত্যি কারের গবেষক ছিলেন। কারও কথা শোনেন নি। একরাতে তিনিও শিমূলগাছে ঝুলে পড়লেন।

এই প্রিয় দাদু সেইরাতে আমাদের ছেড়ে একদম পুরোপুরি আশ্রয় নিলেন তাদের ডেরায়…

বাংলোঘাটের মুন্সেফ কোয়ার্টারে রাতের দৃশ্য যে দেখেছে সেই জানে। চাঁদের আলো ফিরিয়ে দেয় পুরোনো মায়া। গোপনে শুনেছি এই স্থানে রাতে মুন্সেফ তার খাতাপত্তর বগলে নিয়ে ফাঁকা মাঠে কোর্টের কাজ সারেন। হয়ত তার অভ্যাস এখনও ভুলতে পারেন নি।

এর পাশ দিয়ে যে রাস্তাটা চলে গেছে সেটি জয় ঘাটে মিলেছে। অজয়ের রূপ এখানে এসে অপরূপ অথচ ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। এই অঞ্চলে চোরাবালি অনেকেরই প্রাণ কেড়েছে। তাই এখানে সাবধানবাণী লেখা আছে। বিপজ্জনক এই জায়গায় সহজে কেউ আসে না। সকলেই এড়িয়ে চলে।

কিন্তু মানুষ তো একপ্রকার হয় না। কিছু মানুষ চেনা ছকের বাইরে ছক কষে। কি করে টাকা পয়সা বেশি করে অর্জন করা যায় তার মকসো কষার লোক আছে বই কি। আর এইসব লোক নিশাচরের মত। দিনে কোথায় থাকে দেখা যায় না। কিন্তু রাত হলেই ঘুরঘুর করে বিপজ্জনক এলাকায়। যেখানে সাধারণ মানুষ দিনের বেলা যেতে ভয় পায় সেখানে রাতের বেলায় নির্ভয়ে ঘোরাফেরা করে নিশাচরের দল। চোরাবালির মত চোরাচালান আর চোরাকারবারির ব্যবসা চলে রাতভর। আর তার সঙ্গে চলে পৈশাচিক রক্তের খেলা। মদ আর গাঁজার আড্ডায় পাওয়া যায় বেশ্যা আর জুয়ার মেলবন্ধন।

আমি ভূতের কথা শুনেছি কিন্তু কোনোদিন চোখে দেখি নি। বাবা বলতেন, চোখে না দেখা জিনিস সত্যি হয় না। কথাটা অন্তরে গেঁথে ছিলো। ফলে কোনোদিন ভূত দেখা দূরের কথা ভয় পর্যন্ত পাই নি।

বাংলোঘাটের বদনাম আছে। এখানে নাকি ভূত বাঁশবাগানের ভিতর দিয়ে হেঁটে বেড়ায়। একদিন ব্যাগপত্তর গুছিয়ে চলে এলাম বাংলোঘাট। গরমের সময়। নৌকাবিহার বেশ জমে উঠলো। দুজন বন্ধু জুটে গেলো নদীর তীরে। তাদের একজন বুড়ো মদনদা আর একজন ছোকরা মরাদা। মরা নামটা শুনে আমার গা টা ঘিন ঘিন করে উঠলো। শ্মশানের সময় শবদেহ পোড়ার গন্ধ নাকে ভেসে এলো। আমি বললাম, মরাদা এরকম বোটকা গন্ধ কোথা থেকে আসছে? মরা দা বললো, সামনে শ্মশানে মরা পুড়ছে হয়ত। আর তাছাড়া আমার মুখে দুর্গন্ধ আছে। অনেকদিন রক্ত খায় নি তো? আমি বললাম, কি যে বলো। রক্ত আবার খায় না কি? মরাদা বললো, আমি কি তাই বললাম নাকি? মদনদা বললো , হ্যাঁ বললি তো। গাঁজার নেশা ধরেছে নাকি। মরাদা বললো, ঠিক বলেছ। আজ টানটা বেশি হয়ে গেল। দাও দিকিনি আর এক ছিলিম। তারপর আমার সঙ্গে দুইজনে গাঁজা খেয়ে গল্প করতে লাগলো। তারপর আমার দিকে কল্কেটা এগিয়ে দিয়ে বললো, দাও একটান। দেখবে কেমন হাল্কা মেজাজে গান আসবে অন্তরে। আমি বললাম, আমি ওসব খাই না। তারপর বললাম, মদনদা নৌকায় মাঝি কই। কি করে চলছে নৌকো। মরাদা বললো, সন্দে হয়েচে তো। অন্ধকারে দেখা যায় না।

তারপর মাঝ নদীতে নিয়ে নৌকায় গল্প শুরু করলো মদনদা। আমাকে বললো, তোমার খুব সাহস মনে হচে। বেশি সাহস ভালো নয়। আমরা মুন্সেফ ঘাটে এসে পড়েছি। মৃত মুন্সেফের আত্মা এখন মুন্সেফ কোয়ার্টার থেকে পায়ে হেঁটে বৈকালিক ভ্রমণ সাড়ে। এই ঘাটে এসে চোরাবালিতে ডুব দিয়ে চান করে। আমি বললাম, চোরা বালি থেকে তো উঠতে পারবে না। মদনদা বললো, আরে বোকা এ তো মানুষ নয় ভূত। ভূতরা সব পারে। রাত হয়ে এসেছে। মুন্সেফ ঘাটে মুন্সেফ চোরাবালিতে ডুব দিল। নিজের চোখে দেখলাম। মদনদা আর মরাদা আছে বলে আমার ভয় পেল না।

মরাদা বললো, কি গো ভয় লাগছে না?
আমি বললাম, তোমরা আছো তাই।
মরাদা বলল, আমি মদনদাকে ডাকি।
দেখলাম মরাদা একলাফে নদীর পাড়ে নৌকা থেকে লাফ মেরেই আবার নৌকায় ফিরে এল। মদনদা বলল, এবার তোর রক্ত চাই। ভূত দেখবি নয়। এই মরা এখানে আয়। তারপর মদনদা মরার হাতটা টেনে ছিঁড়ে ফেললো আর পা টা ধরে চিবোতে লাগলো। আমি ওদের রক্তমাখা মুখ দেখে নৌকার মধ্যে চিত হয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলাম।

পরেরদিন সকালবেলা আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম। দেখলাম হাসপাতালে শুয়ে আছি।

ব্যাগপত্তরগুলো কোয়ার্টার থেকে লোক গুলো এনে দিয়েছিলো। তারা বললো, কি মশাই, মদনদা আর মরার খপ্পরে পড়েছিলেন নাকি। যাক খুব জোর প্রাণে বেঁচে গেছেন।

আমি বললাম, আপনারা তো লোকাল লোক। আচ্ছা ওদের আসল ঘটনাটা কি জানেন?
একজন বললেন, হ্যাঁ জানি। মুন্সেফ, একদিন সান্ধ্য ভ্রমণ শেষে স্নান করতে গিয়ে দেখেন মদন গুন্ডা ও মরা গুন্ডা একজনকে চোরাবালিতে ফেলে হাসছে। হঠাৎ ওরা মুন্সেফকে দেখে ফেলে। ফলে মুন্সেফ ওদের শত্রু হয়। তারপর সঙ্গে সঙ্গে ওরা মুন্সেফকে ধরে বেঁধে এনে চোরাবালিতে ফেলে। মুন্সেফ একা ছিলেন। ওদের সঙ্গে লড়াই করতে পারেন নি। কিন্তু তিনি বদলা নিয়েছিলেন একমাসের মধ্যে। এক অমাবস্যার রাতে দু’জনকে মুন্সেফের আত্মা টেনে আনে চোরাবালির ধারে। তারপর তারাও ডুবে যায় পাপকর্মের চোরাবালিতে। তারপর থেকে ওদের দুষ্টু আত্মা আনাড়ি ভালো মানুষকে নিয়ে আসে চোরাবালির ধারে আর মুন্সেফ এসে লড়াই করে বাঁচান মানুষদের। মুন্সেফ তাই এখানকার লোকেদের কাছে শুভ আত্মার দেবতাস্বরূপ। তাঁর জন্মদিন পালন করে এখানকার লোক।
আর প্রত্যেক অমাবস্যার রাতে মুন্সেফ নিজে চোরাবালি থেকে উঠে এসে তার কোয়ার্টারে বসেন অভ্যাসমত।

12
আজ সুমনবাবু রতনকে বলছেন, গোলমালের ফলে এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে উচ্ছংখলতা বাড়ছে, নেতার বলে বলীয়ান হয়ে ওঠার ঘৃণ্য মানসিকতার জন্ম নিচ্ছে।

তাহলে সমাজে একটা বিরাট পরিবর্তন আসবে। ভােট মানেই হিংসা, মৃত্যু এই সিস্টেম’-এর চেঞ্জ হবে। কিন্তু। এই ‘সিস্টেম চেঞ্জ করতে পারে, এমন রাজনীতিক কিংবা নেতা-নেত্রীর যে ব

যথাসর্বস্ব কী ? কে কাকে দিলেন? কী দিয়ে ফকির হলেন? শ্রীরামকৃষ্ণের সামনে বসে নরেন। নরেন অন্য জগতে চলে গেছেন। পার্থিব কোনাে জ্ঞান তার নেই। যখন জ্ঞান ফিরল নরেন দেখলেন গুরুদেবের চোখে জল। নরেন এক কপর্দকহীন যুবক। যার বাড়িতে বিধবা মা ও দুই ভাই কষ্টের জীবনযাপন করছেন। একটা ১৫ টাকা মাস। মাইনের চাকরি জোগার করতে পারছেন না। চাপাতলায় সিদ্ধেশ্বর লেনে মেট্রোপলিটান ইনস্টিটিউটের একটি শাখায় নরেন হেড স্যরের চাকরি পেলেন। কিছুদিনের মধ্যেই ওই স্কুলের সেক্রেটারি নরেনকে চাকরি থেকে বিতাড়িত করলেন। তাহলে এ হেন অবস্থায় ঠাকুর তাঁর নরেনকে কী দিয়ে ফকির হয়েছিলেন আর নরেন কী পেয়েই রাজা হয়েছিলেন? -ঠাকুর বৈরাগ্য দিয়েছিলেন, তীব্র সাধনা করার শক্তি দিয়েছিলেন। স্বোপরি ভালােবাসা বাভগবৎ প্রেমের সুধা দান করেছিলেন। পদব্রজে সারা ভারত পরিক্রমার শক্তি দিয়েছিলেন। আমেরিকার শিকাগােতে মহসভায় বক্তৃতা দেওয়ার আশীর্বাদ দিয়ে অন্তরের শক্তি বৃদ্ধি করেছিলেন। সেই সভাতে বাংলার এক মহাজ্ঞানী তাঁর পাশের বক্তাকে বলেছেন, সেই ফচকেনরেন’দু’দিন শ্রীরামকৃষ্ণদেবের কাছে গিয়ে বিরাট জ্ঞানী হয়ে গেছে? কী জানে? কী করে এরা আমন্ত্রণ পায়? সেই দিনের একঘণ্টার ঠাসবুনট বক্তব্যে নরেন্দ্রনাথ সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। সময়সীমা পার করেও শ্রীরামকৃষ্ণদেবের আশীর্বাদে তিনি বেশি সময় বক্তৃতা করলেন। পরের দিন আবার তার ডাক পড়ল। ধর্ম সম্বন্ধে যে গোঁড়ামি, ভয়, সংকীর্ণতা আছে তা সব ধুয়ে মুছে দিয়েছিলেন। কোথা থেকে শিখলেন? কে তাকে দিল এই ঐশ্বর্য, জ্ঞান, বাগ্মিতা, বিচার, বুদ্ধি এবং যােগ?-শ্রীরামকৃষ্ণদেব। আমাদের রস। ‘নরেন্দ্রনাথ স্বামীজি নামে পরিচিত। স্বামীজি ধর্ম মানে বললেন, manifestation of divinity, present in human mind. কী সেই divinity ? গীতা বলছে সমস্ত মানুষ ২৬ টি (ছাব্বিশ) সৎ ও অসং গুণ নিয়ে জন্মায়।সেই গুণগুলি হল ত্যাগ, দয়া, সততা, লজ্জা, ইন্দ্রিয় সংযম, অহিংসা ইত্যাদি। যে মানুষ দৈনন্দিন জীবনে প্রতিক্ষণে সংগুণগুলাে ব্যবহার করে এবং উদভাসিত করে, সেই ধার্মিক। ধর্ম মানে মন্ত্র নয়, ধর্ম মানে তিলক কাটা নয়, ধর্ম মানে ছুত বা অচ্ছুত মানা নয়। এই ‘ধর্ম আমাদের শিখিয়েছেন স্বামীজি। আর স্বামীজি শিখেছেন তার প্রিয়, তার বড়াে আদরের গুরুদেব শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের কাছে।

য়ে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম। গল্প প্রায়শই শোনা যায়। এই সকল বিবরণীতে ভূতকে নানাভাবে বর্ণনা করা

হয়েছে: কখন অদৃশ্য বা অস্বচ্ছ বায়বীয় সত্ত্বায়, কখনও বা বাস্তবসম্মত সপ্রাণ মানুষ বা জীবের আকারে। প্রেতাত্মার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে ভবিষ্যদ্বাণী করার বিদ্যাকে কালাজাদু বলা হয়ে থাকে।

প্রাক-শিক্ষিত সংস্কৃতিগুলোর মধ্যে ভূতের প্রথম বিবরণ পাওয়া যায়। সেযুগে কিছু নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রথা, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, ভূত-তাড়ানো অনুষ্ঠান ও জাদু অনুষ্ঠান আয়োজিত হত মৃতের আত্মাকে তুষ্ট করার জন্য। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, ভূতেরা একা থাকে, তারা নির্দিষ্ট কিছু ঘুরে বেড়ায়, জীবদ্দশায় যেসকল বস্তু বা ব্যক্তির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল সেগুলিকে বা তাদের তাড়া করে ফেরে। তবে ভূত বাহিনী, এমনকি ভৌতিক জীবজন্তুর কথাও শোনা যায়।

মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আত্মা দেহত্যাগ করে। জীবাত্মা অবিনশ্বর। তবে কখনো কখনো জীবিত সামনে আকার ধারন করে। এটি পূরাণভিত্তিক একটি আধিভৌতিক বা অতিলৌকিক জনবিশ্বাস। প্রেতাত্মা বলতে মৃত ব্যক্তির প্রেরিত আত্মাকে বোঝায় ।

সাধারণের বিশ্বাস কোনো ব্যক্তির যদি খুন বা অপমৃত্যু(যেমন: সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা ইত্যাদি) হয় তবে মৃত্যুর পরে তার হত্যার প্রতিশোধের জন্য প্রেতাত্মা প্রেরিত হয় । বিভিন্ন ধরনের রয়েছে এ সম্পর্কে ।

বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতিতে ভূতের অস্তিত্ব বিশ্বাস করা হয়। আবার কিছু ধর্মে করা হয় না, যেমন ইসলাম বা ইহুদী ধর্মে। এসব ধর্মাবলম্বীদের মতে মানুষের মৃত্যুর পর তার আত্মা চিরস্থায়ীভাবে পরলোকগমন করে আর ইহলোকে ফিরে আসে না।

13

আজ অভয়বাবু বলছেন, গোয়েন্দাগিরি করতে গেলে চৌকস জ্ঞানী,হতে হবে। পেশার সঙ্গে আমার পড়াশুনার অমিল হতেই পারে।
তোতন বললেন, ঠিক, সফল গোয়েন্দা সর্ববিষয়ে পারদর্শী হয়।
অভয় শুরু করলেন কাহিনী।
মা সারদা সংসারে নির্লিপ্ত হয়ে বিচরণ করতেন। সংসারে তিনি থাকলে কোনোদিন সংসারি হন নি। তিনি বলেছেন, সাধন করতে করতে দেখবে, আমার মাঝে যিনি, দুলে বাগদি ডােমের মাঝেও তিনি। সবার হৃদয়ে সেই পরমব্রহ্মের বাস। কেউ ছােটো নয় বা কেউ বড়াে নয়। তথাকথিত বিশেষজ্ঞ বা শিক্ষিত হয়েও যারা এর মর্ম বুঝতে পারেন না, মা সারদা অতি সহজ কথার মাধ্যমে সকলকে তাই বুঝিয়ে দিতেন। এখানেই তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্বের পরিচয়। তিনি বলতেন, ‘জ্ঞান হলে মানুষ দেখে, ঠাকুর ঠাকুর সবই মায়া। কল্পিত ছবি : সুরমকরণ মাস, এয় শ্রেণি, আঙ্গি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমারপাড়া, কাটোয়া মুর্তি অপেক্ষা স্বরূপ অনুভূতিই ছিল তার কাছে মুখ্য। সাে অহম্ আমিই সেই পরমাত্মা অংশ। এই চেতনা এলে তবেই সাধনা সফল হয়। মানুষের মধ্যেই ভগবান বিরাজমান। আলাদা করে কোনাে মন্দিরের প্রয়ােজন নাই। বিশ্বছন্দের সঙ্গে এক হাতে পারলেই জ্ঞান পূর্ণ হয়। জ্ঞানীজন সংসারের অনিত্য অসার অংশ বাদ দিয়ে হংসের মতাে সারবস্তু গ্রহণ করে থাকেন। সন্তানের প্রতি বিগলিত বাৎসল্যে মা সারদা আবার দ্রবময়ী এবং স্থল-সুক্ষ্মাদি সকল পদের উৎস ভূমিরূপে নিত্য নাদময়ী। সমগ্র মনুষ্য সমাজের অবােধ, অজ্ঞান, অসহায় সন্তানদের নিত্য প্রতিপালন করেছেন। মা সারদাদেবী ডাকাত আমজাদ, শরৎ, সৎ-অসৎ এমনকি অত্যাচারী ব্রিটিশদেরও তাঁর স্নেহকোমল কোলে স্থান দিয়েছিলেন বলে তিনি ‘অন্বিতমা-সারদা। শ্রীরামকৃষ্ণদেব তাই তাকে যােড়শী পূজা করে বিশ্বজননীর আসনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং গােলাপ মাকে বলেছিলেন, “ও সারদা, সরস্বতী জ্ঞান দিতে এসেছে। রূপ থাকলে পাছে অশুদ্ধ মনে দেখে লােকের অকল্যাণ ন হয়, তাই এবার রূপ ঢেকে এসেছে। কেউ বিদেশ থেকে এলে তাকে সমাজচ্যুত করা হতাে। মা সারদা কিন্তু র দেশাচারকে উপেক্ষা করেই স্বামীজিকে সমুদ্রযাত্রার অনুমতি দিয়েছিলেন। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম প্রবাদতুল্য। মনুষ্যত্বের অপমান যেখানে, সেখানেই তার জ্ঞানের স্ফুরণ ও অভয় দান। আধ্যাত্মিক ইতিহাসে ও মা সারদা এক বিরল দৃষ্টান্ত।

