Ziaur Rahaman shilon

আলোর ফেরিওয়ালা

​গৃহশিক্ষকতা আর কোচিংয়ের সেই ছোট্ট চত্বরে,
কত জীবন গড়ে তুলেছি স্নেহের পরশ ধরে।
পরিচয় যাই থাক না কেন, শিক্ষাদানই তো আসল কাজ,
আমার সাধনায় জেগে থাকে জ্ঞানের শুভ্র আলো আজ।
​সকল কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষকদের জানাই প্রীতি,
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাওয়াই আমাদের চিরন্তন রীতি।
সরকারি স্কুলের গণ্ডিতে হয়তো আমি পাইনি ঠাঁই,
তবু তো বহু বছর ধরে শিক্ষার দীপ জ্বালিয়ে যাই।
​প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতকের আঙিনা অবধি,
ছাত্রছাত্রীদের মনে আলো ছড়িয়েছি নিরবধি।
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় পূর্ণ থাক প্রতিটি হৃদয়শালা,
জ্ঞানের আলো বিলিয়ে চলি আমি আলোর ফেরিওয়ালা।

0 Comments

Ziaur Rahaman shilon

না বলা কথা
​চা-এর কাপে তুফান তুলে মনের কথা বলি,
অথচ আসল সত্য বেমালুম চেপে চলি!
গিন্নি বলেন, “বলো দেখি কেমন রান্না হলো?”
আমি বলি, “চমৎকার! রোজ এমন রেঁধে ফেলো!”
মুখে বলি অসাধারণ, মনে মনে ভাবি—
ঝালের চোটে পেট জ্বলছে, জলই এখন চাবিকাঠি!
​দোকানদার যখন বলে, “দাদা, এটাই লেটেস্ট ফ্যাশন,”
আমার পকেটের দশা দেখে বাড়ে বিড়ম্বন।
মুখে বলি, “পছন্দ ঠিক জমলো না আজ দাদা,”
মনে মনে বলি ভাই, দামে বেঁধেছে খাঁদা!
​বন্ধুকে দেখে বলি, “আহা! কী ছিপছিপে গায়!”
আসলে সে মোটা হতে জিম-এ ঘেমে যায়।
অফিসেতে বস যখন চড়ান খটাখট,
আমি বলি, “ঠিক স্যার, একদম নিখুঁত প্লট!”
মনে মনে ভাবি আমি, কবে যে ছুটির ঘণ্টা বাজে,
না বলা কথার ভিড়ে জীবন কাটছে কাজের মাঝে।
​সব কথা বলতে গেলে রণে ভঙ্গ হবে,
তাই মিষ্টি হেসে বানিয়ে কথা চলাই ভালো তবে।
না বলা কথাগুলো তাই মুখ লুকিয়ে বাঁচে,
একটু রস, একটু হাসি জড়িয়ে থাকে কাছে!

0 Comments

Ziaur Rahaman shilon

পঞ্চাশ বছর পরেও যে সকাল

আজও ভোর হলে কে যেন জানালায় রেখে যায় একমুঠো অস্থির আলো,
পঞ্চাশ বছর—তবু তোমার নীরবতাও যেন উচ্চারণের মতো জেগে থাকে।
বাঁধনহারা, কুহেলিকা পেরিয়ে তোমার গল্পেরা আজও খোঁজে মানুষের গোপন মুখ,
তোমার শব্দে এখনও কেঁপে ওঠে সেই সময়, যে সময় তোমাকে চিনতে শিখেছিল।
অভাবের ঘর, অনটনের দিন—তবু কলম থামেনি তোমার হাতে,
ছোট্ট বুলবুলের শেষ বিদায়ে অর্থের খোঁজে প্রকাশকের দুয়ারে দুয়ারে ছুটেছিলে তুমি,
শোককে বুকে নিয়ে, সন্তানের মৃত্যুকে চোখের সামনে রেখেও শেষ পর্যন্ত কলমই ধরেছিলে।
তুমি চলে গেছ—কিন্তু পথের ধুলোয় এখনও তোমার পায়ের শব্দ শুনি,
কোনো অচেনা তরুণের চোখে হঠাৎ জ্বলে ওঠে তোমার অসমাপ্ত বিদ্রোহ।
তোমার প্রেম ছিল নদী—কোনো সীমানা মানেনি, কোনো তীরে থামেনি,
তোমার গদ্যেও কখনও দেখি সেই মানুষটিকে, যে নিজের সময়কে প্রশ্ন করতে জানত।
সব লেখা সমান দীপ্ত হবে—এমন কথা তো জীবনের কাছেও সত্য নয়,
তবু তোমার কিছু গল্প আজও পাঠকের হাতে এসে নতুন করে চিনিয়ে দেয় তোমার বিস্তার।
অর্ধশততম প্রয়াণবার্ষিকীতে তোমার লেখনীর কাছে রেখে যাই শ্রদ্ধাঞ্জলি,
মৃত্যু তোমার শরীর নিয়েছে—সময় নিতে পারেনি তোমার আগুন; তুমি আজও আমাদের পাঠের ভিতর জেগে আছ।

