অণুগল্প: পনেরো বছর পরে
কলমে: তাহমিন আরা বেগম
শেষবার আবিরের সাথে যখন যুথীর দেখা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেবির সামনে-বলেছিল, তোমার যদি ইচ্ছে হয়, তবে ফোন দিও।
এই বলে ও ফিরে গিয়েছিল রোকেয়া হলে।
কিন্তু আবিরের ফোন আর আসে নি।
তারপর, কতদিন কতরাত এল-গেল।
যুথী মাস্টার্স শেষ করে বাড়িতে মানে দিনাজপুর ফিরে এলো।
মাঝরাতে বা শেষরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলে আবিরের কথা খুব মনে পড়ত ওর।
তারপর- একদিন বাবার পছন্দের পাত্রের সাথে বিয়েও হয়ে গেল।
নক্ষত্ররা যে বেগে আকাশে ছুটে চলে, তার চেয়ে আগে যেন সময় বয়ে গেল।
যুথী এখন শফিকের বউ।
খুবই ভালোবাসে ও যুথীকে। একমাত্র সন্তান শান্তকে নিয়ে ওদের সুখের সংসার।
বান্দরবনের দীঘিনালা।
পাহাড়ে ছেঁড়া-ছেঁড়া শাদা মেঘের ভেলা দেখছি যুথী স্বামী-সন্তানকে নিয়ে।
হঠাৎ চোখে পড়ল আবিরের দিকে।
যুথীর বয়সী এক মহিলার পাশে দাঁড়িয়ে ওই মেঘ দেখচ্ছে। হয়তো ওর বউ।
যুথীর দিকে একবার তাকাল। চিনতে পেরেছে বলেই মনে হল।
ওদের মতো ওরাও হয়তো এখানে বেড়াতে এসেছে।
যুথী ভাবনায় পড়ল। শফিকের সাথে কি ওকে পরিচয় করিয়ে দিব।?
কি পরিচয় দিব?
আবির কি কথা বলবে ওর সাথে?
নাকি আগের মতোই এভোয়েট করবে।
পৃথিবীতে কত কিছু বদলে গেছে।
একদিন ওদের মাঝে যে সম্পর্ক ছিল, আজ আর কিছু বাকি নেই।
সময় যুথী আর আবিবের মাঝে নিয়ে এসেছে এক বড় ব্যবধান।
যুথী মনে মনে ভাবল, কথা বলার দরকার নেই। এই ব্যবধান বজায় থাকাই ভাল। ওদের দু’জনার জন্যেই।
হঠাৎ খেয়াল হল এরি মাঝে কেটে গেছে পনেরোটি বছর।
তাহমিন আরা বেগম লুনা
lunaalam123@hotmail.com