14
অভয়,বলছেন, নিশাচর প্রাণীরা যখন রাত্রে আহারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায় তখন মানুষসহ আরও অনেক প্রাণী যারা দিনের বেলায় জেগে থাকে, তারা ঘুমায়। নিদ্রা যদি ঠিকমতাে না হয় তাহলে স্বাস্থ্য ভালাে থাকে না। সারাটা দিন শরীর খারাপ করে।যে সব মানুষের রাতে কাজ তারা দিনের বেলায় ঘুমিয়ে নেন। শরীর ও মন সুস্থ রাখতে নিদ্রা বা ঘুমের গুরুত্ব লােভাবে অপরিসীম। বিশেষজ্ঞের মতে, প্রতিদিন টানা আট ঘণ্টা ঘুমের প্রয়ােজন। শিশুরা আট ঘণ্টার বেশি ঘুমায় আর প্রবীণ ব্যক্তিরা চার বা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান। বয়সের তারতম্য অনুসারে এই সময় কম বা বেশি হতে পারে। গত একশাে বছরে ঘুমের পরিমাণ গড়ে শতকরা কুড়ি ভাগ কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা এর জন্য বৈদ্যুতিক আলোর আবিষ্কার এবং তার জন্য মানুষের কাজের পরিধির বিস্তারকে দায়ী করেন। মানবদেহের জৈব ঘড়ি (Biological clock) অনুযায়ী যােল ঘণ্টা কাজকর্মের পর আট ঘণ্টা ঘুমের একান্ত প্রয়ােজন। যাঁরা পরিপূর্ণ নিদ্রার সুযােগ পান না, তাঁদের দিনের বেলাতে ঢুলুনি বা micro sleep ঘটে থাকে। এর জন্যে বিছানার প্রয়ােজন হয় না। চেয়ারে বসেই অনেকে একটু আধ্টু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। কথিত আছে, নেপােলিয়ান ঘােড়ার পিঠে ছুটন্ত অবস্থায় কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিতে পারতেন। মোটর সাইকেল চালানাের সময় অনেকেই ‘ঢুলুনি’র পাল্লায় পড়ে দুর্ঘটনা ঘটান। বাসের ড্রাইভার হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ার কারণে অনেক সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হন। ঠিকমতাে ঘুমােতে না পারার জন্যে ব্যক্তি ও সমাজের অশেষ ক্ষতি হয়। যাদের রাত্রে ডিউটি থাকে তারা স্বাভাবিক অভ্যাসের বশে ঘুমিয়ে পড়ে। মারাত্মক অনেক দুর্ঘটনা রাত্রে ঘটেছে এমন উদাহরণ অনেক আছে। যেমন ভয়াবহ ভূপাল গ্যাস দুর্ঘটনা, গাইশাল ট্রেন দুর্ঘটনা অথবা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় খ্রি-মাইল আইল্যান্ডে পরমাণু কেন্দ্রের মারাত্মক দুর্ঘটনা সবই ঘটেছিল রাত্রিবেলায়। দীর্ঘ একটানা অনিদ্রা ক্যান্সার, আলসার, মানসিক অবসাদ প্রভৃতি রোগের কারণ। অনিদ্রা দেহে রােগ প্রতিরােধের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। sound sleep, stomach lining মেরামত করে। ঘুমের সময় বারবার ব্যাঘাত ঘটলে নানারকম রােগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। হাভার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, রাত্রে নিয়মিত সুনিদ্রা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির সহায়ক। তারুণ্য বজায় থাকে দীর্ঘদিন অনিদ্রার ফলে। নিদ্রা ভালােমতাে না হলে বার্ধক্য ত্বরান্বিত হয়। শরীরের কার্বোহাইড্রেট মেটাবলিজম ও হরমােন সংক্রান্ত বিক্রিয়া ব্যাহত হয়। বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। কোষপর্দা ও DNA ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশি ঘুম পরমায়ুবৃদ্ধি করে (৬-৮ ঘণ্টা)।

অল্পবয়সী তরুণদের ৩-৪ ঘণ্টা অন্তর খিদে পায়। কিন্তু রাত্রে ৮-১০ ঘণ্টা না খেয়ে অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারে। দীর্ঘ নিদ্রা সময়ে ঘ্রেলিন(ghrelin) হরমোন নিঃসৃত হয় অপেক্ষাকৃত অল্প পরিমাণে। যার জন্যে দেহে ক্ষুধার উদ্রেক সামান্য হয়। ঐ সময় ক্ষুধা দমনকারী লেপাটিন-এর নিঃসরণ বর্ষিত হয়। ফলে মানুষ নিশ্চিন্ত হয়ে

15
আজ তোতন মুডে আছে।কবি কবি ভাব। সে বলে রতনকে, ঢেউ ঢেকেছে নাম ধাম।প্রিয়ার মুখ ভাবলে এক নদীর কথা মনে হয় । আবার ভয়ংকর বর্ষার নদী গ্রামের পর গ্রাম উজাড় করে দেয়। আবার “মহাকাল তােমার ওই রূপের ছটা সব খেয়ে নিয়েছে আর তার কোনাে স্মৃতি না রেখেই”। সবিনয়ে বলি, শুধু বাক্যের মাধ্যমে বিশ্লেষণ না করে অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করলে দেখা যাবে এক লহমায়। কবি একটি সময়কে নিয়ে চর্চা শুরু করেছেন, “বরং নিজেই তুমি লেখাে নাকো একটি কবিতা/ বলিলাম স্নান হেসে ।” সমারূঢ়, জীবনানন্দ দাশ । এখন অনেক কবি’—এই কথাটি প্রায়ই শুনে থাকি। কিন্তু আমি ভেবে দেখলাম কবি কচিৎ মেলে কালে ভব্যে। কেউ কেউ ককবিতা লিখতে চেষ্টা করেন, আমি সেই দলের। কবিতা হয় না। কবিতা লেখক আর কবি এই দুইয়ের মধ্যে আছে, ‘হেল-হেভেন পার্থক্য। ধরা যাক কবিতা এমনকি এলােমেলাে মনকেও কুক্ষিগত করে। আলাের নজর দেখলেই বা পড়লে,শঙ্খ ঘােষের শ্রেষ্ঠ কবিতা । এখানেই কবির সাফল্য। কবিতার ভূমিকায় আছে সত্যি বলা ছাড়া আর কোনাে কাজ নেই। কবি রণজিৎ দাশের একটি কবিতার দুটি লাইন কাজ নেই কবিতার’..।নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেছেন, মনে পড়ছে, কবি লিখেছেন : ‘চিঠি ভালােবাসাে করে লিরিকের বাংলা আমরা করেছি গীতিকবিতা’, এটা তুমি, ভুলে যাও চিঠির লেখক থাকে / বহুদূরে দবীর ছিল। হওয়া উচিত ব্যক্তিগত কবিতা। বিশ্বসংসারে ‘লিরিক সাহারানপুর। এখানে ভালোবাসার রূপে বা কবিতাই হল আমি সর্বস্বতার একমাত্র বৈধ জায়গা। মুর্তিতে ধরা দিচ্ছে চিঠি আর এই চিঠির লেখক একজন কবিকে প্রথমে একদম প্রারম্ভে, কবিদের ভালোবাসার ব্যর্থতাকে জয় করেছে এইসব লাজক দয়ে ক্রাফট শেখার জন্যে অন্য কবিদের, সর্বজনস্বীকৃত কবিতা বা রচনা করে। কবি জয় গােস্বামীর মালিকা কে কবিদের মহান কবিদের রচনার দ্বারস্থ হতেই হয়। কবিতাটিও প্রেমময়। শুনেছি, মালিকাফুল গাছে/ মে কবিতা লেখা অন্য শিক্ষার মতােই গুরুমুখী বিদ্যা। আর আছে, যুবরাজ-বাঁশি আছে/… পালকেরা বলে কানে তার সঙ্গে চালিয়ে যেতে হয় পড়াশুনা। কবিতা ও কানে / মালা গেছে মুরলী সন্ধানে”। রাধাকৃষ্ণ- র কবিতা লেখার ব্যাকরণ’ এই দুই বিষয় নিয়ে পড়তে সম্পর্কিত মালা; মুরলী একই প্রেম দুই কবির কাছে হবে। কবিতা লেখার ব্যাকরণ বলতে আমি জয় দু’ভাবে ধরা এড়ে। দুটি কবিতাতেই আছে। গােস্বামীর গোঁসাইবাগান ১, গোঁসাইবাগান ২; ‘রােমান্টিজমএই সামান্য পরিসরে এই বিক্রয় নিয়ে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘কবিতার ক্লাস’ প্রভৃতি আরও বলা কঠিন। তর আমার মতে, কবির আত্মজীবনী অসংখ্য পুস্তকের নাম বােঝাতে চাইছি। কবিতাকে কবিতা হয়ে ওঠে। কবির জীবন কষ্টের, লাঞ্ছনার আর ভালোবাসার চেষ্টা করতে করতে, কবিতা পড়তে অপমানের। কিছুদিন আমার এক বন্ধু কবিতা পড়তে কবিতা লেখার চেষ্টা করতে করতেই একজন লিখেছিলেন। অনেক অভিজ্ঞতার পরে একদিন কবি হয়ে ওঠেন। কবিদের পাগলামির মধ্যে ওই বললেন, আমি আর কবিতা লিখি না কেন জানতে পদ্ধতি বুঝতে একজন কবিতা লেখকের অনেক সময় চাওয়াতে তিনি বললেন, ‘আমি আর অপমানিত হতে চলে যায়। জীবনে যার মা চড় আছে আধুনিক চাই না’, কবিতাকে ভালােবাসা যন্ত্রণার। ব্যঙ্গ চালিয়ে যেতে ইয় পড়া রাজোর গেছে মুরলী সন্ধানে রাধা কৃষ্ণ- কবিতা লেখার ‘ব্যাকরণ’ এই দুই বিষয় নিয়ে পড়তে সম্পর্কিত মালাং মুরলী একই প্রেম দুই কবির কাছে হবে। কবিতা লেখার ব্যাকরণ বলতে আমি জয় দু’ভাবে ধরাএড়ে। দুটি কবিতাতেই আছে গােস্বামীর গোঁসাইবাগান ১, গোঁসাইবাগান ২; ‘রোমান্টিজম এই সামান্য পরিসরে এই বিক্রয় নিয়ে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতার ক্লাস প্রভৃতি আরও বলা কঠিন। ত আমার মতে, কবির আত্মজীবনী অসংখ্য পুস্তকের নাম বােঝাতে চাইছি। কবিতাকে কবিতা হয়ে ওঠে।কবির জীবন কষ্টের, লাঞ্জনার আর ভালোবাসার চেষ্টা করতে করতে, কবিতা পড়তে অপমানের। কিছুদিন আমার এক স পড়তে কবিতা লেখার চেষ্টা করতে করতেই একজন লিখেছিলেন। অনেক অভিজ্ঞতার পরে একদিন কবি হয়ে ওঠেন। কবিদের পাগলামির মধ্যে ওই বললেন, ‘আমি আর কবিতা লিখি না কেন জানতে

|পদ্ধতিবুঝতে একজন কবিতা লেখকের অনেক সময় চাওয়াতে তিনি বললেন, ‘আমি আর অপমানিত হতে চলে যায়। জীবনে যার মা চড় আছে আধুনিক চাই না’, কবিতাকে ভালােবাসা যন্ত্রণার। ব্যঙ্গ কাব্যভাষা তার রহস্য উন্মােচন করবে। জীবনে, রক্তে বিদ্রুপের ভয়ে বন্ধু আমার কবিতা লেখা ছেড়েই কবিতার ‘বন্ধু পােকা কবিতার ভাষা আত্মস্থ করতে দিলেন। আসলে তিনি কবিতা লেখক ছিলেন না, তিনি সাহায্য করে। অনেকেই মাঝ রাস্তায় হাল ছেড়ে দেয়। ছিলেন কবি। কবিরা হাল ছাড়েন না। সমস্ত ধরণের ‘কবিতা- ভালোবাসার পিছনে লেগে থাকতে হবে আঘাত হজম করার ক্ষমতা কবিদের থাকে। আর লেগে থাকলেই হবে। আর অন্তর্মুখীনতাকেই একটি গদ্য রচনায় জয় গোস্বামী লিখেছিলেন, সৃজনশীল উৎস জ্ঞানে যাদের অনুভব ভূমি উর্বর সমাজও তেমনি আমাদের মনটাকে নষ্ট করে ছেড়ে তাদের কাব্যভাষা নতুন কবিতা আবিষ্কার করবেই। দিতে চায়। বারবার আঘাত করে। টাকা সবচেয়ে যৌন বাংলা কবিতায় যাদের উল্লেখযােগ্যতা পাঠকের আবেদনপূর্ণ, সবচেয়ে কালো ক্ষমতাময়ী, সবচেয়ে আগ্রহের কারণ তাদের সকলের কাব্যকীর্তির আভাস মনােমুগ্ধকর ঘাতকশক্তি। এর সঙ্গে কবিতা হাতে যুদ্ধ দিলেও বাকি থেকে যান অনেকেই। কয়েকজনের করতে গেলে তার পরিণাম ভয়াবহ হবার সম্ভাবনা। কবিতার লাইন একটু তুলে ধরতে চাই এই প্রেক্ষিতে। সঞ্জীব প্রামাণিকের ‘শিকার কবিতার দুটি লাইন: তাই পরিশেষে বলতে ইচ্ছে করে বিশ্বকবির কথায়, “হরিণ শিশুর নূতন শিং বাহির হইবার সময় সে যেমন যেখানে সেখানে গুঁতা মারিয়া বেড়ায় নুতন কাব্যোম লইয়া আমি সেইরকম উৎপাত আরম্ভ তীর বেঁধা এক সম্বর বৃথা ডানা ছেড়ে অসহায় লজ্জায় রাত চাদতে নিভিয়ে আবার ঘুমােতে যায়। লজ্জায় চাদকে নিভিয়ে আবার ঘুমাতে করলাম- আর এই উৎপাত একদিন কবিকে জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভে সাহায্য করেছিল একথা আজ সকলের জানা। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে রাগ ১) যাওয়ার মধ্যে উদ্ভাবনের বাতাস। আবার শিকারের জের সাফল্যে রাত্রির কি সত্যি ঘুম আসবে? একজন কবিকে চিনে নিতে গেলে তার একটি বই ভালাে-মন্দ একটি চাকরি পাওয়ার পর কবিতা গৌণ নয়, একটি লেখাই যথেষ্ট। কবি আল মাহমুদ-এ হয়ে ওঠে, তবে তা কোনােমতেই স্বাস্থ্যকর নয়। কবিতা লেখা কটি লাইন উদ্ধৃত করা যাক। কবি লিখেছেনঃ একটি সাধনা যেভাবে জীবনের নানান ক্ষেত্রে নানান

“তােমার মুখ ভাবলে, এক নদী/বুকে আমার জলের মানুষের কাছে নানাভাবে সাধনযােগ্য হয়ে ওঠে। ধারা তােলে/সামনে দেখি ভরার ভাতের থালা/ কলের বাটি উপচে পড়ে ঝােলে। লিখেছেন, ‘হায়রে নদী খেয়েছে

16

কেতুগ্রাম থানার ভুলকুড়ি গ্রামে সন্ধ্যা ছ’টার পর আর কেউ বাইরে বেরোয় না ।একমাস যাবৎ এই অন্ঞ্চলে ভূতের অত্যাচার খুব বেড়ে গেছে ।
গ্রামের শিক্ষিত ছেলে বাবু ছুটতে ছুটতে এসে আমাকে বললো, জানো দাদা জবা দের দোতলা ঘরে জবা শুয়েছিলো । ঠিক বারোটার সময় জানলা দিয়ে হাত গলিয়ে জবার মাথার চুল ছিঁড়ে নিয়েছে ।
—–কবে রে বাবু
—— গতকাল রাতে
——এখন কেমন আছে
—–এখনি ডাক্তার খানা নিয়ে যাবে বলছে

আমি কয়েকদিন ধরে এইরকম কথা শুনছি ।ভাবছি কি করা যায় ।আমার বাড়িতেও তো এইরকম আক্রমণ হতে পারে ।

আজকে রাতে রাস্তায় কেউ নেই । আমি দোতলার বারান্দায় রাত বারো টা অবধি জেগে থাকলাম । কিন্তু ,কাকস্য পরিবেদনা । কেউ নেই । একটু ভয় ভয় লাগছে ।তারপর রাত্রি র অপরূপ রূপে মগ্ন হয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম ।সকাল বেলা পেপার আর চা নিয়ে কোকিলের ডাক শুনছিলাম ।
হঠাৎ মন্ডল পাড়ার স্বদেশ এসে আমেজ টা নষ্ট করে দিলো ।
—–দাদা,কালকে আমাদের পাড়ায় ভূতটা ঘুরছিলো ।প্রায় দশ ফুট লম্বা ,বড়ো হাত আর কালো রঙ ।ভয়ে আমার বাবা অজ্ঞা ন হয়ে গিয়েছিলো ।
____এখন ভালো আছেন ?

_____না না ,এখনও বু বু করছে ।

আমি আবার চিন্তার মধ্যে ডুবে গেলাম ।কি করা যায়,এই সমস্যা সহজে সমাধান করা খুব কঠিন ।প্রকৃতির নিয়মে আবার রাত হলো ।গ্রামের সহজ সরল মানুষ এই সব বিপদের দিন অসহায় হয়ে যায় ।রাতে শুয়ে চিন্তা করলাম মুস্কিল আসান করার জন্য কিশোর মনোবিজ্ঞানের সুমন্ত ভট্টাচার্য মহাশয়কে খবর দিতে হবে । সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে চড়খীর অমল কে ফোন করলাম । আমার মনে আছে অদৃশ্য নাথ সেই ভয়ংকর বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছিলো জয়ন্ত দা ও হৈমন্তী দি র জন্য।

অমল ফোন করে সুমন্ত ভট্টাচার্য মহাশয়ের আসার সমস্ত ব্যবস্থা করে দিলো ।সঙ্গে আসছেন কিশোর মনো বিজ্ঞানের সহ সম্পাদনা সচিব রত্না দিদি । তিনি বিখ্যাত পরিবেশ বিজ্ঞানী । আমার একটু সাহস বাড়লো । ওদের সাথে আমার বন্ধু অমল কেও আসতে বললাম ।

সেই রাত কাটলো ভয়ে ভয়ে ।সকালে উঠে শুনলাম ব্রাহ্মণ পাড়ার দীপক বাইরে বসে গান করছিলো আর ভূতে তাকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছো । শুনে আমার খুব রাগ হলো ।ভাবলাম, দাঁড়া আজকের রাতে তোদের ব্যবস্থা হচ্ছে।

দাদা ও দিদি ঠিক বারোটার মধ্যে অমল কে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়িতে চলে এলেন ।তাদের দেখে আমার বুকের ছাতি চল্লিশ ইঞ্চি হয়ে গেলো মনে হচ্ছে।

ঠিক চারটের সময় মঙ্গল চন্ডীর উঠোনে গ্রামবাসীরা হাজির হয়ে গেলো । জয়ন্ত দা বলতে শুরু করলেন, আজ আমরা সবাই রাতে জেগে থাকব । কে বা কারা এই কুকর্ম করছে আমাদের জানা দরকার ।
একজন বলে উঠলেন, ভূতের সঙ্গে লড়াই করে কি পারা যাবে ।
দিদি বললেন, ভূত বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই । তারপর তিনি আরও কিছু কথা বললেন গ্রামবাসীদের সাহসী করার জন্য ।
আবার একজন বললেন, তাহলে আগুন জ্বলে উঠছে কেমন করে ।
দাদা বললেন, এসব কিছু বিজ্ঞান বিষয়ের ব্যাপার ।আগে ধরা হোক অপরাধী কে তারপর সব বোঝা যাবে ।

এখন রাত দশটা বাজে । গ্রামের সবাই জেগে আছে ।ঠিক রাত বারোটার সময় একটা দশ ফুটের লোক হেঁটে আসছে গ্রামের দিকে । দাদা থানায় ফোন করে দুজন বন্দুকধারী পুলিশ আনিয়েছেন ।সাধারণ লোকের বুদ্ধির সঙ্গে এখানে ই দাদার পার্থক্য । কখন যে সমস্ত ব্যাবস্থা করে রেখেছেন কেউ জানি না । ভূত কাছাকাছি আসা মাত্র পুলিশ দু রাউন্ড গুলি চালালো ফাঁকা আকাশে । গুলির আওয়াজ শোনা মাত্র ভূত টি ভয়ে মাটিতে পড়ে গেলো । সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের সাহসী ছেলেরা বিকট চিৎকার করে ধরে ফেললো ভূত বাবাজিকে । বেচারা তখন জোড়া হাতে ক্ষমা চাইছে ।

তাকে বিচারের জন্য ফাঁকা জায়গায় আনা হলো ।সবাই বসে পড়লেন । এবার দাদা বলতে শুরু করলেন,দেখুন সবাই এই চোরটি রণ পা ব্যবহার করেছে লম্বা হওয়ার জন্য । রণ পা টি বাঁশের তৈরী নয় ।
একজন বললো,তাহলে ও ছোটো বড় কি করে হতো ।
দিদি বললেন, রণ পা টি বিশেষ ধরণের । এর মাঝে একটি শক্ত স্প্রিং আছে। যার ফলে এ যখন লাফ দি তো তখন এটি ছোটো বড়ো হতো ।
আর একজন বললো, তাহলে মুখ দিয়ে আগুন বেরোতো কি করে।
দিদি বললেন, এটা তো সহজ ব্যাপার । সার্কাসে আপনারা দেখে থাকবেন মুখের মধ্যে পেট্রোলিয়াম বা কেরোসিন জাতীয় দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে এরা মানুষকে অবাক করে দেন । এই চোরটিও তাই করেছে ।
দাদা এবার চোরটিকে ধমক দিয়ে বললেন,তুমি জঘন্য অপরাধ কেন করছো জবাব দাও ।

এবার চোরটি উঠে জোড় হাতে বললো,আমরা মাদক দ্রব্য চোরাপথে চালান করি । তাই ভূতের ভয় দেখিয়ে আমরা মানুষকে বাড়িতে ঢুকিয়ে রাখি ।
এর ফলে আমাদের চোরা চালানে সুবিধা হয় ।

এরপর দাদা চোরটিকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন । দাদা ও দিদির সাহায্যে একটি বড় চোরের দল ধরা পড়লো ।

দাদা ও দিদি জলপাইগুড়ি র বাড়িতে আছেন। পাহাড়ের রাজনৈতিক উত্তাল আবহাওয়া র মধ্যে ও তারা খবরের সন্ধানে সেখানেই আছেন । সাংবাদিক হিসাবে তাদের নাম বিখ্যাত সারা বাংলায় ।

শিলিগুড়ি আসার পথে দেখা হয়ে গেলো অমল বাবুর সঙ্গে ।

অমলবাবুকে সঙ্গে নিয়ে দাদা ও দিদি চলে এলেন জলপাইগুড়ি র নিজের বাড়িতে ।

রাতের বেলায় খাওয়ার সময় অমল বাবু দাদা ওদিদিকে এক নতুন সমস্যা র কথা বললেন ।

দাদা বললেন, কি সমস্যা বলুন তো ?

