সাহিত্য ও সাহিত্যিক

উইলিয়াম হ্যাজলিট (William Hazlitt, ১০ এপ্রিল ১৭৭৮ – ১৮ সেপ্টেম্বর ১৮৩০)

১. মেইডস্টোনের সকাল

মেইডস্টোনের ভোরে জন্ম নিল এক স্বপ্ন,
আয়ারল্যান্ড-আমেরিকার পথে ঘুরে এল যে যাযাবর।
পিতার বিপ্লবী আগুন বুকে ধরে,
স্বাধীনতার নামে লিখল প্রথম অক্ষর।
ছোট্ট শরীরে বড়ো আকাঙ্ক্ষা নিয়ে,
হ্যাজলিট জন্মাল — ইতিহাসের নতুন সুরে।

২. মেটাফিজিক্যাল আবিষ্কার

হলবাখের পাতা উল্টে খুঁজে পেল সে,
মানুষ স্বার্থপর নয় — নির্লিপ্ত হৃদয় তার।
ভবিষ্যৎ স্বয়ং অন্যের মতো দূরের,
কল্পনার ডানায় ভর করে উড়ে যায় সে।
এই আবিষ্কারই হয়ে উঠল তার প্রথম আলো,
হ্যাজলিটের চিন্তায় জন্ম নিল নতুন দর্শনের পথ।

৩. ল্যুভরের আলো

প্যারিসের ল্যুভরে দাঁড়িয়ে রেমব্রান্টের সামনে,
রং-আলো-ছায়ায় খুঁজল সে মানুষের গভীরতা।
প্রতিকৃতির তুলিতে ধরতে চাইল আত্মার ছবি,
কিন্তু শেষে বুঝল — শব্দই তার আসল রং।
চিত্রশিল্পী থেকে সমালোচক হয়ে উঠল সে,
হ্যাজলিটের চোখে জন্ম নিল সাহিত্যের নতুন দৃষ্টি।

৪. কলরিজের সাথে সেই হাঁটা

নেদার স্টোয়ের পথে কলরিজের পাশে হাঁটতে হাঁটতে,
বলল সে তার সেই মেটাফিজিক্যাল স্বপ্ন।
কলরিজ শুনে বলল — “well-headed and well-feathered”,
দুজনের চিন্তায় জন্ম নিল রোমান্টিকতার প্রথম আলো।
সেই হাঁটাই হয়ে রইল ইতিহাসের এক গোপন সেতু,
হ্যাজলিট-কলরিজের কথায় জেগে উঠল নতুন যুগ।

৫. শেকসপিয়রের আয়না

শেকসপিয়রের চরিত্রে দেখল সে মানুষের সব রূপ,
হ্যামলেটের দ্বিধা, ফ্যালস্টাফের হাসি, লেডি ম্যাকবেথের ক্ষুধা।
নিয়মের বাইরে গিয়ে লিখল সে আবেগের গল্প,
প্রতিটি নাটকে খুঁজে পেল জীবনের গভীর সত্য।
Characters of Shakespear’s Plays — তার প্রথম বড়ো উপহার,
রোমান্টিক সমালোচনার জন্ম দিল এক নতুন ভাষা।

৬. সংক্ষিপ্ত নোটের জাদু (রোমান্টিক আন্দোলনের স্থপতি)

প্রবন্ধের আড়ালে যে সংক্ষিপ্ত নোটগুলি লিখেছিল,
সেই নোটেই গেঁথে দিল রোমান্টিক আন্দোলনের কাঠামো।
নিয়ম-শৃঙ্খল ভেঙে কল্পনার মুক্ত আকাশ দেখাল,
ওয়ার্ডসওয়ার্থ-কলরিজ-শেলির স্বপ্নকে দিল নতুন ভাষা।
“গাস্টো” আর “বিশেষত্ব” — তার দুটি জাদুর শব্দ,
হ্যাজলিটের নোট আজও জ্বলে রোমান্টিকতার প্রদীপ।

