How to Write a Novel By John Gallishaw 1931
জন গ্যালিশোর How to Write a Novel (1931) — ৫০টি সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় নোট
১. উপন্যাস শুরু হয় একটি শক্তিশালী ভাবনা থেকে—শুধু ঘটনা নয়, সেই ঘটনার ভেতরে থাকা মানবিক প্রশ্নই গল্পকে গভীর করে।
২. গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে সমস্যা থাকা দরকার। সমস্যা না থাকলে চরিত্রের এগিয়ে যাওয়ার কারণও দুর্বল হয়ে যায়।
৩. চরিত্রই উপন্যাসের প্রাণ। পাঠক ঘটনা ভুলে যেতে পারে, কিন্তু জীবন্ত চরিত্র সহজে ভুলে না।
৪. প্রধান চরিত্রের স্পষ্ট আকাঙ্ক্ষা থাকা জরুরি। সে কী চায়—এটাই গল্পের গতিকে পরিচালনা করে।
৫. ইচ্ছার পথে বাধাই তৈরি করে সংঘাত। বাধা যত অর্থপূর্ণ হবে, গল্প তত আকর্ষণীয় হবে।
৬. ভালো চরিত্র নিখুঁত নয়। তার শক্তির পাশাপাশি দুর্বলতাও থাকা উচিত।
৭. চরিত্রের কাজ তার স্বভাব প্রকাশ করে। শুধু বর্ণনা দিয়ে চরিত্রকে জীবন্ত করা যায় না।
৮. সংলাপ চরিত্রের পরিচয় বহন করে। সবাই যেন একই ভাষা ও একই ভঙ্গিতে কথা না বলে।
৯. প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের একটি উদ্দেশ্য থাকা দরকার। উদ্দেশ্যহীন দৃশ্য গল্পের গতি কমিয়ে দেয়।
১০. প্রথম অধ্যায় পাঠকের কৌতূহল জাগানোর জায়গা। শুরুতেই সব ব্যাখ্যা না দিয়ে কিছু প্রশ্ন তৈরি করা কার্যকর।
১১. উপন্যাসের শুরু যতটা সম্ভব ঘটনার কাছাকাছি হওয়া ভালো। অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ভূমিকা পাঠকের আগ্রহ কমায়।
১২. গল্পের পটভূমি শুধু সাজসজ্জা নয়। স্থান ও পরিবেশ চরিত্রের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।
১৩. লেখকের উচিত নিজের গল্পের জগৎ ভালোভাবে জানা। পাঠককে সব তথ্য না দিলেও লেখকের কাছে তা পরিষ্কার থাকা দরকার।
১৪. কাহিনির প্রতিটি বড় ঘটনা আগের ঘটনার ফল হওয়া উচিত। এতে গল্পে কারণ ও ফলাফলের শক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়।
১৫. কাকতালীয় ঘটনা দিয়ে সমস্যার সমাধান করা দুর্বল কৌশল। সমাধান ideally চরিত্রের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড থেকে আসা উচিত।
১৬. সংঘাত শুধু মানুষে মানুষে হয় না। মানুষ বনাম সমাজ, পরিবেশ, পরিস্থিতি বা নিজের মনও শক্তিশালী সংঘাত তৈরি করতে পারে।
১৭. প্রধান চরিত্রকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। সব ঘটনা যদি শুধু তার ওপর ঘটে, তবে চরিত্র নিষ্ক্রিয় মনে হয়।
১৮. গল্পে পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। উপন্যাসের শেষে চরিত্র বা পরিস্থিতি শুরু থেকে কোনোভাবে বদলে যাওয়া উচিত।
১৯. চরিত্রের অতীত তার বর্তমান আচরণ ব্যাখ্যা করতে পারে। কিন্তু অতীতের তথ্য ধীরে ধীরে দেওয়া বেশি কার্যকর।
২০. সবকিছু একবারে ব্যাখ্যা করবেন না। পাঠককে কিছু বিষয় আবিষ্কার করার সুযোগ দিন।
২১. রহস্য মানেই গোয়েন্দা গল্প নয়। যেকোনো উপন্যাসেই কিছু অজানা প্রশ্ন পাঠককে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
২২. প্রতিটি অধ্যায়ে ছোট কোনো টান থাকা ভালো। পাঠকের মনে যেন পরবর্তী অংশ জানার আগ্রহ থাকে।
২৩. দৃশ্যের শুরু ও শেষ গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রয়োজনীয় প্রবেশ ও প্রস্থান বাদ দিলে লেখা আরও শক্ত হয়।
২৪. সংলাপে বাস্তবতার সঙ্গে নির্বাচনের ভারসাম্য দরকার। বাস্তব জীবনের সব কথাবার্তা গল্পে রাখার প্রয়োজন নেই।
২৫. চরিত্র যা বলে এবং যা মনে করে—দুটির মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। এখান থেকেই সূক্ষ্ম নাটকীয়তা তৈরি হয়।