অমল বাবু বললেন, সমস্যা এবার অন্য রকম । এক জন প্রতিবন্ধী মানুষ আমাদের গ্রামে এসে দরজা ঘাটের জঙ্গলে র কাছে কলা বাগানে বসে গান করেন । আর বারো বছরের নীচে কোনো প্রতিবন্ধী ছেলে বা মেয়ে এলে এক সপ্তাহে র মধ্যেই তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলছেন ।

দিদি বললেন, আমাদের এই মহাপুরুষ কে দর্শন করতেই হবে । তা না হলে আমাদের জীবন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে ।

দাদা বললেন, আগামী কাল সকালে আমরা সবাই তার দর্শনে মুকুটমণিপুরে যাবো ।

তারপর অমল বাবুর সঙ্গে দাদা ও দিদি পৌঁছে গেলেন স্বপ্নের গ্রামে ।

দাদা দেখলেন সুন্দর এক টা নদী বয়ে চলেছে। দীর্ঘতম মাটির বাঁধে চওড়া রাস্তা ।

দূরে দেখা যাচ্ছে পাহাড় । সবকিছু মিলিয়ে এক স্বপ্নের জগতে এসে পড়েছেন তারা ।

কংসাবতী নদীতে ঠান্ডা জলে চান করে মনে হলো সমস্ত শরীর যেন পবিত্র হয়ে গেলো ।

ঠিক বিকেল চারটের সময় অমল বাবু দাদা ও দিদি কে নিয়ে কলা বাগানে গেলেন । সেখানে দেখলেন প্রতিবন্ধী মানুষটি শত প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে মানুষের সেবা করে চলেছেন ।

তার কাছে এখন চারজন আট থেকে দশ বছরের ছেলে আছে । তাদের তিনি প্রায় সারিয়ে তুলেছেন ।

দাদা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কতজনকে সুস্থ করে তুলছেন অথচ নিজে কেন সুস্থ হচ্ছেন না ।

লোকটি বলতে শুরু করলেন, আপনাদের দেখে শিক্ষিত মনে হচ্ছে। আমি সবাই কে এসব কথা বলি না । আপনারা মন দিয়ে শুনুন ।বারো বছরের নীচে মানুষের শরীরের কোষ , কলা সবই নরম থাকে। তারা বিভাজিত হতে পারে । কিন্তু আমার সেই সুযোগ হয় নি ।

দাদা বললেন, এবার আমি বলি । তারপর আপনি প্রচুর পড়াশোনা করার পরে গবেষণা শুরু করলেন

17

বর্ধমান জেলার সিঙ্গি গ্রামে কবি কাশীরাম দাসের জন্ম স্থান ।অই গ্রামে আমার এক আত্মীয় বাড়িতে ক্ষেত্রপাল পুজোর সময় বেড়াতে গেছিলাম ।এই পুজোর সময় এই গ্রামে খুব ধূমধাম হয় ।

রতন,তোতন আমার থেকে বয়সে একটু ছোটো হলেও বন্ধু র মতোই ভালোবাসি । যেখানে যাই আমরা দুজন একসাথে যাই ।

আমার অনেক দিনের ইচ্ছা সুমন্তদা ও রত্না রায় কে এই সিঙ্গিগ্রামের পুজো দেখাবো । রতন কে আগেই বলে রেখেছি । দাদা ও দিদিকেও একমাস আগে বলে রেখেছি ।আজ তাঁরা আসবেন ।

আমরা ক্ষেত্র পাল তলায় ঢাকের তালে মত্ত । হঠাৎ একটি ছোট ছেলে ছুটতে ছুটতে এসে সবাই কে বলছে, সবাই দেখে এসো মিত্র বাড়িতে ঠাকুর এসেছে ।

আমরা ছেলেটির কথা শুনে কৌতূহল বশত মিত্র বাড়িতে গিয়ে দেখি লোকে লোকারণ্য ।

—–কি হয়েছে রে,
একটি মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলাম । মেয়েটি বললো, জগন্নাথ মন্দিরের ভিতর স্বয়ং জগন্নাথ ঠাকুর এসেছেন ।

ভিড় ঠেলে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম , একটি বড় পোকা ঠিক জগন্নাথ ঠাকুরের মত সব কিছু ।খুব আশ্চর্য হওয়ার কথা ।

এদিকে দাদা ও দিদি এসে গেছেন । ওনাদের বন্ধুর বাড়ি নিয়ে গোলাম । কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হলে গ্রামের সবকিছু ঘুরে দেখলেন । পাশের গ্রামে অনেক ভেড়া ,ছাগল জাতীয় পশু দের বলি দেওয়া হচ্ছে দেখে দাদা ও দিদির খুব রাগ হলো ।

ওনারা বললেন, এই সুযোগে বলি প্রথা বন্ধ করতে পারলে ভালো হয় । দেখা যাক এই নিরীহ পশু দের যদি বাঁচানো যায়। তার জন্য একটু মিথ্যার আশ্রয় নিতে হলে নিতে হবে ।

যাইহোক গ্রাম ঘুরে বেশ ভালো লাগলো ওনাদের ।রাত্রিবেলা সোরগোল । জগন্নাথ ঠাকুরের প্রসাদ খেয়ে অনেকেই অসুস্থ । তারা সবাই কাটোয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ।

দাদা মন্দিরের ভিতর ঢুকে বললেন, এত পশুর বলি দান দেওয়া হচ্ছে এই বিপদ অই কারণেই হয়েছে । গ্রামের সবাই যদি প্রতিজ্ঞা করে , বলি প্রথা বন্ধ করবে, তাহলে সবাই সুস্থ হবে । সবাই ঠাকুরের সামনে তাই বললো । আর কিছু করার নেই । বলি বন্ধ হলেই হবে ।

অনেক কিশোর কিশোরী ,বুড়ো বুড়ি এই সিদ্ধান্তে খুব খুশি । গ্রামের বেশির ভাগ লোক পশু বলি চায় না ।কিন্তু অভিশাপের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না ।

হাসপাতাল থেকে সবাই সুস্থ হয়ে ফিরে এলে দিদি বললেন, এই পোকা টি জগন্নাথ ঠাকুরের মত দেখতে । কিন্তু এটি একটি বিষাক্ত পোকা । গভীর জঙ্গলে ওরা থাকে । রাতে প্রাসাদের আঢাকা থালার মধ্যে যাওয়া আসা করার ফলে বিষাক্ত ফ্লুয়িড খাবারে লেগে যায় । সেই প্রসাদ সকালে খাওয়া হয়,আবার তারপরে বলিপ্রথার পাপের ফল ।এই দুয়ে মিশে আমাদের গ্রামের অনেকেই অসুস্থ ।
বিজ্ঞানের যুক্তি দিয়ে সব কিছু বিশ্লেষণ করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যায় জলের মতো ।

দাদা বললেন, মনে রাখতে হবে , আমরা মানুষ ,পশু নই । তাই আমরা নিজেরা বাঁচার পাশাপাশি আর বাকি সবাইকে বাঁচতো দেবো । তবেই আমরা সুন্দর এক পৃথিবী সৃষ্টি করতে পারবো

18

বর্ধমান জেলার সিঙ্গি গ্রামে কবি কাশীরাম দাসের জন্ম স্থান ।অই গ্রামে আমার এক আত্মীয় বাড়িতে ক্ষেত্রপাল পুজোর সময় বেড়াতে গেছিলাম ।এই পুজোর সময় এই গ্রামে খুব ধূমধাম হয় ।

রতন,তোতন আমার থেকে বয়সে একটু ছোটো হলেও বন্ধু র মতোই ভালোবাসি । যেখানে যাই আমরা দুজন একসাথে যাই ।

আমার অনেক দিনের ইচ্ছা সুমন্তদা ও রত্না রায় কে এই সিঙ্গিগ্রামের পুজো দেখাবো । রতন কে আগেই বলে রেখেছি । দাদা ও দিদিকেও একমাস আগে বলে রেখেছি ।আজ তাঁরা আসবেন ।

আমরা ক্ষেত্র পাল তলায় ঢাকের তালে মত্ত । হঠাৎ একটি ছোট ছেলে ছুটতে ছুটতে এসে সবাই কে বলছে, সবাই দেখে এসো মিত্র বাড়িতে ঠাকুর এসেছে ।

আমরা ছেলেটির কথা শুনে কৌতূহল বশত মিত্র বাড়িতে গিয়ে দেখি লোকে লোকারণ্য ।

—–কি হয়েছে রে,
একটি মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলাম । মেয়েটি বললো, জগন্নাথ মন্দিরের ভিতর স্বয়ং জগন্নাথ ঠাকুর এসেছেন ।

ভিড় ঠেলে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম , একটি বড় পোকা ঠিক জগন্নাথ ঠাকুরের মত সব কিছু ।খুব আশ্চর্য হওয়ার কথা ।

এদিকে দাদা ও দিদি এসে গেছেন । ওনাদের বন্ধুর বাড়ি নিয়ে গোলাম । কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হলে গ্রামের সবকিছু ঘুরে দেখলেন । পাশের গ্রামে অনেক ভেড়া ,ছাগল জাতীয় পশু দের বলি দেওয়া হচ্ছে দেখে দাদা ও দিদির খুব রাগ হলো ।

ওনারা বললেন, এই সুযোগে বলি প্রথা বন্ধ করতে পারলে ভালো হয় । দেখা যাক এই নিরীহ পশু দের যদি বাঁচানো যায়। তার জন্য একটু মিথ্যার আশ্রয় নিতে হলে নিতে হবে ।

যাইহোক গ্রাম ঘুরে বেশ ভালো লাগলো ওনাদের ।রাত্রিবেলা সোরগোল । জগন্নাথ ঠাকুরের প্রসাদ খেয়ে অনেকেই অসুস্থ । তারা সবাই কাটোয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ।

দাদা মন্দিরের ভিতর ঢুকে বললেন, এত পশুর বলি দান দেওয়া হচ্ছে এই বিপদ অই কারণেই হয়েছে । গ্রামের সবাই যদি প্রতিজ্ঞা করে , বলি প্রথা বন্ধ করবে, তাহলে সবাই সুস্থ হবে । সবাই ঠাকুরের সামনে তাই বললো । আর কিছু করার নেই । বলি বন্ধ হলেই হবে ।

অনেক কিশোর কিশোরী ,বুড়ো বুড়ি এই সিদ্ধান্তে খুব খুশি । গ্রামের বেশির ভাগ লোক পশু বলি চায় না ।কিন্তু অভিশাপের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না ।

হাসপাতাল থেকে সবাই সুস্থ হয়ে ফিরে এলে দিদি বললেন, এই পোকা টি জগন্নাথ ঠাকুরের মত দেখতে । কিন্তু এটি একটি বিষাক্ত পোকা । গভীর জঙ্গলে ওরা থাকে । রাতে প্রাসাদের আঢাকা থালার মধ্যে যাওয়া আসা করার ফলে বিষাক্ত ফ্লুয়িড খাবারে লেগে যায় । সেই প্রসাদ সকালে খাওয়া হয়,আবার তারপরে বলিপ্রথার পাপের ফল ।এই দুয়ে মিশে আমাদের গ্রামের অনেকেই অসুস্থ ।
বিজ্ঞানের যুক্তি দিয়ে সব কিছু বিশ্লেষণ করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যায় জলের মতো ।

দাদা বললেন, মনে রাখতে হবে , আমরা মানুষ ,পশু নই । তাই আমরা নিজেরা বাঁচার পাশাপাশি আর বাকি সবাইকে বাঁচতো দেবো । তবেই আমরা সুন্দর এক পৃথিবী সৃষ্টি করতে পারবো

কেতুগ্রাম থানার ভুলকুড়ি গ্রামে সন্ধ্যা ছ’টার পর আর কেউ বাইরে বেরোয় না ।একমাস যাবৎ এই অন্ঞ্চলে ভূতের অত্যাচার খুব বেড়ে গেছে ।
গ্রামের শিক্ষিত ছেলে বাবু ছুটতে ছুটতে এসে আমাকে বললো, জানো দাদা জবা দের দোতলা ঘরে জবা শুয়েছিলো । ঠিক বারোটার সময় জানলা দিয়ে হাত গলিয়ে জবার মাথার চুল ছিঁড়ে নিয়েছে ।
—–কবে রে বাবু
—— গতকাল রাতে
——এখন কেমন আছে
—–এখনি ডাক্তার খানা নিয়ে যাবে বলছে

আমি কয়েকদিন ধরে এইরকম কথা শুনছি ।ভাবছি কি করা যায় ।আমার বাড়িতেও তো এইরকম আক্রমণ হতে পারে ।

আজকে রাতে রাস্তায় কেউ নেই । আমি দোতলার বারান্দায় রাত বারো টা অবধি জেগে থাকলাম । কিন্তু ,কাকস্য পরিবেদনা । কেউ নেই । একটু ভয় ভয় লাগছে ।তারপর রাত্রি র অপরূপ রূপে মগ্ন হয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম ।সকাল বেলা পেপার আর চা নিয়ে কোকিলের ডাক শুনছিলাম ।
হঠাৎ মন্ডল পাড়ার স্বদেশ এসে আমেজ টা নষ্ট করে দিলো ।
—–দাদা,কালকে আমাদের পাড়ায় ভূতটা ঘুরছিলো ।প্রায় দশ ফুট লম্বা ,বড়ো হাত আর কালো রঙ ।ভয়ে আমার বাবা অজ্ঞা ন হয়ে গিয়েছিলো ।
____এখন ভালো আছেন ?

_____না না ,এখনও বু বু করছে ।

আমি আবার চিন্তার মধ্যে ডুবে গেলাম ।কি করা যায়,এই সমস্যা সহজে সমাধান করা খুব কঠিন ।প্রকৃতির নিয়মে আবার রাত হলো ।গ্রামের সহজ সরল মানুষ এই সব বিপদের দিন অসহায় হয়ে যায় ।রাতে শুয়ে চিন্তা করলাম মুস্কিল আসান করার জন্য কিশোর মনোবিজ্ঞানের সুমন্ত ভট্টাচার্য মহাশয়কে খবর দিতে হবে । সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে চড়খীর অমল কে ফোন করলাম । আমার মনে আছে অদৃশ্য নাথ সেই ভয়ংকর বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছিলো জয়ন্ত দা ও হৈমন্তী দি র জন্য।

অমল ফোন করে সুমন্ত ভট্টাচার্য মহাশয়ের আসার সমস্ত ব্যবস্থা করে দিলো ।সঙ্গে আসছেন কিশোর মনো বিজ্ঞানের সহ সম্পাদনা সচিব রত্না দিদি । তিনি বিখ্যাত পরিবেশ বিজ্ঞানী । আমার একটু সাহস বাড়লো । ওদের সাথে আমার বন্ধু অমল কেও আসতে বললাম ।

সেই রাত কাটলো ভয়ে ভয়ে ।সকালে উঠে শুনলাম ব্রাহ্মণ পাড়ার দীপক বাইরে বসে গান করছিলো আর ভূতে তাকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছো । শুনে আমার খুব রাগ হলো ।ভাবলাম, দাঁড়া আজকের রাতে তোদের ব্যবস্থা হচ্ছে।

দাদা ও দিদি ঠিক বারোটার মধ্যে অমল কে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়িতে চলে এলেন ।তাদের দেখে আমার বুকের ছাতি চল্লিশ ইঞ্চি হয়ে গেলো মনে হচ্ছে।

ঠিক চারটের সময় মঙ্গল চন্ডীর উঠোনে গ্রামবাসীরা হাজির হয়ে গেলো । জয়ন্ত দা বলতে শুরু করলেন, আজ আমরা সবাই রাতে জেগে থাকব । কে বা কারা এই কুকর্ম করছে আমাদের জানা দরকার ।
একজন বলে উঠলেন, ভূতের সঙ্গে লড়াই করে কি পারা যাবে ।
দিদি বললেন, ভূত বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই । তারপর তিনি আরও কিছু কথা বললেন গ্রামবাসীদের সাহসী করার জন্য ।
আবার একজন বললেন, তাহলে আগুন জ্বলে উঠছে কেমন করে ।
দাদা বললেন, এসব কিছু বিজ্ঞান বিষয়ের ব্যাপার ।আগে ধরা হোক অপরাধী কে তারপর সব বোঝা যাবে ।

এখন রাত দশটা বাজে । গ্রামের সবাই জেগে আছে ।ঠিক রাত বারোটার সময় একটা দশ ফুটের লোক হেঁটে আসছে গ্রামের দিকে । দাদা থানায় ফোন করে দুজন বন্দুকধারী পুলিশ আনিয়েছেন ।সাধারণ লোকের বুদ্ধির সঙ্গে এখানে ই দাদার পার্থক্য । কখন যে সমস্ত ব্যাবস্থা করে রেখেছেন কেউ জানি না । ভূত কাছাকাছি আসা মাত্র পুলিশ দু রাউন্ড গুলি চালালো ফাঁকা আকাশে । গুলির আওয়াজ শোনা মাত্র ভূত টি ভয়ে মাটিতে পড়ে গেলো । সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের সাহসী ছেলেরা বিকট চিৎকার করে ধরে ফেললো ভূত বাবাজিকে । বেচারা তখন জোড়া হাতে ক্ষমা চাইছে ।

তাকে বিচারের জন্য ফাঁকা জায়গায় আনা হলো ।সবাই বসে পড়লেন । এবার দাদা বলতে শুরু করলেন,দেখুন সবাই এই চোরটি রণ পা ব্যবহার করেছে লম্বা হওয়ার জন্য । রণ পা টি বাঁশের তৈরী নয় ।
একজন বললো,তাহলে ও ছোটো বড় কি করে হতো ।
দিদি বললেন, রণ পা টি বিশেষ ধরণের । এর মাঝে একটি শক্ত স্প্রিং আছে। যার ফলে এ যখন লাফ দি তো তখন এটি ছোটো বড়ো হতো ।
আর একজন বললো, তাহলে মুখ দিয়ে আগুন বেরোতো কি করে।
দিদি বললেন, এটা তো সহজ ব্যাপার । সার্কাসে আপনারা দেখে থাকবেন মুখের মধ্যে পেট্রোলিয়াম বা কেরোসিন জাতীয় দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে এরা মানুষকে অবাক করে দেন । এই চোরটিও তাই করেছে ।
দাদা এবার চোরটিকে ধমক দিয়ে বললেন,তুমি জঘন্য অপরাধ কেন করছো জবাব দাও ।

এবার চোরটি উঠে জোড় হাতে বললো,আমরা মাদক দ্রব্য চোরাপথে চালান করি । তাই ভূতের ভয় দেখিয়ে আমরা মানুষকে বাড়িতে ঢুকিয়ে রাখি ।
এর ফলে আমাদের চোরা চালানে সুবিধা হয় ।

এরপর দাদা চোরটিকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন । দাদা ও দিদির সাহায্যে একটি বড় চোরের দল ধরা পড়লো ।

দাদা ও দিদি জলপাইগুড়ি র বাড়িতে আছেন। পাহাড়ের রাজনৈতিক উত্তাল আবহাওয়া র মধ্যে ও তারা খবরের সন্ধানে সেখানেই আছেন । সাংবাদিক হিসাবে তাদের নাম বিখ্যাত সারা বাংলায় ।

শিলিগুড়ি আসার পথে দেখা হয়ে গেলো অমল বাবুর সঙ্গে ।

অমলবাবুকে সঙ্গে নিয়ে দাদা ও দিদি চলে এলেন জলপাইগুড়ি র নিজের বাড়িতে ।

রাতের বেলায় খাওয়ার সময় অমল বাবু দাদা ওদিদিকে এক নতুন সমস্যা র কথা বললেন ।

দাদা বললেন, কি সমস্যা বলুন তো ?