৭. কল্পনার উড়ান

কল্পনা শুধু স্বপ্ন নয় — সেতু অন্যের হৃদয়ে,
ভবিষ্যৎ স্বয়ংকে দেখায় অন্যের চোখ দিয়ে।
হ্যাজলিট বলল — এই শক্তিই মানুষকে মহৎ করে,
কবিতায়, সমালোচনায়, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে।
নিয়মের কারাগার থেকে মুক্তি দেয় যে ডানা,
সেই কল্পনার জয়গান গেয়েছিল হ্যাজলিট সারাজীবন।

৮. যুগের আত্মা

The Spirit of the Age — লিখল সে সমকালের প্রতিকৃতি,
ওয়ার্ডসওয়ার্থের নির্জনতা, কলরিজের দ্বিধা, বেন্থামের যুক্তি।
তীক্ষ্ণ চোখে দেখল সে প্রত্যেকের আলো-অন্ধকার,
প্রশংসা আর সমালোচনায় মিশিয়ে দিল সত্যের স্বাদ।
যুগের আত্মাকে ধরতে চাইল একটি বইয়ের পাতায়,
হ্যাজলিটের কলমে জেগে উঠল ঊনবিংশ শতাব্দীর ছবি।

৯. স্বাধীনতার আগুন

স্বাধীনতা তার কাছে ছিল শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো,
নেপোলিয়নকে দেখেছিল মুক্তির প্রথম আলো হিসেবে।
সরকারের দুর্নীতি, রাজতন্ত্রের শৃঙ্খল — সবার বিরুদ্ধে,
লিখেছিল সে “জনগণ কী?” — এক দুর্দান্ত প্রশ্ন।
মৃত্যুর আগে বলেছিল — “Well, I’ve had a happy life”,
সেই স্বাধীন আত্মার জয়গান আজও বাজে হ্যাজলিটের লেখায়।

১০. রোমান্টিক স্থপতির উত্তরাধিকার

প্রবন্ধ ছাড়িয়ে যে সংক্ষিপ্ত নোট রেখে গেল সে,
সেই নোটেই আজও জীবন্ত রোমান্টিক আন্দোলনের স্পন্দন।
কল্পনার শক্তি, আবেগের সত্য, মানুষের নির্লিপ্ত হৃদয় —
সব মিলিয়ে গড়ে তুলল এক নতুন সাহিত্যের জগত।
হ্যাজলিট আজও বেঁচে আছে তার নোটের ভেতর,
রোমান্টিকতার চিরকালীন স্থপতি — অমর, অবিস্মরণীয়।

উইলিয়াম হ্যাজলিট ছিলেন ইংরেজ সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধকার, নাটক ও সাহিত্য সমালোচক, চিত্রশিল্পী, সামাজিক ভাষ্যকার এবং দার্শনিক। তিনি রোমান্টিক যুগের (Romanticism) একজন কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর মানবতাবাদী, তীক্ষ্ণ ও আবেগঘন প্রবন্ধ তাঁকে স্যামুয়েল জনসন ও জর্জ অরওয়েলের সঙ্গে তুলনীয় করে তুলেছে। তবে প্রবন্ধ ছাড়াও তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর কাঠামোগত নোট, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং বক্তৃতামালা (বিশেষ করে Lectures on the English Poets) রোমান্টিক আন্দোলনের সাহিত্যিক কাঠামো, কল্পনার শক্তি, আবেগ ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের মূল্যবোধকে সংজ্ঞায়িত ও প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি নিওক্লাসিক্যাল নিয়মের বিরোধিতা করে কল্পনা, “গাস্টো” (vivid particularity) এবং স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন।

জন্ম, পরিবার ও প্রারম্ভিক জীবন

হ্যাজলিট ১০ এপ্রিল ১৭৭৮ সালে ইংল্যান্ডের কেন্টের মেইডস্টোন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তান। তাঁর পিতা রেভারেন্ড উইলিয়াম হ্যাজলিট ছিলেন আইরিশ ইউনিটারিয়ান (Unitarian) মন্ত্রী, দার্শনিক ও ধর্মতত্ত্ববিদ। পিতা গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডাম স্মিথের সমসাময়িক ছিলেন। মা গ্রেস লফটাস কেমব্রিজশায়ারের একটি ডিসেন্টিং (Dissenting) পরিবার থেকে এসেছিলেন।

