Uttam Ghosh

আমাদের গুরুকুল : আমার শিক্ষাগুরু
কলমে : উত্তম ঘোষ
তারিখ ঃ ০৬/০৯/২০২৬

“সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে”

সূর্য উদয়ের সাথে সাথে যার মুখ দিয়ে উপরের শব্দগুলো উচ্চারিত হতো আর আমরা মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে সাথে সাথে উচ্চারণ করতাম সেই আমাদের গুরুকুলের গুরু দেবেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ। আমাদের শিক্ষা জীবনের গুরু মহাশয়। আমাদের বাড়ির দক্ষিণ পাশে সামান্য একটুরো জায়গায় আমাদের গুরুকুল। মাটির দেওয়ালে উপর ছনের ছাউনি ঘর। সামান্য উঠোন। মাটিতে আসন পেতে ছিল আমাদের পড়ার স্থান। আজ সেখানে মাটির ঘরও নেই গুরুও নেই ।
আমাদের গুরুকুল ছিল পূর্বমূখী। গাছগাছালি ছায়াঘেরা সুনিভির শান্ত পাখি ডাকা সকালে শুরু হতো আমাদের পাঠদান। শ্যামবর্ণের চেহারার দীপ্ত চোখের জ্যোতি ভোরের আলোর সাথে ছড়িয়ে দিতেন আমাদের পাঠদানে। কাঠের খরম পায়েই সামান্য জলচৌকিতে বসেই পড়াতেন আমাদের । জন্মের পর হাতে খড়ি দেওয়ার পর আমরা প্রতিদিন ভোরে পাঠদান নিতাম গুরুকুলে। শাসন আদর মিশানো ছিল গুরু শিক্ষা। জীবনের সঠিক শিক্ষার বীজ বপন করে সুন্দর সত্য মানবিক গুণাবলী দিয়ে পরিচর্যা করে চারা গজানোই ছিল তার মূল শিক্ষা। আজ আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষে চাকরি জীবনে গুরু মহাশয়কে ভুলতে পারি নাই । ভুলতে পারি নাই তার আদর্শ। আজ না ফেরার দেশে তিনি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে গুরু মহাশয়কে হাজারো প্রণাম।

Uttam Ghosh

0 Comments

Uttam Ghosh

মনের খোরাক
কলমে – ঘোষ উত্তম
তারিখ – ০৪.০৯.২৬.
আমার মনের খোরাক। কিচ্ছু চাই না আমি । শুধু পড়তে ও লিখতে চাই।
লেখালেখি শুধু শব্দ সাজানোর শিল্প নয়, এটি মনের ভেতর জমে থাকা অনুভূতিগুলোর একটি নীরব প্রকাশ। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি, না-বলা কথা, হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি কিংবা হঠাৎ পাওয়া কোনো আনন্দ—সবকিছুই কখনো কখনো কলমের কাছে এসে আশ্রয় নেয়।
সাহিত্য মানুষের মনের আয়না। একটি ভালো গল্প, কবিতা কিংবা প্রবন্ধ কখনো আমাদের হাসায়, কখনো কাঁদায়, আবার কখনো নিজের অজান্তেই নিজের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়। তাই লেখালেখি মনের এক ধরনের খোরাক—যেখানে শব্দের ভেতর দিয়ে মানুষ নিজেকে খুঁজে পায়।
কলম যখন সত্যকে স্পর্শ করে, তখন সাধারণ কথাও সাহিত্য হয়ে ওঠে। একটি ছোট্ট বাক্য কারও মনে আশার আলো জ্বালাতে পারে, একটি কবিতা ফিরিয়ে দিতে পারে হারানো কোনো বিকেলের স্মৃতি।
জীবন যতই যান্ত্রিক হোক, মানুষের মনের ভেতর গল্প বেঁচে থাকে। আর সেই গল্পকে শব্দে রূপ দেওয়ার নামই লেখালেখি। সাহিত্য তাই কেবল পড়ার বিষয় নয়—এটি অনুভব করার, বেঁচে থাকার এবং মনের সঙ্গে মনের সেতুবন্ধন গড়ার এক অনন্ত পথ। আজীবন আমার মনের খোরাক বেঁচে থাকুক। আমাকে আমৃত্যু বাঁচিয়ে রাখুক লেখালেখির সাহিত্য।