অমল বাবু বললেন, সমস্যা এবার অন্য রকম । এক জন প্রতিবন্ধী মানুষ আমাদের গ্রামে এসে দরজা ঘাটের জঙ্গলে র কাছে কলা বাগানে বসে গান করেন । আর বারো বছরের নীচে কোনো প্রতিবন্ধী ছেলে বা মেয়ে এলে এক সপ্তাহে র মধ্যেই তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলছেন ।

দিদি বললেন, আমাদের এই মহাপুরুষ কে দর্শন করতেই হবে । তা না হলে আমাদের জীবন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে ।

দাদা বললেন, আগামী কাল সকালে আমরা সবাই তার দর্শনে মুকুটমণিপুরে যাবো ।

তারপর অমল বাবুর সঙ্গে দাদা ও দিদি পৌঁছে গেলেন স্বপ্নের গ্রামে ।

দাদা দেখলেন সুন্দর এক টা নদী বয়ে চলেছে। দীর্ঘতম মাটির বাঁধে চওড়া রাস্তা ।

দূরে দেখা যাচ্ছে পাহাড় । সবকিছু মিলিয়ে এক স্বপ্নের জগতে এসে পড়েছেন তারা ।

কংসাবতী নদীতে ঠান্ডা জলে চান করে মনে হলো সমস্ত শরীর যেন পবিত্র হয়ে গেলো ।

ঠিক বিকেল চারটের সময় অমল বাবু দাদা ও দিদি কে নিয়ে কলা বাগানে গেলেন । সেখানে দেখলেন প্রতিবন্ধী মানুষটি শত প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে মানুষের সেবা করে চলেছেন ।

তার কাছে এখন চারজন আট থেকে দশ বছরের ছেলে আছে । তাদের তিনি প্রায় সারিয়ে তুলেছেন ।

দাদা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কতজনকে সুস্থ করে তুলছেন অথচ নিজে কেন সুস্থ হচ্ছেন না ।

লোকটি বলতে শুরু করলেন, আপনাদের দেখে শিক্ষিত মনে হচ্ছে। আমি সবাই কে এসব কথা বলি না । আপনারা মন দিয়ে শুনুন ।বারো বছরের নীচে মানুষের শরীরের কোষ , কলা সবই নরম থাকে। তারা বিভাজিত হতে পারে । কিন্তু আমার সেই সুযোগ হয় নি ।

দাদা বললেন, এবার আমি বলি । তারপর আপনি প্রচুর পড়াশোনা করার পরে গবেষণা শুরু করলেন

19

স্কুল থেকে ফেরে বিজু ঠিক পাঁচটার মধ্যে। কিন্তু তার স্ত্রী খুব চিন্তিত। সাতটা বেজে গেলো এখনও বিজু ফিরে এল না। বিজুর স্ত্রী পাড়ার সব প্রতিবেশীদের বলল,দেখুন আটটা বেজে গেল এখনও আমার স্বামী ঘরে ফেরে নি।
পাড়ার ছেলে পিরু বলল, চিন্তা নেই। আমি আছি। দেখছি ফোন করে। ফোন নাম্বার ছিল পিরুর কাছে। কিন্তু ফোনের রিং হয়ে যাচ্ছে। কোন উত্তর নেই। বার বার বারোবার ফোন করেও কোন উত্তর পাওয়া গেল না।

বিজু আর রাজু- মাষ্টার দুই বন্ধু। তারা দুজনে মোটর সাইকেলে স্কুলে যায়। তাই বিজুর স্ত্রী নিশ্চিত হল, রাত আটটা বেজে গেল। তার মানে কোন দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাজু- মাষ্টারমশাইয়ের মোটর সাইকেল আ্যক্সিডেন্ট হয়েছে মনে হয়। ফোন বেজে চলেছে। তারা হয়ত দুজনেই মরে পড়ে আছে।
বিজুর স্ত্রী বাপের বাড়ি থেকে বাবাকে, দাদাকে ডেকে আনল। বাবাকে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, বাবা চল একবার থানায় যাই।
বাবা বললেন, একটু সবুর করি। হয়ত ফিরে আসবে।
ঠিক সাড়ে আটটায় বিজু সমস্ত চিন্তার অবসান ঘটালো।
সবাই দেখল, বিজু দুইহাতে দুটো বড়মাছ ঝুলিয়ে দাঁত কেলিয়ে আসছে।
বিজুকে সবাই রেগে বলল, কি বেআক্কেলে লোক তুমি। কোথায় গেছিলে?
বিজু বলল, মাছ ধরতে গেছিলাম। ফাতনার দিকে তাকিয়ে ফোনের কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছি। রিং হলেও পকেট থেকে বের করেনি রাজুমাষ্টার । আমি বললাম ফোনটা ধরতে।
রাজু মাষ্টার বলল, এখন ফোন নয়। শুধু জল আর ফাতনা। মেছেল আমি। এবার বুঝেঝি বড় রুই ঘাই মারছে। তু দাঁতকেলা, ডিস্টার্ব করিস না। কেলিয়ে দেব। বন্ধু হয়ে শত্রুতা করিস না। দিলি কথা বলে চারঘোলা করে।

বিজুর বৌ রেগে বলল,এই দাঁতকেলা।তোর মাছ, তুই খা। কোন বাপে রেঁধে দেয়,দেখি….

20
গ্রামের বাড়িতে আমাদের মাটির দোতলা বাড়ি ছিলো।সন্ধ্যাবেলা হলেই হ্যারিকেন নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যেতাম দোতলার ঘরে।আমরা ভাই বোন একসাথে পড়ছি, এমন সময়ে কালোদার গলা শুনতে পেলাম। পড়ার থেকে গল্প হত আমাদের বেশি। বড়দা সবাইকে চুপ করতে বললো,কিসের চিৎকার হচ্ছে। শুনলাম নিচে হৈ হট্টগোলে সবাই ছোটাছুটি করছে।কালোদা আমাদের বাড়ির লোকাল গার্জেন। তিনি নিচে থেকে বলছেন,ওপরে যারা আছো,কেউ নিচে নামবে না। বড়দা জিজ্ঞাসা করলো,কেন কালো দা? কালোদা জোরে চেঁচিয়ে বললেন,গোলার তলায় গুলবাঘ ঢুকেছে। সাবধান। ওরা মানুষের রক্ত খায়। বড়দা বললো,গুলবাঘ আবার কি? কালোদা বললো,বাঘের মত দেখতে। কিন্তু বাঘ নয়। সাইজে একটু ছোটো।ঠিক হায়েনার মত। ওরা খুব হিংস্র।

বাড়িতে সবাই আতঙ্কিত। সকলে ঘরে ঢুকে খিল দিয়ে বসে আছে। উঠোন একদম ফাঁকা। আমার বড়দার ভালো নাম দিলীপ। কিন্তু বড় শ্রদ্ধায় ডাকনাম আমরা দিয়েছি,বাহাদুর বিশু।বাহাদুর বিশু পরোপকারী,বুদ্ধিমান,দরদী এবং সাহসী যুবক।বিশুর কাহিনী আমার স্মৃতিকথা,সাদা পাতায় জীবনরেখা গল্পে বিস্তারিত বর্ণনায় পাবেন।যাইহোক বিশু বললো,আর পারা যাচ্ছে না। গুলবাঘ গোলার তলায় ঢুকে আছে। বের হচ্ছে না। দেখি খুঁচিয়ে বের করি।এই বলে একটা গিঁট তোলা লাঠি নিয়ে নিচে নেমে এলো বিশু। একহাতে তিন ব্যাটারীর টর্চ আর এক হাতে লাঠি।সকলে চিৎকার করে উঠলো,যাস না হতভাগা। কিন্তু বিশু মনস্থির করে ফেলেছে।তার বুদ্ধিতে সে বুঝতে পারছে এটা ভয়ংকর কিছু নয়। কিন্তু বিশু লাঠি দিয়ে খোঁচা মারার সঙ্গে সঙ্গে গুলবাঘ বিশুর কাছে চলে এলো।সে দেখলো,একটা ভোঁতা মাথা। টর্চ রেখে বিশু মারলো চার লাঠি। কিন্তু একটাও গুলবাঘের শরীরে পড়লো না। জন্তুটা লাফিয়ে উঠছে তিন ফুট।তারপর বিশু মাথা ঠান্ডা করে অপেক্ষা করলো কিছুক্ষণ।সে দেখলো,জন্তুটা বসে আছে আর মাথাটা নাড়াচ্ছে। তিন ব্যাটরীর টর্চের আলোয় দেখলো বিশু, ওটা মাথা নয়। একটা ঘটি। জলেরঘটি। অই ঘটিতে চারটে ট্যাংরা মাছ বিশু ছিপে ধরে রেখে ভুলে গেছে বাড়িতে বলতে। বিশু ঘটিটা হাত দিয়ে ধরে টান মারতেই খুলে গেলো। একটা বিড়াল মাছ খেতে গিয়ে ঘটিতে মাথা আটকে যাওয়ায় এই বিপত্তি। বিশু লাঠি রেখে বিড়ালটাকে ধরে আদর করলো। সবাই বেরিয়ে এলো ঘর থেকে। কালোদা বললো,শালা বিড়ালের লোভ আর যাবে না। মারো শালাকে। বিড়ালটা আদরে আব্দারে ডেকে উঠলো,ম্যাঁও

21

-তুই আমার একমাত্র ছেলে। তোকে যদি করোনা ভাইরাস আ্যাটাক করে আমি হাসপাতালে পাঠাব না। আইসোলেশনে চোদ্দ দিন রাখার পরে তুই যদি আর ঘরে না ফিরিস।

-তাহলে কি হবে। আমি একা মরে যাব। আর হাসপাতালে না পাঠালে তুমি আর মাও মরে যাবে। আমার শরীরে অসুবিধা হচ্ছে। তুমি আমাকে হাসপাতালে পাঠাও।

– তা হোক শরীর খারাপ হলে কাউকে বলার দরকার নেই। ওষুধ খেলেই ভালো হয়ে যাবি।
– না বাবা। তা হয় না। আমি যদি পজিটিভ হই আমাকে হাসপাতালে দেওয়াই ভাল।

বাবা ভাবেন ছেলেটা সমাজের মুখ তাকিয়ে ঠিক বলছে। সমাজে এ রোগ ছড়িয়ে গেলে আরও অনেক লোক মরে যাবে। কিন্তু ছেলেটাতো বাবা হয় নি। ও কি করে জানবে বাবার দৃষ্টিকোণ। আমি কি ওর মায়ের অন্তর দেখতে পাচ্ছি। মেয়েদের বুক ফাটে মুখ ফোটে না। ছেলে হারাবার ভয়ে বা স্বামীকে হারাবার ভয়ে সে করোনা রোগের নাম করে না।
ওর মা বলে, বড্ড অপয়া রোগ। একজনকে গ্রাস করলে সারা বলয় গিলতে চায়।
বাবা ভাবেন, এখনও এই উন্নত যুগে মানুষ কত অসহায়। মিথ্যে ক্ষমতা আর টাকার বড়াই। কোনো কিছুই মৃত্যুকে আটকাতে পারে না।

ছেলে আইসোলেশন ক্যাম্পে চলে গেলো। করোনা পজিটিভ। চিকিৎসায় কোন ফল হলো না।

ছেলেটা চলে গেল…

22

গ্রামের বাড়িতে আমাদের মাটির দোতলা বাড়ি ছিলো।সন্ধ্যাবেলা হলেই হ্যারিকেন নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যেতাম দোতলার ঘরে।আমরা ভাই বোন একসাথে পড়ছি, এমন সময়ে কালোদার গলা শুনতে পেলাম। পড়ার থেকে গল্প হত আমাদের বেশি। বড়দা সবাইকে চুপ করতে বললো,কিসের চিৎকার হচ্ছে। শুনলাম নিচে হৈ হট্টগোলে সবাই ছোটাছুটি করছে।কালোদা আমাদের বাড়ির লোকাল গার্জেন। তিনি নিচে থেকে বলছেন,ওপরে যারা আছো,কেউ নিচে নামবে না। বড়দা জিজ্ঞাসা করলো,কেন কালো দা? কালোদা জোরে চেঁচিয়ে বললেন,গোলার তলায় গুলবাঘ ঢুকেছে। সাবধান। ওরা মানুষের রক্ত খায়। বড়দা বললো,গুলবাঘ আবার কি? কালোদা বললো,বাঘের মত দেখতে। কিন্তু বাঘ নয়। সাইজে একটু ছোটো।ঠিক হায়েনার মত। ওরা খুব হিংস্র।

বাড়িতে সবাই আতঙ্কিত। সকলে ঘরে ঢুকে খিল দিয়ে বসে আছে। উঠোন একদম ফাঁকা। আমার বড়দার ভালো নাম দিলীপ। কিন্তু বড় শ্রদ্ধায় ডাকনাম আমরা দিয়েছি,বাহাদুর বিশু।বাহাদুর বিশু পরোপকারী,বুদ্ধিমান,দরদী এবং সাহসী যুবক।বিশুর কাহিনী আমার স্মৃতিকথা,সাদা পাতায় জীবনরেখা গল্পে বিস্তারিত বর্ণনায় পাবেন।যাইহোক বিশু বললো,আর পারা যাচ্ছে না। গুলবাঘ গোলার তলায় ঢুকে আছে। বের হচ্ছে না। দেখি খুঁচিয়ে বের করি।এই বলে একটা গিঁট তোলা লাঠি নিয়ে নিচে নেমে এলো বিশু। একহাতে তিন ব্যাটারীর টর্চ আর এক হাতে লাঠি।সকলে চিৎকার করে উঠলো,যাস না হতভাগা। কিন্তু বিশু মনস্থির করে ফেলেছে।তার বুদ্ধিতে সে বুঝতে পারছে এটা ভয়ংকর কিছু নয়। কিন্তু বিশু লাঠি দিয়ে খোঁচা মারার সঙ্গে সঙ্গে গুলবাঘ বিশুর কাছে চলে এলো।সে দেখলো,একটা ভোঁতা মাথা। টর্চ রেখে বিশু মারলো চার লাঠি। কিন্তু একটাও গুলবাঘের শরীরে পড়লো না। জন্তুটা লাফিয়ে উঠছে তিন ফুট।তারপর বিশু মাথা ঠান্ডা করে অপেক্ষা করলো কিছুক্ষণ।সে দেখলো,জন্তুটা বসে আছে আর মাথাটা নাড়াচ্ছে। তিন ব্যাটরীর টর্চের আলোয় দেখলো বিশু, ওটা মাথা নয়। একটা ঘটি। জলেরঘটি। অই ঘটিতে চারটে ট্যাংরা মাছ বিশু ছিপে ধরে রেখে ভুলে গেছে বাড়িতে বলতে। বিশু ঘটিটা হাত দিয়ে ধরে টান মারতেই খুলে গেলো। একটা বিড়াল মাছ খেতে গিয়ে ঘটিতে মাথা আটকে যাওয়ায় এই বিপত্তি। বিশু লাঠি রেখে বিড়ালটাকে ধরে আদর করলো। সবাই বেরিয়ে এলো ঘর থেকে। কালোদা বললো,শালা বিড়ালের লোভ আর যাবে না। মারো শালাকে। বিড়ালটা আদরে আব্দারে ডেকে উঠলো,ম্যাঁও

23
যখন ভয়ের অনুভূতি প্রথম টের পাচ্ছেন, মনে হচ্ছে বুক ধড়ফড় বেড়ে গেছে, অস্থির লাগছে, বমি বমি ভাব হচ্ছে, মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে, দেরি না করে দ্রুত ব্রিদিং রিলাক্সেশন করুন। নাক দিয়ে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন, বুকের ভেতর সমস্ত খালি জায়গা বাতাসে ভরে ফেলুন, দমটা অল্পক্ষণ আটকে রাখুন, তারপর মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এভাবে পর পর তিনবার করুন।ভূতের ভয় থেকে বেড়িয়ে আসতে ভূত এবং ভয় নিয়ে চিন্তা করা বন্ধ করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, সত্যি ভূত বলে কিছু রয়েছে কি না? না কি আপনি অজানা কোনো কারণে ভয় পাচ্ছেন? আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ কখনো ভূত দেখেছে কি না? ক্ষতি হলে তার কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে? উত্তরগুলো খুঁজে নিয়ে ভাবুন আদৌ ভয় পাওয়ার কোনো কারণ রয়েছে কি না।সিনেমায় ভূত, আত্মা এই বিষয়গুলোকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়। ভয়ের সিনেমা, নাটক আমাদের মধ্যে ভূত ও আত্মা সম্পর্কে ভয় তৈরির সাহায্য করে। তাই যদি এ ধরনের সিনেমা, নাটক দেখে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তবে এই ধরনের নাটক, সিনেমা, গল্পের বই এড়িয়ে চলুনভয়কে জয় করতে ভয়ের বিষয়টি সরাসরি মোকাবিলা করতে হয়। আপনি হয়তো ভূতের ভয়ে রাতে একা থাকতে ভয় পান, ঘরে আলো জ্বালিয়ে রাখেন- এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে রাতে একা থাকা শুরু করুন। ভাবুন, পৃথিবীতে কত মানুষ একা থাকে। ভূত তাদের আক্রমণ না করলে আপনাকে করবে কেন? আপনার সঙ্গে তো ভূতের বিশেষ কোনো শত্রুতা নেই। প্রথমে আলো জ্বালিয়ে একা ঘরে থাকার অভ্যাস করুন। প্রথমে কষ্ট হবে তারপরও চেষ্টা করুন। প্রথমদিন পারলে নিজেকে নিজে ধন্যবাদ দিন, ছোট পুরস্কার দিন। এভাবে একা থাকায় অভ্যস্ত হলে একা ঘরে আলো নিভিয়ে থাকার পদক্ষেপ নিন। এভাবে ধীরে ধীরে ভয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন।ভয় থেকে মনটাকে অন্য দিকে সরিয়ে দিতে গান শোনা, টিভি দেখা, গল্পের বই পড়ার মতো নিজের ভালোলাগার কাজগুলো করুন। জানালার দিকে তাকালে ভয় হলে জানালা খুলে রাখুন। জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বাইরে দেখুন। জানালার দিকে চোখ পড়লে চোখ বন্ধ না করে তাকান। কিন্তু বার বার তাকিয়ে কিছু রয়েছে কি না সেটি চেক করা থেকে বিরত থাকুন।নিজেকে বলুন যতবার শব্দ শুনে বা আওয়াজে ভয় পেয়েছি, বা বাইরে যা দেখেছি তাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছি।ভূত নিয়ে নানা আশঙ্কার কথা মনে হলে ভাবুন যা ভাবছেন তা যদি সত্যি হয় তবে কি হবে? সবচেয়ে খারাপ কী হতে পারে? এমন হবার আশঙ্কা কতটুকু?যখন ভয় পাচ্ছেন তখন যা ভেবে ভয় পাচ্ছেন তা কাগজে লিখে ফেলুন, লেখা শেষে কাগজ কুটিকুটি করে ছিঁড়ে ফেলুন বা পুড়িয়ে ফেলুন।ভাবুন ভূত বা আত্মা আপনার মতোই। তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কোনো প্রমাণ নেই যে ভূত কারো কখনো ক্ষতি করেছে।অনেক সময় ছোটবেলা থেকে ভূত সম্পর্কে শোনা গল্প আমাদের মনে ভূত সম্পর্কে একটি ভয়ঙ্কর ছবি তৈরি করে। এতে আমাদের মাঝে ভয় তৈরি হয়। অনেক সময় বড় হওয়ার পরও তা থেকে যায়। তাই বাচ্চাদের সঙ্গে এ ধরনের গল্প না করার চেষ্টা করুন।ভয় থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য নিজেকে যথেষ্ট সময় দিন।নিজের আগের সফলতার কথা চিন্তা করুন। মনে করুন আগে কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পর কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, কীভাবে বের হয়ে এসেছিলেন। এটা আপনার মনোবল বাড়াতে সাহায্য করবে।নিজেকে বলুন, ‘ভয়ের কাছে পরাজিত হবো না। ভয় আসতেই পারে। এটা স্বাভাবিক। আমি জানি ভয়টা অমূলক। তাই ভয় পাবার কিছু নেই। বরং ভয় দূর করতে যা যা করা দরকার করব।’ভূত নিয়ে যেসব কমেডি সিনেমা রয়েছে সেগুলো দেখুন। ভয়ের সময় মনে করার চেষ্টা করুন ভয়ের সিনেমাগুলোতে ভূত কী কী করার চেষ্টা করে এবং প্রাণ খুলে হাসু।কোনো বিষয় নিয়ে মজা করলে সে বিষয়ে ভয় দূর করা সম্ভব। ভূত বিষয়ে অন্যের সঙ্গে বেশি বেশি গল্প বলুন, মজা করুন।অনেক সময় ভূতের ভয়ের সঙ্গে মানসিক অসুস্থতাও যুক্ত থাকতে পারে। সেখানে ছোটখাট পরামর্শ মেনে চললেই তা দূর করা সম্ভব হবে না। তাই নিজে নিজে ভূতের ভয় দূর করতে না পারলে মনো-চিকিৎসক, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নিন।ভূতের ভয়টা যেহেতু রাতেই হয়, তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে শিথিল থাকতে পারেন এমন কিছু করুন। ঘুমের সময় অল্প আলো জ্বালিয়ে ঘুমান।সিলিং বা জানালায় ঝুলন্ত কিছু থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন, যাতে রাতের বেলা এগুলো থেকে ভয় না তৈরি হয়‘ভূত আসলে কী হবে?’- এ ধরনের ভাবনা ব্যক্তির মধ্যে মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে। তাই ভবিষ্যতে যা ঘটার আশঙ্কা সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত নন তা ভাবা থেকে বিরত থাকুন।
ভূতের ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের মধ্যেই লুকায়িত রয়েছে। তাই ভূতের ভয়কে জয় করুন।