0 Comments

Ziaur Rahaman Shilon

অনুগল্প:
হিসেবের খাতার বাইরে।

ভোরের আলো ঠিকমতো ঢোকার আগেই অনিরুদ্ধ উঠে পড়ে। আজও বেরোতে হবে। কোথায়—সে নিজেও ঠিক জানে না। মাধবী জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, হাতে চায়ের কাপ। কথাবার্তা কমে গেছে অনেকদিন। তবু দু’জনেই বোঝে, এই নীরবতাই এখন তাদের সংসারের ভাষা।
টেবিলজুড়ে ছড়ানো কাগজপত্র—রেশন কার্ড, আধার, পুরোনো কাজের অভিজ্ঞতার কাগজ, স্কুলের ফি রসিদ, হাসপাতালের বিল। সরকারী দপ্তরে ঘোরাঘুরির চিহ্ন যেন প্রতিটি ভাঁজে। অনিরুদ্ধ কাগজগুলো গুছিয়ে নেয়, আবারও। কাগজ থাকলেই কি কাজ জোটে?
মাধবী হিসেবের খাতা খুলে বসে। চাল, ডাল, ওষুধ—সবকিছুর দাম বেড়েছে। ছেলের স্কুল থেকে নোটিস এসেছে, পরের মাসে ফি না দিলে নাম কাটা যাবে। মেয়েটার কাশিটা আবার বেড়েছে, ডাক্তার বদলাতে হবে কি না ভাবছে। ওষুধের নাম মুখস্থ, কিন্তু দামগুলো কেমন যেন প্রতিদিন বদলে যায়।
দুপুরে ফোন আসে। “আজও কিছু হলো না”—অনিরুদ্ধের গলায় ক্লান্তি। মাধবী শুধু বলে, “ঠিক আছে।” আসলে ঠিক কিছুই নেই, তবু এই কথাটুকুই ভরসা।
বিকেলে বিদ্যুতের বিল আসে। খাতায় নতুন অঙ্ক যোগ হয়। কোথা থেকে আসবে, কে জানে।
রাতে ছেলেমেয়েরা পড়তে বসে। ছেলে জিজ্ঞেস করে, “বাবা, তুমি কী কাজ করো?” অনিরুদ্ধ হাসে, উত্তর দেয় না। মাধবী বুঝতে পারে, এই হাসির ভেতরে জমে আছে অপমান আর অপেক্ষা।
ঘুমোবার আগে মাধবী হিসেবের খাতা বন্ধ করে। অনেক হিসেব আজও মেলেনি। আলো নিভে যায়। অন্ধকারে অনিরুদ্ধ বলে, “কাল আবার যাব।”
মাধবী শোনে। জানে—এই ‘কাল’ই তাদের শেষ ভরসা। কিন্তু কালটা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, সেটাই অজানা থেকে যায়।

~জিয়াউর রহমান শিলন

1 Comment
  • শিলং

    অসাধারন অসাধারন অসাধারন, অণুগল্প বানানটি সঠিক

    Reply · 7 months ago

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...