0 Comments

Uttam Ghosh

নিষিদ্ধ সম্পর্কের বেড়াজাল
কলমে : ঘোষ উত্তম

মনে করুন আপনি বা আমি একজন পুরুষ বা নারী । ফেসবুকের দেয়ালে সম্পর্কের শুরু, ইনবক্সে ঘনিষ্ঠতা—তারপর কখন যে একটি নিরীহ বন্ধুত্ব অদৃশ্য এক নিষিদ্ধ বা শ্রদ্ধার সম্পর্কে পরিণত হয়, অনেকেই তা বুঝতে পারেন না।

আমি বা আপনি একজন পুরুষ বা নারী যাই হই না কেন একসাথে ঘুরতে গেলেই, একসাথে রেস্টুরেন্টে খেলেই, সিনেমা দেখতে গেলেই, ফ্ল্যাটে হই হুল্লোড় করলেই যে আমরা নষ্ট সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছি এমনটা ভেবে নেওয়া অপরাধ এবং হীন মন্যতার রুচির পরিচয়। আপনার ফেসবুক আইডিটা দেখান তো সিংহভাগ বন্ধুই বিপরীত লিঙ্গের , লজ্জা পাচ্ছেন না মনে মনে হাসছেন না ভাবছেন এই রে ধরা খেলাম বুঝি । শতভাগ অনেস্ট থাকুন । মনে হবে কিছুই না। …
সব মানুষ, সব মানুষের সবরকম সম্পর্ক, সব মানুষের চিন্তা ধারা একইরকম হবে, এমনটা ভেবে নেওয়াই ভুল…..।
ফেসবুক কাউকে সম্পর্কের সীমা ভাঙতে বাধ্য করে না; মানুষ নিজেই সিদ্ধান্ত নেয় কোথায় থামবে। তাই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো সীমারেখা বোঝা।
একটি ছেলে মেয়ে দুজনে দুজনের খুব ভালো বন্ধু হতে পারে, ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকতে পারে। দুজনের অন্য অন্য জায়গায় বিয়ে হলেও তারা একে অপরের সঙ্গে সারাজীবন ভালো বন্ধুত্ব রাখতে পারে, জীবনের চূড়ান্ত হতাশার মুহূর্ত গুলো তারা নিজেদের মধ্যেই একমাত্র শেয়ার করতে পারে…। আমি আপনি–
এমন বন্ধু তৈরী করতে পেরেছি, নাকি মেকি সেজেগুজে আছি।
সব সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে না, কিন্তু প্রতিটি গোপন সম্পর্কেরই একটি মানসিক মূল্য আছে। ভার্চুয়াল পর্দার আড়ালে যে অনুভূতিকে ‘নিরাপদ’ মনে হয়, বাস্তব জীবনে সেটিই কখনো হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
ফেসবুকে বন্ধুত্ব থাকুক, হৃদ্যতা থাকুক—কিন্তু কারও বিশ্বাস ভেঙে নয়। কারণ সম্পর্ক ভাঙার শব্দ শোনা যায় না, শুধু একদিন দেখা যায়—মানুষটি পাশে থেকেও অনেক দূরে চলে গেছে।
একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধার সম্পর্ক থাকতে পারে। দুজনেই দুজনকে ভীষণ শ্রদ্ধা করতে পারে, দেবতা মনে করতে পারে, যে কোনো অসুবিধায় পড়লেই সবার প্রথমে তার কথা মনে আসতে পারে…
আছে এমন বন্ধু আপনার। এমন সম্পর্কের আপনজন। আমার আছে স্বীকার করি, কিন্তু আপনি স্বীকার করুন তো অনেস্টলি।