24

গোয়েন্দা সুমন একাধারে বিজ্ঞানী ও সমাজসেবক। গোয়েন্দা বললেন উত্তর উপকূলে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বেশকিছু শ্বেত ভালুক কে জলে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে।ওই জায়গায় কুড়ি শতাংশ ভালুক আশ্রয় খুঁজে সমুদ্র ঝাঁপিয়ে পড়ছে এবং উত্তর মেরুর বরফ এশিয়ার 10% গলতে শুরু করেছে। সেই হিসাব করে দেখেছি 1.5 মিলিয়ন কিলোমিটাের বরফ নষ্ট হয়েছে।গত চার বছরে ভালুকের আত্মহত্যার সংখ্যা অনেক বেশি উঠেছে।নিজেদের মাংস নিজেরাই খাচ্ছে,খাবার নেই তাই।

তোতন সুমনবাবুর সঙ্গী।এই কাহিনী শুনে খুব দুঃখ পেল। তার মন খুব নরম। হঠাৎ ঘরে প্রবেশ করলেন, এক বৃদ্ধ ব্যক্তি।

তোতন গিয়ে প্রথমে দরজা খুলল। তারপর বলল, কাকে চাই,বলুন।
বৃদ্ধ বললেন আমি গোয়েন্দা সুমনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি

– বলুন আমাকে বলুন কি প্রয়োজন। আমার নাম তোতন। আমি তার সহকারি।
বৃদ্ধ ব্যক্তি বললেন, আমাদের গ্রামে একটা সমস্যা হয়েছে।সকলে ভূত দেখছে। তোতন বসতে বলল বৃদ্ধকে।

বারান্দায় বৃদ্ধ ব্যক্তিটি বসে থাকলেন । গোয়েন্দা সুমনের দেখা পেলেন দশ মিনিট পরে।তার সামনাসামনি বসলেন সুমন।তিনি বললেন, বলুন আপনার সমস্যা কি?
বৃদ্ধ বললেন, আমাদের প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ি। সেখানকার লোকেরা ভূত দেখছে দিনরাত।একজন সুনাগরিক হয়ে এই কুসংস্কারে প্রশ্রয় দিতে চাই না। আমিও একদিন রাতে দেখলাম একটি অদ্ভূত প্রাণীকে,খুব লম্বা নাক। প্রাণীটি লুকিয়ে পড়ছে বনে। আপনার সাহায্যে প্রাণীটি সকলের সামনে এনে, আমার কথার সত্যতা প্রমাণ করাই এখানে আসার কারণ।

সুমন বলেন, ভলতেয়ারের লেখা বই পড়েন নি , অন্য গ্রহের প্রাণীদের চেহারা অদ্ভুত 24 টি জ্যামিতিক অংশ দিয়ে তৈরি। বড় নাকের মালিক যিনি হন তাদের বুদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের চেয়ে অনেক বেশিগুণ হয়।
বৃদ্ধ বললেন আমার পড়াশোনা অতদূর নয় তবু দেখলাম সূর্যের বিপরীতে মানুষের ছায়া যতটা দীর্ঘ হয়, সেরকম দীর্ঘ চেহারার ছায়ার মত কালো চেহারার লোককে।
পৃথিবীর মানুষের মত নয়।আপনি গিয়ে সেটি সামনে আনতে পারলে সব থেকে ভাল হবে। ভূত নয়, এটা আমি বলতে পারি।
সুমন বললেন নিশ্চয়ই যাবো পরের দিন গোয়েন্দা সুমন সহকারি তোতনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন সেই বৃদ্ধের বাড়ির উদ্দেশ্যে।ঠিক 4 ঘন্টা ট্রেন জার্নি।পরে বৃদ্ধ নিয়ে গেলেন ঘরে, তাদের থাকার জায়গাটি দেখিয়ে দিলেন।দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে গোয়েন্দা সুমন আর তোতন গ্রাম দেখতে বেরোলেন।বেশ বৈচিত্র্যে ভরা সবুজ সবুজ গাছগাছালি মন কেড়ে নেয়।পাশেই ফালি নদী। পাড়ে ফল গাছ।ভেতরে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তোতন আর সুমন কথা বলতে বলতে চলেছেন। এক জায়গায় তারা বসে পড়লেন। জঙ্গল খুব ভালোবাসেন গোয়েন্দা সুমন।তিনি সবুজ একটা পাতা হাতে নিয়ে বললেন এটা কি গাছের পাতা বল তো? তোতন বলল, এই পাতায় আপনি হাত দিয়েছেন? আপনার তালুতে আছে তাই কোন অস্বস্তি হচ্ছে না। পাতা ঘষে রস যদি দেহে লাগে তাহলে জ্বলন শুরু হয়। এটা বিছুটি পাতা,তোতন বললেন সুমনবাবুকে। গোয়েন্দা সুমন আক্ষেপ করে বললেন এখনকার ছেলেরা এই বিছুটি পাতা, ডুমুর গাছ, নয়ন তারা গাছ, তারপর বাঁদর লাঠিগাছ এইগুলো কি আর চিনতে পারবে?
কত বিভিন্ন রকমের প্রকৃতিতে গাছ,যেগুলি আপনাআপনি বেড়ে ওঠে। কদবেল, বেলগাছ এগুলো আস্তে আস্তে যেন হারিয়ে যাওয়ার পথে। বিশ্বপ্রকৃতির কতটুকু চিনি আমরা ভাই।সুমন আর তোতন কথা বলতে বলতে কখন যে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমেছে তারা বুঝতেই পারেনি। হঠাৎ বন্ধ করলো তাদের আলোচনা।সামনে একটা ছায়ামূর্তি। আড়ালে সরে গেলো।
তোতন ইশারায় গোয়েন্দা সুমন, এগিয়ে গেলেন জঙ্গলের পাশে।তিনি দেখতে পেলেন একটা ছায়ামূর্তি যাচ্ছে। ওরা দুজনেই পিছনে ছুটতে শুরু করলেন।তাড়া করতে করতে জঙ্গলে গভীরে গিয়ে ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে গেল। পরিষ্কার বাংলা ভাষায় বলল কেন তোমরা আমার পিছু ধাওয়া করেছ?

গোয়েন্দা সুমন উত্তরে বললেন আপনি এত সুন্দর পরিষ্কার বাংলা ভাষা কি করে বলছেন? আপনি পালাবেন না। প্রয়োজনে গুলি করব।
ছায়ামূর্তি বলল,গুলি করে দেখতে পারেন। আমার দেহের ক্ষতি হবে না।
সুমনবাবু গুলি করে অবাক হলেন। কোন ক্ষতি হয় নি ছায়া মূর্তির। তিনি সবিনয়ে বললেন, আপনি দেখা দিন এবং আপনার পরিচয় দিন প্লিজ। তাছাড়া ওটা ঘুমপাড়ানি গুলি ছিল। আজ পর্যন্ত প্রাণীহত্যা করিনি কোনদিন। মগজাস্ত্রেই কাবু হয় বিরোধিপক্ষ।

তখন ছায়ামূর্তি উত্তর দিলো, আমাদের ভাষা অনুবাদের গ্রন্থি ব্রেনে সিলেক্ট করা আছে, যাতে আমরা সব ভাষাই বুঝতে পারি। মগজ, মানুষের থেকে দশগুণ বেশি।

গোয়েন্দা সুমন বললেন, আপনি কোন গ্রহ থেকে এসেছেন।
ছায়া বলল আমি মানুষের অজানা এক গ্রহ থেকে এসেছি। আমরা বেড়াতে এসেছি। এখানকার জীব বৈচিত্র দেখে আমরা গবেষণা করি।

আবার সুমন জিজ্ঞাসা করল আপনার নাম কি?

উত্তর দিলো ছায়ামূর্তি, আমার নাম সাইকোভেগাস।

-আপনার নামের সঙ্গে সাইকো যুক্ত কেন?

-আমরা সব মানুষকেই সন্দেহ করি,তারপর বিচার করি।

গোয়েন্দা সুমন বলল আপনাদের পরমায়ু কত? সাইকোভেগাস বলল, আমাদের পরমায়ু খুব কম। খুব কম।
তোতন বল্লো, কত কম বলুন না।

সে বলল, আমাদের পরমায়ু মাত্র সাড়ে ছয়শ বছর।
তোতন বললো,আমরা মানুষরা তো আশি বছরে বুড়ো।আমাদের চামড়া ঝুলে পড়ে।

সাইকো বলল, মানুষের খাওয়া-দাওয়া ঠিক না।আমরা গাছের সবুজ পাতা আর সৌরশক্তির সাহায্যে বেঁচে থাকি।আর তোমরা খাও আর বারবার মলত্যাগের জন্য যাও বাথরুমে।অই সময়টা আমাদের জীবনের উন্নয়নে কাজে লাগাই।

বৃদ্ধ তখন অনেক মানুষকে নিয়ে খুঁজতে এসেছেন অতিথিদের। মানুষের ভূতের ভয় কেটে গেল, অন্য গ্রহের প্রাণী দেখে। একটা গোল মহাকাশযানে চেপে উড়ে গেল আকাশে।

25
অভয়বাবুকে অন্য গ্রহ থেকে আগত জীব সাইকোভেগাস বললেন, দীর্ঘকালীন হরমোন নিঃসৃত অপেক্ষাকৃত অল্প পরিমাণে যার জন্য দেহে ক্ষুদ্র উদ্যোগ সামান্য হয় অন্যদিকে ওই সময় ক্ষুদ্রতম নিঃসরিত হয় এই দুটি রাসায়নিক যৌগের সমানুতা নিয়ে বিব্রত হয় না মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারে ঘুমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কেননা ঘুমের দৈর্ঘ্য যখন 8 ঘন্টা থেকে কমিয়ে 5 ঘন্টা না হয় তখন দেখা যায় ক্ষুদ্র ঋণের পরিমাণ শতকরা 15 ভাগ বেড়ে গেছে অন্যদিকে ক্ষুদ্র ঋণের পরিমাণ শতকরা 15 ভাগ কমে গেছে।

সাইকোবেগাস বলল এই শরীর দীর্ঘ ঘুমের উপযুক্ত হয়ে বিবর্তিত হয়েছে বর্তমান জিভে কাজের পরিমাণ বাড়ায় ঘুমের পরিমাণ কমে গেছে প্রতিদিন 12 ঘণ্টা ঘুম মনে হয় সর্বনিম্ন পরিমাণ এর থেকে কম হলে শরীর ও মনে নানা রকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় ভূমি মানুষের সঞ্জীবনী সুধা সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে কার্যকর শারিরীক ও মানুষিক বন্ধু শত দুঃখ ভরা রাত্রি যখন প্রয়াত হয় তখন রাতের ঘুম থাকে এক নতুন মানুষের পরিণত করে সকল আশা উদ্দীপনা নিয়ে নতুন করে জীবন সংগ্রামে।বন্ধু সুমন বললো তাহলে এই ঘুমের পরিমাণ পৃথিবীর মানুষের বেড়ে গেলে তাদেরও পরমায়ু আপনাদের মত বেড়ে যাবে সাহস বললো নিশ্চয়ই বাড়বে এবং এটাই একমাত্র উপায় কিন্তু একটা শর্ত আছে শর্ত হলো সবুজ গ্রহ চাই সবুজ ছাড়া মানুষের মুক্তি নাই ।তোতন বলল তাহলে আমরা শিখলাম মানুষের বার্ধক্য ত্বরান্বিত হয় দীর্ঘকাল ধরে নিবে করলে শরীরে কার্বোহাইড্রেট মেটাবলিজম সংক্রান্ত ব্যাহত হয় দেহ কোষের মধ্যে অক্সিডেশন বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ বাড়ে তার ফলে কোশপর্দার ডিএনএর ক্ষতি হয় বহু পরীক্ষার ফলে এটা আজ প্রমাণিত হয়েছে যারা 6-7 ঘন্টা ঘুমায় তারা 4-5 ঘন্টা ঘুমায় তাদের থেকে।সাইকোবেগাস বললেন, আমি শুনে খুশি হলাম সুমনের সাহায্যকারী তথনও যে এত জ্ঞানী মানুষ তা দেখে আমার ভালো লাগলো আপনারা দীর্ঘজীবী হোন।

সাইকো বেগাস বলল শুধু ক্যান্সার নয় দীর্ঘ একটানা নিদ্রা ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়া আলসার মানসিক অবসাদ কাটাতে সাহায্য করে রাত্রে সুনিদ্রা দেহের ইমিউন সিস্টেমকে সতেজ করে ক্ষতিপূরণের সাহায্য করে আমাদের অজান্তে আমাদের সমস্ত পাকস্থলীর লাইন মেরামত করে রক্তে সংক্রমণ প্রতিহত করা উপযোগী কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং মেলানিনের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে এই মেলাটোনিন দেহে ক্যান্সার রোগ প্রতিহত করবার সময় উপযোগী একটি এন্টি-অক্সিডেন্ট যেসব নারীরা কাজকর্ম করে তাদের ঘুমের সময় বারবার পরিবর্তন ঘটলে তাদের স্তনে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা 70 গুণ বেড়ে যায়।গোয়েন্দা সুমন বলল আপনি মানুষ মানবদেহের শরীরে মানবদেহ সম্পর্কে এত কিছু জানলেন কি করে সাহস বলল ওই যে বললাম আমরা সারা মহাবিশ্বের সমস্ত খোঁজখবর আমাদের রাখি আমরা যখন তখন কম্পিউটারের 10000 কাজ করতে পারি।

গোয়েন্দা সুমন এই ধরনের জীব দেখে অবাক ইউরিনে শেষে ঘুরতে পেয়ে অবাক তদন্ত খুশিতে মগ্ন কি করে এবার ফিরে যাবে সেই নিয়ে তারা চিন্তায় মগ্ন আমাদের সেই বৃদ্ধ ব্যক্তি খুঁজে হয়তো বেরিয়ে পড়েছেন সারা গ্রামের লোকদের নিয়ে তখন সে বলল আপনি চিন্তা করবেন না কয়েক ঘন্টার মধ্যে আপনাদের পৃথিবীতে ফিরে আসব।

গোয়েন্দা সুমন বলল, মানুষের শরীর আর আপনাদের শরীরের মধ্যে পার্থক্য গুলো কি কি একটু বলুন।

সাইকো ভেগাস বলল, মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে 23 জোড়া ক্রোমোজোম থাকে।

কিন্তু আমাদের গ্রহের জীবে কম করে 523 জোড়া ক্রোমোজোম থাকে।

এই মানুষের দেহে 23 জোড়া মধ্যে 22 জোড়া ক্রোমোজোম বাকি একজোড়া কে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম।
কিন্তু আমাদের মধ্যে ক্রোমোজোমের সংখ্যা অনেক বেশি সংখ্যক থাকার ফলে উন্নত অতিউন্নত লক্ষণ প্রকাশিত হয়।

সাইকো ভেগাস আবার বললো, প্রোটিন প্রয়োজনের নির্দেশ দেয় শরীরের ক্লান্তি।

ধারণা ছিল মানুষের প্রায় 1 লক্ষ জিন আছে এখন জানা গেছে এই সংখ্যা প্রায় 30 হাজার।
আমাদের দেহে এর সংখ্যা 30 কোটির মত একটি ক্রোমোজোমে সারিবদ্ধ ভাবে মালার মত থাকে। যেহেতু আমাদের গ্রহের জীব, প্রাণী স্বাভাবিক অতিমানবিক শারীরিক-মানসিক বৈশিষ্ট্য বিশিষ্ট।

এটা সহজেই অনুমেয় যে এই অতিমানবিক অবস্থার জন্য জিন দায়ী। এ
অবস্থা ছাড়াও দৈহিক বিকৃতি অসম্পূর্ণতা অস্বাভাবিক গঠন মানসিক প্রতিবন্ধকতা জরায়ু ক্যান্সার ইত্যাদির জন্য দায়ী এই জীন বৈশিষ্ট্য।একে বিভিন্ন রকম ভাবে ভাগ করা হয়েছে আপনারা জানেন একটি জিন হচ্ছে প্রবলভাবে প্রকাশিত আরেকটা হচ্ছে প্রচ্ছন্নভাবে প্রকাশিত।

তোতন বললো তাহলে আপনাদের আমাদের এই শরীরের মতো শরীর নয় কেন?

মনে হয় যেন আমাদের ছায়া।
ছায়ার মতো শরীর অন্ধকারময় কেন?

সাইকোভেগাস বলল,এটা হয় তখন , আমরা বায়ুর থেকে প্রতিসরাঙ্ক কমিয়ে অদৃৃশ্য হতে পারি। বায়ুর প্রতিসরণাঙ্কের সমান করলে ছায়ার মত হতে পারি। অহেতুক আমরা প্রকাশিত হতে চাই না। আমরা আড়ালে থাকতে ভালবাসি।

বায়ুর থেকে কম করলে আমরা ভ্যানিশ হয়ে যেতে পারি। অবাক করে অনেক সময় আমরা ভ্যানিশ হতে পারি।

বিশ্ব বাংলার লোগোর মতো সবুজ গোল ফুটবলের মত গ্রহে যানে চেপে ভালই লাগছিল। সুমন, তোতনের কথা হল ভালভাবে। এতদিন অবাক জগতে ছিল। আজ বাস্তব জগতে পদার্পণ করার আগে উত্তেজনা হচ্ছিল তাদের। তারা আস্তে আস্তে গল্প করছিল। তাদের ড্রাইভার ছিল ভেতরে।
তারপর পৃথিবীতে নেমে তারা তোতন এবং সুমনকে বাইরে আসতে বলল।

সুমনা তোতন বাইরে বেরিয়ে এসে দেখল অনেক লোকের ভিড়। সবাই খোঁজাখুঁজি করছে টর্চ নিয়ে লাইট নিয়ে।
জঙ্গল আলোময় হয়ে উঠেছে। এখন রাত দুটো বাজে। তারা অন্য গ্রহে গেছিলো প্রায় ছয় ঘন্টা।সবুজ গোল যানের গতিবেগ আলোর গতিবেগের থেকও বেশি –সুমন বললেন।

সবাই দেখলো তিনটে ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে দুজনকে তারা চিনতে পারল।

কিন্তু একজন কে চিনতে পারল না।

তখন গোয়েন্দা সুমন বললেন, ইনি হচ্ছেন আপনার দেখা সেই অন্য গ্রহের জীব ছায়া।
যিনি আমাদের তাদের গ্রহে নিয়ে গেছিলেন। আমরা দেখে এলাম।আমরা বলি এলিয়েন।

সুমনবাবু আরও বললেন বিজ্ঞানের কল্পনার কথা, আমাদের পৃথিবীর বাইরে প্রাণীর অস্তিত্ব আছে কিনা বা সত্যিই এলিয়েনের অস্তিত্ব আছে কিনা, তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক কখনই শেষ হবার নয়। কেউ বলছেন প্রাণের অস্তিত্ব আছে আর কেউ বলছেন তা কল্পনা মাত্র।বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে এ বিষয়ে মানুষের কৌতুহল শুধু বেড়েছেই। তবে এ মাসের শুরুতেই বৈজ্ঞানিক মনিকা গ্রেডি মন্তব্য করেছিলেন যে, তিনি ‘প্রায় নিশ্চিত’ যে জুপিটারের একটি চাঁদ ‘ইউরোপা’য় প্রাণের অস্তিত্ব আছে।তবে সেটি হাঁটাচলা করতে পারার বা কথা বলতে পারা কোনো এলিয়েন না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। লিভারপুল হোপ ইউনিভার্সিটির গ্রহ ও মহাকাশ বিষয়ক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনিকা গ্রেডি বলেন, সেখানে যে ধরণের প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে, তা ‘অক্টোপাসের বুদ্ধিমত্তার কাছাকাছি প্রাণী’ হতে পারে।তিনি মনে করেন ঐ প্রাণীটি ইউরোপার বরফের নিচে থাকতে পারে।
বৃহস্পতি গ্রহের যে ৭৯টি চাঁদের সম্পর্কে জানা গেছে, ইউরোপা তার মধ্যে একটি। এটি ১৫ মাইল পুরু বরফের আস্তরণে ঢাকা।অধ্যাপক গ্রেডি মনে করেন মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেলেও সেখানে খুব উন্নত বুদ্ধির কোনো প্রাণী পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন: “মঙ্গলগ্রহে যদি প্রাণের সন্ধান পাওয়াও যায়, সেটি খুবই ক্ষুদ্র আকৃতির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন ধরুন, ব্যাকটেরিয়ার মত।