পরিবারটি ঘন ঘন স্থানান্তরিত হয়। ১৭৮০ সালে আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি কর্কের ব্যান্ডনে যান। ১৭৮৩–১৭৮৬ সালে সংক্ষিপ্তভাবে আমেরিকায় যান (পিতা বোস্টনে ইউনিটারিয়ান চার্চ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন)। ১৭৮৭ সালে ইংল্যান্ডের শ্রপশায়ারের ওয়েমে স্থায়ী হন। এই যাযাবর জীবন পরবর্তীকালে তাঁর স্বাধীনতা, পরিবর্তন ও মানব প্রকৃতি সম্পর্কে চিন্তাকে প্রভাবিত করে। শৈশবে তিনি ছিলেন কিছুটা রুক্ষ ও একাকী, কিন্তু নিবিড় পাঠে মগ্ন থাকতেন।

শিক্ষা ও দার্শনিক জাগরণ

১৭৯৩ সালে তিনি লন্ডনের নিউ কলেজ, হ্যাকনি (Unitarian Dissenting academy)-তে ভর্তি হন। এখানে গ্রিক-লাতিন সাহিত্য, গণিত, ইতিহাস, সরকারব্যবস্থা, বিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্ব পড়েন। জোসেফ প্রিস্টলি ও রিচার্ড প্রাইসের মতো র‌্যাডিক্যাল চিন্তাবিদদের প্রভাবে ফরাসি বিপ্লব ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। প্রায় দুই বছর পর মন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা হারিয়ে কলেজ ছেড়ে দেন।

এ সময় তাঁর “মেটাফিজিক্যাল ডিসকভারি” ঘটে। ব্যারন ডি’হলবাখের লেখা পড়ে তিনি মনস্তাত্ত্বিক অহংবাদ (psychological egoism)-এর বিরোধিতা করেন এবং মানুষের সহজাত নির্লিপ্ততা (natural disinterestedness) ও কল্পনার সক্রিয় শক্তির কথা প্রতিষ্ঠা করেন। এই চিন্তা পরবর্তীকালে তাঁর প্রথম গ্রন্থ An Essay on the Principles of Human Action (১৮০৫)-এর ভিত্তি হয়। তিনি জন লক, ডেভিড হার্টলি, জর্জ বার্কলে, ডেভিড হিউম, হেলভেশিয়াস প্রমুখের চিন্তার সমালোচনা করেন এবং মনের সক্রিয়, সৃজনশীল ভূমিকা ও কল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ স্বয়ং ও অন্যের অনুভূতি অনুধাবনের কথা বলেন।

চিত্রশিল্পী থেকে লেখক ও সমালোচক

প্রথমে তিনি ভাই জন হ্যাজলিটের (একজন খ্যাতনামা মিনিয়েচার চিত্রশিল্পী) কাছে চিত্রাঙ্কন শেখেন। ১৮০২ সালে প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামে পুরনো মাস্টারদের কপি করতে যান। রেমব্রান্ট-শৈলীর প্রতিকৃতি আঁকেন এবং ১৮০২ সালে রয়্যাল একাডেমিতে প্রদর্শিত হয়। কলরিজ, ওয়ার্ডসওয়ার্থ ও হার্টলি কলরিজের প্রতিকৃতি আঁকেন। কিন্তু ক্লায়েন্টদের তোষামোদ করতে না পারায় এবং আর্থিক সংকটে ১৮১২ সালের দিকে চিত্রাঙ্কন ছেড়ে পুরোপুরি লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন।

তিনি The Morning Chronicle-এ সংসদীয় প্রতিবেদক হন, The Examiner, The Champion, Edinburgh Review প্রভৃতিতে লিখতে শুরু করেন। ১৮১২ সালে রাসেল ইনস্টিটিউশনে দর্শনের উপর বক্তৃতা দেন।