0 Comments

Feature

জীবনের বোধ তৈরি হয় ভালবাসা ও সহানুভূতির পরশে। যে জীবনে এ দুটোর অভাব সে জীবন পরিপূর্ণ জীবন নয়।
সহানুভূতিহীন মানুষ নিজের ভেতরেই গড়ে তোলে শূন্যতা। পরিবারে শান্তি, বন্ধুত্বে শক্তি—সবকিছুর মূলে রয়েছে ভালবাসা। মানুষের প্রকৃত মহত্ত্ব প্রকাশ পায় তার সহানুভূতির মধ্য দিয়ে। বিপদের মুহূর্তে একটি স্নেহময় হাতই হয়ে ওঠে সর্বোচ্চ আশ্রয়। ভালবাসা ভাঙা মনকে জোড়া দেয়, নতুন আশার আলো দেখায়।সহানুভূতি অন্যের বেদনা ভাগ করে নেওয়ার সাহস জোগায়। এ দুই গুণ আমাদের চরিত্রকে করে আরও পরিণত ও গভীর। পৃথিবীর সব সভ্যতা মানবিকতার উপর দাঁড়িয়ে, যার মূল ভিত্তি ভালবাসা।
জীবন তার আসল রূপ পায় ভালোবাসা ও সহানুভূতির ছোঁয়ায়। এ দুইটি অনুভূতি না থাকলে মানুষের প্রতিটি সম্পর্ক, প্রতিটি স্বপ্ন, প্রতিটি পথচলা যেন প্রাণহীন হয়ে যায়। ভালোবাসা হৃদয়ে আলো জ্বালায়, জীবনের কঠিন সময়েও বেঁচে থাকার শক্তি দেয়। আর সহানুভূতি শেখায় অন্যের কষ্ট বুঝতে, তাদের পাশে দাঁড়াতে, মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা তৈরি করতে।

সহানুভূতি মানুষের মধ্যে তৈরি করে এক অদৃশ্য বন্ধন, যা সমাজকে রাখে সুসংহত। যে মানুষ ভালোবাসতে জানে, সে কখনো একা থাকে না। আর যে মানুষ সহানুভূতিশীল, তার হৃদয় হয় সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল। তাই এ দুইটির অভাব জীবনকে করে তোলে শূন্য, নির্জন ও কঠিন। ভালবাসা ও সহানুভূতি মিলেই জীবন সম্পূর্ণ হয়।

ভালোবাসা ও সহানুভূতি মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সবচেয়ে বড় শক্তি। এগুলো না থাকলে জীবনের ভেতরের উষ্ণতা হারিয়ে যায়, আলোকিত পথ অন্ধকারে ঢেকে যায়। ভালোবাসা হৃদয়ে শান্তি আনে, মানুষের প্রতি টান সৃষ্টি করে। সহানুভূতি শেখায় অন্যের বেদনা বুঝতে, তাদের পাশে দাঁড়াতে।
যে মানুষ ভালোবাসতে জানে, সে কখনও সত্যিকার অর্থে একা হয় না। আর যে মানুষ সহানুভূতিশীল, তার হৃদয় হয়ে ওঠে আশ্রয়ের নিরাপদ ঘর। তাই এ দুইটির অভাব জীবনকে করে তোলে শূন্য ও নির্জন। ভালোবাসা ও সহানুভূতি মিলেই জীবন পূর্ণতা পায়।
মানুষ জন্মগতভাবে অনুভূতির সত্তা, আর সেই অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ভালবাসা।
জীবনের প্রতিটি বাঁকে আমরা কাউকে প্রয়োজন করি, আর সেই প্রয়োজনের ভাষাই ভালবাসা।সহানুভূতি মানুষকে করে তোলে নরম, মানবিক ও সহনশীল। সমাজে সৌহার্দ্য বজায় রাখতে এই দুই গুণ অপরিহার্য।ভালবাসাহীন জীবনে থাকে না কোনো রঙ, কোনো প্রাণ।
সহানুভূতির অভাব মানুষকে স্বার্থপর করে তোলে। আর ভালবাসাহীন মানুষ ধীরে ধীরে নিঃসঙ্গতায় ডুবে যায়।তাই জীবনকে সুন্দর ও পরিপূর্ণ করতে এই দুই গুণের কোনো বিকল্প নেই।সত্যিই, ভালবাসা ও সহানুভূতি ছাড়া মানুষের জীবন শুধু শূন্যই নয়—অপূর্ণও।
যে জীবনে ভালোবাসা নেই, সেখানে আনন্দের রঙ ম্লান; যে জীবনে সহানুভূতি নেই, সেখানে মানবতার স্পন্দন থমকে যায়।

তাই বলা হয়—ভালোবাসা ও সহানুভূতি ব্যতীত জীবন শুধু অস্তিত্ব মাত্র, বেঁচে থাকা নয়। এগুলোই জীবনকে পূর্ণতা দেয়, সুন্দর করে, আর মানুষকে সত্যিকারের মানুষ করে তোলে।

0 Comments

প্রতিটি অপেক্ষার মূল্য অনেক ...