এবছরের শুরুতে মার্কিন মহাকাশ বিজ্ঞানীদের একটি দল ধারণা প্রকাশ করেন যে তারা যদি মহাকাশে অক্সিজেনের অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে পারেন তাহলে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পেতেও সক্ষম হবেন।যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা পৃথিবীর বাইরে অন্যান্য গ্রহে অক্সিজেন গ্যাস খোঁজার একটি পদ্ধতিও আবিষ্কার করেছেন বলে জানিয়েছেন।নতুন গ্রহে আসলে প্রাণ থাকতে পারে?অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) পৃথিবীর অদূরেই একটি ‘বাসযোগ্য’ গ্রহের খোঁজ পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

তোতন বললেন, তাহলে স্যার আমরা তার সাক্ষাৎ দর্শন পেলাম। সুমনবাবু বললেন, গত সোমবার নাসা দাবি করে নতুন ওই গ্রহ পৃথিবী থেকে ‘মাত্র’ ১০০ আলোকবর্ষ দূরে। পৃথিবীর আকৃতির ওই গ্রহের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিওআই৭০০ডি’। এটি ‘টিওআই৭০০’ নামের একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে।বিজ্ঞানীরা জানান, টিওআই৭০০ নামের ওই নক্ষত্র ও তাকে প্রদক্ষিণরত তিনটি গ্রহ আবিষ্কার করেছে টেস। এর মধ্যে টিওআই৭০০ডি নক্ষত্রটিকে এমন দূরত্ব থেকে প্রদক্ষিণ করছে, যা ওই সৌরমণ্ডলের বাসযোগ্য অঞ্চল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সূর্যের সঙ্গে পৃথিবীর দূরত্বের বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা। এই দূরত্বে তরল পানির অস্তিত্ব থাকা সম্ভব বলে দাবি করেছে নাসা।

পরে আপনাকে বলা যাবে এখন উনাকে আমরা বিদায় সম্ভাষণ জানাবো। এলিয়েন সুমন্তবাবুর জ্ঞানের প্রশংসা করলেন। সাইকো বললেন, আপনাদের মত জ্ঞানী লোক এই পৃথবীর সম্পদ।

বৃদ্ধ ভদ্রলোকসহ সকলে অবাক বিস্ময়ে আকাশে দেখল তুবড়ির রোশনাই আর শুভেচ্ছার ভরসা পৃথিবীবাসির আগামী দিনের জন্য

26

ভয় নেই অভয় আছে

আজকে অভয়বাবু তোতন ও সৈেকতকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনায় বসেছেন।তিনি বলেন নিরন্তর আলোচনা, পড়াশুনা ও গবেষণার মধ্যে দিয়ে বুদ্ধির উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তবেই সে সফল গোয়েন্দা হতে পারে। যার সব বিষয়ের উপর সম্যক জ্ঞানের অভাব থাকে সে কোনদিন সত্য অন্বেষণ করতে পারে না।তিনি বলেন, টেলিভিশনের পর্দায় এমন দৃশ্য আমরা সবাই দেখেছি৷ মহাকাশে নীল মরুদ্যানের মতো শোভা পাচ্ছে পৃথিবী৷
‘‘বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একমাত্র পৃথিবীতেই কি প্রাণের স্পন্দন রয়েছে? নাকি অন্য কোথাও প্রাণের বিকাশ সম্ভব?”

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গত কয়েক বছরে গবেষণা অনেক বেড়ে গেছে৷জার্মানির পটসডাম শহরের বিজ্ঞানীরা সদ্য আবিষ্কৃত বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তু পরীক্ষা করেন৷

দূরের এই জগত প্রাণের বিকাশের জন্য কতটা উপযুক্ত? পৃথিবীর সঙ্গে মিল আছে, এমন গ্রহ খোঁজা কেন এত কঠিন?

গবেষক ভ্যার্নার ফন ব্লো বলেন, ‘‘এক্সট্রা-সোলার গ্রহ খোঁজার সমস্যা হলো, নক্ষত্রের আলো সংলগ্ন গ্রহের আলোকে পুরোপুরি ম্লান করে দেয়৷ রাতের আকাশে শুধু নক্ষত্রগুলি দেখা যায়, তাদের আশেপাশে গ্রহ থাকলেও সেগুলি দেখা যায় না৷”পৃথিবীর মতো যখন তারা তাদের সূর্যের আলোকে ঢেকে ফেলে৷ তাই মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা কেপলার স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়েছিলেন৷ কেপলার স্যাটেলাইটে দেড় মিটার বড় টেলিস্কোপ ছিল৷ এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল প্রাণের বিকাশের উপযুক্ত গ্রহের সন্ধান করা৷ কোনো গ্রহ তার সূর্যের পাশ দিয়ে যাবার সময় আলো ঢাকা পড়ে যায়৷ অর্থাৎ নক্ষত্রের আলোয় সামান্য তারতম্য ঘটলেই স্যাটেলাইটকে তা টের পেতে হবে৷ তখনই গ্রহ আবিষ্কার করা যায়৷ যেমন আমাদের এই পৃথিবী সূর্য প্রদক্ষিণ করার সময় যে ছায়া সৃষ্টি করে, তার মাত্রা সূর্যের আলোর দশ হাজার গুণেরও কম৷ আরেকটি সমস্যা হলো, নক্ষত্রের উপর গ্রহের ছায়া পড়ার ঘটনা খুবই বিরল।তাই মহাকাশের একটা বড় অংশের উপর নজর রেখেছিল৷ সিগনাস নক্ষত্রপুঞ্জের আশেপাশে প্রায় দেড় লক্ষ নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে নিস্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল টেলিস্কোপ৷ স্যাটেলাইটকে এমন অবস্থান বজায় রাখতে হয়েছে, যাতে প্রত্যেকটি নক্ষত্র ডিটেক্টরে সরে না যায়৷ একমাত্র এভাবেই কেপলার গ্রহের ছায়ার কারণে আলোর সামান্য তারতম্য টের পেয়েছে৷ দূরের এই সব গ্রহে প্রাণের স্পন্দন সম্ভব কিনা, তা দেখার কাজ গবেষকদের৷ এটা অনেকটা নির্ভর করছে নক্ষত্র থেকে গ্রহের দূরত্বের উপর৷ পৃথিবীর মতো সেই গ্রহেও তরলকে তরল থাকতে থাকতে হবে, বাষ্প বা বরফ হয়ে গেলে চলবে না৷ ভ্যার্নার ফন ব্লো বলেন, ‘‘তরল পানি বা জল প্রাণের স্পন্দনের পূর্বশর্ত, যেমনটা পৃথিবীতে ঘটেছিল৷ অন্য কোনো গ্রহের তাপমাত্রা যতি আনুমানিক শূন্য থেকে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে, তখন সেখানে তরল জল থাকা সম্ভব৷ এমন পরিবেশে প্রাণের বিকাশ ঘটা সম্ভব৷”কিন্তু কেপলার আর কারণ গত বছরের আগস্ট মাসে স্যাটেলাইটের দুটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গেছে৷ চোখ ঘোরানোর ক্ষমতা ছাড়া ফোকাস করা সম্ভব নয়৷ অথচ ঠিক তার আগেই অভিযানের সময়কাল আরও ৩ বছর বাড়ানো হয়েছিল৷ কেপলার মোট ১৩৫টি নতুন গ্রহ আবিষ্কার করেছে৷ সবচেয়ে ছোট গ্রহটি আমাদের চাঁদের চেয়ে সামান্য বড়৷ সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার ছিল প্রায় আমাদের মতোই একটি সৌরজগত৷ সেই নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে পৃথিবীর মতো দুটি গ্রহ৷ এমন আদর্শ ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ আর পাওয়া যায়নি৷ তবে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে এমন আরও গ্রহের অস্তিত্ব রয়েছে বলে অনুমান করা হয়৷ ভ্যার্নার ফন ব্লো বলেন, ‘‘কেপলারের আবিষ্কার থেকে মোটামুটি অনুমান করা যায়, মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিতে সম্ভবত ৫,০০০ কোটি গ্রহ রয়েছে৷ তার মধ্যে ৫০ কোটি গ্রহে প্রাণের বিকাশ সম্ভব৷”তবে এই সব গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর মিল কতটা বা সেখানে প্রাণ আছে কিনা, ভবিষ্যতের অভিযানগুলিতে তা জানা আপনার কি প্রায়ই মনে হয় না যে পৃথিবীর বাইরে কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে? অন্য কোনো গ্রহে মানুষের মতো বা ভিন্ন ধরনের প্রাণীর উপস্থিতি সত্যিই আছে? মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) বিজ্ঞানীরা আপনার সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন।যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত নাসার সদর দপ্তরে গবেষকেরা পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অনুসন্ধানে তাঁদের মহাপরিকল্পনার ব্যাপারে সম্প্রতি বিস্তারিত জানিয়েছেন। নাসার একাধিক দূরবীক্ষণযন্ত্র (স্পেস টেলিস্কোপ) এ লক্ষ্যে আগে থেকেই মহাকাশে স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব টেলিস্কোপের সংখ্যা ও তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে।যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক ও জ্যোতির্বিদ সারা সিগার বলেন, অদূর ভবিষ্যতে মানুষ কোনো একটি তারকা দেখিয়ে বলতে পারবে যে সেটি পৃথিবীর মতোই। প্রতিটি ছায়াপথে পৃথিবীর সঙ্গে তুলনীয় বৈশিষ্ট্যের অন্তত একটি গ্রহ থাকার সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা।

পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধানে নাসার মহাপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিশেষ কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) উৎক্ষেপণ ও স্পেস টেলিস্কোপ স্থাপনের মতো উদ্যোগ। ২০১৭ সালে সৌরজগতের বাইরের নক্ষত্র পর্যবেক্ষণে উৎক্ষেপণ করা হবে কৃত্রিম উপগ্রহ ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভেয়িং স্যাটেলাইট (টিইএসএস)। পরের বছরই মহাকাশে স্থাপন করা হবে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। আর পরবর্তী এক দশকের মধ্যে ওয়াইড ফিল্ড ইনফ্রারেড সার্ভে টেলিস্কোপ-অ্যাস্ট্রোফিজিকস ফোকাসড টেলিস্কোপ অ্যাসেট (ডব্লিউএফআইআরএসটি-এএফটিএ) পাঠানোর প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
নাসার ওই স্পেস টেলিস্কোপগুলো সৌরজগতের বাইরের গ্রহের খোঁজ করবে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত জানাতে পারবে। ফলে সেসব গ্রহের জলবায়ু ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে।
নাসার বিজ্ঞান অভিযান অধিদপ্তরের সহযোগী পরিচালক ও মহাকাশচারী জন গ্রান্সফেল্ড বলেন, গ্রহ খুঁজে পেতে নাসা যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, সেগুলো বাস্তবের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ও অন্যান্য প্রযুক্তি নিয়ে এখনই কাজ চলছে। তাই বিষয়টিকে স্বপ্ন বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
২০০৯ সালে কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ স্থাপনের পর থেকেই সৌরজগতের বাইরের গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে মানুষ নতুন অনেক কিছু জানতে পেরেছে। সৌরজগতের বাইরে অন্তত পাঁচ হাজার গ্রহ রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে এক হাজার ৭০০ গ্রহের অস্তিত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।কেপলার স্পেস টেলিস্কোপই প্রথম পৃথিবীসদৃশ অন্য গ্রহের খোঁজ দিয়েছে।ওই গ্রহে তরল পানি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে অবস্থিত স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ম্যাট মাউনটেইন বলেন, ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেলে সেটি হবে সত্যিই চমকপ্রদ ব্যাপার। সেই কাঙ্ক্ষিত আবিষ্কারের মুহূর্তে পৃথিবী ও মানবজাতি জেগে উঠবে। মহাবিশ্বে পৃথিবীর একাকিত্বের অবসানও ঘটবে তখন। বায়ুমণ্ডল থেকে পৃষ্ঠে অবতরণে এর ৭ মিনিট সময় লেগেছে। লাল মাটির গ্রহে’ পা রেখেই ইনসাইট মিশনের এ রোবটটি ছবি ও তথ্য পাঠানো শুরু করেছে, জানিয়েছে বিবিসি।কম্পনের তথ্য ও তাপমাত্রা থেকে মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো বিষয়ে ধারণা নিতেই এ অভিযান চালাচ্ছে নাসা। মার্কিন এ মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি জানায়, গ্রিনিচ মান সময় সোমবার রাত ৭টা ৫৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৫৩ মিনিটে) ইনসাইটের এ রোবটটি মঙ্গলে নামে। অবতরণের পরপরই মিশনটির নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ক্যালিফোর্নিয়ার জেট প্রোপালশান ল্যাবরেটরির (জেপিএল) বিজ্ঞানীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।নাসার প্রধান প্রশাসক জেমস ব্রিডেনস্টাইন ইনসাইটের সফল ‘ল্যান্ডিংয়ের’ এ দিনটিকে ‘অভূতপূর্ব’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। ফোনে বিজ্ঞানীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ডট্রাম্প ওরোবটটি এখন মঙ্গলের বিস্তৃত, সমতল একটি অঞ্চলে অবস্থান করছে; নিরক্ষরেখার কাছের ওই এলাকাটিকে ‘এলিসিয়াম প্ল্যানেসিয়া’ নামে ডাকা হচ্ছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময়ও এর গতি ছিল তীব্র বেগে ছুটে যাওয়া বুলেটের চেয়ে বেশি। চ্যালেঞ্জটা ছিল এরপরই- গতি কমিয়ে মঙ্গলপৃষ্ঠে নিরাপদে অবতরণের।একটি তাপনিরোধক যন্ত্র, প্যারাসুট আর রকেটের সমন্বয়ে মিনিট সাতেকের মধ্যেই সেই চ্যালেঞ্জ উৎরে যায় ইনসাইট। নাসা জানিয়েছে, তারা রোবটে থাকা ফরাসী-ব্রিটিশ সিসমোমিটার দিয়ে মঙ্গলের কম্পনের তথ্য জানতে চায়। এর মাধ্যমে লাল গ্রহটির কেন্দ্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। জানা যাবে, মঙ্গলের ভূ-অভ্যন্তরে থাকা বস্তুর কাঠামো সম্পর্কেও।গ্রহটি নিজের অক্ষের চারপাশে কীভাবে কম্পিত হয় তা জানতে ইনসাইটের রোবটটিতে রাখা হয়েছে রেডিও ট্রান্সমিশন সিস্টেমও।মঙ্গল এখন কতখানি সক্রিয় তা বুঝতে লাল এ গ্রহের মাটিও খুঁড়তে চায় নাসা। সে কারণেই রোবটের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ৫ মিটার পর্যন্ত খননে পারদর্শী এমন যন্ত্রও। আপনি যদি একটি সাধারণ ডিম ও রান্না করা ডিম নেন এবং একসঙ্গে ঘোরান, তাহলে তাদের কম্পনে ভিন্নতা দেখতে পাবেন। এর কারণ হচ্ছে ডিমের ভেতর থাকা তরল পদার্থের অবস্থান। আজ পর্যন্ত আমরা জানি না, মঙ্গলের কেন্দ্র কী তরল, না কঠিন কিছু দিয়ে তৈরি। জানিনা এটি কত বড়। ইনসাইট আমাদের এসব তথ্য জানাবে,” বলেছেন নাসার ডেপুটি প্রজেক্ট সায়েন্টিস্ট সুজানে স্ম্রেকার।

27

গোয়েন্দা সুমন বাবু শুধু গোয়েন্দা নন। তিনি একাধারে বিজ্ঞানী,গোয়েন্দা বিচক্ষণ ব্যক্তি।তিনি বিভিন্ন বিষয়ে আপডেট সংবাদ রাখতে আগ্রহী। তিনি বিজ্ঞান এর সংবাদ সম্বলিত বইগুলো পড়েন আর তোতনকে বিশ্লেষণ করে বোঝান সেই কারণগুলো।কম্পিউটার আর মোবাইলের সাহায্যে এখন পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনেছে মানুষ। টাকা নিয়েও তিনি কাজ করেন আবার সমাজসেবক হিসেবেও তার নাম আছেন। আজ গোয়েন্দা সুমন নিজের বাড়ির বারান্দায় বসে আছেন। এই সময়টাতে নিয়ে বিভিন্ন বিজ্ঞান সংবাদ এর বইগুলো পড়েন। গোয়েন্দা সুমনের নিত্যসঙ্গী তোতন। গোয়েন্দা সুমনের কথাবার্তা শুনছেন তোতন। সুমন বলছেন, ভালুকের আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়ে গেছে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই। দুই মেরুর বরফ গলতে শুরু করেছে।এই বরফের দেশের বাসিন্দা হলো শ্বেত ভালুক তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের বাসস্থান হারিয়ে যেতে শুরু করেছে।
এর ফলে সে দলই তাদের নতুন বাসস্থান খোঁজার জন্য মাইল মাইল বরফের ভেতর দিয়ে সাঁতার কাটতে আরম্ভ করেছে।
সুমনবাবু বলছেন, এই ভল্লুক গুলো সাধারণত বেশিরভাগ সাঁতারে অভ্যস্ত নয়।।তোতন বল্লো, তাহলে এই ভাল্লুকের ভীষণ বিপদ।
তারা তাদের বাসস্থান এর আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়।প্রয়োজনমতো সাঁতার কাটে।
কিন্তু তাহলে এতদূর সাঁতার কেটে ফিরে আসবে কি করে।
তখন গোয়েন্দা সুমন বললেন, কিছু সাঁতার কাটতে কাটতে খোলা সমুদ্রের বুকে এসে পড়েছে। তারা তাদের বাসস্থান থেকে কিছু কিছু সময় 95 কিলোমিটার পর্যন্ত চলে আসতে দেখা গেছে। ফিরে যাবার ক্ষমতা থাকেনা এবং জলের মধ্যে দেহ ত্যাগ করে।

তোতন বলল, এটা জাপান মিনারেলস ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস এর ‘এনভারমেন্ট নিউজ’ পত্রিকার নাম।

গোয়েন্দা সুমন বললেন, হ্যাঁ উত্তর উপকূলে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বেশকিছু শ্বেত ভালুক কে জলে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে।
ওই জায়গায় কুড়ি শতাংশ ভালুক আশ্রয় খুঁজে সমুদ্র ঝাঁপিয়ে পড়ছে এবং উত্তর মেরুর বরফ এশিয়ার প্রতি দর্শকের 10% গলতে শুরু করেছে। সেই হিসাব করে দেখেছি 1.5 মিলিয়ন কিলোমিটাে রবরফ নষ্ট হয়েছে।

গত চার বছরে আত্মহত্যার সংখ্যা অনেক বেশি উঠেছে।
নিজেদের মাংস নিজেরাই খাচ্ছে।খাবার নেই তাই।
তারা একে অপরকে আক্রমণ করছে এই খাবারের অভাবে।
এইসব জায়গাগুলোতে যেখানে এরকম ঘটনা ঘটেছে গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে জায়গাগুলো মিশে গেছে সমুদ্রের বুকে।

তোতন এই কাহিনী শুনে খুব দুঃখ পেল।

হঠাৎ ঘরে প্রবেশ করলেন, এক বৃদ্ধ ব্যক্তি।
তিনি বললেন তিনি এক বিপদে পড়েছেন। গোয়েন্দা সুমনের সঙ্গে কথা বলার আগে তোতনকে কথা বলতে হয়।
তোতনের সঙ্গে কথা বলতে হয় বৃদ্ধ জানতেন না তোতন দরজা খুললেন।

তোতন গিয়ে প্রথমে দরজা খুললন।
তারপর বললন, কাকে চাই?

বৃদ্ধ বললেন আমি গোয়েন্দা সুমনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি

– বলুন আমাকে বলুন কি প্রয়োজন
-আমার নাম তোতন। আমি তার সহকারি। তখন বৃদ্ধ ব্যক্তি বললেন, আমার একটা সমস্যা হয়েছে কিছুক্ষণ বসে আলোচনা করলেই ভালো হয় তখন বললেন তোতন বলল আসুন ঘরে আসুন বসুন।

তারপর বৃদ্ধ ব্যক্তিটি চা খেয়ে গোয়েন্দা সুমনের দেখা পেলেন।
তার সামনাসামনি বসলেন সুমন।

বললেন, বলুন আপনার সমস্যা কি?