রোমান্টিক কবিদের সাথে বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক

১৭৯৮ সালে স্যামুয়েল টেলর কলরিজের সাথে পরিচয় হয়। নেদার স্টোয়েতে কলরিজের সাথে হাঁটতে হাঁটতে তিনি তাঁর দার্শনিক আবিষ্কারের কথা বলেন। কলরিজ তাঁর চিন্তাকে “well-headed and well-feathered” বলে প্রশংসা করেন। ওয়ার্ডসওয়ার্থের সাথেও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে (আলফক্সটন সফর)। চার্লস ও মেরি ল্যাম্বের সাথে দীর্ঘস্থায়ী (কিন্তু ঝগড়া-বিবাদপূর্ণ) বন্ধুত্ব ছিল। জন কিটস, পার্সি বিশ শেলি, লেই হান্ট প্রমুখের সাথেও যোগাযোগ ছিল।

তবে পরবর্তীকালে ওয়ার্ডসওয়ার্থ ও কলরিজের রক্ষণশীলতার সমালোচনা করায় সম্পর্কে ফাটল ধরে।

ব্যক্তিগত জীবন: বিবাহ, প্রেম ও যন্ত্রণা

১৮০৮ সালে মেরি ল্যাম্বের বন্ধু সারাহ স্টোডার্টকে বিয়ে করেন। উইন্টারস্লো (স্যালিসবারি প্লেইন)-এ থাকতেন, যা তাঁর প্রিয় লেখার আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। তিন সন্তানের মধ্যে শুধু উইলিয়াম জুনিয়র বেঁচে ছিলেন। ১৮১৯ সালে বিচ্ছেদ ঘটে।

১৮২০-এর দিকে তিনি তাঁর বাড়িওয়ালার কন্যা সারাহ ওয়াকারের প্রতি প্রবল আকর্ষণ অনুভব করেন। এই অসম্পূর্ণ, যন্ত্রণাদায়ক সম্পর্ক Liber Amoris; or, The New Pygmalion (১৮২৩) গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ আছে। ১৮২২ সালে স্কটল্যান্ডে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।

১৮২৪ সালে স্কটিশ বিধবা ইসাবেলা ব্রিজওয়াটারকে বিয়ে করেন। এই বিবাহও টেকেনি; ১৮২৭ সালে বিচ্ছেদ ঘটে। আর্থিক অস্বচ্ছলতা, মদ্যপান ও মানসিক চাপ তাঁর জীবনকে প্রভাবিত করেছিল।

প্রধান রচনাবলী ও সাহিত্য সমালোচনা

  • An Essay on the Principles of Human Action (১৮০৫) — দার্শনিক গ্রন্থ, নির্লিপ্ততার তত্ত্ব।
  • Characters of Shakespear’s Plays (১৮১৭) — শেকসপিয়রের নাটকের আবেগঘন, চরিত্রভিত্তিক বিশ্লেষণ।
  • Lectures on the English Poets (১৮১৮) — চসার থেকে সমকালীন কবিদের উপর বক্তৃতা (পরে গ্রন্থাকারে)।
  • Lectures on the English Comic Writers (১৮১৯)।
  • Table-Talk (১৮২১–২২) — মন্টেইন-স্টাইলের পরিচিত প্রবন্ধ।
  • The Spirit of the Age (১৮২৫) — সমকালীন ব্যক্তিত্বদের (ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কলরিজ, বেন্থাম, গডউইন প্রমুখ) তীক্ষ্ণ প্রতিকৃতি।
  • The Plain Speaker (১৮২৬), Notes of a Journey through France and Italy (১৮২৬), অসমাপ্ত Life of Napoleon (মরণোত্তর)।

তাঁর গদ্যশৈলী ছিল জ্বলন্ত, সরাসরি, আবেগপূর্ণ ও ব্যক্তিগত — “gusto” শব্দটি তিনিই জনপ্রিয় করেন।