২৬. দেখানো ও বলার মধ্যে ভারসাম্য রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত দৃশ্যের মাধ্যমে দেখানো সাধারণত বেশি প্রভাব ফেলে।
২৭. ছোট বিবরণ চরিত্রকে বাস্তব করে তোলে। একটি অভ্যাস, অঙ্গভঙ্গি বা বিশেষ প্রতিক্রিয়া অনেক কিছু প্রকাশ করতে পারে।
২৮. অতিরিক্ত বর্ণনা গল্পকে ভারী করে। যে বিবরণ পরিবেশ, চরিত্র বা কাহিনিকে সমৃদ্ধ করে সেটাই রাখুন।
২৯. পাঠকের কল্পনার জন্য কিছু জায়গা রাখুন। প্রতিটি জিনিস সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা করার দরকার নেই।
৩০. একটি শক্তিশালী উপন্যাসে চাপ ধীরে ধীরে বাড়ে। শুরু থেকেই সর্বোচ্চ উত্তেজনা দিলে পরে তা ধরে রাখা কঠিন।
৩১. ছোট সংঘাত বড় সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এতে গল্পের উত্তেজনা স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
৩২. চরিত্রের ভুল সিদ্ধান্ত গল্পকে এগিয়ে নিতে পারে। মানুষের ভুলই অনেক সময় সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য নাটক সৃষ্টি করে।
৩৩. প্রতিপক্ষকে শুধু ‘খারাপ মানুষ’ বানাবেন না। তার নিজের যুক্তি, উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন থাকলে চরিত্র আরও বাস্তব হয়।
৩৪. প্রধান চরিত্র ও প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যের সংঘর্ষ গল্পকে শক্তিশালী করে।
৩৫. প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের গল্পে ভূমিকা থাকা উচিত। অপ্রয়োজনীয় চরিত্র পাঠকের মনোযোগ ছড়িয়ে দেয়।
৩৬. একটি দৃশ্যে কিছু না কিছু পরিবর্তন হওয়া দরকার। তথ্য, সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত অথবা বিপদের মাত্রা বদলাতে পারে।
৩৭. অধ্যায়ের দৈর্ঘ্যের চেয়ে তার কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন শেষ হলে অধ্যায়ও শেষ করা যায়।
৩৮. গল্পের মাঝের অংশে নতুন জটিলতা দরকার। শুধু একই সমস্যাকে দীর্ঘ করা পাঠকের আগ্রহ কমাতে পারে।
৩৯. মধ্যভাগে চরিত্রকে কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড় করানো কার্যকর।
৪০. চূড়ান্ত সংঘাত পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর স্বাভাবিক ফল হওয়া উচিত। হঠাৎ তৈরি করা সমাপ্তি কম সন্তোষজনক হতে পারে।
৪১. ক্লাইম্যাক্সে প্রধান চরিত্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কেউ এসে সব সমস্যার সমাধান করলে নায়কের যাত্রা দুর্বল হয়।
৪২. সমাপ্তি শুধু ঘটনা শেষ করে না—গল্পের অর্থও পরিষ্কার করে।
৪৩. প্রথম খসড়ায় নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা লেখাকে আটকে দিতে পারে। আগে গল্প সম্পূর্ণ করা, পরে উন্নত করা কার্যকর পদ্ধতি।
৪৪. পুনর্লিখন উপন্যাস রচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভালো লেখা অনেক সময় সংশোধনের মধ্যেই তৈরি হয়।
৪৫. সংশোধনের সময় অপ্রয়োজনীয় শব্দ, দৃশ্য ও চরিত্র বাদ দিতে সাহসী হতে হয়।
৪৬. লেখকের নিজের লেখা থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করা দরকার। তখন দুর্বলতা সহজে চোখে পড়ে।
৪৭. পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে পাণ্ডুলিপি পড়ুন। কোথায় কৌতূহল বাড়ছে আর কোথায় মনোযোগ কমছে তা দেখুন।
৪৮. নিয়মিত লেখা প্রতিভার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিক অনুশীলন গল্প বলার দক্ষতা তৈরি করে।
৪৯. উপন্যাস লেখা একসঙ্গে কল্পনা ও নির্মাণের কাজ। সৃজনশীল ভাবনার পাশাপাশি পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলাও দরকার।
৫০. লেখকের প্রধান কাজ পাঠককে গল্পের ভেতর নিয়ে যাওয়া। চরিত্র, সংঘাত, আবেগ ও ঘটনার সমন্বয় যখন স্বাভাবিক হয়, তখন কাল্পনিক জগতও সত্য বলে অনুভূত হয়।