বৃদ্ধ শুরু করলেন আমাদের এক প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ি। সেখানে হঠাৎ আমি একদিন রাতে আবিষ্কার করলাম এক প্রাণীকে সেটা পৃথিবীর প্রাণী নয় অন্য কোন গ্রহ থেকে আসা হয়তো তারা মানুষের ভাষা বুঝতে পারছে। কিন্তু আমি এটা বলা মাত্র গ্রামে কোন লোক বিশ্বাস করছে না। গ্রামের লোক আমাকে পাগল বলছে। এটাকে দেখাতে না পারলে লজ্জায় আমাকে মরতে হবে।

জীবটি লুকিয়ে পড়ে যে কোন এক জায়গায়। তাকে কেউ দেখতে পাচ্ছে না।

এখন আপনার সাহায্যে প্রাণী কে আবিষ্কার করে আমার কথার সত্যতা প্রমাণ করাই এখানে আসার কারণ।

তার জন্য অর্থ ব্যয় করতে আমি প্রস্তুত আছি।

গোয়েন্দা সুমন বলেন, আপনি আশ্চর্য হবেন না। আরে বাবা ভলতেয়ারের সেই বইটা পড়েন নি যে পৃথিবীতে এসেছে তার চেহারা অদ্ভুত 24,000 জ্যামিতিক অংশ দিয়ে সেই জীবের দেহ তৈরি।
প্রতিটি অংশের দৈর্ঘ্য 5 ফুট।
তার নাকের দৈর্ঘ্য 5714 ফুট পড়েছেন। এত বড় নাকের মালিক যিনি হন তাদের বুদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের চেয়ে অনেক বেশিগুণ হয়।

বৃদ্ধ বললেন আমিতো অতশত জানিনা আমার পড়াশোনা অতদূর নয়।
আমি তবু দেখলাম সূর্যের বিপরীতে মানুষের ছায়া যত দীর্ঘ হয়।

সেরকম দীর্ঘ চেহারার ছায়ার মত কালো চেহারার লোক।
লোক বলাই ভাল কারণ হচ্ছে এ লোক নয় অন্য গ্রহ থেকে আসা মনে হচ্ছে।

আমাদের পৃথিবীর মানুষ নয়।

আপনি গিয়ে সেটা আবিষ্কার করতে পারলে সব থেকে ভাল হবে।
সুমন বললেন নিশ্চয়ই যাবো আমরা আপনার ওখানে যাব ঠিক আছে আমরা আপনার সঙ্গে দেখা করে সমস্ত কথা বলব।

পরেরদিন গোয়েন্দার সাজে সেজেগুজে গোয়েন্দা সুমন সহকারি তোতনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন সেই বৃদ্ধের বাড়ির উদ্দেশ্যে।

ঠিক 4 ঘন্টা ট্রেন জার্নি।

পরে তারা তার বাড়িতে পৌঁছালেন।

বৃদ্ধ তৈরি ছিলেন তাঁদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য।
তিনি নিয়ে গেলেন ঘরে এবং তাদের থাকার জায়গাটি দেখিয়ে দিলেন।

দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে গোয়েন্দা সুমন আর তোতন গ্রাম দেখতে বেরোলেন।
বেশ বৈচিত্র্যে ভরা সবুজ সবুজ গাছগাছালি মন কেড়ে নেয়।পাশেই ফালি নদী। পাড়ে ফল গাছ।

ভেতরে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তোতন আর সুমন কথা বলতে বলতে চলেছেন। এক জায়গায় তারা বসে পড়লেন। জঙ্গল খুব ভালোবাসেন গোয়েন্দা সুমন।
তিনি সবুজ একটা পাতা হাতে নিয়ে বললেন এটা কি গাছের পাতা বলতো?

তোতন বলল, এই পাতা আপনি হাত দিয়েছেন? আপনার তালুতে আছে কোন অস্বস্তি হচ্ছে না বলছেন না তালুতে বিছুটি পাতার কোন প্রতিক্রিয়া হয় না।

কিন্তু এটা ঘষে দিলে রস যদি এদেহে লাগে তাহলে তখন জ্বলতে শুরু করে।

বলছি, আমি চিনি এটা বিছুটি পাতা।তোতন বললেন।

গোয়েন্দা সুমন আক্ষেপ করে বললেন এখনকার ছেলেরা এই বিছুটি পাতা, ডুমুর গাছ, নয়ন তারা গাছ, তারপর বাঁদর লাঠিগাছ এইগুলো কি আর চিনতে পারবে?
কত বিভিন্ন রকমের প্রকৃতিতে গাছ আছে। যারা আপনাআপনি বেড়ে ওঠে। তাদের লাগাতে হয়না কদবেল গাছ বেলগাছ এগুলো আস্তে আস্তে যেন হারিয়ে যাওয়ার পথে। বিশ্বপ্রকৃতির কতটুকু চিনি আমরা ভাই।

সুমন আর তোতনের কথা বলতে বলতে কখন যে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমেছে তারা বুঝতেই পারেনি।
হঠাৎ বন্ধ করলো তাদের আলোচনা একটা ছায়ামূর্তি।

কে যেন আড়ালে সরে গেলো।
তোতন ইশারা করে গোয়েন্দা সুমনকে, এগিয়ে গেলেন জঙ্গলের পাশে।
তিনি দেখতে পেলেন একটা ছায়ামূর্তি যাচ্ছে। ওরা দুজনেই পিছনে ছুটতে শুরু করলেন।

তাড়া করতে করতে জঙ্গলে গভীরে গিয়ে ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে গেল আগ্রহ ভরে।

দাঁড়িয়ে পরিষ্কার বাংলা ভাষায় বলল কেন তোমরা আমার পিছু ধাওয়া করেছ? কোন প্রয়োজন আছে।

গোয়েন্দা সুমন উত্তরে বললেন আপনি এত সুন্দর পরিষ্কার বাংলা ভাষা কি করে বলছেন?

তখন ছায়ামূর্তি উত্তর দিলো, আমাদের গ্রন্থিতে ভাষা অনুবাদের গ্রন্থি ব্রেনে সিলেক্ট করা আছে যাতে আমরা সব ভাষাই বুঝতে পারি।

গোয়েন্দা সুমন বললেন, আপনি কোন গ্রহ থেকে এসেছেন।
ছায় বলল আমি ইউরেনাস গ্রহ থেকে এসেছি আমরা আমরা পৃথিবীতে বেড়াতে এসেছি। এখানকার জীব বৈচিত্র। এখানকার সবুজ প্রকৃতি বৈচিত্র দেখতে।

আমার মত অনেকেই এখানে এসেছেন। আপনার নাম কি?

আবার সুমন জিজ্ঞাসা করল আপনার নাম কি?

উত্তর দিলো ছায়া আমার নাম সাইকোভেগাস।

আপনার নামের সঙ্গে সাইকো যুক্ত কেন?

প্রশ্নের উত্তরে বলল, আমরা সব মানুষকেই সন্দেহ করি। তারপর সন্দেহের তালিকা থেকে তাঁর অন্তরের কথা বুঝতে পারি।

গোয়েন্দা সুমন বলল আপনাদের পরমায়ু কত সাইকোভেবগাস বলল, আমাদের পরমায়ু খুব কম। খুব কম।
তোতন বল্লো, কত কম বলুন না।

বলল, আমাদের পরম আয়ু মাত্র সাড়ে 600 বছর।

আমরা মানুষরা তো 100 বছরে বুড়ো।
আমাদের চামড়া ঝুলে পড়ে।

আশি বছর হলে আমরা হাঁটতে পারি না।

সাইকো বলল, তোমরা খাও তোমাদের খাওয়া-দাওয়া ঠিক না।

আমরা গাছের সবুজ পাতা আর সৌরশক্তি সাহায্যে বেঁচে থাকি।
আর তোমরা খাও আর চৌদ্দবার করে মলত্যাগের জন্য যাওবাথরুমে।অই সময়টা আমাদের জীব উন্নয়নে কাজে লাগাই।কাজ করতে করতে খাই। বাকি সময় ঘুমোই। ঘুম না হলে উন্নয়ন বন্ধ।
তোতন বলল,এটা নতুন কথা। তারপর বলুন।

-আমরা বছরে একবার মাত্র মল ত্যাগ করি। গোয়েন্দা সুমন বললো আমাদের প্রকৃতি খুব সুন্দর। দেখে আপনার আনন্দ হবে আশা করি।

সাইকো ভেগাস বললন, আপনাদের গ্রহে আরো গাছ লাগান।
সবুজে ভরে তুলুন। তানাহলে, ‘ভেগো ভাইরাসে ‘ধ্বংস হয়ে যাবে এই গ্রহ।

তোতন বলল আমরা শুনেছি ইউরেনাস এত মাটি নেই।
সাইকো বলল আপনারা শুনেন অনেক কিছু কিন্তু কোনটাই সঠিক নয়।
স্কাইল্যাব এ চড়ে আমরা মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়াই। এই মহাবিশ্বের কতটুকু খবর রাখেন আপনারা মানুষেরা।

গোয়েন্দা সুমন বললো আমরা দুজন আপনাদের গ্রহে যেতে চাই আপনি কি নিয়ে যেতে রাজি?

সাইকো বেগাস বলল, হ্যাঁ নিশ্চয়ই আমার সঙ্গেই আমার মহাকাশযান আছে।
আপনাদের বিশ্ব বাংলা লোগো ওই সবুজ রঙের গোল ফুটবলের মত আমাদের মহাকাশযান।

গোয়েন্দা সুমন আর তোতন মহাকাশযানে চেপে বসলো। গোয়েন্দা সুমন বললো আমাদের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ফেরত দিয়ে যাবেন তো?

সাইকো বলল, আমরা কথা ও কাজে সত্যতা রাখি।

সাইকো বলল আমাদের প্রতিটি মিনিট খুব দরকারি তাই আমরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আপনাকে এখানে পৌঁছে দেবো কথা দিচ্ছি।

মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে গেল ইউরেনাস।প্রচুর অক্সিজেন।হাল্কা শরীর তোতন বলল। সুমন বললেন, এ জয়ফুল প্ল্যানেট ফর গ্রীন।

এত মহাকাশযানের গতি দেখে গোয়েন্দা সুমন অবাক। বলল আপনাদের এখানে এত নিশ্চুপ কেন। এত চুপচাপ সব কথা বলছে।

সাইকো বলল আমাদের এখানে মানুষ বলি না। মানুষ তো নয় এদের অন্য নাম আছে।ভার্জিন প্লানেটেরিয়ান।

এই গ্রহে বেশিরভাগ সময় রাতে ঘুমোতে হয় এবং ঘুমিয়ে থাকার ফলে এদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিশ্রাম পায় এবং পরম আয়ু বাড়ে।

কিন্তু গোয়েন্দা সুমন বলল আপনারা কি করে এত উন্নত হলেন এই সামান্য ঘন্টা জেগে থেকে। সে বলল আমাদের প্রতিটা মিনিট হচ্ছে ঘন্টার সমান।
আমরা প্রত্যেকটা মুহূর্তকে সুন্দর কাজে ব্যয় করি।

গোয়েন্দা সুমন বললেন, এই রহস্য আমাকে একটু বিশ্লেষণ করুন বলুন।

তখন সাইকো বেকাস বলল প্রায় উনিশ লক্ষ বছর ধরে এই 12 ঘন্টা বাধ্যতামূলকভাবে এই গ্রহে শারীরবৃত্তীয় বিবর্তন ঘটেছে।
আমরা উপযোগী হয়ে উঠেছি এই গ্রহে। এটা লক্ষ্য করবার মতো আমাদের যেমন দিনের বেলায় খিদে পায়। রাতে সে অনুভব খিদে করে না।

অল্প বয়সে যারা আমাদের গ্রহের ঝটপট করে কিন্তু রাত্রে 12 ঘণ্টা ঘুমিয়ে না খেয়ে কাটিয়ে দেয় কি করে এটা সম্ভব হয় একমাত্র মানবদেহে অপেক্ষাকৃত অল্প পরিমাণে যার জন্য হয়।

গোয়েন্দা সুমন ঠিক ধরেছেন এই পয়েন্টটা বললেন আমাদের মানব শরীরে ঘ্রেলিন হরমোন নিঃসরণঘটে। এটা তো আপনাদের জীবনের সঙ্গে মানবজীবনকে মিলিয়ে দিচ্ছে। সাইকোভগাস বলল, অতএব নিশ্চিত হয়ে যান। আপনাদের পরমায়ু ক্রমশ বাড়তেই থাকবে। তবে শর্ত হল সবুজ গ্রহ চাই।

তাহলে এটা কিন্তু আপনাদের গ্রহের জীবের সঙ্গে আমাদের গ্রহের জীবের হরমোন একদম মিলে যাচ্ছে।

28

অভয়বাবু আজ তোতনকে স্কুলজীবনের কথা বলছেন। আমার বন্ধু রাজু তার স্কুলবেলায় বিজ্ঞানের স্যারকে খুব ভালবাসত। রাজুর অন্য বন্ধুরা বলত পাগলা স্যার। রাজুর খুব রাগ হত। সে বলত, এইরকম পাগল হাজার হাজার প্রয়োজন আমাদের শিক্ষার জন্য।

বিজ্ঞান স্যারের আমরা নাম রেখেছিলাম লাফিং স্যার। মার্চ মাসে বিজ্ঞানী আইন স্টাইনের জন্ম। এই বিজ্ঞানীর জন্মদিনে খুব মজা করে বিজ্ঞান বোঝাতেন স্যার। তিনি একবার বলেছিলেন, ছোটবেলায় আমরা সৌরজগতের গ্রহগুলো কে সূর্যের থেকে কত দূরে শিখেছিলাম। পৃথিবীর থেকে সূর্য পনেরো কোটি কিলোমিটার দূরে। কিন্তু মুশকিল হল এই‘পনেরো কোটি কিলোমিটার’–টা কতদূর তার ধারণা আছে নাকি আমাদের? তোমার স্কুল আর মামার বাড়ির দূরত্ব কত, বলতো রাজু।রাজু বলল, স্যার তিন’কিলোমিটার হেঁটে স্কুল যেতে মিনিট কুড়ি লাগে। একশো কিলোমিটার দূরে মামার বাড়ি যেতে বাসে ঘন্টাখানেক লেগে যায়।

সমর বলল, আমার মামা দিল্লিতে থাকেন। কলকাতা থেকে দিল্লীর দূরত্ব দেড় হাজার কিলোমিটার – প্লেনে যেতে লাগে ঘন্টা দেড়েক কি দুয়েক। স্যার বললেন,তাহলে দেখ, এই একশো কিলোমিটার বা দেড় হাজার কিলোমিটার দূরত্বের সাথে আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে একটা সম্পর্ক তৈরি হল। কিন্তু পনের কোটি?সেটা কত বড় সংখ্যা তা বুঝি নাকি? সুতরাং, সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব আমাদের কাছে একটা মুখস্থ করার সংখ্যা হিসেবেই রয়েগেল, অনুভূতি বা‘ইনটুইশন’–এর সাথে যুক্ত হল না।যেমন, একটা উড়োজাহাজ যার কলকাতা থেকে দিল্লী যেতে এক-দেড় ঘন্টা লাগে, তার কতক্ষণ লাগবে একই বেগে পৃথিবী থেকে সূর্য যেতে? উত্তরটা সহজেই দূরত্বকে গতিবেগ দিয়ে ভাগ করে পাওয়া যাবে – প্রায় সতের বছর! আবার ব্যাপারটাকে অন্যভাবেও ভাবা যায়। ধরা যাক, পৃথিবীর সাইজ একখানা পাঁচ সেন্টিমিটার ব্যাসের রাজভোগ কি রসগোল্লার মত। তাহলে এই স্কেলে সূর্য কত বড় আর কত দূরে হবে?সমর বলল,অঙ্কটা চট করে কষতে পারব ঐকিক নিয়ম লাগিয়ে।স্যার বললেন দূরত্বগুলো ছোট সংখ্যা নিয়ে হিসেব করলে সহজ হয় অঙ্কটা। এবার কিন্তু সৌরজগত সম্বন্ধে আমাদের একটা ধারণা তৈরি হবে। মনে মনে একটা ছবি বানিয়ে নিলাম যে আমার টেবিলের উপরের রসগোল্লাটা পৃথিবী, আর মিনিট পাঁচ–ছয় হেঁটে গেলে সূর্যকে পাব। কিন্তু সূর্য তো বিন্দু নয়! তার ব্যাস প্রায় চোদ্দ লাখ কিলোমিটার। তাহলে আবার ঐকিক নিয়মে দেখে নেব যে আমাদের উদাহরণে সূর্য হবে প্রায় সাড়ে পাঁচ মিটার মানে মোটামুটি একখানা বড়সড় ঘরের মত। ঘরের মত চৌকো নয় অবশ্য, মোটামুটি গোলাকার।এইভাবে তিনি বিজ্ঞান বোঝাতেন সহজ করে। তারপর যখন বারো ক্লাসে পড়ি তখন স্যার একবার স্কুল ল্যাবরেটরিতে ক্লাস নিলেন। স্যার সিরিয়াস হয়ে পড়াচ্ছেন। প্রায় কুড়ি মিনিট পরে ক্লাসে সকলেই হাসতে শুরু করেছে। রাজু ও তার বন্ধুরা তো হাসছেই। তার সঙ্গে হাসছেন, লাফিং স্যার।আমরা অবাক হয়ে হাসছি।হাসির কলরব পৌঁছে গেল হেড মাষ্টারমশাইয়ের ঘরে। তিনি একটি শক্ত লাঠি নিয়ে এলেন মারার জন্য।তিনি চিৎকার করছেন আর বলছেন, বাঁদরামি হচ্ছে। এটা স্কুল। স্কুলে হাসি। ঘরে ঢুকে পড়ে হেড মাষ্টার মশাই ও হাসতে লাগলেন। রাজুরা অবাক। কি ব্যাপার হলো।এদিকে স্যার হাসতে হাসতে এগিয়ে চলেছেন একটা মোটা কাঁচের বোতলের দিকে। তিনি দেখলেন বোতলের মুখ খোলা। লেখা আছে বোতলের গায়ে নাইট্রাস অক্সাইড। স্যার বন্ধ করলেন ঢাকনা।তারপর দশমিনিট পরে হেডস্যারকে বললেন, স্যার লাফিং গ্যাসের বোতল খুলে ফেলেছে কেউ। তার ফলে এই হাসি।সমর বললো,স্যার হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গেছে।

তোতন বলল,কে বোতল খুলেছিলেন দাদা?

অভয় মুচকি হেসে বললেন, কে যে বোতলটা খুলেছিলেন তা আজ পর্যন্ত জানা যায় নি…

29
ভয় নেই অভয় আছে, গোয়েন্দা সেবাকেন্দ্রে অনেক গোয়েন্দা গোপনে কাজ করেন বিভিন্ন সময়ে। তার মধ্যে পলি দাস অন্যতম যোগ্য গোয়েন্দা এবং বিজ্ঞানী।

তার পরিচয় পাবেন আজ তার সেবাকাজ দেখে। পলিদি বিজ্ঞানী । পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।গোয়েন্দাগিরিও করেন। এটা তার শখ।বুুদ্ধিতেে শান দেন নিয়মিত।
খুব কম সময় বাইরে বেরোন।
সবসময় নিজের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখেন কখন কিভাবে সমাজের উপকার করা যায়।

দিদির বাড়ির একটি ছেলে আছে। তার নাম রিপন রিপন। ঘাড় বাঁকা।

সে চলতে ফিরতে পারে না। একটা তিন চাকার রিকশা ছোট থেকে কিনে দেওয়া হয়েছে। তাতেই চেপে যাওয়া আসা করে। কিন্তু রিপন লেখাপড়ায় খুব ভালো তার বুদ্ধি খুব প্রখর।

দিদির ঘরে তিনজন সদস্য সুমন বাবু নিজে তার এক চাকর তার দেখাশোনা করে আর একটা কুকুর।
কুকুর প্রভুভক্ত প্রাণী। সমানভাবে কুকুরটি খুবই প্রিয় তার। ইঁদুর ধরে দেয় কুকুরটি সুমনবাবুকে।

সঙ্গে যে থাকে তার নাম তোতন।। তোতন তাঁর দেখাশোনা করে।
সবকিছুই তোতনই করে। লোকের সঙ্গে কথা বলা সব কিছুই সে সামলায়।

আজ ভোরে উঠেই দিদির মাথায় একটা চিন্তা বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে।

সে তোতনকে বলছে, মহাভারতের আদিপর্বে গল্পটা জানিস। ধৃতরাষ্ট্র পত্নী দু’বছর গর্ভধারণের পর প্রসব করলেন একটি গোলাকার মাংসপিণ্ড।সেটি তুলে দেওয়া হল ঋষি দ্বৈপায়নের হাতে। তার থেকে তিনি 100 টি খন্ডে বিভক্ত করে বিভিন্ন ওষুধি উদ্ভিদে ভিজিয়েএকটি কাপড়ের টুকরো নিয়ে সেগুলির মধ্যে টানা দু’বছর রেখে দিলেন।
আজকের টেস্ট টিউব বেবি সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে কোথাও মিল আছে। কারো কারো মতে প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞান খুব উন্নত ছিল।

তোতন বললো তাহলে আর্য ঋষিরা কত পণ্ডিত ছিলেন বলুন। তারা নিশ্চয়ই এইসব ব্যাপারে বিজ্ঞানসম্মত উপায়গুলো জানতেন।

দিদি আবার বললেন আমাদের পাশের বাড়ি রিপনের রোগ হয়েছে। তার নাম ডাক্তারি ভাষায়, আমিও ট্রফিক লেটারাল স্ক্লোরেসিস সংক্ষেপে এ এল এস।

বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং যার অসহায় শিকার। এমন একটা রোগ যা মস্তিষ্কের নিউরন অর্থাৎ কোষগুলোকে নষ্ট করে দেয়। ফলে প্রচুর অঙ্গ কাজ করে না।
কোষ বেশি অচল হয়ে পড়ে।

তোতন তো অত পড়াশোনা জানেনা।
সে সবে গ্রাজুয়েট হয়েছে। কিন্তু তবু তার জানার আগ্রহ অনেক।
সে বলল যে, এই অঙ্কুর কোষ আসলে কি? অঙ্কুর কোষ দিয়ে কি সব অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা যায়?