রোমান্টিক আন্দোলনে অবদান: সংক্ষিপ্ত কাঠামোগত নোট ও বক্তৃতা

প্রবন্ধের বাইরে হ্যাজলিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তাঁর সংক্ষিপ্ত কাঠামোগত নোট এবং বক্তৃতামালা। Lectures on the English Poets-এ তিনি সাহিত্যের ইতিহাসকে কাঠামোবদ্ধভাবে বিশ্লেষণ করেন — নিওক্লাসিক্যাল যুগের নিয়ম-নিষ্ঠা থেকে রোমান্টিক যুগের কল্পনা, আবেগ, প্রকৃতি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দিকে স্থানান্তর দেখান। তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কলরিজ ও শেলির প্রতিরক্ষা করেন এবং “imagination”-এর সক্রিয় শক্তিকে কবিতার মূল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

তাঁর সংক্ষিপ্ত, তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণমূলক নোটগুলি রোমান্টিক আন্দোলনের জন্য এক ধরনের সমালোচনামূলক কাঠামো তৈরি করে। তিনি দেখান কীভাবে কবিতা যান্ত্রিক নিয়মের বদলে মনের সৃজনশীল শক্তি, বিশেষত্ব (particularity) ও আবেগের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ করে। The Spirit of the Age-এ তিনি সমকালীন চিন্তার প্রবণতা বিশ্লেষণ করে রোমান্টিকতার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও শক্তি তুলে ধরেন। এই কাজগুলি রোমান্টিক আন্দোলনকে শুধু কাব্যিক নয়, সমালোচনামূলকভাবেও দৃঢ় ভিত্তি দেয়।

রাজনৈতিক ও দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি

তিনি ছিলেন জীবনব্যাপী র‌্যাডিক্যাল — স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে। নেপোলিয়নকে প্রথমে মুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন (পরে সমালোচনা করেন)। সরকারের দুর্নীতি, উত্তরাধিকারসূত্রে রাজতন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করেন। ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর দর্শনে কল্পনা ছিল নৈতিক ও রাজনৈতিক সম্প্রসারণের হাতিয়ার।

বিতর্ক, ঝগড়া ও পরবর্তী জীবন

তিনি অনেকের সাথে ঝগড়া করেছেন — ওয়ার্ডসওয়ার্থ (The Excursion নিয়ে), টোরি পত্রিকা (Blackwood’s Magazine তাঁকে “pimpled Hazlitt” বলে আক্রমণ করে)। Liber Amoris প্রকাশের পর অনেক বন্ধু দূরে সরে যান। আর্থিক সংকট, স্বাস্থ্যহানি ও মানসিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও তিনি লিখে চলেছিলেন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৮৩০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর লন্ডনের সোহোতে ৫২ বছর বয়সে পেটের অসুখে (সম্ভবত পাকস্থলীর ক্যান্সার) মৃত্যুবরণ করেন। শেষ কথা ছিল: “Well, I’ve had a happy life.” সেন্ট অ্যানের চার্চইয়ার্ড, সোহোতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

মৃত্যুর পর তাঁর খ্যাতি কিছুটা ম্লান হয়ে যায়, কিন্তু ২০শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে পুনরুজ্জীবিত হয়। আজ তিনি ইংরেজি ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধকার ও সমালোচক হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর রচনা মানব প্রকৃতি, স্বাধীনতা, কল্পনা ও সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেয়।

প্রধান রচনার সংক্ষিপ্ত তালিকা (কালানুক্রমিক):

  • ১৮০৫: An Essay on the Principles of Human Action
  • ১৮১৭: Characters of Shakespear’s Plays
  • ১৮১৮: Lectures on the English Poets
  • ১৮২১–২২: Table-Talk
  • ১৮২৫: The Spirit of the Age

হ্যাজলিটের জীবন ছিল সংগ্রাম, আবেগ ও সৃজনশীলতার মিশ্রণ। তাঁর সংক্ষিপ্ত কাঠামোগত নোট ও সমালোচনা রোমান্টিক আন্দোলনকে শুধু কাব্যিক নয়, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবেও দৃঢ় করে তোলে — এটাই তাঁর সবচেয়ে স্থায়ী অবদান।

0 Comments

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...