বিজ্ঞানী দিদি বলেন, প্রথমেই সম্ভাবনার দিকে তাকানো যাক দেশ-বিদেশের বহু বিশেষজ্ঞ মনে করেন অঙ্কুর কোষের গবেষণা পৃথিবীতে রোগবালাইয়ের মুখচ্ছবি একদিন আমূল বদলে দেবে।
নির্মূল করবে ক্যান্সসার থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস।
ক্যান্সার এবং বহু বংশগতীয় অসুখ নিখুঁতভাবে মেরামত করে দেবে এবং তা থেকে ফুসফুস লিভার কিডনি ইত্যাদি বিশেষ করে তা শরীরের মধ্যে নির্দিষ্ট অংশে ইনজেকশনের মাধ্যমে দিয়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করা হবে।

বিজ্ঞানী ভোরবেলা হাঁটতে বের হন আর দেখেন তিন চাকার সাইকেলে করে রিপন পড়তে যাচ্ছে তার মাস্টারের কাছে।

তিনি রিপন কে ডেকে বললেন আমার ঘরে তুমি মাঝে মাঝে যাবে। আর তোমার সঙ্গে আমার প্রয়োজন আছে। তোমার বাবা-মাকে বলেই আমার ঘরে আসবে।

রিপনের বাবা মা কারণ জিজ্ঞেস করাতে বলল দিদি বললেন যে, ও এলে আমি বিজ্ঞানসম্মত ব্যাপারগুলোকে বোঝাতে পারব এবং আমাদের গল্প হবে। আর ওর রোগের চিকিৎসা করব।
রিপনের মা বললেন, ওর কোন ক্ষতি হবে না তো?
সুমন বললেন, আমাকে সবাই পাগল বলে। তবে আশা করি আপনার ছেলেকে আমি সারিয়ে তুলতে পারব।
রিপনের বাবা মা আলোচনা করে দেখল ছেলেটা এমনিতেই অচল। বেঁচে থেকেও মরার মত। তাই ওরা ঠিক করলেন সুমনবাবুই ওদের শেষ ভরসা। দেখা যাক কি হয়।

রিপন এবার থেকে প্রায় রোজই বিজ্ঞানীর ঘরে আসে এবং খুব কৌতুহলী ওঠে। কিন্তু ও খুব কার্যকরী কথা বলে। ও খুব পড়াশোনায় ভালো। ওর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অচল হলেও পড়াশোনায় খুবই ভালো। এক থেকে দশের মধ্যে ছিল ওর রোল নম্বর।

বিজ্ঞানী কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে একটা নিডল দিয়ে ওর শরীরের হাতে পায়ে তিনি ওষুধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আস্তে আস্তে চিকিৎসা করতেন। আপনি এগুলো কি করছেন?
তোমার ঘাড় সোজা করার চেষ্টা করছি। তোমার হাত-পা সচল করার চেষ্টায় আমি তোমাকে আসতে বলেছি। তোমার বাবা-মাকে সবকথা বলার প্রয়োজন নেই এখন।
যখন তুমি সুস্থ হবে তখন তারা এমনিতেই জেনে যাবে। তাছাড়া আমি ওনাদের পারমিশনও নিয়েছি তোমার চিকিৎসা করার জন্য।

রিপন খুব বুদ্ধিমান ছেলে সে সময় পেলেই দিদির কাছে চলে আসে আর বিজ্ঞান এর সমস্ত কিছু জানতে চায়।

দিদি তার যথাযথ উত্তর দেন এবং তার মাঝেই তার চিকিৎসা চালিয়ে যান অঙ্কুর কোষের মাধ্যমে তার চিকিৎসা চলে।

বিজ্ঞানী, রিপনের নিজস্ব অঙ্গ থেকে দেহকোষ নিয়ে প্রতিস্থাপনযোগ্য যন্ত্রটি তৈরি করেছেন এবং এতে কোনো সমস্যা নেই।
সেক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেছেন তিনি, তা হল কোন অঙ্গ থেকে কেবল সেই অঙ্গ বা তার অংশবিশেষ টি সুস্থ করা যায়।

প্রথমে তিনি হাত থেকেই চিকিৎসা শুরু করেন এবং যথাযথ ফল পেয়ে যান।

তার ফলে তার উৎসহ আরো দ্বিগুণ হয়ে যায় বিজ্ঞানী দেখেন যে রিপন তার হাত নিচে নামাতে পারছে,ওপরে ওঠাতে পারছে।

বিজ্ঞানী বলেন রিপনকে এটা হাট করে সবাইকে বলার দরকার নেই।

যখন তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ হবে তখন আমি নিজে থেকেই এই কথাগুলো সবাইকে বলব।

তোতন আজ আরো অবাক হয়ে গেল রিপন পা নড়াচড়া করছে। সে দেখল নিজে নিজে দাঁড়াতে পারছে। হয়তো বেশিক্ষণ পারছেনা।
কিন্তু আগে তো একবারেই পারত না। হুইল চেয়ারে বসে বসে যাওয়া করত।

কিন্তু এখন সে দাঁড়াতে পারছে।
সে জিজ্ঞেস করল বিজ্ঞানী যে এটা কি করে সম্ভব হল?

বিজ্ঞানী বললেন এসব ক্ষেত্রে আরও সফলভাবে কাজে লাগানো সম্ভব যদি ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন আইভিএফ পদ্ধতি সাহায্যে অর্থাৎ পরীক্ষাগারে রোগী বা রোগীনীর জনন গ্রন্থি তৈরি করা যায়।

রতন বলল হ্যাঁ আপনি যেভাবে বলেছিলেন যে এখন টেস্টটিউববেবী বা নলজাতক এর ব্যাপক সৃষ্টি সম্ভব হচ্ছে। বস্তুত আইডি এতে একসঙ্গে অনেকগুলো এমব্রায়ো তৈরি করতে হয়।।
যার মধ্যে একটি উপযোগী ভ্রূণকে মাতৃগর্ভে স্থাপন করে নলজাতক জন্ম দেওয়া হয়। এগুলো আমি আপনার কাছে শুনেছি।

রিপন বলল তাহলে আপনি কি অবশিষ্ট কোষগুলি থেকে অঙ্কুর কোষ নিষ্কাশন করে অঙ্গ মেরামতি কাজে আপনি সফল হবেন বা রোগ নিরাময় কাজে লাগিয়ে আমাকে সুস্থ করতে পারবেন।

বিজ্ঞানী বললেন মানুষের বা ইঁদুরের কোষ নিষ্কাশন সম্ভব হয়েছে মাত্র কুড়ি বছর আগে। তাই এর ব্যবহার এখনো প্রাথমিকভাবে আছে। তবে বহুবিধ শারীরিক ত্রুটি এবং দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়ে একদিন সফল হবে বলেছেন বিদেশের বিশেষজ্ঞরা।
তুমি নিশ্চিন্ত থাকো আমি চলাফেরা করার মত মোটামুটি সুস্থ তোমাকে করে দিতে পারব।

রিপন বলে এগুলো পৃথিবীর কোথায় কোথায় ভাল রকম গবেষণাগার আছে স্যার।

বিজ্ঞানী বলেন অঙ্কুশ নিয়ে কোথায় কি ধরনের গবেষণা চলছে আমরা জানতে পারি এই বিজ্ঞান পত্রিকার মাধ্যমে।
এদেশে প্রায় 15 টি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অঙ্কুর কোষ গবেষণা তার বাস্তব প্রয়োগ পরীক্ষা চলছে তার মধ্যে রিলায়েন্স লাইফ সাইন্স, হায়দ্রাবাদের এল ভি প্রসাদ ইনস্টিটিউশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল সাইন্সেস, ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজের নাম উল্লেখযোগ্য।

রিপন বলল দিদি, তুমি এত আপডেট, কি করে খবরগুলো পাও।

তিনি বলেন আমার কম্পিউটার আছে। কম্পিউটার মাধ্যমে সব খবরগুলো পাই এবং আমার গবেষণার 40 বছর ধরে চলছে সেই জন্য তোমাকে দিয়ে আমি এই পরীক্ষাটা করতে চাইছি।

রিপন বলছি আপনি যখন সেলগুলো নিচ্ছেন তার আগে এক ঘন্টা আগে আমাকে একটা ইনজেকশন দিচ্ছেন তার ফলে আমি কিন্তু ব্যথা পাচ্ছি না কিছু বুঝতে পারছিনা।

বিজ্ঞানী বললেন হ্যাঁ এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সেইজন্য কাছাকাছি থাকার মাধ্যমে বা এটা কোন নার্সিংহোমে থাকা মাস্ট করা হয়।।
যেহেতু তুমি আমার পাশের বাড়িতে আছো আমি তোমাকে সব সময় দেখতে পারছি চিকিৎসাটা সব সময় চলা উচিত।

রিপন দিদির কথা অনুযায়ী তার মাকে বলল মা আমি সুমন দিদির কাছে এক মাস থাকবো তারপর তোমার কাছে আসবো।

আমি ওখানে পড়াশোনা করে কিছু শিখতে চাই আমি ওখানে পড়াশোনা করছি। সকলে আমাকে খুব ভালোবাসেন।
তার সঙ্গে আমার দেহের চিকিৎসাও চলছে।

রিপনের মা আনন্দের সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন তিনি বললেন ঠিক আছে তোর বাবার পারমিশন নিয়ে আমি তোকে সংবাদ দিয়ে দেব।

তোতন বললেন 61 বছর বয়স্ক এক ব্যক্তির যখন নিলয় থেকে মেরামত করা হয়েছে তারই অস্থিমজ্জা থেকে নেওয়া অঙ্কুর কোষ প্রতিস্থাপন করে কাজটি হয়েছে kaguya-sama মেডিকেল হসপিটালে।

বিজ্ঞানীর সঙ্গে হাবার্ড বিশ্ববিদ্যালয় যোগাযোগ আছে তাদের ভবসাগর রংপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করে ঐতিহাসিক রূপান্তরিত করার উপায় বের করে ফেলেছেন এবং পদ্ধতিতে কম্পিউটারে তিনি দেখতে পাচ্ছেন অসুবিধা হলো তিনি সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করলেন।

বিজ্ঞানী রিপনকে বললেন তবে ইদানিং যেভাবে অঙ্কুর কোষ গবেষণায় হিড়িক পড়ে গেছে। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে নানা প্রতিষ্ঠান। তাতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন একাধিক বিজ্ঞানী। গবেষণায় দক্ষিণ কোরিয়ার নামি এক বিজ্ঞানী জালিয়াতি ফাঁস হওয়ার পর এ ব্যাপারে খবর নিয়েছেন।
তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ ও অনুসন্ধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

প্রায় দু’বছর ধরে বিজ্ঞানী রিপনের শরীরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালালেন, তাদের বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে।

তারপরের রিপনের বাবা-মা দেখলন, নিজেই তার কাজকর্ম করতে পারছে। আর হুইলচেয়ার লাগেনা। সে হাঁটতে পারে। তবে আস্তে আস্তে।
এখনো স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগবে।

রিপনের বাবা মা জানতে চাইলেন কি করে এটা সম্ভব হলো?
আমরা তো বুঝতে পারলাম না আপনি কোন টাকা পয়সাও নেন নি। তাহলে আমরা আপনার কাছে চির ঋণী হয়ে থাকলাম।

বিজ্ঞানী বললেন এটা আমার ব্যবসা নয় আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এটা গবেষণা করছিলাম। আপনার ছেলেকে সুস্থ দেখে আমার নিজেরই ভালো লাগছে।আমার গবেষণা সফল।

তার বাবা-মা জিজ্ঞেস করলো কি করে এটা সম্ভব হলো?

বিজ্ঞানী বললেন, ইঁদুরের কোষ থেকে মোটর নিউরন কোষ তৈরি করে কৃত্রিম উপায়ে শ্রেষ্ঠ পক্ষাঘাতের চিকিৎসার আংশিক ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

আপনার ছেলের ক্ষেত্রে আংশিক সারিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এবার ধীরে ধীরে ও প্রাকটিসের মাধ্যমে, ধারাবাহিক অভ্যাসের ফলে ওর কোষগুলি আরও শক্ত হয়ে যাবে।

এখন বিজ্ঞানী তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা গবেষণার ফলে সেরে ওঠা রিপনকে নিয়ে রোজ ভোরবেলা হাঁটতে বের হন।

সে ধীরে ধীরে হাঁটে দিদির সঙ্গে খুব আনন্দে অবলীলায়।
রিপণ চেয়ে থাকে সবুজ সবুজ ঘাসের ভেতর দিয়ে যে রাস্তাটা চলে গেছে, আনন্দের দিকে আলোর খোঁজে,সেই আলোময় পথের দিকে।

30

অভয়বাবু রতনকে বলেন, সফল গোয়েন্দা হতে গেলে বই পড়া জরুরি।ইতিহাস,ভূগোল, বিজ্ঞান সবকিছুর বই।
রাতন বললো,আপনার কাছে বসলে অনেক কিছু শিখতে পারি।
অভয় বললেন, আমারও চর্চা হয়।
রতন বলল,বৌদ্ধ যুগের ভারতবর্ষে বিজ্ঞানে, চিত্রকলায়, দর্শনে সর্বত্র নিয়োজিত হয়েছিল এক প্রতিবাদ এবং সেগুলি জগতের কাছে আজও একটি বিস্ময়। তার গল্প আজ শোনাবেন প্লিজ।
অভয় শুরু করলেন কাহিনী,মহামতি জীবককে পৃথিবীর সর্বকালের অন্যতম সেরা চিকিৎসক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী বলা যেতে পারে। কথিত আছে ইনি বারবনিতার সন্তানরূপে জন্ম নিয়েছিলেন আবর্জনার স্তুপে। পরিণত করেছিলেন তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়। চিকিৎসা শাস্ত্র এবং বিজ্ঞান চিকিৎসক মন্ত্রিসভায় যোগদান করেন এবং ভগবান বুদ্ধের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

অজাতশত্রু প্রচন্ড বুদ্ধবিরোধী হলেও এবং পিতাকে বন্দি করলেও জীবকেকে চিকিৎসক পদে বহাল রেখেছিলেন। জীবকের অসাধারণ চিকিৎসা নৈপূণ্যের জন্য। সাধারণ জীবন যাপন করছেন জীবক। ধর্মপ্রচারের পরিবর্তে তাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন শেষে তার আচরণ অজাতশত্রু কে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে শত্রুতা করেও তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন এবং তাদের পরামর্শে অজাতশত্রু প্রথম বৌদ্ধ সম্মেলন আহ্বান জানিয়েছিলেন। পর্বতের গুহায় সম্মেলন হয়েছিল এবং ভগবান বুদ্ধের বাণী গুলিকে একত্রিত করা হয়েছিল।

বৌদ্ধ গ্রন্থ গুলি যুবকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। গ্রন্থ গুলি থেকে জানা গেছে তিনি দু-দুবার বুদ্ধকে কঠিন রোগ থেকে মুক্ত করেছিলেন। সংসার থেকে বৌদ্ধভিক্ষু 100 বছর বয়সে পদব্রজে বৌদ্ধবিহার গুলিতে যাওয়া আসা করতেন কেবলমাত্র চিকিৎসার কারণে।

বহুদূর থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ ছুটে আসতেন চিকিৎসার জন্য। কাউকে বিমুখ করতেন না। জীবককে বলা হয় বেদোক্ত যুগের ধন্বন্তরি। রোগীকে না দেখেও কিরকম চিকিৎসা করতেন তা শুনলে চমকিত হতে হয়। কথিত আছে ভগবান বুদ্ধ একবার কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওষুধগুলো পদ্মফুলে মিশিয়ে রেখেছিলেন। বুদ্ধদেব গ্রহণ না করায় যুবকদের কাছে প্রেরণ করেছিলেন। ঘ্রাণ গ্রহণ করেই তাঁর রোগ ভালো হয়েছিল।

সেবার কাজে নিজেকে শতত নিয়োজিত রাখলেও বিজ্ঞানকে বঞ্চিত করেননি জীবক চিকিৎসা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। সেগুলো পরের দিকে হারিয়ে গেলেও পরবর্তীকালে ভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের যথেষ্ট সাহায্য করেছিল তার শেষ বয়সে শ্রেষ্ঠ রচনা শিশু রোগ চিকিৎসা গ্রন্থ পৃথিবীর প্রথম শিশু চিকিৎসা সংক্রান্ত বই অতি মূল্যবান গ্রন্থ যা পরবর্তীকালে ভারতীয় চিকিৎসকদের শিশুরোগ সংক্রান্ত গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করেছিল।

মহর্ষি পতঞ্জলি পৃথিবীর বিরল প্রতিভা গুলির মধ্যে অন্যতম আবির্ভাবকাল কৃষ্টপুর তৃতীয় শতাব্দীর ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পৃষ্ঠপোষক সঙ্গ বংশের প্রথম সম্রাট পুষ্যমিত্র সঙ্গের সমসাময়িক এবং তার মন্ত্রী কথিত আছে বংশের শেষ সম্রাট কে পরাজিত করে সিংহাসন দখল করেন এবং পুত্রের দ্বারা বিদেশি গ্রীকদের বিকৃতকরণ ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে পুষ্যমিত্র যজ্ঞ করেছিলেন সেই যোগ দিয়েছিলেন পতঞ্জলি।

বিজ্ঞানী ও দার্শনিক হিসেবে পতঞ্জলি সুনাম জগৎজোড়া ব্রাহ্মণ্যধর্মের পৃষ্ঠপোষক হলেও বৌদ্ধ ধর্ম বিদ্বেষী ছিলেন না ও মানুষের কল্যাণে মানবজাতির নৈতিক মান উন্নত করা ছিল তার একমাত্র সাধনা মানুষের মনুষ্যত্বের বিকাশ এবং সর্ববৃহৎ রুটি এটি দূর করার জন্য তিনি একাধিক মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
পতঞ্জলি মনে করতে মানুষের দোস্ত বিবিধ বাক্যের 10-10-10 মানুষের মনের 10 নিবারণের জন্য রচনা করেছিলেন পাতঞ্জল যোগ দর্শন এবং দৈহিক বৃদ্ধি করার জন্য এক সঙ্গীতা গ্রন্থ বিতর্ক থাকলেও কেউ মনে করেন কালজয়ী গ্রন্থ চরক সংগিতা পতঞ্জলি রচনা তবে পতঞ্জলি যোগ দর্শন রচনা বিজ্ঞান গ্রন্থ গবেষণামূলক গ্রন্থ নয় তবু সেই যুগে ধাতু নিষ্কাশন সম্বন্ধে বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন জাতীয় গ্রন্থ রচিত হয়নি।

মহর্ষি চরক এককালে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ নামে পরিচিত চরক সংহিতা লেখক চরক সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যায় না অথচ বইখানি এককালে পৃথিবীর অধিকাংশ ভাষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এখনো চরক সংহিতার খ্যাতি বিন্দুমাত্র কমেনি কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের সেই সম্বন্ধে নির্ভরযোগ্য কোন তথ্য প্রমাণ নেই।

চরক সংহিতায় আয়ু আত্মা সম্বন্ধে যে দার্শনিক মতবাদ উপস্থাপন করা হয়েছে সেই মতবাদকে গুরুত্ব দিয়ে অনেকে চরকে পতঞ্জলি ছদ্মনাম বলতে চান অপরদিকে একই পৌরাণিক কাহিনী অত্যমত্ম সমর্থক মৎস্য অবতার নারায়ন উদ্ধার করেছিলেন আয়ুর্বেদ রূপে ধরা হয়েছিল চিকিৎসাবিদ্যায় গ্রন্থ অনন্তদেব লাভ করেন এবং মানুষের প্রত্যক্ষ করার জন্য গুপ্তভাবে বাসায় আসেন।

0 Comments